রসূল-ই আকরামের অনুসরণ খোদা-প্রেমের পূর্বশর্ত

রসূল-ই আকরামের অনুসরণ খোদা-প্রেমের পূর্বশর্ত

রসূল-ই আকরামের অনুসরণ খোদা-প্রেমের পূর্বশর্ত

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান

আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ ফরমাচ্ছেন-
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوْنِیْ یُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ وَیَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْؕ- وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ
তরজমা: হে হাবীব! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ভালবাসা রাখো, তবে আমার (রসূল-ই আক্রাম) অনুসরণ করো, (তাহলে) আল্লাহ্ তোমাদেরকে আপন মাহবূব করে নেবেন এবং তোমাদের সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
[সূরা আল-ই ইমরান: আয়াত-৩১]
পবিত্র ক্বোরআনের উপরিউক্ত আয়াত শরীফ থেকে আলোচ্য বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো। আয়াতটির শানে নুযূল থেকে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে আরব ভূ-খ-ের কিতাবী সম্প্রদায় তো প্রাথমিক পর্যায়ে হুযূর নবীকুল সরদার সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নুবূয়তকেই অস্বীকার করতো; কিন্তু যখন অকাট্য প্রমাণাদি ও হাজারো মু’জিযা হুযূর-ই আক্রামের নুবূয়তকে প্রমাণিত করে দিয়েছে, আর তাদের জন্য অস্বীকার করার কোন অবকাশই থাকেনি, তখন পরিশেষে বলতে লাগলো, ‘‘হাঁ, নবী তো হন; কিন্তু তাঁর নুবূয়তের আমাদের প্রয়োজন নেই। কারণ, আমরা হলাম আল্লাহর পুত্র ও তাঁর বন্ধু-বান্ধব। তদুপরি, তিনি হলেন বনী ইসমা‘ঈল। বনী ইসমা‘ঈলের এ দু’টি বৈশিষ্ট্য নেই। তাই তাদের হয়তো এ নবীর প্রয়োজন থাকতে পারে।’’ তাদের খ-নে এ আয়াত শরীফ নাযিল হযেছে। [আম তাফসীর গ্রন্থাবলী]
আরো লক্ষণীয় যে, উপরোক্ত আয়াত قُلْ (আপনি বলে দিন) দ্বারা আরম্ভ হয়েছে। এর কিছু হিকমত আম আর কিছু হিকমত খাস রয়েছে। আম হিকমতগুলো মাওলানা হাসান রেযা খান সাহেব বেরলভী একটি পংক্তিতে বর্ণনা করেছেন-
قل كهه كے اپنى بات بھى منه سے سنى
اتني هے ‏گفتگو تيري الله كو پسند
অর্থ: ‘ক্বুল (আপনি বলে দিন) বলে নিজের কথাটিও আপনার মুখ দিয়ে শুনেছেন। আপনার একটুকু কথোপকথনই আল্লাহ্ পছন্দ করেছেন।
মহান রব নিজেই বলতে চাচ্ছেন; কিন্তু আপন হাবীবের মাধ্যমে বলিয়ে শুনছেন। কারণ, মাহবূবের রসনা ও তাঁর মুখ মুবারক থেকে উচ্চারিত শব্দাবলী মহান রবের নিকট পছন্দনীয় ও প্রিয়। মোটকথা, ‘ক্বুল’ কখনো অন্য কাউকে বলতে বারণ করার জন্য এরশাদ করা হয়। কখনো অন্যদের মাধ্যমে বলানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ হে মাহবূব! এ কথা প্রথমে আপনি বলুন, তারপর অন্য লোকেরা কথাটা বলবে। কখনো ‘ক্বুল’ বলার উদ্দেশ্য এ-ই হয় যে, ‘হে প্রিয়, কথা হবে আমার; কিন্তু রসনা হবে আপনার। এ দু’টি নি’মাত সন্নিবিষ্ট হলে সেগুলোর সুপ্রভাব পড়বে।

ঘটনা
হযরত খাজা শায়খ ফরীদ উদ্দীন গঞ্জে শকর রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির নিকট এক ফক্বীর এসে কিছু চাইলো। তিনি একটি মুরগীর ডিমের উপর উচ্চস্বরে ‘ক্বুল হুয়াল্লাহু’ শরীফ পড়ে ফুঁক দিলেন। ওই ডিম সাথে সাথে স্বর্ণের হয়ে গেলো। তিনি তা ওই ফক্বীরকে দিয়ে দিলেন। ফক্বীরটি অতি আনন্দিত হয়ে ঘরে চলে গেলো। স্ত্রীকে বললো, ‘‘আমাকে হযরত শায়খ তো ধনশালী করে দিয়েছেন। স্বর্ণের একটি ডিমতো দিয়েছেন, আর স্বর্ণ কিভাবে তৈরী করা হয় তার পদ্ধতিও শুনিয়ে দিয়েছেন।’’
এখন পরীক্ষা করার পালা। সে একটি ডিম নিলো। তারপর একের পর এক করে একশ’ বার ‘ক্বুল হুয়াল্লাহু’্ শরীফ পড়ে সেটার উপর ফুঁক দিলো; কিন্তু কিছুই হলোনা; যেই ডিম ওই ডিমই র’য়ে গেলো। তারপর পূর্ণ ক্বোরআন শরীফ পড়ে ফুঁক দিলো; কিন্তু ডিমের কোন পরিবর্তনই হয়নি। স্বর্ণ তো হয়নি, পিতলও হলোনা। তারপর সে হযরত ফরীদ সাহেব আলায়হির রাহমাহ্র দরবারে হাযির হয়ে বললো, ‘‘হযরত! আপনি যা পড়েছিলেন, আমি তা থেকে আরো বেশী পড়েছি এবং ফুঁক দিয়েছি; কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি; ডিমে কোন পরিবর্তন আসেনি।’’ তিনি হেসে বললেন, ‘‘রাব্বানী কালামের জন্য ফরীদানী রসনার দরকার।’’ মোটকথা, এ ‘ক্বুল’ বলার মধ্যে অনেক হিকমত রয়েছে। আয়াত শরীফ ‘ইন কুন্তুম তুহিব্বূনা’-এর মধ্যে আল্লাহ্ তা‘আলা রসূল-ই আক্রামের অনুসরণকে মুহাব্বত দ্বারা আরম্ভ করেছেন। অর্থাৎ যদি তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি সত্য মুহাব্বত রাখো, তা হলে রসূল-ই আক্রামের অনুসরণ করো। কারণ কারো অনুসরণ ও আনুগত্য তিন কারণে করা হয়ঃ ১. ভয়ে, ২. লোভে এবং ৩. ভালবাসার কারণে।
উদাহরণস্বরূপ, চাকর তার মালিকের প্রত্যেক কথা মান্য করে বেতন পাবার লালসায়। প্রজা-সাধারণ বাদশার আনুগত্য করে জেল কিংবা শাস্তির ভয়ে। সৌভাগ্যবান পুত্র তার বৃদ্ধ মাতা-পিতার আনুগত্য ও সেবা করে মুহাব্বত বা ভালবাসার কারণে। মাতা-পিতা তাঁদের ছোট সন্তানের জেদ পূরণ করেন ভয়ে নয়, কিছুর লালসায়ও নয়; বরং পিতৃ ¯েœহের কারণে। বস্তুতঃ এ তিন প্রকারের আনুগত্যের মধ্যে ভালবাসার আনুগত্য বেশী জোরালো। ইসলামে এ তৃতীয় প্রকারের আনুগত্যই বিবেচ্য। লোভ-লালসার আনুগত্য স্বার্থসিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ভয়ের অনুসরণ বা আনুগত্য হয় ভয় কেটে যাওয়া পর্যন্ত; কিন্তু ভালবাসার অনুসরণ ও আনুগত্য হচ্ছে স্থায়ী। লোভ-লালসা ও ভয়ে আনুগত্য মুনাফিক্বরাও করতো। এর ফলে তারা সাহাবী হওয়া তো দূরের কথা, মু’মিনও হতে পারেনি। এ জন্য এখানে এ কথা এরশাদ হয়নি যে, আপনি বলুন, যদি তোমাদের আল্লাহর ভয় কিংবা তাঁর প্রতি লালসা থাকে, তাহলে আমার (রসূল-ই আকরাম) অনুসরণ করো বরং এরশাদ করেছেন, যদি আল্লাহর প্রতি ভালবাসা থাকে, তাহলে আমার অনুসরণ করো। সুতরাং এ’তে ভালবাসার অনুসরণকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মু’মিন হবার জন্য হুযূর-ই আক্রামের প্রতি কোন্ ভালবাসা আবশ্যক তা নির্দ্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তা হচ্ছে ভালবাসা সহকারে অনুসরণই।

