ইসলামে আযানের গুরুত্ব ও মাসায়েল

0

ইসলামে আযানের গুরুত্ব ও মাসায়েল-
অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি >
وعن مالك بن الحوريث قال قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلّوا كما رايتمونى اصلى واذا حضرت الصلوة فليوذن لكم احدكم ثم ليومّكم اكبركم [متفق عليه] عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الامام ضامن والموذّن مؤتمن ـ اللهم ارشد الائمة واغفر للمؤذنين [رواه ابو داود واحمد و الترمذى]
অনুবাদ: হযরত মালিক ইবনে হুয়াইরেস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা তেমনিভাবে নামায পড়ো, যেমন আমাকে নামায পড়তে দেখেছো। যখন নামাযের সময় হবে তোমাদের মধ্য থেকে কেউ আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বড় জন ইমামতি করবে। [বোখারী ও মুসলিম শরীফ] হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ইমাম হচ্ছে যিম্মাদার, আর মু‘আজ্জিন হচ্ছে আমানতদার, হে আল্লাহ ইমামদেরকে হেদায়ত দান করো এবং মুয়াজ্জিনদেরকে ক্ষমা করো। [আবু দাউদ, আহমদ, তিরমিযী]

প্রাসঙ্গিক আলোচনা
নামাযের প্রতি আহ্বানের এক গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী বিধানের নাম হলো আযান। মুসলিম সংস্কৃতির এক বলিষ্ঠ নিদর্শন আযান। ইসলামের ঐতিহ্য ও নিদর্শন হিসেবে আযানের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আযান উচ্চারণকারী মুয়াজ্জিনের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। ইসলামী শরীয়তে এক বিস্তৃত অধ্যায় জুড়ে রয়েছে আযানের ইতিহাস ও বিধি-বিধান। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আযানের ফযীলত ও এতদসংক্রান্ত শরয়ী মাসায়েল সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ ক্ষুদ্র প্রয়াসঃ

আযান শব্দের অর্থ
আযান শব্দটি আরবি, এর আভিধানিক অর্থ ঘোষণা দেওয়া, আহ্বান করা, জানিয়ে দেওয়া ইত্যাদি।
শরয়ী পরিভাষায় আযানের সংজ্ঞা নি¤œরূপঃ الاذان هو الاعلان بوقت الصلوة بالفاظ مخصوصة
অর্থঃ কতিপয় নির্দিষ্ট শব্দাবলি দ্বারা নামাযের সময় জানিয়ে দেওয়াকে আযান বলা হয়।
পবিত্র কুরআনে আযান শব্দের ব্যবহার
মহান আল্লাহ্ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন – اذان من الله ورسوله
অর্থ: আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা । (৯:৩) আরো এরশাদ হয়েছে- فاذّن موذن بينهم অর্থাৎ একজন ঘোষণাকারী তাদের মধ্যে ঘোষণা করলো। (৭:৪৪)। সূরা জুম‘আতে এরশাদ হয়েছে- ياايهاالذين امنوا اذا نودى للصلوة من يوم الجمعة فاسعوا الى ذكر الله وذروا البيع
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! যখন জুম‘আর দিবসে নামাযের আযান হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয় বিক্রয় ত্যাগ কর। [সূরা জুমআ, আয়াত-৬২]
আযানের সূচনা
মদীনায় হিজরতের পর নামাযের জন্য আহ্বান করার নির্দিষ্ট কোন নিয়ম ছিলনা। প্রত্যেকে নিজ নিজ উদ্যোগে মসজিদে একত্রিত হলে নামায আরম্ভ হতো। যখন মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন সাহাবায়ে কেরাম নামাযের সময় সম্পর্কে মুসলমানদেরকে জানিয়ে দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করলেন। কেউ প্রস্তাব দিলেন নামাযের সময় আগুন জ্বালানো হোক। কেউ প্রস্তাব করলেন ঘন্টা/ধ্বনি বাজানো হোক। এর উপরও আপত্তি হলো, কারণ এটা খৃস্টানদের প্রথা। মুসলমানরা বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করতে পারে না। মুসলমানদের সংস্কৃতি ভিন্নতর ও স্বতন্ত্র হতে হবে। ঐ রাতেই প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে যায়দ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু স্বপ্নযোগে আযানের শব্দগুলো শুনতে পান। ইকামতের বাক্যগুলোও তাঁকে শিখিয়ে দেয়া হয়। তিনি প্রত্যুষে স্বপ্নের ঘটনা বিস্তারিতভাবে নবীজিকে ব্যক্ত করলেন, ঘটনা শুনে নবীজি বললেন এটি সত্য স্বপ্ন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বাক্যগুলো হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে শিখিয়ে দিতে বললেন। বোখারী শরীফে এরশাদ হয়েছে, হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু নামাযের ঘোষণা দেওয়ার জন্য একজন লোকের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন হে বেলাল! উঠ নামাযের জন্য ঘোষণা দাও। আযান শুনে হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু নবীজিকে জানান তিনিও রাতে স্বপ্নযোগে অনুরূপ আযানের বাক্যগুলো শুনেছেন। [মিরআতুল মানাজীহ্, ১ম খন্ড, আযান অধ্যায়] হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কণ্ঠে প্রথম আযান ধ্বনিত হয়। মদীনার মসজিদে নববী শরীফে তিনিই প্রথম আযান দেন। পরবর্তী পর্যায়ে মক্কা বিজয়ের পর কাবা ঘরে তিনিই প্রথম আযান দেন। হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবীজির প্রেমে এতই বিভোর ছিলেন যে, নবীজির ওফাতের পর শোকাভিভূত হয়ে বিরহ বেদনায় আর আযান দিতে পারতেন না। নবীজির বিদায়ের শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি মদীনা ছেড়ে সিরিয়ার দামেস্কে চলে যান।
সওয়াবের নিয়্যতে আযান দানের ফযীলত
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যয়ে আযান প্রদানকারী মুয়াজ্জিনদের জন্য নবীজির পক্ষ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে, এরশাদ হয়েছে-
عَنْ ابن عباس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من اذن سبع سنين محتسبا كتب له براة من النار [رواه الترمذى وابوداود وابن ماجه] অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সাত বছর যাবত শুধু সওয়াবের জন্য আযান দিল, তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লিখে দেয়া হয়। [তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাযাহ]
ক্বিয়ামতের দিবসে মুয়াজ্জিনের মর্যাদা প্রকাশ পাবে
হযরত মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি ‘মুয়াজ্জিনগণ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে উঁচু গর্দানের অধিকারী হবে। [সহীহ্ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-৩৮৭] হযরত বারা ইবনে আযেব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ সামনের কাতারের উপর রহমত প্রেরণ করেন ও ফেরেশতাগণ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, আর মুয়াজ্জিনকে তাঁর আওয়াজ পরিমাণ ক্ষমা করা হয়, শুষ্ক ও তাজা যে কোন বস্তু তার আওয়াজ শুনে তারা তাকে সত্যারোপ করে যার তার সাথে সালাত আদায় করে তাদের সওয়াবও তাকে প্রদান করা হয়।
[নাসাঈ শরীফ, ২/১৬ হাদীস নং-৬৪৬]
আযানের আগে ও পরে দরূদ পাঠ করা শরীয়ত সম্মত
হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-
وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سمعتم الموذن فقولوا مثل ما يقول ثم صلو على فانه من صلى على صلوة صلى الله عليه بهاعشر [رواه مسلم] অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে তখন তোমরাও সেভাবে বলো, যেভাবে সে বলেছে, তারপর আমার উপর দরূদ প্রেরণ করো। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর দরুদ প্রেরণ করবে আল্লাহ্ তার উপর দশবার রহমত প্রেরণ করেন। [মুসলিম শরীফ] আজানের পর দরুদ শরীফ পাঠ করা সুন্নাত, যা বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আযানের আগে দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েয বরং সওয়াবের কাজ যা ইসলামী ফিক্বহ শাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য কিতাবাদি দ্বারা প্রমাণিত।[মিরআতুল মানাজিহ, ১ম খন্ড] আযানের পূর্বে সালাত-সালামের শব্দ বলার পর দুই তিন মিনিট নিরবতা পালন করে আযান শুরু করা উচিত। অনুরূপ আযানের পর দুই এক মিনিট বিরতি রেখে দুরূদ শরীফ পাঠ করা উচিত। স্মর্তব্য যে, আযানের পূর্বে বা পরে দরূদ শরীফ পাঠ করাটা কখনো আযানে সংযোজন নয়। কেননা দরূদ শরীফ কখনো আযানের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ফতোয়ায়ে শামীর বর্ণনা মতে সাতটি স্থানে দুরুদ শরীফ পাঠ করা মাকরূহঃ
১. স্ত্রী সহবাসকালে, ২. মলমূত্র ত্যাগকালে, ৩. ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা সামগ্রীর প্রচারের জন্য, ৪. পা পিছলে যাওয়ার সময়, ৫. আশ্চর্য হওয়ার মুহূর্তে, ৬. প্রাণী জবেহ করার সময় এবং ৭. হাঁচি দেওয়ার সময়।
রদ্দুল মুখতার উল্লেখ রয়েছে-ومستحبة فى كل اوقات الامكان বর্ণিত সাত স্থান ব্যতীত, সম্ভাব্য সব অবস্থায় ও সময়ে দরূদ শরীফ পাঠ করা মুস্তাহাব তথা জায়েজ। [সূত্র. রদ্দুল মুখতার, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৮২] বিশ্ববিখ্যাত ফিক্বহ্গ্রন্থ ‘কিতাবুল ফিক্বহ্ আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ’’ নামক কিতাবে আযানের পূর্বে দরুদ শরীফ পাঠের বৈধতা প্রসঙ্গে শিরোনাম রয়েছে- باب الصلوة على النبى قبل الاذان [কৃত. আল্লামা আবদুর রহমান জরিরী, খন্ড-১, পৃ. ৩২৬]
আযানের শরয়ী বিধান
পঞ্জেগানা নামায ও জুমার জন্য আযান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্, যদি আযান দেয়া না হয়, সকল লোক গুনাহ্গার হবে। ওয়াক্ত হওয়ার পর আযান দেবে। নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিয়ে দিলে ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দেওয়া জরুরী। [আলমগীরি, বাহারে শরীয়ত] ফরজ নামায ব্যতীত অবশিষ্ট নামাযের যেমন বিতর, জানাযা, দুই ঈদের নামায, সুন্নাত নামায, তারাবীহ্ নামায, মান্নতের নামায, বৃষ্টি প্রার্থনার নামায, দ্বিপ্রহরের নামায, চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্য গ্রহণের নামায এবং সর্বপ্রকার নফল নামাযের জন্য আযান নেই। [বাহারে শরীয়ত, ৩য় খন্ড] ঘরে নামায আদায়কারীর জন্য মহল্লার মসজিদের আযানই যথেষ্ট। তবে একাকী নামায আদায়কারীর জন্য ইকামত দিয়ে নামায আদায় করা উত্তম। অনুরূপ ঘরে জামাত সহকারে নামায আদায়ের জন্য আযান দেওয়া উত্তম। ইকামত দেয়া আবশ্যক।
অযু সহকারে কেবলামুখী হয়ে দাড়িয়ে উভয় কানের ছিদ্র পথে শাহাদাত আঙ্গুলি প্রবেশ করিয়ে শুদ্ধভাবে আযানের বাক্যগুলো সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে আযান দেওয়া সুন্নাত। অযু বিহীন আযান দেওয়া মাকরূহ। বসে আযান দেওয়া মাকরূহ। কেউ বসে আযান দিলে দাঁড়িয়ে পুনরায় দিতে হবে। [বাহারে শরীয়ত, আলমগীরি]
আযানের জবাব দু’ প্রকার
এক. জবাবে ফেলী তথা কার্যত জবাব। নামায আদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক প্রত্যহ পাঁচওয়াক্ত, নামায আদায়ের মাধ্যমে আযানের জবাব দেওয়া মুসলমানের জন্য ফরজ।
দুই. জওয়াবে কওলী- মৌখিক জবাব। মুয়াজ্জিনের আযানের শব্দাবলী শুনার পর অনুরূপ মৌখিক জবাব দেওয়াকে ফকীহগণ সুন্নাত বলেছেন। কারো কারো মতে মুস্তাহাব। হানাফী মাযহাব মতে আযানের বাক্য হচ্ছে পনেরটি, ইকামতের সতেরটি। আযান শ্রবণকারীর উপর মৌখিক জবাব দেওয়া সুন্নাত। মুয়াজ্জিন যে বাক্য বলবে শ্রোতাও ওই বাক্য বলবে, তবে মুয়াজ্জিন যখন ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ্’ বাক্যটি বলবে শ্রোতা শ্রবণের পর প্রিয়নবীর প্রতি তাজিম সম্মান প্রদর্শনার্থে নিজের দুহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয়ের নখে মুখ দ্বারা চুমু দিয়ে, ‘সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ্’ বলে নিজের চোখে লাগানো বরকতময় মুস্তাহাব আমল।
দ্বিতীয়বারে শ্রোতাগণ ‘মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ্’ বাক্য শ্রবণের পর পূর্ব নিয়মে, ‘কুররাতু আইনি বিকা ইয়া রাসূলাল্লাহ্’ বলে দু’চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলি চুমো দিয়ে চোখে লাগাতে হয়। অতঃপর বলতে হয়, ‘আল্লাহুম্মা মাততিনী বিস সাময়ী ওয়াল বাছারী। অতঃপর মুয়াজ্জিনের অনুরূপ শ্রোতাগণও আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ বলবে। [সূত্র. ফতোয়ায়ে শামী, ১/৩৯৮, পৃ. আযান অধ্যায়] এ মর্মে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি মুয়াজ্জিনকে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ্ বলতে শুনেছেন, তখন তিনিও অনুরূপ বললেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয়ে চুমো দিয়ে তা চোখে মালিশ করলেন। এ আমল দেখে নবীজি এরশাদ করলেন-من فعل مثل ما فعل خليلى فقد حلت عليه شفاعتى অর্থ: যে ব্যক্তি আমার বন্ধুর ন্যায় আমল করবে তার জন্য আমার সুপারিশ বৈধ হয়ে গেল। [সূত্র. মাকাসিদুল হাসানা, পৃ. ৬৮৩, হাদীস নং-১০২১] মুয়াজ্জিনের হাইয়্যা আলাস্ সালাহ্ ও হাইয়্যা আলাল ফালাহর জবাবে লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ্ বলবে। উভয়টা বলা উত্তম। ফজরের আযানে ‘আস্সালাতু খায়রুম্ মিনান নাউম এর জবাবে’ ‘সাদাক্বতা ওয়া বারারতা ওয়া বিল হাক্বকিক্ব নাতাক্বতা বলবে। [ফতোয়ায়ে শামী, বাহারে শরীয়ত] আযানের দুআতে وارزقنا شفاعته يوم القيامة বলাটা হাদীস দ্বারা সমর্থিত। [সগীরি, পৃ. ১৯৮, মিরআতুল মানাজীহ্, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৭৯] আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।