কবিতা

0

তোরা দেখে যা
কাজী নজরুল ইসলাম

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে।
মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন উষার কোলে রাঙা রবি দোলে॥

কুল মাখলুকে আজি ধ্বনি ওঠে, কে এল ঐ,
কলেমা শাহাদতের বাণী ঠোঁটে, কে এল ঐ
খোদার জ্যোতি: পেশানিতে ফোটে, কে এল ঐ
আকাশ গ্রহ তারা প-ড়ে লুটে- কে এল ঐ
পড়ে দরূদ ফেরেশতা, বেহেশতে সব দুয়ার খোলে॥

মানুষে মানুষের অধিকার দিল যে-জন,
এক আল্লাহ্ ছাড়া প্রভু নাই-কহিল যে জন,
মানুষের লাগি চির দীন-হীন বেশ ধরিল যে-জন,
বাদশা-ফকির এক শামিল করিল যে জন-
এল ধরায় ধরা দিতে সেই সে নবী
ব্যথিত মানবের ধ্যানের ছবি,
(আজি) মাতিল বিশ্ব-নিখিল মুক্তি কলরোলে॥

নূরের দরিয়ার সিনান

নূরের দরিয়ার সিনান করিয়া
কে এলো মক্কায় আমিনার কোলে।
ফাগুন-পূর্ণিমা-নিশীথে যেমন
আসমানের কোলে রাঙা চাঁদ দোলে।
কে এলো কে এলো গাহে কোয়েলিয়া,
পাপিয়া বুলবুল উঠিল মাতিয়া,
গ্রহ তারা ঝুঁকে করিছে কুর্ণিশ,
হুর-পরী হেসে পড়িছে ঢলে॥

জিন্নাতেরা আজ খোলা দরওয়াজা পেয়ে
ফেরেশতা আম্বিয়ারা এসেছে ধেয়ে
তহরীমা বেঁধে ঘোরে দরূদ গেয়ে
দুনিয়া টলমল, খোদার আরশ টলে॥

এল রে চির-চাওয়া, এল আখেরে নবী
সৈয়দে মক্কী-মদনী আল-আরবী,
নাজেল হয়ে সে-যে ইয়াকুত-রাঙা ঠোঁটে,
শাহাদতের বাণী-আধো -আধো বোলে॥

ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ 

সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম
কাজী নজরুল ইসলাম

ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়
আয়রে সাগর আকাশ বাতাস দেখবি যদি আয়॥

ধুলির ধরা বেহশ্তে আজ
জয় করিল, দিলরে লাজ।
আজকে খুশীর ঢল নেমেছে
ধুসর সাহারায়॥

দেখ আমিনা মায়ের কোলে
দোলে শিশু ইসলাম দোলে
কচি মুখে শাহাদতের
বাণী সে শোনায়॥

আজকে যত পাপী ও তাপী
সব গুনাহের পেল মাফি
দুনিয়া হ’তে বে-ইনসাফী
জুলুম নিল বিদায়॥

নিখিল দরূদ পড়ে ল’য়ে ও-নাম
সাল্লাল্লাহু আলায়হি অ-সাল্লাম,
জীন, পরী ফেরেশতা সালাম
জানায় নবীর পায়॥

ঈদে মিলাদুন্নবী
ফররুখ আহমদ

মরুর হাওয়া জানায় এসে, ‘‘ঈদে মিলাদুন্নবী’’
কুল মখ্লুক বলে হেসে, ‘‘ঈদে মিলাদুন্নবী॥’’

গুল্শানে ফুল ওঠে ফুটে খোশ্বু নিয়ে জান্নাতের
বুলবুলি গায় কানন ঘেঁষে ‘‘ঈদে মিলাদুন্নবী॥’’

নওশেরোয়াঁর ভাঙলো মহল নিভ্লো আগুন জ্বলন্ত
দেখ্লো রবি রাত্রি শেষে ‘‘ঈদে মিলাদুন্নবী॥’’

আজ কাফেলার কন্ঠে নতুন সুর ওঠে যে তৌহিদী,
প্রতীক্ষিত এল যে সে, ‘‘ঈদে মিলাদুন্নবী॥’’

নাতে রাসূল 
মীর মুনিরুল ইসলাম সেলিম
(১)
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু
মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্
এই কলেমার জিকির সদা
কর হৃদয় বুলবুল॥

এই কলেমায় আল্লাহ্ রাসূল
এই কলেমা সৃষ্টিরই মূল
তোর ঠিকানায় পৌঁছে দিবে
হবে না পথ ভুল॥

এই কলেমার প্রেম সাগরে
পারিস যদি ডুবতে ওরে
ক্বলব জীন্দা হয়ে যাবে
ফুটবেরে নূরানী ফুল॥

মরণের কঠিন কালে
পারিস যদি জপতে দিলে
আসান হবে মরণ কষ্ট
পাবিরে তুই কূল॥

এই কলেমা দো-জাহানে
তরাবে তোর কঠিন দিনে
মউত কবর হাশর মিজান পুলসিরাতে
হবে পারের পুল॥

(২)
দরূদ পড় বেশী করে
মোমিন মুসলমান
দরূদ পাঠে হবে যে,
সকল সমাধান॥

দরূদ পড়ে আসমানে
আল্লাহ্ ও ফেরেশতাগণে
সৃষ্টি যত দরূদ রত:
পড় মোমিন অবিরত
দরূদ পাঠের বরকতে ভাই
বাড়বে যে সম্মান॥

হারাম হবে জাহান্নাম
পূর্ণ হবে মনস্কাম
নবীর সুপারিশ নসীব হবে
বেহেশতের দেখা পাবে
নবীর সম্মানে সেদিন
সহায় হবেন আল্লাহ্ মহান॥
(৩)
মদীনার ওই পাক রওজা আজো কতো দূরে
উম্মত আমি গুনাগাহর যাবো কেমন করে॥

আস্সালাতু আস্সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ্ বলে-
সালাম জানাতাম মদীনায় গেলে
মনের আশা পূরণ হতো শান্তি পেতাম হৃদয় ভরে॥

বুকটি ভরা হাহাকার কাঁদে শুধু বারে বার
নবীর দেখা পেতাম যদি আমি হঠাৎ করে॥

অজ্ঞানতার অন্ধকারে আরব যখন ঘুমের ঘোরে
নবী আমার এলেন তখন নূরের চেরাগ হাতে করে॥

সুবিহে সাদিক ১২ তারিখ রবিউল আউয়ালে
৭টি দিনের মাঝে সোমবার খুশির বন্যা ঝরে॥

মদ-জুয়া হানাহানি মূর্তি পূজা খুনাখুনি
মেয়ে শিশু কবর দেয়া বন্ধ হলো চিরতরে॥

নারীর অধিকার ন্যায় বিচার নবী দিলেন সব স্বাধীকার
মানবতার অমর বিধান দিলেন সারা বিশ্ব জুড়ে॥

উম্মতের কান্ডারী নবী তামাম সৃষ্টির রহমতের রবি
পার করাবেন উম্মতেরে মহান কঠিন রোজ হাশরে॥