নবীপ্রেম খোদাপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত

0

নবীপ্রেম খোদাপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত
عَنْ اَنَسٍ ص قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰہِ ا لَایُؤمِنُ اَحَدُکُمْ حَتّٰی اَکُوْنَ اَحَبَّ اِلَیْہِ مِنْ وَالِدِہٖ وَوَلَدِہٖ وَالنَّاسِ اَجْمَعِیْنَ
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- তোমাদের কেউ ততক্ষণ ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতামাতা, সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য লোকের চেয়ে প্রিয় হব না। [বুখারী ও মুসলিম]
হাদীসের বর্ণনাকারী
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একনিষ্ঠ খাদেম ছিলেন। তাঁর আম্মাজান মাত্র দশ বৎসর বয়সেই তাকে নবীজীর খিদমতে হাযির করে বললেন, এয়া রসূলাল্লাহ্‌! এটা আপনার ছোট খাদেম; তার জন্য একটু দোজ্ঞআর আবেদন করছি। নবী করীম দোজ্ঞআ করলেন, আল্লাহুম্মা বারিক ফী মা-লিহী ওয়া ওয়ালাদিহী ওয়া আত্বিল ওমরাহূ ওয়াগ্‌ফির্‌ যাম্বাহূ। (হে আল্লাহ্‌! তার সম্পদ এবং বংশধরে বরকত দান কর, তার হায়াত বৃদ্ধি কর এবং তার গুনাহ্‌ মাফ করে দাও)।
হাদীসের ব্যাখ্যা
নবীপ্রেমই ঈমানের পূর্বশত। অন্তরে যার নবীর মুহাব্বত নেই, হাজারো দাবি করলে কিংবা রাতদিন আমল করলেও পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া যাবে না। মানুষ সাধারণতঃ তার সন্তান-সন্ততি, মা-বাবাকে এ বিশ্বসংসারে বেশি ভালবাসে। তাদের প্রতি ভালবাসা মুহাব্বত যতই হোক্‌না কেন নবীর মুহাব্বত তার চেয়েও অধিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। দুনিয়ার অন্য কোন বস্তুর মুহাব্বত নবীর মুহাব্বতের চেয়ে কোন অবস্থাতেই অধিক হতে পারবে না। আলোচ্য বিষয়ের সমর্থনে পবিত্র ক্বোরআনেও অনেক আয়াত পরিলক্ষিত হয়। যেমন, এরশাদ হয়েছে-
قُلْ اِنْ کَانَ اَبَآؤکُمْ وَاَبْنَاؤکُمْ وَاِخْوَانُکُمْ وَعَشِیْرَتُکُمْ وَاَمْوَالٌ نِقْتَرفْتُمُوْھَا وَتِجَارَۃٌ تَخْشَوْنَ کَسَادَھَا وَمَسَاکِنُ تَرْضَوْنَھَا اَحَبَّ اِلَیْکُمْ مِنَ اللّٰہِ وَرَسُوْلِہٖ وَجِھَادٍ فِیْ سَبِیْلِہٖ فَتَربَصُوْا حَتّٰی یَأْتِیَ اللّٰہُ بِاَمْرِہٖ وَاللّٰہُ لَایَھْدِی الْقَوْمَ الْفَاسِقِیْنَ
অর্থাৎ, হে প্রিয় নবী! আপনি বলে দিন, ওহে লোকসকল!‌ তোমাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোন, পরিবার-পরিজন তোমাদের অর্জিত সম্পদ তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার লোকসানের আশঙ্কা তোমরা করে থাক, তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান ইত্যাদি যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ্‌ তার রসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে বেশি প্রিয় হয় তাহলে তোমরা অপেক্ষা করো আল্লাহ্‌ তোমাদের কাছে তাঁর নির্দেশে (আযাব) প্রেরণ করবেন। আর আল্লাহ্‌ ফাসিক্বদেরকে হেদায়ত করেন্‌ না।  [সূরা তাওবা, আয়াত ২৪]
উল্লিখিত আয়াতে ঈমানদারদের জন্য তার জাগতিক সকল সম্পদের উপর ভালবাসার পাত্র হিসেবে মানদণ্ড স্বয়ং রব্বুল আলামীন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তাহল আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের প্রতি মুহাব্বত। তবে এ আয়াতে এটা বলা হয়নি যে তোমরা তোমাদের মাতাপিতার মুহাব্বত ছেড়ে দাও। এটাও বলা হয়নি যে, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদির মুহাব্বত পরিত্যাগ কর; বরং এতটুকু ইঙ্গিত রয়েছে তাদের প্রতি তোমাদের মুহাব্বত -ভালবাসা যতই হোক্‌না কেন, নবীর প্রতি মুহাব্বত যেন তার চেয়েও অধিক হয়। আলোচ্য হাদীস শরীফে নবী-ই আকরাম সেদিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যা মূলতঃ পবিত্র কোরআনেরই ভাবার্থ। নবীর মুহাব্বতই মূলতঃ ঈমানের মূল চালিকাশক্তি। আল্লামা ইকবালের ভাষায়-
مغز قران  روح ایمان  جانِ دین
ہست  حبّ  رحمۃ للعالمین     ﷺ
অর্থাৎ কোরআনের মগজ ঈমানের রূহ আর দ্বীনের প্রাণশক্তিই হল রহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুহাব্বত।
হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফে রয়েছে-
اِنَّ رَجُلاً اَتِیَ النَّبِیَّ ﷺ فَقَالَ مَتَی السَّاعَۃُ یَارَسُوْلَ اللّٰہِ قَالَ مَا اَعْدَدْتَ لَھَا قَالَ مَا اَعْدَدْتُ لَھَا مِنْ کَثِیْرٍ صَلٰوۃٍ وَلاَ صَوْمٍ وَلاَصَدَقَۃٍ وَلٰکِنِّیْ اُحِبُّ اللّٰہَ وَرَسُوْلَہٗ قَالَ اَنْتَ مَعَ مَنْ اَحْبَبْتَ
অর্থাৎ জনৈক লোক নবীজীর দরবারে এসে জানতে চাইলেন যে, এয়া রসূলাল্লাহ! ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? নবীজী তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি সেই ক্বিয়ামত দিবসের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? উত্তরে লোকটি বললেন, আমি সেদিনের জন্য বেশি পরিমাণে নামায-রোযা কিংবা অধিক সাদক্বার ব্যবস্থা করতে পারিনি তবে (আমার একটা সম্বল আছে) আমি আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রসূলকে ভালবাসি। অতঃপর নবীজী এরশাদ করলেন, তুমি যাকে ভালবাস ক্বিয়ামত দিবসে তার সাথেই থাকবে।    [বুখারী শরীফ, ৯১১ পৃষ্ঠা]
 নবীর মুহাব্বতে সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ
সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে নবীপ্রেমের যে নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, তা অন্য কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় না। খোলাফায়ে রাশিদীনের ত্যাগ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। হিজরতের রাতে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মুহাব্বত ও ত্যাগের নিদর্শন দেখিয়েছেন তা বিশ্ববাসীকে রীতিমত হতবাক করে দেয়। তাবুকযুদ্ধের প্রাক্কালে নবীর মুহাব্বতে তিনি ঘরের সব সহায় সম্পত্তি নবী-ই পাকের কদমে এনে হাযির করে দিয়েছিলেন; এমনকি চুলোর ছাই পর্যন্ত। নবী-ই পাক জিজ্ঞেস করলেন, আবূ বকর! তুমি সবই তো নিয়ে এলে। পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ? জবাবে তিনি বলেছিলেন, اَبْقَیٰتُ اللّٰہَ وَرَسُوْلَہُ ইয়া রসূলাল্লাহ্‌! আমি আমার পরিবার-পরিজনের জন্য আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রসূলকেই রেখে এসেছি।
এমনি দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জীবনীতে অসংখ্য নবীপ্রেমের নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়। একদা এক মুসলমান ও ইহুদির মধ্যখানে কোন বিষয়ে ঝগড়া হলে তার ফায়সালার জন্য নবীকরীমের দরবারে আসে। আর নবী করীম সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ফায়সালা দিলেন ইহুদির পক্ষে মুসলমানের বিপক্ষে। এতে মুসলমান লোকটি রসূলের ফায়সালায় সন্তুষ্ট হতে পারল না। পরবর্তীতে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর দরবারে গিয়ে দ্বিতীয়বার বিচারপ্রার্থী হল। ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উভয়ের জবানবন্দি শুনার এক পর্যায়ে জানতে পারলেন যে, ইতোপূর্বে নবী করীম তাদের উভয়ের মাঝখানে ফায়সালা করে দিয়েছেন। জানার পর আর কোন কথাবার্তা না শুনে গৃহের অভ্যন্তরে গিয়ে নাঙ্গা তরবারী এনে ওই মুসলমান ব্যক্তিটির গর্দান উড়িয়ে দিয়ে বললেন, যে রসূলের ফায়সালার পর আবার ফয়সালা চায় তার ফয়সালা এটাই (অর্থাৎ কতল)।
তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান ইবনে আফ্‌ফান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তৎকালীন অন্যতম শ্রেষ্ঠধনী ছিলেন। তাঁর সিংহভাগ সম্পত্তিই নবী করীমের খিদমতে, ইসলামের কল্যাণে খরচ করেছিলেন।
চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নবীপ্রেমের নিদর্শন সবার জানা। কোন এক সফর হতে ফেরার সময় বিকাল বেলা নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মাওলা আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কোলে মাথা মুবারক রেখে আরাম করছিলেন। ইত্যবসরে সূর্য ডুবে যাচ্ছিল, অথচ মাওলা আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আসরের নামায পড়েন্‌নি। একবার ভাবলেন রসূলকে ঘুম থেকে উঠাবেন। আবার ভাবলেন, যে নবীর উসিলায় নামায পেয়েছি সে নবীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে নবীকে কষ্ট দিয়ে নামায পড়ব, তা হতে পারে না। এসব ভাবতে ভাবতে সূর্য অস্ত গেল। নামায
পড়তে না পারায় দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে চোখে পানি এল। নিজের অজান্তে নবী করীম চেহারা মুবারকে অশ্রুফোঁটা পড়লে নবী পাক ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেলেন, আলীর চেহারা মলিন। নবীপাক জানতে পারলেন খিদমত করতে গিয়ে আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আসরের নামায ক্বাযা করেছেন। নবী করীম সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এ বলে হাতের ইশারা করলেন আর এদিকে ডুবন্ত সূর্য পুনরায় আকাশে উদিত হয়ে গেল। আর এ সূযোগে আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজ্‌হাহুল কারীম আসরের নামায আদায় করে নিলেন। কবি বলেন-
ماہ پارہ ہوا سورج اُلٹا  پھیرا ٭جب  اشارا تمہارا ذرا  ہوگیا
চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছে সূর্য পুনরায় ফিরে এসেছে, যখনই আপনার সামান্য ইঙ্গিত হয়েছে।
এভাবে অসংখ্য ঘটনা সাহাবায়ে কেরামের জীবনীতে দেখা যায়।
উহুদযুদ্ধে কাফির-মুশরিকরা চতুর্দিক থেকে যখন নবীপাককে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ শুরু করল, ওই মুহূর্তে নবীপ্রেমে নিবেদিত সাহাবী হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু দৌড়ে গিয়ে মানবঢাল সেজে গেলেন। কখনো বুক পেতে দিয়ে কখনো পৃষ্ঠদেশ পেতে দিয়ে কাফিরদের মোকাবিলা করতে লাগলেন যাতে নবীপাক শরীর মুবারকে কোন তীরের আঘাত না লাগে। সেদিনকার  হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এ ত্যাগ ও কোরবানী দেখে নবীপাক এরশাদ করেছিলেন, জ্ঞজ্ঞআজকের উহুদের মুজাহিদদের জন্য যত ফযীলত বরাদ্ধ করা হয়েছে, তন্মধ্যে অর্ধেক ফযীলত দেয়া হয়েছে কেবল তালহার জন্য।
নবীর মুহাব্বতে আরবের সে যুবক সাহাবীরা নিজের জান-মাল উৎসর্গ করতে কোন প্রকার দ্বিধাবোধ করেন্‌নি। আঞ্চলা হযরত চমৎকার বলেছেন।
حسن یوسف پہ کٹیں مصرمیں انگشت زناں
سر کٹاتے ہین تیرے نام پہ مردان عرب
অর্থাৎ, হযরত ইঊসুফ আলাইহিস্‌ সালামের সৌন্দর্য দেখে মিসরের রমণীরা তাদের আঙ্গুল কেটেফেলেছিল আর (ইয়া রসূলাল্লাহ্‌!) আপনার নামে আরবের যুবকরা তাঁদের শির কাটাতেও দ্বিধাবোধ করেন্‌নি।     [হাদাইক্ব-ই বখশীশ]
হযরত হাস্‌সান বিন সাবিত, হযরত কাঞ্চব ইবনে যুহাইর থেকে শুরু করে আরবের তৎকালীন বড় বড় কবি তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে নবীর শানে অবমাননাকারী বেদ্বীনদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন। বস্তুতঃ নবীর মুহাব্বত ঈমানদারের অন্তরে তার অন্যান্য সহায় সম্পত্তি তো বটেই; নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক সহায় হওয়া বাঞ্ছনীয়। পবিত্র ক্বোরআনে এসেছে اَلنَّبِیُّ اَوْلٰی بِالْمُؤْمِنِیْنَ مِنْ أَنْفُسِھِمْ অর্থাৎ নবী মুমিনদের প্রাণের চেয়েও অধিক নিকটে। তাই নবীর শানে অবমাননাকর কোন কাজ, কোন কথাতো ঈমানদার করতে কিংবা বলতে পারেই না; বরং অন্য কেউ করলে কিংবা বললে কোন ঈমানদার সেটা সহ্য করে নীরবে বসে থাকতে পারেনা। এমনকি স্বয়ং রব্বুল আলামীনও সেটা সহ্য করেন্‌ না।
কাফির নেতা আবূ লাহাব নবীজীর শানে অবমাননা করেছে। তার বিরুদ্ধে আল্লাহ্‌ পাক পবিত্র ক্বোরআনের সূরা নাযিল করে তার পরিবার-পরিজনসহ সবার উপর লাঞ্চনত দিয়েছেন। ওয়ালিদ ইবনে মুগীরা নবীজীর শানে বেআদবী করেছে আল্লাহ্‌ পাক পবিত্র ক্বোরআনে তাকে জারজ সন্তান বলে তার স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়েছেন।
সুতরাং, রসূলের দুশমন তথা অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রতিবাদমুখর হওয়া পবিত্র ক্বোরআনের শিক্ষা। যুগে যুগে ইহুদি-নাসারারা ইসলামের উপর পবিত্র ক্বোরআনের উপর, নবী-রসূলের শানে নানা কৌশলে অপপ্রচার চালিয়ে মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। কিন্তু নবীপ্রেমিক মুসলিম মিল্লাত বিশেষ করে যামানার মুজাদ্দিদ ও আউলিয়া কেরামের আধ্যাত্মিক শক্তি আর ওলামায়ে কেরামের কঠোর প্রতিবাদ ও পরিশ্রমের সামনে এদের সকল ষড়যন্ত্র ইতিহাসের চোরাবালিতে নিক্ষিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছে।
মূলতঃ কাফিরদেরকে সাময়িক সুযোগ দিয়ে আল্লাহ্‌ পাক ঈমানদারদেরকে পরীক্ষা করে থাকেন। সে পরীক্ষায় দুর্বল ঈমানদারগণ বিপর্যস্ত হয়ে গেলেও সত্যিকার ঈমানদারগণ গর্জে ওঠেন খোদাদ্রোহী সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে। জিহাদী প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন নবীর দুশমনদের মোকাবিলায়। ইমাম আযম আবূ হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমামে রব্বানী মুজাদ্দিদ-ই আল্‌ফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়ামনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখের ইতিহাস আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরভাস্বর।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, পৃথিবীতে দেড়শ কোটি মুসলমানের অস্তিত্বকে সামনে রেখে ড্যানিশ পত্রিকা রসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে অবমাননাকর ব্যঙ্গচিত্র ছেপেছে, তা ভাবতেও রীতিমত অবাক লাগে। যেখানে ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে মাত্র ৩১৩জন মর্দে মুজাহিদের সামনে কাফিরদের বিশাল বাহিনী পালাতে বাধ্য হয়েছিল, সেক্ষেত্রে এত অধিক সংখ্যক মুসলমান থাকার পরও কেবল ঐক্যের অভাবে খোদাদ্রোহী অপশক্তি এ জঘণ্য কাজটা করার দুঃসাহস দেখালো। কারণ, মুসলমান নেতৃবর্গের হৃদয় থেকে ইহুদি-নাসারারা ইতোমধ্যে নবীপ্রেমের সেই শক্তিটা সুকৌশলে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী (ওআইসি)ও কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারল না। তাই এখন প্রয়োজন হয়েছে প্রতিটি ঘরে ঘরে নবীপ্রেমিকের দূর্গ গড়ে তোলা। নবীর মুহাব্বতে প্রতিটি মুসলমানকে উজ্জীবিত করতে পারলে সকল অপশক্তি তাদের পদচুম্বন করতে বাধ্য হবে।
کی محمدسے وفا  تونے توہم تیرے ہیں
یہ جہاں چیزہے کیا لوح قلم تیرے ہیں
আল্লাহ্‌কে যে পাইতে চায় হযরতকে ভালবেসে
আর্‌শ-কুরসী, লাওহ-কলম না চাইতেই পেয়েছে সে।
—><—