নবী-অলীর শরনাপন্ন হলে আল্লাহর পথের দিশা মিলবে

0

আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র উদ্যোগে শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলে বক্তারা-
নবী-অলীর শরনাপন্ন হলে আল্লাহর পথের দিশা মিলবে

আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুস্মরণ করে পবিত্র আশুরা ও আহলে বাইতে রসূল স্মরণে শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল ও গেয়ারভী শরীফ ট্রাস্ট’র সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ মোহাম্মদ মহসিন সাহেবের সভাপতিত্বে গত ৩০ আগস্ট বা’দে আছর হতে এশা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ষোলশহরস্থ আলমগীর খানকাহ্-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়য়্যবিয়া যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন- বৎসরান্তে ফিরে এসেছে নতুন হিজরী নববর্ষের (১৪৪২ হি.) মুহররম মাস। এ মাসেই ১০ মুহররম সংঘটিত হয়েছে বিশ্বের নিষ্ঠুর এক ভয়াবহ মমন্তুদ ঘটনা। ইরাকের কারবালা প্রান্তরে সপরিবারে শহীদ হন জান্নাতের যুবকদের সর্দার তাজেদারে মদীনা সরওয়ারে কায়েনাত হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র চোখের মনি অতি আদরের প্রিয়তম দৌহিত্র্য ইমামে আলী মাকাম সৈয়্যদুনা হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম। আল্লাহ্ জাল্লাশানুহুর মনোনীত প্রিয় নবীর প্রচারিত ধর্ম ইসলাম’র নীতি-আদর্শ ও মুল্যবোধকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে চির অম্লান রাখার জন্য ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু নিশ্চিত শাহাদত বরণের কথা জেনেও আল্লাহ্-রসূলের নির্দেশিত পথ ও মতের সঠিক রূপরেখা উন্নত রাখার মানসে সত্যের মুখোমুখি হতে ইতস্ততঃ করেননি। ভয় পাননি, নির্ভীক চিত্তে অন্যায়ের প্রতিবাদে কঠোর হয়েছেন, আহার-নিদ্রা ত্যাগ করে দুধের শিশুর পিপাসার্ত করুন রোদনেও তিনি সত্যের জন্য লড়াই করে যেতে পিছপা হননি। বিনম্র শ্রদ্ধায় আমরা তাঁর নিকট চিরঋণী, নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই। মহৎ আত্মদানে তিনি যেমন মহিমান্বিত হয়েছেন তেমনি আমরাও গৌরবান্বিত হয়েছি তাঁহার কারণে। তিনি আমাদের জন্য যে আদর্শ নীতি ও মূল্যবোধ রেখে গেছেন তা অনুসরণ করার মাঝেই আমাদের দায়ভার ও মুক্তি নিহিত রয়েছে। হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম’র নিকট থেকে আমরা শিক্ষা পেয়েছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, নিজেকে যে কোন ধরনের অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখা, প্রয়োজনে শির দেয়া তবুও মাথা নত নয়। অপর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যার কোন বিকল্প নেই তা হলো নামায। আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী ইমামুল আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র নিকট হতে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ বিধান ‘নামায’ কায়েম রাখা ও যে কোন অবস্থায় নামায আদায় করা আমাদের জন্য ফরয। ইমামে আলী মাকামের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তাকওয়া, সত্য সন্ধানী এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাকারী বীর শহীদের অনুসরণ, অনুকরণ এবং স্বীয় চরিত্রে প্রতিষ্ঠা করার মাঝেই আমাদের মুক্তি নিহিত।

আসুন আমরা শোহাদায়ে কারবালার স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে ইমাম হোসাইনের দেখানো পথে অভিযাত্রী হই, তাহলেই আমাদের হারানো গৌরব ফিরে পাব। আল্লাহ্ ও রসূলের রেজামন্দি হাসিল হবে। নবী-অলীর শরনাপন্ন হলে আল্লাহর পথের দিশা মিলবে। এখনই শুরু হোক মনস্ততাত্বিক যুদ্ধ। হে আল্লাহ্ আমাদের ক্ষমা করুন। হে ইমামে আলী মাকাম আমাদের ক্ষমা করুন, আগামী পথচলার সাহস দিন। অতীতের গ্লানি থেকে মুক্তি লাভ করে আমরা যেন নতুন পৃথিবী গড়তে পারি এ প্রার্থনা রইলো আল্লাহর নিকট। আল্লাহ্ আমাদের ইমামে আলী মাকামের প্রদর্শিত পথে অটল থাকার তাওফিক দিন। আমীন।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনজুমান ট্রাস্ট’র সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আলোচনায় অংশ নেন- ট্রাস্ট’র জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারী আলহাজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক, এ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল সেক্রেটারী আলহাজ গিয়াস উদ্দিন শাকের, কেন্দ্রীয় গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মোহাম্মদ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ অছিয়র রহমান, জামেয়া জামে মসজিদের খতিব আল্লামা আবুল আসাদ মুহাম্মদ জুবায়ের, মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আলকাদেরী, ক্বারী মুহাম্মদ ইব্রাহীম।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আনজুমান সদস্য মুহাম্মদ নূরুল আমিন, মুহাম্মদ কমরউদ্দিন সবুর, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর’র আহবায়ক মুহাম্মদ সেকান্দর মিয়া, সদস্য সচিব সাদেক হোসেন পাপ্পু, সাবেক সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আজাহারুল হক আজাদ, সাবেক অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ মনোয়ার হোসেন মুন্না, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলার অন্যান্য কর্মকর্তা-সদস্যবৃন্দ। মাহফিল শেষে সালাতুস্ সালাম, মোনাজাত ও তাবাররুক বিতরণ করা হয়। ওরস মোবারক উপলক্ষে খানকাহ্ শরীফে বাদে ফজর হতে খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া শরীফ, খতমে মজমুআহ্-এ সালাওয়াতে রাসূল (সা.), খতমে বোখারী শরীফ আদায় করা হয়।