হাত তুলে দোয়ার শরয়ী বিধান

0

হাত তুলে দোয়ার শরয়ী বিধান
মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গনি
ইসলাম এমন একটি ধর্ম যাঁর মধ্যে রয়েছে শান্তি, নিরাপত্তা, ভালবাসা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব ও আল্লাহর অশেষ রহমতের ঝর্ণাধারা। আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। এ চাওয়ার পদ্ধতিটা ভিন্ন ধরনের হতে পারে। আর ইসলামে হাত তুলে দোয়া করার ব্যাপারে সিহাহ সিত্তাহ সহ অসংখ্য হাদিসের কিতাবে প্রমাণ রয়েছে।
যেমন একটি বিষয় হলো হাত তুলে দোয়া করা। কিছু লোকের অতি আবেগের কারণে এটি মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে রূপ ধারণ করেছে। অথচ এ বিষয়ের আসল সমাধান হলো হাত তুলে দোয়া করা ফরজ না হলেও, এটি কোন বিদ’আত বা নিষিদ্ধ কোন আমল নয়; বরং কোরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে এটি একটি সুন্নাত আমল। সুন্নাতের এ আমলকে বিদ’আত বলার কোনো অধিকার নেই। হাত তুলে দোয়া করা হাদিসের ছয়টি নির্ভরযোগ্য কিতাব অর্থাৎ সিহাহ সিত্তার মাধ্যমে প্রমাণিত। অন্যদিকে দোয়ার সময় হাত তোলার কথাও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু এমন কোনো প্রমাণ নেই, যাতে হাত তুলে দোয়া করাকে হারাম বা নিষেধ করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে হাত তুলে দোয়া করার নিয়ম চলে আসছে। এতে কেউ কোনো ধরনের আপত্তি করেননি। ইমাম আযম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম শাফেয়ি রহমাতুল্লাহি আলায়হি এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও অগণিত ফকিহ মুহাদ্দিস চলে গেছেন। কোনো একজন ইমামও এ বিষয়ে আপত্তি করেননি। শুধু ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে কাইয়্যিম এ বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। তথাকথিত আহলে হাদিসের আলেম নাসির উদ্দীন আলবানীর অনুকরণে বর্তমানে কিছু লা-মাযহাবি আলেম হাত তুলে দোয়া সম্পর্কে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা ইসলামি শরিয়তের যুক্তিতে কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নাজদির উত্থানের আগ পর্যন্ত এবং পেট্রো ডলার পাওয়ার আগ পর্যন্ত ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়ার আমল জারি ছিল। এমনকি লা-মাযহাবিদের আলেমও তা সমর্থন করেছেন। যেমন সায়্যিদ নাজির হোসাইন, নাওয়াব সিদ্দিক হাসান (ভূপালি), সানাউল্লাহ, হাফেজ আব্দুল্লাহ, মাওলানা মুবারকপুরীর মতো আলেমরাও হাত তুলে দোয়া করাকে বিদ’আত বা নিষেধ বলেননি। কয়েকজন লোকের নির্বিচারে ভিন্ন মতের কারণে উম্মতের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুন্নাত আমলকে বিদ’আত বা নিষিদ্ধ আমল বলা কখনো যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।
হাদিসেপাকে দেখা যায়, দোয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন বা সময়ের প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, তবে রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম অনেক জায়গায় দোয়া করেছেন তা হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে। এর মধ্যে হাত তুলে দোয়া করা অন্যতম। এ বিষয়টি সমাজের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে একটু আলোচনার প্রয়োজন। এ প্রবন্ধে হাদিস শরিফ, সলফে সালেহিনের আমল ও তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।
রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই লজ্জাশীল এবং সম্মানিত। বান্দা যখন তাঁর কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করে, তখন তিনি খালি হাতে ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন”।
ইমাম হাকেম হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। লা-মাযহাবিদের আলেম সফিউর রহমান মোবারকপুরী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় এটিকে সহিহ বলে মেনে নিয়েছেন। অন্যদিকে ইমাম আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি এই হাদিসটি বর্ণনা করে কোনো মন্তব্য করেননি। এতে বোঝা গেল, হাদিসটি নিঃসন্দেহে সহিহ।
লা-মাযহাবিদের কথিত আলেম নাসির উদ্দীন আলবানী সহিহ ইবনে মাজাহ ও দ্বয়িফ ইবনে মাজাহ নামে দুটি কিতাব লিখেছেন। এতে এই হাদিসটি সহিহ ইবনে মাজাহয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
লা-মাযহাবিদের আলেম উবাইদুল্লাহ মোবারকপুরী মিশকাত শরিফের ব্যাখ্যা গ্রন্থে এ হাদিসটিকে সহিহ বলে উল্লেখ করেছেন। এতে বোঝা যায়, হাদিসটি সবার কাছে সহিহ এবং নির্ভরযোগ্য।
