মৃত ব্যক্তির কবরে আহাদনামা দেয়া যাবে কিনা?

0

মুহাম্মদ সালাহ উদ্দীন
শাহচান্দ আউলিয়া কামিল মাদরাসা
পটিয়া, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: কবরে যে আহাদনামা দেওয়া হয়, তা দিলে মৃত ব্যক্তির জন্য কি লাভ হতে পারে? এবং মৃত ব্যক্তির কপালে আঙ্গুলি দিয়ে বিসমিল্লাহ্ ও কালমায়ে তৈয়্যবা লেখার হুকুম ও ফযিলত বয়ান করলে কৃতজ্ঞ হব। যেহেতু এ সব বিষয়ে কেউ কেউ আপত্তি করতে দেখা যায়।
উত্তর: মুসলমান মৃত ব্যক্তির কবরে, মৃতের কফিনে কিংবা পৃথক কাপড়ে আহাদনামা দেয়া জায়েয ও উত্তম। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা বা বিশ্বাস হলো আহাদনামার বরকতে কবরে আজাব হালকা হয়। এ প্রসঙ্গে ইমাম তিরমিযী রহ. তাঁর নাওয়াদেরুল উসূলে’ বর্ণনা করেছেন-
من كتب هذه الدعا وجعله بين صدر الميت وكفنه
فى رقعة لم ينله عذاب القبر ولايرى منكرا ونكيرا
অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ দোয়াটি কোন কিছুতে লিখে মৃতের বুকের উপর কফিনের নিচে রাখবে, তার কবরের আজাব হবে না। সে মুনকির-নাকিরকে দেখবে না।
আহাদনামা দোয়াটি হলো-
لاَ اِلهَ الَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ لاَ اِلهَ اِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَه لاَ اِلهَ اِلاَّ اللهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ لاَ اِلهَ اِلاَّ اللهُ وَلاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ اِلاَّ بِاللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْمِ
তাছাড়া অপর জায়গায় ইমাম তিরমিযি রহ. খলিফাতুর রসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, প্রিয়নবী হুযুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ‘আহাদনামা’র দোয়াটি নামাযের পর পাঠ করে ফেরেশতা ওটা লিখে মহর অংকিত করে কেয়ামতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখেন। আর তাঁকে কবর থেকে কেয়ামতের দিন উঠাবার সময় ফেরেশতা উক্ত লিপি সঙ্গে আনবেন এবং ঘোষণা হবে লোকটি কোথায়? তাঁকে এ ‘আহাদনামা’ দেয়া হবে। আহাদনামাটি নি¤œরূপঃ
اَللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْاَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمنُ الرَّحِيْمُ اِنى عهدت اليك فى هذه الحياة الدنيا بانك انت لا اله الا انت وحدك لاشريك لك وان محمدًا عبدك ورسول لك فلا تكلنى الى نفسى فانك ان تكلنى الى نفسى تقربنى من السوء وتباعدنى من الخير وانى لااثق الا برحمتك فاجعل رجمتك لى عهدا عندك توديه الى يوم القيامة انك لاتخلف الميعاد ـ وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد واله واصحبه اجمعين برحمتك يا ارحم الراحمين
উপরোক্ত উভয় দোয়া বা যে কোন একটি দোয়া কবরে দেয়া যায়। এ আহাদানামা সম্পর্কে ইমাম নকী আলী রহ. বলেন-
اِذَا كَتَبَ هَذِهِ الدُّعَاءَ وَجَعَلَ مَعَ الْمَيْتِ فِىْ قَبْرِهِ
وَقَّاهُ اللهُ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابه
অর্থাৎ এ দোয়াটি লিখে মৃতের সাথে কবরে রাখলে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে কবরের পরীক্ষা ও আজাব থেকে রক্ষা করবেন।
আল্লামা ইমাম হাসকাফী হানাফী রহ. তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ফতোয়াগ্রন্থ ‘দুররুল মুখতারে’ উল্লেখ করেছেন-
كُتِبَ عَلى جَبْهَةِ الْمَيْتِ اَوْ عَمَامَتِهِ اَوْ كَفنه عهدنامه يرجى ان يغفر الله للميت اوصى ان يكتب فى جبهته وصدره بسم الله الرحمن الرحيم
অর্থাৎ মৃতের কপালে বা পাগড়িতে বা কাফনের উপর আহাদানামা লিখলে আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ মৃতকে ক্ষমা করবেন। ইমামগণের মধ্যে কেউ কেউ অছিয়ত করেছেন যেন তার কপালে এবং বুকের উপর ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ লিখে দেয়া হয়।
একই কিতাবে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন- এক ব্যক্তি অছিয়ত করেছিলো যে, তার বুকে ও কপালে যেন ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লিখে দেয়। ইন্তেকালের পর তার বুকে ও কপালে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ লিখা হয়েছিল। কেউ তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কি অবস্থায় আছেন? উত্তরে সে বললো, যখন আমাকে কবরে রাখা হয়, আযাবের ফিরিশতা এসে যখন কপালের উপর ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম শরীফ লেখা দেখে বললেন, তুমি আল্লাহর আযাব থেকে বেঁচে গেছো।
আর রদ্দুল মুহতারে ‘ইমাম ইবনে আবেদীন শামী উল্লেখ করেছেন, মৃতের কপালে বিসমিল্লাহ্ শরীফ এবং বুকের উপর কালেমায়ে তৈয়্যবা শরীফ লিখে দেবে তবে মুর্দাকে গোসলের আগ পর্যন্ত তাঁর কপালে কলেমা শরীফ কেবল আঙ্গুলির ছাপে লিখবে, কালি দিয়ে নয়। আর বিসমিল্লাহ্ গোসলের পরও আঙ্গুলি দিয়ে লিখবে।
উপরোক্ত বর্ণনাসমূহ হতে সুস্পষ্ট যে, মৃত ব্যক্তির কবরের পার্শ্বে অথবা বুকে আহাদনামা, কলমা শরীফ ও বিসমিল্লাহ্ শরীফ ইত্যাদি লিখে দেয়া এবং কপালে বিসমিল্লাহ্ শরীফ ও কলমা শরীফ আঙ্গুলি দিয়ে লিখে দেয়া মুর্দার নাজাতের ওসিলা ও অনেক উপকারী।
[দুররুল মুখতার, ৩য় খন্ড, ১৮৫পৃ, কৃত. ইমাম আল্লামা আলাউদ্দীন হাসকাফী (রহ.), রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ১৮৬ পৃ. কৃত. ইমাম আল্লাম ইবনে আবেদীন শামী হানাফী (রহ.), ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, কৃত. আল্লামা মোল্লা নিজামুদ্দীন বলখী (রহ.), বাহারে শরীয়ত, ৪র্থ খন্ড, জানাযা অধ্যায়, কৃত. সদরুশ শরীয়ত আল্লামা মুফতি আমজাদ আলী আযমী (রহ.) ও মামুলাতে আহলে সুন্নাত, কৃত. আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ কাদেরী বদায়ূনী (রহ.) ইত্যাদি]
শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •