গরু-মহিষের নাড়ি-ভূড়ি খাওয়া কি মাকরূহে তাহরীমী?

0

হাফেজ মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: বিগত কয়েক বছর পূর্বে তরজুমানে পড়েছিলাম, গরু-মহিষের নাড়ি-ভূড়ি খাওয়া মাকরূহে তাহরীমী। তবে আমাদের এলাকার একজন আলেম বললেন তা খাওয়াতে দোষের কিছু নেই। প্রকৃত মাসআলা জানিয়ে ধন্য করবেন।
 উত্তর: হালাল প্রাণী বা জন্তুর (গরু, মহিষ, ভহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ইত্যাদি) এমন কিছু অংশ আছে যা খাওয়া মাকরূহে তাহরীমা। তন্মধ্যে ‘নাড়ি-ভূড়ি অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ বা কোন কোন জায়গায় সঠিক মাসআলা না জানার কারণে বিভ্রান্তি তৈরী হয় বা নাড়ি-ভূড়ি খেতে দেখা যায়। যা ইসলামী শরীয়ত সমর্থিত নয়। তবে না জেনে এতোদিন যারা খেয়েছে তারা জানার পর খাবে না। ইমামে আহলে সুন্নাত আলা হযরত ইমাম শাহ্ আহমদ রেযা খান ফাযেলে বেরলভী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি ফতোয়ায়ে রজভিয়া খন্ড-২০তম, ৩৬ পৃষ্ঠায় হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফিক্বহ্-ফতোয়ার উদ্ধৃতি উপস্থাপনপূর্বক যবেহকৃত হালাল প্রাণীর ২২টি অঙ্গ খাওয়া মাকরূহ ও নিষিদ্ধ বলেছেন। তন্মধ্যে নাড়ি-ভূড়ি অন্তর্ভুক্ত। যদি কেউ বা কোন আলেম মাসআলা অবগত হওয়ার পর এমন মাকরূহ খাদ্য আহার করবে বা অন্যকে খাওয়ার উপদেশ অথবা উৎসাহ্ প্রদান করবে, অবশ্যই সে গুনাহ্গার হবে। ফতোয়ায়ে ফয়জুর রাসূলে, ফকিহে মিল্লাত মুফতি জালাল উদ্দীন আমজাদী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, হালাল জন্তুর নাড়ি-ভূড়ি খাওয়া মাকরূহে তাহরীমা তথা হারামের কাছাকাছি। তবে আল্লামা গোলাম রসূল সাঈদী রহমাতুল্লাহি আলায়হি স্বীয় সংকলিত শরহে সহীহ্ বুখারী নে’মাতুল বারী ১ম খন্ডে ও শরহে সহীহ্ মুসলিম শরীফ ৫ম খন্ডে নাড়ি-ভূড়ি তথা ওজরি ও অন্ত্র খাওয়া মাকরূহে তাহরিমা হওয়া সংক্রান্ত ইমাম আ’লা হযরতের ফতোয়ায়ে রজভিয়ার উদ্ধৃতি বর্ণনা করার পর তিনি (আল্লামা গোলাম রসূল সাইদী) কয়েকটি হাদিসের উদ্ধৃতির আলোকে নাড়ি-ভূড়ি, ওজরি ও অন্ত্র খাওয়া মাকরূহে তাহরিমী নয় বরং মাকরূহে তানযিহী (অপছন্দনীয়) হিসেবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
[নেমাতুল বারী, ১ম খন্ড, ৭০৫ পৃ.] সুতরাং ওলামায়ে কেরামের মধ্যে এ বিষয়ে মতানৈক্য পরিলক্ষিত হওয়ায় বিত্তবানদের জন্য এসব ঘৃণ্য অংশগুলো না খাওয়াই অধিকতর নিরাপদ ও ইহতিয়াত। যা মাসিক তরজুমান জিলহজ্ব সংখ্যা ১৪৩৩ হিজরী ও ১৪৪১ হিজরী প্রশ্নোত্তর বিভাগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •