0

কুরআন সুন্নাহর আলোকে
মওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা
অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَحَبَّ عَلِيَّا فَقَدْ اَحَبَّنِىْ وَمَنْ اَحَبَّنِىْ فَقَدْ اَحَبَّ اللهُ وَمَنْ اَبْغَضَ عَلِيًّا فَقَدْ اَبْغَضَنِىْ وَمَنْ اَبْغَضَنِىْ فَقَدَ اَبْغَضَ اللهُ [اَلْمُسْتَدْرَكَ اَلْمُعْجَمُ الْكَبِيْرِ] عَنْ عَلِىٍّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَا دَارُ الْحِكْمَةِ وَعَلِىٌّ بَابُهَا [رَوَاهُ التِّرْمِذِىْ]
অনুবাদ: প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত সালমান ফারসী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু)কে ভালোবাসলো সে আমাকে ভালোবাসলো, যে আমাকে ভালোবাসলো সে আল্লাহকে ভালোবাসলো। যে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি বিদ্বেষ করলো সে আমার প্রতি বিদ্বেষ করলো, যে আমার প্রতি বিদ্বেষ করলো সে আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ করলো।
[মুস্তাদরাক খন্ড-৩. পৃ. ১৩০, আল মুজামুল কবীর, হাদীস-৬১৭৪] হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি জ্ঞান বিজ্ঞানের ঘর, আর আলী সে গৃহের দরজা। [তিরমিযী খন্ড-৫.পৃ.৬৩৭]
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
বর্ণিত দু’টি হাদীস শরীফ হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর মর্যাদা, নবীজির নিকট তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতো উচ্চাঙ্গের তা প্রতিভাত হয়। তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও কুরআন সুন্নাহর আলোকে তাঁর মর্যাদা আলোকপাত করার প্রয়াস পাচ্ছি।
হযরত মওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জন্ম
ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত মওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু মক্কার কুরাইশ বংশে নবীজির নবুওয়ত ঘোষণার দশ বছর পূর্বে ৬০০ খৃস্টাব্দে অন্য বর্ণনা মতে নবুওত ঘোষণার ৭-৮ বছর পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেন।
[তারিখুল খোলাফা, পৃ. ১১২] তাঁর নাম আলী, পিতার নাম আবু তালিব, উপাধি আসাদুল্লাহ্ হায়দার, মুরতাদ্বা, উপনাম, আবুল হাসান ও আবু তুরাব। তিনি আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের চাচাত ভাই। তাঁর মাতার নাম ফাতেমা বিনতে আসাদ তিনি হাশেমী গোত্রের প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী মহিলা। [তারিখুল খোলাফা, পৃ. ১১৩] ইসলাম গ্রহণ: আ’লা হযরত রহমাতুল্লাহি আলায়হির বর্ণনা মতে- হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ৮-১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। [তানযিহুল মাকানাতিল হায়দরীয়া কৃত. ইমাম আহমদ রেযা রহমাতুল্লাহি আলায়হি] বয়স্কদের মধ্যে সর্বপ্রথম হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হযরত খাদিজাতুল কুবরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা, কিশোরদের মধ্যে হযরত মওলা আলী (রা.) সর্বপ্রথম, ক্রীতদাসদের মধ্যে হযরত যায়িদ বিন হারিসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। [তারিখুল খোলাফা, পৃ. ১১৪]
পবিত্র কুরআনে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আহলে বায়তের অন্যতম সদস্য, যাঁদের পবিত্রতা ও মর্যাদা প্রসঙ্গে আল কুরআনে এরশাদ হয়েছে-
اِنَّمَا یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَیْتِ
وَ یُطَهِّرَكُمْ تَطْهِیْرًاۚ (۳۳(
অর্থ: হে আমার আহলে বায়ত, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদেরকে গুনাহের অপবিত্রতা থেকে সম্পূর্ণরূপে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চান। [সূরা আহযাব: আয়াত-৩৩] মওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পবিত্রতা তথা আহলে বায়তের মর্যাদা প্রসঙ্গে হযরত উম্মে সালমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন-
فِىْ بَيْتِىْ اُنْزِلَتْ لِیُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَیْتِ وَ یُطَهِّرَكُمْ تَطْهِیْرًاۚ قَالَتْ فَاَرْسَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلى فَاطِمَةُ وَعَلِىُّ وَالْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ فَقَالَ اَللّٰهُمَّ هٰؤْلاَءِ اهْلِ بَيْتِىْ [رَوَاهُ الْبَيْهَقِىْ] অর্থ: আমার ঘরে আয়াত নাযিল হয়েছিল, ‘হে আহলে বায়ত নিশ্চয়ই আল্লাহ্ কেবল ইচ্ছা করেন, যে তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পুতঃপবিত্র করতে। তখন রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম, হযরত ফাতেমা, হযরত আলী, ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে পাঠালেন, আর বললেন, হে আল্লাহ! এরা আমাদের আহলে বায়ত।
[বায়হাক্বী-আস সুনানুল কুবরা, হাদীস-২৯৭৫]
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু শির্ক থেকে পুতঃপবিত্র ছিলেন
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম নিজ তত্ত্বাবধানে লালন পালন করেছিলেন, তিনি নবীজির আদর্শ চরিত্র ও গুণাবলীর ধারক ছিলেন। এ কারণে মূর্তির অপবিত্রতা, শির্কের কদর্যতা থেকে তাঁর সত্ত্বা সর্বদা পুতঃপবিত্র ছিলো, তিনি কখনো মূর্তির পূজা অর্চনা করেননি, এ কারণে তাঁর উপাধি কাররামাল্লাহু তা‘আলা ওয়াজহাহু।
[তানযিহুল মাকানাতিল হায়দরিয়া, কৃত. ইমাম আহমদ রেযা]
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মাতার প্রতি নবীজির সম্মান
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মাতা হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ একজন সম্ভ্রান্ত মহিলা ছিলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের লালন পালনে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিলো। তিনি নবীজিকে নিজ সন্তানের উপর প্রাধান্য দিতেন।
আপন মায়ের মতো নবীজির যতœ নিতেন। নবীজি এরশাদ করেছেন, আমার আম্মাজান হযরত আমেনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ইন্তেকালের পর হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ আমার মা-এর ভূমিকা পালন করেছিলেন। [মুস্তাদরিক, পৃ. ৫১] হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মাতা মদীনা মনোওয়ারায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবর তৈরি করার পর নবীজি তাঁর কবরে অবতরণ করে কবরকে বরকতমন্ডিত করেন।
[সিয়রু আলামিন নুবালা, খন্ড-২, পৃ. ৮৭]
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে নবীজির বংশধারা
হযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা প্রত্যেক নবীর বংশধর তাঁদের আওলাদ থেকে জারি করেন। আর আমার বংশধারা হযরত আলী ইবনে আবি তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বংশধারা থেকে জারী হবে। [আল মুজামুল কবীর লিততাবরানী, খন্ড-৩, পৃ. ১৪৪] বর্তমান বিশ্বে যত আওলাদে রসূল বিদ্যমান তাঁরা আওলাদে আলী তথা হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র বংশধারার সাথে সম্পৃক্ত। [আনোয়ারুল বায়ান, খন্ড-১ম, পৃ. ৮২]
শাদী মুবারক
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একাধারে নবীজির চাচাতো ভাই এবং মামাতো, হিজরি দ্বিতীয় সনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয়তমা কন্যা, খাতুনে জান্নাত বেহেশতের রমনীদের সর্দার হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার সাথে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শাদী মুবারক সম্পন্ন হয়। বেহেশতী যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু তাঁর নূরানী সন্তান। মুহসিন নামে একজন যিনি বাল্যকালে ইন্তেকাল করেন। জয়নব ও উম্মে কুলসুম নামে দু’জন কন্যা সন্তান তাঁদের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন।
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রবেশদ্বার
তিনি ছিলেন একাধারে বড় মাপের মুফাস্সির, মুহাদ্দিস ও ফক্বীহ। হযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, اَنَا مَدِيْنَةُ الْعِلْمِ وَعَلِىُّ بَابُهَا فَمَنْ اَرَادَ العِلْمَ فَلياتِ البَابَ
অর্থ: আমি জ্ঞানের শহর, আলী তার দরজা। যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনে ইচ্ছুক সে যেন এ দরজায় আসে।
[আল মুস্তাদরিক লিল হাকীম, খন্ড-৩, পৃ. ১২৬] তিনি রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে ৫৮৬ টি হাদীস বর্ণনা করেন। প্রখ্যাত তাবেঈ হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, لَمْ يَكُنْ اَحَدً مِنَ الصَّحَابَةِ يَقُوْلُ سَلُوْنِىْ اِلاَّ عَلِيًّا
অর্থ: রসূলুল্লাহর সাহাবাদের মধ্যে হযরত আলী ব্যতীত এমন কেউ নেই যিনি বলতে পারেন আমার কাছে তোমরা প্রশ্ন করো। [কানযুল উম্মাল, পৃ. ৩৯৭] হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এরশাদ করেন, কুরআন মজীদের প্রতিটি আয়াত সম্পর্কে আমি জানি। কোন আয়াত কি প্রসঙ্গে কোথায় নাযিল হয়েছে, প্রতিটি আয়াত সম্পর্কে এটাও জানি যে, আয়াতটি কি রাত্রি নাযিল হয়েছে না দিনে।
আমি যদি সূরা ফাতিহার তাফসীর লিখতাম তাফসীরের কিতাব ৭০টি উটের বোঝাই হতো। [তারিখুল খোলাফা, পৃ. ১৮৪] হযরত ইসমাইল হক্কী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেন, সমস্ত জ্ঞান বিজ্ঞান কুরআনে রয়েছে, কুরআনের সমগ্র ইলম সূরা ফাতিহায় রয়েছে, সূরা ফাতিহার সমস্ত জ্ঞান বিসমিল্লাহর মধ্যে রয়েছে, বিসমিল্লাহর সমস্ত ইলম ‘বা’ বর্ণের মধ্যে রয়েছে। হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, اَنَا النُّقْطَةُ تَحَتَ الْبَاءِ আমি বা-বর্ণের নীচের নুকতা হই। [রুহুল বয়ান, খন্ড-১ম, পৃ. ৬০৩] হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি ভালবাসা মুমীনের পরিচায়ক, প্রত্যেক সাহাবা সত্যের মাপকাঠি। তাঁরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন মুমীনের পরিচায়ক। সাহাবায়ে কেরামের প্রতি গালমন্দ করা, অশালীন মন্তব্য করা, তাঁদের মর্যাদার অবমাননা করা, মুনাফিকীর পরিচায়ক।
عَنْ اُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
لاَ يُحِبُّ عَلِيًّا مُنَافِقٌ وَلاَ يَبْغُضُه مُؤْمِنٌ
উম্মুল মু’মেনীন হযরত উম্মে সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, কোন মুনাফিক ব্যক্তি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ভালবাসবেনা, কোনো মুমীন ব্যক্তি তাঁকে বিদ্বেষ করতে পারে না। [মুসনাদে আহমদ] নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম আরো এরশাদ করেছেন- اِنَّ عَلِيًّا مِنّى وَاَنَا مِنْهُ وَهُوَ وَلِىّ كُلٌّ مُؤْمِنٍ
অর্থঃ নিশ্চয় আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার থেকে আর আমি আলী থেকে। তিনি প্রত্যেক মু’মীনের বন্ধু।
[তিরমিযী শরীফ, হাদীস-৫৭০৯]
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আশারা মুবাশরারা’র অন্যতম
ঈমানের সাথে নবীজির নূরানী সাক্ষাতে ধন্য সকল সাহাবী জান্নাতী, খোলাফায়ে রাশেদীনের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত বিশেষ দশজন সাহাবীদের অন্যতম। এরশাদ হয়েছে-
عن عبد الرحمن بن عوف رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابو بكر فى الجنة وعمر فى الجنة و عثمان فى الجنة و على فى الجنة و طلحة فى الجنة والزبير فى الجنة و عبد الرحمن بن عوف فى الجنة وسعد فى الجنة وسعيد فى الجنة وابوعبيدة بن الجرّاح فى الجنة (رواه الترمزى)
অর্থ: হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতী। [তিরমিযী শরীফ]
খিলাফত
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু চার বছর আট মাস নয়দিন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। হিজরি ৩৫ সনে ১০ যিলহজ্ব তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের চতুর্থ খলিফা মনোনীত হন। এ মহান সাহাবী হিজরি ৪০ সনে ২১ রমজান ইরাকের কুফা নগরীতে আব্দুর রহমান ইবনে মুলযিম নামক আততায়ীর তরবারীর আঘাতে শাহাদাত লাভ করেন।
হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নামাযে জানাযায় ইমামতি করেন। এক বর্ণনা মতে নাজফে আশরফে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর হায়াতে মুবারাকা ছিল ৬৩ বছর। আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতীর বর্ণনা মতে কুফার জামে মসজিদের আঙ্গিনায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। [তারিখুল খোলাফা] মহান আল্লাহ্ তা‘আলা প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের ওয়াসীলায় আমাদের অন্তরে মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তথা আহলে বায়তে রসূলের ভালোবাসা নসীব করুন। আমিন।
লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল,
মধ্য হালিশহর, বন্দর, চট্টগ্রাম।