শাজরা শরীফ

0

শাজরা শরীফ
সিলসিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়া
দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া
শেতালু শরীফ, সিরিকোট, হরিপুর, পাকিস্তান।
প্রকাশকাল ঃ তেইশতম সংস্করণ
যিলহজ্ব – ১৪৩৬ হিজরী
অক্টোবর – ২০১৫ খ্রি.
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হাদিয়া ঃ ২৫ টাকা মাত্র
প্রকাশনায়
আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট
(প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ)
৩২১, দিদার মার্কেট (৩য় তলা), দেওয়ান বাজার
চট্টগ্রাম-৪০০০, বাংলাদেশ, ফোন ঃ ৬৩৪২৪১, ৬২৪৩২২, ২৮৬৩৮৩৭, ৬৫৫৪৭৮
সূচি:
সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়া পীর মাশায়েখ পরিচিতি/০৬
আল্লামা তাহের শাহমাদ্দাজিল্লুহুল্ আলী’র বংশগত/শাজরা/২৩
সিলসিলার সবক্ব (পুরুষদের জন্য)/২৫
সিলসিলার সবক্ব (মহিলাদের জন্য)/২৭
বাইয়াত করার পর হুযূর ক্বিব্লার নসিহত/২৯
সিল্সিলায়ে কাদেরীয়া আলিয়ার এগার সবক/৩৪
না‘তে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম/৩৫
না‘তে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম/৩৭
শানে গাউসে পাক (রাঃ)/৩৮
শানে হযরত খাজা চৌহরভী (রাঃ)/৪০
শানে মুর্শিদে র্বহক্ব শাহেন শাহে সিরিকোটি (রাঃ)/৪১
শানে মুর্শিদে র্বহক্ব হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাঃ)/৪২
দরূদে তাজ (আরবী)/৪৪
দরূদে তাজ (বাংলা)/৪৫
খতমে গাউসিয়া শরীফের র্ততীব/৪৬
শাজরা শরীফ (উর্দু)/৫১
শাজরা শরীফ (বাংলা)/৫৫
গেয়ারভী শরীফের ফযীলত/৬১
গেয়ারভী শরীফের র্ততীব (নিয়ম)/৬২
বারভী শরীফের তরতীব (নিয়ম)/৬৬
ক্বসীদা-এ-গাউসিয়া শরীফ (আরবী)/৭১
মীলাদ শরীফ/৮০
ত্বরীক্বত্ স¤পর্কীয় গুরুত্বপূর্ণ বাণী/৮৪
মাশায়েখ হযরাতের গুরুত্বপূর্ণ বাণী/৮৬
প্রসঙ্গ ঃ মাজমূ‘আহ্ সালাওয়াতির রসূল/৮৮
স্মরণীয় যারা/৯৪
খেলাফতপ্রাপ্ত বুযুর্গ ব্যক্তিবর্গ
মুখবন্ধ
আন্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া-প্রকাশিত এ পবিত্র ‘শাজরা শরীফ’ সিল্সিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়াভুক্ত আমাদের সকল পীর ভাই-বোনের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় নির্দেশিকা। সুতরাং সংশ্লিষ্ট সকলের জন্যই এর একটি কপি হাতে রাখা এবং এতে প্রদত্ত নির্দেশানুসারে আমল করা অত্যন্ত জরুরী। এ ‘শাজরা শরীফে’ হুযূর ক্বিব্লা নির্দেশিত সিল্সিলার (ত্বরীক্বতের) সবক, খত্মে গাউসিয়া, গেয়ারভী ও বারভী শরীফের নিয়মাবলীসহ র্ক্বোআন ও হাদিস সমর্থিত অযীফা-দো’য়া সংক্ষেপে বিন্যাস করা হয়েছে। এমন কি কাদেরিয়া ত্বরীক্বার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির তাত্ত্বিক বর্ণনাও বিদ্যমান। পীর ভাই-বোনদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সাথে সাথে হুযূর ক্বিব্লা মাদ্দাজিল্লুহুল্ আলী প্রদত্ত সবক্ব যথাযথ আদায় করা অবশ্য কর্তব্য। তাই ত্বরীক্বার সবক্ব বিশুদ্ধভাবে আদায়ের লক্ষ্যে ‘শাজরা শরীফের’ সহায়তা নেওয়া অপরিহার্য। সবক্ব ছাড়াও এতে কাদেরিয়া ত্বরীক্বার অতীব মহামূল্যবান কিছু নিয়মিত কার্যক্রম যেমন-খত্মে গাউসিয়া শরীফ, খত্মে গেয়ারভী শরীফ ইত্যাদি আদায়ের নিয়ম ও পঠিতব্য ‘তস্বীহ’সমূহ বাংলা উচ্চারণসহ সুচারুরূপে উল্লিখিত আছে। পীর ভাই-বোনদের উচিত এ পবিত্র শাজরা শরীফ অনুসরণের মাধ্যমে এসব তস্বীহ, ক্বাসিদা শরীফ, শাজরা শরীফ, না’ত শরীফ ও মিলাদ শরীফ ইত্যাদি মুখস্থ করে রাখা, যাতে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে অপরাপর পীর ভাইদের নিয়ে নিজেই উল্লিখিত খতমে গাউসিয়া, গেয়ারভী ও বারভী শরীফসহ মিলাদ শরীফের মতো সিল্সিলার নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পাদন করতে পারেন।
আমাদের মাশায়েখ হযরাতের নামে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসা, সিল্সিলার ‘খান্ক্বাহ্ শরীফ’ ও বিখ্যাত দ্বীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ রয়েছে। সকলের উচিত নিকটস্থ এসব মাদ্রাসা ও খান্ক্বাহ্ শরীফের খিদমতে আন্তরিকভাবে আত্মনিয়োগ করা। বিশেষতঃ চট্টগ্রামের ‘জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া’ ও ঢাকা মুহাম্মদপুরের ‘কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া’ এ দেশের শরীয়ত তথা সুন্নিয়তের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। এসব মাদ্রাসার সাথে সার্বিক যোগাযোগ রাখা আমাদের সকলের ঈমানী কর্তব্য। এ মাদ্রাসা দু’টির সাথে ত্বরীক্বতের কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত দু’টি খান্ক্বাহ্ শরীফ’ চট্টগ্রাম (ষোলশহরস্থ আলমগীর খানকা-ই কাদেরীয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া) ও ঢাকা জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আমাদের আরো অনেক খানকাহ শরীফ, যেখানে নিয়মিত গেয়ারভী শরীফ, গাউসিয়া শরীফসহ হযরাতে কেরাম ও বুজুর্গানেদ্বীনের সকল ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এই সকল পবিত্র বরকতময় অনুষ্ঠানে শারীরিক, আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা করা আপনার আমার ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।
উল্লেখ্য, গাউসে জামান হযরতুলহাজ্ব আল্লামা হাফেজ, ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি আলায়হি উনার মোবারক মহব্বত নামায় (চিঠি) আলমগীর খানকাহ শরীফ সম্পর্কে ফরমাইয়াছেন- ‘‘ইয়ে খান্কাহ্ আল্লাহ্ তাবারকা ওয়া তায়া’লা ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে মুহাব্বত ও র্কুব্ হাছেল করনেকে আড্ডে হেঁ, আউর আউলিয়ায়ে কেরাম রাহমাতুল্লাহে আলাইহিম আজমাঈনকে অফফৎবংং ও ঈবহঃবৎ হেঁ। জিন্ জিন্ ভাইয়োঁনে উছেমে হিচ্ছা লিয়া হায়, কোশিশ্কি হায়, রক্বম দিয়া হায়, আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তায়া’লা কবুল ফরমায়ে। ইয়ে ছাদকায়ে জারিয়া তা কিয়ামত রহেগা ইনশাআল্লাহ্।’’
বস্তুত কাদেরিয়া ত্বরীক্বার পীর ভাই-বোন ‘শাজরা শরীফ’ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির উপর পূর্ণাঙ্গ অবগত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো এ প্রকাশনা।
পীর ভাই-বোনদের জন্য অতি আনন্দের বিষয় যে, শাজরা শরীফের এবারের সংশোধিত সংস্করণটি শুভাকাক্সক্ষীদের পরামর্শ অনুসারে আরো নতুন আঙ্গিকে বর্ণাঢ্য কলেবরে ও সুন্দর সজ্জায় বিন্যাস করা হয়েছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো ‘কাদেরিয়া সিল্সিলার পীর মাশায়েখ পরিচিতি’ নামে সংযোজিত নতুন অধ্যায়টি, এতে সংক্ষেপে আমাদের হুযূর ক্বিব্লার জীবনাদর্শ পরিস্ফুটিত হয়েছে। পীর ভাই-বোনেরা এ শাজরা শরীফের প্রত্যেকটি অধ্যায় নিয়মিত পাঠ ও হৃদয়ঙ্গম করে শরীয়ত-ত্বরীক্বতের কাজে আত্মনিয়োগ করলে আমাদের এ প্রয়াস সার্থক হবে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে মাশায়েখে কেরামের নেক নজর লাভের তৌফিক দিন।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন
সেক্রেটারি জেনারেল
সিলসিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়া‘র
পীর-মাশায়েখ পরিচিতি
শাহেন শাহে বাগদাদ গাউসুল আ‘জম আবদুল কাদের জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রবর্তিত ত্বরীক্বার নামই সিল্সিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়া। এ পৃথিবীতে পূর্বাপর সকল অলি আল্লাহর উপর গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু এর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনস্বীকৃত। গাউসুল আ‘জম জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু স্বয়ং তাঁর ক্বসীদায়ে গাউসিয়ায় বলেন, “ওয়া কুল্লু অলিয়্যিন্ আলা ক্বদামিওঁ ওয়া ইন্নী, আলা ক্বদামিন্ নবী বাদ্রিল্ কামালী” অর্থাৎ, সকল অলি আল্লাহর কাঁধের উপর আমার ক্বদম্ আর আমার কাঁধের উপর পূর্ণচন্দ্র নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্বদম্ মোবারক। গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু-র ঘোষণাকে সে সময়ের সকল আউলিয়ায়ে কেরাম শ্রদ্ধাভরে নতশিরে গ্রহণ করেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেন। এমন অলিকুল সম্রাট প্রবর্তিত এ সিল্সিলাহ্ও সঙ্গত কারণে এক শ্রেষ্ঠ ত্বরীক্বা নিঃসন্দেহে। এ ত্বরীক্বা বর্তমানে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঈমানদার মুসলমানদের মাঝে বিস্তৃতি লাভ করেছে- গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু-র খলিফা বা আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি পরম্পরায়। এভাবে এ মহান ত্বরীক্বার একটি ধারা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, হরিপুর জেলার চৌর্হ শরীফ ও সিরিকোট শরীফ হয়ে আমাদের এ দেশ পর্যন্ত এসে পৌঁছে। একেই আমরা ‘সিল্সিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়া’ বলে অভিহিত করছি। চৌর্হ শরীফের গাউসে দাওঁরা খাজা আব্দুর রহমান চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এবং সিরিকোট শরীফের গাউসে জামান হযরতুল্ আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হলেন সৌভাগ্যবান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিদ্বয়, যাঁরা গাউসুল আ‘জম আবদুল ক্বাদের জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু এর ত্বরীক্বার মহান প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আল্লাহর এ মহান রহমতের স্রোতে এ উপমহাদেশের মানুষকেও সিক্ত করেছেন। হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ছিলেন খ্যাতিমান বুযুর্গ যিনি মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর পিতা গাউসে জামান হযরত ফকির খিজিরী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এবং তাঁর পীর ক্বাদেরিয়া ত্বরীক্বার মহান খলিফা হযরত শাহ্ মুহাম্মদ এয়াকুব রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র ফুয়ূজাত ও খেলাফত হাসিল করে শরীয়ত-ত্বরীক্বতের এক বেমেসাল খিদমতে আত্মনিয়োগ করেন। কৈশোরের প্রথম জীবনে শুধু কোরআন শরীফের তেলাওয়াত ছাড়া অন্য কোন প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন না করেও খাজা চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিই ওই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী, অদ্বিতীয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব যিনি ৩০ পারা কোরআনে করীম ও ৩০ পারা হাদীসগ্রন্থ বুখারী শরীফের পর- তৃতীয় একটি ৩০ পারা বিশাল দরূদ গ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থটির নাম “মজ্মুয়ায়ে সালাওয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম”। প্রতি পারা ৪৮ পৃষ্ঠাবিশিষ্ট সর্বমোট ১৪৪০ পৃষ্ঠার এ বিশাল দরূদ গ্রন্থে কোরআনে করীমের মতো সর্বমোট ৬,৬৬৬ টি দরূদ শরীফ সন্নিবেশ করা হয়েছে। যে দরূদগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি কোরআন, হাদীস, উসূল, ফিক্বাহ্, তাসাউফ্ ও আক্বিদার আলোকে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামগ্রিক জীবনদর্শন ও মর্যাদা অত্যন্ত উন্নত আরবী ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তাছাড়া প্রতিটি পারায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন গুণাবলীর সুন্দর সমাহার। এটা এক উম্মী অলি খাজা চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি-এর অসংখ্য কারামতের একটি। আর এ মহান অলিআল্লাহর প্রধান খলিফা ছিলেন গাউসে জামান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি আল-ক্বাদেরী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি।
হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ছিলেন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধর। তাঁর বংশ শাজরা অনুসারে হযরত মা ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হাকে প্রথম, হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হুকে দ্বিতীয় এবং ইমাম জয়নুল আবেদীন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হুকে তৃতীয় ধরে ২৪ তম স্তরে হযরত সৈয়্যদ গফুর শাহ ওরফে কার্পু শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ও ৩৮তম স্তরে হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি-এর নাম পাওয়া যায়। নবী বংশের অন্যান্য সদস্য তথা আহ্লে বায়তের মতো তাঁর পূর্বপুরুষ ২৪তম আওলাদে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত গফুর শাহ্ ওরফে কাপুর শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিই সর্বপ্রথম দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ বর্তমান সিরিকোট অঞ্চলে আসেন এবং বিজয়ী হন। এজন্য তাঁকে ফাতেহ্ সিরিকোট বা সিরিকোট বিজয়ী বলা হয়।
(সূত্রঃ খড়পধষ এড়াঃ. অপঃ, জবভ- ১৫, ঐধুৎধ ১৮৭১, চধশরংঃধহ )
এভাবে সিরিকোট শরীফে বসবাসকারী আহ্লে বায়তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ৩৯তম বুজুর্গ হযরত সৈয়্যদ সদর শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর ঔরসেই ঊনবিংশ শতাব্দির ষাটের দশকে জন্মগ্রহণ করেন গাউসে জামান, পেশোয়ায়ে আহ্লে সুন্নাত হযরতুল্ আল্লামা সৈয়্যদ আহ্মদ শাহ্ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি। অতি অল্প বয়সে কোরআনে হাফেজ হয়ে তিনি ক্বোরআন-হাদীস ফিকাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর সুদূর আফ্রিকা সফর করেন। সেখানে অতি অল্প সময়েই তিনি ব্যবসা ও ইসলাম প্রচারে খ্যাতি লাভ করেন। তৎকালীন পাক্ ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তিনি ‘আফ্রিকাওয়ালা’ নামেও খ্যাত ছিলেন। ব্যবসার চেয়েও তিনি আফ্রিকায় ইসলাম প্রচারে বিরাট অবদান রাখেন। তৎকালীন ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে হুজূর ক্বিবলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে ইসলামের প্রচার প্রসার ঘটে। তাঁর হাতে সেখানকার অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়। এসময় পারস্য (ইরান) থেকেও একদল ধর্ম প্রচারক দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছিলেন যারা সেখানে ভ্রান্ত মতবাদ (শিয়া) প্রচারের চেষ্টা চালায়। অবশ্য, হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে শিয়ারা ব্যর্থ হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় সুন্নি মতাদর্শ ও হানাফী মায্হাবের বিস্তৃতি ঘটে। (সূত্র ঃ  A short History of Muslims in south Africa, By-Dr. Ibrahim M. Mahdi)
উক্ত ইতিহাস গ্রন্থ সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় ব্যবসায়ী সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ পেশোয়ারীর (সিরিকোটি) অক্লান্ত পরিশ্রমে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপটাউন বন্দরে আফ্রিকার নব দীক্ষিত মুসলমানদের জন্য সর্বপ্রথম প্রার্থনা গৃহ-জামে মসজিদ নির্মিত হয় ১৯১১ সালে। (সূত্র ঃ  A short History of Muslims in south Africa, By-Dr. Ibrahim M. Mahdi)
এরপর ১৯১২ সালে তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং তাঁর পীর খাজা চৌহরভীর দরবারে শরীয়ত ও ত্বরীক্বতের এক বে-মেসাল খিদমত আনজাম দেন। পীরের লঙ্গরখানার জন্য লাকড়ির সমস্যা দেখা দেওয়ায় হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি সিরিকোটের পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে প্রায় ১১ মাইল দূরের চৌর্হ শরীফে নিজ কাঁধে করে দিয়ে আসতেন। এভাবে কোন বিরতি ছাড়া বহু বছর এ কঠিন দায়িত্বটি পালন করেন। একজন খ্যাতনামা ব্যবসায়ী, আলেম, হাফেজ, ক্বারী, অধিকন্তু নবী বংশের মর্যাদা সবকিছু ভুলে তিনি নিজের আমিত্ব বিনাশের এ কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ মুরশিদের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তুষ্টি অর্জন করেন এবং ত্বরীক্বতের আসল পুরস্কার বেলায়ত ও খেলাফত লাভে ধন্য হন।
খাজা চৌর্হভী হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র ওফাতের তিন বৎসর পূর্বে ১৯২০ সালে হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি পীরের নির্দেশে বার্মার (মায়ানমার) রেঙ্গুন শহরে চলে আসেন এবং দু’যুগের বেশি অবস্থান করে শরীয়ত-ত্বরীক্বতের বিশাল দায়িত্ব পালন করেন। রেঙ্গুনে তিনি বিশেষত বিখ্যাত বাঙালী মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর আধ্যাত্মিকতার আকর্ষণে মসজিদের অনেক মুসল্লি তাঁর প্রতি অনুরক্ত হয়ে উঠেন এবং ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধাভরে তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণ শুরু করেন। এ থেকে শুরু হয় তাঁর খেদমতে খল্ক্বের জীবনধারা। শরীয়ত ও ত্বরীক্বতের পথ নির্দেশনায় কামালিয়াত ও মা’রিফাতের পবিত্র আলোকধারায় বুলন্দ(উঁচু) স্তরে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অসংখ্য স্থানীয় মানুষকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং স্থানীয় ও প্রবাসী মুসলমানদের কাদেরিয়া ত্বরীক্বায় বাইয়াত করান। চট্টগ্রামে সংবাদপত্র শিল্পের পথিকৃৎ, ‘দৈনিক আজাদী’ প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারসহ অনেক চট্টগ্রামবাসী এ সময় তাঁর (সিরিকোটি) হাতে মুরিদ হবার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
সিরিকোটি (রঃ) তদানীন্তন রেঙ্গুন হতে সিরিকোট এবং সিরিকোট হতে রেঙ্গুন যাতায়াত করতেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ডিসেম্বর ১৯৪১ ইংরেজি চট্টগ্রামের মুরিদদের সাথে চিরতরে বার্মা (মায়ানমার) ত্যাগ করে চলে আসেন এবং সিরিকোট শরীফ-বাড়িতে অবস্থান করেন। বার্মা ফেরত তাঁর চট্টগ্রামবাসী মুরিদদের অনুরোধে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম আসেন এবং আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসের উপর তলায় অবস্থান করে সিল্সিলার কাজ শুরু করেন। তারপর হতে প্রতি বৎসরই ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত শীতকালে তিনি চট্টগ্রামে আসতেন। মাসাধিককাল অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন গ্রাম-থানার ভাই-বোনদের একান্ত আন্তরিক আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন জায়গায় সফর করে হক্ব সিল্সিলার প্রচার-প্রসার ও সিল্সিলাভুক্ত করে তাদের দোজাহানের কামিয়াবীর পথ নির্দেশনা দিতেন। আন্দরকিল্লায় তিনি কোহিনুর ইলেক্ট্রিক প্রেসের দোতলা থেকে সিল্সিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়া ও আহ্লে সুন্নাত ওয়াল্ জামাতের প্রচার-প্রসারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র আগমন সংবাদ চট্টগ্রামে দারুন উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং লক্ষাধিক মানুষ তাঁর হাতে মুরিদ হয়ে ধন্য হন। হুজুর ক্বিব্লা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ১৯২৫ সালে বার্মার রেঙ্গুনে অবস্থানকালে মায্হাব্ ও মিল্লাতের কর্মকাণ্ড পরিচালনার্থে আন্জুমান-এ-শুরায়ে রহমানিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম এসে এ সংগঠনকে পরিবর্ধিত করে আন্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া নামে নামকরণ করেন। যা আজ শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে সুন্নী মুসলমানদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য দ্বীনি কল্যাণ ট্রাস্ট হিসেবে স্বীকৃত। এ সময় তিনি নিয়মিত ঢাকা হয়েই চট্টগ্রাম আসতেন এবং ঢাকায়ও কিছুদিন অবস্থান করে কাদেরিয়া ত্বরীক্বার দায়িত্ব পালন করতেন। ঢাকার কায়েৎটুলীস্থ খান্ক্বাহ্-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া এখনো তাঁর সে সময়ের স্মৃতি বহন করছে। চট্টগ্রামে অবস্থানকালে হুজূর ক্বিব্লা প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওয়াজ মাহফিলেও অংশ গ্রহণ করতেন। এরূপ ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে মাওলানা এজহার সাহেবের উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াতে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল নামক গ্রাম সফর করেন। মাহফিলে হুজূর ক্বিবলা প্রচলিত নিয়মানুযায়ী তক্বরীরের প্রারম্ভে কোরআনে করীমের আয়াত ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লূনা আলান্ নবী ইয়া আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানূ সাল্লূ আলাইহি ওয়াসাল্লিমূ তাস্লীমা-পাঠ করেন এ উদ্দেশ্যে যে, সমবেত শ্রোতাগণ নবীজির উপর দরূদ-সালাম পড়বেন। কিন্তু দেখা গেল ঘটনা বিপরীত। সমবেত কেউ দরূদ পড়লোনা। আশেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজূর ক্বিব্লা সে ঘটনায় এতো বেশী মর্মাহত ও রাগান্বিত হয়েছিলেন যে, তিনি সে রাতে এবং পরদিন পর্যন্ত কোন পানাহার করেননি। চট্টগ্রাম এসেই পীরভাইদের ডাকলেন এবং দ্বীনের এ দুশমনদের বিরুদ্ধে আদর্শিক প্রতিরোধের আহবান করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, “ইহাঁ এক মাদ্রাসা হোনা চাহিয়ে।” অর্থাৎ এখানে একটি মাদ্রাসা হওয়া প্রয়োজন। কেমন পরিবেশে মাদ্রাসা হবে তার বর্ণনা দিয়ে বলেন- “এয়সা জাগাহ্ হো, গাঁও ভী নেহী,ঁ শহরছে দূর ভী নেহীঁ, মসজিদ হো; তালাব হো, আ-নে যা-নে মেঁ তাক্লীফ না হো’’ অর্থাৎ এমন জায়গা হবে গ্রামও নয় শহর থেকে দূরেও নয়, মসজিদ হবে, পুকুর হবে, আসা-যাওয়ায় কষ্ট হবেনা।’’ তৎকালীন পীরভাইয়েরা কুতুবুল আউলিয়া সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটী রহমাতুল্লাহি আলাইহি‘র পছন্দ অনুযায়ী চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করে বেশ কিছু জায়গা হুজূর কেবলাকে দেখান। অবশেষে শাহেনশাহে সিরিকোটী রহমাতুল্লাহি আলাইহি‘কে মরহুম আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম সওদাগর আলক্বাদেরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ষোলশহরস্থ নাজিরপাড়ায় বর্তমান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া (মাদ্রাসা)‘র স্থানটি দেখান। কুতুবুল আউলিয়া জায়গাটি দেখার সাথে সাথে অত্যন্ত সন্তুষ্ট চিত্তে বলেন- ‘হাঁ, ইয়েহি হ্যায়’ অর্থাৎ হ্যাঁ এটিই। হুজূরের এই অভিব্যক্তি দেখে উপস্থিত মুরিদগণ বুঝতে পারলেন, এ জায়গাটিই হুজূর কেবলার পরম কাক্সিক্ষত। উল্লেখ্য, জায়গাটির মালিক ছিলেন- কমিশনার মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন চৌধুরীর পিতা মরহুম হযরত উদ্দীন চৌধুরী। তিনি খুশী মনে জায়গা দেয়ার জন্য রাজী হলেন।
১৯৫৪ সালের এক শুভক্ষণে সে নির্ধারিত স্থানটিতে এশিয়া খ্যাত সুন্নী মতাদর্শের দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। যা আজো দুশমনে রাসূলদের বিরুদ্ধে আদর্শিক মোকাবেলায় কালজয়ী ভূমিকা পালন করছে।
হুজূর ক্বিব্লা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ঘোষণা করেন যে, “ইয়ে জামেয়া কিস্তিয়ে নূহ্ হ্যায়” অর্থাৎ- এই জামেয়া হযরত নূহ আলায়হিস্ সালাম এর কিস্তি তুল্য। নিজ মুরিদদের উদ্দেশ করে আরো বলেন, “মুঝেহ্ দেখ্না হ্যায় তো মাদ্রাসা কো দেখো, মুঝ্ছে মুহাব্বত্ হ্যায় তো মাদ্রাসাকো মুহাব্বত্ করো” অর্থাৎ আমাকে দেখতে চাও তো মাদ্রাসা (জামেয়া)কে দেখ, আমার প্রতি মুহাব্বত থাকলে মাদ্রাসাকে মুহাব্বত কর। হুজূর ক্বিব্লা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র প্রেমিক ভক্তরা এ নির্দেশ যথাযথ পালন করছেন। কাজে জামেয়ার প্রতি মুহাব্বত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর প্রতি মুহাব্বতের নামান্তর- এটি আজ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
আজ হুজূর ক্বিব্লার ভক্ত মুরিদ ও আমাদের বর্তমান পীর ভাই বোনেরা জামেয়ার জন্য মান্নাত করে যে নগদ ফায়দা হাসিল করছে তা যেনো সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর মুহাব্বতেরই পুরস্কার। চট্টগ্রামের জামেয়া ছাড়াও তিনি তাঁর পীর খাজা চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের হরিপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত পরিচালনা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
হুজূর ক্বিবলা সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আসা যাওয়া করেন। ইতোমধ্যে ১৯৪৫ সালে এবং ১৯৫৮ সালে তিনি জাহাজযোগে হজ্বে যান। উল্লেখ্য ১৯৪৫ সনে হজ্বের সময় মদীনা মুনাওয়ারার তৎকালীন খাদেম মাওলানা সৈয়্যদ মনজুর আহমদ হুজূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন।
এ সময় শাহেনশাহে দো-আলম হুজূর করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এক রহস্যময় বাতেনী নির্দেশ প্রাপ্ত হন যে, তিনি যেন পরবর্তী হজ্বে আসার সময় তাঁর বড় নাতি সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী‘কে সাথে করে মদীনায়ে পাক নিয়ে আসেন এবং রাহমাতুল্লীল আলামীনের মোলাক্বাত্ করান। ১৯৫৮ সালেই তাঁর জীবনের সেই সুযোগটি আসে এবং হযরত তাহের শাহ্ ’মাদ্দাজিল্লুহুল্ আলী কে সাথে নিয়ে হজ্জ্বে বাইতুল্লাহ্ ও জেয়ারতে মদীনা মুনাওয়ারা স¤পন্ন করেন। এ সময় ময়দানে আরাফাতে ৯ যিল্হজ্ব হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর জ্যেষ্ঠ নাতি তরুণ হাজ্বী তাহের শাহ্ (মা.জি.আ.) কে নিজ হাতে বায়াত করিয়ে সিল্সিলাভুক্ত করেন এবং র্ছকারে দো-আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম্ এর কাছে সোপর্দ করেন। তাঁর অসংখ্য কারামত ও আধ্যাত্মিক জীবনের ঘটনাবলী যা আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান, রেঙ্গুন, বাংলাদেশ ও মক্কা-মদীনা শরীফে সংঘটিত হয়েছিল তার বিবরণ দেয়া এ সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়। একবাক্যে শুধু এটাই বলা যায় যে, তিনি ছিলেন আউলিয়া সম্রাট তথা গাউসে জামান পদে আসীন। ইমামে আহ্লে সুন্নাত আল্লামা আজিজুল হক শেরে বাংলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর ‘দীওয়ানে আজীজ’ গ্রন্থে সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি সম্পর্কে বলেন, “র্দ জমানশ্ নবী নম্ মিস্লে ও পীরে মঁগা” অর্থাৎ ওই জামানায় তাঁর (সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি) তুলনা হয় এমন উঁচু স্তরের পীর আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি।
(সূত্র. দীওয়ানে আজীজ, কৃত: আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (রা.) হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।)
১৩৮০ হিজরির (১৯৬১ ইংরেজি) ১০ যিলক্বদ, বৃহস্পতিবার হুজূর ক্বিব্লা শাহেনশাহে সিরিকোট রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর শতোর্ধ্ব বছরের ইহজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান।
শাহেন শাহে সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর একমাত্র সাহেবজাদা মাতৃগর্ভের অলি গাউসে জামান হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ১৯১৬ সালে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের ঐতিহাসিক দরবার সিরিকোট শরীফে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের পূর্বে সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এবং সৈয়্যদ বংশীয় বুজুর্গ আম্মাজান চৌর্হ শরীফে খাজা চৌহ্রভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র সান্নিধ্যে গেলে তিনি (চৌহ্রভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি) হঠাৎ করে হুজূরের শাহাদাত আঙ্গুলি ধরে নিজ (চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর) পিঠে ঘর্ষণ করতে করতে বলেন, “ইয়ে পাক্ চীজ্ তুম্নে লে লো” অর্থাৎ- এ পবিত্র জিনিসটি তুমি নিয়ে নাও। উল্লেখ্য, সিরিকোটি হুজূরের উক্ত সাহেবজাদা এরপরই জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর নাম রাখা হয় ‘তৈয়্যব্’। যার উর্দু অর্থ হয় ‘পাক্’ বাংলা অর্থ -‘পবিত্র’। সুতরাং ওই ঘটনা ছিল খাজা চৌহ্রভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি কর্তৃক সিরিকোটি হুজূরের ঘরে এক মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব গাউসে জামান তৈয়্যব্ শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র জন্মের সুসংবাদ। জন্মের পর থেকেই শিশু তৈয়্যব্ শাহ্’র মধ্যে নানা রকমের আধ্যাত্মিক আচরণ দেখা যায়।
একবার দু’বছরের শিশু তৈয়্যব্ শাহ্ তাঁর শ্রদ্ধেয় আম্মাজানের সাথে চৌহর শরীফ যান। চৌহ্রভী হুজূরের সাথে আলাপ চলছে এমন সময় শিশুসূলভ আচরণ হিসেবে তিনি মাতৃদুগ্ধ পান করতে উদ্যত হন। এ ঘটনা খাজা চৌহ্রভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বলেন, “তৈয়্যব্ তুম্ বড়া হো গেয়া, দুধ মাত্ পিউ।” অর্থাৎ- ‘তৈয়্যব’ তুমি বড় হয়ে গেছো এখন থেকে আর দুধ পান করবে না। এ উক্তি শুনা মাত্রই শিশু তৈয়্যব্ শাহ্ শান্ত হয়ে যান এবং সেদিন থেকে আর কোন দিন দুধ পান করেননি। এমন কি তাঁর আম্মাজান অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে দুধ পান করাতে ব্যর্থ হন। বরং এ সম্ভাবনাময় শিশুটি তাঁর আম্মাকে জবাব দিতেন, “বাজী-নে মানা’ কিয়া, দুধ নেহী পিয়োংগা” অর্থাৎ- দুধ খাবোনা কারণ বাজী (চৌহ্রভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি) নিষেধ করেছেন। হুজূর ক্বিব্লা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি মাত্র চার বছর বয়সে পিতা সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি কে বলেছিলেন, “বাজী নামাজ মে আপ্ আল্লাহকো দেখ্তা হ্যায়, মুঝেহ্ ভি দেখ্না হ্যায়।” মাত্র সাত বছর বয়সে পিতার সাথে আজমীর শরীফ জেয়ারতের সময় খোদ্ খাজা গরীবে নেওয়ায মঈনুদ্দীন চিশ্তী(রাঃ)‘র সাথে তাঁর জাহেরী মোলাক্বাত ও কথোপকথন হয়। সুতরাং মাতৃগর্ভের এ অলী শৈশব থেকেই এক আধ্যাÍিক সম্ভাবনাময় আচরণ করে আসছিলেন। অল্প বয়সে হেফ্জ শেষ করেন। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানার্জন করেন প্রখ্যাত হরিপুর রহমানিয়া মাদরাসা থেকে। কালক্রমে হুজূর ক্বিব্লা (রাঃ) শরীয়ত-ত্বরীক্বতের সুযোগ্য নেতৃত্বের যাবতীয় গুণাবলী অর্জন করেন।
১৯৫৮ সাল ছিলো তাঁর পিতা সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর এদেশে আখেরি সফর। এ বছরও হুজূর ক্বিব্লা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি চট্টগ্রামে আসেন। এ সফরেই চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজারে মরহুম শেখ আফতাব উদ্দিন আহমদ সাহেবের দোকানে বৃহস্পতিবারের খত্মে গাউসিয়া শরীফ চলাকালে সময়ে হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি উপস্থিত পীরভাইদের সামনে সাহেবজাদা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিকে খেলাফত প্রদান করেন এবং খলিফায়ে আ‘জম ঘোষণা করেন। ইতোমধ্যে সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বিভিন্ন প্রসঙ্গে তাঁর বিশিষ্ট মুরিদদের মধ্যে সাহেবজাদা-তৈয়্যব শাহ্’র আধ্যাত্মিক উচ্চ মর্যাদার কথা আলাপ করতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, “তৈয়্যব্ মার্দাজাদ্ অলি হ্যাঁয়, তৈয়্যব্ কা মক্বাম্ বহুত্ উঁচা হ্যায়।” ১৯৫৬ সালে হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্ আম্মাজানকে সাথে নিয়ে হজ্বব্রত পালন করেন।
১৯৬১ ইংরেজি ১ শাওয়াল ১৩৮০ হিজরি ঈদুল্ ফিতরের দিন সকালে হুজূর সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি সাহেবজাদা তৈয়্যব শাহ্কে ঈদের জামাতে ইমামতির নির্দেশ দিলে তিনি বিস্মিত হন। কারণ, ইতোপূর্বে জুমা ও ঈদ জামাতের ইমামতি শুধু তাঁর আব্বা হুজূরই (সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি) করতেন। ১ শাওয়াল্ ঈদের জামাতে ইমামতির দায়িত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে হুজূর সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর সাহেবজাদার উপর অর্পিত বিশাল দ্বীনি নেতৃত্বের অভিষেক করান। ঈদের নামাজের পর থেকে অর্থাৎ ১ শাওয়াল্ থেকে ১০ যিল্ক্বদ্ রাত পর্যন্ত দীর্ঘ চল্লিশ দিন সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি একমাত্র লচ্ছি ছাড়া অন্য কোন প্রকারের খাদ্য গ্রহণ করেননি। বলতেন তাঁর চিরবিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ চল্লিশ দিন তার একান্ত সান্নিধ্যে থাকেন হুজূর ক্বিব্লা তৈয়্যব্ শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি। প্রকৃতপক্ষে হুজূর সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হুজুর ক্বিবলা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র হাতে গাউসিয়াতের মহান দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন-এ চল্লিশ দিনে। এভাবে চল্লিশতম দিবস ১০যিল্ক্বদ্ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় হুজূর সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি জাহেরী হায়াতের ইতি টানেন এবং পরদিন ১১ যিল্ক্বদ্ জুমা দিবসে তাঁকে শায়িত করা হয়।
হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র ওফাত শরীফের পরপরই তৈয়্যব্ শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হুজূরের চেহ্লাম মোবারকে যোগদানের জন্য চট্টগ্রাম আসেন এবং সিল্সিলার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সিরিকোটী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির ওফাতের পর এভাবে হুজূর ক্বিব্লা তৈয়্যব শাহ্ একই দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর শুরু করেন। এ সময় তিনি দেখলেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সুন্নী মতাদর্শভিত্তিক কোন দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।
তাই পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার মতো ঢাকার ঐতিহাসিক মুহাম্মদপুরে ১৯৬৮ সনে কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে দেশের কেন্দ্রস্থল ঢাকায় সুন্নী মুসলমানদের একমাত্র ‘কামিল’ মাদ্রাসা।
ইতোপূর্বে খান্ক্বাহ্ ও হুজুর ক্বিব্লা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর হুজরা শরীফ পরিবর্তন হয়ে প্রথমে ঘাটফরহাদবেগ আলহাজ্ব আবদুল জলিল চৌধুরীর ভবন ও পরে বলুয়ারদীঘি পাড়ের আল্হাজ্ব নূর মুহাম্মদ আল্ কাদেরীর ভবনে ২য় ও ৩য় তলায় স্থানান্তরিত হয়। মূলত বলুয়ারদীঘি পাড় খান্ক্বাহ্-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে সারা বাংলার আনাচে কানাচে হুজূর ক্বিব্লা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর মিশন পরিচালনা করেন যা আজো সে স্মৃতি বহন করছে। দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন ১৯৭৬সালে। এর পূর্বে ১৯৭৪ সালে সিরিকোট শরীফ থেকে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ প্রদান করেন যে, বারই রবিউল্ আউয়াল্ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আয়োজনের সাথে সাথে ধর্মীয় ভাবগাম্ভ^ীর্যপূর্ণ ‘জশ্নে জুলুছ’ বের করার জন্য। এ দায়িত্ব অর্পণ করেন আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়ার উপর। ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে আনজুমানের ব্যবস্থাপনায় তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব নূর মুহাম্মদ আল্কাদেরীর নেতৃত্বে ১২ রবিউল্ আউয়াল্ শরীফে জশ্নে জুলুছ বের করা হয় এটা কোরবাণীগঞ্জ বলুয়ারদীঘি পাড়স্থখান্ক্বাহ্-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া হতে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বিশাল মিলাদ মাহফিল শেষে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। এটাই বাংলাদেশে ‘জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ উদযাপন-এর প্রথম উদ্যোগ। জশ্নে জুলুছ এর রূপকার হুজুর ক্বিব্লার সরাসরি নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথম জুলুছ বের করা হয় ১৯৭৭ সালে। পরবর্তীতে ঢাকায় ৯ রবিউল্ আউয়াল্ ও চট্টগ্রামে ১২ রবিউল্ আউয়াল্ আন্জুমানের ব্যবস্থাপনায় ‘জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ওই সময় হতে একাধারে দশ বছর অর্থাৎ- ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে এই যুগান্তকারী দ্বীনি খিদ্মত আনজাম দিয়ে সর্বজনস্বীকৃত সুন্নীয়তের এক প্রধান কান্ডারী হিসেবে গণ্য হন। দ্বীনী শিক্ষার বিকাশে বিভিন্ন স্থানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর অবদান রয়েছে। তিনি ১৯৭৫ সনে চট্টগ্রাম হালিশহর ইসলামিয়া তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া, ১৯৭৬ সনে চন্দ্রঘোনা তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়াসহ অনেকগুলো মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ও সিলসিলার প্রচার প্রসারে তার নির্দেশে বের হচ্ছে মাসিক তরজুমান। সুন্নি দুনিয়ায় এটি হুজুর ক্বিব্লার আর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে বাতেল ও ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির মোকাবেলায় তরজুমান অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। হুজূর ক্বিবলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এটা প্রতিষ্ঠাকালে বলেন-“ইয়ে তরজুমান বাতিল ফের্কে¡াঁ কে লিয়ে মউত্ হ্যায়।” অর্থাৎ তরজুমান বাতিল র্ফেক্বাসমূহের জন্য মৃত্যু সমতুল্য। হুজুর কেবলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র এ বাণীর যথার্থতা বর্তমানেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া ‘মাজ্মুয়ায়ে সালাওয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ পুনঃমুদ্রণ, কাদেরিয়া ত্বরীক্বার পীর-মাশায়েখদের দৈনন্দিন অযীফা সম্বলিত এক বিরল সংকলন ‘আওরাদুল্ কাদেরিয়ার্তু রহমানিয়া’সহ সুন্নী আক্বীদাভিত্তিক নানা বই-পুস্তক, কিতাব প্রকাশের তিনি ব্যবস্থা করেন।
তাঁর পদচারণায় এদেশে কাদেরিয়া ত্বরীক্বা ও সুন্নিয়াত্ এক নতুন জীবন লাভ করে। তাঁর নির্দেশে আজ খত্মে গাউসিয়া, গেয়ারভী ও বারভী শরীফ এবং মিলাদ-ক্বিয়াম শুধু নতুনত্ব অর্জন করেনি বরং পুনর্জীবন লাভ করে ঘরে ঘরে সমাদৃত হয়েছে। তাঁর কারণে এদেশে আ’লা হযরত শাহ্ আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র বিষয়ে জানা ও চর্চা ব্যাপকতা পেয়েছে। তিনি সিলসিলার কর্মসূচিতে সালাত-সালামসহ আ’লা হযরত প্রণীত মস্লকের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে সামগ্রিক সুন্নী সংস্কৃতিতে এনেছেন বৈচিত্র্য। সৈয়্যদুল্ র্মুসালীন রাহ্মাতুল্লীল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন পবিত্র আওলাদ এবং বে-মেসাল আশেক হিসেবে তিনি আজানের পূর্বেও নবীকে সালাত সালাম দেওয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য পুনঃপ্রবর্তন করেন। হুজূর ক্বিব্লা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি চট্টগ্রাম অবস্থানকালে বিভিন্ন প্রোগ্রাম ছাড়াও প্রতিদিন বাদে ফজর বলুয়ার দীঘিপাড় খান্ক্বাহ্ শরীফে প্রাণবন্ত পরিবেশে পবিত্র কোরআন করীমের আয়াতসমূহের র্দস ও তাফ্সীর করতেন অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায়। এতে হুজুর ক্বিব্লার জ্ঞানের গভীরতা এবং খোদায়ী রহস্যের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণ পরিদৃষ্ট যেমন হতো তেমনি হুজূর ক্বিব্লার আশেকদের মনে রূহানী খোরাক যোগাত, সিল্সিলার উন্নতি (ত্বরক্কি) ও মুরিদের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় হুজূর ক্বিব্লা আন্জুমানকে বিস্তৃত পরিসরে খান্কাহ শরীফ প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন। এতে গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর আধ্যাত্মিক ইশারাও ছিল।
১৯৭৯ সালে হুজূর ক্বিব্লা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২২ জন পীরভাইসহ যিয়ারতের উদ্দেশে গাউসে পাক হযরত আবদুল কাদের জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু’র মাযার মোবারকে (বাগদাদ শরীফ) উপস্থিত হন। সেখানে অবস্থানকালে একদিন রাত প্রায় ১২টার পর হুজুর ক্বিব্লা আকস্মিকভাবে আন্জুমানের সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাকারিয়া সাহেবকে ডেকে বললেন- মাওলানা জালালুদ্দীনকো বুলাইয়ে (জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আলক্বাদেরী)। তিনি অধ্যক্ষকে নিয়ে হুজূর ক্বিবলার সামনে উপস্থিত হলে হুজূর কেবলা রহমাতুল্লাহি আলাইহি সকলের উপস্থিতিতে এরশাদ করলেন-
“আভী আভী হুজূর গাউসে পাক শাহেনশাহে বাগদাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কি তরফ্ছে অর্ডার হুয়া হ্যায় আলমগীর খানক্বাহ্ শরীফ বানানা হ্যায়, আউর মাজমুয়ায়ে ছালাওয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাপওয়ানা হ্যায়, আউর ইয়ে বাত ভা-য়ূঁকো ছমঝা দিজিয়ে’’। অর্থাৎ: এ মাত্র হুজুর গাউছে পাক শাহেনশাহে বাগদাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি‘র পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে আলমগীর খানক্বাহ্ শরীফ তৈরি করতে হবে এবং মাজমুয়ায়ে ছালাওয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাপাতে হবে; আর এ নির্দেশ ভাইদেরকে বুঝিয়ে দিন। তখন হুজূর কেবলা রহমাতুল্লাহি আলাইহি‘র নির্দেশে বিষয়টি অধ্যক্ষ সাহেব ভাইদেরকে বুঝিয়ে দিলেন। হুজূর কেবলার নির্দেশ মতে পরবর্তীতে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়ার মাধ্যমে আলমগীর খানকাহ্ এ কাদেরীয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উল্লেখ্য, শাহেনশাহে সিরিকোট আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটী রহমাতুল্লাহি আলাইহি একদিন দুপুরের খাবার গ্রহণের পর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার তৎকালীন অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ ওয়াক্বার উদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি‘র বাসভবনে বিশ্রাম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেন-
‘ইহাঁ হাম মিছকিনূঁ কেলিয়ে এক ঠিকানা হো’ (এখানে আমরা মিসকিনদের জন্য এক আশ্রয় হওয়া চাই)। সে পবিত্র জবানে উচ্চারিত ‘ঠিকানা’ই বর্তমানের আলমগীর খানকাহ্-এ-ক্বাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া যা সিলসিলায়ে আলিয়া ক্বাদেরিয়ার ফয়েজ প্রার্থীদের প্রাণকেন্দ্র।
মোট কথা, আল্লামা তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকৃত প্রেমিক ও নায়েব, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আদর্শ। “কী মুহাম্মদ ছে ওয়াফা তু-নে তুহাম্ তেরেহ্,ে ইয়ে জাহাঁ চীজ্ হ্যায় কেয়া লওহ ক্বলম্ তেরে হ্যায়।” মহাকবি আল্লামা ইকবালের কবিতার এ চরণ তিনি এত বেশি তুলে ধরতেন যে এক পর্যায়ে এটি সাধারণ লোকদের অন্তরেও গেঁথে গেছে। এর অর্থ- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাদারী করো তবে আমি খোদাও তোমার হবো, এই দুনিয়াতো সামান্য বিষয়; র্আশ-কুরসিও তোমার হবে।
গাউসে জামান তৈয়্যব্ শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ছিলেন এ শতাব্দীতে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে সুন্নিয়াত ও ত্বরিক্বতের এক মহান সংস্কারক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশে মাত্র এক দশকে তিনি শরিয়ত ত্বরিক্বতের মরুদ্যানে এতই অভাবনীয় সুফল বয়ে এনেছেন যাতে হুজূর সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর ওই মহান বাণী “তৈয়্যব্ কা মক্বাম বহুত্ উঁচা হ্যায় ” এর যথার্থতা আরো পরিষ্ফুট হয়ে ওঠেছে।
১৯৮৬ সাল হুজুরের এদেশে শেষ সফর। এ বছর স্বদেশে ফেরার পর আনজুমান এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়াকে নির্দেশ দেন গাউসিয়া কমিটি গঠন করায় বর্তমানে ‘গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র অনেক বিস্তৃতি লাভ করেছে শুধু দেশে নয় বিদেশেও এ সংগঠনের শাখা রয়েছে। এটার মাধ্যমে শরিয়ত-ত্বরিক্বতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সমাধা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরো বেশী হবে ইন্শা আল্লাহ। এভাবে মোর্শেদে বরহক্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রে রেখে গেছেন উজ্জ্বল অবদান। হুজূর ক্বিব্লা (রাঃ) ১৪১৩ হিজরির ১৫ যিল্হজ্ব, ১৯৯৩ ইংরেজির ৭ জুন সোমবার সকাল ৯টায় সিরিকোট শরীফে ওফাত লাভ করেন। পরদিন মঙ্গলবার বর্তমান হুজূর ক্বিব্লা ‘সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্’ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী‘র ইমামতিতে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং আব্বাজান হযরত সৈয়দ আহমদ শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। এদিকে ১৯৭৬ সালে হুজুর কেবলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি মাশায়েখ্ হযরাতে কেরামের ইশারায় তাঁর দুই সাহেবজাদা ‘সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্’ মাদ্দাজিল্লুহুল্ আলী এবং পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবের শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল্ আলী কে খেলাফত প্রদান করে নিজ স্থলাভিষিক্ত করেন। হযরত সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এক সময় বলেছিলেন, “তৈয়্যব আউর তাহের কাম সাম্বালেঁগে, সাবের শাহ্ বাঙ্গাল্কা পীর বনেগা।” সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর পর গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ত্বরিক্বতের কাজ যথার্থভাবে সামাল দিয়েছিলেন। বর্তমানে হুজূর ক্বিব্লা তাহের শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল্ আলীও অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বর্তমান হুজূর ক্বিব্লা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল্ আলী নিয়মিত বাংলাদেশ সফরে আসছেন। বিশেষত হুজূর ক্বিবলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর ওফাত (১৯৯৩ ইংরেজি) পরবর্তী তার আবির্ভাব ছিলো পূর্ববর্তী সময় থেকে আলাদা এক রওনকের ধারক হিসেবে। হুজূর ক্বিব্লার বরকতময় পদচারণায় উত্তরবঙ্গ ও সিলেট অঞ্চলে দ্বীন ও ত্বরিক্বতের এক নবযুগের সূচনা হয়েছে। দক্ষিণ অঞ্চলেও অনুরূপ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। হুজূর ক্বিব্লা যেখানেই পদার্পণ করছেন সেখানেই প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, খান্ক্বাহ্, মসজিদ ইত্যাদি।
ইতোমধ্যে দেশে মাশায়েখে কেরামের নামে অন্তত শতাধিক মাদ্রাসা, সংস্থা ও সংগঠন গড়ে উঠেছে। এ যেন এক দ্বীনী বিপ্লব। এ বিপ্লব অব্যাহত থাকবে ইন্শা আল্লাহ্।
আল্লাহ্র শোকর যে, উক্ত মাশায়েখ্-হযরাতের উসিলায় আল্লাহ্ আমাদের কাদেরিয়া ত্বরিক্বা নসীব করেছেন। এ ত্বরিক্বাতেই যেন আমাদের মৃত্যু হয়। আ‘লা হযরত শাহ্ আহ্মদ রেজা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর ভাষায় মুনাজাত করি-“ক্বাদেরী র্ক ক্বাদেরী রাখ, ক্বাদেরীওঁ মে উঠা ; ক্বদ্রে আবদুল্ ক্বাদেরে ক্বুদ্রত নুমাকে ওয়াস্তে” আরো সৌভাগ্য যে, আমাদের ওই পীর মাশায়েখ্গণ রাসূলে আক্রাম্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বংশধর তথা আহ্লে বায়ত। হাদীস শরীফে আহ্লে বায়াত্দের নূহ্ আলাইহি স্সালাম এর জাহাজতুল্য, হেদায়তের আদর্শ বলা হয়েছে। বাস্তবেও আজ হযরাতে কেরাম আমাদের ঈমান-আক্বিদা ও আমলের হেফাজতের ক্ষেত্রে নূহ্ আলাইহিস্ সালাম এর জাহাজতুল্য ভূমিকা রাখছেন। যুগের অলিকূল সম্রাটগণ গাউসে জামান এর পদমর্যাদায় অভিষিক্ত হন। যুগে যুগে এ সর্বোচ্চ মর্যাদার আসন ক্বাদেরিয়া ত্বরিক্বা ও আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামগণের অধীনেই ছিল এবং থাকবে ইন্শাআল্লাহ। খাজা চৌর্হভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর প্রধান খলীফা হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিকেও এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, গাউসে জামান পদটি কাদেরিয়া ত্বরিক্বার জন্য বরাদ্দ আছে। এ ত্বরীক্বায় উপযুক্ত প্রতিনিধির অভাব ঘটলেই ঘরের এ মহান নেয়ামত অন্য কোথাও চলে যেতে পারে। খাজা চৌহ্রভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এর এ মন্তব্য আমাদের উপরিউক্ত মাশায়েখ এর গাউসে জামান হবার প্রতি একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
জিনকে হার ্হার ্আদা সুন্নাতে মুস্তফা
এয়সে পীরে তরীক্বত পেহ্ লাখোঁ সালাম
রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত হযরতুল্ আল্লামা আলহাজ্ব
সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল্ আলী এর
বংশগত শাজরা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
০১। হযরতফাতেমাতুজ্জাহ্রা(রা.)সহধর্মিনী হযরত আলী
০২। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)
০৩। হযরত ইমাম জয়নুল আবেদীন (রা.)
০৪। হযরত ইমাম বাক্বের (রা.)
০৫। হযরত ইমাম মুহাম্মদ জাফর সাদেক্ব (রা.)
০৬। হযরত সৈয়্যদ ইসমাইল (রা.)
০৭। হযরত সৈয়্যদ জালাল (রা.)
০৮। হযরত সৈয়্যদ শাহ্ ক্বায়েম (কায়েন) (রা.)
০৯। হযরত সৈয়্যদ জাফর (ক্বা’ব) (রা.)
১০। হযরত সৈয়্যদ ওমর (রা.)
১১। হযরত সৈয়্যদ গফ্ফার (রা.)
১২। হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ গীসুদারাজ (রা.)৪২১ হিঃ
১৩। হযরত সৈয়্যদ মাসুদ মাস্ওয়ানী (রা.)
১৪। হযরত সৈয়্যদ তাগাম্মুজ্ শাহ্ (রা.)
১৫। হযরত সৈয়্যদ ছুদুর (রা.)
১৬। হযরত সৈয়্যদ মুছা (রা.)
১৭। হযরত সৈয়্যদ মাহ্মুদ (রা.)
১৮। হযরত সৈয়্যদ আবর্দু রহিম (রা.)
১৯। হযরত সৈয়্যদ আবদুল গফুর (রা.)
২০। হযরত সৈয়্যদ আবদুল জালাল (রা.)
২১। হযরত সৈয়্যদ আবদুর রউফ (রা.)
২২। হযরত সৈয়্যদ আবদুল করিম (রা.)
২৩। হযরত সৈয়্যদ আবদুল্লাহ্ (রা.)
২৪। হযরত সৈয়্যদ গফুর শাহ্(রা.)(প্রকাশ-কাপুর শাহ্ সিরিকোট)
২৫। হযরত সৈয়্যদ নফ্ফাস্ শাহ্বা তাফাহ্হুছ্ শাহ্ (রা.)
২৬। হযরত সৈয়্যদ আবী শাহ্ মুরাদ (রা.)
২৭। হযরত সৈয়্যদ ইউসুফ শাহ্ (রা.)
২৮।হযরত সৈয়্যদ হোসাইন শাহ্(হোসাইন খিল্)(রা.)
২৯। হযরত সৈয়্যদ হাজী হাসেম (রা.)
৩০। হযরত সৈয়্যদ আবদুল করিম (রা.)
৩১। হযরত সৈয়্যদ ঈসা (রা.)
৩২। হযরত সৈয়্যদ ইলিয়াছ (রা.)
৩৩। হযরত সৈয়্যদ খোশ্হাল (রা.)
৩৪। হযরত সৈয়্যদ শাহ্ খাঁন (রা.)
৩৫। হযরত সৈয়্যদ কাজেম (রা.)
৩৬। হযরত সৈয়্যদ খানী জামান শাহ্ (রা.)
৩৭। হযরত সৈয়্যদ ছদর শাহ্ (রা.)
৩৮। হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রা.)
৩৯। হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ ্ (রা.)
৪০। (ক) হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (ম.)
(১) সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাশেম শাহ্ (ম.)
সৈয়্যদ মুহাম্মদ মাশহূদ শাহ্ (ম.)
সৈয়্যদ মুহাম্মদ মামূন শাহ্ (ম.)
(২) সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্ (ম.)
সৈয়্যদ মুহাম্মদ শহীদ আহমদ শাহ্
(৩) সৈয়্যদ মুহাম্মদ আহমদ শাহ্ (ম.)
(খ) হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ ছাবের শাহ্ (ম.)
(১) সৈয়্যদ মুহাম্মদ মাহমূদ শাহ্ (ম.)
(২) সৈয়্যদ মুহাম্মদ আক্বিব শাহ্ (ম.)
সিলসিলার সবক্ব (পুরুষের জন্য)
ক) ফজরের নামাজের পর
১। দরুদ শরীফ ১০০ (একশত) বার
আল্লা-হুম্মা ছল্লি ‘আলা- সায়্যিদিনা- মুহাম্মাদিন্ ওয়া ‘আলা- আ-লি সায়্যিদিনা- মুহাম্মাদিন্ ওয়া বা-রিক্ ওয়া সাল্লিম্।
২। লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ্ * ২০০ (দুইশত) বার।
৩। ইল্লাল্লা-হ্ ২০০ (দুইশত) বার।
৪। আল্লা-হুূ ২০০ (দুইশত) বার।
* লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বাক্যটির শেষ শব্দ ইল্লাল্লাহ-এর শেষাক্ষর আরবী ‘হা’ এর উপর জোর দিয়ে পড়তে হবে, যেন আল্লাহ্ শব্দটি পুরাপুরিভাবে উচ্চারিত হয়।
খ) মাগরিবের নামাজের (ফরজ ও সুন্নতের) পর
১। সালাতে আউওয়াবীন (নামাজ) ৬ রাকা’ত
সালাতে আউওয়াবীন (নামাজ) এর নিয়ম
তিন রাকা’ত ফরজ ও দুই রাকা’ত সুন্নত আদায়ের পর, দুই রাকা‘ত করে তিন নিয়তে ছয় রাকা’ত নামাজ আদায় করতে হবে, প্রতি রাকা’তে একবার সূরা ফাতিহা (আল্হাম্দু শরীফ) ও তিনবার সূরা ইখ্লাছ (ক্বুল্ হুওয়াল্লাহু আহাদ্)।
নিয়্যত: নাওয়াইতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকা’তাই সালাতিল্ আউওয়াবীন, মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জ্বিহাতিল্ কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আক্বর।
২। দরূদ শরীফ (পূর্বে বর্ণিত নিয়মে) ১০০ বার।
এশার নামাজের পর
১। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ* ২০০ (দুইশত) বার।
২। ইল্লাল্লাহ্ ২০০ (দুইশত) বার।
৩। আল্লাহু ২০০ (দুইশত) বার।
দ্রষ্টব্য ঃ ফজর ও এশা‘র নামাজের পর কোন জরুরী কাজ থাকলে অথবা শারীরিক অসুবিধা বোধ করলে যিক্র সমূহ ফজর ও এশা‘র নামাজের পূর্বেও আদায় করার ইজাযত (অনুমতি)আছে। উল্লেখ্য, ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য প্রত্যেক যিক্র্ ২০০ এর পরিবর্তে ১০০ বার পড়ার অনুমতি আছে।
সিল্সিলার সবক্ব (মহিলার জন্য)
ক) ফজরের নামাজের পর
১। দরূদ শরীফ ১০০ (একশত)বার।
আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন্ ওয়া আলা
আলি সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন্ ওয়াবারিক্ ওয়াসাল্লিম্
২। প্রত্যেকবার ‘বিস্মিল্লার্হি রাহ্মার্নি রাহিম’ সহকারে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মার্দু রসূলুল্লাহ্’ ১০০ (একশত) বার।
খ) মাগরিবের নামাজের (ফরজ ও সুন্নাত) পর
১। সালাতে আউওয়াবীন (নামাজ) ৬ রাক্া’ত।
সালাতে আউওয়াবীন (নামাজ)এর নিয়ম:তিন রাকা’ত ফরজ ও দুই রাকা’ত সুন্নাত আদায়ের পর দুই রাকা’তের নিয়ত করে প্রতি রাকা’তে একবার সূরা ফাতিহা (আল্হামদু) ও তিনবার সূরা ইখ্লাছ (ক্বুল হুয়াল্লাহু আহাদ্) পড়ে তিন নিয়্যতে ছয় রাকা’ত নামাজ আদায় করতে হবে।
নিয়্যত: নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকা’তাই সালাতিল্ আউওয়াবীন, মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আক্বার।
২। দরূদ শরীফ- আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন্ ওয়া আলা আলি সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন্ ওয়াবারিক্ ওয়াসাল্লিম ১০০ (একশ) বার।
গ) এশা‘র নামাজের পর
“বিসমিল্লাহির রাহ্মার্নি রাহিম” সহকারে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্” ১০০ (একশত) বার।
দ্রষ্টব্য ঃ ফজর ও এশা‘র নামাজের পর কোন জরুরি কাজ থাকলে অথবা শারীরিক অসুবিধা বোধ করলে যিক্রসমূহ ফজর ও এশা‘র নামাজের পূর্বে আদায় করার ইজাযত (অনুমিত) আছে।
বায়াত করার পর হুযূর ক্বিব্লার নসীহত্
প্রথম নসীহত্: আপনাদের বায়াত সিল্সিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়ায়ে সম্পন্ন হল। এটা শাহেন শাহে বাগদাদ সায়্যিদিনা আব্দুল কাদের জিলানী রদিয়াল্লাহু আন্হু এর সিল্সিলা। এর রূহানী সম্পর্ক রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে। যাঁরা বায়াত হয়ে যান; তাঁদের উভয় জগতের মঙ্গলের জন্য, কল্যাণের জন্য, সিল্সিলায়ে কাদেরিয়ার মাশায়েখ হজরাতের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সবক্ব রয়েছে। যতখানি মুহাব্বত নিয়ে এগুলো আদায় করবেন ততখানি উপকার পাবেন। না পড়লে, অবজ্ঞা করলে ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এ সমস্ত অযীফা যথানিয়মে আদায় করা উচিত, দশ/পনের মিনিট সময় এতে ব্যয় হয় কিন্তু এতে নিহিত রয়েছে উভয় জাহানের কল্যাণ।
বায়াত হওয়া এবং অকপটে তাওবা করার দরুন আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা’য়ালা সমস্ত গুনাহ্ মাফ্ করে দেন; কিন্তু অপরের হক্ব (অধিকার) মাফ করেন না। সুতরাং কারো কাছ থেকে কর্জ নিয়ে থাকলে, কারো সম্পদ আÍসাৎ করে থাকলে, কারো উপর অবিচার করে থাকলে, যতক্ষণ ওই ব্যক্তি ক্ষমা না করবেন, ততক্ষণ আল্লাহ্ তায়ালা ক্ষমা করবেন না। বাকী যত গুনাহ্ আল্লাহ্ তা’য়ালা মাফ করে দেন।
দুনিয়ায় রূহ এবং শরীর দু’টো একত্রিত হয়ে রয়েছে, আর ইহ জগতে আমাদের সময়টা স্বল্প। নেকী অর্জনের জন্য পূনরায় এ সুযোগ না ক্বিয়ামতে, না কবরে, না পরকালে মিলবে। কাজেই সচেতন থাকবেন। আল্লাহ্ এবং আল্লাহ্র রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাজি রাখবেন, নফ্ছে শয়তানের মোকাবেলা করবেন। বাতিল র্ফেকাগুলো থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আর দ্বীনের খিদ্মত করুন। হুযূর ক্বিব্লার যে সকল দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন- জামেয়া আছে, আছে আন্জুমান এবং আরো অপরাপর যেসব মাদ্রাসা রয়েছে এগুলোর খিদ্মত করুন, যাতে এগুলো থেকে ওলামায়ে কেরাম বের হন। আর এসব ওলামায়ে কেরাম দ্বীনের খিদ্মত করে যাবেন এবং এই দ্বীনি খিদ্মতই আপনাদের জন্য সদ্ক্বায়ে জারিয়া (অব্যাহত পুণ্যধারা) হয়ে থাকবে।
দ্বিতীয় নসীহত : বাতিলপন্থিরা বর্তমানে তৎপর হয়ে উঠেছে। এই বাতিলপন্থিদের কাছ থেকে পৃথক থাকুন। এদের কোন দল ১০০ বছর হতে বের হয়েছে, কোন দল ৮০ বছর হতে বা কোন দল ২০ বৎসর হতে। এই সব বাতিল ফের্কার (দল) সংস্রব থেকে দূরে থাকুন।
কোরআন শরীফ নাযিল হওয়ার পর আর কোন কিতাব আসমান হতে আসতে পারে না এবং হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কোন নবীও পৃথিবীতে আসতে পারেন না। আমাদের ‘দ্বীন’ ইসলাম। আর এতে আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ হতে চৌদ্দ শত বছর পূর্বে নিয়ে এসেছেন। এটাই আমাদের- দ্বীন। এই দ্বীন সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম ও আইম্মায়ে মুজ্তাহিদীনের। যত অলী-আল্লাহ্ দুনিয়ায় তাশ্রিফ এনেছেন সকলের দ্বীন-ইটাই। একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরুন। মন্দ লোক, মন্দ সমাজ, এবং মন্দ মাহফিল, সভা হতে পৃথক থাকুন, যাতে ঈমান বিনষ্ট না হয়। যথাসম্ভব জামেয়ার খিদ্মত করুন। ঢাকা- মাদ্রাসার খিদ্মত করুন। এগুলো আহ্লে সুন্নাত ওয়াল্ জামাতের খাঁটি প্রতিষ্ঠান। এখান হতে হক্কানী আলেম-বের হন। আর তাঁরা দ্বীনের খিদ্মত করেন; বাতিল ফের্কার সঙ্গে মোকাবেলা করেন। আপনাদের সঙ্গে উলামা না থাকলে আপনারা কিভাবে মুকাবেলা করবেন? আলেম সম্প্রদায়ের অত্যন্ত প্রয়োজন। এ সব মাদ্রাসার সাথে আন্তরিকতা ভালোবাসা রাখুন, খিদ্মত করুন এবং এগুলোর সাহায্যে এগিয়ে আসুন। আমাদের শত্র“ আমাদের সাথে আছে। নফ্ছে আম্মারা আমাদের দুশমন। শয়তান আমাদের শত্র“। শয়তানকে জুতা মারুন। আল্লাহর নির্দেশকে শিরোধার্য রাখুন।
হুযূর ক্বিব্লার আরো কতিপয় এরশাদ
বায়াতের সময় দরুদ শরীফসহ যেই চার সবক্ব দেওয়া হয়েছে এর অতিরিক্ত সবক্ব বা যিক্র হুযূর ক্বিব্লার ইজাযত (অনুমতি) নিয়ে আদায় করতে হবে। যাদেরকে একবার ইজাযত দেয়া হয়েছে তাদের পুনঃ ইজাযত প্রয়োজন নেই। সকল পীর ভাই-বোনদের জন্য সালাতে হিফ্জিল্ ঈমান ও সালাতে কাশ্ফিল্ আর্স্রা (নামাজ) আদায়ের ইজাযত হুযূর কেবলার পক্ষ হতে দেয়া হয়েছে।
হিফজুল ঈমান নামাযের নিয়ম
ছয় রাকা’ত আওয়াবীন নামাজের পর দুই রাকা’তের নিয়ত করে প্রতি রাকা’তে একবার সূরা ফাতিহা (আল্হাম্দু শরীফ) ও সাতবার সূরা ইখলাছ (ক¦ুল্হু আল্লাহু আহাদ) শরীফ পড়ে আদায় করতে হবে। নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার একবার সিজদায় গিয়ে পড়বেন-
“ইয়া হায়্যূ ইয়া ক্বয়্যূমূ, ইয়া হায়্যূ ইয়া ক্বয়্যূমু, ইয়া হায়্যূ ইয়া ক্বয়্যূমু, সাব্বিত্নী আলাল্ ঈমান।”
নিয়্যত: নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকা’তাই সালাতি হিফ্জিল্ ঈমান, মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আক্বর।
কাশফুল্ আসরার নামাযের নিয়ম
এশা‘র ফরজ ও দুই রাকা’ত সুন্নাত আদায়ের পর দুই রাকা’তের নিয়্যত করে প্রতি রাকা’তে ১ বার সূরা ফাতিহা (আল্ হাম্দু) ও ১১ বার, সূরা ইখলাছ (ক্বুল্ হুয়াল্লাহু আহাদ্) শরীফ পড়ে নামাজ আদায় করতে হবে। রমজান মাসে এ নামাজ বিতির নামায এর পর পড়ার নির্দেশ রয়েছে।
নিয়ত : নাওয়াইতুা আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকা’তাই সালাতি কাশ্ফিল্ আসরার মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল্ কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আক্বর।
নি¤œলিখিত ইস্তিগফার ও তাস্বীহ্ ফজরের নামাজের পর নিয়মিত সবক্বের পরে প্রত্যেহ আদায় করলে ভাল হয়, যদি ওই সময় সুযোগ পাওয়া না যায় তবে ঐদিনের যে কোন সময় আদায় করতে হবে।
তৃতীয় সবক্ব সকালে ও বিকালে ৩ (তিন) বার করে পড়বেন। নিয়মিত পাঠ করলে সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
(১) “আস্তাগ্ফিরুল্লাহাল্লাজী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল্ হাইয়্যূল্ ক্বয়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি”: ১০০ বার। (২) “সুব্হানাল্লাহি ওয়া বিহাম্দিহী সুব্হানাল্লাহিল্ আলিয়্যিল্ আযীম, ওয়া বিহাম্দিহি আস্তাগ্ফিরুল্লাহ্”: ১০০ বার। (৩) “বিস্মিল্লাহিল্লাযী লা- ইয়ার্দুরু মা’আ- ইস্মিহী শাইয়্যূন্ ফিল্ র্আদি ওয়ালা ফিস্ সামায়ি ওয়া হুয়াস্ সামীউল্ আলীম” (৩ বার)। (৪) সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকালে দরূদে তাজ একবার।
প্রত্যেক ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফিরিয়ে নিুোক্ত দোয়া ও দরূদ শরীফ একবার করে পড়ার জন্য হুজূর ক্বিবলা নির্দেশ দিয়েছেন:
১। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকালাহূ লাহুল্ মূল্কু ওয়া লাহুল্ হাম্দু ইউহ্য়ী ওয়া য়ুমীতু ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শাইয়ীন্ ক্বাদীর।
আস্সালাতু ওয়াস্ সালামু আলাইকা
সায়্যাদী ইয়া রসূলাল্লাহ্।
আস্সালাতু ওয়াস্ সালামু আলাইকা
সায়্যাদী ইয়া নাবীয়্যাল্লাহ্।
আস্সালাতু ওয়াস্ সালামু আলাইকা
সায়্যাদী ইয়া হাবীবাল্লাহ্।
ওয়া ‘আলা- আ-লিকা ওয়া আস্হা-বিকা
ইয়া সায়্যাদী ইয়া হাবীবাল্লাহ।
সিল্সিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়ার
১১ সবক্ব নিম্নরূপ
১। দরূদ শরীফ (পূর্ব নিয়মে) ১০০ বার
২। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ২০০ বার
৩। ইল্লাল্লাহ্ ২০০ বার
৪। আল্লাহু ২০০ বার
৫। আল্লাহ ২০০ বার
৬। হূ আল্লাহ্ ২০০ বার
৭। হূ ২০০ বার
৮। হু আল্লাহুল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লাহু ১০০ বার
৯। আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহু ১০০ বার
১০। আন্-লা-ইলাহা ইল্লাহু ১০০ বার
১১। আন্তাল হাদী আন্তাল হক্ব লাইসাল্ হাদী ইল্লাহু ১০০ বার
হুজূর ক্বিব্লার নির্দেশিত সবক্ব ও নামাজ ইত্যাদি নিয়মিত আদায় করলে দিন-রাত ইহ ও পরকালের উন্নতি হবে। আদায় না করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য অনুমতি প্রাপ্ত সবক্ব ব্যতীত অপর সবক্বগুলো আদায় করতে চাইলে পুনঃঅনুমতি গ্রহণ আবশ্যক।
না‘তে রসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ছব্ছে আওলা ও আ’লা হামারা নবী
ছব্ছে বালা ও ওয়ালা হামারা নবী।
আপ্নে মওলাকা পেয়ারা হামারা নবী
দোনো আলম্কা দুল্হা হামারা নবী।
বঝ্মে আর্খে-কা শাময়া’ ফেরোঝাঁ হুয়া
নূরে আউয়াল্কা ঝল্ওয়া হামারা নবী।
জিছ্কো শায়াঁ হ্যায় র্আশে খোদা র্প জুলূছ
হ্যায় উয়হ্ সুল্তানে ওয়ালা হামারা নবী।
বুঝ্গেয়ী জিস্কে আগে ছবহী মশ্আলেঁ
শাময়া উয়হ্ লে-র্ক আয়া হামারা নবী।
জিন্কে তল্উকা দো-বো-ন্দ হ্যায় আবে হায়াত
হ্যায় উয়হ্ জানে মছীহা হামারা নবী।
আরশ কুরছি কি থী আয়না বনদিয়াঁ
ছোয়ে হক্ব জব্ ছুদ্হারা হামারা নবী।
খল্ক্বছে আউলিয়া আউলিয়া ছে রুছুল
আওর রছূলূঁছে আ’লা হামারা নবী।
আছমানোঁ হি র্প ছব্ নবী রাহ্ গেয়ে
র্আশে আযম্পে পৌহ্চাঁ হামারা নবী।
হোছন খাতা হ্যায় জিছ্কে নমক্কি কছম
্ উয়হ্ মলিহে দিলারা হামারা নবী।
জিক্র ছব্ পীকে জব্তক না-ময্কুর হোঁ
নম্কিন হোসন ওয়ালা হামারা নবী।
জিছ্কি দো‘বোন্দ হেঁ কওছার ও ছল্ছবিল
হ্যায় উয়হ্ রহ্মত্কা র্দয়া হামারা নবী।
জেয়ছে ছব্কা খোদা এক হ্যায় ওয়েছে হি
ইনকা উন্কা তোম্হারা হামারা নবী।
করনোঁ বদ্লী রসূলুঁকি হোতি রহি
চাঁদ বদ্লী কা নিক্লা হামারা নবী।
কওন দেতা হ্যায় দেনে কো মুঁহ্ চাহিয়ে
দেনে ওয়ালা হ্যায় সাচ্ছা হামারা নবী।
কেয়া খর্ব কেত্নে তারে কিলে ছুপ গেয়ে
পর না ডুবে না ডুবা হামারা নবী।
মুল্কে কওনাইন্মে আম্বিয়া তাজের্দা
তাজেদারোঁ কা আক্বা হামারা নবী।
লা মকাঁ তক্ উজালা হ্যায় জিস্কো উয়হ্ হ্যায়
হার মঁকা কা উজালা হামারা নবী।
চারে আচ্ছোঁ মে আচ্ছা ছম্জিয়ে জিছে
হ্যায় উছ্ আচ্ছে ছে আচ্ছা হামারা নবী।
চারে উঁচু মে উঁচা ছমজিয়ে জিঁছে
হ্যায় উছ্ উচোঁছে উঁচা হামারা নবী।
আম্বিয়া ছে করু আরজ কেউঁ মালেকো
কেয়া নবী হ্যায় তোম্হারা হামারা নবী।
জিছ্নে টুক্ড়ে কিয়ে হেঁ ক্বমরকো উয়হ্
হ্যায় নুরে ওয়াহ্দত্কা টুক্ড়া হামারা নবী।
ছব্ চমক্ ওয়ালে উজ্লুঁমে চম্কা কিয়ে
আন্ধে শিশোঁ মে চম্কা হামারা নবী।
জিছ্নে মুরদা দিলোঁকো দী ওম্রে আবদ
হ্যায় উয়হ্ জানে মছীহা হামারা নবী।
গম্জদোঁকো রেজা মুশ্দাদী জে কেহ্ হ্যায়
বে কছুঁ-কা ছাহারা হামারা নবী।
না’তে মোস্তফা
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
র্ছকারে দো আলম্ কা মিলাদ মানাতে হেঁ;
এক্ জিন্দা হাক্কীক্কত্ কা এহ্ছাছ দেলাতে হেঁ।
মে’রাজ কি শব্ আহ্মদ(দ.) মেহ্মানে খুছুছী থেঁ;
ইউঁ র্আশ বরি র্পভি ওহ্ জুত জাগাতে হেঁ।
তান্ক্বীদ নবীয়ূঁ র্প ইব্লিছ কা শিওয়া হ্যায়;
তুফান ইয়ে বিদ্আত কা শয়তান উঠাতে হেঁ।
কাহ্নেকো তো কাহ্তে হেঁ খোদ জেয়চা বশর,লেকিন;
ছরকারকে রওজে র্প, ছব্ ছেরকো ঝুকাতে হেঁ।
হাম ভুল নেহি ছেক্তে সা-দাত কি কোরবানী;
দরবারে ইয়াজিদী মে উয়হ্ বাত ছুনাতে হেঁ।
হ্যায় আউয়াল্ ও মাক্তা মাফহুম্ খোলা লেকিন;
উহ্ বাত ছুপাতে হেঁ, হাম্ ছাফ্ বাতাতে হেঁ।
দুনিয়া হোকে ওক্কবা হো আহ্মদ(দ.) কা উছিলা হ্যায়
দম্ উন্কা হি ভরত্ েহেঁ, গুণ্ উন্কা হি, গাতে হেঁ।
ইকবাল! মোহাম্মদ (দ.) কা মাম্নুন্ খোদায়ী হ্যায়;
ইছ নাম্ছে হাম্ বিগ্ড়ী তক্কদীর বানাতে হেঁ।
শানে গাউসে পাক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু
তু হ্যায় উয়হ্ গাউস কেহ্ হার গাউস হ্যায় শায়দা তেরা
তু হ্যায় উয়হ্ গাইছ কেহ্ হার গাইছ হ্যায় পিয়াসা তেরা
ছার ভালা কেয়া কুঈ জা-নে কেহ্ হ্যায় ক্যায়সা তেরা
আউলিয়া মল্তে হ্যাঁয় আঁখী উয়হ্ হ্যায় তাল্ওয়া তে-রা
কেয়া দবে জিস্-পেহ্ হেমায়ত কা-হো পান্জা তে-রা
শের কো খাত্রে মে লা-তা নেহী কুত্তা তে-রা।
তু হোসাইনী, হাসানী কেঁউ নাহ্ মুহি উদ্দীন হো
আয় খিজ্রে মাজ্মা-ই বাহ্রাঈন হ্যায় চশ্মা তে-রা।
কেঁউ নাহ্ কাসিম হো কেহ্ তু ইব্নে আবিল কাসিম হ্যায়
কেঁউ নাহ্ ক্বাদের হো কেহ্, মোখ্তার হ্যায় বাবা তেরা।
নববী মেহ্,ঁ আলভী ফাস্ল, বতুলী গুল্শান্
হাসানী ফুল, হোসাইনী হ্যায় মাহক্না তেরা।
নববী যিল্, আলভী বুরজ্, বতুলী মন্যিল্
্হাসানী চান্দ, হোসাইনী হ্যায় উজালা তেরা।
জু অলী ক্বব্ল থে ইয়া বা’দ হুয়ে ইয়া হোঙ্গে
ছব আদব্ রাখ্তে হ্যাঁ দিল্ মে মেরে আ-ক্বা তে-রা।
ছারে আক্বতাবে জাঁহা র্কতে হ্যায় কা’বে কা তাওয়াফ
কা’বা র্কতা হ্যায় তাওয়াফ দরেওয়ালা তে-রা।
রাজ কিস্ শাহ্র মে র্কতে নেঁহী তে-রে খোদ্দাম
বা’জ কিস্ নাহ্র ছে-লেতা নেঁহী দরিয়া তে-রা।
ছোক্র কে জোশ মে জো হ্যায় উয়হ্ তুঝে কেয়া জানেঁ
খিয্র কে হোশ ছে পুছে কুঈ রোত্বাহ্ তে-রা।
আক্বল্ হো-তী তু খোদা ছে না লড়াই লে-তে
ইয়ে ঘটায়ে! উছে মন্জুর বড়হানা তে-রা।
ওয়া রাফা’না লাকা যিক্রাক্’ কা হ্যায় ছায়া তুঝ পর,
বোল বালা হ্যায় তেরা যিক্র্ হ্যায় উঁচা তে-রা।
মিট্ গেয়ে মিট্তে হ্যাঁয়, মিট্ জায়েঙ্গে আ’দা তে-রে
নাহ্ মিটে হ্যায়, নাহ্ মিটে গা, কভী চর্চা তে-রা।
তু ঘাটায়ে ছে কেছীকে না ঘটা হ্যায় না ঘটে
জব্ বাড়্ হায়ে তুঝে আল্লাহু তাআলা তে-রা।
কুঞ্জিঁয়া দিল্ কী খোদা নে তুঝে দী আয়ছা র্ক
কেহ্ ইয়ে ছীনা হো মুহাব্বত্ কা খযীনা তে-রা।
দিল পেহ্ কোন্দাহ্ হো তেরা নাম তু উয়হ্ দুঝ্দে রাজীম
উলেট হী পাঁও ফেরে দে-খ্ কে তুগ্রা তে-রা।
আরযে আহ্ওয়াল কী আ-খোঁ মে কাঁহা তাব মর্গ
আ-খী তাক্তী হ্যাঁয় আয় আব্রে করম্ রছ্তা তে-রা।
তুঝ্ ছে দর, দর ছে ছগ্ আওর হ্যাঁয় মুঝকো নিছ্বত্
মেরী গর্দান মে ভী হ্যায় দুর’কা ডোরা তে-রা।
ইছ্ নিশানী কে জো ছগ্ হ্যায় ন্হেী মা-রে জা-তে
হাশ্র তক্ মে-রে গলে মে রহে পাট্টা তে-রা।
বদ্ ছহী, র্চো ছহী, মুজরেম্ ও না-কারাহ্ ছহী,
আয় উয়হ্ কায়ছাহী হ্যায় তু করীমা তে-রা।
তেরী ইজ্জত্ কি নেছার; আয় মেরী গায়রত ওয়ালে
আহ্ ছদ্ আহ্ কেহ্ ইউঁ র্খা হো বোর্দাহ্ তে-রা।
আয় রেযা! ইউ নাহ্ বল্ক তু নেহী জাইয়েদ্তু নাহো
সায়্যিদে জাইয়্যেদে হার দাহ্র হ্যায় মাওলা তে-রা।
হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী
রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি এর শানে
পীরে কামেল্ ছাহেবে তাছির খাজা চৌহ্রভী
আলেমে ইল্মে লাদুনি পীরে খাজা চৌহ্রভী।
এল্ম কিয়া ছীখে কেছীছে আশিক্বে ইশ্ক্বে নবী
এল্মওয়ালে তেরে দামান্গীর খাজা চৌহ্রভী।
ইছ্ জাহাঁমে জার্ন্ক গুম্নাম বর্ন্ক তু-রাহা
মজমুয়া মে হ্যায় শরাহ্ তাহ্রীর খাজা চৌহ্রভী।
তেরী ইয়াদে পাক্ হ্যায় মজ্মুয়া সালাওয়াতে রাসুল
হ্যায় তেরা ইয়ে ফয়জে আলম্গীর খাজা চৌহ্রভী।
গাউসে আজম্কা খলীফা ছাহেবে ইশ্ক্বে নবী
কেঁউ নাহো তেরী নিছ্বতে দিল্গীর খাজা চৌহ্রভী।
র্হাদমও র্হা ওয়াক্ত মে নাছীয ছে হ্যায় ইয়ে দু‘আ
হো যিয়ারত কি কুয়ী তদ্বীর খাজা চৌহ্রভী।

 

হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটী
রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি এর শানে
র্মাহাবা ছদ্, র্মাহাবা ছদ্, র্মাহাবা ছদ্, র্মাহাবা
আয্বরায়ে মুর্শিদে মা সৈয়্যদ আহমদ র্মাহাবা।
মাসকানাশ্রা র্গতুজুয়ী র্দ হাজারা জিলা’দাঁ
ইঁ-চুনী পীরে মগাঁ র্হাগিয্ নাদীদম্ র্দজাহাঁ।
আয্বরায়ে আহ্লে সুন্নাত মাদ্রাছা র্কদাহ্ বেনা
বাহ্রে ইছ্তীছালে ওহাবী গশ্ত তীরে বে-খত্বা।
জামেয়ায়ে আহমদিয়া সুন্নিয়া নামশ্ বেঁদা
ইয়া এলাহী যিন্দা দারশ্ তা বকায়ে আছমা!
মৌজায়ে নাজিরপাড়া আন্দরাঁ ষোলাশহর।
নামে উঁ আর্ন্দ জাঁহা রৌশান্ বমানদ্ চুঁ বর্দ।
আ ফরীঁ ছদ্ আ ফরীঁ ছদ্ আ ফরীঁ ছদ্, আফরীঁ
বাহ্রে আঁ পীরে মগাঁ র্ব হিম্মতশ্ ছদ্ আ ফরীঁ
ছদ্ হাজারাঁ চাট্গাঁমী আজ্ মুরিদানশ্ বেঁদা
আয্ বরায়ে মুর্শিদে হক্ব ইঁহামা আছার দাঁ।
বুদ বাহ্রে আহ্লে সুন্নাত রুক্নে আ’যম্ বেগুমাঁ
মউতে-উ শুদ্ মউতে আলম্ ইঁ হাদীস আক্নুঁ বখাঁ
র্তুবাতাশ্ রা বাগে জান্নাত ছায আয় রব্বে জাহাঁ
ইঁ-দোয়ারা কুন্ ক্ববুল্ আয জানেবে ইঁ খাদেমাঁ।
ইয়া ইলাহী জান্নাতুল্ ফেরদাউস উ’রা কুন্ আতা
ইঁ দোয়া মক্ববুল্-র্গদাঁ আজ্ তোফায়লে মোস্তফা।
ফয়েজ জারী তা-ক্বিয়ামত মানদ্ আয্ জাতশ্ বক্বা
ইঁ ছখুন্ বাওয়ার কুনদ্ আঁ ক্ছ বুয়দ্ আহ্লে ছফা।
র্ছিরে হজরত জা-নশিনশ্ মাওলানা তৈয়্যব্ বেঁদা
আজ্ মুরীদাঁ কুন্ ক্ববুলশ্ আয় খোদায়ে দো জাহাঁ
নামে নাযেম্ র্গতু খাহী শেরে বাঙ্গালা বেদাঁ
হামীয়ে ইঁ মাদ্রাছাহ্ লেকিন্ ওয়াবায়ে ওয়াহাবীয়াঁ।
মুর্শিদে র্বহক্ব, হজ্রতুল্ আল্লামা হাফেজ ক্বারী
সৈয়্যদ্ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্
রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি
কিয়াকরে তা’রীফে যা’তে শাহে তৈয়্যব কী আনাম
জো-করে উস্ছে ছিওয়া হে শা’ন্ আর্উ আ’লী মক্বাম॥
নূরে চশ্মে ফাতিমা লখ্তে জীগর ইব্নে আলী
ওয়ারিছে মাহ্বুবে রব্বিল্ আলামীঁ’ হ্যাঁয় লাকালাম॥
জে’বে সাজ্জাদায়ে আহ্মদ্ শাহে ক্বুতুবুল্ আউলিয়া
পাইকরে সিদ্ক্ব-অ-ছফা হ্যাঁয় হোচ্ন মে মাহে তামাম॥
আপ্ হ্যাঁয় জিল্লে নবী আউর নায়েবে গাউসুল্ ওয়ারা
ছাহেবে রওশন্ জমীর অ র্মযায়ে র্হা খাছ্ অ আ’ম্
রাহ্নুমায়ে দিন অ-মিল্লাত্ আউর আল্লামা দার্হা
ইয়ে যিক্র্ হ্যায় র্হা জুবাঁ র্প র্হা মকাঁ র্প ছোবহ শাম
ছোজমে রু’মী-অ-জা’মী ওয়াইচ্ ক্বরনিয়ে জমাঁ
ইশ্ক্বমেঁ আত্তার জেয়ছে আ’শেক্বে খাইরুল্ আনাম্
জো গিয়া দরবারে আলী মে খোদা উন্কো মিলা
এক নজর কাফি হ্যায় উন্ কী ওয়াছেতে হার নাতামাম
বেপানাহা মখ্মুর-র্হাদম্ উন্কে মায়্খানে মে হ্যাঁয়
শীব্লীও মন্ছুর জেয়ছে পী রেহেঁ হ্যাঁয় জাম ও জাম
দামে তজ্ভিরে ওহাবি ছে হিফাজত্ কে লিয়ে
র্তজুমানে আহ্লে সুন্নাত র্হফে আর্খে উন্ কা নাম
বানিয়ে জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী
পেশওয়ায়ে আহ্লে সুন্নাত্ ছাগের র্হা তিশ্না কাম
র্মকজে দিঁ আন্জুমান্-অ-জামেয়া অ খানক্বাহ্
দায়েম ও ক্বায়েম রহেঙ্গে উন্কে জেরে ইহ্তিমাম
সৈয়্যদে তাহের-অ-সার্বে নায়েবানে আঁ হুর্জু
পীর হে লাখোঁকে বেশক্ আওর হ্যাঁয় ছব্কা ইমাম
ইয়াদগারে মুর্শিদে হক্ব ক্বাসিমও হামেদ শাহা
আওর আহমদ শাহ্ মাহ্মুদ শাহ্ হামারে যুল্কিরাম
ইয়া ইলাহী হো হামারে ওয়াসতে আওলাদে পাক
বায়েছে রহ্মও করম্ও মাগ্ফিরাত্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়াম
থাম্লে মুর্শিদ্ কা দামান আয় নঈমী তা’আবাদ
ছোড়নাহ্ র্হাগিয্ কভী তু উন্কা হ্যায় আদ্না গোলাম
খতমে গাউসিয়া, গেয়ারভী, বারভী শরীফের
প্রারম্ভে পঠিতব্য
দরূদে তাজ
আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সায়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদিন্, ছাহিবিত্ তাজি ওয়াল্ মি’রাজি ওয়াল্ বুরাক্বি ওয়াল আলাম্। দা-ফি‘ইল্ বালা-ই ওয়াল্ ওবা-ই ওয়াল্ ক্বাহ্ত্বি ওয়াল্ মারাদ্বি ওয়াল্ আলাম্। ইস্মুহূ মাক্তূবুম্ র্মাফুউম্ মাশ্ফূউম্ মান্ক¦ুশুন্ ফিল্ লাওহি ওয়াল্ ক্বলাম্। সাইয়্যিদিল্ আরাবি ওয়াল্ আজম্। জিস্মুহূ মুক্বাদ্দাসুম্ মু‘আত্ত্বারুম্ মুতাহ্হারুম্ মুনাওয়ারুন্ ফিল্ বাইতি ওয়াল্ হারাম্। শামছিদ্দুহা বাদারিদ্দুজা সদ্রিল্ উলা নূরিল্ হুদা কাহ্ফিল্ ওয়ারা মিছ্বাহিয্ যুলাম্। জামীলিশ্ শিয়ামি, শাফী‘ইল উমামি সা-হিবিল্ জূদি ওয়াল্ কারাম্। ওয়াল্লাহু আছিমুহূ ওয়া জিব্রীলু খাদিমুহূ ওয়াল্ বুরাক্বো র্মাকাবুহূ ওয়াল্ মি’রাজু ছাফারুহূ ওয়া সিদ্রাতুল্ মুন্তাহা মাক্বামুহূ ওয়া ক্বাবা ক্বাওসাইনি মাত্বলুবুহূ ওয়াল্ মত্লূবু মাক্বসূদুহূ ওয়াল্ মাক্বসূদু মাওজূদুহূ, সাইয়্যিদিল্ র্মুসালীনা, খা-তামিন্ নবিয়্যীনা, শাফী’ইল্ মুযনিবীনা, আনীছিল্ গারীবীনা, রাহ্মাতিল্লিল্ আলামীনা, রাহাতিল্ আশিক্বীনা, মুরাদিল্ মুশ্তাক্বীনা, শামসিল্ আরিফীনা, সিরাজিস্ সা-লিকীনা, মিস্বাহিল্ মুক্বাররাবীনা, মুহিব্বিল্ ফোক্বারা-ই ওয়াল্ গোরাবা-ই ওয়াল্ মাছাকীনা, সাইয়্যিদিছ্ ছাক্বালাইনি, নবীয়্যিল্ হারামাইনি, ইমামিল্ ক্বিব্লাতাইনি, ওয়াসীলাতিনা ফিদ্দারাঈনি, ছাহিবি ক্বা-বা ক্বাওছাইনি, মাহ্বূবে রাব্বিল্ মাশরিকাইনি ওয়াল্ মাগরিবাইনি, জাদ্দিল্ হাসানি ওয়াল্ হোসাইনি রাদ্বিয়াআল্লাহু তায়ালা আন্হুমা মাওলানা ওয়া মাওলাছ্ সাক্বালাইনি, আবিল্ ক্বাচিম্ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওসাল্লাম ইবন্ আব্দিল্লাহি নূরিম্ মিন্ নূরিল্লাহ। ইয়া আইয়্যূহাল্ মুশ্তাক্বূনা বি নূরি জামালিহী সল্লূ আলাইহি ওয়াসাল্লিমূ তাস্লীমা। (দরূদ শরীফ)…
খতমে গাউসিয়া শরীফ আদায়ের নিয়ম
১। দরূদ তাজ: একবার
২। ইস্তিগ্ফার :১১১ বার
আস্তাগ্ফিরুল্লা-হাল্লাযী- লা-ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল্ হাইয়্যুল্ ক্বাইয়্যূ-মু ওয়া আতূ-বু ইলায়হি।
৩। দরূদ শরীফ : ১১১ (একশত এগার) বার।
আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা- সাইয়্যিদিনা- মুহাম্মাদিন্ ওয়া ‘আলা- আ-লি সাইয়্যিদিনা- মুহাম্মাদিন্ ওয়া বা-রিক্ ওয়া সাল্লিম্।
৪। সূরা ফাতিহা : ১১ (এগার) বার
বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম
“আল্হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ ‘আ-লামী-ন্। র্আ রহ্মা-র্নি রহী-ম্। মা-লিকি ইয়াওমিদ্ দী-ন্। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা‘ঈ-ন। ইহ্দিনাস্ সিরা-তল্ মুস্তাক্বী-ম্। সিরা-ত্বল্লাযী-না আন্-‘আম্তা আলায়হিম্, গায়রিল্ মাগ্দ্বূ-বি আলায়হিম্ ওয়ালাদ্- দ্ব—-ল্লীন। আ-মীন।”
৫। সূরা আলাম্ নাশ্রাহ্ : ১১১ (একশত এগার) বার
বিসমিল্লা-র্হি রহমা-র্নি রহী-ম্। আলাম্ নাশ্রাহ্ লাকা সদ্রকা, ওয়া ওয়া দ্বোয়া’না ‘আন্কা উইয্রাকাল্ লাযী- আন্ক্বাদ্বা যোয়াহ্রাকা ওয়ারফা’না- লাকা যিক্রাকা। ফা ইন্না মা‘আল্ ‘উস্রে ইউস্রান্। ইন্না মা‘আল্ উস্রে ইউস্রান্। ফা-ইযা ফারাগ্তা ফান্ছব্। ওয়া ইলা রব্বিকা র্ফাগব্।
৬। সূরা ইখ্লাছ্ : ১১১১ (এক হাজার একশ’এগার) বার
ক্বুল্ হুয়াল্লাহু আহাদ্। আল্লাহুস্ সামাদ্। লাম্ ইয়ালিদ্ ওয়ালাম্ ইঊলাদ্। ওয়ালাম্ ইয়াকুল্ল্লাহু কুফুওয়ান্ আহাদ্।
৭। কালিমা তাম্জীদ : ৫৫৫ (পাঁচশত পঞ্চান্ন) বার
সুব্হানাল্লাহি ওয়াল্হাম্দু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আর্ক্বা। ওয়া লা-হাওলা ওয়া লা-ক্বুওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহিল্ আলিয়্যিল্ আযীম্।
৮। হাস্বুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল্ ওয়াকীল্; নি’মাল্ মাওলা ওয়া নি’মান্ নার্সী ৫৫৫ (পাঁচশত পঞ্চান্ন) বার
৯। সূরা ফাতিহা : ১১ (এগার) বার
১০। দরূদ শরীফ ঃ ১১১ (একশত এগার) বার (পূর্বের নিয়ম)
১১। দোয়া (নি¤েœাক্ত) ঃ ১১১ (একশত এগার) বার  সাহ্হিল্ ইয়া ইলা-হী ‘আলায়না- কুল্লা স’বিম্ বির্হুমাতি সাইয়্যি-দিল্ আবরা-র।
১২। ইলাহী বির্হুমাতি হযরত খাজা শায়খ সুলতান সৈয়্যদ আব্দুল্ ক্বার্দে জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আন্হু-
১১১ (একশত এগার) বার।
১৩। বি রাহমাতিকা ইয়া র্আ হার্মা রাহিমীন্
১১১ (একশত এগার) বার
১৪। আল্লাহুম্মা আমীন্। ১১১ (একশত এগার) বার
১৫। ইয়া রব্বাল্ আলামীন ১ বার
খত্মে গাউসিয়া শরীফের উপরিউক্ত নির্ধারিত তাস্বীহগুলো আদায়ের পর হুজূর ক্বিব্লা (র.)‘র ইরশাদ অনুযায়ী নিুোক্ত তসবিহ্সমূহ আদায় করবেন।
১। আস্তাগ্ফিরুল্লাহাল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল্ হাইয়্যূল্-কাইয়্যূম, ওয়া আতূবু ইলাইহি১১১ Ÿার
২। সুব্হা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী- সুব্হা-নাল্লা-হিল্ আলিয়্যিল্ আযী-মি ওয়া বিহাম্দিহী- আস্তাগ্ফিরুল্লা-হ্।
১১১ (একশত এগার) বার
৩। বিস্মিল্লা-হিল্লা-যী- লা ইয়াদুররু মা‘আ ইস্মিহী- শাইউন্ ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা- ফিছ্সামা-ই ওয়াহুওয়াস্ সামী‘উল্ ‘আলী-মু।
১১১ (একশত এগার) বার
শাজরা শরীফ
মীলাদ শরীফ
আখেরী মুনাজাত

শাজরা শরীফ
সিল্সিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়া

ইয়া ইলাহী আপ্নি জাতে কিব্রিয়াকে ওয়াস্তে
খোলদে র্দওয়াযায়ে রহ্মত্ গদা কে ওয়াস্তে।
অর্থ: হে আমার আল্লাহ্! তোমার সর্বোচ্চ সত্ত্বার মহা মর্যাদার ওসীলায় এ গরীবের জন্য রহমতের দরজা খুলে দাও!
রহ্মতুল্লিল্ আলামীঁ খত্মে রুছুল জানে জাঁহা
আহ্মদও হামিদ্ মুহাম্মদ(দ.) মুস্তফাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: ‘সমস্ত জগতের রহমত’ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হলেন- সর্বশেষ রসূল, বিশ্বজগতের প্রাণ, (যিনি হলেন) আহমদ, হামিদ, মুহাম্মদ মোস্তফা (যথাক্রমে, আল্লাহর সর্বাধিক প্রশংসাকারী, তাঁর গুণগানকারী, সর্বাধিক প্রশংসিত
ও আল্লাহর চয়নকৃত (রসূল)-এর ওসীলায়;
মুশ্কিলেঁ আ-ছা-ন ফর্মা রঞ্জ ও গম্ ছব্ দূর র্ক
ছাহেবে জূ-দ্ ও ছখা শের-এ খোদাকে ওয়াস্তে।
অর্থ:সমস্ত মুশকিল আসান করে দাও, দুঃখ-দুশ্চিন্তার সবটি দূর করে দাও- যথেষ্ট পরিমাণে স্বতঃস্ফূর্ত দাতা ও মহান দানশীল হযরত শেরে খোদা (আল্লাহর শার্দুল) হযরত আলী র্কারামাল্লাহু তা‘আলা ওয়াজ্হাহুল করীমের ওসীলায়;
নুরে চশ্মে ফাতিমা ইয়া’নী হোসাইন্ ইব্নে আলী
সৈয়্যদুশ শুহাদা শহীদে র্কাবালা কে ওয়াস্তে।
অর্থ: হযরত ফতিমা যাহ্রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার নয়নের আলো, অর্থাৎ হযরত আলী র্কারামাল্লাহু তা‘আলা ওয়াজ্হাহুর পুত্র হযরত হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, শহীদগণের সরদার ও কারবালার মহান শহীদের ওসীলায়;
মাল ও দৌলত্ জাহের ও বাতিন্ আতা র্ক গায়ব ছে
শাহে যায়নুল্ আবেদীঁ শম্‘এ হুদাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: যাহির ও বাত্বিন (প্রকাশ্য ও গুপ্ত) ধন-সম্পদ অদৃৃশ্য থেকে দান করো- শাহ্ যয়নুল আবেদীন, হিদায়তের প্রদীপ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর ওসীলায়;
হযরত বার্ক্বে ইমামে আরিফীন ও কামিলীন্
জা’ফার সাদিক্ব ইমামও পেশ্ওয়াকে ওয়াস্তে।
অর্থ: আরিফ ও কামিল বান্দাদের ইমাম হযরত বাক্বের এবং ইমাম ও পেশ্ওয়া (দ্বীনের বরেণ্য ও অগ্রণী পুণ্যবান ব্যক্তি) হযরত জা’ফর সাদিক্ব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর ওসীলায়;
উয়হ্ আমল্ র্সযদ্ হো মুজ্ছে জিছ্মে হো তেরী রেজা
মূসা কাজেম্ আওর শাহ্ মূসা রেজা কে ওয়াস্তে।
অর্থ: আমার দ্বারা যেন ওই আমল বা কর্ম সম্পাদিত হয়, যাতে (হে আল্লাহ্) তোমার সন্তুষ্টি থাকে – হযরত মূসা কাযিম ও হযরত মূসা রেযা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমার ওসীলায়;
হযরত মা’রূফে করখী ছাহেবে ইল্মও আমল্
র্ছিরিউ সাক্ব্তী সিরাজে আউলিয়া-কে ওয়াস্তে।
অর্থ:ইল্ম ও আমল (গভীর জ্ঞান ও সৎকর্ম)-এর ধারক হযরত মা’রূফ করখী এবং ওলীকুলের প্রদীপ হযরত সারিউস্ সাক্বাতী রাহিমাহুল্লাহুর ওসীলায়;
রিয্ক্বে ওয়ার্ফে র্ক আতা মুহ্তাজ গায়রুঁ কা না র্ক
হয্রত জুনাইদ্ ছব্কে রাহ্নুমাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: প্রশস্ত ও যথেষ্ট জীবিকা দান করো, তুমি ব্যতীত অন্য কারো মুখাপেক্ষী করোনা, সকলের পথ-প্রদর্শক হযরত জুনায়দ (বাগদাদী) আলায়হির রাহমাহর ওসীলায়;
খাজায়ে বূ বক্র ইয়া’নী জা’ফারুশ্ শিব্লী ওলী
আব্দুল ওয়াহিদ্ আত্-তামীমী পারছাকে ওয়াস্তে
১০. খাজা আবূ বকর অর্থাৎ হযরত জা’ফর শিব্লী ওলী এবং আল্লাহর মহান ওলী আবদুল ওয়াহিদ তামীমী, পাক-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী আলায়হিমার রাহমাহর ওসীলায়;
র্ফহাতে দিল্ বখ্শ এল্মে মা’রিফাত্ ছে শাদ্ র্ক
বুল্ ফারাহ্ তরতূছিয়ে বদ্রুদ্দুজাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: হৃদয়ের খুশী দান করো, মা’রিফাতের জ্ঞান দ্বারা ধন্য ও তৃপ্ত করো- হযরত আবুল ফারাহ্ ত্বরত্বূসী বদরুদ্দুজা আলায়হির রাহমাহর ওসীলায়;
র্ক্বশীয়ে হাঙ্কারী আর্ও মোবারক বূ-সা‘ঈদ
হো ছা‘আদ্াত্ জাদে রাহে ইয়াওমে জাযাকে ওয়াস্তে
অর্থ: হযরত ক্বরশী হাঙ্কারী ও হযরত আবূ সা‘ঈদ মুবারক রাহিমাহুমাল্লাহুর ওসীলায় সৌভাগ্য
প্রতিদান-দিবসের পাথেয় হোক;
সৈয়্যদ হাসানী হোসাইনী ইয়াযদাহ্ ইছ্মে আযীম
আবদুল কাদের বাদশাহে দো-ছরাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: সাইয়্যেদ হাসানী, হোসাইনী, মহান এগার নামের ধারক উভয় জগতের বাদশাহ্
হযরত আবদুল কাদির আলায়হির রাহমাহ্র ওসীলায়;
বে নেয়াযূঁ মে মুঝেহ্ কর র্সফরায ও বেনেয়ায
শাহে জীলাঁ মুহীউদ্দিন ক্বদ্মুল্ উলাকে ওয়াস্তে।
অর্থ:আমাকে ধন্য ও অমুখাপেক্ষী করে অমুখাপেক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত করো- উচ্চতর কদম বা মর্যাদার অধিকারী শাহে জীলান হযরত মুহি উদ্দীন রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র ওসীলায়;
ক্বিব্লায়ে ওশ্শাক্ব হয্রত সৈয়্যদ আব্দুর রায্যাক্ব
খাজা বূ- ছালেহ্ নর্জ গাউসুল্ ওয়ারাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: আশিক্বদের ক্বেবলা হযরত সাইয়্যেদ আবদুর রায্যাক্ব ও খাজা আবূ সালেহ্ নদ্বর, সৃষ্টির মহান সাহায্যকারী (গাউসুল ওয়ারা) আলায়হিমার রাহমাহ্’র ওসীলায়;
হযরত সৈয়্যদ শিহাবুদ্দীন আহ্মাদ্ যুল্করম্
শরফে দীঁ ইয়াহ্ইয়া বুযুর্গও পারসাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: কারামত বা বুযুর্গীর ধারক হযরত সাইয়্যেদ শেহাব উদ্দীন ও পূতঃপবিত্র বুযুর্গ হযরত শারফুদ্দীন ইয়াহিয়া আলায়হিমার রাহমাহর ওসীলায়;
খাজা সৈয়্যদ শামছে দীঁ মুহাম্মদ বা ওয়াক্বার
শাহ্ আলাউদ্দীন আলীয়ে মাহ্লেক্বা-কে ওয়াস্তে।
অর্থ: আসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও আত্ম মর্যাদার ধারক হযরত খাজা সাইয়্যেদ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ও চন্দ্ররূপ চেহারাধারী হযরত শাহ্ আলাউদ্দীন আলী আলায়হিমার রাহমাহর ওসীলায়;
শাহ্ বদ্রুদ্দীন হুসাইন আরেফে আকমাল্ তরীন্
র্শফে দীঁ ইয়াহ্ইয়া ফারূক্বে সফাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: যুগশ্রেষ্ঠ আরিফ বান্দা শাহ্ বদরুদ্দীন হোসাইন ও হযরত শরফুদ্দীন ফারুক্ব সাফা আলায়হির রাহমাহর ওসীলায়;
খাজা সৈয়্যদ শরফেদীন ক্বাসিম বক্বা বিল্লাহ্ মক্বাম
সৈয়্যদ আহ্মদ্ র্ছ গোরোহে আত্ক্বিয়াকে ওয়াস্তে।
অর্থ: ‘বাক্বা বিল্লাহ্’র মতো উঁচুতর স্থায়ী হাল সম্পন্ন বুযুর্গ খাজা সাইয়্যেদ শরফ উদ্দীন ও মুত্তাক্বীকুলের শিরমণি হযরত সাইয়্যেদ আহমদ আলায়হির রাহমাহ্র ওসীলায়;
খাজা সৈয়্যদ হুসাইন্ নূরে জানে আরেফাঁ
সৈয়্যদ আবদুল বাসেত শাহে আছ্খিয়াকে ওয়াস্তে
অর্থ: আরিফ বান্দাদের প্রাণের আলো খাজা সাইয়্যেদ হোসাইন ও দানশীলদের বাদশাহ্ হযরত সাইয়্যেদ আবদুল বাসিত্ব আলায়হিমার রাহমাহ্র ওসীলায়;
সৈয়্যদ আবদুল ক্বাদের সানী ওলীয়ে নামদার
সৈয়্যদ মাহ্মূদ ছাহেব বা-হায়াকে ওয়াস্তে।
অর্থ: প্রসিদ্ধ ওলী দ্বিতীয় সাইয়্যেদ আবদুল ক্বাদির ও অসাধারণ ঈমানী লাজ-লজ্জা সমৃদ্ধ হযরত সাইয়্যেদ মাহমূদ সাহেব আলায়হিমার রাহমাহ্র ওসীলায়;
ফানি ফিল্লাহ্ বাক্বী বিল্লাহ শাহ্ আব্দুল্লাহ্ ওলী
শাহ্ ইনায়াতুল্লাহ্ ছাহেব্ বা-ওয়াফাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: মহান ওলী, ফানী ফিল্লাহ্, বাক্বী বিল্লাহ্ (আল্লাহতে বিলীন ও আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন) হযরত শাহ্ আবদুল্লাহ্ ও অতি মাত্রার ওয়াফাদার (বিশ্বস্ত) বুযুর্গ হযরত শাহ্ ইনায়াতুল্লাহ্ সাহেব আলায়হিমার রাহমাহ্র ওসীলায়;
হাফেয্ আহ্মদ্ বারাহ মূলী শাইখুনা আব্দুস সবূর
গুল্ মুহাম্মদ খাছ্ মাহ্বূবে খোদাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: বারাহ্-মুলী হযরত হাফেয আমহদ এবং আমাদের মহান শায়খ আবদুস্ সবূর ও আল্লাহ্র খাস বন্ধু হযরত গুল মুহাম্মদ আলায়হিমার রাহমাহ্র ওসীলায়;
র্ওফ হ্যায় কাঙ্গাল আওর সারী খোদাঈ হাত মে
এক্ নেগাহে মেহ্রে বছ হ্যায় দোছরাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: ওরফে হযরত ‘কাঙ্গাল শাহ্’ আর বাস্তবে সমগ্র খোদায়ী জগত হাতের মুষ্ঠিতে ধারণকারী বুযুর্গ’র ওসীলায়; অন্য লোকের জন্য যাঁর একটি মাত্র কৃপাদৃষ্টিই যথেষ্ট।
খাজা মুহাম্মদ রফীক্ব আলিমে ইল্মে খোদা
শাইখ্ আবদুল্লাহ্ ওলীয়ে বা-ছফাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: খোদা-প্রদত্ত ইল্মে সমৃদ্ধ জ্ঞানী খাজা মুহাম্মদ রফীক্ব ও পূতঃপবিত্র ওলী শায়খ আবদুল্লাহ্র মাধ্যমে;
শাহ্ মুহাম্মদ আন্ওয়ার শাইখে আকাবের নূরও নূর
আ ঁ শাহ ইয়া’ক্বুব মুহাম্মদ যুল্ আতাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: শীর্ষস্থানীয় শায়খ বা মুর্শিদদের মুর্শিদ, খোদায়ী নূররাশিতে আলোকিত বুযুর্গ হযরত শাহ্ মুহাম্মদ আনওয়ার ও মহান দানশীল ওই শাহ্ এয়াকুব মুহাম্মদ আলায়হি রাহমাহ্র ওসীলায়;
ক্বুত্ববে আলম্ গাউসে দাওরাঁ আব্দুর রহ্মান চৌহ্রভী
উন্কা সদ্ক্বা হাত্ উঠাতা হোঁ দো‘আ কে ওয়াস্তে।
অর্থ: কুত্ববে আলম, গাউসে দাওরাঁ (বিশ্ব বরেণ্য ক্বুত্বব ও যুগশ্রেষ্ঠ গাউস) হযরত আবদুর রহমান চৌহরভী আলায়হির রাহমাহ। তাঁর মহান ওসীলা বা মাধ্যম নিয়ে, দো‘আর জন্য হাত উঠাচ্ছি।
মা‘আফ র্কদে আয় খোদায়ে দোজাহাঁ মেরে গুনাহ্
সৈয়্যদ আহ্মাদ্ শাহ ক্বুত্ব্বুল্ আউলিয়াকে ওয়াস্তে।
অর্থ: হে উভয় জাহানের খোদা! আমার গুনাহ্ ক্ষমা করে দাও- ক্বুত্ববুল আউলিয়া (ওলীগণের ক্বুত্বব (মধ্যমণি) হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ (সিরিকোটী) আলায়হির রাহমাহর ওসীলায়;
পাক্ ত্বীনত্ পাক্ বাতেন্ পাক্ দিল্ র্কদে মুঝেহ্
হযরত তৈয়্যব্ শাহে শাহ্ ও গদাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: আমাকে পবিত্র স্বত্তা, পবিত্র মন ও পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী করে দাও- বাদশাহ্ ও ফক্বীগণের বাদশাহ্ হযরত তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্র ওসীলায়;
জিস্মে ত্বার্হে, ক্বল্বে ত্বাহের, রূহে ত্বাহের দে মুঝেহ্
সৈয়্যদ শাহ্ পীর তাহের বা-খোদাকে ওয়াস্তে।
অর্থ: আমাকে পবিত্র দেহ, পবিত্র হৃদয় ও পবিত্র রূহ বা আত্মা দান করো- আল্লাহ্ ওয়ালা মুর্শিদে কামিল হযরত সৈয়্যেদ তাহের শাহ্ সাহেব দামাত বারকাতুহুমুল আলিয়ার মাধ্যমে এবং
হো মেরা ঈমান কামেল্ আওর হো রওশন্ জমীর
সৈয়্যদ শাহ্ পীর সাবির বা-জিয়াকে ওয়াস্তে।
অর্থ: আমার ঈমান কামিল (পূর্ণাঙ্গ) হোক, আর আমি যেন আলোকিত মনের মানুষ হয়ে যাই- আলোকিত হৃদয়ের পীরে তরীক্বত হযরত সৈয়্যেদ সাবির শাহ্ সাহেব মুদ্দাযিল্লুহুল আলীর মাধ্যমে।
জিছ্নে ইয়ে শাজ্রা পড়া আওর জিছ্নে ইয়ে শাজরা সুনা
বখ্শ দে ছব্ কো তূ জুম্লা পেশ্ওয়া কে ওয়াস্তে।
অর্থ: যে এ শাজরা শরীফ পড়লো আর যে এ শাজরাহ্ শরীফ শুনলো- সবাইকে ক্ষমা করে দাও- সমস্ত পেশ্ওয়া (দ্বীনের ইমাম ও বুযুর্গকুল)-এর ওসীলা বা মাধ্যমে। আমীন! (হে খোদা কবূল করো।)
বিশেষ দ্র্ষ্টব্য
শাজরা শরীফ পাঠকালে শ্রোতাগণ
শুধু আ-মীন বলবেন এবং
তাশাহ্হুদ্ বৈঠকের মত বসবেন
গেয়ারভী শরীফের ফজীলত
‘মিলাদে শাইখে র্বহক্ব’ বা ‘ফজায়েলে গাউসিয়া’ নামক কিতাবে বর্ণিত আছে যে, গেয়ারভী শরীফের ফজিলত অগণিত; যার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। তবে মুমিন মুসলমান বিশেষ করে গাউসে পাকের আশেকানের অবগতির জন্য কয়েকটি ফজিলত নিন্মে প্রদত্ত হল :
যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে প্রতি চাঁদের ১১ তারিখে গেয়ারভী শরীফ আদায় করবে সে অল্প দিনের মধ্যে ধনী ও স্বচ্ছল হবে এবং তার দারিদ্র্য দূর হবে। যে ব্যক্তি ওটাকে অস্বীকার বা ঘৃণা করবে সে দারিদ্রের মধ্যে থাকবে।
“তানায্যার্লু রাহ্মাতু ইন্দা যিক্রিছ সোয়ালিহীন্‘র বর্ণনা অনুযায়ী, গেয়ারভী শরীফ যেখানে পালিত হয় আল্লাহর রহ্মত সেখানে অবতীর্ণ হয়।
বর্ণিত আছে যে, হযরত গাউসুল আ‘জম (রাঃ) ১২ই রবিউল্ আউয়াল্কে খুব গুরুত্ব সহকারে পালন করতেন। একদিন স্বপ্নে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন- “আমার বারই রবিউল্ আউয়ালের প্রতি তুমি যে সম্মান প্রদর্শন করে আসছ এর বিনিময়ে আমি তোমাকে গেয়ারভী শরীফ দান করলাম।”
যে ব্যক্তি এটা পালন করবে সে খায়র ও র্বকত্ লাভ করবে এবং পৃথিবীর পূর্ব হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এটা ক্বিয়ামত অবধি জারি থাকবে।
যে ব্যক্তি সব সময় এটা পালন করবে সে বিপদ হতে রক্ষা পাবে; দুঃখ ও চিন্তামুক্ত হয়ে সুখ ও শান্তিতে জীবন যাপন করবে।

অতএব, অজুর সাথে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সম্মান সহকারে গেয়ারভী শরীফ পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

গেয়ারভী শরীফ আদায়ের নিয়ম
দরুদে তাজ পাঠের পর, প্রত্যেক তস্বীহ ১১ বার করে পড়বে
১। বিসমিল্লার্হি রাহ্মার্নি রাহিম ১১ বার।
২। আস্তাগ্ফিরুল্লাহাল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল্ হাইয়্যূল্ ক্বাইয়্যূম্ ওয়া আতূবু ইলাইহ্।ি ১১ বার।
৩। দরূদ শরীফ (পূর্ব নিয়মে) ১১ বার।
৪। সূরা ফাতিহা ১১ বার।
৫। সূরা ইখ্লাছ ১১ বার।
৬।আস্-সলাতু ওয়াস্ সালামু আলাইকা সাইয়্যাদী ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ১১ বার।
৭। আস্-সলাতু ওয়াস্ সালামু আলাইকা সাইয়্যাদী ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ১১ বার।
৮। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ১১ বার।
৯। ইল্লাল্লাহ্ ১১ বার।
১০। আল্লাহু ১১ বার।
১১। আল্লাহূ- ১১ বার।
১২। হুওয়াল্লা-হ্ ১১ বার।
১৩। হু- ১১ বার।
১৪। হুওয়াল্লাহুল্ লাযী লাইলাহা ইল্লা হুওয়া ১১বার।
১৫। আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহু ১১ বার।
১৬। আঁল লা- ইলাহা ইল্লাহু ১১ বার।
১৭। আন্তাল্ হাদী আন্তাল্ হক্ব, লাইসাল্ হাদী ইল্লাহু- ১১বার।
১৮। হাস্বী রাব্বী জাল্লাল্লাহ্ ১১ বার।
১৯। মা-ফী ক্বাল্বী গাইরুল্লাহ্ ১১ বার।
২০। নূর মুহাম্মদ সল্লাল্লাহ্ ১১ বার।
২১। লা-মা’বূদা ইল্লাল্লাহ ১১ বার।
২২। লা মাওজূদা ইল্লাল্লাহ্ ১১ বার।
২৩। লা মাক্ব্সূদা ইল্লাল্লাহ্ ১১ বার।
২৪। হুওয়াল্ মুছাওউয়িরুল্ মুহীত্বো আল্লাহ্ ১১বার
২৫। ইয়া হাইয়্যূ, ইয়া কাইয়্যূম্ ১১ বার।
২৬।আস্-সলাতু ওয়াস্ সালামু আলাইকা সাইয়্যাদী ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ১১ বার
২৭। আস্-সলাতু ওয়াস্ সালামু আলাইকা সাইয়্যাদী ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ১১ বার
২৮। ইয়া শায়খ্ সুলতান সৈয়্যদ আবদুল কাদের জীলানী শাইআঁল্লিল্লাহ্ ১১ বার
২৯। দরূদ শরীফ (পূর্ব বর্ণিত নিয়মে) ১১ বার।
৩০। ক্বসীদায়ে গাউসিয়া শরীফ (পর পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য) ১ বার
৩১। মিলাদ শরীফ (বর্ণিত নিয়মে)
৩২। যিক্র শরীফ :
(ক) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ১০০ বার
(খ) ইল্লাল্লাহ্ ১০০ বার
(গ) আল্লাহু ১০০বার
৩৩। শাজরা শরীফ পাঠ
৩৪। আখেরী মুনাজাত
বারাভী শরীফ আদায়ের নিয়ম
বারভী শরীফ আদায় গেয়ারভী শরীফের মতই; তবে বারাভী শরীফে উপরিউক্ত প্রত্যেক তাসবীহ্ ১২ বার করে পড়তে হবে।
ক্বসিদায়ে গাউসিয়া শরীফ
আস্সালাম আয় নূরে চশ্মে আম্বিয়া
আস্সালাম আয় বাদশাহে আউলিয়া
সাক্বানিল্ হুব্বু কা’সাতিল্ বিসালী
ফাক্বুল্তু লিখাম্রাতী নাহ্ভী তা’আলী। আস্সালাম-
অর্থ: খোদাপ্রেম আমাকে (আল্লাহর সাথে) মিলনের পাত্র পান করিয়েছে। (কারণ, ভালবাসার চূড়ান্ত ফল হচ্ছে মিলন।) অতঃপর আমি আমার পানীয় (সুুধা বা আল্লাহর কল্যাণধারা)-কে (যা আমার জন্য নির্দ্ধারিত ছিলো) অথবা সাক্বীকে বল’লাম, ‘‘এদিকে এসো!’’ কারণ, মিলন-প্রাপ্ত হবার পর এমন আমার যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে, যা এর পূর্বে আমার মধ্যে ছিলোনা।)
চা‘আত্ ওয়া মাশাত্ লি নাহ্ ভী ফি কুঊসিন,
ফাহিম্তু বি সুক্রাতী বাইনাল্ মাওয়ালী। আস্সালাম-
অর্থ: ওই পানীয় ( সুধা বা কল্যাণধারা) পান-পাত্রগুলোতে (ভর্তি হয়ে) আমার দিকে দৌঁড়ে এসেছে। অতঃপর আমি আমার বন্ধুদের (মজলিসের) মধ্যে ওই পানীয়ের নেশায় নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছি। (অর্থাৎ যখন আমি আল্লাহর মিলন প্রাপ্ত হয়ে গেছি, তখন আমার হৃদয়রূপী পান-পাত্র আল্লাহর কল্যাণধারার পাত্রে পরিণত হয়ে গেছে। যেমন পানি নিচু যমীনের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়, তেমনি ওই সুধা বা কল্যাণধারা আমার স্বভাবগত আকর্ষণে দৌঁড়ে এসেছে। অতঃপর আমিও তা পান করে বিভোর হয়ে গেছি। আর আমার নেশাগ্রস্ততা গোপন থাকেনি, বরং তা আমার বন্ধু-বান্ধবরাও দেখেছে।)
ফাক্বুল্তু লিসায়িরিল্ আক্বত্বাবি লুম্মূ,
বিহালী ওয়াদ্খুলূ আন্তুম্ রিজ্বালী। আস্সালাম-
অর্থ: অতঃপর আমি সমস্ত ‘ক্বুত্বব’কে (যারা আমার বন্ধু-বান্ধবই ছিলেন) বললাম, ‘‘আপনারাও প্রতিজ্ঞা করুন এবং আমার হাল (বিশেষ অবস্থা বা রং)-এ এসে যান; কেননা, আপনারাও আমার ভাই-বেরাদর। (অর্থাৎ ওই পানীয় পান করার পর যখন আমার অন্তর্চক্ষু খুলে গেলো, তখন আমি দেখতে পেলাম যে, অন্যান্য কুত্বব ও খোদা পরিচিতির এ নেশা সম্পর্কে অবগত নন। তখন আমি ওই সমস্ত ক্বুত্ববকে দাওয়াত দিলাম- আপনারা তরীক্বতের সফরসঙ্গীরা, আমার অনুসরণ করুন! যাতে আপনারাও আমার রঙ্গে রঞ্জিত হয়ে যান।)
ওয়া হাম্মূ ওয়াশ্রাবূ আন্তুম্ জ¦ুনুদী
ফাসাক্বীল্ কাওমি বিল্ ওয়াফিল্ মালালী। আস্সালাম-
অর্থ: আর আমি ক্বুত্ববদেরকে বললাম, ‘ইচ্ছা করো!’’ (হাত বাড়ান!) এবং প্রেমসুধা পান করুন! আপনারা তো আমারই সেনাদল। আর সম্প্রদায়কুলের সাক্বী (রসূল-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আমার জন্য ওই পানীয়ের পাত্র পরিপূর্ণভাবে ভর্তি করে দিয়েছেন। (যা কখনো শেষ হবার নয়; কারণ, এটা হুযূর-ই আকরামের মু‘জিযা যে, অল্প পানি অনেককে তৃপ্ত করতো।)
শারিব্তুম্ ফুদ্ব্লাতী মিম্ বা’দি সুক্রী
ওয়ালা নিল্ তুম্ উলুব্বী ওয়াত্তিসালী। আস্সালাম-
অর্থ: যখন (ওই উপচে পড়া পানপাত্র পান করার পর) আমি নেশাগ্রস্ত হয়ে গেলাম, তখন আপনারা (হে কুত্ববগণ) আমার উচ্ছিষ্ট পান করেছেন। কিন্তু আপনারা আমার উচুঁ মর্যাদায় নৈকট্য ও (আল্লাহর সাথে মিলনের) বৈশিষ্ট্যে পৌঁছতে পারেন নি। (সুতরাং আপনাদের আরো উন্নতি করার চেষ্টা করতে হবে।)
মক্বামুকুমুল্ উলা জ্বাম্আওঁ ওয়ালাকিন্,
মক্বামী ফাউক্বাক্বুম্ মা যালা ‘আলী। আস্সালাম-
অর্থ: যদিও আপনারা সবার (হে ক্বুত্ববগণ!) বিশেষ স্তর অনেক ঊর্ধ্বে, কিন্তু আমার মর্যাদার স্তর আপনাদের মর্যাদার স্তর অপেক্ষা অনেক ঊর্ধ্বে। আর এটা উঁচু হতেই থাকবে। (বস্তুত: ইরফান বা খোদা-পরিচিতির ময়দানের কোন সীমা নেই। এ জন্য কোন আরিফ এ ময়দান অতিক্রম করতে পারেনা। সর্বদা এ অন্তহীন ময়দানে মুরীদ আপন মুর্শিদের পেছনে পেছনে এগিয়ে যায়; কিন্তু মুর্শিদের মর্যাদা পর্যন্ত পৌছঁতে পারে না। কেননা, মুর্শিদও উন্নতি করতে থাকেন।)
আনা ফি হাদ্ব্রাতিত্ তক্বরীবি ওয়াহ্দী,
ইয়ুর্সারিফুনী ওয়া হাছ্বী যুল্ জ্বালালী। আস্সালাম-
অর্থ: আমি ‘তাক্বরীব’-এর দরবারে (অর্থাৎ খোদার নৈকট্য অর্জনের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে) একাকী বা অনন্য। আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে (যেভাবে চান ‘মান্যিল’ বা যাত্রাপথের সোপানগুলোতে একের পর এক করে) ফেরান (ভ্রমণ করান)। আর আমার জন্য মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলাই যথেষ্ট। (আমি অন্য কারো মুখাপেক্ষী নই) আর আমি যেহেতু সিপাহসালারের মতো প্রতিটি কদমে এগিয়ে থাকি, সেহেতু আমি আমার মর্যাদার স্তরে একাকীই থাকি। অভিযাত্রায় সিপাহী যেমন সিপাহ্সালারের পেছনে পেছনে থাকে, আর সিপাহ্সালার আগে আগে আপন মর্যাদায় একাকী থাকেন, তেমনি মুর্শিদও উন্নতির পথে এগিয়ে থাকেন এবং অগ্রণী থাকাবস্থায় তিনি আপন মর্যাদায় একাকী ও অনন্য হন।)
আনাল্ বাযিয়্যু আশ্হাবু কুল্লা শাইখিন্,
ওয়া মান্যা র্ফি রিজালী উ’তা মিসালী। আস্সালাম-
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রত্যেক ওলীর উপর এভাবে বিজয়ী থাকি, যেভাবে ‘সাদা বাযপাখী’ অন্যসব পাখীর উপর বিজয়ী থাকে। (আমাকে দেখাও!) পুরুষগণ (আরিফ বান্দাগণ)-এর মধ্যে কাকে আমার মতো মর্যাদা দেওয়া হয়েছে? (এতে নি’মাতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অন্য ওলীগণকেও উন্নতি করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।)
কাছানী খিল্ আতান্ বিত্রাযি আয্মিন্,
ওয়া তাওয়াজানী বিতীজানিল্ কামালী। আস্সালাম-
অর্থ: আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে ওই বিশেষ পোশাক পরিধান করিয়েছেন, যার উপর দৃঢ় প্রতীজ্ঞার চিত্রাবলী অঙ্কিত (কারুকার্য খচিত) রয়েছে। আর আমার মাথায় কামালাত (গুণাবলী)-এর তাজ রেখেছেন। (অর্থাৎ আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে তাঁর মা’রিফাতের ওই পোশাক পরিয়েছেন, যার আঁচলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার নকশা খচিত রয়েছে, আমার ইচ্ছায় কখনো বিচ্যুতি আসে না। অনুরূপ, আমাকে বেলায়তের প্রতিটি ত্বরীক্বা (বা পথে)’র পূর্ণতার তাজ দান করা হয়েছে।)
ওয়া আত্ব্লাআনী আলা র্ছিরিন্ ক্বাদী-মিন্
ওয়া ক্বাল্লাদানী ওয়া আ’ত্বানী সুআলী। আস্সালাম-
অর্থ: আর আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে ‘র্সিরে ক্বাদীম’ (অনাদি-অনন্তের রহস্য, অর্থাৎ ক্বোরআন কিংবা হায়াত, মওত, ইলমে গায়ব ও ইস্মে আ’যম-এর রহস্যাবলী) সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আর আমার ঘাড়ে (সন্তুষ্টি ও আত্মসমর্পণ)-এর ‘গলাবন্দ’ পরিয়েছেন এবং আমি যা কিছু চেয়েছি সবই দিয়েছেন। (যেহেতু ওই ‘সিররে ক্বাদীম’ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার জন্য রেযা, তাসলীম ও সবর (যথাক্রমে, সন্তুষ্টি, আত্মসমর্পণ ও ধৈর্য)-এর প্রয়োজন, সেহেতু আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আগে ভাগে এগুলোর মালা আমার গলায় পরিয়েছেন। যেহেতু ‘র্সিরে ক্বাদীম’ প্রত্যেক বিষয়ের ধারক, সেহেতু হুযূর গাউসে আ’যম দস্তগীরের একথা বলা, ‘আমি আল্লাহর দরবারে যা চেয়েছি, তা আমি পেয়েছি’ তিনি ‘র্সিরে ক্বাদীম’-এর জ্ঞানপ্রাপ্ত হবার উজ্জ্বল প্রমাণ।)
ওয়া ওয়াল্লানী আলাল্ আক্বতাবি জ্বাম্আন্
ফা হুক্মী নাফিযুন্ ফী কুল্লি হালী। আস্সালাম-
অর্থ: আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে সমস্ত ক্বুত্ববের উপর হাকিম করেছেন। আর আমার হুকুম সব সময় জারী রয়েছে। (কেননা, আমাকে ‘র্সিরে ক্বাদীম’ (অনাদি রহস্য) সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। যার অনিবার্য সুফল হচ্ছে – সমস্ত কুত্ববের উপর সরদার হওয়া এবং সব সময় তাঁর হুকুম জারী হওয়া।)
ওয়া লাউ আল্ক্বায়্তু র্সিরী ফী বিহারিন্,
লাসা-রাল্ কুল্লু গাওরান্ ফী যাওয়ালী। আস্সালাম-
অর্থ: যদি আমার ‘গোপন রহস্য’ (অথবা একাগ্র দৃষ্টি অথবা খোদা প্রদত্ত ক্ষমতা) সমুদ্রগুলোর উপর নিক্ষেপ করি, তাহলে সব সমুদ্র শুষ্ক হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। (তখন সেগুলোর নাম নিশানা পর্যন্ত থাকবে না।)
ওয়া লাও আল্ক্বায়্তু র্সিরী ফী জিবালীন্,
লাদুক্কাত্ ওয়াখ্ তাফাত্ বাইর্না রিমালী। আস্সালাম-
অর্থ: যদি আমি আমার গোপন রহস্য পাহাড়গুলোর উপর রাখি, তবে সেগুলো পিষে বালুর মতো সুক্ষ্ম হয়ে যাবে, এমনকি দেখাও যাবে না।
ওয়া লাও আল্ক্বায়্তু র্সিরী ফাউক্বা নারিন্,
লাখামাদাত্ ওয়ান্ ত্বাফাত্ মিন্ র্সিরি হালী। আস্সালাম-
অর্থ: যদি আমি আমার গোপন রহস্য আগুনের উপর ঢেলে দিই, তাবে আমার হালের রহস্যের প্রভাবে তা নিভে ছাই হয়ে যাবে।
ওয়া লাও আল্ক্বায়্তু র্সিরী ফাউক্বা মায়্তিন্,
লাক্বামা বিক্বুদ্রাতিল্ মাওলা তা’আলী।আস্সালাম-
অর্থ: যদি আমি আমার গোপন রহস্যকে মৃতের উপর রাখি, তাহলে সে (তাৎক্ষণিকভাবে) আল্লাহ্ তা‘আলার ক্বুদরতে (জীবিত হয়ে) দাঁড়িয়ে যাবে।
(উল্লেখ্য, এসব ক’টির নমুনা তো পূর্ববর্তী নবীগণের সাথেও ঘটেছিলো। পবিত্র ক্বোরআনে এসবের বর্ণনা এসেছে। যেমন- কাফিরগণ হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালামকে আগুনে নিক্ষেপ করেছিলো। তখন আল্লাহ্র নির্দেশে আগুন নিভে গিয়েছিলো। হযরত মুসা আলায়হিস্ সালাম-এর জন্য সমুদ্র শুষ্ক হয়ে রাস্তা হয়ে গিয়েছিলো। পর্বতমালা উপড়িয়ে উপরে তুলে ধরা হয়েছিলো। এদিকে ওই সব পাহাড়ের স্থানে তখন পাহাড়ের নাম-নিশানাও ছিলো না। আর হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম আল্লাহ্র প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মৃতকে জীবিত করেছিলেন। ভূগোল শাস্ত্র থেকেও প্রমাণিত হয় যে, ভূ-পৃষ্ঠের কয়েকটা সমুদ্র শুষ্ক হয়ে গিয়েছে, কতেক অগ্নিকুণ্ড নির্বাপিত হয়ে আছে, আর কতেক পাহাড় যমীনে ধ্বসে গুপ্ত হয়ে গেছে। মোটকথা, এসব ক’টি সম্ভব। আল্লাহর হুকুমেই এমন পরিবর্তন হয়। সুতরাং ‘আল্লাহর ক্ষমতাক্রমে বাক্যটা উপরিউক্ত প্রত্যেকটা পংক্তির শেষে উহ্য ও প্রযোজ্য। যেমনটি কোন কোন ব্যাখ্যা কারক লিখেছেন।)
ওয়ামা মিন্হা শুহূরুন্ আও দুহূরুন্,
তার্মুরু ওয়াতান্ক্বাদ্বী ইল্লা আতালী।আস্সালাম-
অর্থ: (হে কারামতকে অস্বীকারকারী)! ঝগড়া করো না, (বাস্তবাবস্থা হচ্ছে এ যে,) মাস ও দীর্ঘকাল থেকে যা যা অতিবাহিত হয়েছে ও হচ্ছে, তন্মধ্যে এমন কোন মাস বা যুগ নেই, যা আমার নিকট আসে না। (অবশ্যই আসে।)
ওয়া তুখ্বিরুনী বিমা ইয়া’তী ওয়া ইয়াজ্রী,
ওয়া তু’লিমুনী ফা আক্বর্সি আন্ জ্বিদালী। আস্সালাম-
অর্থ: আর সেগুলো আমাকে অতীত ও ভবিষ্যতের ঘটনাবলী সম্পর্কে খবর দেয় ও অবহিত করে।
মুরীদী হিম্ ওয়াত্বিব্ ওয়াশ্তাহ্ ওয়া গান্নিন,
ওয়া ইফ্আল্ মা তাশা-উ, ফাল্ ইসমু আলী। আস্সালাম-
১৮. হে আমার মুরীদ! আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়ে যাও, খুশী হও আর নির্ভয়ে গাও এবং তোমার মন যা চায় করো। কেননা, আমার নাম মহান। অর্থাৎ হায়মান, ত্বীব, শাত্বহ ও গেনা, যথাক্রমে প্রেমে বিভোর হওয়া, খুশী হওয়া, নির্ভয় হওয়া ও গাওয়া) মা’রিফাতের কতগুলো সোপান। সুতরাং হে আমার মুরীদরা! তোমরাও এগুলো অতিক্রম করো। তা করতে পারলে তোমাদের ইচ্ছা খোদার ইচ্ছা হয়ে যাবে। তখন আর উন্নতির যাত্রাপথে কখনো পদস্খলন ঘটবে না, বরং উন্নীতই হতে থাকবে।)
মুরীদী লা তাখাফ্ আল্লাহু রব্বী,
আত্বানী রিফ্আতান্ নিল্তুল্ মানালী। আস্সালাম-
অর্থ: হে আমার মুরীদ! তুমি কাউকে ভয় করো না। আল্লাহ্-ই আমার মালিক, যিনি আমাকে ওই উচুঁ মর্যাদা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে উচুঁতর মর্যাদাগুলোতে (আমার আরজুগুলো) পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছি।
তুবূলী ফিস্ সামা-ই ওয়াল্ আরদ্বি দুক্বক্বাত্,
ওয়া শা-ঊচুচ্ সা‘আদাত্ ক্বদ্ বাদালী। আস্সালাম-
অর্থ: আসমান ও যমীনে আমার নামের ডঙ্কা বাজানো হচ্ছে। আর সৌভাগ্যের প্রধান দলপতি (ঘোষণাকারী) আমার জন্য আত্মপ্রকাশ করেছেন।

বিলাদুল্লাহি মুল্কী তাহ্তা হুক্মী,
ওয়া ওয়াক্ব্তী ক্বব্লা ক্ববলী ক্বদ্ ছফালী। আস্সালাম-
অর্থ: আল্লাহর সমস্ত শহর হচ্ছে আমার রাজ্য, সেগুলো আমার হুকুমের তাঁবেদার। আর আমার ‘সময়’ (হৃদয় উন্মুক্ত করণের মানযিল বা সোপান) আমি সৃষ্টি হবার পূর্বেই পরিচ্ছন্ন ছিলো।

নার্যতু ইলা বিলাদিল্লাহি জ্বাম্‘আন্,
কা র্খদাল্াতিন্ ‘আলা হুক্মিত্ তিসালী। আস্সালাম-
অর্থ: আমি আল্লাহর সমস্ত শহরের প্রতি তাকিয়েছি। তখন (দেখলাম) সবগুলো মিলে ষরিষার দানার সমান ছিলো। (কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলা আমার দৃষ্টি শক্তিকে এতো প্রশস্ত ও তীক্ষ্ম করেছেন যে, দুনিয়ার সমস্ত শহরকে একত্রিত করে একসাথে দেখলেও ষরিষার দানার মতো দেখায়।)

ওয়া কুল্লু ওলিয়্যিন্ আলা কদমিউঁ ওয়া ইন্নী,
আলা ক্বদামিন্ নাবী বাদ্রিল্ কামালী। আস্সালাম-
অর্থ: প্রত্যেক ওলী আমার পদাঙ্কের অনুসারী। আর আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক শরীফের অনুসারী, যিনি (রিসালতাকাশের) পূর্ণাঙ্গ চাঁদ। (কেননা কেউ হুযূর-ই আকরাম মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শরীয়ত ব্যতীত হিদায়তই পেতে পারে না। তাই আমি শরীয়তের পূর্ণ পাবন্দ। আর আমার মুরীদগণ্ হলো আমার অনুসারী। সুন্নাতে রসূলের অনুসরণের কারণে ধন্য আমার এ ‘কদম’কে তাই। এমন মহা মর্যাদা দান করা হয়েছে।

মুরীদী লা তাখাফ্ ওয়াশিন্ ফা ইন্নী,
আযূমুন্ ক্বাতিলুন্ ‘ইন্দাল্ ক্বিতালী। আস্সালাম-
অর্থ: হে আমার মুরীদ! তুমি কোন চোগলখোরকে ভয় করো না! কেননা, আমি যুদ্ধ ক্ষেত্রে স্থিরপদ অটল, (শত্র“দের) হত্যাকারী। (বস্তুতঃ চোগলখোরেরা অপবাদ ছড়িয়ে বিরোধিতা করলেও যুদ্ধ ক্ষেত্রে আল্লাহর দলই জয় যুক্ত হন।)

দারাস্তুল্ ইল্মা হাত্তা র্সিতু ক্বুত্ববান্,
ওয়া নিল্তুছ্ সা’দা মিম্ মাওলাল্ মাওয়ালী। আস্সালাম-
অর্থ: আমি (যাহেরী ও বাতেনী) ইলম পড়তে পড়তে ‘ক্বুত্বব’ হয়ে গেছি। আর আমি রাজাধিরাজ (আল্লাহ্ তা‘আলা)’র সাহায্য ক্রমে সৌভাগ্য (-এর সোপান) পর্যন্ত পৌঁছে গেছি। (কারণ, ইশ্ক্ব ও মুহাব্বত যেমন ‘মিলন’ পাবার মাধ্যম, তেমনি ইল্ম হচ্ছে কুত্বব ও সৌভাগ্যের মর্যাদা লাভ করার উপায়। কবির ভাষায় ‘‘কেহ্ বে ইল্ম নাতাওয়াঁ খোদারা শেনাখ্ত।’’ (অর্থাৎ ইল্ম ব্যতীত আল্লাহকে চেনা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য ‘ক্বুত্বব’ সা’আদত ও মা’রিফাতের অতি উঁচু মান্যিল বা সোপান। ‘‘এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে চান দান করেন।’’)
ফামান্ ফী আউলিয়া ইল্লাহি মিস্লী,
ওয়ামান্ ফিল্ ইল্মি ওয়াত্ তাস্রীফি হালী। আস্সালাম-
অর্থ: সুতরাং আল্লাহর ওলীগণের মধ্যে আমার মতো কে আছে? আর ইল্মও ‘হাল’-এর পরিবর্তন আনয়নে (আমার মতো) কে আছে? (অর্থাৎ এমনই আর কেউ নেই। ওলীগণের মধ্যে আমি হলাম অনন্য।)
কাযা ইর্ব্নু রিফা‘ঈ কা-না মিন্নী,
ফা ইয়াস্লুকু ফী ত্বরীক্বী ওয়াশ্ তিগালী। আস্সালাম-
অর্থ: যেমন ইবনে রিফা‘ঈ আমার অনুসারী ছিলেন, সুতরাং তিনি আমারই পথের পথিক ও আমার মতো কর্ম সম্পন্নকারী।
রিজ্বালুন্ ফী হাওয়ার্জি হিম্ সিয়ামুন্,
ওয়া ফী যুলামিল্ লায়ালী কাল্ লা আলী। আস্সালাম-
অর্থ: আমার ভাই-বন্ধুরা (মুরীদান) গ্রীষ্মকালেও রোযা পালনকারী। আর অন্ধকার রাতগুলোতেও (ইবাদতের আলো দ্বারা মনি-মুক্তার মতো চমকিত।
নাবিয়্যুন হাশিমী মাক্কী হিজাযী
হুয়া জাদ্দী বিহী নিল্তুল্ মাওয়ালী। আস্সালাম-
অর্থ: যিনি মহান নবী, হাশেমী বংশীয় ও মক্কায় জন্মগ্রহণকারী, হেজায ভূমিতে শুভাগমনকারী, তিনি আমার পিতামহ। তারঁই মাধ্যমে আমি আমার কাক্সিক্ষত সব কিছু পেয়েছি।
আনাল্ হাসানী ওয়াল্ মাখ্দা’ মাক্বামী,
ওয়া-আক্ব্দা-মী ‘আলা উনুর্ক্বি রিজ্বালী। আস্সালাম-
অর্থ: আমি ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর বংশের আর ‘মুখদা’ (মা’রিফাতের এক অতি উচ্চ মর্যাদা) আমার স্তর। আমার কদম সমস্ত পুরুষের (সম্মানিত ওলীগণ)-এর ঘাড়ের উপর।
ওয়া আবদুল কাদিরিল্ মাশ্হুর ইস্মী,
ওয়া জ্বাদ্দী সাহিবুল্ আইনিল্ কামালী। আস্সালাম-
অর্থ: আমার প্রসিদ্ধ নাম ‘আবদুল কাদির’। আমার নানা হলেন পূর্ণতার উৎসের মালিক। সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম।
আনাল্ জীলী মুহিউদ্দীনু ইস্মী,
ওয়া আ’লামী আলা রা’সিল্ জ্বিবালী। আস্সালাম-
অর্থ: আমি গীলানের বাসিন্দা, ‘মুহিউদ্দীন’ (দ্বীনকে পুনর্জীবিতকারী) আমার উপাধি। আর আমার উচুঁ মর্যাদার নিশান পর্বতমালার চূড়ার উপর (সমুজ্জ্বল)।
তাক্বাব্বাল্নী ওয়ালা র্তাদুদ্ সুআলী,
আগিস্নী সায়্যাদী উর্ন্যু বিহা-লী। আস্সালাম-
অর্থ: (হে আল্লাহ!) আমাকে কবূল করো, আমার প্রার্থনা রদ্দ্ করো না। আমার আহ্বানে আমাকে সাহায্য করো, হে আমার মালিক, আমার অবস্থার প্রতি কৃপাদৃষ্টি দাও।
ফাহাল্লিল্ ইয়া ইলাহী কুল্লা স’বিন্,
বিহাক্বিল্ মুস্তফা (দ.) বাদ্রিল্ কামালী। আস্সালাম-
অর্থ: সুতরাং হে আল্লাহ্! প্রতিটি জটিল-কঠিন ব্যাপারকে আমার জন্য সহজ করে দাও, হুযূর মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলায়, যিনি পূর্ণতার পরিপূর্ণ চাঁদ।
মিলাদ শরীফ
আ‘ঊযু বিল্লাহি মিনাশ্ শায়ত্ব-র্নি রজ্বীম্, বিস্মিল্লার্হি রহ্মার্নি রহীম
আল্হাম্দু লিল্লাহি ওয়া কাফা, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা ইবাদিহিল্লাযী নাস্তাফা, খা-স্সাতান্ আলা হাবীবিনা মুহাম্মাদিনিল্ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আম্মা বা’দ ফাক্বদ্ ক্বা-লাল্লাহু তা‘আলা ফী কালামিহিল্ মাজ্বিদ, লাক্বদ্ জ্বা’আকুম্ রসূলুম্ মিন্ আন্ফুসিকুম্, আযীযুন্ আলাইহি মা ‘আনিত্তুম্ হারীছুন্ আলাইকুম্ বিল্ মু’মিনীনা রঊর্ফু রহীম্। ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইয়ুসল্লূনা আলান্ নবী। ইয়া আইয়্যূহাল্ লাযীনা আমানূ সল্লূ আলায়হি ওয়া সাল্লিমূ তাস্লীমা– দরুদ শরীফ (আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন্ ওয়া ‘আলা আলি সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন্ ওয়া বারিক্ ওয়া সাল্লিম্)।
সালাতুন্ ইয়া রাসুলাল্লাহ্ আলাইকুম – সালামুন্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ আলাইকুম্

দো-আলম কেঁউ না হো র্ক্বোবাঁ উছী র্প,
খোদা ভী হ্যায় রেজা জোয়ে মুহাম্মদ (দ.)। সালাতুন্ ইয়া-
কতীলে খন্যরে বোররাঁ নেহী দিল্,
মর্গ ক্বোরবানে আব্ রোয়ে মুহাম্মদ। সালাতুন্ ইয়া-
ফলক্ব হ্যায় যেরে র্ফমানে মুহাম্মদ (দ.)
বড়ী হ্যায় র্আশ ছে শানে মুহাম্মদ (দ.)। সালাতুন্ ইয়া-
করেঙ্গে আম্বিয়া মাহ্শর মে নাফ্ছী,
উঠেঙ্গে উম্মতী গোয়া মুহাম্মদ (দ.)। সালাতুন্ ইয়া-
খোদা খোদ হ্যায় খরিদদারে মুহাম্মদ (দ.)
খোদা মিলতা হ্যায় বাজারে মুহাম্মদ (দ.)। সালাতুন্ ইয়া-
আবু বকর ও ওমর ওসমান ও হায়দার,
বেলাশক্ চার হ্যাঁয় ইয়ারে মুহাম্মদ (দ.)। সালাতুন্ ইয়া-

র্মাহাবা ইয়া র্মাহাবা ইয়া র্মাহাবা
রাহ্মাতাল লিল্ আলামীনা র্মাহাবা
জ্বল্ওয়ার্গহো ইয়া ইমামাল্ মুরসালীন্,
জ্বল্ওয়ার্গহো রাহ্মাতাল্ লিল্ আলামীন। র্মাহাবা-
জ্বল্ওয়ার্গহো গম্ঝাদোঁকে দস্তগীর,
জ্বল্ওয়ার্গহো হাদিয়ে রওশন্ জমীর। র্মাহাবা-
জল্ওয়ার্গহো জল্ওয়ায়ে নুরে খোদা,
জল্ওয়ার্গহো আয় হাবীবে কিবরিয়া। র্মাহাবা-
ক্বিয়াম
ফেরেশতূঁ কি সালামী দেনে ওয়ালী ফওজ গা তী থি
হযরতে আমেনা ছুন্তি থি তো ইয়ে আওয়াজ আতি থি
ইয়া নবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল্ সালামু আলাইকা
ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা, সালাওয়াতুল্লা-হ্ আলাইকা
বখ্তকা ছম্কে সেতারা, হাজেরী কা হো ইশারা
দেখ্ র্ক রওজা পিয়ারা, র্পে কেহে উম্মত তুম্হারা। ইয়া নবী-
আপহী মুশ্কিল্ কোশা হ্যাঁয়, খল্ক্ব কে হাজত্ রওয়া হ্যাঁয়
শাফিয়ে রোযে জাযা হ্যাঁয়, জো কহুঁ উস্ সে ওয়ারা হ্যাঁয়। ইয়া নবী-
রহম্ত-কে তাজওয়ালে দো জাঁহা কে রাজওয়ালে,
র্আশ কী মি’রাজ ওয়ালে হাম্ আছিয়োঁ কে লাজ্বওয়ালে। ইয়া নবী-
জান্ র্ক কাফী সাহারা লেলিয়া হ্যায় দর তুম্হারা
খল্ক্বকে ওয়ারিছ্ খোদারা, পারহো বেড়া হামারা। ইয়া নবী-
বাদশাহে আম্বিয়া হোনূরে জাতে কিবরিয়া হো
খলক্ব কে মুশকিল কোশা হো জো কহূঁ উস সে ওয়ারা হো। ইয়া নবী-
জ্বল্ওয়ায়ে খাইরুল্ বশর হো উন্কা দর আওর মেরা ছর হো
ইছ্ জাহাঁছে জ্বব্ সর্ফ হো, ছব্জ গুম্বদ্ পর নর্জ হো। ইয়া নবী-
বাহ্রে ইছ্ইঁয়া মে সফীনা, আ-গেয়া মুশ্কিল্ হ্যায় জীনা
পার হোনে কা ক্বরীনা, হো আত্বা শাহে মদীনা। ইয়া নবী-
ওয়াসেতা আলে আ’বা কা, সদ্ক্বা-এ-নূরে ফাতিমা কা
আর্ও শহীদে র্কাবালা কা, গম্ নাহো রোযে জাযা কা। ইয়া নবী-
আয্ তোফায়লে গাউসে আ‘যম, বাদশাহে র্হা দো আলম
সদ্ক্বা-এ-ইমামে আ‘যম, দূরহো সব্হীকে রঞ্জ ও গম। ইয়া নবী—
লাখোঁ সালাম
মুস্তফা জানে রহ্মত্ পে লাখোঁ সালাম
শম্য়ে বয্মে, হেদায়ত পে লাখোঁ সালাম
মোহ্রে র্চখে নবুয়ত্ পে রওশন্ দুরূদ,
গুলে বাগে রেসালত্ পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
রব্বে আলা কি নে’মত পে আলা দুরূদ,
হক্ব তায়ালা’ কি মিন্নত্ পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
উন্কে মাওলাকে উর্ন্প করোড়োঁ দুরূদ,
উন্কে আসহাব ও ইত্রত্ পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
গাউসে আযম ইমামাত্ তুক্বা ওয়ান্ নুক্বা,
জল্ওয়ায়ে শানে ক্বুদ্রত্ পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
চৌহ্রভী হযরতে খাজা আব্দুর রহ্মান,
উছ নগীনে বেলায়ত পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
মুর্শেদী হযরতে ক্বিব্লা সৈয়্যদ আহমদ,
পেশওয়ায়ে আহ্লে সুন্নাত পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
মুর্শিদী হযরতে ক্বিব্লা তৈয়্যব শাহ্,
হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
মুর্শিদী হযরতে ক্বিব্লা তাহের শাহ্,
যীনতে ক্বাদেরিয়ত পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
মুর্শিদী হযরতে ক্বিব্লা ছাবের শাহ্,
রওন্কে আহ্লে সুন্নাত পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
কামেলানে ত্বরীক্বত্ পে কামেল্ দুরূদ,
হামেলানে শরীয়ত পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
মেরে উস্তাযো মা বাপো ভাই-বহিন,
আহ্লে ওল্দো আশীরত্ পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
সৈয়্যদী হযরত ক্বিব্লা আহ্মদ্ রেজা,
উছ্ মুজাদ্দিদে দ্বীনও মিল্লাত্ পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
এক মেরাহী রহমত পে দাওয়া নেহী,
শাহ্ কি ছারী উম্মত পে লাখোঁ সালাম। মুস্তফা-
জার্ন্ক কাফি ছাহারা লেলিয়া হ্যায় দর তুম্হারা,
খল্ক্ব কে ওয়ারীছ খোদারা, লো সালাম আব্ তো হামারা মুস্তফা-
ইয়া নবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল সালামু আলাইকা,
ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা, সালাওয়াতুল্লাহ্ আলাইকা।
আস্সালাম আয় ‘মিম’ ও-‘হা’-ও ‘মিম’ ও ‘দাল’
আস্সালাম আয় বে নযীর ওয়া বে মে সাল্
আস্সালাম আয় ছব্জে গুম্ব্দ কে মকীন্,
আস্সালাম আয় রাহ্মাতাল্ লিল্ আলামীন।
হাবীবী ইয়া রসূলাল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইকা ওয়াসাল্লাম
তু ছখী তেরা ছখী দরবার হ্যায়, র্গ করম্ করদো তো বে’ড়া পার হ্যায়।
দস্ত বস্তাহ্ হ্যাঁয় খাড়ে হার্জে গোলাম, পেশ র্কতে হ্যাঁয় গোলামানা সালাম।
আয় খোদাকে লাড়লে পেয়ারে রসূল, ইয়ে সালামী আজেযানা হো ক্ববুল্।
মদীনে কে চাঁন্দ হাজারোঁ সালাম।
মদীনে কে চাঁন্দ লাখোঁ সালাম।
মদীনে কে চাঁন্দ কোরোড়োঁ সালাম।
মদীনে কে চাঁন্দ বে-হদ্ সালাম।
বালাগাল্ উলা বিকামালিহী কাশাফাদ্ দুজা বিজামালিহি
হাসুনাৎ জামী‘ঊ খিছালিহী সল্লূ আলাইহি ওয়া আলিহী।
ত্বরীকত সম্পর্কীয় গুরুত্বপূর্ণ বাণী
মান্চেহ্ গোয়াম্ শরহ্ েওয়াছ্ফে আঁ জনাব
আফতাব্ আস্ত, আফতাব্ আস্ত আফতাব।
(আমি ঐ জনাবের গুণাবলীর কি বিশ্লেষণ করব?
তিনিই সূর্য, তিনিই সূর্য, তিনিই তো সূর্য)।
চশ্মে রওশন্ কুনজে খাকে আউলিয়া।
তা-ব-বীণি জেএব্তেদা তা-এন্তেহা।
(আউলিয়া কেরামের পদধুলি দ্বারা চক্ষু উজ্জল কর।
তা হলে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত দেখতে পাবে।
র্গতু খাহী হাম্নশীনি বা-খোদা
গো নশিনী র্দ হুজুরে আউলিয়া।
(তুমি যদি খোদার সাথে বসতে চাও
তাহলে আউলিয়ায়ে কেরামের দরবারে বস)।
এক জমানা ছোহ্বতে বা-আউলিয়া,
বের্হ্ত আজ্ ছদ্ ছালা ত্বা’আত্ বেরিয়া।
(আউলিয়া কেরামের সংস্পর্শে কিছুক্ষণ বসা, শত বছরের বেরিয়া
[লৌকিকতাহীন] ইবাদত হতেও উত্তম)
তু-মবাশ্ আছলান্ কামাল ইঁ আস্ত ও বছ্,
তু-দরো গোম শো বেছাঁল ইঁ আস্ত ও বছ।
(তুমি নিজেকে বিলীন করে দাও। এটাই তোমার পরিপূর্ণতা, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। তুমি পীরে কামেলের মধ্যে বিলীন হও, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
আঁ-না-কে খাকরা ব নজর কীমিয়া কুনন্দ,
আ-য়া বুয়াদ্ কেহ্ গোশায়ে চশ্ম বমা কুনন্দ।
(যাঁরা দৃষ্টি দ্বারা মাটিকে স্বর্ণ করেন, কতই উত্তম হতো যদি তাঁরা আমাদের প্রতি নজর করতেন।)
আফ্তাব্ আমদ দলীলে আফ্তাব ব্ধ গর দলীলত্ বায়দ আয ওয়াই রো মতাব্।
(সূর্য যে সূর্য-এর প্রমাণ সূর্য নিজেই।
যদি তোমার প্রমাণের দরকার হয়, তাহলে সূর্যের দিক হতে চোখ ফিরাইওনা)
র্ক্বোবে জানী রা বো’দে মকানি নীস্ত।
(প্রেম যদি দিলে থাকে ‘র্দূ’ মোটেই দূরে নহে।)
মাশায়েখ হযরাতের গুরুত্বপূর্ণ বাণী
জামেয়া কী খেদ্মত্ কো আপ জুমলা ভাইয়োঁ ! নম্বরে আউয়াল্ মে রাক্ষেঁহ্, দুনিয়া কী ধান্ধোঁ আওর কামোঁ দোছ্রে, তেছ্রে নম্বর মে রাক্ষেঁহ্। উছী হিছাব ছে আপ্ ভাইয়োঁ কে ছাথ্ভী এয়্ছাহী মুয়ামালা হোগা, আপ্কে তামাম্ নেক্ কামোঁ কো উছী তরতীব্ ছে ছারাঞ্জাম্ দিয়া জায়েগা, ইন্শা আল্লাহ।
-হযরত সৈয়্যদ আহ্মদ্ শাহ্ সিরিকোটি (রাহ.)
মুঝ্ছে মুহাব্বত্ হ্যায় তো মাদ্রাসা কো মুহাব্বত করো, মুঝেহ্ দেখ্না হ্যায় তো মাদ্রাসা কো দেখো। – হযরত সৈয়্যদ আহ্মদ্ শাহ্ সিরিকোটি (রাহ.)
আপনি যাকাত কো চার হিস্সা র্ককে এক হিস্সা জামেয়া কি মিস্কীন্ তোলাবোঁ কো দিয়া করো, বাকী তিন হিস্সা আপ্নে হক্বর্দা মিসকীনোঁ কো তক্বসীম কিয়া করো। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাহ.)
কাম করো, ইসলাম কো বাচাঁও ! দ্বীন কো বাচাঁও! সাচ্ছা আলেম তৈয়ার করো! -হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাহ.)
খেদমতে জামেয়া আপ লোগোঁকে দো-জাহান কি কামিয়াবী আওর তরক্কী কা আজীমুশ্শান উছিলা হ্যাঁয়। খেদ্মতে জামেয়া মুর্শিদে র্বহক্ব কী তরফ্ ছে বল্কেহ্ হাজরাত কী র্তফ ছে আপ্ ভাইয়োঁকী ডিউটী মে দাখেল্ হ্যাঁয়। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাহ.)
আপ্ লোগোঁনে জামেয়া কা জিম্মা লিয়া, আওর মেরে ছাথ্ ওয়াদা কিয়া। আর্গ ইছমে গাফ্লতী কিয়া তো, রসূলুল্লাহ্ আওর বাজী আপ্ লোগোঁকো নেহী ছোড়েঙ্গে, মাইভী নেহী ছোড়োঙ্গা। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাহ.)
“আপ্ জামেয়া কী খেদ্মত করে, জামেয়া আপ কী খেদমত করে গা।- হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রাহ.)
মুর্শিদ কী মন্জূরে নর্জ বন্নেকে লিয়ে উচ্-চে-মোহাব্বত্ মে কামাল্ হাসেল্ র্কনা নেহায়ত্ জরুরী হ্যায়।
অর্থ ঃ- মুর্শিদ্ (পীর) এর প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য তাঁর প্রতি পূর্ণ ভালবাসা অত্যন্ত জরুরী। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.)
হুজূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী মোহাব্বত আইনে ঈমান হ্যায়।
অর্থঃ- হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ভালবাসাই প্রকৃত ঈমান। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.)
দোছরোঁ কী আইব জু-ঈ চে কোয়ী ফায়েদা নেহী
অর্থঃ- অপরের ছিদ্রান্বেষণে কোন ফায়দা নেই। -হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.)
তৈয়্যব কা মক্বাম্ বহুত্ উচাঁ হ্যায়, তৈয়্যব্ মার্দজাদ্ অলী হ্যায়।
অর্থঃ- তৈয়্যব শাহ্’র অবস্থান (মর্যাদা) অতীব উচ্চে, তৈয়্যব্ শাহ্ গর্ভজাত অলী। – হযরত সৈয়্যদ আহ্মদ্ শাহ্ সিরিকোটি (রা.)
আস্হাবে কাহাফ্ কা কুত্তা নেক্ লোগোঁ কী সুহ্বত্ কী ওয়াজাহ্ চে জান্নাত’মে জায়েগা, অওর হজরত নূহ (আঃ) কে বেটা বুরোঁ কী সুহ্বত্ কী ওয়াজাহ্ চে আযাবে ইলাহী চে বাচ্ ন চেকা, যব্কে শয়তান কো নেক আমল অওর ইবাদত নে কুচ্ ফায়েদা ন দিয়া।
অর্থঃ- আসহাবে কাহাফ্ এর কুকুর সৎলোকের সংশ্রবের কারণে জান্নাতে যাবে। আর হযরত নূহ (আঃ) এর সন্তান অসৎ লোকের সাহচর্যের কারণে আল্লাহর শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পায়নি; যেমনিভাবে, শয়তানকে স্বীয় সৎকার্য ও ইবাদত কোন উপকারিতা দেয়নি। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.)
রূহানী মোলাক্বাত কী পোখ্তগী কে লিয়ে জিস্মানী মোলাক্বাত্ কা হো-না- নেহায়ত জরুরী হ্যায়। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.)
সিল্সিলাহ্ মে দাখেল্ হো-নে কা মক্বসদ্ হুজূর করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তক্ রসা-ই-হ্যায়।
অর্থঃ- “ত্বরিক্বতের (পরম্পরা সূত্রে) প্রবেশ করার উদ্দেশ্য হলো হুজূর (দঃ) পর্যন্ত পৌঁছা। – হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.)
প্রসঙ্গ : মাজমূ‘আহ্ সালাওয়াতির রসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহী ওয়া আসহা-বিহী ওয়াসাল্লাম
পূর্ণ নাম
মুহায়্যিরুল উকূল ফী বায়ানি আওসাফি আকলিল উকূল আল্ মুসাম্মা বিমাজমুআতি সালাওয়াতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহী ওয়াসাল্লাম।
রচয়িতা
শায়খুল মাশায়েখ, ওয়াকেফে আসরারে মা‘রিফাত, খাজায়ে খাজেগান, খলীফায়ে শাহে জীলান, মা‘আরেফে রব্বানীর ধারক, লদুনী ইলমের বাহক, খাজা আবদুর রহমান চৌর্হভী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (১৮৪৩-১৯২৩খ্রি.)।
আঙ্গিক সৌষ্ঠব
৩০ পারা বা খণ্ডে বিন্যস্ত। প্রতি পারা ৪৮ পৃষ্ঠা সম্বলিত সর্বমোট ১৪৪০ পৃষ্ঠায় রচিত (৩য় সংস্করণ)।
রচনাকাল
১২ বছর ৮ মাস ২০ দিনে রচনা সম্পন্ন হয়। ২০ শতকের গোড়ার দিকে রচয়িতার জীবদ্দশায় পাণ্ডুলিপি রচিত হলেও বিষয়টি প্রকাশ হয় তার ওফাত পরবর্তী সময়ে।
১ম সংস্করণ
পীরের নির্দেশে প্রধান খলিফা পেশোয়ায়ে আহলে সুন্নাত আলে রসূল আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি’র উদ্যোগে ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মরহুম শেঠ আহমদের অর্থায়নে রেঙ্গুন থেকে প্রকাশিত হয়। এর ভূমিকা লিখেন আল্লামা ইসমাতুল্লাহ্ সিরিকোটী। এ ভূমিকায় বর্ধিত সংযোজনা আরোপ করেন শাহেনশাহে সিরিকোট রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।
২য় সংস্করণ
১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৭২ হিজরি শাহেনশাহে সিরিকোট রাহমাতুল্লাহি আলাইহি’র উদ্যোগে মাওলানা আমীর শাহ্ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি’র তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হয়।
৩য় সংস্করণ
মুর্শেদে বরহক আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র নির্দেশনায় আন্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া, চট্টগ্রাম থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৪০২ হিজরিতে পাঁচ হাজার কপি ছাপানো হয়।
৪র্থ সংস্করণ
পরবর্তীতে দরবারে আলিয়া সিরিকোট শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ ও অনুজ আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুমাল আলী’র পৃষ্ঠপোষকতায় এর অনুবাদসহ চৌর্হ শরীফ পাকিস্তান হতে অফসেট কাগজে এর নবতর সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে মোতাবেক ১৪১৬ হিজরিতে। এটার উর্দূ অনুবাদ করেন প্রখ্যাত উর্দূ সাহিত্যিক আল্লামা আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আশরাফ সিয়ালভী। এ মহান গ্রন্থ ছাপার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন আবুধাবী প্রবাসী, হাটহাজারী চট্টগ্রাম নিবাসী আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার প্রকাশ ইউনুছ কোম্পানী।
মাজমু‘আহ্-এ সালাওয়াতে রসূল কিতাবের বৈশিষ্ট্য
আঙ্গিক বিন্যাসে কোরআন-হাদীসের সাদৃশ্য রক্ষা: পবিত্র কোরআনে মজীদ এবং হাদীসের জগতে বিশুদ্ধতম কিতাব বুখারী শরীফের মত এটিও ৩০পারায় বিন্যস্ত। স্বয়ং রচয়িতা তাঁর প্রধান খলিফাকে পত্র দ্বারা তেমনই ইঙ্গিত করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “এ মহান মনীষী তাঁর বিশাল রচনা সম্ভার জীবদ্দশাতেই রচনা করে গোপন রাখেন। পরে ওফাতের সময় ঘনিয়ে এলে আমাকে পত্র মারফতে জানান ‘মাজমু‘আতে সালাওয়াতে রাসূল’ রচিত হয়েছে, যা সহীহ বুখারী শরীফের মত ৩০ পারা সম্বলিত, প্রতিটি পারা কোরআন শরীফের পারা থেকে কিছু বড়।”
দুরূদ উপজীব্য
শুধু প্রিয়নবীর উপর দরূদ শরীফের উপর রচিত এত বৃহদাকার গ্রন্থ সম্ভবত আর রচিত হয়নি। আল্লাহ্ তা‘আলা নিজ ফেরেশতাদের নিয়ে নবীর জন্য যে বিশেষ অনুগ্রহের ধারা প্রবাহিত করেছেন এবং ঈমানদারকে যে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন তা হল দরূদ শরীফ পাঠ করা। আর খাজা চৌর্হভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার বিশাল গ্রন্থের বিষয়বস্তু হিসেবে সে কাজটিই উপজীব্য করেছেন। এ কারণে সাল্ফ-ই সালিহীনদের মধ্যে তাঁর স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্য অনন্য হয়ে দেখা দিয়েছে।
ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
প্রিয়নবীর প্রিয়ভাষা আরবী বলেই নবীর এ অতুলনীয় আশেক খাজা চৌর্হভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজে অনারবী হয়েও এ কিতাবের ভাষা বেছে নিয়েছেন আরবী। তাও রীতিমত উচ্চাঙ্গের সাহিত্যমান নিয়ে রচিত। একজন অনারব আরবী ভাষায় এতটা পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন যে, তাতে আক্বল তথা বুদ্ধি-বিবেক খেই হারাতে হয় বৈকি।
ভাব ও ভাষার চমৎকারিত্ব
এ কিতাবে সন্নিবেশিত দরূদসমূহে প্রার্থনার আঙ্গিকে একদিক থেকে রাব্বুল আলামীনকে সম্বোধন করা হয়েছে, সাথে রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র প্রশংসা-স্তুতিও রচিত হয়েছে। সর্বোপরি একজন মুমিন আশেকের প্রয়োজনীয় হাজাত ও প্রার্থনা প্রকাশ পেয়েছে। শুধু তাই নয়, দরূদ পরিবেশনার আদলে নবীজীর বাহ্যিক ও আত্মিক সৌন্দর্যের যে অনুপম বর্ণনা এখানে উপস্থাপিত হয়েছে, এতে বোদ্ধা শ্রেণীর মরমী পাঠকের কল্পলোকে প্রিয়নবীর অস্তিত্ব অনুভব করাও বিচিত্র নয়।
আল্লামা ইসমতুল্লাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এ মহান কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেন- “এ কিতাবের তাওহীদী তত্ত্বজ্ঞানসমূহ এবং প্রেমশক্তি এত দুর্নিবার ও উচ্চ যে, তা নিগূঢ় রহস্যময় ও প্রকৃত গোপন সত্ত্বা মহান আল্লাহর প্রতি পাঠককে একান্ত মোহাবিষ্ট করে দেয়। … এটা পাঠকের জন্য প্রিয় রাসূলের ভাবনা, তাঁর নূরগত, প্রকাশগত, জ্ঞানগত, কার্যগত, চরিত্রগত এককথায় সর্ববিষয়ে জ্ঞান দান করে।”
যে কিতাবে সব বিষয়ের সন্ধান ও উদাহরণ মিলে হাদীস বিশেষজ্ঞরা তা ‘জামে’ বলে মন্তব্য করেন। যে অর্থে বুখারী শরীফ ‘জামে’ কিতাব। মাজমু‘আয়ে সালাওয়াতে রাসূল কিতাবটি প্রিয়নবীর এক অভিনব জীবনচরিত এবং সর্ববিষয়ের আধার বললে যে অত্যুক্তি হবে না, গবেষকমহল তা গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে কিতাবের উর্দূ অনুবাদক আল্লামা আশরাফ সিয়ালভীর মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য :
“সম্মানিত রচয়িতা এখানে শুধু দরূদ শরীফ একত্রিত করাকে যথেষ্ট মনে করেন নি, বরং সায়্যিদুল আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির প্রথম হওয়া, নূরানী সত্ত্বা হওয়ার প্রমাণ অভিনব পন্থায় বর্ণনা করেছেন। তাঁর পবিত্র জন্মের হৃদয়গ্রাহী অবস্থাদি, সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্র, মানবীয় সুকুমার বৃত্তির গুণসমূহের পূর্ণপ্রকাশ, তাঁর মি‘রাজসহ অলৌকিক বিষয়াদি এবং অপরাপর উচ্চতম মহত্ত্ব ও মর্যাদার বর্ণনা দ্বারাও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এটাকে ‘সীরাত’ ও খাসায়েস গ্রন্থের সঙ্কলনে পরিণত করেছেন। শরঈ বিধানসম্বলিত প্রিয়নবীর বাণীসমূহ এতে অন্তর্ভুক্ত করে এটাকে ফিক্ব্হ শাস্ত্রের সারাংশে রূপ দিয়েছেন। ‘তাসাওফধর্মী বর্ণনায় সমৃদ্ধ করে তাসাওফের অমূল্য দলীলের মর্যাদায়ও এটাকে উন্নীত করেছেন। আরবী সাহিত্যের উচ্চাঙ্গ রীতিতে কঠিন-জটিল বাক্য বিন্যাস, উপমা-উৎপ্রেক্ষা ইত্যাদি দ্বারা এটাকে উন্নত আরবী সাহিত্যের বিরল উদাহরণে পরিণত করেছেন। … নিঃসন্দেহে এ গ্রন্থ হাজারো দরূদ-সালামের যেমন ভাণ্ডার, তেমনি আক্বিদা আমল ও চরিত্র সংশোধন ও পরিশুদ্ধির জন্য সরল-সঠিক পথপ্রাপ্তিরও সহায়ক।”

খণ্ড বিভাজন ও শিরোনাম
ভাষাগত বৈচিত্রের কথা আপাতত বাদ দিলেও এর খণ্ড বিভাজনে যে শিরোনাম রাখা হয়েছে, সেই ত্রিশটি শিরোনামে অন্তত ত্রিশজন বিদগ্ধ গবেষক নিদেনপক্ষে ত্রিশটি গবেষণার বিষয়তো পাবেন। যেমন: প্রিয় নবীর ১. নূর ও তাঁর প্রকাশ, ২. তাঁর নূরানী সত্ত্বা ও বরকতময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ, ৪. তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদের বৈশিষ্ট্য, ৫. তাঁর হাসাব-নসব তথা পূর্বপুরুষ, বংশপরম্পরা, ৬. তাঁর মান-মর্যাদা ও আভিজাত্য, ৭.তাঁর যাতী ও সেফাতী নামসমূহ, ৮.তাঁর নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব, ৯. তাঁর প্রশংসা ও মহিমা গান, ১০. তাঁর মি‘রাজ ও ঊর্ধ্বলোক ভ্রমণ, ১১. তাঁর তাসবীহ ও তাহলীল, ১২. তাঁর ধৈর্য ও সংযম, ১৩. তাঁর দু‘আ ও প্রার্থনা, ১৪. তাঁর বাণী ও বচন, ১৫. তাঁর নুবুয়ত ও রিসালাত, ১৬. তাঁর মহত্ত্ব ও সম্মান, ১৭. তাঁর সুপারিশ এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির যোগসূত্রতা, ১৮. তাঁর অবস্থান ও অবস্থানগত প্রভাব, ১৯. তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণাদি ও সুসংবাদসমূহ, ২০. তাঁর প্রেম ও প্রেমাষ্পদ, ২১. তাঁর প্রজ্ঞা ও অদৃশ্যজ্ঞান, ২২. তাঁর মু‘জিযা ও অলৌকিকত্ব, ২৩. তাঁর দাওয়াত ও আহ্বান, ২৪. তাঁর আদেশ-নিষেধ, ২৫. শুহুদ ও মাশহূদ (গুপ্তে-ব্যক্তে তাঁর উপস্থিতি), ২৬. তাঁর অনুপম চরিত্র, ২৭. তাঁর নৈকট্য ও আপনজন, ২৮. তাঁর সম্পৃক্ততা ও সাহচর্য, ২৯. তাঁর লিওয়ায়ে হাম্দ ও মকামে মাহমূদ, ৩০. সৃষ্টিতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব।

বিপন্ন মানবতায় রহমতের উসিলা
দরূদ শরীফ নিঃসন্দেহে এমন অনন্য নিয়ামত, যা সর্বরোগের মহৌষধ ও সব সমস্যার ঐশী সমাধান। এ কিতাব তাই বিপন্ন মানুষের জন্য আল্লাহর রহমত লাভের এক অপার্থিব উসিলা তথা মাধ্যম। বিপদ-আপদ, মহামারি, ব্যবসায় অবনতি, জাহাজডুবি, জটিল-কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়াসহ জাগতিক জীবনে সমস্যার ফিরিস্তি শেষ হওয়ার নয়। কোরআন শরীফ ও বুখারী শরীফের মত ৩০ পারায় এ কিতাব রচনার পেছনে একটা বিশেষত্ব এও যে, এ কিতাবের খতম আদায়ের মাধ্যমে বিপন্ন মানবতার সহায়ক হিসেবে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তিতে এই খতমে সালাওয়াতুর রাসূল পরশপাথরের মতই অব্যর্থ নেয়ামত ও মহান উসিলা। এ জন্যই ঘরে ঘরে এর তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর খতম আদায়ের প্রচলন পরিলক্ষিত হয় ব্যাপকভাবে।
অলৌকিকত্ব
জাগতিক শক্তি দ্বারা যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়না, তা এ দরূদ শরীফের খতমের মাধ্যমে আল্লাহর মহান অনুগ্রহে অনায়াসে অচিন্তনীয়ভাবে সমাধান হয়ে যাওয়া এ কিতাবের বড় অলৌকিকত্ব। তবে সবচে’ বড় আশ্চর্যের বিষয়, যা এ কিতাবের প্রধান বিশেষত্বঃ তা হল স্বয়ং রচয়িতা, প্রাতিষ্ঠানিক কোন বিদ্যা শিক্ষা ছাড়া, যিনি মক্তবেও এক দিনের বেশী যাতায়াত করেননি, তাঁর হাতে এমন অতুলনীয় গ্রন্থ রচিত হওয়ার চেয়ে অলৌকিকত্ব আর কী হতে পারে। এ যেন উম্মী নবীর ‘মা কা-না ওয়ামা- য়াকূনু’ এর গায়েবী ইলমের দরিয়া হতে ডুব দিয়ে আনা এক অপার্থিব জ্ঞানের অপার রহস্যের ভাণ্ডার। আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য এ কিতাবের নিয়মিত তিলাওয়াতকে ওয়াজিফা হিসেবে গ্রহণ করা অতীব ফলদায়ক। তাছাড়া নিয়মিত তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজে খতম আদায় করতে পারলে তার হজ্বে বায়তুল্লাহ্ ও নবীর যিয়ারত লাভের সৌভাগ্য অর্জিত হয়। এমন বাস্তব দৃষ্টান্ত অনেক পীরভাইয়ের জীবনে দেখা গেছে।
তথ্য নির্দেশ ঃ
মাজমুয়ায়ে সালাওয়াতে রসূলের ভূমিকা
কৃত: আল্লামা ইসমতুল্লাহ সিরিকোটী
শাজরা শরীফ
প্রকাশনায়: আন্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া
্ মাজমুয়ায়ে সালাওয়াত-ই রসূলঃ বৈশিষ্ট্য ও অলৌকিকত্ব
কৃত. মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন।
আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া (ট্রাস্ট)’র
নীতিগত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ
সিল্সিলায়ে কাদেরিয়া আলিয়া সিরিকোট শরীফ এর মাশায়েখ্ হযরাতের নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের পূর্বে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।
খত্মে গেয়ারভী শরীফ ও বারাভী শরীফ’র অনুষ্ঠান হুজূর ক্বিব্লার অনুমতি সাপেক্ষে পালন করা যাবে।
প্রতি চান্দ্র মাসের ১০ তারিখ দিবাগত রাত্রে শহর এলাকায় (চট্টগ্রাম মহানগর) কেবল আলমগীর খান্ক্বাহ্-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া ও বলুয়ারদীঘি পাড়স্থ খান্ক্বাহ শরীফেই খত্মে গেয়ারভী ও বারাভী শরীফ পালন করা যাবে।
শহরের (চট্টগ্রাম মহানগর) বাইরে খতমে গেয়ারভী ও বারাভী শরীফ হুজূর ক্বিব্লার পূর্বানুমতি গ্রহণ পূর্বক নির্ধারিত তারিখে পালনীয়।
আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহ্মদিয়া সুন্নিয়া (ট্রাস্ট)’র পরিচায়ক সবুজ রঙে সাদা চাঁদ ও চার তারকাবিশিষ্ট পতাকা অন্য কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।
হুজূর ক্বিব্লা (রহ.) বা আমাদের মাশায়েখ হযরাতের প্রতিষ্ঠানের নামে কোন ধরনের প্রকাশনার উদ্যোগ নেয়ার পূর্বে আন্জুমান-এ রহ্মানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া (ট্রাস্ট)এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের অনুমতি নিতে হবে।
স্মরণীয় যাঁরা
যাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্তমানে বহির্বিশ্বে ও দেশের বিভিন্ন জিলা ও উপজেলায় আলা হযরতের নীতিমালায় প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠ, খানকাহ্ শরীফ, মসজিদসমূহ ও আজকের সুবিশাল আন্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া সেই সব বিশিষ্টজনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন-
আলহাজ্ব আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার, নূর মুহাম্মদ সওদাগর আলকাদেরী, আবদুল জলিল বিএ, ছূফি আবদুল গফুর, আবদুল লতিফ (কুমিল্লা), ডা. তাফাজ্জল হোসেন (কাঠিরহাট), শেখ আফতাব উদ্দীন, ওয়াজির আলী সওদাগর আলকাদেরী, আমিনুর রহমান সওদাগর আলকাদেরী, জয়নুল আবেদীন, ডাঃ ছামি উদ্দীন, আবদুস্ সাত্তার (নজুমিয়া লেইন), মাওলানা এজহার আহমদ (বাঁশখালী), নূরুল ইসলাম সওদাগর আলকাদেরী, হযরত উদ্দীন চৌধুরী (নাজিরপাড়া), আজিজুর রহমান চৌধুরী, আবুল বশর সওদাগর (হালিশহর), তাফাজ্জল হোসেন (কাট্টলী), আকরম আলী খান (বাকলিয়া), মাওলানা আহমদ ছোবহান, ফজলুর রহমান সরকার,আলহাজ ছালেহ আহমদ সওদাগর আলকাদেরী ।
আবু বকর (বাঞ্ছারামপুর), ডাঃ মুহাম্মদ হাশেম, মরহুম সামশুল ইসলাম চৌধুরী, আলহাজ্ব নজীর আহমদ সওদাগর, আলহাজ্ব মুহাম্মদ রশিদুল হক, ডাঃ নওয়াব আলী (ফতেয়াবাদ), কাজী মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া (গহিরা), মুহাম্মদ মিয়া (ফতেয়াবাদ), নাজমুল হক (এডভোকেট), আবু আহমদ চৌধুরী (গহিরা), আবদুল মজিদ (রশিদাবাদ), জাকির হোসেন কন্ট্রাক্টর, আবদুল জলিল চৌধুরী (ঘাটফরহাদবেগ), মাস্টার আবদুল কাইয়ূম (লোহাগাড়া), ডা. ছৈয়দুজ্জামান (ঢাকা), অধ্যক্ষ আবুল খায়ের (মিরসরাই), ডাঃ শামসুল হুদা, ডা. লালমিয়া (রাউজান), ডা. আবদুস্ সালাম (রাউজান), আহমদুর রহমান এম.এ. বিল (চন্দনাইশ), ওসমান গণী সওদাগর (আগ্রাবাদ), আবদুস্ সাত্তার চৌধুরী (পাঠানদন্ডী), মুহাম্মদ জাকারিয়া (হালিশহর), আহমদ হোসেন চৌধুরী (রশিদাবাদ), সিরাজুল হক (ঢাকা), আলতাফ হোসেন চৌধুরী (রশিদাবাদ), মুহাম্মদ আলী মিয়া (আশরাফ আলী রোড), মুহাম্মদ রাদ্বিয়াল্লাহ্, মফিজুর রহমান (নোয়াখালী), তাজুল ইসলাম সওদাগর (বাকলিয়া), মুহাম্মদ চিনু মিয়া (ঢাকা), আবদুল আলিম (ঢাকা), মিয়া হাজ্বী (ঢাকা), মতিউর রহমান (ঢাকা), অধ্যক্ষ খায়রুল বশর (চন্দনাইশ), গোলামুর রহমান (মোহরা), আবদুস্ সামাদ (পাঠানদন্ডী), আইয়ুব আলী চৌধুরী (পটিয়া), বাদশা মিয়া (ঢাকা), সমিউল্লাহ্ সরদার (ঢাকা), আহমদ হোসেন আমিন (ছাগলনাইয়া), আবদুল মালেক (রাউজান), মতিউর রহমান চৌধুরী (রাঙ্গুনিয়া), ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী (রাঙ্গুনিয়া), মাওলানা ফয়েজ আহমদ (ফটিকছড়ি), ফয়েজ উল্লাহ্ বি.এ. (সীতাকুণ্ড), সুলতান আহমদ (এডভোকেট, মিরসরাই), ছৈয়দ আহমদ হোসেন (হাটহাজারী), দেলওয়ার হোসেন চৌধুরী (গহিরা), মফিজুর রহমান চৌধুরী (গহিরা), আবদুল আজিজ খান (কুমিল্লা), মুহাম্মদ আবদুস্ সামাদ (সিলেট), মুস্তাফিজুর রহমান (হালিশহর), মুহাম্মদ শরীফ সওদাগর (পটিয়া), সরু মিয়া সওদাগর (পটিয়া), আবু হানিফ খোন্দকার (গহিরা), মাওলানা আবদুল গফুর (এয়াছিন নগর), আবদুল হক কন্ট্রাক্টর (ফরিদগঞ্জ), জাফর আহমদ সওদাগর (বাকলিয়া), নূরুল আলম (সাতকানিয়া), কাজী আবদুল গণি (রাউজান), আবদুস্ শুক্কুর সওদাগর (শিকলবাহা), নজরুল ইসলাম (মরিয়মনগর), কবির আহমদ কন্ট্রাক্টর (মেহেদীবাগ), আমজাদ হোসেন সওদাগর (শরীয়তপুর), মহসিন আবেদ চৌধুরী (নারায়নগঞ্জ), মাস্টার এমরান আলী (রাজশাহী), কালা মিয়া (পটিয়া), মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী (সাতকানিয়া), আহমদ ছফা সওদাগর (হালিশহর), আহমদ হোসেন (সোনার বাংলা সোপ, সাতকানিয়া), আলী আহমদ খান (পাঁচলাইশ), আবদুল জব্বার খাঁ (পাঁচলাইশ), ইছহাক সওদাগর (হালিশহর), আবুল বশর চৌধুরী (মুন্সীপাড়া, কর্ণেলহাট), নূরুল আমিন চৌধুরী (জোলারহাট), নূরুদ্দীন চৌধুরী (কাট্টলী), দৌলত আলী খাঁ (বোয়ালখালী), মুহাম্মদ রফিক (পাহাড়তলী), জাকের সওদাগর (বাকলিয়া), হাফেজ আহমদ (ঢাকা), রফিক আহমদ সওদাগর (কদমতলী), আরিফুর রহমান সওদাগর (চাক্তাই), আবদুস্ সাত্তার কন্ট্রাক্টর (বাদামতল, খাজারোড), ছিদ্দিক আহমদ শাহ্ (আশরাফ আলী রোড), আলহাজ্ব ছূফী মাহমূদুর রহমান (রশিদাবাদ), নূরুল আবছার (গহিরা), মোবারক আলী চৌধুরী (তৈলার দ্বীপ), বজলুল করিম চৌধুরী (তৈলার দ্বীপ), আবদুল মজিদ সওদাগর (নাজিরপাড়া), সৈয়দ আবদুল মাবুদ (কাটিরহাট), আবদুল কুদ্দূছ সওদাগর (আলমদার পাড়া), ডা. মোজাফ্ফরুল ইসলাম, ছৈয়দ আহমদ বি.কম. (পটিয়া), মাওলানা জাফর আহমদ (পাঁচলাইশ), এইচ. টি. হোসেন (তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি), দিদারুল আলম (চন্দনাইশ), হযরত আবু বকর শাহ্ (চন্দনাইশ), ছিদ্দিক আহমদ সওদাগর (হাটহাজারী), লিয়াকত আলী কমিশনার (পাচঁলাইশ), আবুল খায়ের সওদাগর (মেখল, হাটহাজারী), মাওলানা জাফর আহমদ সিদ্দিকী (কুয়াইশ-বুড়িশ্চর), কাজী আবদুল হালিম (গহিরা), মুহাম্মদ বদিউল আলম (ফেনী), মুহাম্মদ সিরাজ মিঞা (কাট্টলী), মুহাম্মদ দিদারুল আলম (দিদার মার্কেট), আলহাজ্ব ডা. নুরুল হুদা (বিবিরহাট) প্রমুখ।
আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, মুর্শিদে বরহক্ব, হযরতুল আল্লামা, হাফেজ ক্বারী
আলহাজ্ব সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) কর্তৃক
খেলাফতপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের কয়েকজন
১। আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, মুর্শিদে বরহক্ব,
হযরতুল আল্লামা হাফেজ ক্বারী আল্হাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ
(রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) [সিরিকোট, পাকিস্তান] ২। ডাঃ মোজাফফারুল ইসলাম (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি)
৩। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {চট্টগ্রাম}
৪। ছুফি আব্দুল গফুর (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি)
৫। মাস্টার আব্দুল জলিল (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি)
৬। আব্দুল লতিফ (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {কাট্টলি}
৭। মাওলানা আবু বকর চৌধুরী (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {পাঠানদণ্ডী}
৮। মাওলানা এজাহার আহমেদ (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি)
৯। ডাঃ আবু বকর (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {বাঞ্চারামপুর}
১০। ডাঃ টি. হোসেন (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {কাটিরহাট}
১১। আবু মোহাম্মদ তবিবুল আলম {চট্টগ্রাম}
আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, মুর্শিদে বরহক্ব,
হযরতুল আল্লামা, হাফেজ ক্বারী আলহাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ
(রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) কর্তৃক
খেলাফতপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ
১। আওলাদে রাসুল, রাহ্নুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, মুর্শিদে বরহক্ব, হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব
সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহির শাহ (মুদ্দাজিল্লিহুল আলী) {সিরিকোট,পাকিস্তান}
২। আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, মুর্শিদে বরহক্ব, হযরতুল আল্লামা
আলহাজ্ব সৈয়্যদ মুহাম্মদ ছাবির শাহ (মুদ্দাজিল্লিহুল আলী) {সিরিকোট,পাকিস্তান}
৩। আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ সওদাগর আল্ কাদেরী (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ}
৪। আলহাজ্ব আমিনুর রহমান সওদাগর আল্ কাদেরী (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ}
৫। আলহাজ্ব মোহাম্মদ ওয়াজের আলী সওদাগর আল্ কাদেরী (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ}
৬। আলহাজ্ব ইসমাঈল মুহাম্মদ দাউদজি বাগিয়া (রাহমুতুল্লাহি আলাইহি) {রেঙ্গুন,বার্মা}
৭। আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ সৈয়দুর রহমান শাহ্ {পেশওয়ার,পাকিস্তান}
সমাপ্ত

শাজরা শরীফ