জুমার খোতবার সময় নামায পড়া যাবে কিনা?

0

কাজী মোহাম্মদ সাজেদুল হক-উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।
প্রশ্ন: নামাযের মাকরূহ ও নিষিদ্ধ সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তাহিয়্যাতুল ওযু ও দুখুলুল মসজিদ নামাজ পড়া যাবে কিনা? মসজিদে ঢুকে খতিবকে দ্বিতীয় খুতবা (নামাযের আগের খুতবা) দিতে দেখলে তখন কি দুখুল মসজিদের নামায পড়া যাবে কি? জানালে ধন্য হব।
 উত্তর: এখানে ২টি বিষয় লক্ষণীয় প্রথমতঃ তিনটি সময়ে, ১. সূর্যোদয়ের সময়, ২. সূর্য মধ্যাকাশে স্থির হবার সময় থেকে পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া পর্যন্ত এবং ৩. সূর্যাস্তের সময়’ নামায আদায় করা নিষিদ্ধ ও হারাম। এ সময়ে ফরজ বা ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল নামায আদায় করা শুদ্ধ নয়। এমনকি নফল নামায পড়াও মাকরূহে তাহরীমী। যেমন-‘নুরুল ঈযাহ্’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-
الاوقات الثلاثة يكره فيها النافلة كراهة تحريم ولو كان لها سبب كلمنذور وركعتى الطواف [كتاب الصلواة
অর্থাৎ (উপরিউক্ত) তিনটি সময়ে নফল নামায পড়াও মাকরূহে তাহরীমী। যদি সেই নফল নামাযের বিশেষ কোন কারণ থাকে তবুও। যেমন-মান্নতকৃত নামায অথবা তাওয়াফের দু’ রাক‘আত নামায।[কিতাবুস্ সালাত, নামাযের মাকরূহ ওয়াক্ত অনুচ্ছেদ]
দ্বিতীয়তঃ জুমার খুতবাকালীন সময়ে জুমার দিন ১ম ও ২য় খুৎবা চলাকালীন কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে, কোন নামাযের নিয়ত করবে না। কারণ খুতবা শোনা ওয়াজিব এবং তা এমনভাবে শ্রবণ করবে মুসল্লির মনোযোগ পরিপূর্ণভাবে খুতবার দিকে থাকে। তাই জুমার খুতবা চলাকালীন কাবলাল জুমা, দুখুলুল মসজিদ, তাহিয়্যাতুল মসজিদ ও কোন নফল নামায পড়া যাবে না। তবে খুতবা শুরু হওয়ার কারণে কাবলাল জুমা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা যা আদায় করা হয় নাই তা জুমুআর নামাযের পর সুন্নাতের নিয়তে পড়লে আদায় হয়ে যাবে কাযা নয়।
খুতবাকালীন নামায আদায় করা প্রসঙ্গে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে-
قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قام الامام للخطبة يوم الجمعة فلا صلاة ولاكلام ـ الحديثـ
অর্থাৎ জুমুআর দিন ইমাম/খতীব সাহেব যখন খুতবা প্রদানের জন্য দাড়িয়ে যাবে তখন কোন নামায পড়বে না এবং কথাবার্তাও বলবে না। এ ছাড়া ফিকহের কিতাব নুুরুল ঈযাহতে উল্লেখ রয়েছে- واذا خرج الامام فلا صلوة ولا كلام ولا يرد سلامًا অর্থাৎ যখন ইমাম (খুতবা প্রদানের জন্য) বের হয় তখন কোন নামায পড়া, কথাবার্তা বলা এবং সালামের জবাব দেয়া জায়েয নেই। [জুমুআর অধ্যায়]
উল্লেখ্য যে, যদি সে দিনের ফজরের নামায অথবা পাঁচওয়াক্ত ফরয নামায কাযা হয়ে যায় আর মুসল্লি জুমার খুতবার সময় মসজিদে প্রবেশ করল, তখন মসজিদের বারিন্দায় অথবা ২য়/৩য় তলায় অথবা যে কোন এক কোণায় ফজরের ফরয নামায অথবা পাঁচওয়াক্ত ফরয নামায কাযা হলে তা খুতবা চলাকালীন সময়ে সংক্ষিপ্ত সূরা বা কিরাত দ্বারা প্রথমে কাযা আদায় করবে অতঃপর খুতবা শ্রবণ করবে। কারণ সাহেবে তারতিবের উপর ওয়াক্তিয়া নামাযের পূর্বে কাযা নামায পড়তে হবে নতুবা ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করা শুদ্ধ হবে না। আর যদি ফজরের নামাযসহ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের বেশী কাযা হয়ে যায় তখন জুমার খুতবা চলাকালীন মসজিদে প্রবেশ করলে কাযাকৃত নামায পড়বে না। খোতবা শ্রবণ করবে। পাঁচ ওয়াক্তের বেশী কাযা নামায জুমার নামাযের পর পড়বে বা অন্য সময়ে পড়বে।
[দুররে মুখতার, বাহরুর রায়েক, হুলিয়া, ফতহুল ক্বাদীর, রদ্দুল মুহতার, নুরুল ঈযাহ ও ফাত্ওয়া-এ রযভীয়্যাহ্, ৩য় খন্ড, ৬১৯, ৬১, ৯৫ পৃষ্ঠা, এবং আমার রচিত যুগজিজ্ঞেসা ইত্যাদি]
শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •