আওলাদে রসূল, আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.) ছিলেন মুসলিম মিল্লাতের মহান পথপ্রদর্শক ও দ্বীনের অনন্য সংস্কারক

0

ষোলশহর আলমগীর খানকাহ শরীফে ২৮ তম সালানা ওরস মোবারক মাহফিলে বক্তারা-
আওলাদে রসূল, গাউসে জমান, হাফেফ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রা.) ছিলেন মুসলিম মিল্লাতের
মহান পথপ্রদর্শক ও দ্বীনের অনন্য সংস্কারক

আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত আওলাদে রাসূল গাউসে জমান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)’র ২৮ তম সালানা ওরস মোবারক মাহফিলে বক্তারা বলেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরিয়ত ও তরিকত আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) মুসলমানদের ক্বোরআন-সুন্নাহর আলোকে শরীয়ত ও তরিকতের সমন্বয়ে জীবন গঠনের পথ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন রাসূল আদর্শের বাস্তব প্রতিচ্ছবি-মুসলিম মিল্লাতের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা, দ্বীন ইসলামের অনন্য সংস্কারক ব্যক্তিত্ব। বিশ্ব মুসলিমের ক্রান্তিকালে বহুমুখি ফিত্নার এ সময়ে হযরত তৈয়্যব শাহ (রহ.)’র আধ্যাত্মিক পথ নির্দেশনা মুসলমানদের ঈমান আকিদা রক্ষায় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে। শাহানশাহে সিরিকোটি (রা.) এর প্রতিষ্ঠিত এশিয়া বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার আদলে রাজধানী ঢাকায় কাদেরিয়া তৈয়বিয়া কামিল মাদরাসা, চন্দ্রঘোনা তৈয়্যবিয়া অদুদীয়া ফাজিল মাদরাসা, মাদ্রাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদরাসাসহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, খানকা প্রতিষ্ঠা, জস্নে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী প্রবর্তনসহ অসংখ্য সংস্কারমূলক কর্মসূচী দিশেহারা মানবতাকে খোদাভীরু ও তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত করে ইনসানে কামিলে পরিণত করেন। বিশেষতঃ তাঁর প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্ববৃহৎ আধ্যাত্মিক সংগঠন গাউসিয়া কমিটি আজ দেশে বিদেশে দিকভ্রান্ত তরুণ-যুবকদের ইসলামের সঠিক পথ ও মতে ঐক্যবদ্ধ করছে। গাউসিয়া কমিটির নিবেদিত কর্মীগণ বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফন-কাফন ও রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে জাতির চরম দুঃসময়ে একনিষ্ঠ সেবকের ভূমিকা পালন করছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকা তরজুমান-এ আহলে সুন্নাত ক্বোরআন-সুন্নাহ্’র সঠিক মতাদর্শ প্রচার প্রসারের মাধ্যমে মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা ও আমলের পরিশুদ্ধি সাধনে দিশারি হিসেবে কাজ করছে। বক্তারা এ মহান অলিয়ে কামিলের জীবন দর্শন অনুসরণ ও তাঁর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা শরীফে আনজুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ মুহাম্মদ মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্জুমান ট্রাস্ট’র সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আলোচনায় অংশ নেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত বাংলাদেশ এর কো-চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফি, আনজুমানের এডিশনাল সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ মুহাম্মদ সামশুদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ সিরাজুল হক, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আলহাজ এস.এম. গিয়াস উদ্দিন শাকের, প্রেস এ- পাবলিকেশন সেক্রেটারি অধ্যাপক কাজী শামসুর রহমান, জামেয়ার চেয়ারম্যান আলহাজ মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, জামেয়া আহমদিয়া সন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ অছিয়র রহমান আলকাদেরি, আন্জুমান রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা এম.এ. মান্নান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আবদুল অদুদ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার প্রধান ফকিহ্ আল্লামা কাজী মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ, শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফেজ সোলায়মান আনসারী, মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আলকাদেরী, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভী, অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আযহারী, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, মহাসচিব শাহজাদ ইবনে দিদার, যুগ্ন মহাসচিব এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, মাওলানা গোলাম মোস্তফা মুহাম্মদ নুরুন্নবী ও হাফেজ মাওলানা আনিসুজ্জমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জামেয়া আহমদিয়া সন্নিয়া আলিয়ার উপাধ্যক্ষ আল্লামা ড. লিয়াকত আলী, ডা.খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সি.সহকারী শিক্ষক মাওলানা আবদুল মান্নান, গাউসিয়া কমিটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি কমর উদ্দিন সবুর, চট্টগ্রাম মহানগর সদস্য সচিব সাদেক হোসেন পাপ্পু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মাস্টার। মাহফিল শেষে সালাতুস্ সালাম ও মোনাজাত ও তাবারুক বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, ওরস মোবারক মাহফিলে একজন সনাতনধর্মী পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ওরস মোবারক উপলক্ষে খানকা শরীফে বাদে ফজর হতে খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া শরীফ, খতমে মজমুআহ্-এ সালাওয়াতে রাসূল, খতমে বোখারী শরীফ আদায় করা হয়।