সকল প্রকার অনুগ্রহ আল্লাহরই দান

0

হাফেয কাজী আবদুল আলীম রিজভী

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ
اِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ(১) لَیْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ(২) خَافِضَةٌ رَّافِعَةٌ(৩) اِذَا رُجَّتِ الْاَرْضُ رَجًّا(৪) وَّ بُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا(৫) فَكَانَتْ هَبَآءً مُّنْۢبَثًّا (৬) وَّكُنْتُمْ اَزْوَاجًا ثَلٰثَةً (৭) فَاَصْحٰبُ الْمَیْمَنَةِ ﳔ مَاۤ اَصْحٰبُ الْمَیْمَنَةِ (৮) وَاَصْحٰبُ الْمَشْــٴَـمَةِ ﳔ مَاۤ اَصْحٰبُ الْمَشْــٴَـمَةِ (৯) وَالسّٰبِقُوْنَ السّٰبِقُوْنَ (১০) اُولٰٓىٕكَ الْمُقَرَّبُوْنَ (১১) فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ(১২) ثُلَّةٌ مِّنَ الْاَوَّلِیْنَ (১৩) وَقَلِیْلٌ مِّنَ الْاٰخِرِیْنَ (১৪) عَلٰى سُرُرٍ مَّوْضُوْنَةٍ (১৫) مُّتَّكِـٕیْنَ عَلَیْهَا مُتَقٰبِلِیْنَ (১৬) یَطُوْفُ عَلَیْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُوْنَ (১৭) بِاَكْوَابٍ وَّ اَبَارِیْقَ ﳔ وَكَاْسٍ مِّنْ مَّعِیْنٍ(১৮) لَّا یُصَدَّعُوْنَ عَنْهَا وَلَا یُنْزِفُوْنَ(১৯)وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا یَتَخَیَّرُوْنَ (২০) وَلَحْمِ طَیْرٍ مِّمَّا یَشْتَهُوْنَ(২১)

আল্লাহর নামে আরম্ভ, যিনি পরম দয়ালু, করুণাময়
তরজমা: যখন সংঘটিত হবে ওই ঘটমান (অর্থাৎ ক্বেয়ামত) ওই সময় তা সংঘটি হবার বিষয়ে কারো অস্বীকার করার অবকাশ থাকবে না। (এই কেয়ামত) কাউকে নীচু কারী কাউকে সমুন্নতকারী। যখন প্রকম্পিত হবে পৃথিবী প্রবলভাবে। এবং পর্বতমালা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হয়ে যাবে চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে। অত;পর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধুলিকনা। এবং তোমরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়বে। সুতরাং ডানপাশর্^স্থ দল কেমনই (ভাগ্যবান) ডানপাশর্^স্থ দল। এবং বামপার্শস্থ দল কেমনই (হতভাগ্য) বাম পাশর্^স্থদল। এবং অগ্রবর্তীগন তো অগ্রবর্তীই। তারাই (মহান আল্লাহর) নৈকট্যশীল। নেয়ামতের উদ্যানসমূহে। (তারা) পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে একদল। এবং পরবর্তীদের মধ্য থেকে স্বল্পসংখ্যক। কারুকার্যখচিত আসন সমূহের উপর হবে, তারা তাতে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট হবে পরষ্পর মুখোমুখি হয়ে। তাদের চতুর্পাশে^ প্রদক্ষিন করবে চির-কিশোররা। কুঁজা ও জলপাত্র (অর্থাৎ বদনা) এবং পানপাত্র ও চোখের সামনে প্রবহমান শরাব নিয়ে। যা দ্বারা না তাদের শির:পীড়া হবে এবং না তাদের হুশ-জ্ঞানে কোন পার্থক্য আসবে। এবং ফলমূল নিয়ে যা তারা পছন্দ করবে। এবং পাখীর মাংস যা তারা চাইবে।
(সূরা আল-ওয়াকিয়াহ, ১-২১ নং আয়াত)

আনুষঙ্গিক আলোচনা
‘ওয়াকিয়া’ কিয়ামতের অন্যতম নাম
‘মহাপ্রলয়’ কেয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা ও বিভীষিকাময় ঘটনা প্রবাহ বান্দাগণকে বুঝানোর জন্য মহান আল্লাহ কুরআনে করীমের অসংখ্য আয়াতে বিভিন্ন নামে কেয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন। তন্মধ্যে ‘ওয়াকিয়া’ হলো কিয়ামতের অন্যতম নাম। কেননা এর বাস্তবতায় কোররূপ সন্দেহ ও সংশয়ের অবকাশ নেই। (ইমাম ইবনে কাছীর) কেয়ামতের আরেক নাম হলো يوم الجمع অর্থাৎ একত্রিত হওয়ার দিবস। যেমন; সুরা তাগাবুন এর ৯ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- يوم يجمعكم ليوم الجمعঅর্থাৎ সেদিন তথা সমাবেশের দিন আল্লাহ তোমাদেরকে সমবেত করবেন। যেহেতু এ দিন পূর্ব ও পরবর্তী সকল মানব একস্থানে জমায়েত হবে হিসাব-নিকাশের জন্য-তাই এ দিন কে يوم الجمع নামে নামকরণ করা হয়েছে। কেয়ামতের এক নাম يوم التغابن তথা লোকসানের দিবস। আভিধানিকভাবে تغابنশব্দটি غبن থেকে নির্গত। এর অর্থ হলো লোকসান। আর্থিক লোকসান এবং মত ও বুদ্ধির লোকসান উভয়কে غبن বলা হয়। ইমাম রাগেব ইস্পাহানী রহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি মুফরাদাতুল কুরআনে বলেন-আর্থিক লোকসান জ্ঞাপন করার জন্য এ শব্দটি صيغه مجهول এ ব্যবহৃত হয়। এবং মত ও বুদ্ধির লোকসান জ্ঞাপন করার
জন্য باب سمع থেকে ব্যবহৃত হয়। تغابن শব্দটি দুই তরফা কাজের জন্য বলা হয়। অর্থাৎ একজন অন্যজনের এবং অন্যজন তার লোকসান করবে। অথবা তার লোকসান প্রকাশ করবে।
সহীহ বুখারী শরীফের রেওয়ায়তে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তির কাছে কারো কোন প্রাপ্য থাকে, তার উচিৎ দুনিয়াতেই তা পরিশোধ করে অথবা মাফ করিয়ে নিয়ে মুক্ত হয়ে যাওয়া। নতুবা কেয়ামতের দিন দিনার দিরহাম কোন কিছুই থাকবেনা। কারো কোন দাবি থাকলে তা সে ব্যক্তির সৎকর্ম দিয়ে পরিশোধ করা হবে। সৎকর্ম শেষ হয়ে গেলে পাওনাদারের গুনাহ প্রাপ্য পরিমাণ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। (তাফসিরে মাযহারি শরিফ)
সাইয়্যেদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও অন্যান্য তাফসীর বিশারদগণ কেয়ামতকে লোকসানের দিবস বলার উপরোপক্ত কারণই বর্ননা করেছেন। আবার অনেকের মতে সেদিন কেবল কাফির পাপাচারী ও হতভাগ্যরাই লোকসান অনুভব করবেনা, বরং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনরাও এভাবে লোকসান অনুভব করবে যে, হায়! আমরা যদি আরো বেশি সৎকর্ম করতাম, তবে জান্নাতের সুউচ্চ মর্তবা লাভ করতাম। সেদিন প্রত্যেকেই জীবনের সেই সময়ের জন্য পরিতাপ করবে। যা অযথা ব্যয় করেছে। যেমন-হাদীসে পাকে এরশাদ হয়েছে
من جلس مجلسا لم يذكر الله فيه كان عليه حرة يوم القيامة
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন মজলিসে বসে এবং সমগ্র মজলিসে আল্লাহকে স্মরণ না করে, কেয়ামতের সেই মজলিস তার জন্য পরিতাপের কারণ হবে। এজন্য কেয়ামতের একনাম يوم الحسرة অর্থাৎ পরিতাপ দিবস। যেমন সূরা মরিয়মে উল্লেখিত হয়েছে।
তাফসীরে কুরতুবীতে রয়েছে-প্রত্যেক মুমিন সেদিন সৎকর্মে ত্রুটির কারণে স্বীয় লোকসান অনুভব করবে। তাই এটা يوم التغابن তথা লোকসান দিবস।
কেয়ামতের আরেক নাম حاقة শব্দটির এক অর্থ সত্য এবং দ্বিতীয় অর্থ অপরাপর বিষয়কে সত্য প্রতিপন্নকারী। কেয়ামতের জন্য এই শব্দটি উভয় অর্থে প্রযোজ্য। কেনান, কেয়ামত নিজেও সত্য। এর বাস্তবতা প্রমাণিত ও নিশ্চিত এবং কেয়ামত মুমিনদের জন্য জান্নাত এবং কাফিরদের জন্য জাহান্নামের সত্যতা ও বাস্তবতা প্রতিপন্ন করে। কেয়ামতের আরেক নাম ‘মহাপ্রলয়’ বা قارعة। আর قارعة শব্দের অর্থ খট খট শব্দকারী। কেয়ামত যেহেতু সব মানুষকে অস্থির ও ব্যাকুল করে দেবে তাই একে قارعة বলা হয়েছে। বলা বাহুল্য, কেয়ামত সকল প্রকার অনুমানের উর্ধ্বে এবং বিস্ময়কররূপে ভয়াবহ।

وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ
আল্লাহর পবিত্র বাণী ‘এবং অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই’ এর ব্যাখ্যায় মুফাসসেরীনে কেরাম বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। যেমন, সাইয়্যেদুনা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা মা আয়েশা সিদ্দীকাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন-একবার রাসূলে আকরাম নূরে মুজাস্সাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম কে প্রশ্ন করলেন: তোমরা জান কি, কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ার দিকে কারা অগ্রবর্তী হবেন? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন-আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন-তারাই অগ্রবর্তী হবে, যাদেরকে সত্যের দাওয়াত দিলে কবুল করে যারা প্রাপ্য চাইলে পরিশোধ করে এবং অন্যের ব্যাপারে তাই ফায়সালা করে যা নিজের ব্যাপারে করে।
ইমাম মাহদি রা. বলেন سَّابِقُونَ তথা অগ্রবর্তীগণ বলে আম্বিয়ায়েকেরাম কে বোঝানো হয়েছে। ইমাম ইবনে সিরীন রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর মতে যারা বাইতুল মুকাদ্দাস ও বাইতুল্লাহ উভয় কেবলার দিকে মুখ করে নামায পড়েছে। তারাই অগ্রবর্তী। ইমাম ইবনে কাছীর বলেন-উপরোক্ত অভিমত গুলোর মধ্যে পরস্পর কোন বিরোধ নেই। এসব স্ব স্ব স্থানে সঠিক ও বিশুদ্ধ। কারন, দুনিয়াতে যারা সৎকর্মে অন্যের চাইতে অগ্রে, পরকালেও তারা অগ্রবর্তীরূপে গণ্য হবে। কেননা, পরকালের প্রতিদান দুনিয়ার কর্মের ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

ثلة من الأولين وقليل من الآخرين
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় পূর্ববর্তীও পরবর্তী বড় দল বলে কাদের কে বোঝানো হয়েছে, এ প্রসঙ্গে তাফসীরশাস্ত্র বিশারাদগণ দুটি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
প্রথমত: সাইয়্যেদুনা হযরত আদম ছাফিউল্লাহ আলায়হিস সালাম হতে রাসূলে করিম, রউফুর রহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্বে পর্যন্ত সব মানব পূর্ববর্তী দলের অন্তর্ভুক্ত এবং রাসূলে খোদা আশরাফে আম্বিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে কেয়ামত পর্যন্ত সব মানব পরবর্তী দলের অন্তর্ভুক্ত -এটা হলো ইমাম মুজাহিদ, ইমাম হাসান বছরী ও ইমাম ইবনে জরীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমের অভিমত। সাইয়্যেদুনা জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীস এ তাফসিরের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। উক্ত হাদিসে এরশাদ হয়েছে-যখন অগ্রবর্তী নৈকট্টশীলদের সম্পর্কে প্রথম আয়াত
ثلة من الأولين وقليل من الآخرين
নাযিল হয়, তখন সাইয়্যেদুনা হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিস্ময় সহকারে আরজ করলেন, ওহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম!পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে অগ্রবর্তী নৈকট্যশীলদের সংখ্যা বেশি এবং আমাদের মধ্যে কম হবে কি? অত:পর একবছর পর্যন্ত পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হয়নি। এক বছর পর যখন ثلة من الأولين وقليل من الآخرين
নাযিল হল তখন রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন-
اسمع يا عمر ما قد انزل الله ثلة من الأولين وقليل من الآخرين الا و ان من اد م الي ثلة و امتي ثلة
অর্থাৎ- শোন হে ওমর! আল্লাহ নাযিল করেছেন- পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকেও এক বড় দল এবং পরবর্তীদের মধ্য থেকেও এক বড় দল হবে। মনে রেখ, সাইয়্যেদুনা হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম থেকে শুরু করেও আমি পর্যন্ত এক বড় দল এবং আমি নবীর উম্মত অপর বড় দল॥
সাইয়্যেদুনা হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীস থেকেও এই বিষয় বস্তুর সমর্থন পাওয়া যায়।
সাইয়্যেদুনা হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন- ثلة من الأولين وقليل من الآخرين
আয়াতখানি নাযিল হলে হযরাতে ছাহাবায়ে রাসূল দ. ব্যথিত হন যে, আমরা পূর্ববর্তী উম্মতদের তুলনায় কমসংখ্যক হব। তখন وقليل من الآخرين ثلة من الأولين আয়াতখানি অবতীর্ণ হয়। তখন রাসূলে আকরম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি আশা করি যে, তোমরা উম্মতে মুহাম্মদী জান্নাতে সমগ্র উম্মতের মোকাবেলায় এক চতুর্থাংশ, এক তৃতীয়াংশ বরং অর্ধেক হবে। বাকী অর্ধেকের মধ্যেও তোমাদের কিছু অংশ থাকবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)
দ্বিতীয়ত: উপরোক্ত আয়াতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বড় দল বলে উম্মতে মুহাম্মদি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর দুটি স্তর বুঝানো হয়েছে। পূর্ববর্তী বড় দল বলে কুরুনে উলা তথা সাহাবী-তাবেয়ী প্রমুখদের যুগকে এবং পরবর্তী বড় দল বলে তাঁদের পরবর্তী কেয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী মুসলমানদেরকে বুঝানো হয়েছে। তাফসীরে ইবনে কাসীর, আবূ হাইয়ান, কুরতুবী, রূহুল মায়ানি এবং মাযহারী শরীফ ইত্যাদি তাফসির গ্রন্থে এই দ্বিতীয় অভিমতকেই অগ্রাধীকার দেয়া হয়েছে। ইমাম ইবনে কাসীর এই দ্বিতীয় অভিমতের সমর্থনে কুরআনে করীমের সেসব আয়াত পেশ করছেন-যেগুলোতে বলা হয়েছে-উম্মতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠতম উম্মত। যেমন-
كنتم خيرامةلتكونوا شهداء على الناس
ويكون الرسول عليكم شهيداً
তিনি আরো বলেছেন-অগ্রবর্তী নৈকট্টশীলদের সংখ্যা অন্যান্য উম্মতের তুলনায় এই শ্রেষ্ঠতম উম্মতে কম হবে- একথা মেনে নেয়া যায়না।তাই এ কথায় অধিক সঙ্গত যে, পূর্ববর্তীগণের অর্থ এই উম্মতের প্রথম যুগের মনীষীগণ এবং পরবর্তীগণের অর্থ তাঁদের পরবর্তী লোকজন। তাঁদের মধ্যে নৈকট্টশীলদের সংখ্যা কম হবে। এ তাফসিরের সমর্থনে ইমাম ইবনে কাসির ইমাম হাসান বছরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি পেশ করেছেন। তিনি বলেন-পূর্ববর্তীগণ তো আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু হে আল্লাহ আমাদেরকে সাধারণ মুমিন তথা আসহাবুল ইয়ামিন এর অন্তর্ভুক্ত করে দিন। অন্য এক রেওয়ায়াত অনুযায়ী তিনি পূর্ববর্তীগণের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন من مضي في هذه الامة অর্থাৎ পূর্ববর্তীগণ হচ্ছেন এই উম্মতেরই পূর্ববর্তী লোক। এমনিভাবে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সিরিন র. বলেন-আলেমগণ বলেন এবং আশা রাখেন যে, এই উম্মতের মধ্যে থেকেই পূর্ববর্তীগণ ও পরবর্তীগণ হোক। (তাফসিরে ইবনে কাসীর)
তাফসিরে রুহুল মায়ানী শরীফে এই দ্বিতীয় তাফসিরের সমর্থনে হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর রেওয়ায়াতক্রমে নি¤েœাক্ত হাদীস উদ্ধৃত করা হয়েছে যে,
وقليل من الآخرين ثلة من الأولين
মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীর প্রসঙ্গে রাসূলে আকরাম নুরে মুজাস্সাম এরশাদ করেছেন-তারা সবাই এই উম্মতের মধ্যে থেকে হবে। এই তাফসীর অনুযায়ী শুরুতে وكنتم ازواجا ثلثة এই আয়াতে উম্মতে মুহাম্মদি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম কেই সম্বোধন করা হয়েছে। এবং প্রকার নয় উম্মতে মুহাম্মদি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হবে। (তাফসিরে রুহুল মায়ানী শরীফ)

লেখক: অধ্যক্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদরাসা, মুহাম্মদপুর, এফ ব্লক, ঢাকা।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •