প্রশ্নোত্তর : উত্তর দিচ্ছেন-অধ্যক্ষ মুফ্তী সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান

প্রশ্নোত্তর : উত্তর দিচ্ছেন-অধ্যক্ষ মুফ্তী সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান

প্রশ্নোত্তর : উত্তর দিচ্ছেন-অধ্যক্ষ মুফ্তী সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান

 রোকেয়া বেগম
হাইদগাঁও, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন:তাকওয়া অর্জনের জন্য কি করতে হবে, কি কি গুণ থাকতে হবে?
উত্তর: ১. তাকওয়া আরবী শব্দ, অর্থ হলো বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, ভয় করা ও নিজেকে রক্ষা করা। ব্যবহারিক অর্থ হলো- পরহেজগারি, খোদা ভীতি ও আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ্ ও তাঁর রাসলূলের ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকাকে ‘তাকওয়া’ বলে।
সকল প্রকার পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে ক্বোরআন-সুন্নাহ্ মোতাবেক ইহজীবন পচিালনা করার নামই তাকওয়া। যিনি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাঁকে ‘মুত্তাকি’ বলা হয়। আল্লাহকে ভয় করা ও তাকওয়া অবলম্বন করা প্রসঙ্গে ক্বোরআন মজীদে আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন-
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى ۝ فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى۝
অর্থাৎ- যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয় করবে ও কু-প্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকবে, তাঁর স্থান হবে জান্নাত। [সূরা আন্ নাযিআত: আয়াত-৪০, ৪১]
অপর আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ اٰمَنُواْ اتَّقُواْ ٱللهَ حَقَّ تُقَاتِهۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ۝
অর্থাৎ- হে মুসলমাগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, ভয় করার মত ভয় করো এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যু বরণ করো না। [সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১০২]
তাকওয়া অর্জন করতে হলে ক. আল্লাহ্ ও তাঁর প্রিয় হাবীবের আদেশ-নিষেধ মোতাবেক জীবন-যাপন করা, খ. শিরক ও গর্হিত ইত্যাদি কাজ হতে বিরত থাকা, গ. আল্লাহ্র স্মরণ থেকে বিরত করে এমন কাজ হতে দূরে থাকা বাঞ্চনীয় ইত্যাদি।
তাকওয়া অর্জনের সোপান/ মাধ্যম হিসেবে প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম মুহাম্মদ গাজ্জালী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ৪ (চার) টি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন- ১.শরীয়ত নির্ধারিত হারাম থেকে বেঁচে থাকা, ২. সন্দেহ যুক্ত হালাল বস্তুও পরিত্যাগ করা, ৩. আল্লাহ্র ভয়ে অপ্রয়োজনীয় হালাল বস্তু বর্জন করা, ৪. যে সকল হালাল বস্তু আল্লাহ্র ইবাদতে সহায়তা করেন না তা বর্জন করা। সুতরাং ইসলামি শরীয়তের পাবন্দি হয়ে জীবন-যাপন করা ও উপরোক্ত গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা যাবে। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের মুত্তাকী বলা হয়। আর মুক্তাকী ব্যক্তি কবিরা গুনাহ, অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে এবং সততা, আমানদারি, সহনশীলতা, কৃতজ্ঞতা, ন্যায় পরায়নতা ইত্যাদি সৎ গুণে গুনান্বিত হওয়ার মাধ্যমে তাকওয়া হাসিল করা যায়।

 প্রশ্ন:  গীবত এর মারাত্মক পরিণাম ক্বোরআন-হাদীসের আলোকে জানানোর অনুরোধ করছি।

উত্তর: গীবত আরবী শব্দ। অর্থ পরনিন্দা, পরচর্চা, কুৎসা ইত্যাদি। কোন মানুষের অগোচরে তার মন্দ দিক আলোচনা করা, যদিও তা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তাকে গীবত বলে। গীবতের সংজ্ঞা বা পরিচয় তুলে ধরে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, গীবত হলো কোন ব্যক্তি সম্বন্ধে তার অগোচরে এমন কিছু (দোষ-ত্রুটি) বলা যা তার মধ্যে বিদ্যমান। [আল্ হাদীস]
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, গীবত হলো তোমার ভাই সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে। [আল হাদীস]
গীবত ও কুধারণা হতে বেঁচে থাকার ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র ক্বোরআনে এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম হাদীসে পাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। যেহেতু ধারণাগত কারণে মানুষ গীবত করে বসে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
اِجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ۝
তোমরা অধিক ধারণা (পোষণ করা) থেকে বিরত থাকো নিশ্চয় কিছু কিছু ধারণা গুনাহের/পাপের।
[সূরা হুজরাত: আয়াত-১২]
হাদীসে পাকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
ايّاكم والظَنَّ فِانَّ الظَّنَّ الكذبُ الحديث-
অর্থাৎ- সাবধান, তোমরা (মন্দ) ধারণা পোষণ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা অনেক সময় ধারণা মিথ্যায় পরিণত হয়। [আল্ হাদীস]
তাই ইসলামি শরীয়ত গীবত করাকে হারাম ঘোষণা করেছে। গীবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত পোষণ করা হয়েছে। গীবতের কারণে নানান দিক ক্ষতি হয়। যেমন আমলনামা নষ্ট হয়ে যায়, আমল-নামায় গুনাহ্ লিপিবদ্ধ করা হয়, গীবতের কারণে যিনার/ব্যভিচারের সম-পরিমাণ গুনাহ্ আমল নামায় লিপিবদ্ধ করা হয়। তাওবা কবুল হয় না, মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও একতা নষ্ট হয়, সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়, সমাজে-রাষ্ট্রে অশান্তি দেখা দেয় এবং গীবতকারীর দো‘আ কবুল হয় না। তাই গীবত থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানের উচিত ও কর্তব্য।

 মুহাম্মদ সাইদুল ইসলাম রাব্বি
কদলপুর, রাউজান, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: খতমে গাউসিয়া ও গিয়ারভী শরীফের ফযিলত জানতে চাই। কেউ কেউ এটাকে বিদআত বলে থাকে, ক্বোরআন-হাদীসের আলোকে বর্ণনার অনুরোধ জানাচ্ছি।
উত্তর: কাদেরিয়া তরিকার আউলিয়া-ই কেরাম কর্তৃক নির্বাচিত এবং ক্বোরআনুর করিম ও হাদীস শরীফ থেকে সংগৃহীত, বকতমন্ডিত ও ফযিলতপূর্ণ যিকির-আযকার, দো‘আ-দুরূদ, বিভিন্ন সূরা ও আয়াতের সমষ্টিগত নাম হল খতমে গাউসয়া ও গেয়ারভী শরীফ। উল্লেখ্য যে, খতমে গাউসিয়া ও গেয়ারভী শরীফের তরতীবে যে অজিফাগুলো স্থান পেয়েছে তা বিশেষ মর্যাদা ও ফযিলতে পরিপূর্ণ। যা ভক্তি সহকারে পালনের মধ্যে রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের অনেক কল্যাণ ও সফলতা। এটা শরীয়ত সম্মত। এটাকে অস্বীকার করা ক্বোরআন-হাদীস তথা শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞতার নামান্তর এবং সত্যিকার অর্থে আল্লাহ্র ওলীদের প্রদর্শিত মত ও পথকে অবজ্ঞা করা, যা চরম বেয়াদবী ও গোমরাহীর সামিল। খতমে গাউসিয়া ও গেয়ারভী শরীফ এবং এ জাতীয় বকরতমণ্ডিত খতম সমূহ যেমন খতমে খাজেগান ইত্যাদি মূলত আমলে সালেহ বা সৎ কর্ম। কেননা এতে রয়েছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের স্মরণে যিকির-আযকার, দো‘আ, দুরূদ, ফাতেহাখানি এবং আল্লাহ্র বান্দাদের মাঝে তার্বারুক পরিবশেন। এসবই আমলে সালেহ বা নেক কাজ। এ প্রসঙ্গে ক্বোরআন শরীফে উল্লেখ আছে-
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ذٰ لِكَ الْفَوْزُ الْكَبِيرُ۝
অর্থাৎ- যারা ঈমান এনেছে এবং ভাল আমলসমূহ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত তথা বাগিচা যার তলদেশে থাকবে অনেক নহর বা ঝর্ণাধারা: এটা তাদের জন্য বড়ই কামিয়াবী।
[সূরা বুরুজ: আয়াত-১১]
অপর এক আয়াতে রয়েছে- ‘‘ঈমান থাকাবস্থায় পুরুষ বা মহিলা থেকে যে ভাল কাজ করবে তাকে আমি পবিত্র জীবন দান করব।’’ খতমে গাউসিয়া, খতমে খাজেগান ও গেয়ারভী শরীফ ইত্যাদি মূলত উল্লিখিত আয়াতসমূহের বাস্তব আমল। তদুপরি উপরোক্ত খতম সমূহ হল মূলত আল্লাহ্, ও প্রিয় রাসূল ও আউলিয়ায়ে কেরামকে স্মরণ করার অন্যতম মাধ্যম আর এটা ক্বোরআন-হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত এবং তা যিকরুল্লাহ্ এর সামিল। কেননা আল্লাহ্র যিকির, তিন প্রকার: ১. সরাসরি আল্লাহ্র যাত ও গুণাবলী স্মরণ করা, ২. আল্লাহ্র রাসূল তথা প্রিয় বান্দাগণ ও তাঁর প্রিয় জিনিস সমূহের মাহাত্ম বর্ণনামূলক যিকির, ৩. আল্লাহ্র দুশমনদের তিরষ্কার করা ও নিন্দাপূর্বক আলোচনা।
কাজেই বুঝা গেল, খতমে গাউসিয়া ও খতমে খাজেগান ও গেয়ারভী শরীফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ্র যিকির ও আল্লাহ্র বান্ধুদের স্মরণ। আল্লাহ্র যিকির সম্পর্কে ক্বোরআন-হাদীসে অনেক বর্ণনা রয়েছে, খতমে গাউসিয়া ও গেয়ারভী শরীফ পালন করা মানে আল্লাহ্র স্মরণ করা। এটা অস্বীকার করা মানে মহান আল্লাহ্র যিকিরকে অস্বীকার করা, যা খোদাদ্রোহীতার শামিল। বিশেষত যেসব মুসলমান ক্বোরআন তেলাওয়াত জানে না, এসব খতম শরীফ দ্বারা পবিত্র ক্বোরআনের ফজিলতপূর্ণ বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াতসমূহ তেলাওয়াতের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তদুপরি খতমে গাউসিয়া, গেয়ারভী শরীফ ও খতমে খাজেগান ইত্যাদিতে আদব-ভক্তিসহকারে উপস্থিত থাকলে সওয়াব ও নেকীর সাথে সাথে এ সময়টুকু গুনাহ-নাফরমানী থেকে বিরত থাকার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। সুতরাং এসব নেক আমল ও খতম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা, বিদআত, ক্বোরআন-হাদীসে নেই ইত্যাদি বলা মূলত ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির নামান্তর ও অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।

প্রশ্ন: কবর তালকীন জায়েয কিনা? এটার উপকারিতা ও পদ্ধতি সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী।

উত্তর: ঈমানদার নর-নারীকে কবরে দাফন করার পর কবর তালকীন করা শরীয়ত সমর্থিত। এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এর দ্বারা মৃত ব্যক্তি মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন সমূহের জওয়াব দানে সফল হয়। সুতরাং মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর মুনকার-নাকীরের সওয়াল জওয়াবের মুহূর্তে তালকীন করে তাকে সহযোগিতা করা উচিত। যেমন- তিবরানী শরীফে উল্লেখ আছে নবী করীম সাল্লাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘‘তোমাদের কোন মুসলমান ভাই মারা গেলে তাকে দাফন করে উপরে মাটি দেয়ার পর তোমাদের কেউ যেন তার শিয়রের কাছে দাঁড়িয়ে এভাবে আহ্বান করে বলে হে অমুক মহিলার পুত্র অমুক। তখন মৃত লোকটি ঐ আওয়াজ শুনতে পাবে একইভাবে দ্বিতীয় বার ডাক দেবে তখন সে সোজা হয়ে কবরে বসবে তারপর আবার ডাক দিলে সে কবরের ভিতর থেকে বলবে আমাকে কিছু উপদেশ দিন, আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে রহম করুন। নবীজি এরশাদ করেন- যদিও তোমরা তা বুঝতে পার না। অতঃপর শিয়রের কাছে দাঁড়ানো ব্যক্তি যেন বলে তুমি দুনিয়ায় হতে যে কালিমায়ে শাহাদাত নিয়ে বিদায় হয়েছ তা স্মরণ কর আর স্মরণ কর একথা যে, আমি রব হিসেবে আল্লাহ্র উপর সন্তুষ্ট এবং দ্বীন হিসেবে ইসলামের উপর রাজি, নবী হিসেবে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সন্তুষ্ট এবং পথ প্রদর্শক হিসেবে পবিত্র ক্বোরআনের উপর সন্তুষ্ট। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তালকীনের পর মুনকার-নাকীর ফেরেশতাদ্বয় একে অপরের হাত ধরে বলাবলি করে চলো তাকে নাজাতের দলিল শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। তার কাছে বসে থেকে লাভ নেই। জনৈক সাহাবী আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি মৃত ব্যক্তির মায়ের নাম জানা না থাকে তবে কার পুত্র বলব- হুযূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকলের মা হযরত হাওয়া আলাহাস্ সালামের দিকে সম্পর্ক করে বলবে হে হাওয়ার পুত্র অমুক। সুতরাং দাফনের পর যিয়ারত করবে আর যিয়ারতের পর একজন পরহেজগার আলেমে দ্বীন উপরোক্ত নিয়মে কবর তালকীন করবেন। এটা মুস্তাহাব ও উত্তম।
[শরহুস্ সুদুর কৃত: ইমাম সুয়ূতী আলায়হির রাহমাত ও রদ্দুল মুহতার কৃত: ইমাম ইবনে আবেদীন শামী হানাফী আলায়হির রাহমাত ইত্যাদি]

 মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন
চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: মৃত্যুর ১৫ দিন পর সমাজে একটা প্রথা প্রচলিত আছে যে রুটি, হালুয়া বানিয়ে বিলি করা। এ প্রথাটি কতটুকু সত্য বা এর কোন ভিত্তি আছে কিনা?

উত্তর: মৃত্যুর পর মানুষের জন্য আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু নেক সন্তানের দো‘আ, সদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম, এসব মৃত ব্যক্তির আমল নামায় পৌঁছায়। সুতরাং মৃত ব্যক্তির ইসালে সাওয়াবের জন্য দান-খায়রাত, সদকা, ইত্যাদি করা হলে তা মৃত ব্যক্তির আমল নামায়/রূহে পৌঁছে যায়। তা টাকা, পয়সা হোক বা খাদ্য-দ্রব্য ইত্যাদি হোক মৃতের রূহে পৌঁছে এবং এতে মৃত ব্যক্তির গুনাহ্ হালকা করা হয়। ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে মুসলমানগণ বিভিন্ন আমলে সালেহ করে থাকেন। তা হাদীসে পাকের ভাষায় সুন্নাতে হাসানাহ্ এর চর্চা। আরব দেশসহ বহু দেশে হালুয়া-রুটি খবুই জনপ্রিয় একটি খাবার। হালুয়া আরবী শব্দ অর্থ মিষ্টান্ন বা মিষ্টি। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি পছন্দ করতেন। তাই ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে মানুষকে খাওয়ানো একটি ইবাদতের কাজ। সুতরাং রুটি, হালুয়া ও গোশত বা রান্না করা খাবার বিতরণ করা জায়েয ও বৈধ এবং শরীয়ত সম্মত।

প্রশ্ন :  চাল্লিশা কিভাবে শরীয়ত সম্মত করা যায়? না করে শুধু মাইয়তের মাগফিরাতের জন্য ফাতেহা দিয়ে কিছু ইয়াতিমকে খাবার দিলে হবে কি? ক্বোরআন-সুন্নাহর আলোকে জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর: মৃত মুসলমানকে উপলক্ষ করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা হলো- চার দিনের ফাতিহা শরীফ, চল্লিশা ইত্যাদি করা ইসালে সওয়াবের অংশ। ইসালে সওয়াব অর্থ সওয়াব পৌঁছানো। শরীয়তের পরিভাষায় মৃত মুসলমানদের মাগফিরাত ও রফয়ে দরজাতের উদ্দেশ্যে দো‘আ-দুরূদ, ক্বোরআন খানি, দান-খায়রাত, মিলাদ শরীফ, শিরনী ও খানাপিনা বিতরণ ইত্যাদির মাধ্যমে সাওয়াব কবরস্থ মুসলমানের রূহে বা কবরে পৌঁছানোর নাম হল ইসালে সওয়াব। এটা জায়েয ও মৃতের জন্য মঙ্গলময়। তাছাড়া জীবিতদের জন্যও উপকারী। ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ৩য় দিবসের পর ৪র্থ দিবসে, ৭ম দিবস, চল্লিশা ও বার্ষিকী ইত্যাদি পালনের রেওয়াজ নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের নূরানী আমল হিসেবে প্রমাণিত। যেমন- ফতোয়ায়ে শামী- কবর যিয়ারত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে-
روى عن ابن ابى شيبة ان النبى صلى الله عليه وسلم كان ياتى قبور شهداء احد رأس كل حول-
অর্থাৎ- হযরত আবি শায়বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর উহুদ যুদ্ধে শাহাদত প্রাপ্ত সাহাবীদের কবরে তাশরীফ নিতেন। এভাবে খোলাফায়ে রাশেদীন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম প্রত্যেক বছরের শুরুতে ওহুদের কবরস্থানে হাজির হতেন। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস শাহ্ ওলী উল্লাহ্ দেহলভী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর খান্দানের নিয়মিত আমলের মধ্যে একটি আমল ছিল প্রতি আশুরা দিবসে সৈয়্যদুনা ইমাম হাসান ও সৈয়্যদুনা ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা-এর স্মরণে ও ইসালে সাওয়াব উপলক্ষে শাহাদত বার্ষিকী পালন করতেন। আনোয়ারুস্ সাতেয়ায় উল্লেখ আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত আমির হামযা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু-এর জন্য (ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে, চল্লিশা, ছয় মাসিক ও শাহাদত বার্ষিকীতে দান-সদকা খায়রাত করেছিলেন। এটা মূলত: চল্লিশা ফাতেহা করা বৈধতার জ্বলন্ত প্রমাণ।
এ প্রসঙ্গে আরো বিস্তারিত ‘মাসিক তরজুমান’ বিগত সংখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে। আরো জানতে হযরত শাহ্ আবদুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভীর ফতোয়ায়ে আযিযী, মলফুযাতে আযিযী, হযরত শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভীর রচিত আশিয়াতুল লুমআত, হাজী এমদাদুল্লাহ্ মুহাযীরই মক্কী রচিত ফয়সালায়ে হাফ্ত মাসআলা’ ও মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর ‘জা‘আল হক’, আনজুমান প্রকাশিত আমার রচিত ‘যুগ জিজ্ঞাসা’ দেখার অনুরোধ রইল।

 মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ্
মুরাদনগর, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন:  আয়াতুল কুরসির ফযিলত জানতে আগ্রহী।

উত্তর: আয়াতুল কুরসি নামে খ্যাত ক্বোরআন মজীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেষ্ঠ আয়াত, এটার ফযিলত ও মর্যাদা অপরিসীম। এ আয়াতে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন স্বীয় অস্তিত্ব, তাওহীদ ও অন্যান্য গুণাবলীর বর্ণনা বিশেষভাবে ব্যক্ত করেছেন। সকাল-বিকাল আয়াতুল কুরসির তেলাওয়াতে রয়েছে মু’মিন বান্দার জন্য অনেক সুফল। ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহ্ িআালায়হি স্বীয় তারিখ গ্রন্থে হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আরশ আযিমের নিম্নস্থান থেকে আয়াতুল কুরসি আমাকে দান করা হযেছে। তাফসীরে কবির ও তাফসীরে নঈমীতে উল্লেখ আছে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে তার এবং বেহেশতের মাঝখানে মৃত্যু ব্যতীত আর কোন বাঁধা থাকবে না। মৃত্যুর সাথে সাথে বেহেশতে প্রবেশের অধিকার উক্ত ব্যক্তি অর্জন করবে। আর সদা এ আয়াত তিলাওয়াতকারী সিদ্দিক ও আবিদ বান্দাগণের দলভুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে। তাফসীরে দুররে মনসুর-এ উল্লেখ আছে আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াতকারীর উপর একজন ফেরেশতা নিযুক্ত হয়। সে ফেরেশতা দ্বিতীয় দিন তিলাওয়াতের সময় আসা পর্যন্ত তেলাওয়াতাকীর আমলনামায় নেকী লিপিবদ্ধ করেন এবং আমলনামা থেকে গুনাহ্ মোচন করতে থাকেন। তাফসীরে কবির ও তাফসীরে নঈমীতে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে এ আয়াত তেলাওয়াত করবে তার ও তার প্রতিবেশীর ঘর বাড়ি চোর ডাকাত ও আগুন থেকে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হয় সে ঘর থেকে শয়তান একমাস পর্যন্ত এবং যাদুকর চল্লিশ দিন পর্যন্ত দূরে সরে পড়ে। যে লোক সন্ধ্যায় নিজের ছেলে মেয়েদের উপর আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁক দেবে এর বরকতে তারা শয়তান, যাদু ও বদ-নযর থেকে নিরাপদে থাকবে। একজন সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এসে আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে কোন কিছুতে বরকত নেই, তদুত্তরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন আয়াতুল করসি পাঠ করতে থাক। এর দ্বারা বুঝা গেল আয়াতুল কুরসি পাঠে বরকত নাযিল হয়। যে ব্যক্তি সফরে রওয়ানা হওয়ার আগে ঘরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে ফুঁক দিয়ে বের হবে, সফর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তার সম্পদ ও পরিবার পরিজন নিরাপদে থাকবে।
[তাফসীরে দুররে মনসুর, তাফসীরে কবির ও তাফসীরে নঈমী ইত্যাদি]

প্রশ্ন: কদমবুচি বা পায়ে ধরে সালাম করা বৈধ কিনা? আমার পরিচিত একজন এটাকে পূজা করা বলেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর: পায়ে ধরে কদমবুচি করা শিরক নয় এবং মূর্তি পূজারীদের কাজও নয় বরং তা সাহাবায়ে কেরামের তরিকা, সুতরাং এটা সুন্নাতে মুস্তাহাব্বা ও উত্তম আমল। একে শিরক ও মূর্তি পূজারীদের ন্যায় কাজ বলা দ্বীন ও শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয়। ইসলাম বড়কে সম্মান ও ছোটকে স্নেহের নির্দেশ দিয়েছেন। বড়জনকে সম্মানের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে যেমন সালাম প্রদান, সম্মানার্থে দাঁড়ানো, কদমবুচি করা, হস্তবুচি করা ইত্যাদি। কদমবুচির বৈধতার উপর শরীয়তে অনেক দলিল বিদ্যমান।
নিম্নে কয়েকটি প্রদত্ত হল। শিফা শরীফ, আবূ নাঈম ইত্যাদি কিতাবে উল্লেখ আছে হযরত বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, একজন বেদুঈন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামার কাছে কোন নিদর্শন চাইল। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উক্ত বেদুঈনকে এরশাদ করলেন, ওই বৃক্ষটাকে বল আল্লাহ্র রাসূল তোমাকে ডাকছেন। সে যখন বললো, বৃক্ষটা তার ডানে, বামে, সামনে, পেছনে ঝুঁকল তখন এটার শেকড়গুলো ভেঙ্গে গেল। তারপর মাটি উপড়ে করে শিকড়গুলো টেনে ও বালি উড়িয়ে হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে এসে দাঁড়াল এবং বলল আস্সালামু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বেদুঈন বলল আপনি তাকে আদেশ প্রদান করুন যেন এটা স্বীয় স্থানে ফিরে যায়। তাঁর নির্দেশে এটা ফিরে গেল এবং তার শেকড়গুলোর উপর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। বেদুঈন বলল আমাকে অনুমতি দিন আমি আপনাকে সাজদা করবো, তিনি এরশাদ করলেন, যদি কাউকে সাজদা করার হুকুম দিতাম তাহলে নারীকে হুকুম দিতাম সে যেন স্বামীকে সাজদা করে। বেদুঈন আরয করল হুযূর তা হলে আমাকে আপনার হস্ত ও উভয় কদম চুম্বন করার অনুমতি দিন। তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। ইমাম বুখারী স্বীয় আদাবিল মুফরাদ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, হযরত সোহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, ‘‘আমি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে দেখেছি তিনি হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর হাতে ও পায়ে চুমু দিতে। উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল মা, বাবা, শিক্ষকমন্ডলী, পীর মাশায়িখ, বুযর্গানে দ্বীন এর সম্মানার্থে কদমবুচি নিঃসন্দেহে বৈধ, মুস্তাহাব ও উত্তম আমল।
[শিফা শরীফ ও ওমদাতুল ক্বারী শরহে সহীহ বোখারী ইত্যাদি]

 মুহাম্মদ শফিউল আলম
হামিদচর, মোহরা, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: একজন ওলীর শান মান বাড়াতে গিয়ে আরেক ওলীকে তুচ্ছ করা যাবে কিনা? এবং যে ব্যক্তি ওলী বিদ্বেষী তার শাস্তি ক্বোরআন-হাদীসের আলোকে জানানোর অনুরোধ করছি?

উত্তর: আউলিয়ায়ে কেরাম আল্লাহ্র সুসংবাদ প্রাপ্ত প্রিয়বান্দা। যাঁরা ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তা’আলাকে রাজী, সন্তুষ্ট করার দ্বারা ওলী বা আল্লাহ্র প্রিয়বান্দা হয়েছেন। পবিত্র ক্বোরআন তাঁদের মর্যাদা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন-
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিশ্চয় আল্লাহ্র ওলীদের অতীত ও ভবিষ্যতের কোন চিন্তা ও ভয় নেই। [সূরা ইউনুস: আয়াত-৬২]
অপর আয়াতে ইরশাদ করেন-
اِنَّ اولياؤه الا المتَّقُون-
অর্থাৎ- মুক্তাকীরাই তাঁর ওলী। [সূরা আনফাল: আয়াত-৩৪]
প্রকৃত ওলী-যাঁদেরকে দেখলে আল্লাহ্র স্মরণ হয়, বে-নামাযী নামাযী হয়, মানুষ সঠিক পথের দিশা পায়, বে-আমল, ফাসিকগণ নেক্কার, পারহেজগার হয়। সুতরাং ওলীদেরকে যথাযথ সম্মান, মর্যাদা, ভক্তি-শ্রদ্ধা করা ঈমানী দায়িত্ব। আর অমান্য করা, কটূক্তি করা, তাঁদের শান-মানে বেয়াদবি করা ফাসেকী ও বদনসীবি এবং আল্লাহ্র নাফরমানী করার নামান্তর। অলি-বিদ্বেষী বা ওলীদের নিয়ে কটূক্তি ও শত্রুতা পোষণকারী প্রসঙ্গে হাদীসে পাকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
من عادلى وَلِيًّا فَقَدْ اَذَنْتَهُ بالحرب-
অর্থাৎ- যে আমার ওলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।
[সহীহ বুখারী শরীফ: হা. ন. ৬১৩৭]
অতএব, কোন ওলীর শান-মান বর্ণনা করতে গিয়ে অপর ওলীর শান-মানে আঘাত হানা, কটূক্তি করা গর্হিত কাজ এবং আল্লাহ্র নাফরমানীর নামান্তর। আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে হিংসা-বিদ্বেষ হতে হেফাজত করুন। আ-মী-ন।

 মুহাম্মদ তৈয়ব আলী
পটিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: বিধর্মীদের দোকান থেকে মুসলমানদের পণ্য কেনা জায়েয আছে কিনা?

উত্তর: ইসলাম একটি সামাজিক, ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণমুখী জীবনাদর্শের নাম। সমাজে, রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করা, সম্প্রীতি বজায় রাখা মুসলিমদের জন্য জায়েয ও বৈধ। তবে হারাম পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা হারাম। আর যদি অমুসলিমদের সাথে পণ্য ক্রয়ের ফলে মুসলমানদের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তখন নাজায়েয। অন্যথায় স্বাভাবিক লেন-দেনে ইসলামী শরীয়ত বাঁধা প্রদান করেনি। নেহায়ত অতি জরুরী না হলে মুসলিম দোকানদার হতে ক্রয়ে চেষ্টা করা উচিত। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরস্পর সহযোগিতার একটি মাধ্যম। আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন-
وتعاونوا على البرّ والتقوى-
অর্থাৎ- তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়া কাজে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা কর।
[সূরা মায়েদা: আয়াত-৩২]
এই আয়াতের দাবি হলো- কল্যাণকর ও ভালো কাজের ক্ষেত্রে মুসলিমকে সহযোগিতা করতে হবে।

 মুহাম্মদ নেছার উল্লাহ্
মরিয়মনগর, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: শারীরিক সমস্যার কারণে চেয়ারে বসে নামায পড়লে নামায হবে কিনা? কেউ দু’জানু হয়ে বা পা ভাঁজ করে বসে নামায পড়তে না পারলে সে কিভাবে নামায পড়বে। বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর:  শারীরিক অক্ষমতা বা অসুস্থতার কারণে বিশেষত: বিশেষজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মাজুর বা রোগাক্রান্ত ব্যক্তি চেয়ারে বসে নামায আদায় করতে পারবে। নামায/সাজদা আদায়ের ব্যাপারে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি তুমি জমিনের উপর সাজদা করতে সক্ষম হও তবে জমিনের উপর সাজদা কর। আর যদি অক্ষম হও তবে মাথা ঝুঁকিয়ে ইশারা করে সাজদা কর।
[হাশিয়ায়ে হেদায়া কৃত: আবদুল হাই লখনভী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৪৪]
অতএব, যারা দাঁড়িয়ে এবং জমিনে দু’জানু হয়ে বসে নামায আদায় করতে অক্ষম তাদের জন্য ঘরে, অফিসে ও মসজিদে নামাযের কাতারের এক পার্শ্বে চেয়ারে বসে সূরা কেরাত পড়ে রুকু-সাজদায় মাথা ঝুঁকিয়ে ইশারায় নামায আদায় করতে পারবে, বরং তা জায়েয ও বৈধ। তবে দাঁড়িয়ে বা বসে নামায আদায় করতে সক্ষম ব্যক্তি চেয়ারে বসে নামায আদায়ের সুযোগ গ্রহণ করবে না, শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী জমিনে সাজদা করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও চেয়ারে বসে নামায পড়লে তা সহীহ হবে না। সুতরাং উপরোক্ত নিয়মে নামায পড়লে একান্ত মাজুর ও অপারগ ব্যক্তির জন্য অসুবিধা নেই। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে মাসিক তরজুমান ১৪৩৬ হিজরী ও জামাদিউস্ সানী-১৪৪২ হিজরী সংখ্যা দেখার অনুরোধ রইল।
[হেদায়া, সালাতুল মারিজ: ১ম খণ্ড, কৃত- ইমাম আল্লামা মরগিনানী হানাফী রাহ. ও তাহকিকুল মাসায়েল: কৃত- মুফতি মুনিবুর রহমান ইত্যাদি]

দু’টির বেশি প্রশ্ন গৃহীত হবেনা  একটি কাগজের পূর্ণপৃষ্ঠায় প্রশ্ন লিখে নিচে প্রশ্নকারীর নাম, ঠিকানা লিখতে হবে  প্রশ্নের উত্তর প্রকাশের জন্য উত্তরদাতার সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাঞ্ছনীয় নয়। প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা: প্রশ্নোত্তর বিভাগ, মাসিক তরজুমান, ৩২১, দিদার মার্কেট (৩য় তলা), দেওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম-৪০০০।

Share:

Leave Your Comment