ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

0

ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْاِيْمَانُ بِضْعٌ وَّسَبْعُوْنَ شَعْبَةً فَاَفْضَلُهَا قَوْلُ لَااِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَدْنَاهَا اِمَاطَةُ الْاَذًى عَنِ الطَّرِيْقِ وَالحَيَاءُ شُعْبَةُ مِّنَ الْاِيْمَانِ – (رواه البخارى ومسلم)
وَعَنْ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتْ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ شَهِدَ اَنْ لَااِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ النَّار- (رواه مسلم)
অনুবাদ: হযরত আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ঈমানের সত্তরটির অধিক শাখা প্রশাখা রয়েছে, তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম শাখা হচ্ছে ‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’’ আর সর্বনি¤œ শাখা হচ্ছে রাস্তার মধ্য থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দেয়া এবং লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ: ১ম খন্ড] হযরত ওবাদাহ্ ইবনে সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি এমর্মে স্বাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ তা‘আলা তার উপর দোযখ হারাম করে দেবেন। [মুসলিম শরীফ: ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২২৯]

প্রাসঙ্গিক আলোচনা
বর্ণিত হাদীসদ্বয়ে ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলোকপাত হয়েছে। হাদীস সংক্ষিপ্ত কিন্তু ভাবধারা সুগভীর ও ব্যাপক তাৎপর্যমন্ডিত। আমরা জানি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের প্রধান হচ্ছে ঈমান। একজন মানুষের ইহকাল-পরকালের সকল কল্যাণ ঈমানের উপর নির্ভরশীল। মু‘মিনের জন্য ঈমান অমূল্য সম্পদ। ইসলামে পঞ্চ বুনিয়াদের মধ্যে ঈমানের গুরুত্ব সর্বাধিক। ঈমান ছাড়া অন্যান্য আমল মূল্যহীন অর্থহীন ও গুরুত্বহীন, অপরদিকে আমলবিহীন ঈমান অপূর্ণাঙ্গ।

ঈমানের সংজ্ঞা
ঈমান শব্দটি আরবি, এটি মাসদার তথা ক্রিয়ামূল এর আভিধানিক অর্থ বিশ্বাস করা, আনুগত্য করা, বশ্যতা স্বীকার করা, নির্ভর করা, অবনত হওয়া তথা প্রশান্তি।
শরীয়তের দৃষ্টিতে জমহুর আলেমদের মতে-
اَلْاِيْمَانُ هُوَ التَّصْدِيْقُ بِمَا جَاء بِهِ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِ اللهِ تَعَالى وَالْاِقْرَارُ بِهِ-
অর্থাৎ- মহানবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামার পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে, সেসব বিষয়ের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা ও মৌখিক স্বীকৃতিকে ঈমান বলা হয়।
ঈমানের তিনটি মাধ্যম
মহান আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনয়নের তিনটি মাধ্যম রয়েছে-
১. الاقرار باللسان -মৌখিক স্বীকারোক্তি।
২. التصديق بالجنان -অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস।
৩.العمل بالاركان -ইসলামের বিধান কাজে বাস্তবায়ন করা।
ঈমান ও ইসলামের সম্পর্ক
ঈমান অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা। ইসলাম অর্থ বিনয়াবনত হওয়া, আত্মসমর্পণ করা ইত্যাদি। অন্তরের বিশ্বাসকে ঈমান, প্রকাশ্যে আমল করার নাম ইসলাম। একটি অপরটির পরিপূরক।
অন্তরের গোপন বিশ্বাসের নাম ঈমান। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাহ্যিক আনুগত্য হলো ইসলাম। [আল ঈমান: কৃত ড. মুহাম্মদ নাঈম ইয়ামীন।] ঈমান ও ইসলাম প্রসঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অভিমত হচ্ছে-
هُمَا كالظّهر مَعَ الْبَطْنِ لَا يُنفصِلُ اَحَدَهُمَا عَنِ الاخِر-
ঈমান ও ইসলাম এ দুটি পেটের সাথে পিটের সম্পর্কের ন্যায়। তার একটি অপরটি থেকে পৃথক হতে পারে না।
প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি’র মতে ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার সম্পর্ক দেহ ও আত্মার সম্পর্ক।
মৌলিক বিষয়ে ঈমান আনা ফরজ
মহাগ্রন্থ আল ক্বোরআন ইসলামী জীবন বিধানের প্রধান উৎস। যেসব বিষয়ে ঈমান আনা একজন বান্দার উপর ফরজ বা অপরিহার্য করা হয়েছে তা পবিত্র ক্বোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সুস্পষ্টরূপে উপস্থাপিত হয়েছে।
১. আল্লাহর প্রতি ঈমান, ২. ফিরিস্তাদের প্রতি ঈমান, ৩. নবী-রাসূল আলায়হিমুস্ সালাম’র প্রতি ঈমান, ৪. আসমানী কিতাব সমূহের প্রতি ঈমান, ৫. তাকদীরের প্রতি ঈমান, ৬. আখিরাত তথা পরকাল কিয়ামতের প্রতি ঈমান, ৭. পূনরুত্থান দিবসের প্রতি ঈমান।[ফাতহুলবারী: ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৬-৯৭]
কলেমার মাধ্যমে ঈমানের ঘোষণা
একজন বান্দা আল্লাহর তাওহীদ ও নবীজির রিসালতের প্রতি পূর্ণ ঈমান স্থাপন করত: বলবে- “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রিয় রসূল। কলেমার প্রথম অংশ তাওহীদ ও রিসালতের ঘোষণার মাধ্যমে ঈমানের পূর্ণতা। হাদীসে রসূলে এরশাদ হয়েছে-
وَاَخَرَجَ ابنُ عَدِىْ وَاِبْنُ عَساكِرِ عَنْ اَنَسٍ رَضِىَ الله عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا عُرِجً بِىْ رَايْتُ عَلَى سَاقِ الْعَرْشِ مَكْتُوْبًا لَااِلَهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْلُ اللهِ-
হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘‘যখন আমি মিরাজে গমন করলাম, আরশে লিপিবদ্ধ দেখতে পেলাম লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ্’’।
[ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আদ্দূররুল মানসুর: খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২১৯, খতিবে বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ: ১২/পৃষ্ঠা ৫০৩] আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম বলেন-
وَاَجْمَعَ الْمَسْلِمُوْنَ عَلَى اَنَّ الْكَافِرَ اِذَا قَالَ لَااِلَهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْلُ اللهِ دَخَلَ فِى الْاِسْلَامِ-
ইসলামী মনিষীগণ এ বিষয়ে একমত যে, কোন কাফির যখন ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্’’ বলবে সে ইসলামে প্রবেশ করল। [তাফসীরে কাইয়ুম: ১/পৃষ্ঠা ১৭৯] উপরে বর্ণিত হযরত আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাকীমূল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, মানুষের যাতায়াত ও চলার পথ থেকে পাথর, ইট, কঙ্কর, কাঁটা ইত্যাদি বস্তু যা দ্বারা মানুষ হোচট খায় কষ্ট পায় তা সরিয়ে ফেলা সওয়াবের কাজ। লজ্জা দ্বারা ঈমানী লজ্জা বুঝানো হয়েছে, যা যাবতীয় গুনাহ্ থেকে বিরত রাখে।
বান্দা মাখলূককে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূল ও ফিরিস্তাদেরকে লজ্জা করবে। যেমনি প্রকাশ্যে কোন গুনাহ্ করবে না তেমনিভাবে গোপনেও কোন গুনাহ্ করবে না, কারণ আল্লাহ্ রাসূল ও ফিরিস্তাগণ তা দেখতে পাচ্ছেন। [মিরাতুল মানাযীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ: ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-২৫]
কলেমার দাবী পূরণ করতে হবে
হযরত ওবাদাহ্ ইবনে সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আল্লা আনহু’র বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাকীমুল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, মু‘মিনের জন্য শুধু কলেমা পাঠই যথেষ্ট আমলের প্রয়োজন নেই একথা বলা যাবে না। বরং হাদীসের ব্যাখ্যা হচ্ছে কলেমার দাবী অনুসারে সকল ইসলামী আক্বিদা কবুল করে নেওয়া। এ ছাড়া হাদীসের আরো কয়েকটি ব্যাখ্যা রয়েছে। যথা: ১. যার আক্বিদা বিশুদ্ধ হবে সে দোজখে স্থায়ী হবে না। ২. হাদীসের বর্ণনায় সেই ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে, ঈমান গ্রহণ মাত্রই মৃত্যু বরণ করেছে। ৩. অথবা নবীজির এ হাদীস ওই সময়ের যখন শরীয়তের বিধি-বিধান মোটেই অবতীর্ণ হয়নি। [মিরাতুল মানাযীহ্: ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫২]
রাস্তা থেকে কষ্ট দায়ক বস্তু দূর করা
ইসলামে জনকল্যাণ ও মানব কল্যাণের প্রতিটি বিষয়কে সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যজনের স্বার্থ ও কল্যাণ চিন্তা না করে কেবলমাত্র ব্যক্তি স্বার্থ ও নিজের লাভ-স্বার্থ ইসলামে গর্হিত ও অন্যায় আচরণ হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। নিজের ক্ষতি ও অপরের ক্ষতি সাধন কোনটাই ইসলাম অনুমোদন করে না। নিজের প্রয়োজন মেটাবার ক্ষেত্রে অপরের অধিকার যেন ভুলুন্ঠিত না হয় বা ক্ষুন্ন না হয়, সেটাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অনেক সময় রাস্তায় কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার জন্য বা শোনার জন্য বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ও সময় হয় না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কথা ও কাজ সেরে নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মতবিনিময় কৌশল বিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ খবরা খবর ও কথাবার্তা যদি রাস্তায় সেরে নিতেই হয় সেক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে রাস্তার হক আদায় করার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নিজের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রন করা, সংযত করা, কারো দিকে অন্যায়ভাবে দৃষ্টি দেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নি¤œ বর্ণিত হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-
عَنْ اَبِىْ سَعِيْدِنِ الْخُدْرِىْ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَاِيَّاكُمْ وَالْجُلُوْسَ فِىْ الطُّرْقَاتِ قَالُوْ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَالَنَا منَ مَجْلِسنَا بُدّ نتحدّثُ فِيْهَا قَالَ فاذا اَبَيَتُمْ اِلَّا الْمَجْلِسَ فَاعْطُوْا الطَّرِيْقَ حَقَّهُ قَالُوْا مَا حقّ الطّرِيْق قَالَ غضَّ الْبَصَرِ وَكَفَّ الْاَذى وَرَدُّ السَّلَامِ وَالْاَمْرُ بِالْمعْرُوفِ والنهى عن الْمُنْكَرِ- (رواه ابن حبّان)
অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, সাবধান, তোমরা চলাচলের রাস্তায় বসে থেকো না। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখানে বসে কথাবার্তা বলা ছাড়া যে আমাদের কোন উপায়ই নেই। নবীজি বললেন, যদি বসতেই হয় তবে রাস্তাকে তার হক দিয়ে দিবে। তাঁরা বললেন, রাস্তার হক কি? নবীজি বললেন, রাস্তার হক হলো, দৃষ্টি সংযত করা, কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা। সালামের উত্তর দেয়া, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। [সহীহ ইবন হিব্বান: ২ খন্ড, পৃষ্টা ৩৫৬, হাদীস নং ৫৯৫]

ঈমানের আলামত
আলামত অর্থ চিহ্ন, নিদর্শন, একজন মু‘মিনের পরিচয়ের নিদর্শন ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-
وَرُوِىَ اَنَّهُ خَرَجَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى اَصْحَابِهِ فَقَالَ كَيْفَ اَصْبَحْتُمْ فَقَالُوْا اَصْبَحْنَا مُؤْمِنِيْنَ بِاللهِ فَقَالَ وَمَا عَلَامَةُ اِيْمَانِكُمْ قَالُوْا نَصْبِرُ عَلَى الْبلَاءِ وَنَشْكُرُ عَلَى الرَّخَاءِ وَترضَى بِالقَضَاءِ فَقَالَ اَنْتُمْ مُؤْمِنُوْنَ حَقا وَرَبَّ الكعبة- (المنبهات)
বর্ণিত আছে, একদিন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সম্মুখে বের হয়ে আসেন এবং এরশাদ করেন, আজ তোমরা কোন অবস্থায় সকাল করেছো? তদুত্তরে সাহাবারা বললেন, আল্লাহর উপর ঈমান অবস্থায় আমরা সকাল করেছি। নবীজি এরশাদ করেন, তোমাদের ঈমানের আলামত কী? সাহাবাগণ বললেন, ১. আমরা বিপদে ধৈর্য অবলম্বন করি, ২. সকল অবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, ৩. তাকদীরের উপর আমরা সন্তুষ্ট থাকি। নবীজি এরশাদ করেছেন, পবিত্র কা’বা ঘরের রবের কসম নিঃসন্দেহে তোমরা সত্যিকারের মু‘মিন।
[ইমাম ইবন হাজার আসকালানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি: কৃত- আল মুনাব্বিহাত] আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদেরকে ঈমানের উপর ইস্তিকামাত নসীব করুন- আ-মী-ন।

অধ্যক্ষ-মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী)