দরসে কোরআন

0

দরসে কোরআন
হাফেয কাজী আবদুল আলীম রিজভী
আল্লাহ্র নামে আরম্ভ, যিনি পরম দয়ালু, করুণাময়
وَإِن فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِّنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَآتُوا الَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَاجُهُم مِّثْلَ مَا أَنفَقُوا ۚ وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي أَنتُم بِهِ مُؤْمِنُونَ ﴿١١﴾ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰ أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّـهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ ۙ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّـهَ ۖ إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿١٢﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللَّـهُ عَلَيْهِمْ قَدْ يَئِسُوا مِنَ الْآخِرَةِ كَمَا يَئِسَ الْكُفَّارُ مِنْ أَصْحَابِ الْقُبُورِ ﴿١٣﴾
তরজমাঃ (মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন) এবং যদি মুসলমানদের হাত থেকে কিছু সংখ্যক নারী কাফিরদের দিকে (মুরতাদ্দা হয়ে) বের হয়ে যায়, অতঃপর তোমরা কাফিরদেরকে শাস্তি দাও, তবে যাদের স্ত্রীর চলে যাচ্ছিল তাদেরকে (গনিমতের মাল থেকে) তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমান অর্থ ব্যয় কর। এবং আল্লাহ্কে ভয় করো, যার উপর তোমাদের ঈমান আছে। হে নবী! যখন আপনার সম্মুখে মুমিন নারীনা উপস্থিত হয় বায়আত গ্রহণের জন্য এ মর্মে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকেও শরীক স্থির করবেনা, এবং না চুরি করবে, না ব্যভিচার করবে, না আপন সন্তানদেরকে হত্যা করবে এবং না তারা ওই অপবাদ আনয়ন করবে-যাকে আপন হস্ত ও পদযুগল সমূহের মধ্যখানে (অর্থাৎ প্রজনন স্থানে) রচনা করে রটাবে এবং কোন সৎ কর্মে আপনার অবাধ্যতা করবে না। তখন তাদের নিকট হতে বায়আত গ্রহণ করুন। এবং আল্লাহর নিকট তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াপরবশ। হে মুমিনগণ! ওই সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করো না, যাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ আপতিত। তারা পরকাল সম্বন্ধে নিরাশ হয়ে পড়েছে, যেভাবে কাফিরগণ নিরাশ হয়ে পড়েছে কবরবাসীদের থেকে। [সূরা আল-মুমতাহিনাহ্ ১১,১২ ও ১৩নং আয়াত] (প্রয়োজনে 01. Moharram সংখ্যা ডাউনলোড করুন)
আনুষঙ্গিক আলোচনা:
শানে নুযুল ঃ আল্লাহর পবিত্র বাণী الخ وَإِن فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِّنْ -এর শানে নুযুল বর্ণনায় মুফাচ্ছেরীনে কেরাম উল্লেখ করেছেন- সূরা “আল মুমতাহিনাহ্”-এর ১০ নং আয়াত অবতীর্ণ হলে মুসলমানগন নও মুসলিম নারীদের মহর তাদের স্বামীদের নিকট পাঠিয়ে দিলেন, কিন্তু কাফিরগণ মুরতাদ্বা নারীদের মহর মুসলমানদের পরিশোধ করলো না। তখনই আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ করতঃ ঘোষণা করা হলো যে, যে সব মুসলমান স্ত্রীগণ মুরতাদ্দা হয়ে মক্কা মুয়ায্যামায় চলে গেলো এবং মক্কার কাফিরগণ তাদের মহর ফেরৎ দিল না, সুতরাং এমতাবস্থায় যখনই কোন জিহাদে গনীমতের মাল হস্তগত হয় তখন তা থেকে ওই মুসলমান স্বামীদেরকে তাদের প্রদত্ত মহর দিয়ে দাও। অবশ্য এ বিধান পরবর্তীতে রহিত হয়ে যায়। [তাফসীরে নুরুল ইরফান শরীফ]
আল্লাহর পবিত্র বাণী يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَوَلَّوْا এর শানে নুযুল বর্ণনায় মুফাচ্ছেরীনে কেরাম উল্লেখ করেছেন কিছু সংখ্যক দরিদ্র ও অভাবী মুসলমান ইয়াহুদীগণের নিকট মুসলমানদের খবরাখবর পৌঁছাতো এ উদ্দেশ্যে-যাতে ইয়াহুদীরা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে নিজেদের বাগানের খেজুর ইত্যাদি ফলমূল তাদেরকে দান করে। মহান আল্লাহ তখনই এ আয়াত নাযিল করে এহেন আচরণকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেন। এ রেওয়ায়তের আলোকে প্রতীয়মান হয়। যে আয়াতে উল্লেখিত مغضوب عليهم তথা অভিশপ্ত সম্প্রদায় বলে ইয়াহুদীগণকে বুঝানো হয়েছে। [তাফসীরে জালালাইন ও আবিস্সাউদ] তাফসীরে ছাভী ও রুহুল বয়ান শরীফে বর্ণিত আছে যে, আলোচ্য ১৩ নং আয়াতে উল্লেখিত অভিশপ্ত সম্প্রদায় বলে সকল কাফেরকে বুঝানো হয়েছে। অতএব উপরোক্ত আয়াতের মর্মবাণীর আলোকে প্রমাণিত হয় যে, ইয়াহুদি, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সকল কাফির-মুশরিক ও বাতিল পন্থিদের সাথে মুসলমানদের অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ সুসম্পর্ক স্থাপন ও আচরণ করা সর্বাবস্থায় হারাম ও কুফরী।
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ الخ
তাফসীরে ছাভী, মাযহারী শরীফসহ বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে- উদ্ধৃত আয়াতখানা মক্কা বিজয়ের দিন অবতীর্ণ হয়। পবিত্র মক্কা মুকাররামা বিজয়ের দিন রাসূলে করীম রউফুর রহীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম পুরুষদের কাছ থেকে বায়আত গ্রহণ করে সাফা পর্বতের উপর নারীদের কাছ থেকে বায়আত গ্রহণ করেন। সাফা পর্বতের পাদদেশে দাঁড়িয়ে সায়্যেদুনা হযরত ওমর ফারুক্বে আযম রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের বায়আতের বাক্যসমূহ নীচে সমবেত মহিলাদের কাছে পৌছিয়ে দিতেন।
হযরত উমায়মাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন- আমি আরো কয়েকজন মহিলাসহ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। তিনি আমাদের কাছ থেকে শরিয়তের বিধি-বিধান পালনের অঙ্গীকার গ্রহণ করেন এবং সাথে সাথে এই বাক্যও উচ্চারণ করেন-فيما استطعتن اطقتن অর্থাৎ আমরা এসব বিষয় পালনের অঙ্গিকার করি যে পর্যন্ত আমাদের সাধ্যে কুলায়। হযরত উমায়মা আরো বলেন- এ বিষয় থেকে জানা গেল যে, আমাদের প্রতি রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর ¯েœহ-মমতা আমাদের নিজেদের চাইতেও বেশি ছিল। আমরাতো নিঃশর্ত বায়আতই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদেরকে শর্তযুক্ত বায়আত শিক্ষা দিলেন। ফলে অপারগ অবস্থায় বিরুদ্ধাচরণ হয়ে গেলে তা অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল হবেনা। (আলহামদুলিল্লাহ) [ছহীহ বুখারী ও মাযহারী শরীফ]
উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দীক্বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা মহিলা ছাহাবীদের কাছ থেকে বায়আত গ্রহণের স্বরূপ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বর্ণনা করেন-
والله ما مست يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امرأة قط غير أنه يبايعهن بالكلام
অর্থাৎ আল্লাহর কছম! রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের পবিত্রতম হাত মুবারক কখনো কোন বেগানা, গায়রে মুহরিম মহিলার হাত স্পর্শ করেনি বরং মহিলাদের এই বায়আত গ্রহণ কেবল কথোপকথনের মাধ্যমে হয়েছে। হাতের উপর হাত রেখে বায়আত সম্পন্ন হয়নি, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে হত।
[সহীহ বুখারী শরীফ ও তাফসীরে মাযহারী শরীফ]
আল্লাহর পবিত্র বাণী فَبَايِعْهُنَّ এর ব্যখ্যায় তাফসীরে আবিস্ সাউদ, তাফসীরে কবীর, রূহুল বায়ান এবং তাফসীরে জালালাইন শরীফে মুফাচ্ছেরীনে কেরাম উল্লেখ করেছেন-আল্লাহর নির্দেশ فَبَايِعْهُنَّ “অর্থাৎ ওহে রাসূল! আপনি মহিলাদের কাছ থেকে বায়আত গ্রহণ করুন।” এর বাস্তবায়নে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের নিকট থেকে বায়আত গ্রহণ করতেন এভাবে-আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামও মহিলাদের সম্মুখে একখানা কাপড় বিদ্যমান থাকত। যার এক প্রান্ত রাসূলের হাত মুবারকে এবং অপর প্রান্ত মহিলা ছাহবীগণের হাতে থাকত। অতঃপর বায়আতের বাক্য সমূহ পাঠের মাধ্যমে বায়আতের কার্যক্রম চূড়ান্ত হতো। (তাফসীরে কবীর, আবীস সাউদ, রূহুল বায়ান ও জালালাইন শরীফ)
“ উল্লেখ থাকে যে, বায়আতের উপরোক্ত বিশুদ্ধ, নির্ভর যোগ্য ও সুন্নাত সমৃদ্ধ পদ্ধতি-প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছিলছিলায়ে কাদেরিয়া আলীয়া ছিরিকোটিয়ার মাশায়েখ হযরাত বিশেষতঃ গাউছে যমান, কুতুবুল আউলিয়া, শায়খুল মাশায়েখ আলে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ ছিরিকোটি, গাউসে যমান, মুজাদ্দিদে দাওরান, বিশ^ বরেণ্য আরেফে কামেল, আলে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রহমাতুল্লাহি আলায়হিমা এবং বর্তমান হুজুর কেবলা গাউছে যমান, মুর্শেদে বরহক আলে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী সুদীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দি ব্যাপী পাক, ভারত, বার্মা ও বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশে^ ত্বরিকতের বায়আতের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। যা সর্বজন বিদিত, সমাদৃত ও প্রশংসিত বিশ^ব্যাপী।”
বায়আতের বিভিন্ন প্রকার প্রসঙ্গে
সূরা আল মুমতাহিনাহ এর ১২ নং আয়াত, সূরা আল-ফাত্হ এর ১০নং আয়াতসহ আরো অসংখ্য আয়াতে কুরআন, ছিহাহ সিত্তাহ সহ বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদীছ সংকলনের অগণিত রেওয়ায়ত এবং হযরাতে ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনে এজামের অণুসৃত আমলের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। অলীয়ে কামেল ও শায়খে তরীকতের হাতে বায়আত গ্রহণ করা ছুন্নাতে ছাহাবা ও সুন্নাতে তাবেয়ীন ও তাবয়ে তাবেয়ীন। যা বিগত প্রায় দেড় সহ¯্র বছর ব্যাপী সমগ্র মুসলিম জাহানে অনুসৃত হয়ে আসছে। শায়খে কামেলের হাতে কুরআন সুন্নাহ্ নির্দেশিত পন্থায় আল্লাহ্-রাসূলের আনুগত্যের এ বায়আত যেন ইস্পাত কঠিন শপথ, সুদৃঢ় অঙ্গীকার। এটা ইবাদত। একে অস্বীকার করা কিংবা এ প্রসঙ্গে বিরূপ মন্তব্য করা মূর্খতা ও গোমরাহীর নামান্তর।
বায়আতের প্রকারভেদঃ হযরাতে মুহাদ্দেসীন এবং মুফাচ্ছেরীনেকেরাম হাদীছের ব্যাখ্যা গ্রন্থ সমূহে বায়আতের বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা করেছেন। নি¤েœ এর সার-সংক্ষেপ পাঠকদের খেদমতে উল্লেখ করা হল।
প্রথমত ঃ বায়আত আলাল ঈমান ওয়াল ইসলাম
আরববাসীরা আল্লাহর প্রিয়তম রাসূলের খেদমতে আগমন করে ইসলামের সত্যতা স্বীকার করে ঈমান গ্রহণ করে বায়আত গ্রহণ করতেন এ বলে- আমরা এখন থেকে আল্লাহ-রাসূলের আনুগত্য করার ও আল্লাহর সঙ্গে কোন মাখলুক কে অংশীদার সাব্যস্ত না করার অঙ্গীকার করলাম। এটাকে মুহাদ্দেসীনে কেরাম বায়আত আলাল ঈমান ওয়াল ইসলাম বলে নামকরণ করেছেন।
দ্বিতীয়ত ঃ বায়আত আলাল জিহাদ
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধে রওয়ানা হবার পূর্বে নির্বাচিত মুজাহেদীনের নিকট থেকে বায়আত গ্রহণ করতেন এ বলে-আমরা কোন অবস্থায় যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করবোনা যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক। আমরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দ্বীনের ঝান্ডা বুলন্দ করার জন্য জিহাদ করবো। এটিই হল বায়আত আলাল জিহাদ।
তৃতীয়ত ঃ বায়আত আলাল খেলাফত
খোলাফায়ে রাশেদ্বীন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আমীরুল মুমেনীন হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ছাহাবায়ে কেরাম-এর নিকট হতে আনুগত্যের শপথ তথা বায়আত গ্রহণ করেছেন। ইসলামের ইতিহাসে এটা বায়আত আলাল খেলাফত নামে পরিচিত।
চতুর্থত ঃ বায়আত আলাল খায়র ওয়াত তাওবাহ
হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বিভিন্ন সময়ে দলবদ্ধ হয়ে আল্লাহর নবীর দরবারে আগমন করে বিভিন্ন বিষয়ে হেদায়ত প্রার্থনা করতেন। অতঃপর তা গ্রহণ করে নিজেদের জীবনে কার্যকর করার শপথ গ্রহণ করতেন। এটাই ইসলামের ইতিহাসে বায়আত আলাল খায়র ওয়াত তাওবাহ নামে খ্যাত।
এই চতুর্থ প্রকারের বায়আত আলাল খায়র ওয়াত তাওবাহ্-ই যা ছাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত হযরাতে তাবেয়ীনের যুগ হতে অদ্যাবধি ছুফিয়ায়ে কেরাম ও ছালেহীন শায়খে কামেলের হাতে বায়আত গ্রহণের নামে সমগ্র মুসলিম জাহানে জারী রেখেছেন। সুতরাং বাংলাদেশ, ভারত-পাকিস্তানসহ বিশে^র দেশে দেশে মুসলিম মিল্লাতের মধ্যে প্রচলিত ও সমাদৃত পীর-মুরিদী, তাছাউফ ও তরীকত চর্চা কুরআন-সুন্নাহ সম্মত বরহক, ঐতিহাসিক ভাবে প্রমানিত ও প্রতিষ্ঠিত সত্য। (অবশ্য এ ক্ষেত্রে পীর ও মুরীদের মধ্যে যেসব পূর্বশর্ত থাকা দরকার তা ‘ইরশাদাতে আ’লা হযরত ও ‘আল ক্বওলুল জমীল’, কৃত ওলী আল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেওহলভী ইত্যাদিতে দ্রষ্ঠব্য) আল্লাহ রব্বুল আলামীন সকল মুমিন নর-নারীদের কে আমল করার সৌভাগ্য নসীব করুন। আমীন