তাছাড়া, অনুসরণের মধ্যে নিজেকে অনুসৃতের প্রতি সোপর্দ করে দেয়াও রয়েছে। অর্থাৎ অনুসরণকারীর কাজ হচ্ছে যার অনুসরণ করছে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা। রাস্তার অবস্থাদি যাচাই করা তার কাজ নয়। যেমন রেলের বগিগুলো সম্মুখভাগের ইঞ্জিনেরই অনুসরণ করে থাকে। লাইনের অবস্থাদি দেখা বগিগুলোর কাজ নয়। সুতরাং এ একটি শব্দের (অনুসরণ) মধ্যে আল্লাহ্ তা‘আলা আপন হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর কেমন শান বা মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন! অর্থাৎ হে দুনিয়াবাসী। রাস্তার অবস্থাদি যাচাই করা তোমাদের কাজ নয়, তোমাদের কাজ হচ্ছে আমার হাবীবের পেছনে পেছনে চলে আসা। এ ক্ষেত্রে যদি তোমরা নিজেদের বিবেক-বুদ্ধির উপর ভরসা করো, তবে তোমরা তো হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারী হবে না।

এ’তে এর প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তোমরা যত বড় পদ-মর্যাদায় পৌঁছে যাওনা কেন, যত আরিফ-ই কামিলও হয়ে যাও না কেন, কিন্তু তোমরা ‘ভাই’ হয়ে তাঁর সমান হয়ে আসার চেষ্টা করো না, আবার পিতা হয়ে তাঁর আগে বাড়তেও চেষ্টা করো না; বরং গোলাম হয়ে সব সময় তাঁর পেছনে থাকবে। রেলগাড়ীর বগি যে শ্রেণীরই হোক না কেন, ইঞ্জিনের পেছনেই চলে যায়, অন্যথায় সফর করতে পারে না।

এ’তে আরেকটি বিষয় এও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোন পীর, ফক্বীর, গাউস, ক্বুত্বুব কিংবা বাদশাহ্ অন্য কারো দ্বারা নিজের অনুসরণ (اتباع) করাতে পারেন না। কেননা, তাঁর সমস্ত আমল ‘রাহমানী’ (আল্লাহ্ তা‘আলার হুবহু নির্দেশনানুসারে) নয়; কিছু কিছু কাজ ‘নাফসানী’ (নিজের উদ্ভাবিত)ও হতে পারে; যেগুলোর অনুসরণ করা যেতে পারে না। কিন্তু ওই প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত কাজই ‘রাহমানী’, সেখানে নাফস ও শয়তান পৌঁছতে পারে না। সুতরাং চোখ বন্ধ করে তাঁর পেছনে পেছনে চলে যেতে পারা যায়।

ঘটনা
আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওমর ফারূক্ব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু খিলাফতের আসনে আসীন হয়ে ওয়া’য (নসীহত) করলেন। তিনি বললেন, ‘‘হে লোকেরা! আমি তোমাদের আমীর! প্রত্যেক বৈধ নির্দেশে আমার আনুগত্য করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু যদি আমার মধ্যে কোন ভুল কিছু দেখো, তবে তা আমাকে জানিয়ে দিয়ে আমাকে সংশোধন করে দেবে।’’ তাঁর এ ঘোষণার ফলশ্রুতিতে হযরত সালমান ফারসী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু একবার লোক সমাগমের মধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করে বসলেন, ‘‘হে আমীরুল মু’মিনীন! এবারের গণীমতের হিস্সা থেকে প্রাপ্ত কাপড় দিয়ে কোন যোদ্ধা পূর্ণ একটি জামাও তৈরী করতে পারেনি। আপনি ওই কাপড়ের পূর্ণাঙ্গ জামা কিভাবে পরলেন?’’ তিনি এরশাদ করলেন, ‘‘এর জবাব আমার পুত্র আবদুল্লাহ্ থেকে নিয়ে নাও!’’ সুতরাং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর বললেন, ‘‘আমি আমার কাপড়ের অংশখানা আমার পিতাকে দিয়েছিলাম। এ জামা তার ও আমার দু’ অংশ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে।’’ সুবহা-নাল্লাহ এমন ন্যায়পরায়ণ খলীফা আমীরুল মু’মিনীনও কখনো বলেননি, ‘‘তোমরা আমার অনুসরণ করো। বরং বলেছেন, ‘‘আমার মধ্যে কোন ত্রুটি দেখতে পেলে আমাকে বলে তা সংশোধন করে দিও।’’ অথচ হুযূর-ই আক্রামের অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকী রইলো- হুযূর-ই আক্রামেরই বৈশিষ্ট্যাবলী, যেগুলো হুযূর-ই আক্রামের জন্য খাস, অন্য কারো জন্য সেগুলোর অনুসরণের অনুমতি নেই। যেমন- যাকাত ফরয না হওয়া, একই সময়ে নয় স্ত্রী বিবাহাধীন হওয়া, উটের উপর আরোহন করে কা’বা শরীফের তাওয়াফ করা, মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা ইত্যাদি। এ আমলগুলো অন্য কারো জন্য অনুসরণযোগ্য নয়। আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে এ আশ্চর্যজনক, হৃদয়গ্রাহী ও মর্মস্পর্শী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, যদি বান্দাগণ আল্লাহকে ভালবাসে, তবে আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন। যদি তারা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফার অনুসারী হয়ে যায়, তবে মহান রব তাদেরকে ভালবাসবেন, অর্থাৎ তারা আল্লাহর প্রেমাষ্পদ হয়ে যাবে। এ থেকে আরো দু’টি বিষয় প্রতীয়মান হয়ঃ এক. যখন হুযূর-ই আক্রামের অনুসারী তথা হুযূর-ই আক্রামের গোলাম আল্লাহ্ তা‘আলার মাহবূব হয়ে যায়, তখন খোদ্ নবী-ই আক্রাম মহান রবের কেমন মাহবূব, তা ভেবে দেখা দরকার। আয়াত শরীফটির ঘোষণানুযায়ী হুযূর-ই আক্রাম হলেন আল্লাহ তা‘আলার মাহবুব-ই আকবার। আর যিনি তাঁর হয়ে যান, আল্লাহ্ তাঁর হয়ে যান। কবি বলেন-
ان كے دركا جو هوا خلق خدا اس كي هوئى
ان كے در سے پھرا الله بھي اس سے پھس كيا
অর্থ: যে ব্যক্তি রসূল-ই আক্রামের দরজার হয়ে যায়; আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিও তার হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, তাঁর দরজা থেকে যে ফিরে গেছে, বিমুখ হয়ে গেছে, আল্লাহ্ও তার থেকে বিমুখ হয়ে গেছেন।
মহান রবের দ্বিতীয় ওয়াদা হচ্ছে-
وَيَغْفِرْلَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرُ رَّحِيْمٌ
এ দ্বিতীয় ওয়াদা প্রথম ওয়াদার উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ যদি তোমরা আমার মাহবূবের সাচ্চা গোলাম হয়ে যাও, তবে তোমাদের সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা করে দেবো, তখন তোমাদের জন্য আমার ‘শানে গাফ্ফারী’ (মহা ক্ষমাশীল) হবার শান বা মর্যাদা প্রকাশ পাবে।
আ’লা হযরত বলেন-
گنه رضا كا حساب كيا جو ا‏گرچھ لاكھوں سے هيں سوا
مگراے عفو تيرے عفو كا نه حساب هے نه شمار هے
অর্থ: (ইমাম) আহমদ রেযার গুনাহর কী হিসাব? তা যদিও লক্ষ লক্ষকেও ছাড়িয়ে যায়! কিন্তু হে মহা ক্ষমাশীল (খোদা)! আপনার ক্ষমার না হিসাব আছে, না গণনা!
আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয়তম হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাচ্চা অনুসরণ নসীব করুন! কারণ, এতেই রয়েছে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ। আজকাল মুসলমান ভাগ্যোন্নয়নের জন্য চতুর্দিকে হাত-পা মারছে; কিন্তু তারা ওই দিকে মনোনিবেশ করছে না, যাতে মূল উন্নতি লুক্কিয়ে আছে।
কবির ভাষায়-
ان كے جو هم غلام تھے خلق كے پيشوا رهے
ان سے پھرے جهاں آئي كمي وقار ميں
অর্থ: যতদিন আমরা তাঁর গোলাম ছিলাম, ততদিন আমরা গোটা বিশ্বের পেশোয়া ছিলাম। তাঁর দিক থেকে ফিরে যাবার সাথে সাথে, বিশ্ব আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সর্বোপরি, আমাদের ইয্যাত সম্ভ্রম হ্রাস পেতে শুরু করেছে।

মহাপরিচালক-আনজুমান রিসার্চ সেন্টার, চট্টগ্রাম।

 

Share:

Leave Your Comment