যুগের চাহিদা পূরণে আনজুমান প্রকাশনার অবদান

0
কিতাব অধ্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়
যুগের চাহিদা পূরণে আনজুমান প্রকাশনার অবদান
মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম
উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতিগুলোর ইতিহাস চর্চা করলে এ বিষয়টি অতি স্পষ্ট হয় যে, ‘ইল্ম’ (জ্ঞান)-ই পূর্ববর্তী ও বর্তমান জাতিসমূহ ও সম্প্রদায়গুলোর উন্নতি ও মহত্ব অর্জনের মূলভিত্তি। ‘ইল্ম’ (জ্ঞান) ও ‘আলিম’ (জ্ঞানী)’র ফযিলত ও মর্যাদা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত-এর নিকট এ বাণী দ্বারা সুস্পষ্ট হয়-
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً
‘এবং স্মরণ করুন! যখন আপনার রব ফিরিশতাদেরকে বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে আপন প্রতিনিধি সৃষ্টিকারী।’
অর্থাৎ ‘আবুল বশর’ হযরত আদম আলায়হিস সালামকে সৃষ্টি করলেন এবং ‘ইলম’ (জ্ঞান) দান করলেন; অতঃপর ফিরিশতাদেরকে সাজ্দাহ্ করার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং ‘ইল্ম’-এর মর্যাদার কারণে ফিরিশতাকুল তাঁকে সাজ্দাহ্ করলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকৃত ইল্ম কোথা থেকে আসে, যা ‘ইন্সান’ তথা মানুষের উন্নতি, সমৃদ্ধি, সফলতা ও হিদায়তের মহান মাধ্যম হয়?
প্রকৃত ইল্ম-এর বুনিয়াদী উৎস হচ্ছে, ‘কিতাব-ই মুবীন’ অর্থাৎ ক্বোরআনুল কারীম। ‘কিতাব-ই মুবীন’-এর অধ্যয়ন ও চর্চা মানুষকে হিদায়ত ও সমৃদ্ধির পথে নির্দেশনা দেয়। ইরশাদ-ই বারী তা‘আলা-
ذٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
‘(এটি) সে-ই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কিতাব (ক্বোরআন) কোন সন্দেহের ক্ষেত্র নয়। তাতে হিদায়ত রয়েছে খোদাভীরুদের জন্য।’
আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত পথহারা ও গোমরাহীতে লিপ্ত লোকদেরকে পথপ্রদর্শন করার জন্য স্বীয় পরম সম্মানিত বান্দাগণ তথা আম্বিয়া আলায়হিমুস সালামকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদেরকে সহীফাসমূহ ও কিতাবাদি দান করেছেন, যাতে লোকেরা ওই সহীফা ও কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করে ‘হাক্বীক্বী’ (প্রকৃত) ইল্ম হাসিল করতে পারে।
কিতাব অধ্যয়নের গুরুত্ব মুসলমানগণের নিকট একটি স্বীকৃত বিষয়, যা অস্বীকার করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কেননা ‘ইলাহী সম্বোধন’-এর সর্বপ্রথম শব্দ-ই হচ্ছে, اقْرَأْ ‘পড়–ন’। এ শব্দ দ্বারা আল্লাহ জাল্লা মাজ্দুহু স্বীয় ‘খাতিমুন্ নাবিয়্যীন ওয়াল মুরসালীন’ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নুবূয়ত ও রিসালাত’র সূচনা করেছেন। আর এটিই সর্বপ্রথম হুকুম, যা আল্লাহ তা‘আলা নবী মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে করেছেন।
দুনিয়ার বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য-উপাত্ত, রহস্যাদি ও জ্ঞানপূর্ণ ইশারা-ইঙ্গিত যদি আমরা কোন স্থান থেকে সহজে পেতে চাই, তাহলে সেটা হচ্ছে- কিতাব। এটি এ কারণে যে, ইলম ও হিকমত (প্রজ্ঞা) কে কিতাব রূপে একত্র করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইমাম হাকেম রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বর্ণনা করেন, হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
قَيِّدُوا الْعِلْمَ بِالْكِتَابَةِ ‘তোমরা ইল্মকে কিতাবে লিপিবদ্ধ করো।’ এর উপরে ভিত্তি করে ওলামা-ই দ্বীন ও চিন্তাবিদগণ কিতাবকে ভান্ডার ও খনি বলে আখ্যা দিতেন।
* হাফিয ইবনে জাওযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন,
وإذا رأيت كتابًا لم أره، فكأني وقعت على كنز
‘যদি আমি কোন (নতুন) কিতাব দেখি, যা ইতিপূর্বে আমি দেখি নি, তাহলে আমি যেন খনি হাসিল করলাম।’
কিতাব পাঠককে নিজ যুগের গ্রন্থ প্রণেতাবৃন্দের চিন্তা ও দর্শন এবং সমসাময়িক যুগ সম্পর্কে অবগতি দেয়। আর সেগুলোর চাহিদাদি পূরণের জন্য নূতন প্রজন্মের দৃঢ় অবস্থান তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেখানে পাঠক কিতাবের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থাদি সম্পর্কে অবগতি অর্জন করে, সেখানে কিছু কিতাব তাকে প্রাচীন যুগের বিখ্যাত ইমামগণ, মুহাদ্দিসীন, দার্শনিকবৃন্দ, বিজ্ঞানীগণ এবং চিন্তাবিদগণ থেকেও উপকৃত করতে বিরাট ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ বর্তমান যুগে অবস্থান করে যদি কেউ প্রাচীন যুগ পর্যন্ত পৌঁছা বা নৈপুন্য অর্জন করতে চায়, তাহলে তার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে- কিতাব।
* হাফিয ইবনে জাওযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন,
“লোকেরা যতটুকু ইলম পূর্ববর্তী বুযুর্গগণের কিতাবসমূহের মধ্যে পায়, এতটুকু স্বীয় ওস্তাদগণ ও মাশা-ইখের নিকট থেকে অর্জন করতে পারবে না।”
 আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গগণ কিতাব অধ্যয়ন করাকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। এমনও বহু প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায় যে, কিতাবসমূহে বুৎপত্তি অর্জনের আকাক্সক্ষায় তাঁরা বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকেও কবূল করে নিতেন। তেমনিভাবে মেয়ের যৌতুক হিসেবে ‘কুতুবখানা’ (লাইব্রেরী)’রও দৃষ্টান্ত ও প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায়। যেমন ইমাম ইসহাক্ব ইবনে রাহ্ওয়ায়হ্ রহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হযরত সুলায়মান ইবনে আবদুল্লাহ যাগান্দানী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র মেয়েকে শাদী এ কারণে-ই করেছিলেন যে, যাতে এর দ্বারা তিনি ইমাম শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র গ্রন্থভান্ডারে ভরপুর ‘কুতুবখানা’ পেয়ে যান।’
 ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান শায়বানী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি, যিনি ইমাম-ই আ’যম আবূ হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু’র অনেক বড় ‘শাগরেদ’ (শিষ্য)। তাঁর জীবন চরিত অধ্যয়ন করে একজন ইংরেজ বলেছিল, মুসলমানদের ছোট মুহাম্মদের এ অবস্থা হলে, বড় মুহাম্মদের কী অবস্থা হবে?
ইমাম মুহাম্মদের অধ্যয়নের জগত এমন ছিল যে, তিনি পুরো রাত ব্যাপি কিতাব অধ্যয়নে জেগে থাকতেন। যখন লোকেরা তাঁকে এ কষ্ট ও প্রচেষ্টার কারণ জানতে চাইলেন, তখন তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে নিদ্রা যাব! অথচ সাধারণ মুসলমানেরা এ কারণে নিশ্চিন্ত হয়ে নিদ্রা যায় যে, যখন তাদের নিকট কোন মাসআলা উপস্থিত হবে, তখন সেটার উত্তর মুহাম্মদ ইবনে হাসানের নিকট পেয়ে যাবেন।’ অর্থাৎ তাঁর উম্মত-ই মুসলিমা’র মাসা-ইলগুলোর এতবেশি চিন্তা থাকত যে, সারারাত কিতাবসমূহে তাদের মাসা-ইলের সমাধান অন্বেষণ করা ও খোঁজাখুজিতে অতিবাহিত করে দিতেন, কেননা তাঁর এ ধারনা ছিল যে, লোকেরা তাঁর উপর ভরসা করে নিদ্রা যান।
 কিতাব অধ্যয়ন করার দ্বারা স্মৃতিশক্তি সুদৃঢ় হয়। যেমনিভাবে ইমাম বোখারী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র নিকট স্মৃতিশক্তির ঔষধ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, তিনি এরশাদ করেন:
لَا أَعْلَمُ شَيْئًا أَنْفَعُ لِلْحِفْطِ مِنْ نَهْمَةِ الرَّجُلِ، وَ مُدَاوَمَةِ النَّظْرِ
‘স্মৃতিশক্তির জন্য লোকের প্রবল ইচ্ছা, স্থায়ী দৃষ্টি ও অধ্যয়নের চেয়ে উত্তম কোন বস্তু আমার অবগতিতে নেই।’
ভাল কিতাবাদির অধ্যয়ন না শুধু মানুষের মেধা ও অনুভূতিকে চমকিত করে, বরং মানুষকে ভদ্রও করে তোলে। উন্নত গ্রন্থাবলি মানব ব্যক্তিত্বের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও মহত্ব এনে দেয়। কিতাবের সাথে বন্ধুত্ব মানুষকে অনুভূতির নতুন নতুন পর্যায়গুলোতে পথনির্দেশ করে থাকে। মোটকথা, কিতাব মানুষের উত্তম সাথী ও বন্ধু।
 আব্বাসী আমলের প্রসিদ্ধ কবি মুতানাব্বী’র কবিতাতেও এ কথার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, তিনি লিখেন এভাবে-
أَعَزُّ مَكَانٍ فِى الدُّنَى سَرْجُ سَابِحٍ
وَ خَيْرُ جَلِيْسٍ فِى الزَّمَانِ كِتَابُ
‘একজন মুসাফিরের জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম স্থান হচ্ছে ঘোড়ার পিঠ এবং যুগের সর্বোত্তম সাথী হচ্ছে ‘কিতাব’।’
 আরাস্তাতালিসকে (এ্যারিস্টোটল) জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কোন ব্যক্তিকে জানার জন্য কী মানদন্ড ব্যবহার করেন? তিনি বললেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, তুমি কতগুলো কিতাব পড়েছো এবং কী কী পড়েছো?
 বিখ্যাত সর্বজন স্বীকৃত চিন্তাবিদ, প্রাজ্ঞ, দার্শনিক আবূ নসর ফারাবী, যাঁকে ইতিহাসে ‘মু‘আল্লিম-ই সানী’ (দ্বিতীয় শিক্ষক) নামে জানা যায়। মুসলিম দুনিয়ার এতবড় বিজ্ঞানী দুনিয়ার ৭০ টি ভাষা জানতেন। তাঁর প্রাথমিক জীবন খুবই দারিদ্রের মধ্যে কেটে ছিল, কিন্তু এত বড় মর্যাদা তাঁর কিতাবের সাথে সংশিষ্টতা স্থাপনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। বলা হয় যে, আবূ নসর ফারাবী’র দারিদ্রের অবস্থা এমন ছিল যে, তার নিকট চেরাগের তেল ক্রয় করার জন্য পয়সাও ছিল না। সুতরাং তিনি রাতের চৌকিদারদের বাতির পাশে দাঁড়িয়ে কিতাব অধ্যয়ন করতেন।
 ইমাম জুরজানী লিখেন-
ما تطعمت لذة العيش حتى
صرت فى وحدتى للكتاب جليسًا
‘আমি জীবনের স্বাদ ততক্ষণ পর্যন্ত আস্বাদন করি নি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি কিতাবকে স্বীয় নির্জনতার সাথী বানিয়েছি।’
ليس عندى شيئ أجل من
العلم فلا ابتغى سواه أنيسًا
‘আমার নিকট ইলম-এর চেয়ে সর্বাধিক উত্তম কোন বস্তু নেই, না আমি সেটা ছাড়া অপর কোন বন্ধু-সাথী অন্বেষণ করি।’
 কবি আহমদ শাওক্বী বলেন,
أنا من بدَّل بالكتاب الصحابا
لم أجد لى وافيًا إلا الكتابا
‘আমি ওই ব্যক্তি, যে সাথীদের পরিবর্তে কিতাবগুলোকে আপন করে নিয়েছি এবং আমি নিজের জন্য কিতাবের চেয়ে অধিক ‘ওফাদার’ (বিশ্বস্ত) কাউকে পাই নি।’
 খলীফা মামূনের সময়ে এক উঁচুমানের সাহিত্যিক এত গুরুত্বপূর্ণ কিতাব লিখেছেন যে, তাকে বলা হলো-
سنعطيك ثمن هذا الكتاب ما يساوى وزنه ذهبًا
‘আমরা আপনাকে এ কিতাবের ওজন সমপরিমাণ মূল্য হিসেবে স্বর্ণ দেব।’ তখন সাহিত্যিক উত্তরে বলেন:
هذا كتاب لو يباع بوزنه
ذهبًا لكان البائع المغبونا
‘যদি এ কিতাব স্বর্ণের ওজন সমপরিমাণে বিক্রি করা হয়, তাহলে বিক্রেতা ধোঁকার শিকার হিসেবে আখ্যায়িত হবে।’
أما من الخسران أنك آخذ
ذهبًا و تترك جوهرًا مكنونًا
‘আমি কী ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্য থেকে হব না যে, আপনি স্বর্ণ গ্রহণকারী হবেন আর ‘জাওহার’ (মূল্যবান মণিমুক্তা) দূরে গোপনে ত্যাগ করবেন।’
 প্রাচীন রোম সাহিত্যিক ও দার্শনিক ফের্দিন দ্য সোস্যুর বলেন- بيت من غير كتب كجسم من غير روح ‘কিতাবাদি ছাড়া গৃহ তেমন যেন রূহবিহিন শরীর।’
 একজন কবি খুবই চমৎকার বলেছেন-
سرورِ علم ہے کیفِ شراب سے بہتر
کوئی رفیق نہیں ہے کتاب سے بہتر
‘জ্ঞানের আনন্দ শরাবে মত্ত হওয়া থেকে উত্তম, কিতাবের চেয়ে উত্তম বন্ধু আর কেউ নেই।’
*****
যুগের চাহিদা পূরণে আন্জুমান প্রকাশনার অবদান
ইসলামের সঠিক আক্বীদা ও বিশ্বাস ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত’-এর প্রচার-প্রসার, মায্হাব্ ও মিল্লাতের কর্মকান্ড পরিচালনার্থে রাহনুমা-ই শরীয়ত ও ত্বরীকত, ক্বুতবুল আউলিয়া, বানীয়ে জামেয়া, আলে রসূল হুযূর হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ১৯২৫ সালে ‘আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। যা আজ শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং সারা বিশ্বে সুন্নী মুসলমানদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য দ্বীনি কল্যাণ ট্রাস্ট হিসেবে স্বীকৃত। সূচনাকাল থেকেই এ ট্রাস্ট ইসলামের মূলধারা সুন্নী মতাদর্শ সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র পবিত্র বংশধারার বরকতময় হাতের ‘ফয়য’ (কল্যাণধারা) লাভে ধন্য হয়ে দেশব্যাপী শতাধিক দ্বীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি যুগের চাহিদা পূরণে সুন্নী আক্বীদাভিত্তিক নানা বই-পুস্তক, কিতাব প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিচে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি-
 তরজুমান-এ আহলে সুন্নাত
হুযূর ক্বিবলা শাহান্শাহে সিরিকোট রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু’র সুযোগ্য উত্তরসূরী ও খলীফা গাউসে যামান, পীরে কামিল, রাহনুমা-ই শরীয়ত ও তরীক্বত হযরতুল আল্লামা হাফেয ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু’র সদয় নির্দেশে ১৯৭৮ সালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত ও সিল্সিলার প্রচার প্রসারে ‘মাসিক তরজুমান-এ আহলে সুন্নাত’ প্রকাশনার শুভ সূচনা হয়। সুন্নী দুনিয়ায় এটি হুযূর ক্বিবলার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে বাতেল ও ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির মোকাবেলায় ‘তরজুমান’ অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। হুযূর ক্বিবলা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু এ বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে এরশাদ করেন: ‘তরজুমান-এ আহলে সুন্নাত, যা মূলত মাসলাক ও সুন্নীয়তের মুখপত্র। গঠনমূলকভাবে এটাকে সজ্জিত করতে হবে, যাতে স্বাধীনভাবে মসলকের একমাত্র মুখপত্র হিসেবে প্রত্যেক সুন্নী মুসলমানের পথের দিশা হয়ে প্রকাশ লাভ করে।’ হুযূরের এ নির্দেশ যথার্থরূপে পালনের নিমিত্তে ‘আন্জুমান ট্রাস্ট’ পৃথকভাবে একটি ‘মাসিক তরজুমান বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে বিজ্ঞ ও প্রতিথযশা প্রখ্যাত লেখক, সাহিত্যিক, কবি ও গ্রন্থপ্রণেতাবৃন্দের নিকট থেকে তথ্যনির্ভর লেখা সংগ্রহ ও সঠিকভাবে সম্পাদনা করে প্রকাশ করার সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে এটি পাঠক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
হুযূর ক্বিবলা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু আরো এরশাদ করেন: یہ ترجمان باطل فرقوں کے لئے موت ہے
‘এ তরজুমান বাতিল ফির্ক্বাসমূহের জন্য মৃত্যু স্বরূপ।’
হুযূর ক্বিবলা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু’র এ বাণীর যথার্থতা বর্তমানেও পরিলক্ষিত হচ্ছে।
 মাজমু‘আহ্-ই সালাওয়াতে রসূল
হুযূর ক্বিবলা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু’র সদয় নির্দেশে খাজায়ে খাজেগান, খলীফায়ে শাহে জীলান, মা‘আরেফে রব্বানীর ধারক, লদুনী ইল্মের বাহক, হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু’র রচিত বিশ্বে দুরূদ শরীফের ৩০ পারা সম্বলিত বিরল ও বিশাল গ্রন্থ ‘মাজমু‘আহ্-ই সালাওয়াতে রসূল’র নতুন সংস্করণ প্রকাশ হয়, পাকিস্তানের দক্ষ আলিম দ্বারা সেটার উর্দু অনুবাদের সূচনা করেন তিনি। যা বর্তমানে তিন খন্ডে আন্জুমান প্রকাশ করে যাচ্ছে। সেটা সরল বাংলায় অনুবাদ করারও সঠিক দিক নির্দেশনা দেন ও দো‘আ করে যান। আনন্দের বিষয় যে, বর্তমান হুযূর ক্বিবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ সাহেব মুদ্দাযিল্লুহুল আলী’র নির্দেশ ও দো‘আয় ‘আনজুমান রিসার্চ সেন্টার’-এর মহাপরিচালক আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান, বিশিষ্ট ওলামা-ই কিরাম এবং আমি অধম বান্দা (প্রাবন্ধিক) এ মহান খিদমতে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়ে ধন্য হয়েছি। ফলশ্রুতিতে সেটার বঙ্গানুবাদ এখন সমাপ্তির পথে এবং এ পর্যন্ত ষোল পারার উচ্চারণসহ বঙ্গানুবাদ অতি সুন্দর অবয়বে প্রকাশিত হয়েছে। বাকী অনূদিত পারাগুলো শীঘ্রই পাঠকের হাতে পৌঁছে যাবে, ইন্ শা আল্লাহ। তাছাড়া ‘আওরাদ-ই কাদেরিয়া-ই রহমানিয়া’ অত্যন্ত উপকারী ও বরকতমন্ডিত কিতাবও ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ।
 আনজুমান রিসার্চ সেন্টার
হুযূর ক্বিবলা পীরে বাঙ্গাল রওনক্বে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ সাহেব মাদ্দাযিল্লুহুল আলী সময়োপযোগী রিসার্চ বা গবেষণা ও প্রকাশনার নিমিত্তে একটি যথোপযুক্ত ‘রিসার্চ সেন্টার’ (গবেষণা কেন্দ্র) স্থাপন ও সেটার যথাযথ পরিচালনার ব্যবস্থাপনার জন্য সদয় নির্দেশ দেন। আন্জুমান কর্তৃপক্ষ মহান মুর্শিদের অমীয় বাণী ও নির্দেশকে যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কোন কালক্ষেপন না করে আলম্গীর খানক্বাহ্ শরীফের ২য় তলায় ‘রিসার্চ সেন্টার’-এর অফিস ও এর পাশে একটি ‘প্রশিক্ষণ অডিটোরিয়াম’ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
২১ জানুয়ারী ২০১৫ ইংরেজি তারিখে আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন, প্রাণাধিক প্রিয় মুর্শিদে বরহক, বর্তমান হুযূর ক্বিবলা আলম বরদারে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ সাহেব দামাত বরকাতুহুমুল ‘আলিয়া নিজ বরকতময় হাতে উক্ত অফিস উদ্বোধন করেছেন; আর উক্ত উদ্বোধনকালে হুযূর ক্বেবলার সুযোগ্য সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ ক্বাসেম শাহ্ সাহেব মুদ্দাযিল্লুহুল আলীসহ আনজুমান ট্রাস্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন; যা আন্জুমান’র যুগান্তকারী ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।
‘আনজুমান রিসার্চ সেন্টার’ এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত অতি জরুরী গ্রন্থ-পুস্তক প্রণয়ন, অনুবাদ ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করেছে। আক্বীদা, ঈমান, আমল, ইসলামী আচার-অনুষ্ঠান, তাফসীর, হাদিস সংকলন, ফিক্হ, ফাত্ওয়া ইত্যাদি বিষয়ে গ্রন্থ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আর এ অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস আল্লাহ্ পাকের মেহেরবাণীতে অব্যাহত রয়েছে। এসব একান্ত জরুরী প্রকাশনার মধ্যে ‘গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব’, ‘হুযূর ক্বিবলার নূরানী তাক্বরীর’, ‘ওযীফা-ই গাউসিয়া’ এবং ‘শানে রিসালত’, ‘আদ্-দা’ওয়াত’ (দাওয়াত-ই খায়র বিষয়ক ম্যাগাজিন), সমসাময়িক জটিল সমস্যার শরঈ সমাধান ‘যুগজিজ্ঞাসা’ ইত্যাদি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
 ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া
পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত কম্পিউটারের সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক (Network) হচ্ছে ইন্টারনেট। এটি এখন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ তথ্যভান্ডার, অন্যতম জ্ঞানের উৎস ও যোগাযোগের সহজ মাধ্যমও বটে। আর এই সুবিশাল তথ্যভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে ওয়েবসাইট। সুখের বিষয় যে, তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সকলের নিকট ইসলামের মূলধারা সুন্নী মতাদর্শের যাবতীয় তথ্য অতি সহজে পৌঁছে দিতে ‘আনজুমান ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেছে নিজস্ব ওয়েবসাইট www.anjumantrust.org সপ্তাহের ৭ দিন, ২৪ ঘন্টা এ ওয়েবসাইট নিরবে তার সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ সাইটের ভিজিটর সংখ্যা ২৮ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এখানে ‘মাসিক তরজুমান-এ আহলে সুন্নাত, আনজুমান রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক রচনাসমগ্র, বিভিন্ন সেমিনারের প্রকাশিত প্রবন্ধ ও ফিক্হ-ফাতওয়া’র যাবতীয় প্রশ্নাবলির উত্তর অত্যন্ত সুন্দরভাবে সুসজ্জিত করা আছে। ই-বুক, পিডিএফ ফরমেট-এ তৈরীকৃত গ্রন্থাবলি অতি সহজে ডাউনলোড করে অধ্যয়ন করার সুবর্ণসুযোগ রাখা হয়েছে, আর এ সেবা বিনামূল্যে-ই প্রদান করে আসছে ‘আনজুমান ট্রাস্ট’। এ ওয়েবসাইট পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের যেকোন মানুষ যেকোন সময় দেখতে পায়। সোশ্যাল মিডিয়া (www.facebook.com/MonthlyTarjuman), ই-মেইল ([email protected]) ও প্রয়োজনীয় ওয়েব অ্যাপলিকেশন’র মাধ্যমেও এ তথ্যভান্ডারের উপকার আজ সকলে গ্রহণ করতে পারছে, যা বর্তমান যুগের চাহিদা পূরণে ব্যাপক কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
 অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ‘তরজুমান প্রকাশনী’
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের যে বীরত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই প্রতিবছর এ মাসে আয়োজিত হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রাণালয় এ মেলা নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে থাকে। যুগের চাহিদা পূরণে জাতীয় গ্রন্থমেলায় দেশি-বিদেশী লেখক, গবেষক ও প্রকাশকের সাথে ‘আন্জুমান প্রকাশনা বিভাগ’ দ্বীনী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে লিখিত ও প্রকাশিত গ্রন্থাবলি নিয়ে গত দু’বছর ধরে অংশ নিচ্ছে। যা সময়ের দাবি সফলতার সাথে পূর্ণ করেছে। ২০২০ সালে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম জিমনেশিয়াম চত্বরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২০ এ প্রথম অংশ নেয় ‘আন্জুমান প্রকাশন’। এতে পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া জেগে ওঠে। বইপ্রেমিকদের আগমণে মুখরিত হয় এ প্রকাশনের বুকস্টল। পাঠকরা স্বীয় আগ্রহ-উদ্দিপনা ও চাহিদা, পরামর্শ ব্যক্ত করেন কর্তৃপক্ষের কাছে। যা দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী সংস্থা ‘আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’-এর নেতৃবৃন্দ ও প্রকাশনা বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের অন্তরে ব্যাপক প্রেরণা যোগায়। ফলশ্রুতিতে এবারের জাতীয় গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২১’ এ ‘তরজুমান প্রকাশনী’ স্টল নং # ৭৩১ রূপে অংশ নেয় ‘আন্জুমান প্রকাশনা বিভাগ’। ঢাকা রাজধানীসহ সারা দেশের বইপ্রিয় সর্বসাধারণের নিকট পৌঁছে গেছে ইসলামের সঠিক রূপরেখা ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত’-এর পয়গাম। ব্যাপকহারে বই বিক্রি, দর্শনার্থীর আগমন ও প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও প্রকাশকের পরিদর্শন- সবকিছু মিলিয়ে এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ তৈরী হয়েছিল ‘তরজুমান প্রকাশনী’তে। দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমগুলো ও বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আনজুমান প্রকাশনাকে তুলে ধরা হয়। মেলা আয়োজকরাও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ‘আন্জুমান ট্রাস্ট’-এর। ‘তরজুমান প্রকাশনী’র দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ পাঠক, দর্শনার্থী, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শগুলো অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করেছেন। আর সেগুলো বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই যথার্থ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ইন্ শা আল্লাহ, শীঘ্রই তা পরিপূর্ণ সফল হবে।
মানুষের আলোকিত জীবনের উপকরণ হচ্ছে কিতাব। মানবজীবন নিতান্তই একঘেয়ে দুঃখ-কষ্টে ভরা, কিন্তু মানুষ কিতাব পড়তে বসলেই সেসব ভুলে যায়। বর্তমান যুগে আধুনিক গবেষনায় কিতাব (গ্রন্থ-পুস্তক) অধ্যয়নের গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়েছে যে, মস্তিষ্কের রোগ-ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং দুশ্চিন্তা হ্রাস করে। ভালো কিতাবসমূহ জীবনের উপর ভাল প্রভাব বিস্তার করে। সাহিত্য মানবিক স্বভাবে ন¤্রতা সৃষ্টি করে; মস্তিষ্কে আনন্দ ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রভাব ফেলে; অধ্যয়নের দ্বারা মানুষের ভেতরে ইতিবাচক ও দৃঢ় চিন্তা-বিশ্বাস তৈরী হয়; কিতাবাদি অধ্যয়ন করলে মানুষের মধ্যে প্রমাণ সহকারে কথা বলার যোগ্যতা সৃষ্টি হয়; আজ আমরা শোনা কথায় মনযোগ না দিয়ে অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজের মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণের প্রবনতা সৃষ্টি করলে, বহু সমস্যা ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিরাপত্তা পেতে পারি। যদি মুসলিম মিল্লাত দুনিয়াতে পুনরায় সম্মান ও মর্যাদা হাসিল করতে চায়, তাহলে আমাদের উচিত যে, ইলম-এর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করার চিন্তা করা। কেননা ইলমের সোপানের উপর দিয়ে অতিক্রম করা ছাড়া সমৃদ্ধির চূড়ায় আরোহন করা না শুধু কঠিন, বরং অসম্ভব কাজ।
লেখক: পরিচালক-আনজুমান রিসার্চ সেন্টার, চট্টগ্রাম।
শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •