ইমাম আহমদ রেযা’র না‘তিয়া কালামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

0

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল নোমান

সহস্রাধিক গ্রন্থ প্রণেতা হিজরি চতুর্দশ শতাব্দির মুজাদ্দিদ, অদ্বিতীয় আশেকে রাসূল, ইমাম আহমদ রেযা (রহ.) ছিলেন নবীপ্রেমের মূর্তপ্রতীক। তাঁর বিরচিত না’তিয়া কালামগুলো ও কাব্যমালা নবীপ্রেমিক আশেকদের জন্য আত্মার প্রশান্তি, হৃদয়ের খোরাক ও সঞ্জীবনী শক্তি। আপাদমস্তক নবীপ্রেমে সিক্ত ইমাম আহমদ রেযা (রহ.) তাঁর না‘তিয়া কালামে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র শান-মান, অতুলনীয় মর্যাদা, মু‘জিযা, সৌন্দর্য, পূর্ণতা, অনুপম আদর্শ, অনন্য জীবনাচরণ, সুমহান চরিত্র মাধুর্য্য ও গুনাবলি বর্ণনা করেছেন অপূর্ব দক্ষতায়। প্রিয়নবী রাহমাতুল্লিল আলামীনের শুভাগমন তথা ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বিষয়ে তাঁর রচিত অসংখ্য না‘তিয়া কালাম ও কাব্যমালা বিদ্যমান। বক্ষমান নিবন্ধে ইমাম আহমদ রেযা (রহ.)’র কাব্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বিষয়ক না‘তিয়া কালামগুলোর উচ্চারণ, অনুবাদ ও কাব্যানুবাদ সহকারে সংক্ষিপ্ত কলেবরে উপস্থাপনের প্রয়াস পাব।

ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য
ঈদ অর্থ খুশি, আনন্দ, উৎসব। আর মিলাদুন্নবী মানে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র এ ধরাধামে শুভাগমন। পরিভাষায় রাহমাতুল্লিল আলামীন (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র এ পৃথিবীতে আবির্ভাবকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ কর্তৃক শরীয়ত সমর্থিত পদ্ধতিতে আনন্দোৎসব উদযাপনই হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)।
পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল শরীফ বিশ্বব্যাপী নবীপ্রেমিক মুসলিম-মিল্লাতের জন্য অতীব মর্যাদাবান ও বরকতম-িত এ কারণে যে, এই পবিত্র মাসে শুভাগমন করেন, বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত, সৃষ্টি জগতের মূল উৎস, স্রষ্টার নূরানী সৃষ্টি, কুল কায়েনাতের জন্য ফদ্বল ও রহমত, রাহমাতুল্লিল আলামীন (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল সুবহে সাদিকের সময় আইয়্যামে জাহেলিয়্যতের অন্ধকারাচ্ছন্ন অমানিশার বুক চিরে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে মা আমেনার মাধ্যমে ধরার বুকে তিনি শুভাগমন করেন। সৃষ্টি জগতের সকলেই পুলকিত হলো, আনন্দে উদ্ভাসিত হলো। মিলাদুন্নবী তথা প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র শুভাগমনের কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করে মহান আল্লাহ স্বয়ং নিজেই মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) উদযাপন করেছেন। প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)ও প্রতি সোমবার রোজা পালনের মাধ্যমে স্বীয় জন্মদিবস তথা মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) উদযাপন করতেন।
মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূলের পালিত এই সুন্নাত তথা পবিত্র মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) উদযাপন ও শানে রিসালতের জ্বয়ধ্বনি উচ্চারণ ও প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র প্রসংশাস্তুতির বিষয়টি যুগ যুগ ধরে সাহাবী, তাবেয়ী, তবে-তাবেয়ী ও সালফে সালেহীনগণ পালন করে আসছেন এবং মহাপ্রলয়াবধি নবীপ্রেমিকগণ এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ দয়াদ্র রাসূলের আগমনী বার্তা
পবিত্র কুরআন মাজীদে প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র শুভাগমনের বার্তা উপস্থাপন করে আল্লাহ বলেন,
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (১২৮)
Ñতোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের নিকট ঐ রাসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে, তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি অতীব স্নেহশীল, পরম দয়াময়।
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র মিলাদের বর্ণনা দিয়েছেন। ‘রাউফ’ শব্দটি মুবালাগার সিগাহ, তার অর্থ হলোÑ সীমাহীন দয়াদ্র, আর রাহীম অর্থ পরম দয়াবান। হুসাইন বিন ফদ্বল বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এ দুটি নাম তাঁর প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো জন্য ব্যবহার করেননি। ”
আর এ প্রসঙ্গটিকে আ‘লা হযরত কাব্যিক রূপ দিয়ে সুষমাম-িত করেন। তিনি কতইনা চমৎকার করে বলেছেন,
وہ نامی کہ نامِ خُدا نام تیرا
رؤف و رحیم و علیم و علی ہے
উচ্চারণ
উঅহ নামী কে নামে খোদা নাম তেরা
রউফ ও রহীম ও আলীম ও আলী হে।
[প্রিয়নবী হুযুর পুর নূর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) অভিষিক্ত হলেন মহান আল্লাহ তা‘আলার গুণবাচক নামসমূহ তথা আসমাউল হুসনার অনেক নামে, যেমন রউফ, রহীম, আলীম ও আলী ইত্যাদি] কাব্যানুবাদ
খোদার নামেই নাম যে তাঁরই সুউচ্চ সম্মান,
রউফ ও রহীম, আলীম ও আলী নাম যে মহান।
নূর নবীর শুভাগমন
নূরনবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র আগমনী ঘোষণা স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলাই দিয়েছেন। তিনি বলেন,
قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ
Ñনিশ্চয় তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে শুভাগমন করেছে এক মহান নূর (জ্যোতি), আর একটি সুস্পষ্ট কিতাব।
শীর্ষস্থানীয় নির্ভরযোগ্য তাফসীরকারগণের মতে, সেই ‘নূর’র অর্থ হযরত মুহাম্মদ এবং কিতাব হলো তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কুরআন মাজীদ। হযরত ইবনে আব্বাস, ইবনে জারীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা, ইমাম রাজী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি প্রমুখ মুফাসসিরীনের বর্ণনা মোতাবেক এই সেই ‘নূর’ যার আলোতে সুস্পষ্ট হয়েছে সত্য, প্রকাশিত হয়েছে সত্য এবং মিটে যায় কুফর ও শিরিকের অন্ধকার।
আ‘লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি নূর নবীর পবিত্র বেলাদতের সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির অমরতœ, অলৌকিকত্ব ও নূরে যাতীর সৃষ্টিব্যাপী স্ফুরণ তত্ত্ব উপস্থাপন করে ৫৯ শে‘র দিয়ে রচনা করেন বিশ্বখ্যাত ‘কসিদায়ে নূর’। যা বহুল শ্রুত, বহুল পঠিত ও বোদ্ধাজন সমাদৃত এক অবিস্মরণীয় না‘ত। আ‘লা হযরত গযল রচনা করতে গিয়ে হৃদয়ের স্বতঃউৎসরিত ছন্দায়নের সাবলীল গতিধারায় রচনা করে বসেন অসাধারণ এই ‘কসিদায়ে নূর’। কসিদার শেষ পংক্তি (মাকতা)’র সর্বশেষ ছত্রে তিনি নিজেই তা উল্লেখ করে বলেন,
اے رضاؔ یہ احمدِ نوری کا فیضِ نور ہے
ہوگئی میری غَزل بڑھ کر قصیدہ نور کا
উচ্চারণ
আয় রেযা ইয়ে আহমদে নূরী কা ফয়যে নূর হ্যায়
হো গ্যয়ী মেরী গযল বড় কর কসিদা নূর কা।
[হে রেযা, এটা তো আহমদ নূরী সাহেবজাদারই নূরাণী ফয়েয, যে আমার গযল কলেবর বর্ধিত হয়ে নূরের কসিদায় রূপ নিয়েছে।] কাব্যানুবাদ
হে রেযা! এ যে হলো আহমদ নূরীর দয়ার নজরে,
আমার এ গজল হয়েছে পরিণত কসিদায়ে নূরে।
পাঁচ থেকে একুশ পদ বা বয়েত’র কবিতাকে গযল বলা হয়। কিন্তু এটা একুশ ছেড়ে ৫৯ তে পল্লবিত হয়েছে।
প্রিয়নবীর নূর মোবারকের বর্ণনা
সত্যিকার অর্থেই এটি ‘কসিদায়ে নূর’। কেননা, এতে আ‘লা হযরত প্রিয়নবী ( )’র নূর মোবারকের বর্ণনা সম্বলিত কয়েকটি ছত্রে চমৎকার ও তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন। যেমনÑ তিনি বলেন,
وضْعِ واضع میں تِری صورت ہے معنی نور کا
یوں مَجازاً چاہیں جس کو کہہ دیں کلمہ نور کا
উচ্চারণ
ওয়াদে‘ ওয়াদি ম্যাঁ তেরি সুরত হ্যা মা‘না নূর কা,
ইউঁ মাজাযান চাহে জিসকো কেহ দে কালিমা নূর কা।
[ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)! সৃষ্টিকর্তা (মহান আল্লাহ) আপনার (দেহাবয়ব) নূরকে যথোপোযুক্ত শব্দে প্রকাশ করেছেন অর্থাৎ, নূরের প্রকৃত উদ্দেশ্য আপনিই। ইচ্ছানুরূপ কারো জন্য নূর শব্দের প্রয়োগ তো রূপকার্থেই।] কাব্যানুবাদ
নূর শব্দটির উৎপত্তিই হয়েছে আপনারে বর্ণনা তরে,
রূপক অর্থেই বলি মোরা যখন নূর বলি অন্যরে।
কেবল তা নয় বরং ছায়াবিহীন নূর নবীর কায়া মোবারকের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তথা আপাদমস্তক নূরেরই । এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
تو ہے سایہ نور کا ہر عُضْو ٹکڑا نور کا
سایہ کا سایہ نہ ہوتا ہے نہ سایہ نور کا
উচ্চারণ
তু হ্যা ছায়া নূর কা হার উ’যব টুকরা নূর কা,
ছায়া কা ছায়া না হোতা হ্যা না ছায়া নূর কা।
ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)! খোদার নূরের ছায়া বা প্রতিচ্ছবি আপনার নূর মোবারক, আপনার শরীর মোবারকের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই নূরেরই টুকরা অর্থাৎ, আপনি নূরী ছায়াবিশিষ্ট। নূরী ছায়ার তো আর ছায়া হয় না, তাই তো আপনার ছায়াবিহীন নূরাণী কায়া।] কাব্যানুবাদ
আপনি তো নূরের ছায়া; প্রতি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টি নূরে,
ছায়ার তো আর হয় না ছায়া, না ছায়া হয় ঐ নূরে।
নূর নবীর খেলনা কি আর সাধারণ হতে পারে? না, নূর নবীর খেলনাও নূরের তৈরি ঐ চাঁদ, যা হযরত আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)’র হাদিসে পাকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, رأيتك في المهد تناغي القمر و تشير اليه بأصبعك فحيث أشرت إليه مال অর্থাৎ আমি আপনাকে দোলনায় শুয়ে থাকাবস্থায় চাঁদের সাথে কথা বলতে দেখেছি যে, আপনার আঙ্গুল মোবারক যেদিকে নড়তো চাঁদও ওই দিকে ঝুঁকে পড়ত।
আ‘লা হযরত যেনো এই হাদীসেরই অনুবাদ করেন তাঁর কবিতার নি¤েœাক্ত পংক্তিতেÑ
چاند جھک جاتا جِدھر اُنگلی اٹھاتے مَہد میں
کیا ہی چلتا تھا اشاروں پر کھلونا نور کا
উচ্চারণ
চাঁদ ঝুক ঝাতা ঝিদর ওঙ্গলি উঠাতে মাহদ ম্যা,
কিয়া হি চালতা থা ইশারো পর খেলোনা নুর কা।
[ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)! দোলনায় থাকাবস্থায় আপনার নূরাণী আঙ্গুল মোবারকের ইশারা যেদিকে হতো চাঁদ তো সেদিকে চলে যেতো, আপনার ইশারায় কতইনা চমৎকারভাবে হেলে-দুলে আপানার ওই নূরের খেলনা (আলোকিত চাঁদটি) ] কাব্যানুবাদ
চাঁদ ঝুঁকে যায় যেদিক তিনি আঙ্গুল হেলান দোলনাতে,
ইঙ্গিতে সে কেমন খেলা,চাঁদ সাজালেন খেলনাতে।
আ‘লা হযরত (রহ.) কর্তৃক ১৩১৭ হিজরিতে প্রথম রচিত কসিদায়ে নূর সর্বপ্রথম পঠিত হয় বদায়ুনের উরসে কাদেরীর জলসায়। যেখানে হিন্দুস্থানের যুগশ্রেষ্ঠ ওলামা-মাশায়েখ উপবিষ্ট ছিলেন। এ কসিদায় পরিবেশিত হয়েছে নূর নবীজির নূর’র ঝলক। কসিদায়ে নূর জুড়ে নূরের নবী হুযুর রাহমাতুল্লিল আলামীন’র সত্ত্বাগত নূর, নূরের অপরাপর সৃষ্টিকে জাগিয়ে তুলে সৃষ্টিব্যাপী নূরের প্লাবন সৃষ্টি করা শুভাগমন ইত্যাদির এতোই হৃদয়গ্রাহী ও মনোজ্ঞ বর্ণনা সমৃদ্ধ এক কসিদা,যার সারা অঙ্গ জুড়ে প্রতিটি পংক্তি শেষে ‘নূর’ শব্দ যোজনায় অন্ত্যমিল রক্ষা করা হয়েছে যে, তা না‘ত সাহিত্যের অহংকার হয়ে বিশ্বব্যাপী কসিদায়ে নূর হিসেবে সমাদৃত। নূর’র সৃষ্টি প্রিয়নবীর শুভাগমনের মুহূর্তে নূর’র প্রভাবে সৃষ্টিজুড়ে আলোর বন্যায় উদ্ভাসিত আলোর উৎসবের বাস্তবধর্মী ও প্রামাণ্য এক কাব্যিক বর্ণনা শ্রোতাকুলকে মোহাবিষ্ট করে রাখে অপূর্ব দ্যোতনায়। কসিদায়ে নূর’র প্রথম চরণটি হলো,
صبح طیبہ میں ہوئی بٹتا ہے باڑا نور کا
صدقہ لینے نور کا آیا ہے تارا نور کا
উচ্চারণ
সুবহে ত্বৈয়বা মে হুয়ী বাঁটতা হ্যায় বাড়া নূর কা,
সদক্বা লে-নে নূরকা, আ-য়া হে তা-রা নূর কা।
[পবিত্র নূরের প্রভাতে আপনার নূরের বণ্টন হয়, আর সেই নূরের ভিক্ষা নিতে আকাশের তারকারাজিও আপনার নূরের ভিক্ষুক হয়ে এসেছে।] কাব্যানুবাদ
তাজব নূরের বণ্টনে আজ ফুটলো নূরের পাক প্রভাত,
‘নূর’র কিছু ভিক্ষা নিতে নূরের তারাও বাড়ায় হাত।
বারই রবিউল আউয়ালের বর্ণনা
কসিদায়ে নূরের একটি ছত্রে বারই রবিউল আউয়ালের বর্ণনা করতে গিয়ে আ‘লা হযরত বলেন,
بارہویں کے چاند کا مُجرا ہے سجدہ نور کا
بارہ بُرجوں سے جھکا ایک اِک سِتارہ نور کا
উচ্চারণ
বারভী কে চান্দ কা মুজরা হ্যায় সাজ্দা নূর কা,
বারা বুরজোঁ সে ঝুকা ই-ক্ ইক্ সিতারা নূর কা।
[চাঁদের ১২ তারিখ ( অর্থাৎ, বার রবিউল আউয়াল) হচ্ছে নূরের আবর্তন কেন্দ্র। বারটি কক্ষ থেকে ঝুঁকে পড়ল এক একটি তারকা (ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)! আপনার শুভাগমনকে স্বাগতম জানানোর জন্য) ] কাব্যানুবাদ
বারো তারিখের উজ্জ্বল চাঁদও ঝুঁকে আছে তব নূরে,
যেন একে একে নক্ষত্ররা ঘুরে বারোটি কক্ষপথ ধরে।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত
মহাকালের মাহেন্দ্রক্ষণ সেই পবিত্র খুশির মুহূর্তটি হলো ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়ালের সুবহে সাদিক। সেই অতুলনীয়, মোহনীয় হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেয়ার মতো আনন্দের মুহূর্তটিকে কৃতজ্ঞতায় লক্ষ সালাম দিয়ে প্রণতি জানাতে গিয়ে আ‘লা হযরত বলেন,
جس سہانی گھڑی چمکا طیبہ کا چاند
اس دل اَفروز ساعت پہ لاکھوں سلام
উচ্চারণ
জিস সুহানী ঘড়ী চমকা ত্বৈয়্যবা কা চান্দ,
উস দিল আফরোযে সা‘আত পে লাখো সালাম।
[যে মনোরম সময়ে মদীনা তৈয়্যবার চাঁদ (প্রিয় নবী)-এর উদয় হলো, ওই চিত্তাকর্ষক সময়ের প্রতি লক্ষ সালাম।] কাব্যানুবাদ
যে অনুপম প্রাতে উদয় চাঁদ মদীনার লই সে নাম,
চিত্তহারা মুহূর্ত সে জানাই তাঁরে লাখ্ সালাম।
সেই মুহূর্তটির স্মৃতি জাগানো মাস বছর বছর ফিরে এসে আমাদেরকে বিধাতার শ্রেষ্ঠ নেয়ামতের কথাটি স্মরণ করিয়ে দেয়।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম দিবস
হাদিস শরীফে জুমার দিবসকে সপ্তাহের সকল দিনের শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে, কেননা সেদিন হযরত আদম আলায়হিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়। হযরত আদম আলায়হিস সালামের সৃষ্টির কারণে জুমার দিনগুলি যদি শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় তবে নবীকুল সরদার সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র শুভাগমনের দিবস, মাস, রাত, সময় ইত্যাদি অন্যান্য দিবস, মাস, রাত ও সময় থেকে উত্তম হবে না কেনো?
আ‘লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এ বিষয়ে তাঁর কাব্যের এক স্থানে বলেন,
دو شنبہ مصطفٰی کا جمعۂ آدم سے بہتر ہے
سکھانا کیا لحاظِ حیثیت خوئے تأِمُّل کو
উচ্চারণ:
দো শোম্বাহ মুস্তফা কা জুমআয়ে আদম ছে বেহতর হ্যায়,
সিখানা কিয়া লেহায হায়সীয়ত খুয়ে তাআম্মুল কো।
[হুযুর -এর শুভ জন্মদিন ‘সোমবার’ হযরত আদম আলায়হিস সালাম-এর জন্মদিন শুক্রবার হতে উত্তম। এটা বুঝা কি কোনো কঠিন ব্যাপার। কারণ, হুযুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করা না হলে তো কিছুই সৃষ্টি করা হতো না।] কাব্যানুবাদ
আদমের জুমাবার হতে মুস্তফার সোমবার বহু উত্তম,
না আসতো হুযুর যদি অস্তিত্বে, আসতো কি জগত আলম?
বরং হযরত আদম (আ.) ও প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র উসিলায় মুক্তি পেয়েছেন। আ‘লা হযরত তাঁর কাব্যে তা এভাবে তুলে ধরেন,
تیری رَحمت سے صَفِیُّ اللہ کا بیڑا پار تھا
تیرے صدقے سے نَجِیُّ اللہ کا بجرا تر گیا

উচ্চারণ
তেরী রহমত ছে ছফীউল্লাহ কা বেড়া পার থা,
তেরে সদকে ছে নজীউল্লাহ কা বাজরা তির গ্যায়া।
[আপনার অনুগ্রহে হযরত আদম ছফীউল্লাহ (আলাইহিস সালাম)’র মুক্তি লাভ হয়েছে অর্থাৎ, আপনার উসিলায় তাঁর তাওবা কবুল হয়েছে। আর মহাপ্লাবনের সময় হযরত নূহ নজীউল্লাহ (আলাইহিস সালাম)’র নৌকাটি তীরে ভিড়ল আপনারই উসিলায়।] কাব্যানুবাদ
তোমার দয়ায় আদমের বিপথ গেলো দূরে,
তব উসিলায় নূহের কিশতী ভিড়ল তীরে।
তাহলে স্পষ্ট হয়ে গেলো, হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র পবিত্র বেলাদত শরীফের কারণেই সোমবারের অতুলনীয় মর্যাদা।
আ‘লা হযরত অন্যত্রে বলেন,
جمعۂ مکہ تھا عید اہلِ عبادت کے لئے
مجرمو! آؤ یہاں عید دوشنبہ دیکھو
উচ্চারণ
জুমআয়ে মক্কা থা ঈদ আহলে ইবাদত কেলিয়ে,
মুজরেমোঁ আ-ও ইয়েহাঁ ঈদে দো শোম্বা দোখো।
[মক্কায় জুমআর ঈদ তো ইবাদতকারীদের জন্য। ওহে পাপিষ্ট! মদিনায় সোমবার তোমার জন্য (মিলাদুন্নবীর) ঈদ আছে। মদিনায় এসে তা অবলোকন করে যাও।
কাব্যানুবাদ
মক্কাতে ঈদ জুমার দিনে, পূণ্যবান তা ঠিকই চিনে,
পাপী দেখো সোমবারে ঈদ মদীনায় সাজ সাজ।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র সৃষ্টি না হলে কিছুই সৃষ্টি হতো না
পবিত্র হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে যে,
لَوْلَاكَ لمَاَ خَلْقَتُ الْاَفْلَاكَ
অর্থাৎ, আপনাকে সৃষ্টি না করলে আসমানসমূহ সৃষ্টি করতাম না অর্থাৎ, কিছুই সৃজন করতাম না। এই হাদিসে কুদসিকে কাব্যিক রূপ দিয়ে ইমাম আহমদ রেযা (রহ.) বলেন,
ہوتے کہاں خلیل و بِنا کعبہ و منیٰ
لولاک والے صَاحبی سب تیرے گھر کی ہے
উচ্চারণ
হোতে কাহাঁ খলিল ও বেনা কা‘বা ও মিনা,
লাওলাক ওয়ালে সাহিবী সব তেরে ঘর কি হে।
[হযরত ইবরাহিম খলিলুল্লাহ আলাইহিস সালাম কর্তৃক কা‘বা শরীফ নির্মান ও মিনা ইত্যাদি কোথ থেকে হতো? ‘লাওলাকা লামা খালকতুল আফলাক’র অধিকারী অর্থাৎ, আপনার কারণেই সর্বসৃষ্টি, সমস্ত কিছু তো আপনার নিকটেই (আল্লাহ প্রদান করেছেন)] কাব্যানুবাদ
কিভাবে হতো খলিল ও ভিত্তি কা‘বার, কিভাবে হতো মিনা?
মর্যাদা ওয়ালা কোথায় কে আছে তব ঘর বিনা?
প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’র সৃষ্টি না হলে কোনো সৃষ্টিরই অস্তিত্ব হতো না, কেননা তিনি সৃষ্টির প্রাণ। যদি তাঁর আগমন না ঘটত, তাহলে কিছুই হতো না,কিছুই জুটত না। তিনি এলেন বলেই সবকিছু, তিনি না হলে নেই কিছু। বিষয়টি আ‘লা হযরত তাঁর না‘তের শব্দমালায় এভাবে গেঁথেছেন যে,
وہ جو نہ تھے تو کچھ نہ تھا وہ جو نہ ہوں تو کچھ نہ ہو
جان ہیں وہ جہان کی جان ہے تو جہان ہے
উচ্চারণ:
উঅহ্ জু না থে তু কুচ না থা, উঅহ জু না হোঁ তু কুছ নাহো,
জান হ্যায় উঅহ জাহান কী, জান হ্যায় তু জাহান হ্যায়।
[তিনি এমনই সত্ত্বা, তিনি ছিলেন না, তো কিছুই ছিল না, তিনি না হলে কিছুই হতো না, হে রাসূল ( ) সৃষ্টি জগতের তুমিই জান, প্রাণ। আর প্রাণ থাকলেই তো সৃষ্টি থাকে।] কাব্যানুবাদ
না ছিল কিছুই, ছিলেনা যখন, না হলে তুমি নয় এ সৃজন,
প্রাণ তুমি তো এ জাহানের, প্রাণ হলেই তো হয় এ জাহান।
তাছাড়া মহান আল্লাহ তা‘আলা সমগ্র সৃষ্টি জগৎ তাঁর প্রিয় হাবীব (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র সম্মানার্থেই সৃষ্টি করেছেন। কেননা, নূরে মুহাম্মদীর আগে চাঁদ-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র কিছুই ছিল না। সেই আদি সৃষ্টি নূরে পাক থেকে সমগ্র সৃজন কূলের অস্তিত্ব। এ সত্যকে আ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রহ.) তাঁর লিখিত এক ফার্সি না‘তিয়া কালামে এভাবে উপস্থাপন করেন,
برائے جَلْوۂ یک گُلبُنِ ناز
ہزاراں باغ و بُستاں آفریدند
উচ্চারণ
বরায়ে জলওয়া এক গুলবনে নায,
হাযারা বাগ ও বোস্তাঁ আঁফরীদন্দ।
[এক অনুপম পুস্পের রূপচ্ছটা বিকীর্ণ করতে মহান স্রষ্টা হাজারো বাগ-বাগিচার আবাদ করেছেন।] কাব্যানুবাদ
সহস্র বাগ- বাগিচা সাজানো হয়েছে সুনিপুণ করে,
শুধু একটি অনন্য ফুলের রূপ-সুবাসে জগত মাতানের তরে।
প্রকৃতির এ সাজানো উদ্যানে যত রূপ-সৌন্দর্য, তা মূলতঃ নেয়ামতের বণ্টনকারী প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) থেকে পাওয়া। অযুত শোভার বিচিত্র হাসি বস্তুতঃ তাদের মূল উৎসের অস্তিত্বেরই জানান দিচ্ছে।
আবার তাঁর বিখ্যাত ‘কসিদায়ে সালাম’-এ সমস্ত সৃষ্টির মূল উৎস প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)কে তিনি এভাবেই সালাম নিবেদন করেন,
اصلِ ہر بُود و بَہبُود تخمِ وُجُود
قاسمِ کَنزِ نعمت پہ لاکھوں سلام
উচ্চারণ
আসলে হার বুদ ও বাহবূদ ও তুখমে ওজূদ,
কাসেমে কানযে নে‘মত পে লাখো সালাম।
[সকল সৃষ্টির আসল, সকল অস্তিত্বের মৌল উপাদান, নেয়ামতের ভা-ার বণ্টনকারীর প্রতি লক্ষ সালাম।] কাব্যানুবাদ
সৃষ্টিকুলের এই বাগানে বীজ তুমি আর মূল মকাম,
সব নেয়ামত বিলায় যিনি,সেই দাতাকে লাখ্ সালাম।

প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত
মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি যত নেয়ামত দান করেছেন, ওইগুলোর কোনটির উল্লেখ করে এ কথা বলেননি যে, বান্দা আমি এ নেয়ামত দিয়ে তোমার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছি। কিন্তু একটিমাত্র নেয়ামতের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এ নেয়ামত দিয়ে আমি তোমাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছি। আর তা হচ্ছে তোমাদের প্রতি আমার প্রিয় হাবীবকে প্রেরণ করা। এরশাদ হচ্ছে,
لَقَدْ مَنَّ اللهَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا.
Ñনিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন তাদের মধ্যে একজন সম্মানিত রাসূল প্রেরণের মাধ্যমে।
আর আ‘লা হযরত (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘কসিদায়ে সালাম’-এ যেন এই আয়াতকে সামনে রেখেই প্রিয়নবীর সমীপে উচ্চাসিত দরূদ ও সালাম প্রেরণ করলেন। তিনি বলেন,
ربِّ اَعلیٰ کی نعمت پہ اعلیٰ درود
حق تعالیٰ کی مِنَّت پہ لاکھوں سلام
উচ্চারণ
রব্বে আ‘লা কি নে‘মত পে আ‘লা দরূদ,
হক্ব তা‘আলা কি মিন্নত পে লাখোঁ সালাম।
[মহান রবের শ্রেষ্ঠ নেয়ামত (তাঁর প্রিয় হাবীব)-এর প্রতি উচ্চ দরূদ, আল্লাহ তা‘আলার মহান অনুগ্রহের প্রতি লক্ষ সালাম।] কাব্যানুবাদ
মহান রবের শ্রেষ্ঠ দানে দরূদ পড়ি সব গোলাম
হক্ব তা‘আলার অনুগ্রহে পেশ করি লাখ্ সালাম।
সৃষ্টিতে প্রথম আর আগমনে শেষনবী ও রাসূল
প্রিয়নবী হলেন প্রথম ও নূরের সৃষ্টি, তথাপি তাঁর শুভাগমন হয়েছে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে। আ‘লা হযরত যথার্থই বলেছেন,
بزمِ آخر کا شمع فَروزاں ہوا
نُورِ اوّل کا جلوہ ہمَارا نبی
উচ্চারণ
বযমে আখের কা শাম‘আ ফরোযাঁ হুয়া,
নূরে আউয়াল কা জলওয়া হামারা নবী।
[আখেরী যামানা বা শেষ মুহূর্তের প্রদীপরূপে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র শুভাগমন হলেও তিনি (আল্লাহর সৃষ্ট) প্রথম নূরের বিচ্ছুরণ অর্থাৎ, তাঁর নূর মোবারকই প্রথম সৃষ্টি এবং তাঁর প্রদীপশিখার প্রজ্বলন হয় শেষে (অর্থাৎ, শেষ যামানায় তাঁর আবির্ভাব।] কাব্যানুবাদ
সবার শেষে ধরার মাঝে, জ্বললো যে তাঁর নূরের বাতি,
সবার আগে যে নূর পয়দা, নবীজি তাঁর প্রতিচ্ছবি।
যুগে যুগে নবী-রাসূলগন আমাদের প্রিয় রাসূলের রেসালতের প্রচার-প্রসার করে গিয়েছেন। অবশ্য এ গুরু দায়িত্ব মহান রবের পক্ষ থেকেই। এরশাদ হচ্ছে,
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آَتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ (৮১)
স্মরণ করুন! যখন আল্লাহ নবীগণের নিকট থেকে তাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। ‘আমি তোমাদেরকে যে কিতাব ও হিকমত প্রদান করবো, অতঃপর তশরীফ আনবেন তোমাদের নিকট রাসূল, যিনি তোমাদের কিতাবগুলোর সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং নিশ্চয় নিশ্চয় তাকে সাহায্যে করবে।’ এরশাদ করলেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এ সম্পর্কে আমার গুরু দায়িত্ব গ্রহণ করলে?’ সবাই আরয করলো, ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ এরশাদ করলেন, ‘তবে (তোমরা) একে অপরের সাক্ষী হয়ে যাও এবং আমি নিজেই তোমাদের সাথে সাক্ষীদের মধ্যে রইলাম।’
বুঝা যায় শেষ নবীর ধরাধামে আবির্ভূত হওয়ার আগেও প্রত্যেক নবী-রাসূল নিজ নিজ উম্মতকে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা বর্ণনা করেছেন। ধারাবাহিকভাবে আগেকার নবী-রাসূল তাদের গ্রন্থ-সহীফায়,নিজ উম্মতের কাছে শেষনবীর প্রশংসাস্তুতি করে গেছেন,যেভাবে আযানের মাধ্যমে আহবান করা হয়, আ‘লা হযরত চমৎকার বলেছেন,
سب بِشارَت کی اذاں تھے,تم اذاں کا مُدَّعا ہو
سب تمہاری ہی خبر تھے, تم مُؤخَّر مُبتَدا ہو
উচ্চারণ
সব বেশারত কী আযাঁ থে, তুম আযাঁ কা মুদ্দা’আ হু
সব তোমহারে খবর থে, তুম মুওয়াখ্খর মুবতাদা হু।
[সকল নবী-রাসূলগণ ছিলেন সুসংবাদদাতা আযানের মতো, আর আপনি হলেন আযানের আসল উদ্দেশ্য। তাঁরা সবাই ছিলেন আপনার সুসংবাদদাতা, আপনি সৃষ্টির দিক থেকে প্রথম, আর শুভাগমনের দিক দিয়ে সর্বশেষ নবী ও রাসূল।] কাব্যানুবাদ
তব পক্ষ হতে সবে সুসংবাদ শুনিয়ে ডেকে গেছেন, মূল তো আপনি;
তব খবরই সবে পৌঁছে দিয়েছেন, শুরু আর শেষ তো আপনি।
আর নবীজির রিসালতের প্রদীপ প্রজ্বলিত হলে অন্যান্যদের প্রদীপ জ্যোতিহীন হয়ে গেলো। নবীজি তো দেদীপ্যমান আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ নিয়ে এসেছেন, যা সর্বদা প্রজ্জ্বলিত থাকবে আপন মহিমায়। আ‘লা হযরত নিম্নোক্ত চরণে সে কথাটিই বলেছেন,
بُجھ گئیں جس کے آگے سبھی مشعلیں
شمع وہ لے کر آیا ہمَارا نبی
উচ্চারণ
বুঝ গেয়ী জিসকে আগে সবহি মশ’আলেঁ,
শাম’আ উঅহ লেকর আয়া হামারা নবী।
কাব্যানুবাদ
আগমনে যাঁর নিষ্প্রভ, সব দীপ শিখার বাতি,
এমনি এক নূরের বাতি, নিয়ে এলেন নূর নবীজি।
[পূর্ববর্তী নবীগণ (স্ব-স্ব শরীয়তের) যে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেছেন, আমাদের নবী (শরীয়তের) এমন আলোকরশ্মি নিয়ে শুভাগমন করেছেন, পূর্বেকার সমস্ত নবীদের (শরীয়তের) প্রদীপ নিষ্প্রভ হয়ে গেল।] আ‘লা হযরত (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘কসিদায়ে সালাম’-এর একটি সালামী এভাবে পেশ করেন,
فتحِ بابِ نبوت پہ بے حد درود
ختمِ دورِ رسالت پہ لاکھوں سلام
উচ্চারণ
ফত্হে বাবে নবূয়্যত পে বেহদ দরূদ,
খতমে দওরে রিসালত পে লাখো সালাম।
[নবুয়তের দ্বার উম্মোচনকারীর প্রতি অগণিত দরূদ, রিসালতের যুগ সমাপনকারীকে লক্ষ সালাম।] কাব্যানুবাদ
নবূয়তের দুয়ার যিনি খুলল তারি জপছি নাম,
রেসালতের যুগ সমাপনকারীর প্রতি লাখ্ সালাম।
প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম )’র শুভাগমনের সময় কা‘বা ঝুকে পড়ল তাঁর দিকেই
প্রিয়নবী হুযুর পুরনূর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম )’র শুভাগমনের সময় যেসব অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ পায় তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, কা‘বা শরীফ হুযুরের আগমন স্থান তথা হযরত মা আমেনা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)’র ঘরের দিকে সিজদায় ঝুঁকে পড়া। হুযুরের দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদিন আমি কা‘বা শরীফে ছিলাম। যখন নবীজির শুভাগমনের সময় নিকটবর্তী হয়, তখন কা‘বা শরীফে স্থাপিত সকল মুর্তি উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং কা‘বা শরীফ মকামে ইবরাহীমের দিকে সিজদা করে। আমি এ ঘটনা দেখে যখন আশ্চর্য হলাম, তখন কা‘বার প্রাচীর হতে আওয়াজ আসলো,আজকে সর্বশেষ নবীর শুভাগমন হয়েছে,যাঁর মাধ্যমে কুফরী দূরীভূত হবে এবং আমাকে অপবিত্র মুর্তিগুলো থেকে পবিত্র করা হবে। তিনি প্রকৃত উপাস্যের ইবাদতের নির্দেশ দিবেন।
উপরোক্ত ঘটনাটি আ‘লা হযরত তাঁর না‘তিয়া কালামের একটি ছত্রে উপস্থাপন করে তিনি বলেন,
تیری آمد تھی کہ بیَتُ اللہ مُجرے کو جھکا
تیری ہیبت تھی کہ ہر بُت تھر تھرا کر گر گیا
উচ্চারণ:
তেরী আমদ থী কে বায়তুল্লাহ মুজরে কো ঝুকা
তেরী হয়বত থী কে হার বুত থরথরা কর গির গ্যায়া।
[ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম )! আপনার শুভাগমনের খুশিতে বায়তুল্লাহ তথা কা‘বা শরীফ আপনার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল (আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে), আপনার বিস্ময়কর প্রভাবে তখনকার সময়ে কা‘বা শরীফে স্থাপিত সকল মূর্তি প্রকম্পিত হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে।)
কাব্যানুবাদ
তব আগমনে বায়তুল্লাহ সিজদায় পড়ে লুটে,
তব সম্মানে মুর্তিরা কেঁপে গড়ায় ভূতলে।
আ‘লা হযরতের বিখ্যাত ‘কসিদায়ে সালাম’-এর একটি ছত্রেও আলোচ্য ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়,
جن کے سجدے کو محرابِ کعبہ جھکی
ان بھَووں کی لَطافَت پہ لاکھوں سلام
উচ্চারণ
জিনকে সজদে কো মেহরাবে কা‘বা ঝুকি,
উন ভওঁ কি লাতাফত পে লাখে সালাম।
[যাঁর পবিত্র ভ্রু যুগলের সৌন্দর্য দেখে কা‘বার মেহরাব ঝুঁকে পড়েছে,এই সরু ভ্রুযুগলের প্রতি লক্ষ সালাম।] কাব্যানুবাদ
সম্মানে যাঁর পড়ল লুটে সমেহরাবে খোদ হারাম,
সূক্ষ্ম যুগল ভুরুর হেন ত্বাকৎ কে মোর লাখ সালাম।
শুভাগমনের প্রাক্কালে সিজদা করা ও উম্মতের স্মরণ
হুযুর ( ) এ পৃথিবীতে তাশরীফ আনয়নের প্রক্কালে সিজদা করেন এবং উম্মতের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। আ‘লা হযরত তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ‘কসিদায়ে সালাম’র একটি ছত্রে তা এভাবে তুলে ধরেন,
پہلے سجدہ پہ روزِ اَزل سے درود
یادگاریِ امت پہ لاکھوں سلام
উচ্চারণ
পহলে সজ্দা পে রোযে আযল ছে দুরূদ,
ইয়াদগারিয়ে উম্মত পে লাখো সালাম।
[হুযুর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে শুভাগমনের সময় যে প্রথম সিজদা করেছিলেন, ওই সিজদার উদ্দেশ্যে অনাদিকাল থেকেই দুরূদ বর্ষিত হোক। আর ওই সময় আপন উম্মতকে স্মরন করার প্রতি লক্ষ সালাম।] কাব্যানুবাদ
অনাদিকাল থেকেই দরূদ- যে-ই আসেন এ ধরার ধাম
সিজদা দিয়ে ‘উম্মতি’ নাম জপ করে তায় লাখ্ সালাম।

বাতিলরা জ্বলে অঙ্গার হোক, মিলাদুন্নবী অবিরাম চলতে থাকুক
মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ) তথা প্রিয়নবীর শুভাগমনের অন্যতম অলৌকিকত্ব হলো, তাঁর ধরাধামে তাশরীফ আনয়নের প্রক্কালে পারস্যের রাজপ্রসাদ প্রকম্পিত হয়। আর রাহমাতুল্লিল আলামীনের শুভাগমনে অসন্তুষ্ট কেবল শয়তানই। তাই মহাপ্রলয়াবধি শয়তানের অনুসারী দুশমনে রাসূলের ভীত সমূলে উপড়ে ফেলতে মিলাদুন্নবী উদযাপনই যথেষ্ট। আর তা নবীজির শুভাগমনের মুহূর্তে পারস্যের রাজ প্রাসাদের ন্যায় তাদেরকে প্রকম্পিত করবে। আ‘লা হযরত বলেন,
مثلِ فارس زلزلے ہوں نجد میں
ذکرِ آیاتِ وِلادت کیجیے
উচ্চারণ
মিছলে ফারেছ যলযলে হো নজদ মে,
যিকরে আয়াতে বেলাদত কীজিয়ে।
[ পারস্যের রাজপ্রাসাদের ন্যায় ওহাবী নজদীদের কিল্লায় যেনো ভূমিকম্প হয়; এই জন্য অধিকহারে আল্লাহর নবীর মিলাদ মাহফিল অতি ঝাকজমকের সাথে পালন করা দরকার।] কাব্যানুবাদ
পারস্যের ভূমিকম্প সম, নজদভূমি ধ্বংস হবে,
নবীজির জন্মক্ষণের আয়াত পড় উচ্চ রবে।
এ মিলাদুন্নবী উদযাপন কেবল দিন,মাস বছরের সীমাবদ্ধতার গ-িতে প্রবিষ্ট নয়, বরং নবীপ্রেমিকগণ কিয়ামত দিবস অবধি মিলাদুন্নবী উদযাপন করে বাতিলদের কিল্লা ভাঙ্গবেই। তাঁর সাহসী উচ্চারণ,
حشر تک ڈالیں گے ہم پَیدائشِ مولیٰ کی دُھوم
مِثل فارِس نجد کے قلعے گراتے جائیں گے
উচ্চারণ
হাশর তক ডালেংগে হাম পয়দায়শে মাওলা কী ধূ-ম,
মিসলে ফারেস নজদ কী ক্বিল-এ গিরাতে জায়েঙ্গে।
[আমরা আমাদের মুনিব পেয়ারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)’র শুভাগমনের উৎসব (ঈদে মিলাদুন্নবী) মহাপ্রলয়াবধি মহাসমারোহে উদযাপন করে যাব, যেনো পারস্যের রাজপ্রাসাদের ন্যায় ওহাবী নজদীদের কিল্লা ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।] কাব্যানুবাদ
হাশর তক করবো যে পালন,মীলাদে মোস্তফার উৎসব,
সেই পারস্যের মতোই নজদের কেল্লা ভাঙতে থাকব।
প্রিয়নবীর শান-মানের পতাকা উড্ডীন আসমান-যমীনের সর্বত্র
প্রত্যেক মহান ব্যক্তির শান-মান বা প্রশংসাস্তুতি তো কেবল যমীনে, কিন্তু পেয়ারা মাহবুব (দুরুদ)’র শানের পতাকা আসমানী জগতেও উড্ডীন। আ‘লা হযরত বলেন,
فرش والے تِری شوکت کا عُلو کیا جانیں
خُسروا عرش پہ اُڑتا ہے پَھریرا تیرا
উচ্চারণ
ফরশ্ ওয়ালে তেরী শওকত কা উলূ’ কিয়া জানে
খুসরুওয়া আরশ পেহ্ উড়তা হ্যায় পহরীরা তেরা।
[মর্তবাসী আপনার শান-শওকতের আর কিইবা জানবে, মহান আরশের উপর আপনার সর্বোচ্চ মর্যাদার ঝান্ডা উড়ছে।] কাব্যানুবাদ
কী মোদের সাধ্য আবার, তোমারই মর্যাদা মাপার,
ওগো বাদশাহ্ আরশে উড়ে পতাকা তোমার।
অন্যত্রে তিনি বলেন,
جس کو شایاں ہے عرشِ خدا پر جلوس
ہے وہ سلطانِ والا ہمَارا نبی
উচ্চারণ
জিসকো শায়াঁ হে আরশে খোদা পর জুলূস,
হ্যায় উঅহ সুলতানে ওয়ালা হামারা নবী।
[যিনি এমন সুউচ্চ মর্যাদায় সমাসীন যে, তাঁর পদধুলিতে আল্লাহর আরশ সম্মানিত ও সৌভাগ্যম-িত হয়েছে। নবী-রাসূলগণের সেই সম্রাট তো আমাদের প্রিয়নবী )] কাব্যানুবাদ
প্রভু’র আরশের আসরে কাঙ্খিত যেজন,
আমাদের নবী, এমনি এক মহান রাজন।
আসমান-যমীন, আরশ-কুরসী, লওহ-কলম ও জান্নাতেও অবিরাম চলছে প্রিয়নবীর প্রশংসাস্তুতি। এ জগৎ সংসার, তামাম সৃষ্টিকুলের ব্যাপক ধুম-ধামে মহান স্রষ্টা তাঁর হাবীবের জয়গান না‘তে রাসূলের কোলাহল জুড়ে দিয়েছেন প্রকৃতির সর্বত্র। আ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রহ.)’র নিম্ন পঙক্তিতে এটাই খুঁজে পাওয়া যায়,
عرش پہ تازہ چھیڑ چھاڑ فرش پہ طرفہ دُھوم دَھام
کان جِدھر لگائیے تیری ہی داستان ہے
উচ্চারণ
আরশ পেহ্ তাযা ছিড় ছাড়, ফরশ পেহ্ তুরফা ধুম ধাম,
কান জিধার লাগাইয়ে তেরী হী দাসতান হ্যায়।
[আরশে নবরতেœর আবির্ভাবের কোলাহল, ভূলোকেও যাঁকজমকপূর্ণ মহা আয়োজন। যে দিকেই কান লাগাই না কেন, সর্বত্রই আপনার জয়গান,আপনার শান-মানের চর্চাই শুনি] কাব্যানুবাদ
আরশে নতুন কী সে গুঞ্জন, এ ভূলোকেও কী আয়োজন,
নবী তোমার চর্চাই শুনি, যে দিকে দেই মনের কান।
এভাবেই এই মহান নূরাণী সত্ত্বার চর্চা অনাদিকাল পর্যন্ত রয়েই যাবে। আ‘লা হযরত নিম্নোক্ত পঙক্তিতে সেটাই উপস্থাপন করেন,
رہے گا یوں ہی اُن کا چرچَا رہے گا
پڑے خاک ہو جائیں جل جانے والے
উচ্চারণ
রহেগা ইউঁ হী উন কা চর্চা রহেগা,
পড়ে খাক হো জায়েঁ জ্বল জানে ওয়ালে।
[রাসূলে পাক -এর চর্চা ও অনুশীলন অনাদিকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। আর তাঁর প্রতি বিদ্ধেষপোষণকারীরা হিংসায় জ্বলে পুড়ে মাটি হয়ে যাবে।] কাব্যানুবাদ
রয়ে যাবে তোমার, চর্চা এরূপ আর,
যে হিংসায় জ্বলে যায়, পুড়ে হোক সে অঙ্গার।
এভাবে প্রিয়নবীর চর্চা ও শান-মানের আলোকবর্তিকা দ্যুতি ছড়াতে থাকবে সর্বদা; অস্তমিত হবে না কাস্মিনকালেও, বরং হিংসুক ও দুশমনরাই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এ প্রসঙ্গে আ‘লা হযরত বলেন,
مٹ گئے، مٹتے ہیں، مٹ جائیں گے اعداء تیرے
نہ مٹا ہے نہ مٹے گا کبھی چرچا تیرا ﷺ
উচ্চারণ
মিট্ গেয়ে মিটতে হ্যায়, মিট্ জায়েঙ্গে আ’দা তে-রা,
নাহ্ মিটা হ্যায়, নাহ্ মিটে গা, কভী চর্চা তে-রা।
[ইয়া রাসূলাল্লাহ (দুরুদ) আপনার দুশমনরা সমূলে ধুলিস্যাৎ হয়েছে, হচ্ছে এবং হতে থাকবে। আপনার (অতুলনীয়) শান-মানের চর্চা কেউ নিস্তব্ধ করতে পারেনি এবং অনাদিকাল পর্যন্ত কেউ পারবেও না]

কাব্যানুবাদ
মুছে গেছে, মুছে যায়, মুছে যাবে শত্রু আপনার;
না মুছে গেছে, না মুছে যাবে কভু চর্চা আপনার।
দুশমনরা জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হোক তাতে কি, নবীপ্রেমিক আশেকের যবানে প্রিয়নবীর প্রশংসাস্তুতি আমরণ থাকবেই। আ‘লা হযরত বিরচিত না‘তিয়া কালামে তাঁর এ দাবী যথার্থ,
خاک ہو جائیں عدو جل کر مگر ہم تو رضاؔ
دَم میں جب تک دَم ہے ذِکر اُن کا سُناتے جائیں گے
উচ্চারণ
খাক হো জায়ে আদুভ জল কর মগর হাম তো রেযা,
দম মে জব তক দম হ্যায় যিকর উনকা সুনাতে জায়েঙ্গে।
[দুশমনরা চাহে তো জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে মাটির সাথে মিশে যাক, হে আহমদ রেযা! তোমার যবানে যতক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাস জারি থাকবে, এক কথায় আমরণ তুমি পেয়ারা নবীর শান ও মানের বর্ণনা করতেই থাকবে।] কাব্যানুবাদ
জ্বলে দুশমন হোক না অঙ্গার ; কিন্তু এ প্রতিজ্ঞা রেযা’র
রয় যতক্ষণ এ বুকে দম, থাকবে মুখে তব না‘ত ও যিক্র।
এভাবে তাঁর বিপুল কাব্যামালার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মিলাদুন্নবীর আলোচনা, যা একজন আশেকে রাসূল ঈমানদারের হৃদয়কে ইশকে রাসূলের আলোয় উদ্ভাসিত করে। আ‘লা হযরত রচিত এ শে’রগুলো আমাদের মিলাদ-মাহফিলগুলোকে আজো অনেক বেশী হৃদয়গ্রাহী ও প্রণবন্ত করে তোলে।
কাব্যানুবাদ সহায়িকা
১. কালামে রেযা, কৃত: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আনিসুজ্জমান, প্রকাশনায়: আ‘লা হযরত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
২. রেযার বচনে নবীর চরণে নিবেদিত পংক্তিমালা, কৃত : শাহ্জাহান মোহাম্মদ ইসমাঈল, প্রকাশনায়: আস-সিরাজ ফাউন্ডেশন,বাংলাদেশ।
৩. কসীদা-এ দরূদ ও সালাম,শানে মুস্তাফা ও না‘ত যুগে যুগে, সংকলক: মাওলানা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন ও আব্দুল মুস্তাফা মুহাম্মদ নাজির আহমদ চৌধুরী, সালামে রেযার কাব্যানুবাদ: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আনিসুজ্জমান, প্রকাশনায়: গাউসূল আ‘যম ও আ‘লা হযরত রিচার্স একাডেমী, ঢাকা।
৪. তরুণ কবি মুহাম্মদ রাশেদ (খন্ডিত বিভিন্ন ছত্রের কাব্যানুবাদক)।
[নোট: বিশিষ্ট আ‘লা হযরত গবেষক, ভারতের ঝাড়খ- প্রদেশের জামশেদপুর ইসলামনগরস্থ মসজিদে হাজেরাহ্ রেজভীয়্যাহ’র সম্মানিত খতিব মাওলানা হাফেজ হাশেম কাদেরী ছিদ্দিকী মিসবাহী লিখিত ‘আ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রহ.) কী শায়েরী মে মিলাদে মোস্তফা’ উর্দু প্রবন্ধের নির্বাচিত অংশ অবলম্বনে অনূদিত ও ঈষৎ সংযোজিত।] লেখক:

টিকা; 
 . আল কুরআন: সূরা তাওবা- ৯, আয়াত নং: ১২৮। 
 . তাফসীরে নুরুল ইরফান, পৃষ্ঠা- ৩২৯; তাফসীরে যিয়াউল কুরআন, খ-- ২, পৃষ্ঠা- ২৬৯। 
 . হাদায়েকে বখশিশ কৃত ইমাম আহমদ রেযা (রহ.), পৃষ্ঠা- ১১৭, খ-Ñ ১, 
   প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . আল কুরআন: সূরা মায়েদা- ৫, আয়াত নং: ১৫। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০৮, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০৭, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০৪, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . বায়হাকী: দালায়িলুন নবুয়্যত, খ-Ñ ২, পৃ. ৪১; আল-বিদায়া ওয়ান্ নিহায়া, খ-Ñ ২, পৃ. ৩২৬।
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০৮, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০২, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০২, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৪৫, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৭৫, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ২৬, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৮০, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . আল-মওদ্বু-আত-ই কাবীর, কৃত মোল্লা আলী কারী (রহ.), পৃ. ১০১।
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ১২৮, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ১১১, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত।
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ২৩, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৩৭, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত।
 . আল কুরআন: সূরা আলে-ইমরান- ৩, আয়াত নং: ১৬৪। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৩৮, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৮৬, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . আল কুরআন: সূরা আলে ইমরান- ৩, আয়াত: ৮১। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৭৩, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৮৬, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . প্রাগুক্ত, খ-- ২, পৃ. ৩৭। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ২৬, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০৮, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৪৫, খ-- ২, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ১২৫, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৯৯, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ০২, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৮৬, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত।
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ১১১, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ১০০, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত। 
 . হাদায়েকে বখশিশ: পৃষ্ঠা- ৯৯, খ-- ১, প্রকাশনায়: ইমাম আহমদ রেযা একাডেমী, দিল্লী, ভারত।

প্রচার সম্পাদক, আ‘লা হযরত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •