জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র গুরুত্ব- অধ্যাপক কাজী সামশুর রহমান

জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র গুরুত্ব- অধ্যাপক কাজী সামশুর রহমান

জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র গুরুত্ব- অধ্যাপক কাজী সামশুর রহমান

জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র গুরুত্ব-

অধ্যাপক কাজী সামশুর রহমান >

‘‘বালাগাল উলা বিকামালিহী, কাশাফাদ দোজা বি-জামালিহী,
হাসানাতজমি ওয়া খিছালিহী, সাল্লু আলায়হি ওয়াআলিহী।’’
বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত ইমামূল আম্বিয়া রাহমাতুল্লিল আলামিন নুরনবী আক্বা ও মাওলা হযরত আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল ‘ফজল’ ও ‘রহমত’ হিসেবে এ নশ্বর পৃথিবীতে শুভাগমন করেন। ‘আইয়্যামে জাহেলিয়া’র সে যুগে উদ্ভাসিত আলোকবর্তিকার শুভাগমন। বিশ্ব মুসলিমের নিকট অবিস্মরণীয়, ঈমানী চেতনা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে উদ্ভাসিত, চতুর্দশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ, আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান ফাজেলে বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, প্রিয় নবী যখন অস্তিত্বে ছিলেন না, তখন মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। হুযূর করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তো সমগ্র জাহানেরই প্রাণ, জান থাকলেই তো সমগ্র জাহান অস্তিত্বশীল থাকবে।’’ এজন্যে হাদীসে ‘কুদসীতে বলা হয়েছে ‘‘লওলাকা লামা খালাক্বতুল আফলাক’ অর্থাৎ হে হাবীব, (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আপনি যদি না হতেন নিশ্চয়ই আমি আসমান জমিন সৃষ্টি করতাম না। কাজেই এ বিশ্বে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শুভাগমনের দিন খুশী উদ্যাপন করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য। শরীয়তসম্মত পন্থায় আনন্দ উৎসব আয়োজন করা সর্বোত্তম পূণ্যের কাজ। আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন, ‘‘কুল বি ফাদ্বলিল্লাহি ওয়া বি-রাহমাতিহী- ফাবিযালিকা ফাল ইয়াফরাহূ হুয়া খায়রুম মিম্মা ইয়াজমাউন’’ অর্থাৎ হে হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আপনি মুমিনদেরকে বলে দিন আল্লাহর পক্ষ হতে অনুগ্রহ ও রহমত অর্জিত হলে তারা যেন এজন্যে খুশী উদ্যাপন করে। আর এ খুশী উদ্যাপন করা তাদের সমুদয় পূণ্যকাজ থেকেও অতি উত্তম।’ সুবহানাল্লাহ্! এদিন নবী প্রেমিকরা মিলাদ মাহফিল, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা দান-খয়রাত যিকির আযকার, দোয়া-দরূদ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, নাতখানি, ফাতেহাখানি আয়োজন করে থাকে। এ সকল অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা, ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উদ্যাপন করে আসছে নবী প্রেমিকরা। অনন্তকাল ধরে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

‘জশনে জুলুছ-এ ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’ ঐ সকল অনুষ্ঠানের সাথে নূতন মাত্রা যোগ করেছে। গাউসে জমান মুজাদ্দিদে জমান রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত, হাদীয়ে দ্বীনো মিল্লাত, আওলাদে রাসূল, হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ১৯৭৪ সালে ১২ রবিউল আউয়াল এ জশনে জুলুছ-এ ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উদ্যাপন করার জন্য আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দান করেন। নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া (বলুয়ারদিঘীপাড়) হতে আনজুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব নুর মুহাম্মদ সওদাগর আলকাদেরী (হুজুর ক্বিবলার মনোনীত খলীফা) রাহমাতুল্লাহি আলায়হির নেতৃত্বে সর্বপ্রথম জশনে জুলুছ বের করা হয়। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ময়দানে জমায়েত হয়ে আলোচনা, মিলাদ, মাহফিল, আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। এ ধরনের একটি আকর্ষণীয় পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে (প্রথাগত রীতিবিরুদ্ধ) কর্মসূচী পালন হচ্ছে দেখে নবী বিদ্বেষী মহল এমনকি তরিকতপন্থীদের কেউ কেউই জশনে জুলূছের বিরোধিতা করে তির্যক মন্তব্য করেন। জুলুছের গুরুত্ব, বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তার কথা দিব্যদৃষ্টিতে (আধ্যাত্মিক শক্তি) উপলব্ধি করেছিলেন বলেই স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জশনে জুলুছের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। একজন আওলাদে রাসূল মুজাদ্দিদে জমান’র মুখ নিঃসৃত অমীয় বাণী সর্বদা গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত হয়, শত, সহস্র ধারায় প্রস্ফুটিত হয়ে বিকশিত হয়। একদিন যা অনুচিত বা শরীয়তসম্মত নয় বলে তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ(!)দের অনুমাননির্ভর, হিংসাশ্রয়ী মন্তব্য ধোপে ঠেকেনি। যুগ সংস্কারকের প্রচলিত প্রথা অনুমাননির্ভর হয় না, পবিত্র কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস’র ভিত্তিতেই চালু হয়। তাই আল্লাহ্-রাসূল, মাশায়েখ-কেরামের পক্ষ হতে অনুমোদন বা সত্যায়িত হয়। কেননা, আওলাদে রাসূল মুজাদ্দিদে জামান’র কাজই হচ্ছে শরীয়ত ত্বরীকতের পথকে অব্যাহতভাবে গতিশীল রেখে প্রকৃত ইসলাম’র ভিত্তি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’র প্রচার প্রসারে সরলপ্রাণ মুসলমানদের সম্পৃক্ত করে নবী-অলীবিদ্বেষীদের খপ্পর থেকে ঈমান আক্বীদাকে নিরাপদ রাখা। আল্লাহ্-রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র অনুগ্রহভাজন মুজাদ্দিদে জামান’র বক্তব্য ও পদক্ষেপ সময়োচিত ও যুগোপযোগী নিঃসন্দেহে। লক্ষ করা যায়, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাশহর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জশনে জুলুছ ব্যাপকতা লাভ করেছে। একদিন যারা বিরূদ্ধবাদী ও বিভ্রান্তকারী ছিল তারাও জুলুছের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে জশনে জুলুছ’র আয়োজন করে যাচ্ছে। আওলাদে রাসূল হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি দল মত নির্বিশেষে সকল মুসলিম মিল্লাতকে জশনে জুলুছের দাওয়াত দিতে আনজুমান ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশিত হয়ে আনজুমান কর্তৃপক্ষ সকল পীরের দরবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে জানিয়ে জুলুছের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। সকলের নিকট আল্লাহর একত্ববাদ প্রচারে প্রিয়নবী যেমন সকল গোত্র, সম্প্রদায়কে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তেমনি আওলাদে রাসূল হুজুর তৈয়্যব শাহ্ নায়েবে রাসূল এর প্রতিনিধিত্ব করে জমানার এক গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। সুবহানাল্লাহ্।

‘জশনে জুলুছ’র ‘জশন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ খুশী/উৎসব, ‘জুলুছ’ শব্দটি জলসা শব্দের বহুবচন, অর্থ বসা বা উপবেশন। নামাজ আল্লাহর যিকিরের জলসা। একইস্থানে দাঁড়িয়ে/বসে সম্পন্ন করা হয়। ‘হজ্ব’ হলো আল্লাহর যিকিরের ‘জুলুছ’ যা এক বৈঠকে সম্পন্ন করা যায় না। পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তাবুতে সকীনা ফিরিশতাগণ জুলুছ সহকারে নিয়ে এসেছিলেন। ‘মিলাদুন্নবী’র অর্থ হলো নূরনবীর জন্মবৃত্তান্ত ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর আলোচনা। সুতরাং ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে মিছিল সহকারে আনন্দ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত অনুষ্ঠান। প্রিয়নবীর প্রতি আন্তরিক মুহাব্বতের বহিঃপ্রকাশের উত্তম ব্যবস্থা। সহীহ্ মুসলিম শরীফের ২য় খণ্ডের ‘হাদীসুল হিজরত’ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা শরীফে প্রবেশ করলেন, তখন মদীনাবাসী রাস্তায় বাড়ির ছাদে আরোহণ করে প্রিয় নবীকে খোশ আমদেদ জানান। সকলেই শ্লোগান দিতে দিতে মিছিল সহকারে পথ পরিক্রমন করেন। সেদিন আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল।
‘‘তালাআল বদরু আলাইনা
মিন ছানিয়াতিল ওয়াদায়ি
ওয়াজাবাশ্ শুকরু আলাইনা
মাদা‘আ লিল্লাহি দায়ি।’’

এ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় সাহাবায়ে কেরাম হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শুভাগমনে জুলুছ আকারে ইয়া রাছুলাল্লাহ্ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুলেছিলেন। এজন্য নবীপ্রেমিক মুসলমানগণ সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণ করে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর খুশীতে বিভোর হয়ে মিছিল সহকারে আনন্দ উদ্যাপন করে থাকে এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ্, সালাত-সালাম ও নবী প্রশস্তিÍমূলক নানা কসিদা, কবিতা, না’ত, হামদ এর সুরলহরীতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে। আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় ৯ ও ১২ রবিউল আউয়াল যথাক্রমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জুলুছ (মিছিল) করে আনন্দ খুশী প্রকাশ করা হয়, যা নিন্মের আয়াতে করীমার নির্দেশ মোতাবেক উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআন শরীফে ঘোষণা করা হয়েছে। ‘‘কুল বিফাদ্বলিল্লাহি ওয়া বি রাহমাতিহী ফা-বিযালিকা ফালইয়াফরাহু’’ অর্থাৎ- ‘‘হে নবী আপনি উম্মতকে বলে দিন, আল্লাহর ফজল এবং তার রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন খুশী উদ্যাপন করে।’’ আমাদের প্রিয় নবী আল্লাহর ফজল তথা অনুগ্রহ এবং রহমত উভয়ই। কেননা কুরআন পাকে রয়েছে, লাক্বাদ মান্নাল্লাহু আলাল মুমিনীনা ইয বাআসা ফিহিম রাছুলা।’’ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা মুমিনদের ওপর বড়ই অনুগ্রহ বা ফজল করেছেন যে, তাদের মধ্যে একজন সম্মানিত রসূল প্রেরণ করেছেন। অন্য আয়াতে ঘোষিত হয়েছে, ‘‘ওয়ামা আরছালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন।’’ অর্থাৎ হে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম, ‘‘আমি আপনাকে সমগ্র আলমের জন্য রহমত করেই পাঠিয়েছি।’’ উপরোল্লিখিত আয়াতদ্বয় দ্বারা শরীয়তসম্মতভাবে, ‘জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী’ উদ্যাপন করা পবিত্র কুরআন পাকের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। নিঃসন্দেহে এটা বৈধ ও উত্তম। এটা কখনও বিদআত হতে পারে না। কারণ প্রিয় নবী ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উৎকৃষ্ট নিয়মপদ্ধতি বের করবে এর প্রতিদান তার আমলনামায় লেখা হবে, অথচ অনুসরণকারীদেরও সওয়াবের কোন অংশ কম হবে না।[মিশকাত শরীফ] ইসলামের মধ্যে যে প্রচলন বা রীতি কুরআন সুন্নাহ্, ইজমা কিয়াসের পরিপন্থী হবে না তা কখনো নিন্দনীয় বা বিদআত হতে পারে না। [মিরকাত শরীফ]

আমাদের প্রিয় মুর্শিদ আওলাদে রাসূল হযরতুল আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি এ রকম একটি উৎকৃষ্ট পদ্ধতির (জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী) প্রবর্তনের মাধ্যমে মুজাদ্দিদে জমান (সংস্কারক) এর ভূমিকা পালন করেছেন।
আল্লাহ্ পাকও মহান মুর্শিদের দরজা বুলন্দ করুন, আমিন। হুজুর ক্বিবলার নির্দেশ প্রতিপালন করার মাধ্যমে নবী-ওলী প্রেমিক মুসলমানদের দেশ-দেশান্তরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গগনবিদারী শ্লোগান ‘নারায়ে তাকবীর’ আল্লাহু আকবর, নারায়ে রিসালত, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম, নারায়ে গাউসিয়া-ইয়া গাউসুল আযম দস্তগীর রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর মাধ্যমে বাতিলদের প্রতিহত করতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মকে হাতিয়ার করে একশ্রেণীর জ্ঞাতিশত্র“ ধর্ম, দেশ ও জাতিকে ধবংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। ঔদ্ধত্যপূর্ণ অনৈসলামিক মানবতাবিরোধী এ সকল কর্মকাণ্ডকে রুখে দাঁড়াবার সময় এসেছে। এবারের জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হোক, নবী প্রেমে উজ্জ্বীবিত করার মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রাম শুরু করা। আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে জশনে জুলুছের গুরুত্ব অনুধাবনের চেষ্টা করা প্রত্যেকের ঈমানী কর্তব্য।
পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে আল্লাহ্ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও প্রিয় মুর্শিদের রেজামন্দি হাসিলে যেন আমরা কামিয়াব হই। আ-মী-ন।

লেখক: শিক্ষাবিদ ও প্রেস এণ্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী- আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট বাংলাদেশ