Madrasha-E-Tayabia Islamia Sunnia Fazil, Bandar, Chittagong

এক নজরে মাদ্রাসা পরিচিতিঃ

প্রতিষ্ঠাতা – * আওলাদে রাসুল রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)।

পৃষ্ঠপোষক- * আওলাদে রাসুল রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মুদ্দাযিল্লুহুল আলী)।

* আওলাদে রাসুল রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ ছাবের শাহ (মুদ্দাযিল্লুহুল আলী)।

পটভূমি

সর্বপ্রথম মহান রাব্বুল আলামীনের হামদ ও শুকরিয়া আদায় করছি, অসংখ্য দরুদ ও সালাম নবীকুল সরদার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ও্যাসাল্লামের প্রতি, শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি প্রিয় নবীর পদাঙ্ক অনুসারী পূণ্যাত্মা বান্দাদেরকে- যাঁদের অনুপম আদর্শ ও ত্যাগের বিনিময়ে ইসলামের শাশ্বত মূল্যবোধ আজো বিশ্বব্যাপী অম্লান। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি কুতুবুল আউলিয়া হযরত সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে এবং ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’র মতাদর্শালোকে দ্বীনিশিক্ষার আলো বিতরণে যাঁরা যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করেছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন অসংখ্য সংস্থা-সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আনজুমান-এ- রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পরিচালনায় আজ দেশব্যাপী গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনিশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদরাসা-এ-তৈয়বিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) আনজুমান’র পরিচালনাধীন একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অত্র প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ২৮ জন সুযোগ্য ও সুদক্ষ শিক্ষকমন্ডলীর সুষ্ঠু পাঠদানে শিশু শ্রেণি হতে ফাযিল (ডিগ্রি) পর্যন্ত সর্বমোট ১৬টি শ্রেণিতে বার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত অধ্যয়নরত। হিফযুল কোরয়ান বিভাগে রয়েছে ৫০ জন শিক্ষার্থী।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ইসলামের সঠিক রূপরেখা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মৌলিক আক্বিদা-বিশ্বাস, ইতিহাস-ঐতিহ্য, যুগোপযোগী আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে যথার্থ শিক্ষাদানের মাধ্যমে আদর্শবান দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, উপরন্তু আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সন্তুষ্টি অর্জন করা।

বৈশিষ্ট্যাবলি

১. বিষয়ভিত্তিক দক্ষ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শবান মুহাদ্দিস, অধ্যাপক, প্রভাষক ও শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পাঠদান।
২. সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এবং যুগোপযোগী বিজ্ঞানভিত্তিক সিলেবাসের আলোকে পাঠদান।
৩. লেখাপড়ার পাশাপাশি চরিত্র গঠনে উন্নত প্রশিক্ষণ।
৪. কেন্দ্রীয় পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এর ব্যবস্থা।
৫. মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিশেষ বৃত্তি ও পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা।
৬. মেধাবী গরিব ছাত্রদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা।
৭. সাপ্তাহিক বক্তৃতা ও বিতর্ক সভার আয়োজন।
৮. কম্পিউটার ট্রেনিং কোর্স ও নিয়মিত শরীরচর্চা।
৯. সমৃদ্ধ পাঠাগার ব্যবহারের সুযোগ।
১০. আরবি, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে বিশেষ পাঠদান।
১১. খেলাধুলা ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ইত্যাদি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা।
১২. সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস।

শিক্ষার স্তরসমূহ

১. এবতেদায়ী (প্রাথমিক) স্তরঃ শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত।
২. দাখিল (মাধ্যমিক) স্তরঃ ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত।
৩. আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) স্তরঃ আলিম ১ম ও ২য় বর্ষ।
৪. ফাযিল (বি.এ) স্তরঃ ফাযিল ১ম, ২য়, ও ৩য় বর্ষ (৩বছর মেয়াদী)।

সভাপতির বাণী

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যতো শিক্ষিত সে জাতি ততো উন্নত। শিক্ষা একটি ব্যাপক অর্থ বোধক শব্দ। শুধু জাগতিক কিছু বিষয় জানার মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ করা হলে তা হবে শিক্ষার চরম অবমূল্যায়ন। তাই জাগতিক ও আত্মিক উৎকর্ষের নামই শিক্ষা। যে শিক্ষা বৈষয়িক উন্নতির সাথে সাথে আমাদের আত্মিক উন্নতির পথ দেখায় না সে শিক্ষা শিক্ষাই নয়। আজকের উন্নত বিশ্বই যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কারণ আজকের উন্নত দেশগুলো জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ সাধন করেও তাদের মধ্যে সর্বদা অশান্তি বিরাজ করেছে। নৈতিকতার চরম অবক্ষয় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে। ফলে, তাদের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন নড়বড়ে হয়ে গেছে। তারা শান্তির খুঁজে আজ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। তাই দিন দিন ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের গুরুত্ব বেড়ে চলছে। ইসলাম বরাবরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে আসছে। ইংরেজ শিক্ষানীতিতে দীর্ঘকাল মাদরাসা শিক্ষা অবহেলিত ছিল। ফলেমাদরাসা শিক্ষায় দীর্ঘকাল আধুনিক বিষয়গুলো ছিলো উপেক্ষিত। কিন্তু বর্তমানে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমাবেশ ঘটেছে এ মাদরাসা শিক্ষায়।

এখন একজন মাদরাসা শিক্ষার্থী কুরআন, হাদীস, ইসলামী আইন(ফিকাহ) ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ ও তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষার সকল বিষয়েও সমান দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে এদেশের সর্বস্তরের লোকের ছেলে-মেয়েরা বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষার প্রতি সাগ্রহে ছুটছে। মাদরাসা শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আদর্শকে দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রচার আজ সময়ের দাবী। এ ধারাবাহিকতায় দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। ইনশাআল্লাহ ভবিষতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। মাদরাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, প্রভাষক, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের শোকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন। আমীন।

                                                         সভাপতি 
পরিচালনা পর্ষদ, অত্র মাদরাসা

 

অধ্যক্ষের বাণী

শিক্ষাই জাতির মেরূদন্ড, শিক্ষার্থীরাই দেশ ও জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তাদের সফলতা ব্যর্থতার উপর আগামী দিনের কল্যাণ অকল্যাণ নির্ভরশীল। শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর, দক্ষ যোগ্য ও আদর্শবান শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীর প্রতিভা বিকাশ, নৈতিক মানসম্পন্ন ও আদর্শবান মেধাবী ছাত্র সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম। লেখা পড়ায় মনোযোগী, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী, অনুসন্ধিৎসু, শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার। অলস, উদাসীন, অধিক আরাম প্রিয়, উশৃঙ্খল ও চরিত্রহীন লোকেরা দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। সৎ ও আদর্শ চরিত্রবান লোকের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে জাতীয় কল্যাণ ও অগ্রগতি ততই তরান্বিত হবে। শান্তি, উন্নতি ও প্রগতির ধারা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বৃন্দের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা অপরিহার্য।

পারস্পরিক সহমর্মিতা, ঐকান্তিকপ্রচেষ্টা ও অকৃত্রিম সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য ও অগ্রগতির পূর্বশর্ত। বর্তমান পুজিবাদী ও নাস্তিক্যবাদী বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থার যাঁতাকালে নিষ্পেষিত মানবতার পূর্ণরুদ্ধারে ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শ চর্চার বিকল্প নেই, আধুনিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিখার এক অপূর্ব সমন্বয় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। জাগতিক ও আধ্যাত্মিক মুক্তি বিধানে মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা একদিকে ধর্মীয় মুল্যেবোধের সুরক্ষায় সচেষ্ট। অপরদিকে শিক্ষা, উন্নয়ন, প্রশাসনসহ রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে বহুমুখী অবদান রেখে চলছে।

আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া পরিচালনাধীন বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ১১ সদস্য বিষিষ্ট গভর্নিং বডির সুষ্ঠ তত্ত্বাবধানে ৩৮ জন সুযোগ্য সুদক্ষ শিক্ষক মন্ডলীর সুষ্ঠ পাঠদানে এক হাজারের অধিক শিক্ষার্থী শিশু শ্রেণী হতে ফাযিল (ডিগ্রি) পর্যন্ত নিয়মিত অধ্যায়নরত আছে। হেফজখানা বিভাগে রয়েছে ৫০ জনাধিক শিক্ষার্থী। দ্বীনি শিক্ষার আলো বিতরণের এ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলীয়ে কামেল, আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ, গাউসে জমান আল্লামা হাফেজ কারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহঃ) ও বর্তমান পৃষ্ঠপোষক রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত মোর্শেদে বরহক আল্লামা সৈয়্যদ মূহাম্মদ তাহের শাহ (মঃজিঃ আঃ) এর নেগাহে করমে অত্র প্রতিষ্ঠান এ যাবৎ কাল দেশবাসীকে অসংখ্য যোগ্য ও দক্ষ আলেমেদ্বীন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।

অত্র প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য সাবেক শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। ইসলামী আদর্শের প্রচার প্রসার, সুন্নীয়তের পয়গাম বিস্তারে এদের ভূমিকা জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার চল্লিশ বৎসর অতিক্রান্ত হয়েছে।

এ প্রয়াসের সাফল্য রচনায় সম্মানিত আনজুমান কেবিনেট কর্মকর্তাবৃন্দ, পরিচালনা পরিষদ কর্মকরতাবৃন্দ, সমানিত শিক্ষকমন্ডলী, সকল শিক্ষার্থী, সম্মানিত অভিভাবক-অভিভাবিকা ও শুভানুধ্যায়ী মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐকান্তিক সহযোগিতাকে কৃতজ্ঞাচিত্তে স্মরণ করছি। এ অধ্যায়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা করি। আল্লাহ ও তদীয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মহান মশায়েখ হযরাতে কেরামের ওসীলায় এ প্রয়াস কবুল করুন। আমিন।

বেহুরমতি সৈয়্যদিল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়ালা আলাইহি আজমাইন।

                মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভী
অধ্যক্ষ
অত্র মাদরাসা।