কবরে আযান দেয়া জায়েয কিনা? ইসলামী শরিয়তের ফয়সালা কি?

0

মুহাম্মদ এনামুল হক, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় সম্প্রতি কবরের ওপর আযান দেয়া হয়। এটা নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক করে। কবরে আযান দেয়া জায়েয কিনা? ইসলামী শরিয়তের ফয়সালা জানিয়ে ধন্য করবেন।
উত্তর: মুসলমান ব্যক্তির লাশ কবরে দাফন করার পর আযান দেয়া জায়েয এবং মুস্তাহাব। বিভিন্ন বর্ণনা ও ফকিহগণের উক্তিসমূহ হতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। বিখ্যাত ফতোয়া ও ফিকহ গ্রন্থ ‘আদ্ র্দুরুল মুখতার’র প্রথম খন্ড আযান অধ্যায়ে পাঞ্জেগানা ফরয নামাযের আযান ব্যতীত আরো যে সকল স্থানে আযান দেয়া সুন্নাত তার বর্ণনা করা হয়েছে। তাছাড়া ‘ফাতওয়ায়ে শামী’তে তথা রদ্দুল মোহতারেও বেশ কিছু জায়গায় আযান দেয়া মুস্তাহাব-এর কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
তা হলো নবজাতক শিশুর ভূমিষ্টের পর কানে, মুসাফির যে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে, মৃগী রোগী ও রাগান্বিত ব্যক্তির কানে কানে, অগ্নিকান্ড ঘটলে, ভূ-কম্পনের সময় এবং মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় বা কবরস্থ করার পর কবরের উপর আযান দেয়া সুন্নাতে মুস্তাহাব্বা। বিভিন্ন হাদিসে পাক ও ফিকহ্ গ্রন্থে পবিত্র আযানের ৭টি (সাত) উপকারের কথা বর্ণনা পাওয়া যায়। যথা- ১. মুনকার-নাকীরের সাওয়াল-জবাব সহজ হয়, ২. শয়তান পালায়ন করে, ৩. মনের ভয়ভীতি দূর হয়, ৪. আযানের বরকতে মানসিক অশান্তি দূর হয়, ৫. প্রজ্জ্বলিত আগুন নিভে যায়, ৬. আযান যেহেতু আল্লাহর জিকির এর বরকতে কবরের আযাব দূরীভূত হয়, কবর প্রশস্থ হয় এবং সংকীর্ণ কবর থেকে নাজাত পাওয়া যায়, ৭. আযানের মধ্যে প্রিয়নবী হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জিকির ও রেসালতের শাহাদাতও আছে এবং আল্লাহর প্রিয় বন্ধুগণের জিকিরের সময় আল্লাহ্র রহমত নাযিল হয়। ইসলামী শরিয়তে কবরে আযান দেয়া নিষেধ করা হয়নি। তাই কবরে আযান দেয়া জায়েয, বৈধ ও মুস্তাহাব। এতে আরও ফায়দা বা উপকার নিহিত রয়েছে।
[জা’আল হক কৃত: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নাঈমী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, রদ্দুল মোহতার, আযান অধ্যায় কৃত: ইমাম ইবনে আবেদীন শামী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, আমার সংকলিত ও আনজুমান ট্রাস্ট প্রকাশিত -যুগজিজ্ঞাসা, এবং ফতোয়ায়ে রজভীয়া শরীফ কৃত: ইমাম আ’লা হযরত শাহ্ আহমদ রেযা ফাজেলে বেরলভী (রাহ.) ইত্যাদি]