এ হাদিসে সুস্পষ্টভাবে দোয়ার সময় হাত তোলার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা কোনো বিশেষ দোয়া কিংবা ইস্তেসকার দোয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট নয়। বরং সর্বক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য বিধায় সকল দোয়াতেও হাত তোলা প্রযোজ্য।
ইমাম তিরমিযি রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর সুনানে তিরমিযিতে একটি অধ্যায় লিখেছেন “ باب ما جاء فى رفع الأيدي عند الدعاء অর্থাৎ দোয়ার সময় হাত তোলা সম্পর্কীয় বর্ণনা। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে অধ্যায় নির্ধারণ করাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, দোয়ার সময় হাত তোলা ইমাম তিরমিযি রহ. এর কাছে হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এতে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন, হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দোয়ার সময় হাত উঠালে তা নামানোর আগে চেহারা মোবারকে মুছে নিতেন।
এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন, হাদিসটি সহিহ। বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ আল্লামা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, হাদিসটি হাসান।
হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, এ হাদিসের মধ্যে স্পষ্টভাবে দোয়ার সময় হাত তোলার কথা উল্লেখ আছে। এতে বোঝা যায়, দোয়ার সময় হাত তোলা রাসুল এর সুন্নাত এবং দোয়ার শেষে হাত দিয়ে মুখমন্ডল মাসেহ করাও সুন্নাত।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করার সময় হাতের তালু ওপর দিকে করো। হাতের তালুর উল্টো দিক করে দোয়া করো না। যখন দোয়া করা শেষ হবে, দুই হাত দিয়ে মুখমন্ডল মাসেহ করো।
ইমাম ইবনে মাজাহ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন, হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু কর্তৃক বর্ণিত আবু দাউদ শরিফের উল্লিখিত হাদিস সম্পর্কে লা-মাযহাবি কোনো কোনো আলেম প্রশ্ন তুলেছেন যে, ইমাম আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি এই হাদিসের সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেননি। সেজন্য হাদিসটি দ্বয়িফ। এ প্রশ্নের উত্তরে লা-মাযহাবিদেরই আলেম শামসুল হক আজিমাবাদী আবু দাউদ শরিফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘আইনুল মাবুদে’ ওই হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন, ইমাম আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি যে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেননি, সে বর্ণনাকারীর নাম ইমাম ইবনে মাজাহ রহমাতুল্লাহি আলায়হি ইবনে মাজাহ শরিফে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর কিতাব “তাকরিবুত তাহযিবে” ওই বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেছেন। ফলে হাদিসটি দ্বয়িফ বলার কোনো সুযোগ থাকে না।
লা-মাযহাবিদের কোনো আলেমের কথা অনুযায়ী যদি ওই হাদিসটির সনদ দ্বয়িফও ধরে নেওয়া যায়, তখনো আলোচ্য বিষয়ে হাদিসটি দলিল হওয়ার সম্পূর্ণ উপযোগী। কারণ লা-মাযহাবিদের আলেম হাফেজ আব্দুল্লাহ রওপুরী তাঁর একটি ফতোয়ায় লিখেছেন, “শরিয়তের বিধান দুই প্রকারঃ এক. কোনো কিছুকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া, দুই. অবৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া।” প্রথম প্রকারের বিধানের জন্য সহিহ ও দ্বয়িফ হাদিস দুটিই প্রযোজ্য। দ্বিতীয় প্রকারের জন্য শুধু সহিহ হাদিসই প্রযোজ্য।
হাত তুলে দোয়া করা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ এটি একটি বৈধ কাজ, হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ নয়। তাই বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার জন্য সহিহ ও দ্বয়িফ উভয় প্রকারের হাদিসই প্রযোজ্য। এ ছাড়া তিনি তাও মেনে নিয়েছেন, হাত তুলে দোয়া করা মুস্তাহাব আমল।
রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর নিয়ম ছিল, ‘তিনি যখন হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন, তখন নিজের হাত চেহারা মোবারকে ফেরাতেন’। (হাদিসটি মুহাদ্দিসিনে কেরামের কাছে গ্রহণযোগ্য)।
হযরত ফযল ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এই বর্ণনাটি বিভিন্ন হাদিসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, যা থেকে হাত উঠিয়ে দোয়া করা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়। মুহাদ্দিসিনে কেরাম ও ফকিহদের দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও আলোচনার পর হাদিসটি নির্ভরযোগ্য বলেই বিবেচিত হয়েছে।
ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলায়হি বুখারি শরিফের কিতাবুদ্ দা‘ওয়াতে “বাবু রাফয়িল ইয়াদায়ি ফিদ দোয়া”য় হযরত আবু মুসা আশআরি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছেন, দোয়ার মধ্যে উভয় হাত এতটুকু উঠিয়েছেন, যাতে তাঁর হাতের পাতার শুভ্রভাগ দেখা গিয়েছে।
এ ছাড়া ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলায়হি এ অধ্যায়ে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, এ তিনটি হাদিসের আলোকে বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহমাতুল্লাহি আলায়হি লেখেন, প্রথম হাদিসটি তাঁদের জবাব, যাঁরা বলেন হাত তুলে দোয়া করা শুধু ইসতিস্কার নামাজের জন্যই খাস। দ্বিতীয় হাদিস তাঁদের জবাব, যারা বলেন, ইসতিস্কার দোয়া ছাড়া অন্য কোনো দোয়ায় হাত উঠানো যাবে না।
এ বিষয়ের সমর্থনে হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি আল আদাবুল মুফরাদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, নাসায়ি ও হাকেমের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। তা থেকে কয়েকটি হাদিস এখানে উল্লেখ করছি।
এরপর তিনি উল্লেখ করেন, এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে এবং খুব পেরেশান ও মলিন বদনে আসমানের দিকে হাত তুলে দোয়া করেন, হে আল্লাহ!… তখন সে ব্যক্তির দোয়া কবুল করা হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দোয়া করার সময় বুক পর্যন্ত হাত তুলতেন এবং দোয়া শেষে হাত মোবারক চেহারায় ফেরাতেন।
সিহাহ সিত্তার অনেক হাদিস থেকে এ কথা তো দিবালোকের মতো পরিষ্কার হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে দোয়ার সময় হাত উঠিয়েছেন এবং হাত মুখে ফিরিয়েছেন।
ইমাম মুহিদ্দীন আন নববী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর মুহায্যাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘‘আল মাজমু’’ গ্রন্থে দোয়ার মধ্যে হাত উঠানো এবং হাতের তালু মুখে ফেরানোর ব্যাপারে ৩০টি হাদিস উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি এর বিধান সম্পর্কে মন্তব্য করেন, দোয়ায় হাত উঠানো মুস্তাহাব।
সব শেষে ইমাম নাওয়াভী রহমাতুল্লাহি আলায়হি লেখেন, যারা এসব হাদিসকে কোনো সময় বা স্থানের সঙ্গে নির্দিষ্ট করে, তারা বড়ই ভ্রান্তির মধ্যে আছে।
তিনি কিতাবুল আযকারে নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করার বিষয়টি জায়েয বলে উল্লেখ করেছেন। এবং এর প্রমাণে তিরমিযি শরিফে বর্ণিত হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা এবং আবু দাউদ শরিফে বর্ণিত হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস উল্লেখ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে হযরত ইবনে হাজার আসকালানি রহ. ফতহুল বারি ১১/১১৮ এবং বুলুগুল মুরামে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন হাদিস উল্লেখ করে দোয়ায় হাত উঠানো মুস্তাহাব প্রমাণ করেছেন। এই দীর্ঘ আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ হলো, হাত তুলে দোয়া করা মুস্তাহাব।
বর্তমানে লা-মাযহাবি যারা হাত তুলে দোয়া করাকে সরাসরি বিদ’আত বলে হক্কানি ওলামায়ে কেরামের বিরূদ্ধে বিষোদগার করছেন, তাদের বিজ্ঞজনদের এ ব্যাপারে মতামত কী, দেখা যাক।
লা-মাযহাবিদের নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘নাযলুল আবরার’ এ স্পষ্ট লেখা আছে, দোয়াকারী দোয়ার সময় হাত উঠাবে। কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলবে। এটি হলো দোয়ার আদব। কারণ এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে স্বীকৃত।
এরপর লেখেন, যে দোয়াই হোক, যখনই হোক, চাই তা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে হোক বা অন্য সময়, তাতে হাত তুলে দোয়া করা উত্তম কাজ এবং আদবের ব্যাপার।
আহলে হাদিসের আব্দুর রহমান মোবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়াজিতে লেখেন, নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা জায়েজ।
মোটকথা হলো, হাত তুলে দোয়া করার বিষয়টি বিদ’আত বলা মুসলমানদের মধ্যে নতুন ফিতনা সৃষ্টির প্রয়াস ছাড়া অন্য কিছু নয়। আর এ আহলে হাদিস নামধারিরা সরলমনা মুমিন-মুসলমানদেরকে আল্লাহর নবির সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারায় সর্বদা লিপ্ত। তাই সরলপ্রাণ মুসলমানরাও এই নব্য ফিতনা সৃষ্টিকারী আহলে হাদিস নামের ফিতনাবাজগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ আহলে হাদিস নামের ফিতনাবাজগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য সকলকে তাওফিক দান করুন, আমিন বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালিন।
লেখক: সহকারী মৌলভী, কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া
কামিল মাদরাসা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •