ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সম্ভবানা কম হলে, এশারের নামাযের পর চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়া যাবে কিনা?

0

মুহাম্মদ আবুল হোসাইন-
আল-ফালাহ্ গলি, ২নম্বর গেইট,
চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সম্ভবানা কম হলে, এশারের নামাযের পর চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়লে কবুল হবে কিনা? জনৈক ব্যক্তি থেকে শুনেছি তাহাজ্জুদ আদায় হবে। বুখারী শরীফে এটা আছে। বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
উত্তর: তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ রাতে ঘুম হতে জাগ্রত হওয়া, বস্তুত: রাতে এশার নামাযের পর নিদ্রা বা ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে যে নামায তাহাজ্জুদের নিয়তে আদায় করা হয় সেটাই শরিয়তের পরিভাষায় তথা ক্বোরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে তাহাজ্জুদের নামায। তাহাজ্জুদের নামায প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম কখন আদায় করতেন এ প্রসঙ্গে হাদীসে পাকে উল্লেখ রয়েছে-
عن ابن عباس رضى الله عنه قال كان النبى صلى الله عليه وسلم اذا قام من الليل يتهجد [رواه البخارى] অর্থাৎ প্রখ্যাত সাহাবী রঈসুল মুফাস্সেরীন হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন জাগ্রত হতেন তিনি তাহাজ্জুদের নামায আদায় করতেন। [সহীহ্ বুখারী শরীফ] অপর একটি হাদীসে পাকে উল্লেখ রয়েছে-
عَنْ عَائِشَة رَضى الله عنها ان النبى صلى الله عليه وسلم كان ينام اول الليل ويقوم اخره فيصلى [رواه مسلم] অর্থাৎ উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথম অংশে ঘুমিয়ে পড়তেন এবং শেষ রাতে জেগে নামায (তাহাজ্জুদ) পড়তেন।
[সহীহ্ মুসলিম শরীফ, সূত্র. রিয়াদুস্ সালেহীন, কৃত. ইমাম নবভী রহ. পৃ. ৪৫৭] রাতে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে জামে তিরমিযি শরীফে উল্লেখ রয়েছে-
عن عبد الله بن سلام ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ايها الناس افشوا السلام واطعموا الطعام وصلوا بالليل والناس نيام تدخلوا الجنة بسلام [رواه الترمذى] অর্থাৎ বিশিষ্ট সাহাবীয়ে রসূল, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, হে লোকেরা! সালামের প্রচলন করো অভূক্তকে আহার করাও এবং রাতে যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করো তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [জামে তিরমিযী শরীফ] উপরোক্ত হাদীসে পাকসমূহ হতে বুঝা যায় যে, তাহাজ্জুদের নামাজ এশার নামাযের পর রাতের কিছু অংশ ঘুমিয়ে মধ্য রাতে অথবা শেষ রাতে জাগ্রত হয়ে (সুবহে সাদেকের পূর্বে) আদায় করাই তাহাজ্জুদের সময়। তবে কেউ অতিশয় বৃদ্ধ বা রোগের কারণে অথবা অন্য কোন ওজরের কারণে রাতে ঘুম হতে জেগে ওঠার সম্ভবনা না হয় সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি এশার নামায আদায়ের পর বিতরের নামাযের পূর্বে অথবা পরে ২ রাকাতের নিয়তে যত রাকাত ইচ্ছা নফল নামায আদায় করে নিবেন। উত্ত নামায কিয়ামুল লায়ল বা নফল হিসেবে গন্য হবে। তবে এতে তাহাজ্জুদের নামাযের ফজিলত, মর্তবা ও সাওয়াব হাসিল না হলেও নফল নামাযের সওয়াব হবে। তাছাড়া অধিকাংশ সালেহীন ও বুযুর্গানে দ্বীন ঘুম হতে উঠে রাতের শেষভাগেই তাহাজ্জুদ আদায় করতেন।
শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •