ইসলামে নবীর প্রতি অবমাননাকারীদের শাস্তি

0

ইসলামে নবীর প্রতি অবমাননাকারীদের শাস্তি-
অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি >
وَعَنْ اَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دخَلَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلى رَأْسَه الْمِضْضَرَ فَلَمَّا نَزْعَهُ جَآءَ رَجُلٌ فَقَالَ اِبْنَ خَطَلٍ مُتَعَلَقٌّ بِاَسْقَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ اقْتُلُوْه
[ رَوَاهُ الْبُخَارِىْ : رَقَمُ الْحَدِيْثُ : ১৭৪৯] عَنْ عُرْوَةَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ رَجُلٍ بَلْقِيْنَ اَنَّ اِمْرَأَةً كَانَتْ ……….النَّبَىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يَلْفَيْنِىْ عَدّوى فَخَرَجَ اِلَيْهَا خَالِدِ بْنُ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ فَقَتَلَهَا
[عبد الرزاق : المصنف رقم الحديث : ৯৭০৫]
অনুবাদ: প্রসিদ্ধ সাহাবা হযরত আনাস বিন মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর মাথা মুবারকের উপর লোহার টুপি ছিল, তিনি টুপি খুলে নিলেন, তখন আগত এক ব্যক্তি বললেন, (হে আল্লাহর রসূল! আপনার বিদ্রোহী) ইবনে খাতাল (প্রাণ রক্ষায়) কাবার গিলাফের ভেতরে লুকিয়ে আছে নবীজি এরশাদ করলেন, তাকে হত্যা করে দাও।
[বুখারী শরীফ, কিতাবুল হজ্ব, ২/৬৫৫, হাদীস ১৭৪৯] হযরত ওরওয়াহ্ বিন মুহাম্মদ ‘বিলক্বীন’এর কোন এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন, কোন এক মহিলা রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে গালমন্দ করতো, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, কে আছ? যে আমার এ শত্রুর বদলা নিতে পারবে? তখন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু মহিলার দিকে এগিয়ে গেলেন, এবং তাকে হত্যা করলেন। [আবদুর রাজ্জাক, আল মুসান্নাফ হাদীস: ৯৭০৫]

প্রাসঙ্গিক আলোচনা
বর্ণিত হাদীস শরীফ দু’টিতে নবীজির প্রতি অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিধান ঘোষিত হয়েছে। আল্লাহর পেয়ারা হাবীব তাজেদারে মদীনা নুরে মোজাস্সম নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন, ঈমানে মূল ইসলামের মূল, গোটা সৃষ্টি জগতের কেন্দ্রবিন্দু, বিশ্বসৃষ্টির উপলক্ষ, তাঁর প্রতি যথার্থ সম্মান মর্যাদা প্রদর্শন করা নিজের জীবনের চাইতেও তাঁকে বেশী ভালবাসা আল্লাহরই নির্দেশ। পক্ষান্তরে তাঁর প্রতি বিদ্বেষ করা তাঁকে অবমাননা করা তাঁর প্রতি গোস্তাখী ও বেআদবী করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে পৃথিবীর দেশে দেশে মুসলমানরা তার বিরুদ্ধে ঘৃণা, তীব্র নিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। এ কুলাঙ্গার শান্তির ধর্ম মানবতার ধর্ম, পবিত্র ধর্ম ইসলামের অনুসারী শান্তিকামী মুসলমানদের কলিজায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এ কুখ্যাত জাহান্নামের কীট ইতিহাসে এক ন্যাক্কারজনক কলংকিত অধ্যায় রচনা করেছে, তার ও তার অনুসারী সমর্থক ইয়াহুদী খৃস্টানদের পতন ও ধ্বংস অনিবার্য। মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় রসূলের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন, তাঁর প্রতি রসূলের প্রতি ঈমান স্থাপন মু’মীনদের জন্য অপরিহার্য করেছেন। এরশাদ করেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللهِ وَرَسُولِه
অর্থ: হে মুমীনগণ তোমরা আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আন। [সূরা নিসা, আয়াত-১৩৬]

রাসূলের প্রতি আনুগত্য ঈমানের মাপকাঠি
আল্লাহ্ তা‘আলা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য স্থানে তাঁর আনুগত্যের সাথে রাসূলের আনুগত্য যুক্ত করেছেন। কোথাও তাঁর নবীজিকে বিচ্ছিন্ন করেননি।
এরশাদ করেছেন-
قُلْ اَطِيْعُوْا الله وَالرَّسُوْلَ
অর্থ: বলুন! আল্লাহ্ ও রসূলের অনুগত হও।
[সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৩২] নবীজির আনুগত্যের মধ্যে রয়েছে মু’মিনদের সম্মান, মর্যাদা, গৌরব, বিজয় ও সাফল্য।
আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন-
وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। [সূরা আহযাব: আয়াত-৭১]
কাফির মুশরিকদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি
কাফির মুশরিকরা যতই শক্তিধর হোক, যুগে যুগে নবী রসূলগণের শানে ধৃষ্ঠতাপ্রদর্শনকারী, অবমাননাকারী, সম্মানিত নবী রাসূলগণের সুমহান মর্যাদার প্রতি কলংক লেপনকারী কোনো বাতিল অপশক্তি খোদায়ী শাস্তি থেকে মুক্তি পায়নি।
আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন-
وَمَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِاللهِ وَرَسُولِهِ فَإِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَعِيرًا
অর্থ: যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনেনা, আমি সেসব কাফিরদের জন্য জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।
[সূরা ফাতহ্, আয়াত-১৩]
খোদাদ্রোহী ও নবীদ্রোহীদের শাস্তি
মানব জাতিকে আল্লাহ্ তাঁরই দাসত্ব করার জন্য সৃষ্টি করেছেন, পক্ষান্তরে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলকে অস্বীকারকারী বিরোধীতাকারী ও অবমাননাকারীদের জন্য ইহকাল পরকালে অসম্মান অপমান লাঞ্চনা বঞ্চনা প্রস্তুত করে রেখেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন-
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا
অর্থ: যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ্ তো তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন, লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি। [সূরা আহযাব, আয়াত-৫৭] আল্লাহর প্রেরিত নবী রাসূলগণ সত্য ও আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তাঁদের যথার্থ অনুসরণ অনুকরণ ও সম্মান প্রদর্শনে রয়েছে বিশ্বমানবতার জন্য ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি।
পক্ষান্তরে তাঁদের প্রতি অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা, অশালীন উক্তি, কটুক্তি, তিরস্কার, অসম্মান, অপমান, ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের কার্টুন অংকন ইত্যাদি গর্হিত আচরণ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল। উপরন্তু পরকালের ভীষণ ও মর্মন্তুদ শাস্তির কারণ।
প্রিয়নবীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও আদব রক্ষা করা মু’মিনের পরিচায়ক
আল্লাহর নবীগণ খোদাপ্রদত্ত শ্রেষ্ঠ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী তাঁদের জীবদ্দশায় ও ওফাতের পর সর্বাবস্থায় তাঁদের সমুন্নত মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা ফরজ। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
অর্থ: হে মু’মীনগণ তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উচু করোনা এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তার সাথে সেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলোনা। কারণ এতে তোমাদের সার্বিক আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজান্তে। [সূরা হুযরাত: আয়াত-০২]
নবীজির ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন: ইসলাম বিদ্বেষীদের ধৃষ্ঠতা
ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদী উগ্রবাদী চরমপন্থিরা ইসলামের ইসলামের মহানবী বিশ্বনবী মানবতার মূর্ত প্রতীক, উত্তম চরিত্রের মহত্তম আদর্শ, বহুমাত্রিক গুণাবলীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ, প্রিয় রসূলের শানে অবমাননাকর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে ইসলামের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে চায়। তারা তো জানেনা, ইসলামের নবী তো বিশ্বজাহানের নবী। তিনি তো সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য খোদায়ী নূর। যে নূরের আলোয় সমগ্র বিশ্বভূমন্ডল আলোকিত আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন-
يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
অর্থ: ওরা আল্লাহর নূরকে ফুৎকার দিয়ে নেভাতে চায় কিন্তু তাঁর নূর পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। [সূরা ৬১, পারা-২৮, আয়াত-৮] নবীজির প্রচারিত সত্যের বাণী তৌহিদ ও রিসালতের জয়ধ্বনি কলেমার আহ্বান আজ কেবল আরব ভূখন্ডের ভৌগলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নেই। পৃথিবীর দিগ-দিগন্তে এ বাণী আজ প্রচারিত প্রসারিত। নূর নবীজির আদর্শের বাণী, এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, অষ্ট্রেলিয়ার প্রান্ত ছাড়িয়ে আমেরিকার প্রতিটি জনপদে আজ ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে এড়িয়ে চলছে। ইসলাম বিদ্বেষীরা বেসামাল হয়ে পড়েছে, নবীজির অবমাননা করে বিশ্ব ইতিহাসে তারা আজ চরমভাবে ঘৃণিত ও অপমানিত হচ্ছে।
কুরআনের ভাষায় নবীর প্রতি অবমাননাকারীর ভর্ৎসনা
নবীর শানে বেআদবী প্রদর্শনকারী ওয়ালীদ ইবনে মুগরীরাহর প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে তার দশটি দোষ বর্ণনা করেছেন, পরিশেষে বলেছেন সে হচ্ছে হারামী (জারজ সন্তান) এরশাদ হয়েছে-
وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَهِينٍ هَمَّازٍ مَشَّاءٍ بِنَمِيمٍ
مَنَّاعٍ لِلْخَيْرِ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ عُتُلٍّ بَعْدَ ذَٰلِكَ زَنِيمٍ
অর্থ: যে অধিক শপথ করে যে লাঞ্চিত আপনি তার আনুগত্য করবেন না। যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে খুব বিচরণকারী, সৎকাজে বাধাপ্রদানকারী, সীমালঙ্গনকারী, পাপিষ্ট, কঠোর স্বভাব তদুপরি তার মূলে ত্রুটি। [সূরা কলম: আয়াত-১০-১৩] বর্ণিত আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হলে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ্ তার মায়ের নিকট গেল, তার মাকে বলল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ কুরআনে দশটি দোষ বর্ণনা করা হয়েছে, নয়টি দোষ আমি স্বয়ং আমার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি, দশম দোষটি সম্পর্কে তুমিই জান। সত্য করে বল, আমি কি হারামী (জারজ) না হালালী (বৈধ সন্তান) সত্যটিই বল, মা উত্তর দিল তোমার পিতা মামর্দ (নপুংশক) ছিলো, আমি আশঙ্কা করলাম তার মৃত্যুর পর তার সম্পদ অন্য লোকেরা নিয়ে যাবে তখন আমি অমুক রাখালের সাথে ব্যাভিচার করেছি, তুমি তারই থেকে জন্ম লাভ করেছ।
[কানযুল ঈমান তাফসীর, নুরুল ইরফান, কৃত. ইমাম আহমদ রেযা (রহ.) ও মুফতি আহমদ ইয়ার খান (রহ.)] প্রতীয়মান হলো, যার অন্তরে নবীর প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে, যে ব্যক্তি লিখনী, বক্তৃতা, বিবৃতি ও মন্তব্যের মাধ্যমে নবীর প্রতি অবমাননা করতে অভ্যস্ত তার জন্মের ত্রুটি রয়েছে সে হারামী। [খাযাইনুল ইরফান, রুহুল বয়ান ও তাফসীর সাভী] নবীর বিরুদ্ধে একবার ভৎসনা করলে আল্লাহ্ তা‘আলা দশবার ভৎসনা করেন-
عن ابن عباس رضى الله عنه قال من صلى على النبى صلى الله عليه وسلم واحدة صلى الله عليه عشرة ومن سبه مرة سب الله عليه عشر مرّاتٍ
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর উপর একবার দরুদ শরীফ পাঠ করবে আল্লাহ্ তা‘আলা তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন। যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্র শানে একবার গালমন্দ বা কটুক্তি করবে আল্লাহ্ তা‘আলা তার বিরুদ্ধে দশবার ভৎসনা করবেন। [ইমাম ইবনে হাজর আসকালীন (রহ.) প্রণীত, আল মুনাব্বিহাত]
নবীর অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ইসলামী মনীষীদের অভিমত
ইসলামী বিশ্বে সমাদৃত সর্বজনগ্রাহ্য ফাত্ওয়াগ্রন্থ ‘দুররুল মুখতার’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-
من سب النبى صلى الله عليه وسلم اوكذّبو او تنقصه او عابه فقد كفر بالله وبانت امرأته وان تاب والاقتل ـ
অর্থ: যে ব্যক্তি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে গালমন্দ করল কিংবা তাঁকে মিথ্যারোপ করল, অথবা তাঁর মানহানি করল, অথবা তার সমালোচনা বা দোষত্রুটি বর্ণনা করল, সে আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করল। এতে তার স্ত্রী তালাক হয়ে হবে। (মুসলিম হলে) এমন ব্যক্তি যদি এহেন ধৃষ্ঠতাপূর্ণ বক্তব্য মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়, ক্ষমা প্রার্থনা করে তাওবা করে নিলে কোনভাবে বেঁচে গেলে, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।
বিশ্ববিখ্যাত ফাত্ওয়াগ্রন্থ ‘ক্বাযী খানে’ নবীদ্রোহীদের বিধান সম্পর্কে উল্লেখ হয়েছে-
اذا عاب الرجل النبى صلى الله عليه وسلم فى شئ كان كافرًا
অর্থ:যদি কেউ কোন বিষয়ে রাসূলুল্লাহর শানে বিন্দুমাত্র দোষ বর্ণনা বা সমালোচনা করল সে কাফির হয়ে গেল।
সুপ্রসিদ্ধ ফাত্ওয়া গ্রন্থ ‘দুররুল মোখতার’-এ আরো উল্লেখ রয়েছে-
الكافر بسب النبى من الانبياء لايقبل توبته مطلقًا ومن شك عن عذابه وكفره فقد كفرـ
অর্থ: যে ব্যক্তি সম্মানিত নবীদের যে কোন নবীকে গালি দিল, তার তাওবা কবুল হবে না এবং যে ব্যক্তি তার কুফরী হওয়া ও শান্তির যোগ্য হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করল, সেও কুফরী করল।
সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ ‘ছাবী’ তে উল্লেখ রয়েছে,
ومن استخفف بجنا به صلى الله عليه وسلم فهو كافر وملعون فى الدنيا والاخرة
অর্থ: যে ব্যক্তি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের শানে সামান্যতম তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করল, সে ইহকাল ও পরকালে কাফির ও অভিশপ্ত।
আল্লামা ইমাম কাযী আয়াজ (রহ.)’র অভিমত:
নবীজির প্রতি সম্মান তাজিম ও আদব রক্ষা করা ও প্রদর্শন করা সর্বাবস্থায় ফরজ। ইমাম কাযী আয়াজ রহ. শিফা শরীফে উল্লেখ করেন-
اعلم ان حرمة النبى صلى الله عليه وسلم بعد موته وتوقيره وتعظيمه لازم كما كان حال حياته وذالك عند ذكره صلى الله عليه ةسلم
অর্থ: জেনে রাখুন! প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র প্রতি তাজিম ও সম্মান করা তাঁর জীবদ্দশায় যে রূপ অপরিহার্য তার ওফাতের পরও অনুরূপ সম্মান প্রদর্শন করা অপরিহার্য। [শিফা শরীফ, ২য় খন্ড] ইমাম মালিক (রহ.) ইবনে হাবীব ও মাবসূত কিতাবদ্বয়ে উল্লেখ করেন, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ তা‘আলাকে গালমন্দ করার কারণে কাফির হয়েছে তাদেরকে হত্যা করতে হবে। [আশ-শিফা, ২য় খন্ড]
ফ্রান্সসহ কাফির মুশরিকদের উৎপাদিত সকল পণ্য বয়কট করুন
অর্থনীতি গোটা বিশ্বের উন্নয়ন অগ্রগতি ও সাফল্যের চাবিকাঠি। আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রহ.)’র প্রস্তাবিত নির্দেশনা মতে মুসলমানদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নতি অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে হবে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে অমুসলিম কাফির মুশরিকদের উৎপাদিত সকল প্রকার পণ্যদ্রব্য বয়কট ও বর্জন করতে হবে। তবেই আসবে আমাদের অর্থনৈতিক সাফল্য মুক্তি ও সমৃদ্ধি।
[তাদবীরে ফালাহ্ ওয়া নাজাত ওয়া ইসলাহ্, কৃত. ইমাম আহমদ রেযা (রহ.)] মহান আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদেরকে প্রিয়নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের শান-মান ও মর্যাদা বুঝার তাওফিক নসীব করুন। আমীন।
লেখক: অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল, বন্দর হালিশহর, চট্টগ্রাম।