জশনে জুলুছ

জশনে জুলুছ

জশনে জুলুছ’র রূপকার
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিরোধী ষড়যন্ত্র যখন এদেশের সুন্নিয়তের ভবিষ্যতকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল- তখন ঈদে মিলাদুন্নী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর আবেদনকে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিয়ে ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব হিসেবে আওলাদে রসূল, গাউসে জামান, রহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিকত, মুর্শিদে বরহক, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি তা‌আলা আলায়হি ইসলামী সংস্কৃতি হিসেবে যোগ করলেন এক নতুন অনুষঙ্গ- যার নাম ‘জশ্নে জুলুছ’। এ ‘জশ্নে জুলুছ’ এর আগে এদেশে কেউ দেখেনি, শুনেনি আর উদ্যাপন তো দূরের কথা এবং প্রদত্ত রূপরেখা অনুসারে- আলহাজ্ব নূর মুহাম্মদ আলকাদেরী তাঁর নির্দেশে ১৯৭৪ এ ‘আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া (ট্রাস্ট)’র ব্যবস্থাপনায় সর্বপ্রথম এই নতুন কর্মসূচী বর্ণাঢ্য মিছিল ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে বলুয়ারদিঘী পাড়স্থ খানকাহ্ এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া হতে শুরু করে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদরাসা ময়দানে এসে মিলিত হয়ে মীলাদ মাহফিল, মুনাজাত ও তবাররুক বিতরণের মাধ্যমে সমাপ্ত করে।

১৯৭৬ এ স্বয়ং হুযুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্’ এতে নেতৃত্ব দেওয়ার ফলে এ জশ্নে জুলুছ দেখতে না দেখতে চট্টগ্রামের স্থানীয় উৎসবে রূপ লাভ করে এবং ১৯৮৬ সালের জুলুছটি ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের উপচেপড়া জোয়ারে ভাসা এক মহানন্দের বন্যা সদৃশ। ‘জশ্নে জুলুছ’ ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এনেছিল এক বৈচিত্র্য এবং মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে এনে দিল নতুন প্রাণ ও গ্রহণযোগ্যতা।

দেখতে না দেখতে এ জুলুছ বাংলাদেশের অন্যান্য পীর-মাশায়েখ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বেও বের হতে লাগলো। আজ বাংলাদেশে এমন কোন জেলা-থানা হয়তো নেই যেখানে ‘জশনে জুলুছে ঈদে মীলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম উদ্যাপিত হচ্ছে না। হুজুর কিবলা আমাদেরকে সাংস্কৃতিকভাবেও ঋণী করেছেন।

অধিকন্তু এ জুলুছ চলমান পঞ্চদশ শতাব্দি হিজরির অন্যতম প্রধান সংস্কার হিসেবে সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে- যা গাউসে জামান আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি তা‌আলা আলায়হি কে সংস্কারক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •