প্রশ্নোত্তর: উত্তর দিচ্ছেন- অধ্যক্ষ মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান

0

 মুহাম্মদ রায়হান শরীফ
শিক্ষার্থী-জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা
চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: দুই সাজদার মাঝখানে বসা অবস্থায় কোন দোয়া পড়া জায়েয কিনা? কি দোয়া পড়তে হবে? কিতাবের উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করলে কৃতজ্ঞ থাকব।
 উত্তর: দুই সাজদার মধ্যখানে সোজা হয়ে বসে দুআ পড়া সুন্নাতে মুস্তাহাব্বা। এটা হাদীসে পাক থেকে প্রমাণিত। অস্বীকার করা বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোন প্রকার সুযোগ নেই। হাদীসে পাকে উল্লেখ রয়েছে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নামাযের দু সাজদার মাঝখানে বসা অবস্থায় দুআ পড়তেন। যেমন হযরত হুযায়ফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দুই সাজদার মাজখানে পড়তেন-رَبِّ اِغْفِرْلِىْ (রাব্বিগ্ফিরলী)।
[সুনানে নাসাঈ, মিশকাত শরীফ, পৃ. ৮৪] এ ছাড়া অন্য দুআর কথাও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। তাহলো-
اَللهُمَّ اغْفِرْلِىْ وَارْحَمْنِىْ وَاهْدِنِىْ وَاجْبُرْنِىْ
وَعَافَنِىْ وَارْزُقْنِىْ وَارْفَعَنِىْ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহদীনী ওয়াজবুরনী ওয়া-আফিনি ওয়ারযুক্বনী ওয়ারফা’নী।
এ দুআটিও পাঠ করা যাবে। হাদীসটি আবু দাউদ শরীফে ৮৫০ নং, সুনানে তিরমিযি শরীফে ২৮৪ ও ২৮৫ নং, সহীহ্ মুসলিম শরীফ ৮৯৩ নং এবং সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফে ৮৮৯ নং হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।
যদিও বা কোন কোন ইমাম উপরোক্ত দুআ শুধু নফল নামাযের সাজদার ক্ষেত্রে বৈধ বা উত্তম বলেছেন। তবে ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাত নামাজের ক্ষেত্রেও যেহেতু নিষেধ করা হয়নি। বিধায় সকল প্রকার নামাযে দুই সাজদার মাঝখানে উক্ত দোয়া পড়তে অসুবিধা নেই বরং উত্তম।
 মুহাম্মদ মঈনুল কাদের রেজভী
ছাত্র-জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা
প্রশ্ন: আকীকা করা কি সুন্নাত? আক্বীকার জন্য গরু বা ছাগল যবেহ করে এদের পেট (ভূঁড়ি) ঘরের সামনে গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হয় কি না? ক্বোরআন-হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হব।
 উত্তর: নবজাতক সন্তানের পিতার পক্ষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় পূর্বক কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ আক্বীকা করা সুন্নাতে মুস্তাহাব। সম্ভব হলে নবজাতকের জন্মের সপ্তম (৭ম) দিনে আক্বীকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪তম বা ২১তম অথবা যে দিন সম্ভব হয় সেদিন আক্বীকা করা যায়। অবশ্য এ ক্ষেত্রে জন্মের ৭ম দিনের প্রতি লক্ষ্য রাখা উত্তম। উল্লেখ্য যে, নবজাতক শিশু জন্মের ৭ম দিনে আক্বীকা করা হলে আক্বীকার পশু যবেহ করার পূর্বে তার মাথা মুন্ডন করা সুন্নাত এবং নবজাতকের কর্তিত চুলের সমপরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্য অথবা তার সম পরিমাণ মূল্য সদকা করাও মুস্তাহাব্বা। নবজাতক ছেলে সন্তান হলে ২টি ছাগল/ভেড়া/দুব্বা অথবা গরু-মহিষের ৭ (সাত) অংশের দুই অংশ আক্বীকা করবে। এটা উত্তম। গোটা গরু দিয়েও আকিকা করতে অসুবিধা নেই।
আর সন্তান কন্যা হলে একটি ছাগল বা ভেড়া অথবা গরু-মহিষের এক অংশ আক্বীকা করবে। কোরবানীতে যে সমস্ত পশু যবেহ করা যায় এবং কুরবানীর পশুর প্রকারভেদে বয়সের ক্ষেত্রে যে বিধান ও নিয়ম আক্বীকার পশুর ক্ষেত্রেও হুবহু তাই লক্ষ্যণীয়। যদিও কুরবানীর উপযুক্ত সব প্রাণী দ্বারা আক্বীকা করা যায়; কিন্তু বকরি অথবা ছাগল দ্বারা আক্বীকা করা উত্তম। কুরবানীর পশুর ন্যায় আক্বীকার পশুর গোশতও তিন ভাগ করে এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য, এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকিনের জন্য সাদকা করে দিয়ে বাকি এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বন্টন করে দেয়া সুন্নাতে মুস্তাহাব্বা। অবশ্য ঘরের মানুষ বেশী হলে সব গোশত ঘরেও রেখে দেয়া যায়। আবার সব বিলিও করে দেয়া যাবে। আক্বীকার গোশত স্বচ্ছল আত্মীয়-স্বজনকেও দেয়া যায়। তাছাড়া নবজাতকের মা-বাবা, দাদা-দাদী ও নানা-নানী সবার জন্য খাওয়া জায়েয। আক্বীকার দ্বারা নবজাতকের উপর থেকে বালা-মুসিবত দূর হয়ে যায়। দানশীলতার বিকাশ ঘটে, গরীব-মিসকিন ও আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় হয়। পরস্পর হৃদ্যতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।
সুতরাং, উপরিউক্ত সুন্নাতসম্মত পন্থায় আক্বীকা করবে। তবে আক্বীকার পশু যবেহ করার পর পশুর নাড়িভূঁড়ি ঘরের দরজায় কাপড় দিয়ে মোড়িয়ে পুঁতে ফেলতে হবে এ ধরনের কোন শর্ত-শরায়েত নেই। অবশ্য হালাল পশুর নাড়ি-ভূঁড়ি যে কোন স্থানে পুঁতে ফেলবে যাতে পরিবেশ দূষণ না হয়।
আক্বীকা সম্পর্কে হাদীসে পাকে উল্লেখ আছে যেমন-
وعن عائشة رضى الله عنهما قالت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم امرهم عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة [جامع ترمذى وابوداؤد] অর্থাৎ উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নবজাতক ছেলে সন্তানের জন্য ২টি সমবয়সী ছাগল আর কন্যা সন্তানের জন্য ১টি ছাগল আকীকা করার নির্দেশ করেছেন।
[তিরমিযি শরীফ, ১ম খন্ড, ১৮৩পৃ. ও আবু দাউদ শরীফ ২য় খন্ড, ৪৪পৃ.] অপর হাদীসে পাকে উল্লেখ রয়েছে-
عن على ابن ابى طالب رضى الله عنه قال عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحسن بشاة
অর্থাৎ হযরত মওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত ইমাম হাসানের জন্য ১টি ছাগল দ্বারা আকীকা করেছিলেন।
[তিরমিযী ও আবু দাউদ, ২য় খন্ড, ৪৪পৃ.] হাদীস শরীফের মর্মার্থ হলো- আর্থিক অসুবিধা হলে পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে ১টি ছাগল দ্বারাও আকীকা করা যায়েয। তবে ছেলে সন্তানের পক্ষ ২টি ছাগল দ্বারা আক্বীকা করা উত্তম ও সুন্নাত তরীকা।
ইমাম হাকেম বর্ণনা করেছেন-
نذرت امرأة من اٰل عبد الرحمن بن ابى بكر ان ولدت امرأة عبد الرحمن نحرنا جزورًا فقالت عائشة رضى الله عنها لابل السنة افضل عن الغلام شاتان مكافتان وعن الجارية شاة الحديث
অর্থাৎ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের এক মহিলা মান্নত করল যে, আব্দুর রহমানের স্ত্রীর ঘরে কোন নবজাতকের জন্ম হলে আমরা উট যবেহ করে আকীকা করব। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এ রকম না করে উত্তম হলো নবজাতক ছেলে হলে ২টি সমবয়সী ছাগল আর কন্যা সন্তান হলে একটি ছাগল জবেহ করবে।
[মুস্তাদরাক হাকেম, ৪র্থ খন্ড, পৃ. ২৩৮, মিশকাত শরীফ,
জামে তিরমিযী, সুনানে আবু দাঊদ শরীফ ও যুগ জিজ্ঞাসা, পৃ. ৩১৯]
 মুহাম্মদ খোরশেদ আলম
গহিরা, উত্তরসর্তা, রাউজান, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: আমার এক আত্মীয়ের দাফনের পর কবরের উপর আযান দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। জানার বিষয় হলো- এটা শরীয়তসম্মত কিনা? এ ব্যাপারে জানালে ধন্য হবো।
 উত্তর: মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ বা দাফন করার পর কবরের উপর আযান দেয়া জায়েয ও মুস্তাহাব। এটাকে নাজায়েয বেদাআত ও গুনাহের কাজ বলা সীমালঙ্ঘন এবং শরীয়তের জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক। এতে মৃত ব্যক্তির জন্য অনেক উপকার রয়েছে। যেমন- এটা দ্বারা কবরে মৃত ব্যক্তির জন্য তলকিন হয়ে থাকে। মুনকির-নাকিরের সওয়ালের জবাব দান সহজ হয়ে থাকে এবং মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তলকিন করা সম্পর্কে প্রিয়নবীর নির্দেশও পালিত হয়ে থাকে। কেননা اَشْهَدُ اَنْ لاَاِلهَ اِلاَّ اللهُ দ্বারা তোমার প্রভু কে? সেই প্রশ্নের জবাব হয়ে যায় আর اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهَ দ্বারা তোমার নবীজি কে? সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ে যায় এবং حَيَّ عَلَى الصَّلاوة দ্বারা তোমার দ্বীন কি? তার জবাব হয়ে যায় অর্থাৎ আমার দ্বীন হল ওটা যাতে পাঁচ ওয়াক্ত নাাময রয়েছে। আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত শাহ্ আহমদ রেযা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এ প্রসঙ্গে اِيْذَانُ الْاَجَر فِىْ اٰذَانِ الْقَبْرِ (ইজানুল আজর ফি আজানিল কবর) নামক একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন। উক্ত কিতাবে তিনি পনেরটি দলীল লিপিবদ্ধ করেছেন এবং উক্ত দলীলসমূহ দ্বারা তিনি কবরের উপর আযান দেয়া মুস্তাহাব প্রমান করেছেন। মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর কবরের উপর আযান দেওয়া হলে মৃত ব্যক্তির সাত ধরনের উপকার হয়। ইমাম আ’লা হযরত আলায়হির রহমাহ্ উক্ত ফায়দাসমূহ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখিত কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। অতএব, একটি মুস্তাহাব বিধানকে অযথা বিদআত ও গুনাহের কাজ বলা কত বড় অপরাধ একটু চিন্তা করলেই বোধগম্য হয়ে যাবে। নবীজির জাহেরী হায়াতে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনের যুগে কোন ভাল কাজ প্রচলন না থাকা তা গুনাহের কাজ হওয়ার দলিল নয়। যেমন-প্রিয় নবীজির জাহেরী হায়াতে কুরআন করিমে কোন হরকত ছিল না, দ্বীনি মাদরাসা, নাহু, সরফ, হাদীসগ্রন্থসমূহ, উসূলে ফিক্বহ, উসূলে হাদীস ইত্যাদি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে কিতাব আকারে ছিল না অথচ বর্তমানে আমরা তা গ্রহণ করতে বাধ্য বরং এগুলো ওয়াজিব পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপ মৃত ব্যক্তির দাফনের পর কবরে আযান দেওয়ার রেওয়াজ ঐ যুগে ছিলনা বলে একে নব্য বিদআত ও গুনাহের কাজ বলার কোন অবকাশ নেই। কেননা এতে আযান প্রদানকারী ও মৃত ব্যক্তির অনেক ফায়দা রয়েছে।
মেরকাত শরহে মিশকাত, ‘বাবুল ইতেছাম’ এ উল্লেখ আছে- রঈসুল ফোকহা, জগদ্বিখ্যাত মুজতাহিদ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-مَارَأَهُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللهِ حَسَنٌ
অর্থাৎ ঈমানদার ব্যক্তিগণ যে বস্তুকে ভাল হিসেবে জানে তা আল্লাহর কাছেও ভাল। সুতরাং মৃত ব্যক্তির দাফন করার পর আযান দেওয়াকে প্রকৃত মুমিন বান্দারা ভাল কাজ হিসেবে গ্রহণ করেছে। অতএব, তা আল্লাহর কাছেও ভাল হিসেবে গণ্য হবে।
[মুফতি আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমীর জা‘আল হক ও আলা হযরত শাহ্ আহমদ রেযা খান বেরলভী রহমাতুল্লাহি আলায়হির ‘ঈজানুল আজর ফি আজানিল কবর’ ফতোয়ায়ে রজভিয়া এবং আমার রচিত যুগ জিজ্ঞাসা]
 মুহাম্মদ রেদোয়ান আনোয়ার
দুলালপুর, হোমনা, কুমিল্লা
প্রশ্ন: শিক্ষক তার ছাত্রকে বলল, আমার মেয়েকে তোমার সাথে বিবাহ্ দিলাম। কিন্তু মেয়েটা অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এতে কি বিবাহ্ সম্পন্ন হবে।
 উত্তর: যদি ছাত্র শিক্ষকের উক্ত বিবাহের প্রস্তাবকে কবুল করেন এবং তাদের উভয়ের প্রস্তাব ও কবুল যদি কমপক্ষে দু’জন মুসলিম বালেগ আকেল পুরুষের অথবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলার উপস্থিতিতে হয় বিবাহ্ হয়ে যাবে।
 মুহাম্মদ আজিমুল মোস্তফা রেজা
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: কোর্টের বিবাহ্ কতটুকু শুদ্ধ? জানালে ধন্য হব।
 উত্তর: ছেলে ও মেয়ে যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয় তবে তাদের সম্মতিতে কমপক্ষে দু’জন মুসলিম বালেগ আকেল (হুশ-বুদ্ধিসম্পন্ন) পুরুষের অথবা একজন পুরুষ ও দু’জন মহিলার উপস্থিতিতে যুবক-যুবতী সরাসরি ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিবাহ্/আকদ সংগঠিত করলে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ্ কার্যকর হয়ে যাবে। যদি ছেলে-মেয়ে (মুহরিমের) যাদের মধ্যে ক্বোরআন-সুন্নাহ্ দ্বারা বিবাহ্ শাদী নিষিদ্ধ এর অন্তর্ভুক্ত না হয়। কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত মসজিদ ও খানকাহ্ যেখানে হোক না কেন বিবাহ্ হয়ে যাবে। [হেদায়া-কিতাবুন্ নেকাহ্ অধ্যায়]
 শাব্বির আহমদ
পূর্ব লোহাগাড়া, হাজীরপাড়া
প্রশ্ন: বর্তমানে যে অধিক পরিমাণে মোহরানা নির্ধারণ করা হয় যদি তা সম্পূর্ণ আদায় না করে তবে স্বামী-স্ত্রী সংসার করতে পারবে কিনা?
 উত্তর: স্বামীর সামর্থ্যরে বাইরে অধিক মোহরানা নির্ধারণ করা স্বামীর প্রতি অবিচারের শামিল। তদ্রুপ কণের পক্ষকে প্রীতিভোজ (বৈরাতী) এবং যৌতুকের জন্য জোর জবরদস্তি করা জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী মোহরানা ধার্য করাটা ইসলামের মহান শিক্ষা। কনের পক্ষ স্বামীর পক্ষকে আন্তরিকতার সাথে বিবাহের মোহরানা দাবী করতে ইচ্ছা করলে দোষনীয় নয়। অবশ্য মোহরানা আদায়ের পূর্বে শুভ আকদের পর স্বামী-স্ত্রীর মিলনে ইসলামী শরীয়তে কোন অসুবিধা নেই। মোহরানা স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে আকদের সময় বা আকদের দীর্ঘ সময়ের পরেও আদায় করা যায়। [শরহুল বেকায়া ও ওমদাতুর রেয়ায়া ইত্যাদি]
 মুহাম্মদ বাবর আলী
দেওয়ান নগর, হাটহাজারী,
চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: পিতা মাতার অনুমতিক্রমে কনের অনুমতি ছাড়া উকিল ও স্বাক্ষীগণ বিবাহ্ সম্পন্ন করতে পারে কিনা? কন্যার অনুমতিবিহীন বিবাহ্ কি শুদ্ধ হবে?
 উত্তর: কন্যা যদি বালেগা (প্রাপ্ত বয়স্কা) হয়, তবে কন্যার অনুমতি ও সম্মতি অপরিহার্য। অনুমতি গ্রহণের সময় কন্যা চুপ থাকলেও অনুমতি/সম্মতির লক্ষণ হিসেবে ধর্তব্য হবে। মাসিক ঋতু¯্রাব শুরু হলে ইসলামী শরিয়তের বিধান মতে মহিলারা বালেগা (প্রাপ্তবয়স্কা) হয়ে যায়। [হেদায়া ও শরহে বেকায়া, বিবাহ্ অধ্যায়]
 ফয়সাল আহমদ
আরিফপুর, বরুড়া, কুমিল্লা
প্রশ্ন: খালাত বোনের মেয়েকে বিবাহ্ করা যাবে কিনা?
 উত্তর: খালাত বোন, চাচাত বোন, মামত বোন, ও ফুফাত বোনকে বিবাহ্ করা বৈধ তদ্রƒপ তাদের মেয়েকেও ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ্ করতে অসুবিধা নেই। যদিও আমাদের দেশে খালাত বোনের মেয়ে এবং চাচাত বোনের মেয়েকে বিবাহ্ করার প্রচলন নেই। তবে ইসলামী শরীয়তের বিধান মতে সহোদর বোন, বৈমাত্রীয় বোন, বৈপৈত্রিক বোন ও দুধ বোনকে বিবাহ্ করা হারাম তদ্রুপ তাদের মেয়েকেও বিবাহ্ করা হারাম।
[হেদায়া, কানযুদ দাকায়েক ও বাহরুর রায়েক, নেকাহ্, অধ্যায়]
 মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী- আল-আমিন বারিয়া কামিল মাদরাসা
প্রশ্ন: প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের অভিভাবক তার অমতে বিয়ে ঠিক করেন কিন্তু মেয়ে সে বিয়ে কখনো মেনে নেয়নি। বিয়েটা শুদ্ধ হবে কিনা?
 উত্তর: আকদের সময় বালেগা মেয়ে হতে সম্মতি গ্রহণ করার সময় উকিল ও সাক্ষীগণের সামনে যদি কনে/মেয়ে চুপ থাকে বা কাবিন নামায় দস্তখত করে তা সম্মতির লক্ষণ। বিধায় এতে শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ্ শুদ্ধ হয়ে যাবে। আর যদি আকদের সময় বা ইজিন নেয়ার সময় কনে যদি উকিল ও স্বাক্ষীগণের সামনে মুখে বলে আমি এ বিয়েতে রাজি নাই বা কবুল করি নাই তাহলে বিবাহ্ শুদ্ধ হবে না। তবে কোন মেয়ে বালেগা/প্রাপ্ত বয়স্কা হলে তার অমতে বা তার সম্মতি ছাড়া মেয়ের পরিবার/মা-বাবা বিয়ে ঠিক করা উচিত নয়। যেহেতু পরবর্তিতে ঝামেলা সৃষ্টি হয়।
 মুহাম্মদ মিজানুর রহমান
গোশালাকান্দা, নরসিংদী
প্রশ্ন: দুই তালাক দেওয়ার পর স্ত্রীকে গ্রহণ করা যাবে কী? ইসলামী শরীয়া মোতাবেক সমাধান প্রদান করে বাধিত করবেন।
 উত্তর: এক তালাক বা দুই তালাক (এক সাথে প্রদান করা হোক বা আলাদাভাবে প্রদান করা হোক) স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদানের পর ইদ্দতের মধ্যে (স্ত্রী গর্ভিতা হলে গর্ভ প্রসব করা এবং গর্ভিতা না হলে তিন ঋতু¯্রাব (হায়েয) পর্যন্ত) স্বামী ইচ্ছা করলে রজয়ত করতে পারবে অর্থাৎ স্ত্রীর নিকট যেতে পারবে। ৩য় তালাক না দেয়া পর্যন্ত তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর/সংসার করতে কোন অসুবিধা নেই। আর স্ত্রীকে স্বামী এক বা দুই তালাক প্রদানের পর ইদ্দতের মধ্যে রজয়ত না করলে বা স্ত্রীর নিকট না আসলে ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তালাকে বায়েন হয়ে যাবে তখন উভয়ের সম্মতিতে তারা সংসার করার ইচ্ছা করলে পুনরায় নুতনভাবে কমপক্ষে দুই জন মুসলিম আকেল-বালেগ স্বাক্ষীর (পুরুষের) উপস্থিতিতে বা একজন পুরুষ ও দুই জন মহিলার উপস্থিতিতে আকদের মাধ্যমে পুনরায় বিবাহ্ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। অবশ্য স্বীয় স্ত্রীকে স্বইচ্ছায় স্বামী তিন তালাক প্রদান করলে তখন ইদ্দতের মধ্যে রজয়ত করার বা স্ত্রীর নিকট ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই।
[ফতহুল কদির শরহে হেদায়া তালাক অধ্যায়,
কৃত. ইমাম ইবনুল হুম্মাম হানাফী (রহ.) ইত্যাদি]
দু’টির বেশি প্রশ্ন গৃহীত হবেনা  একটি কাগজের পূর্ণপৃষ্ঠায় প্রশ্ন লিখে নিচে প্রশ্নকারীর নাম, ঠিকানা লিখতে হবে  প্রশ্নের উত্তর প্রকাশের জন্য উত্তরদাতার সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাঞ্ছনীয় নয়। প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা:
প্রশ্নোত্তর বিভাগ, মাসিক তরজুমান, ৩২১, দিদার মার্কেট (৩য় তলা), দেওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম-৪০০০।