দীনের উপর অবিচল থাকার গুরুত্ব ও তাৎপর্য-

0

দীনের উপর অবিচল থাকার গুরুত্ব ও তাৎপর্য-
মুহাম্মদ মুনিরুল হাছান >
আরবী শব্দ ইস্তেকামত এর আভিধানিক অর্থ হলো দীনের উপর অবিচল থাকা, সিরাতুল মুসতাকিম এর পথে চলা । প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা। কোনো দিকে না ঝুঁকে সোজা দাড়িঁয়ে থাকা। এটি একটি ব্যাপক অর্থ বোধক শব্দ। ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিভাষায় ইসলামের মৌলিক বিষয় সমূহ তথা আকায়েদ, ইবাদত, আচার-ব্যবহার, লেনদেন, কথাবার্তা তথা জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে থেকে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত পথে এবং মতের উপর অবিচল থাকার নামই হলো ইস্তেকামত। আল্লাহ তায়ালা প্রিয় নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এবং সমস্ত মুমিন মুসলমানকে সকল কাজকর্মে ইস্তেকামত অবলম্বন করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এক কথায় জীবন চলার পথে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হওয়া, তার শাস্তির ভয়ে ভীত হওয়া সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বাসনা পোষণ করে চলা। হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ তায়ালা যাবতীয় বিধি তথা আদেশ ও নিষেধের উপর অবিচল থাকা এবং তা থেকে শৃগালের ন্যায়, এদিক-ওদিক পলায়নের পথ বের না করার নাম ইস্তেকামত। আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, ইস্তেকামত বা দ্বীন পালনে দৃঢ়তা হলো ভালো কাজ করা এবং পাপ কাজ পরিহারের ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ মেনে চলা। [ফতহুল বারী, ১৩/২৫৭]
বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম বলেন, ইস্তেকামত হলো রূহের জগতে আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পালন করা। আল্লাহ তায়ালা রূহের জগতে বণী আদমের সমস্ত রূহ কে একত্র করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? সকল রূহ একবাক্যে উত্তর দিয়েছিল হ্যাঁ অবশ্যই। আল্লাহর রবুবিয়াতের সামনে এই হ্যাঁ বোধক শব্দ উচ্চারণ করার পর দুনিয়াতে এসে সেই ওয়াদা যথাযথ পালন করার নামই হলো ইস্তিকামত।
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো একথা সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই আর হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসুল। এই দুটি সাক্ষ্যের দাবি হলো দৃঢ় মনোভাব পোষণ করে একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন করা। এর ব্যত্যয় হলে মানুষ পথহারা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মানুষ পাপ কাজের প্রতি মনোনিবেশ করে। তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত হলো মানুষের যাবতীয় কাজকর্মের মৌলিক ভিত্তি। তাওহিদের বিশ্বাস যেমন পরিপূর্ণ হওয়া জরুরী তদ্রুপ রিসালাতের বিশ্বাস ও যথাযথ হওয়া জরুরী। এ সমস্ত বিষয়ের প্রতি পূর্বের ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা সীমা অতিক্রম করার কারণে পথ ভ্রষ্ট হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘‘আমি যার অন্তরকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে গেছে, আপনি তার কথা মানবেন না। [সূরা কাহাফ-২৮]
একবার সহাবায়ে কেরামগণ (রাঃ) লক্ষ্য করলেন যে, রাসূলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দাড়ি মোবারকের কয়েকটা পেকে গেছে তখন তারা আফসোস করে বললেন, হুজুর বার্ধক্য আপনরার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম তদুত্তরে বললেন, সূরা হুদ আমাকে বৃদ্ধ করেছে। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, হযরত আবু আলী সিরী হতে বর্ণিত, তিনি একবার রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে স্বপ্নে জিয়ারত লাভ করে জিঞ্জাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ আপনি কি একথা বলেছেন যে, সূরা হুদ আমাকে বৃদ্ধ করেছে। তিনি বললেন হ্যাঁ। পুরনায় প্রশ্ন করলেন উক্ত সূরার বর্ণিত, নবীগনের কাহিনী ও তাদের জাতি সমূহের উপর আযাবের ঘটনাবলী কি আপনাকে বৃদ্ধ করেছে? তিনি জবাব দিলেন, ‘না; বরং ‘ফাসতাকিম কামা উমিরতা’ অর্থাৎ, সুতরাং তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছে তাতে স্থির থাক এবং তোমার সঙ্গে যারা ইমান এনেছে তারাও স্থির থাকুক এবং সীমা লংঘন করিওনা। তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই তিনি তাহার সম্যক দ্রষ্টা। (সূরা হুদ, আয়াত-১১২)। এ আয়াতটিই আমাকে বৃদ্ধ করেছে।
নবীগণের অন্তরে ইস্তেকামতের মাত্রা নিয়ে কোনো সংশয় থাকার কথা নয় তার পরও আল্লাহ তায়ালা যে ভাবে ইস্তেকামতের নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিল আপন উম্মতের জন্য। অর্থাৎ স্বীয় উম্মতের জন্য ইস্তেকামত অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যার কারণে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত চিন্তিত হয়েছিলেন। হযরত সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ সাকাফী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দরবারে আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ইসলাম সর্ম্পকে এমন একটি ব্যাপক শিক্ষা দান করুন যেন আপনার পরে কারো কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন না হয়। তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আন অতঃপর ইস্তেকামত অবলম্বন কর।
আল্লাহ তায়ালা ইস্তেকামত অবলম্বন করার সাথে সাথে দুটি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞাও জারী করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবেনা নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোনো বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবেনা। [সূরা-হুদ-১১৩]
উল্লেখিত আয়াত দুটি সর্ম্পকে হযরত হাসান বসরি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ তায়ালা সম্পূর্ণ দ্বীনকে দুটি ”লা” বা নাবোধক শব্দের মাঝে জমা করে দিয়েছেন। একটি হলো ”লা তাতগাও” সীমা লঙ্খন করবে না। দ্বিতীয়টি হলো ”ওয়ালা তারকানু” পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুকবেনা। প্রথমটিতে শরিয়তের সীমা রেখা অতিক্রম করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় অংশে খারাপ লোকদের সংর্স্পশে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। এ দুটি হলো সমস্ত দ্বীনদারীর সারসংক্ষেপ।
জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করার উপর দৃঢ় থাকা জরুরী। মানুষের নৈতিক গুনাবলী চর্চার ক্ষেত্রে যেমন, ব্যয় নির্বাহ, দানশীলতা, জীবিকা উপার্জন, ইত্যাদির ক্ষেত্রে চরম মধ্যপন্থা প্রদর্শন করতে হয়। হাদিসে বলা হয়েছে- ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ। আল্লাহ তায়ালা ইস্তেকামতের সাথে সাথে কিছু কাজ নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে ইমাম কাজী বায়যাবী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, পাপচার অনাচারকে নিষিদ্ধ ও হারাম ঘোষণা করার জন্য এখানে এমন কঠোর ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে, যার চেয়ে অধিকতর জোরালো ভাষা কল্পনা করা যায় না। কেননা পাপিষ্ঠদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ও গভীর সর্ম্পককেই শুধু নিষেধ করা হয়নি বরং তাদের প্রতি সামান্যতম আকৃষ্ট হওয়া, তাদের সাথে উপবেশন করা, তাদের কার্যকলাপের প্রতি মৌনতাকেও নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম আওযায়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, পৃথিবীর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো ঐ আলেম যে নিজের পার্থিব র্স্বাথ উদ্বারের জন্য কোনো পাপিষ্ঠ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়।
কোনো কোনো উলামায়ে কেরামের মতে ইস্তেকামত দুই প্রকারঃ জাহেরী বা প্রকাশ্য, অপরটি হলো বাতেনী বা অপ্রকাশ্য। প্রকাশ্য ইস্তেকামত হলো আল্লাহ তায়ালার আদিষ্ট বিষয়গুলো তথা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতের বিধি বিধানগুলো পালন করা এবং নিষিদ্ধ কাজ গুলো বর্জন করা। আর অপ্রকাশ্য ইস্তেকামত হলো ঈমানের মৌলিক বিষয়ের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং এতে অটল থাকা। হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, ইস্তেকামত হলো আল্লাহর সাথে কোনো কিছুর শরিক না করা এবং অন্য কোনো ইলাহের দিকে ধাবিত না হওয়া।
আল্লাহ তায়ালা বলেন- নিশ্চয় যারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর তারা ইস্তেকামত বা অবিচল থাকে তাদের নিকট অবর্তীণ হয় ফেরেশতা এবং বলে, তোমরা ভীত হয়োনা এবং বিচলিতও হয়োনা। তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো তার সুসংবাদ শুন। [সূরা হা-মিম সেজদাহ-৩০] ইস্তিকামতের পূর্বশত হলো যখন অন্তরে বিশ্বাস করা হয় যে, আমি প্রত্যেক অবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপেই আল্লাহ তায়ালার নিয়ন্ত্রণাধীন এবং তার রহমত ছাড়া আমি একটি স্বাসও ছাড়তে পারি না। আর এর দাবী হলো মানুষ সর্বদা ইবাদতে অবিচল থাকবে এবং তার আত্মা ও দেহের কেশাগ্র পরিমানও আল্লাহর ইবাদত থেকে বিচ্যুত হবে না। [তাফসিরে কাশশাফ] হযরত উসমান ইবনে হাযের রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, একবার আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু সমীপে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলাম যে, আপনি আমাকে একটি উপদেশ দান করুন। উত্তরে তিনি বলেন, তাকওয়া বা খোদাভীতি ও ইস্তেকামত অবলম্বন কর, যার পন্থা হচ্ছে ধর্মীর ব্যাপারে শরিয়তের অনুশাসন হুবুহু মেনে চল, নিজের পক্ষে থেকে হ্রাস-বৃদ্ধি করতে যেওনা।আল্লাহ তায়ালা বলেন- অতএব তার দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।[সূরা হা-মিম, আস সাজদাহ-৬]
সুতরাং বুঝাগেল ইস্তেকামতের জন্য প্রয়োজন হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এই ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে ইস্তেকামতের মর্যাদা লাভ করা যায়। হযরত হাকাম বিন হাযন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, হে মানব সম্প্রদায় আমি যে ভাবে আদিষ্ট হয়েছি তোমরা তার পরিপূর্ণ ভাবে আমল করতে সক্ষম নও, কিন্তু তোমরা সত্য কথা বল (সত্যের উপর অবিচল থাক) এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। [মুসনাদে আহমদ খন্ড-৪, নং-২১২]
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কস্মিনকালেও তোমাদের কাউকে তার নিজের আমল কখনো নাজাত দেবে না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল আপনাকেও না? তিনি বলেন আমাকেও না। তবে আল্লাহ আমাকে তার রহমত দিয়ে আবৃত করেছেন। তোমরা যথারীতি আমল করে নৈকট্য লাভ কর। তোমরা সকালে বিকালে এবং রাতের শেষ ভাগে আল্লাহর ইবাদত কর। মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। মধ্যমপন্থা তোমাদের লক্ষ্যে পৌছাবে। [সহীহ বুখারি-৬৪৬৩]
ইস্তেকামত অর্জনের জন্য প্রধানতম উপকরণ হলো কলব। আর কলবের পর হলো মুখ বা জবান। কেননা জবান হলো অন্তরের মুখপাত্র। এজন্য ইসলামে ইস্তেকামতের পরপরেই জবানের হেফাজতের কথা বলা হয়েছে। হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে পাক রয়েছে আদম সন্তান যখন সকাল শুরু করে তখন শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ জিহবার কাছে মুক্তি চায়। অঙ্গগুলো বলে আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তুমি যদি (সুস্থ) অটল থাকো তাহলে আমরাও অটল থাকবো। আর তুমি যদি অসুস্থ হয়ে পড় আমরা অন্যান্য অঙ্গগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়ি। [তিরমিযি-২৪০৭]
ফকিহ আবু লাইস সমরকন্দী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, দশটি জিনিসের প্রতি লক্ষ্য রাখা হলো ইস্তেকামতের আলামত:-
১. গীবত বা পরনিন্দা থেকে বেঁেচ থাকা। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা একে অপরের গীবত করো না।
২. কুধারণা থেকে বেঁচে থাকা, কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাক। কেননা অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ।
৩. ব্যঙ্গ বিদ্রুপ থেকে বেঁচে থাকা, কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে।
৪. অপরিচিত মহিলা থেকে দৃষ্টি সংযত রাখা। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, মুমিনদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে।
৫. সত্য কথা বলা- আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা যখন কথা বলবে তখন ন্যায্য কথা বলবে।
৬. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা যা অর্জন কর তার মধ্যে থেকে উত্তম বস্তু ব্যয় কর।
৭. অপচয় না করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তুমি অপচয় করোনা।
৮. উদ্ধত ও অহংকারী না হওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এটা আখিরাতের সেই আবাস যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য যারা এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না।
৯. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ব্যাপারে যত্মবান হওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা সালাতের প্রতি যত্মবান হও, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্য বিনীতভাবে দাড়াঁবে।
১০. সুন্নাত ও জামাতের সাথে দলবদ্ধতার উপর অবিচল থাকা। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, এই পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না। তাহলে তোমরা বিচ্যুত হবে।
বান্দা যখন নিয়মিত কোনো আমল করে তা আল্লাহ তায়ালা খুবই পছন্দ করেন। এজন্য আমলের উপর অবিচল থাকা বা নিয়মিত কোনো নেক আমলের অনুসরণ করা অত্যন্ত ফলদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ। হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা বলেছেন, একদা রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হুজরায় আসলে তার কাছে অন্য এক মহিলাকে দেখতে পেলেন। তিনি তার পরিচয় জানতে চাইলে হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা বলেন ইনি অমুক মহিলা যার নাম খাওলা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা তারা নামাজ নিয়ে আলোচনা করছিল। রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের আলোচনা বন্ধ কর। তোমরা ঐ আমলই করতে থাক যা পূর্বে করছিলে। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ কখনো কাউকে বঞ্চিত করেন না, যতক্ষণ পযর্ন্ত সে নিজেকে বঞ্চিত করে না। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ তাই যা সে সর্বদা নিয়মিতভাবে করে। অর্থাৎ নিয়মিত অল্প আমল হলেও তা আল্লাহর নিকট বেশি পছন্দনীয়। [সহীহ বুখারি, নং-৪২] মুমিন সকল বিপদাপদে আল্লাহর উপর অটল থাকে। বিপদকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা মনে করে। ফলে মুমিন বান্দা বিপদে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়। শুধু তাই নয় বিপদের মধ্যে ধৈর্য ধারণ করে ইমানের উপর অটল থাকলে তার পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মুমিনের দৃষ্টান্ত কোমল শস্যের মতো। বাতাস যে দিকে নাড়া দেয় শষ্যের পাতাও সে দিকে দোলতে থাকে। বাতাস থেমে গেলে শস্যটি স্থির হয়ে যায়। তদ্রুপ মুমিনকেও বিপদাপদ দিয়ে দোলা দেওয়া হয়। আর কাফেরদের বা অবিশ্বাসীদের দৃষ্টান্ত হলো দেবদারু গাছের মতো দৃঢ় স্থির। আল্লাহ তায়ালা যখন ইচ্ছা তাকে মূলোৎপাটন করে দেন। [সহীহ বুখারি-৭৪৬৬] রোগ-শোক আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন রোগ দ্বারা মুমিনদেরকে পরীক্ষা করে থাকেন। রোগ ব্যাধি মুমিনের জন্য গুনাহের কাফফারা হয়ে থাকে। প্রিয় নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, সত্যের নিকটবর্তী থাকো এবং সরল-সোজা পথ অবলম্বন করো। মুমিনের যে কষ্টই হোক না কেন, এমনকি তার গায়ে যদি কোনো কাটাঁ বিঁেধ বা সে কোনো বিপদে পতিত হয় সবকিছুই তার গুনাহর কাফফারা হয়। [তিরমিজি-৩০৩৮] ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ হলো পাচঁটি। এই পাচঁটির মধ্যে প্রথমটি হলো ঈমান। ঈমানের উপর অটল থাকার মাধ্যমে মানুষের জন্য দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতেও মুক্তির নিশ্চয়তা রয়েছে। হযরত উবাদা ইবনে সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু মৃত্যুশয্যায় থাকাকালে সুনাবিহি রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসুল, তার জন্য আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামকে হারাম করে দেবেন। [তিরমিজি-২৬৩৮] হযরত মুআজ ইবনে জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে এ সাক্ষ্য দিয়ে মারা গেল-আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। [ইবনে মাজাহ-৩৭৯৬] কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তায়ালা মানুষের সকল কাজকর্মের হিসাব নেবেন। এদিন আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবেন। প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুপারিশের দ্বার খুলে দেওয়ার পর অন্যান্য নবী-রাসুল, শহিদ, আলেম-হাফেজগণও সুপারিশ করবেন। আর সুপারিশ পাওয়ার যোগ্যতা হলো একনিষ্ঠ চিত্তে ঈমানের উপর অটল থাকা। হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আল্লাহর প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের জন্য কে অধিক সৌভাগ্যবান হবে? তখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আবু হুরায়রা! আমি মনে করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। কেননা আমি দেখেছি হাদিসের প্রতি তোমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে একনিষ্ট চিত্তে বলে- আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।
[সহীহ বুখারি-৯৯] ঈমানের পর ফরজ ইবাদত হলো সালাত, যাকাত, হজ ও রোজা। এ চারটি স্তম্ভ মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়মে পালন করে থাকেন। এই মৌলিক ইবাদতগুলোতেও দৃঢ়ভাবে আন্তরিকতার সাথে নিয়মিত পালন করার নির্দেশনা রয়েছে। যেমন, সালাতের ব্যাপারে রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি বা স্তম্ভ। যে সালাত কায়েম করেছে সে দ্বীনকে কায়েম করেছে। আর যে সালাত ছেড়ে দিয়েছে সে দ্বীনকে ধ্বংস করেছে। [বায়হাকী নং-২৫০৭] আলোচ্য হাদিসে সালাতের প্রতি ইস্তেকামত বা দৃঢ় থেকে নিয়মিত ভাবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। এমন নয় যে সালাত মাঝে মধ্যে আদায় করলে হয়ে যাবে। কারণ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে।
আর যারা এভাবে সালাতের উপর স্থির থাকে তারা আল্লাহর কাছে প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রশংসায় বলেন-যারা তাদের সালাত দায়িম তথা স্থির ধারাবাহিক থাকে। [সূরা মাআরিজ-২৩] আল্লাহর নবী হযরত দাউদ আলায়হিস্ সালাম একদিন পর একদিন রোজা পালন করতেন ধারাবাহিকভাবে। যা আল্লাহর দরবারে খুবই পছন্দনীয় ছিল। হজ ও উমরা একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই করতে হয়। হজ যদিও বা সামর্থবানদের উপর জীবনে একবার ফরজ তার পরও নফল হিসেবে বার বার পালন করার মধ্যে অত্যধিক ফযিলত নিহীত রয়েছে। রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমরা বার বার হজ ও উমরা করতে থাক, কেননা এ দুটি দরিদ্র ও গুনাহ এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যেভাবে হাপড় দূর করে লোহার ময়লা। [তিরমিজি-৮১০] ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ ও সৌভাগ্যবান সাহাবা, আহলে বায়েত বা নবির পরিবারবর্গ আল্লাহর প্রিয় রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা শুনতেন তার উপর নিয়মিত ভাবে আমল করতেন। যেমন, রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- যে ব্যক্তি দিনে রাতে বার রাকাত সুন্নাত সালাত আদায় করে, বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতের একটি ঘর নির্মাণ করবেন। হযরত উম্মে হাবিবা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উক্ত হাদিসটি শুনার পর থেকে কখনো উক্ত সুন্নাত সালাতগুলো পরিত্যাগ করিনি। (সহীহ মুসলিম)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, আমি যখনই কোনো হাদিস লিখেছি, তখনই সে অনুযায়ী আমল করেছি, আর্থাৎ হাদিসের শিক্ষার উপর দৃঢ় থেকে আমার জীবনকে সুন্নাতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসরণে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা চালিয়েছি।
অনুরূপভাবে ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারি রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, আমি যখনই জানতে পেরেছি গীবত করা হারাম, তখন থেকে আর করো কোনদিন গীবত করিনি। এটির নামই দীনের উপর অবিচল থাকা। বর্তমান সময়ে ইমানের উপর দৃঢ় বা অবিচল থাকা খুবই কঠিন। একমাত্র ধৈর্যের মাধ্যমেই এই নেয়ামত লাভ করা যায়। কারণ চর্তুদিকে এখন ফেতনার ছড়াছড়ি চলছে। এই সময়টার ব্যাপারে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোষণা দিয়েছেন- মানুষের উপর এমন একটা সময় আসবে, সে সময় দীনের উপর অবিচল ব্যক্তিকে ঔ ব্যক্তির মতো ধৈর্যশীল হতে হবে যার হাতে থাকবে জ্বলন্ত অঙ্গার। [তিরমিযি] সুতরাং দৈনন্দিন জীবনে সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ ও তার প্রিয় রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বিধি বিধান মেনে চলার মাধ্যমেই দ্বীনের উপর অবিচল থাকার নেয়ামত লাভ করা যাবে। প্রিয় নবীর সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের প্রারম্ভিক অবস্থায় চরম প্রতিকূল অবস্থাতেও দীনের উপর অবিচল ছিলেন। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় ষষ্টতম ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহন করেন হযরত খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু। তখন তাঁর উপর নেমে এসেছিল চরম নির্যাতন। তিনি নিজেই বলেন, মক্কার কুরাইশরা আমাকে জ্বলন্ত আঙ্গারের উপর চিৎ করে শুইয়ে দিয়েছিল এবং আমার বুকের উপর তাদের পা রাখত যাতে আমি নড়াচড়া করতে না পারি।
[তাবকাতে ইবনে সাদ, খ- ৩, পৃঃ- ১১৭] তিনি জাহেলিয়া যুগে কামারের কাজ কারতেন। লোহার তরবারি বানাতেন। একদিন কুরাইশ নেতা আস ইবনে ওয়ায়েলের জন্য একটি তরবারি বানানোর পরে মজুরি দাবি করলে সে বলে, আমি তোমাকে এক কড়িও দিবনা যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে অস্বীকার করছ। খাব্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বললেন, যদি তুমি মরেও যাও এবং মরার পর আবার জীবিত হও তবুও আমি ঐ নবীকে অস্বীকার করব না।
হাবশী বংশোদ্ভূত উমাইয়া ইবনে খলফের ক্রীতদাস ছিলেন হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু। দুপুরের উত্তপ্ত রোদে তাকে শুইয়ে রাখা হতো। নড়াচড়া করতে না পারার জন্য বুকের উপর চাপিয়ে দেওয়া হতো বিরাট পাথর। অসহনীয় কষ্টের মধ্যে ও তিনি যখন দীনের উপর অটল ছিলেন তখন উমাইয়া কষ্ট দেওয়ার জন্য নতুন পদ্ধতি বাছাই করে। সে গলায় রশি বেঁেধ দুষ্ট বালকদের হাতে তুলে দেন হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে। বালকরা তাকে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্থে টেনে হিচড়ে নিতে থাকে। আর তার মুখ দিয়ে শুধু বের হতো আহাদ, আহাদ (আল্লাহ এক, আল্লাহ এক)।
হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ও হামজা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ইসলাম গ্রহন করলে মক্কার কুরাইশদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। কুরাইশদের সকল গোত্র হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও বনু হাশিম গোত্রের সাথে সর্ম্পকে ছিন্ন করে এবং লেনদেন মেলামেশা বন্ধ করে দেন। মুসলমানরা বাধ্য হয়ে শে’বে আবু তালেবে আশ্রয় নেন। একাধিক ক্রমে প্রায় তিন বছর খুবই কষ্টের সাথে দিনযাপন করে মুসলমানরা। এমনকি ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্নার আওয়াজ আকাশ বাতাশ মুখরিত হতো। বড়রা ক্ষুধার যন্ত্রণায় বাবলা গাছের পাতা পর্যন্ত খেয়েছিল। হযরত সা’দ ইবনে আবু ওয়াককাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, আমি শে’বে আবু তালেবে ক্ষুর্ধাত ছিলাম। দৈবক্রমে রাতে আমার পা ভেজা কোন বস্তুর উপর পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে আমি তা জিহ্বায় রেখে গিলে ফেলতাম, এখনো পর্যন্ত জানিনা সেটি কী ছিল। এরকম ছিল দীনের উপর দৃঢ়তা। দুনিয়ার তাবৎ কষ্ট তাদেরকে আল্লাহ, তদীয় রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও দীনের পথ থেকে এক বিন্দু পরিমাণও নাড়াতে পারেনি। শত প্রতিবন্ধকতায়ও ঈমানী চেতনায় তারা উজ্জ¦ীবীত ছিলেন।
লেখক: সহকারী শিক্ষক ( ইসলাম শিক্ষা) চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল।