নবী-ই আকরামের উপর দুরূদ শরীফ পাঠের ফযীলত অসাধারণ

0
শানে রিসালত
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান
নবী-ই আকরামের উপর দুরূদ শরীফ পাঠের ফযীলত অসাধারণ
আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে তাঁর নবীর প্রশংসা করা। নবী-ই আকরামের উপর দুরূদ পাঠ করাও নবী-ই আক্রামের শান-মান চর্চার অপর নাম। তাই দুরূদ শরীফ পাঠের ফযীলতও অসীম-অসাধারণ।
প্রথমতঃ ক্বোরআন মজীদে আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ ফরমান-
اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓىٕكَتَهٗ یُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِیِّؕ- یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَیْهِ وَ سَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا(۵۶)
তরজমা: নিশ্চয় আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ দুরুদ প্রেরণ করেন ওই অদৃশ্য বক্তা (নবী)’র প্রতি, হে ঈমানদারগণ তোমরাও তাঁর প্রতি দুরূদ ও খুব সালাম প্রেরণ করো। [সূরা আহযাব: আয়াত-৫৬, কানযুল ঈমান]
এ আয়াত শরীফ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রকাশ পায়ঃ
এক. দুরূদ শরীফ সমস্ত বিধানের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম কাজ। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা কোন বিধানে নিজের ও নিজের ফেরেশতাদের কথা উল্লেখ করেননি- আমিও এ কাজ করছি, তোমরাও করো! একমাত্র দরূদ শরীফ ব্যতীত।
দুই. সমস্ত ফেরেশতা কোন নির্দিষ্টকরণ ছাড়াই, সর্বদা হুযূর-ই আক্রামের উপর দুরূদ শরীফ প্রেরণ করেন।
তিন. হুযূর-ই আক্রামের উপর আল্লাহর রহমতের অবতরণ আমাদের দো‘আ-প্রার্থনার উপর নির্ভরশীল নয়। যখন কিছুই সৃষ্টি হয়নি, তখনও মহান রব হুযুর-ই আক্রামের উপর রহমতের বারিধারা বর্ষণ করতে থাকেন। আমাদের দুরূদ শরীফ পাঠ করা মহান রবের দরবারে আমাদের ভিক্ষা-প্রার্থনার জন্যই। যেমন ফক্বীরগণ দাতার জান-মালের মঙ্গল কামনা করে ভিক্ষা চায়। আমরা হুযূর-ই আক্রামের মঙ্গল প্রার্থনা করে ভিক্ষা চাই।
চার. হুযূর-ই আক্রাম সর্বদা হায়াতুন্নবী; সবার দুরূদ ও সালাম শুনেন, জবাব দেন। কেননা, যে জবাব দিতে পারে না, তাকে সালাম করা নিষেধ; যেমন-নামাযী, ঘুমন্ত ব্যক্তি।
পাঁচ. সমস্ত মুসলমানের সর্বদা সর্বাবস্থায় দরূদ পাঠ করা চাই। কেননা, মহান রব ও ফেরেশতাগণ সর্বদা দুরূদ প্রেরণ করেন।
[তাফসীর-ই নুরুল ইরফান: এ আয়াত শরীফ] দ্বিতীয়তঃ হাদীস শরীফে খোদ্ রসূল-ই আক্রাম এরশাদ ফরমান-
এক. হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওসাল্লাম এরশাদ করেছেন-
مَنْ صَلّٰى عَلَىَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا
অর্থ: যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরূদ শরীফ প্রেরণ করে, আল্লাহ্ তা‘আলা আপন অনুগ্রহ ও বদান্যতায় তার উপর দশটি রহমত প্রেরণ করেন।
দুই. مَا مِنْ عَبْدٍ صَلّٰى عَلَىَّ اِلاَّ خَرَجَتِ الصَّلٰوةُ مِنْ فِيْهِ مُسْرِعَةً فَلاَ يَبْقٰى بَرٌّ وَلاَ بَحْرٌ وَلاَ شَرْقٌ وَلاَ غَرْبٌ اِلاَّ تَمُرُّبِه وَيَّقُوْلُ اَنَا صَلٰوةُ فُلاَنِ بْنِ فُلاَنٍ صَلّٰى عَلى مُحَمَّدٍ نِالْمُخْتَارِ مِنْ خَلْقِ اللهِ فَلاَ يَبْقى شَىْءٌ اِلاَّ صَلّٰى عَلَيْهِ
অর্থ: যে ব্যক্তি আমার উপর দুরূদ শরীফ প্রেরণ করে ওই দুরূদ শরীফ খুব শীঘ্রই তার মুখ থেকে বের হয়ে স্থলভাগ ও জলভাগ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য অতিক্রম করে আর বলে, ‘‘আমি অমুকের পুত্র অমুকের দুরূদ শরীফ। সে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফার উপর প্রেরণ করেছে।’’ সুতরাং একথা শুনতেই সমস্ত মাখলুক্ব তাঁর উপর রহমত বর্ষণের জন্য দো‘আ-প্রার্থনা করতে থাকে।
তিন. হাদীস শরীফে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওসাল্লাম এরশাদ করেছেন-
اِنَّ اَوْلَى النَّاسِ بِىْ اَكْثَرُهُمْ عَلَىَّ صَلٰوةً
অর্থ: নিশ্চয় লোকজনের মধ্যে ওই ব্যক্তি আমার বেশী নিকটে, (নৈকট্য ও শাফা‘আত পাওয়ার বেশী উপযোগী), যে আমার উপর বেশী পরিমাণে দুরূদ শরীফ পাঠ করে।
চার. হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওসাল্লাম এরশাদ করেছেন-
اِنَّ الْجَنَّةَ تَشْتَاقُ اِلٰى خَمْسَةٍ نَفَرٍ : تَالِى الْقُرْاٰنِ وَحَافِظِ اللِّسَانِ وَمُطْعِمِ الْجِيْعَانِ وَمُكْسِىْ الْعُرْيَانِ وَمَنْ صَلّٰى عَلٰى حَبِيْبِ الرَّحْمَانِ
অর্থ: নিশ্চয় জান্নাত পাঁচ ব্যক্তির প্রতি উৎসুক: ক্বোরআন শরীফ তেলাওয়াতকারী, নিজের রসনাকে বাজে কথা থেকে রক্ষাকারী, ক্ষুধার্তকে আহারদাতা, উলঙ্গকে পোশাকদাতা এবং আল্লাহর মাহবুবের উপর দুরূদ শরীফ পাঠক।
পাঁচ. হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওসাল্লাম এরশাদ করেন-
مَنْ صَلّى عَلَىَّ عَشْرًا فِىْ اَوَّلِ النَّهَارِ وَعَشْرًا فِىْ اخِرِ النَّهَارِ نَالَتُهُ شَفَاعَتِىْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অর্থ: যে ব্যক্তি আমার উপর সকালে দশবার দরূদ শরীফ পাঠ করে এবং বিকালে দশবার দরূদ শরীফ পাঠ করে ক্বিয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ পাবে। (সুতরাং যারা সকালে ও বিকালে ১০০ বার দরুদ শরীফ পাঠ করে তারা কত ভাগ্যবান। যেমন হযরত সিরিকোটি আলায়হির রাহমাহ্র ত্বরীক্বতের নিষ্ঠাবান মুরীদগণ)
ছয়. ইমাম আহমদ রহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি থেকে বর্ণিত, হযরত উবাই ইবনে কা’ব বলেছেন, আমি রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওসাল্লাম-এর পবিত্র দরবারে আরয করলাম, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আপনার উপর বেশী পরিমাণে দুরূদ শরীফ পাঠ করি। এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, আমি আমার দো‘আ-দুরূদ পড়ার জন্য নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে কি পরিমাণ সময় দুরূদ শরীফের জন্য নির্দিষ্ট করবো?’’ হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ করলেন, ‘‘যে পরিমাণ চাও করে নাও! যদি বেশী পরিমাণ নির্দ্ধারণ করো তবে তা তোমার জন্য উত্তম হবে।’’ আমি আরয করলাম, ‘‘অর্দ্ধেক সময় নির্দ্ধারণ করছি!’’ হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ ফরমালেন, ‘‘যে পরিমাণ চাও নির্দ্ধারণ করো, তবে তা থেকে বেশী করলে তোমার জন্য উত্তম হবে।’’ অতঃপর আমি আরয করলাম, ‘‘দুই তৃতীয়াংশ সময় নির্দ্ধারণ করলাম।’’ হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ ফরমালেন, যে পরিমাণ চাও নির্দ্ধারণ করো! তবে এর চেয়েও বেশী সময় নির্দ্ধারণ করলে তোমার জন্য উত্তম হবে।’’ অতঃপর আমি আরয করলাম-جَعَلْتُ لَكَ اَوْقَاتِىْ كُلَّهَا
অর্থ: আমি আমার পুর্ণ সময়টুকু আপনার উপর দুরূদ শরীফ পড়ার জন্য নির্দ্ধারণ করলাম।’’
এর পর হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ ফরমালেন- اِذًا يَكْفِىْ هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ
অর্থ: এখন তোমায় সমস্ত দ্বীনী ও দুনিয়াবী গুরুত্বপূর্ণ কাজ পূর্ণ হবে এবং তোমার সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা হয়ে যাবে।
‘মিশকাত শরীফ: বাবুস্ সালাতি ‘আলান্ নবীয়্যি আলায়হিস্ সালাম’-এ হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, ‘‘তোমাদের দো‘আগুলো আসমানগুলো ও যমীনের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা দুরূদ শরীফ পড়বে না। আর এমন হওয়া উচিৎ যে, আমাদের দো‘আগুলো থাকবে মধ্যখানে আর আশেপাশে থাকবে দুরূদ শরীফ। কেননা কবূল তো হয় দুরূদ শরীফ। আল্লাহর রহমতের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, দুরূদ শরীফ কবূল করে নেবে এবং মধ্যভাগের দো‘আগুলো প্রত্যাখ্যান করবে। দুরূদ শরীফের মাধ্যমে দো‘আগুলোও ক্ববূল হয়ে যাবে।
মিশকাত শরীফের এ-ই অধ্যায়ে এও রয়েছে যে, আল্লাহর ফেরেশতাগণ ঘুরে বেড়ান আর দুরূদ শরীফ পাঠকদেরকে তালাশ করেন। যখন কেউ দুরূদ শরীফ পাঠ করে, তখন তার দুরূদ শরীফ আমার দরবারে পেশ করা হয়।
মসনভী শরীফে আছে- একবার নবী-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মধু-মাছিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি মধু কিভাবে তৈরী করো? সেটা আরয করলো, ‘‘ইয়া হাবীবাল্লাহ্! আমরা বাগানে গিয়ে সব ধরনের ফুলের রস চুষে নিই। তারপর ওই রস আমাদের মুখে নিয়ে আমাদের মৌচাকে এসে যাই। আর সেখানে বমি করে দিই। সেটাই মধু।’’ হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ করলেন, ‘‘ফুলগুলোর রসতো তিক্ত হয়; কিন্তু মধু হয় মিষ্ট। বলতো মধুর মধ্যে এ মিষ্টতা কোত্থেকে আসে?’’ মধুমাছি জবাবে যা আরয করেছে তা মাওলানা রূম আলায়হির রাহমাহ্ কাব্যে এভাবে ব্যক্ত করেছেন-
‏گفت چوں خوانيم براحمد درود
مے شود شيرين وتلخى راربود
মৌমাছি বললো, ‘‘যখন আমরা হযরত আহমদ মুজতাবা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করি, তখন ওই রস থেকে তিক্ততা দূরীভূত হয়ে যায় এবং তদস্থলে মিষ্টতা এসে যায়। অর্থাৎ আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, যেন আমরা বাগান থেকে আমাদের মৌচাক পর্যন্ত আপনার উপর দুরূদ শরীফ পড়তে পড়তে আসি। মধুর মধ্যে এ স্বাদ ও মিষ্টতা দুরূদ শরীফের বরকতেই আসে।
কিতাব ও সুন্নাহর দলীলাদি পেশ করার পর ফিক্বহের আলোকে দরূদ শরীফের বিধান উল্লেখ করার প্রয়াস পাচ্ছিঃ
দুরূদ শরীফ পাঠ করা ফরয, ওয়াজিবও, সুন্নাতও, মুস্তাহাবও, মাকরূহও, হারামও। এর তাফসীল বা বিস্তারিত বিবরণ এ যে, ‘দুররে মুখতার: প্রথম খন্ড: কিতাবুস্ সালাত’-এ আছে- গোটা জীবনে একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ফরয। আর যেই মজলিসে বসবে আর হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নাম শরীফ সেখানে বারবার আসে, তখন ‘দুররে মুখতার’ প্রণেতার মতে, তুমি যখনই পবিত্র নামটি শুনবে তখন দুরূদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব। আর (বারবার নাম মুবারক নেওয়া হলে) প্রত্যেকবার পড়া মুস্তাহাব।
কতিপয় স্থানে দুরূদ শরীফ পাঠ করা মুস্তাহাব। ওইগুলো ফতাওয়া-ই শামীতে আল্লামা শামী বর্ণনা করেছেন। ওইগুলো হচ্ছে জুমু‘আহর রাতে, জুমু‘আর দিনে, শনি, রবি ও সোমবারে, প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায়, মসজিদে আসা ও যাওয়ার সময়, হুযূর-ই আক্রামের রওযা শরীফের যিয়ারত করার সময়, সাফা ও মারওয়ার নিকটে, জুমু‘আহর খোৎবায়, কিন্তু খোৎবার শ্রোতাগণ দুরূদ শরীফ মনে মনে পড়বেন, আযানের পূর্বে ও পরে, প্রত্যেক দো‘আর শুরুতে ও শেষভাগে, ওযূ করার সময়, যখন কানে অদৃশ্য আওয়াজ আসতে থাকে, যখন কেউ কোন জিনিষের কথা ভুলে যায়, ওয়ায করার সময়; সবক পড়া ও পড়ানোর সময়; ফাতওয়া লেখার সময়, বিবাহ্ পড়ানোর সময় এবং কোন সমস্যা এসে গেলে ওই সময় ইত্যাদি।
সাত জায়গায় দুরূদ শরীফ পড়া মাকরূহ
১. স্ত্রী সঙ্গমের সময়, ২. প্র¯্রাব ও পায়খানা থেকে ফেরার সময়, ৩. ব্যবসার পণ্য-সামগ্রীকে প্রসিদ্ধ করার জন্য, ৪. পা ফসকে যাওয়ার সময়, ৫. আশ্চর্যবোধের সময়, ৬. পশু যবেহ করার সময় এবং ৭. হাঁচি আসার সময়।
তিনটি স্থানে দুরূদ শরীফ পড়া হারাম বা নিষিদ্ধ
১. যখন ব্যবসায়ী নিজের কোন পণ্যদ্রব্য ক্রেতাকে দেখাবে এবং সেটার উৎকৃষ্টতা বর্ণনা করার জন্য দুরূদ শরীফ পড়া। ২. যখন কোন মজলিসে কোন বড়লোক আসে, তখন তার আগমনের সংবাদ দেওয়ার জন্য দুরূদ পড়া, (শামী) এবং ৩. অনুরূপ, ফরয নামাযের ‘আত্তাহিয়্যাত’-এ যখন হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নাম আসবে; তখন দুরূদ শরীফ পড়া যাবে না।
উল্লেখ্য যে, ক্বোরআন-ই করীম তিলাওয়াত করার সময় হুযূর আলায়হিস্ সালাম-এর নাম আসলে, তখন দুরূদ শরীফ না পড়া উত্তম, যাতে ক্বোরআন পাঠের ধারাবাহিকতা ভঙ্গ না হয়। (শামী)
নামাযের শেষ বৈঠকে ‘আত্তাহিয়্যাত’-এর পর দুরূদ শরীফ পড়া সুন্নাত!
আরো উল্লেখ্য যে, ‘মিশকাত শরীফ: বাবুস্ সালাতি ‘আলান নবিয়্যি’-এর মধ্যে হযরত আবূ হুমায়দ সা‘ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা হুযূর আলায়হিস্ সালামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমরা আপনার উপর কীভাবে দুরূদ শরীফ পড়বো? তখন তিনি ওই দুরূদ শরীফের কথা বলেছেন, যা নামাযে ‘আত্তাহিয়্যাত’-এর পর পড়া হয়, অর্থাৎ দুরূদ-ই ইব্রাহীমী।
এ হাদীস শরীফের ভিত্তিতে যারা ‘দুরূদ-ই ইব্রাহীমী ব্যতীত অন্য কোন দরূদ শরীফ পড়া নিষিদ্ধ বলে, তারা জঘন্য ভুল করে। কারণ, ইমাম বোখারীসহ সমস্ত মুহাদ্দিস যখনই হুযূর-ই আক্রামের নাম মুবারক নিয়েছেন, তখন ‘সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’ বললেছেন ও লিখেছেন। দালাইলুল খায়রাত শরীফে অনেক দুরূদ শরীফ লিখা হয়েছে, ‘রূহুল বয়ান’ প্রণেতা মহোদয় এ দুরূদ শরীফের বহু ফযীলত ও উপকারিতা বর্ণনা করেছেন-
اَلصَّلواةُ وَالسَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ
اَلصَّلوةُ وَالسَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا حَبِيْبَ اللهِ
اَلصَّلوةُ وَالسَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا خَلِيْلَ اللهِ
এটা খুব দীর্ঘ দরূদ শরীফ। হযরত আবদুর রহমান চৌহরভী আলায়হির রাহমাহ্ ত্রিশ পারা সম্বলিত বিরাটাকার দুরূদ শরীফ গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইত্যাদি।
যুক্তির নিরীখেও দুরূদ শরীফ পাঠ করা অতি জরুরী কাজ। এর দু’টি কারণঃ
এক. যদি কেউ কারো উপর ইহসান করে, কারো উপকার করে, তবে উচিৎ হচ্ছে ইহসানকারীর ইহসানের বদলা দেওয়া। বদলা নিতে না পারলে কমপক্ষে তার জন্য দো‘আ করা চাই। যদি কারো ঘরে কেউ দাওয়াত খায়, তবে ঘরের মালিক ও সদস্যদের জন্য দো‘আ-ই খায়র করা উচিৎ।
উম্মতের উপর রসূল-ই আক্রামের ইহসানের সীমা নেই। আমরা তাঁর উপকারাদির বদলা দেওয়ার ক্ষমতা রাখিনা। তবে আমরা কমপক্ষে তাঁর উপর দুরূদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে সালাত ও সালাম (রহমত ও শান্তি) বর্ষণের দো‘আ-প্রার্থনা করতে পারি; যেমনিভাবে দরিদ্ররা দাতাদের জন্য দো‘আ করে থাকে।
দুই. দো‘আ করলে দুনিয়া মিলে, কিন্তু দুরূদ শরীফ পাঠ করলে দুনিয়া-¯্রষ্টার সবচেয়ে প্রিয়জন হুযূর-ই আক্রামকে পাওয়া যায়। তিনি মিললে কিছুর কমতি কিসের? দুরূদ শরীফ দো‘আ ও ইবাদতগুলোর রেজিষ্ট্রিই। যেভাবে বীমার লেবেল লেগে গেলে মাল-সামগ্রী হারিয়ে যায়না, কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছে যায়, তেমনি দুরূদ শরীফের বরকতে নেকীগুলো কবূল হয়। এ কারণে প্রত্যেক দো‘আয় দুরূদ শরীফ পাঠ করা হয়। কবি বলেন-
ميں مجرم هوں آقا مجھے ساتھ لے لو
كه رستے ميں هيں جابجا تاسنے والے
অর্থাৎ ওহে আমার মুনিব! আমাকে আপনার সাথে নিয়ে নিন! কারণ, আমি অপরাধী। আর রাস্তার মধ্যে প্রতিটি চেক পোষ্টে থানাদার (পুলিশ) অপরাধী ধরার জন্য বসে আছে।
সুতরাং আসুন, আমরা বেশী পরিমাণে আমাদের আক্বা ও মাওলার উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করি।

লেখক: মহাপরিচালক – আনজুমান রিসার্চ সেন্টার, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •