দো’আ-মুনাজাত কবুল হওয়ার বিশেষ কোন সময় বা বরকতময় স্থান আছে কিনা? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

0

মুহাম্মদ রেজাউল হোসাইন জসিম
পূর্ববাকলিয়া, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: আমরা বহু দো’আ করি- যে কোন সময়ে কিন্তু কবুল হয় কিনা জানি না। দো’আ-মুনাজাত কবুল হওয়ার বিশেষ কোন সময় বা বরকতময় স্থান আছে কিনা? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর: পবিত্র ক্বোরআন মজিদে বর্ণিত রয়েছে- (اُدْعُوْلِىْ استجب لكم– سورة الغافر— ৩০) অর্থাৎ- তোমরা আমার কাছে দো’আ কর, আমি তোমাদের দো’আ কবুল করব। [আল-গাফির-৩০] 01. Moharram সংখ্যা ডাউনলোড করুন)
দো’আ হলো বান্দা ও আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সাথে উত্তম সেতুবন্ধন এবং তাঁর প্রিয় নৈকট্যবান বান্দাদের সদা পছন্দনীয় আমল। যা নবী-রসূলগণের সুন্নাত। দো’আ কবুল হওয়ার কিছু সময় ও স্থানের কথা হাদিসে পাকে উল্লেখ রয়েছে। যেমন- সেহরীর সময় তথা শেষ রাতে, রাতের ১ম ও তৃতীয়াংশে, এবং অর্ধরাত্রে, মাতাফ শরীফ, মুলতাযাম শরীফ, ও মকামে ইব্রাহীমে, বায়তুল্লাহর সামনে, ভিতরে, হাজরে আসওয়াদের নিকট, হাতীমে কা’বায়, রুকনে ইয়ামানীর নিকট, জমজম কুপের নিকট, মিজাবে রহমতের নিচে, দরূদ-সালামের পর, আউলিয়ায়ে কেরামের মজলিস, হুজরা-খানকাহ্ ও মাজার শরীফে, রমজান মাসে, জুমার দিন ও রাত হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামনির নিকট সাজদা অবস্থায়, ইফতারের সময়, ক্বোরআন তেলাওয়াতের পর, খতমে ক্বোরআনের পর, জমজম শরীফের পানি পান করার পর, ফরয নামাযের পর, আযান ও ইকামাতের মাঝখানের সময়ে, প্রতি বুধবার জোহর-আসরের মাঝখানে, মসজিদে যাওয়ার সময়, মিনায়, বিশেষত: হজ্বের ওকুফের সময়, কা’বায় দৃষ্টি পড়ার সময়, সাফা ও মারওয়ায় উক্ত পাহাড়দ্বয় সাঈ করার সময়, মসজিদে নববী শরীফে, বায়তুল মোকাদ্দাস শরীফে, মসজিদে নববীর রিয়াজুল জান্নাতে, হযরত সৈয়্যদুনা ইমাম মুসা কাজেম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর মাজার শরীফে, পীরানে পীর হযরত গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর মাজার শরীফে, হযরত মারূফ করখী, খাজায়ে খাজেগান গরীব নেওয়াজের মাজারে, ইমাম কাশানী হানাফী এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা ফকিহার মাজারে। অন্যান্য মকবুলে খোদা আউলিয়ায়ে কামেলীনের মাজার ও দরবারে। আযানের সময়, ইকামতের সময়, বৃষ্টি বর্ষণের সময়, আল্লাহ্-রসূলের জিকির/স্মরণের মজলিসে, মুসলিম মায়্যেতের নিকট, প্রত্যেক নামাযের পর, মুসলিম মুজাহিদ যখন জিহাদের ময়দানে কাতার বন্দি হয়, মসজিদে নববী, মসজিদে কুবায়, জিহাদের ময়দানে শত্রুদের তথা খোদাদ্রোহী ও নবী দ্রোহীদের বিরুদ্ধে তুমুল যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, ইমাম আযমের মাজার, জান্নাতুল বকি ও উহুদের কবরস্থানে, বিশেষত: প্রিয়নবীর রওজা শরীফে গুনাহ্ মাফ হওয়ার নিশ্চয়তা পবিত্র ক্বোরআনে বর্ণিত আছে। প্রিয়নবীর নূরানী চেহারার দিকে তথা মুওয়াজাহা শরীফে, মসজিদে নববী শরীফের মিম্বর, স্তম্ব সমূহে, মসজিদে কুবায়, মসজিদুল ফতহে, মসজিদুল গামামায়, হাদিসের আলোচনার মজলিসে, সূরা ইখলাস পাঠ করার পর, মসজিদে জুল কিবলাতাইনে, সহীহ বোখারী তেলাওয়াত বিশেষ করে বদরী সাহাবীদের নাম তেলাওয়াতের সময়, সূরা আন্ আম খতমের পর, মুযদালিফায়, জিলহজ্বের ১ম হতে ১০ম রজনীতে, নেহায়ত আগ্রহসহকারে ক্বোরআন তেলাওয়াত শ্রবণের পর, মোরগ যখন বাগদেয়, সূর্য অস্ত যাওয়ার সময়, ঈদগাহে তথা উম্মুক্ত ময়দানে, হজ্জের সময় জমরায় পাথর নিক্ষেপের পর, ঈমানদারের অন্তর যখন আল্লাহর ভয়ে নরম ও প্রকম্পিত হয়, তদুপরি শবে কদর, শবে বরাত, দু’ঈদের রাত ও দিন, রাত্রে ঘুম হতে জাগ্রত হলে।
মাহে রজবের প্রথম রাত, যে সমস্ত কূপ রাসূলে পাকের দিকে সম্পর্কিত, উহুদ পাহাড়ে, রাসূলে পাকের স্পর্শেধন্য বরকতমন্ডিত স্থানসমূহে, জুমার দিন আসরের পর মাগরিবের আগ পর্যন্ত, জুমার দিন ইমাম বা খতিব খোতবা প্রদানের জন্য মিম্বরে আরোহনের পর হতে জুমার ফরয নামাযের সালাম ফিরানো পর্যন্ত। অবশ্য রাব্বুল আলামীনের দরবারে ঈমানদারের দো’আ-মুনাজাত ও ইবাদত-বন্দেগী কবুল হওয়ার জন্য অন্যতমশর্ত হল আক্বিদা বিশুদ্ধ হওয়া এবং ইখলাস বা আন্তরিরকপূর্ণ হৃদয় হওয়া। এ বিষয়ে ইমাম আ’লা হযরত ফাজেলে বেরলভীর শ্রদ্ধেয় পিতা রঈসুল মুতাকাল্লেমীন হযরত আল্লামা নকি আলী খাঁন রাহমাতুল্লাহ্ িআলায়হি ‘আহসানুল ওয়া লিআদাবিদ্ দো’আ’ এবং উক্ত কিতাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ইমাম আ’লা হযরত শাহ্ আহমদ রেজা ফাজেলে বেরলভীর ‘‘জাঈলুল মুদ্দায়া লি আহসানিল অয়া’’-এ বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেছেন, সেখান হতে কিছু এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ্ জাল্লাশানুহু তাঁদের দরজাত বুলন্দ করুন এবং তাঁদের ফয়েজ-বরকত দানে আমাদেরকে ধন্য করুন। আ-মী-ন ইয়া রাব্বাল আলামীন বেহুরমতে সাইয়েলি মুরসালীন।