মৃত ব্যক্তির গোসল কাফন, জানাযা ও দাফনের বিধান

0

মৃত ব্যক্তির গোসল কাফন, জানাযা ও দাফনের বিধান-
অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি >

عن ابى عن عبد الله بن عباس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من رجل يموت فيقوم على جنازوته اربعون رجلا لايشركون بالله شيئًا اِلَّا شفعهم الله فيه-(رواه مسلم)

অনুবাদ: হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যদি কোন মুসলিম মৃত্যু বরণ করে আর তার জানাযায় চল্লিশজন এমন লোক উপস্থিত হয় যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না আল্লাহ্ মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।[মুসলিম শরীফ]

প্রাসঙ্গিক আলোচনা
জানাযা অর্থ: জানাযা শব্দটি আরবী, অর্থ খাট বা খাটিয়া, খাটিয়ার উপর রক্ষিত লাশ বা মৃতদেহ। শরয়ী পরিভাষায় কোন মুসলমান মৃত্যু বরণ করলে তার মাগফিরাত কামনায় মুসলমানগণ দো’আ সম্বলিত রুকু সাজদা বিহীন যে বিশেষ নামায আদায় করে থাকে তাকে সালাতুল জানাযা বলা হয়।

পবিত্র আল ক্বোরআনে জানাযার বিধান
জানাযার বিধান সম্পর্কে পবিত্র ক্বোরআনে এরশাদ হয়েছে-صل عليهم ان صلاتك سكن لهم-
অর্থ: হে নবী! আপনি তাদের (মুমিনদের) উদ্দেশ্যে জানাযা নামায পড়–ন নিশ্চয়ই আপনার নামায তাদের জন্য শান্তির কারণ। [সূরা তাওবা, আয়াত: ১০৩]

হাদীস শরীফের আলোকে জানাযার গুরুত্ব
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন–صلّوا على كل برّ وفاجرٍ
অর্থ: তোমরা প্রত্যেক নেক্কার ও গোনাহগার লোকের জানাযা নামায পড়। [হাশিয়াতুত্ তাহাবী আ‘লা মারাকিউল ফালাহ, খন্ড-১, পৃষ্ঠা ৩৮২] মৃত ব্যক্তির গোসল দেওয়া, কাফন পরিধান করা, জানাযা পড়া, কবরে দাফন করা প্রতিটি কাজ ফরযে কিফায়াহ্ যেমন কয়েকজন মিলে গোসল দিলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। [আলমগীরি] কাফন পরানোর দায়িত্ব কেউ পালন না করলে সকলে গুনাহ্গার হবে। একজনও যদি আদায় করে সকলে দায়মুক্ত হবে। জানাযার পর মৃত ব্যক্তিকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করবে। [দুররুল মোহতার] মৃত্যু পরবর্তী বর্ণিত কাজগুলো মৃত ব্যক্তির অধিকার। তাকে এই হক থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। বর্তমানে করোনা মহামারীর এই ভয়াবহ ক্রান্তিকালে বিভিন্ন পর্যায়ে একান্ত আপনজনও সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে না যা মোটেই কাম্য নয়। অথচ এহেন পরিস্থিতিতে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করত: ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে সুরক্ষানীতি অনুসরণ করে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যতœসহকারে এ কাজগুলো সম্পন্ন করবে। প্রয়োজনে শরীরে সুরক্ষা পোষাক ব্যবহার করবে। একথা অনস্বীকার্য ইসলামে জীবিত মানুষকে সম্মান করা যেভাবে অপরিহার্য,
মৃতদের প্রতি সম্মান করাও তেমনিভাবে কর্তব্য। ইসলামী শরীয়ায় মৃত ব্যক্তিকে পোড়ানো বা জ্বালিয়ে ফেলা মোটেই অনুমোদিত নয়। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের গবেষণায়ও এটা প্রমাণিত যে, করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর পর তিন থেকে চার ঘন্টার বেশী ভাইরাস কর্মক্ষম থাকে না। সুতরাং করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফনে-কাফনে আমরা যেন অবহেলা না করি।

মৃত ব্যক্তির গোসলের বর্ণনা
মৃত ব্যক্তিকে গোসলের নির্দেশনা সম্পর্কিত অসংখ্য হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে। এরশাদ হয়েছে-
عن امّ عطية رضى الله عنها قالت دخل عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم وفحن تغسل ابنته فقال اغسلنها ثلاثا اوخمسًا اواكثر من ذالك مماء مسدر واجعلن فى الاخرة- (فقه السنن والاثار)
অর্থ: হযরত উম্মে আতিয়াহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামার কন্যার মৃতদেহ গোসল করাচ্ছিলাম সে সময় তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এবং বলেন, তোমরা তাকে তিনবার বা পাঁচবার বা তারও বেশি গোসল করাবে। পানি ও বরই গাছের পাতা দিয়ে গোসল করাবে। শেষবারে কর্পূর ব্যবহার করবে। [ফিকাহুস সুনানি ওয়াল আছার]

গোসলের ক্ষেত্রে করণীয়
মৃত ব্যক্তিকে তক্তা বা চৌকির উপর শুইয়ে একটি কাপড় দ্বারা নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত ঢেকে দিবে। শরীরের কাপড় সমূহ খুলে নিবে। গোসলদানের স্থানটি পর্দা করে নিবে। গোসল দাতা নিজ হাতে কাপড় জড়ায়ে প্রথমে শৌচ ক্রিয়া সম্পাদন করবে। এরপর মৃতকে নামাযের ওযুর মত ওযু করাবে। প্রথমে মুখ এরপর কনুইসহ হাত ধুইয়ে দিবে অতঃপর মাথা মছেহ করাবে অতঃপর পা ধুইয়ে দিবে। তবে কুলি করা ও নাকে পানি দিতে হবে না। তবে কাপড় বা রুই দিয়ে দাঁত, মাঁড়ি, ঠোঠ ও নাকের ছিদ্র মুছে দিবে। অতঃপর চুল ও দাড়ি গোলাপজল ও পবিত্র সাবান দ্বারা ধুয়ে দিবে। অতঃপর মাথা থেকে পা পর্যন্ত কুল পাতার সিদ্ধ পানি ঢেলে দেবে। হালকাভাবে পেট চাপ দিতে থাকবে। কিছু বের হলে ধুয়ে পরিস্কার করে নিবে। সরা শরীরে কর্পূরের পানি ঢেলে দেবে।
পবিত্র কাপড় দ্বারা সম্পূর্ণ শরীর মুছে দিবে। সম্পূর্ণ শরীরে একবার পানি প্রবাহিত করা ফরয। তিনবার করা সুন্নাত। কর্পূর মিশ্রিত করে গোসল দেয়া সুন্নাত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যা যায়নাবের শেষ গোসলে কর্পূর মিশ্রিত করতে দির্দেশ দিয়েছিলেন। [বুখারী ও মুসলিম] মৃত ব্যক্তিকে নিকটতম আত্মীয় গোসল দেয়া উত্তম। অন্যথায় বিশ্বস্ত পরহেজগার ব্যক্তি গোসল করাবে।[আলমগীরি] গোসলদাতা পারিশ্রমিক নিতে পারবে। তবে না নেওয়াই উত্তম। [দুররুল মোখতার] পুরুষ পুরুষকে গোসল করাবে, মহিলা মহিলাকে গোসল করাবে। মৃত ব্যক্তি অত্যন্ত বয়স্ক হলে পুরুষ বা মহিলা উভয়ে গোসল করাতে পারবে। স্ত্রী মারা গেলে স্বামী তাকে গোসল দিতে পারবে না। স্পর্শ করতে পারবে না। তবে দেখা নিষেধ নহে। [দুররুল মোখতার] মৃত ব্যক্তির দাড়ি বা মাথার চুল আচড়ানো বা নখ কাটা, অন্য কোন স্থানের পশম মুন্ডানো, আচড়ানো, উপড়ানো নাজায়েয ও মাকরূহে তাহরীমি।
[দুররুল মোখতার, আলমগীরি]

কাফন’র বর্ণনা
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য হাদীস শরীফে মৃত ব্যক্তির কাফন পরানো সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে-
عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم البسوا من ثيابكم البياض فانّها من خير ثيابكم وكفّنو فيها موتاكم- (رواه احمد وابوداؤد)
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা সাদা পোষাক পরিধান করবে। সাদা পোষাক তোমাদের সর্বোত্তম পোষাকের মধ্যে অন্যতম। এবং তোমরা তোমাদের মৃতদের সাদা কাপড়ে কাফন প্রদান করবে।
[আহমদ ও আবূ দাউদ] গোসল দেয়া ও কাফন পরানো ব্যাতীত জানাযা পড়া বৈধ নয়। ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি’র মতানুসারে পুরুষের জন্য তিনটি কাপড় দেয়া সুন্নাত। ১. ইযার (মাথা হতে পা পর্যন্ত), ২. লেফাফা বা চাদর, ৩. কামীস বা কোর্তা গলা হতে পায়ের গিরা পর্যন্ত। স্ত্রীলোকের জন্য কাফনে সুন্নাত হচ্ছে পাঁচটি। বর্ণিত তিনটি ছাড়াও আরো দুটি। ৪. সেরবন্ধ (উড়ানা) তিনহাত লম্বা, ৫. সীনাবন্ধ (বগলের নীচ হতে রান পর্যন্ত) পুরুষের জন্য সোয়াগজ বা দেড়গজ বহরের হলে ৭/৮গজ। মহিলার জন্য ৯/১০ গজ হলে হয়ে যাবে। তবে একটু বেশী নিলে ভাল। বালক-বালিকাদের জন্য তদানুপাতে নিতে হবে।

কাফন পরিধানের নিয়ম
প্রথমে লেফাফা, বড় চাদর তারপর ইযার অতঃপর কামীস বা কোর্তা বিচাবে। অতঃপর মৃতব্যক্তিকে ওটার ওপর শোয়াবে, কাফনকে একবার, তিনবার, পাঁচবার, সাতবার, এগারবার, লোবান ইত্যাদি দ্বারা ধোঁয়া দিবে। দাড়ি ও সমস্ত শরীরে সুগন্ধি লাগাবে। সাজদার অঙ্গসমূহ অর্থাৎ মস্তক, নাক, হাত, হাটু ও পায়ে কর্পূর লাগাবে। তারপর মৃতকে কাফনের উপর রেখে প্রথমে কোর্তা গলার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করাবে। ইযার দ্বারা প্রথমে বাম পাশ অতঃপর ডান পাশ ঢেকে দিবে। অতঃপর লেফাফা দ্বারা ঢেকে দিবে। কাপড়ের চিকন আঁচল বা মোটা সুতা দ্বারা মাথা ও পায়ের দিক ও মাঝখানে গিরা দিয়ে বন্ধ করে দিবে।

মহিলার কাফন পরানোর পদ্ধতি
প্রথমে বিছাতে হবে চাদর এরপর কামীস (জামা) পরিয়ে মৃতের চুল দু’ভাগ করে ডান ও বামে জামার উপর রেখে দিতে হবে। এরপর না বেঁধে সেরবন্ধ মাথায় উড়ে দিয়ে মুখের উপর রাখতে হবে। তারপর মৃতকে ইযারের উপর শুইয়ে দিতে হবে। ইযার এমনভাবে পরাতে হবে যেন ডান পাশ বাম পাশের উপর পড়ে। অনুরূপভাবে সীনাবন্ধ ও চাদর জড়াতে হবে। মাথা কোমর ও পা কাপড় বা সুতার ফিতা দিয়ে বেঁধে নিবে। যেন কাফন খুলে না যায়। মৃত ব্যক্তিকে কবরে শোয়ানোর পর বাঁধন খুলে দিতে হবে। নতুন হোক পুরাতন হোক সাদা কাফন পরানো উত্তম।
[ফিকহর কিতাব সমূহ]

লাশ বহন করা
মৃত ব্যক্তিকে চারজনে বহন করা সুন্নাত। নিকটাত্মীয়রাই বহন করা উত্তম। অতিরিক্ত লোকজন পেছনে হাটবে।
জানাযা নামায
জানাযা নামায ফরযে কিফায়াহ্, কেউ আদায় না করলে গ্রামের বা মহল্লার সকলেই গুনাহগার হবে। কিছু সংখ্যক লোক আদায় করলেও ফরয আদায় হয়ে যাবে।
জানাযার ফরয: জানাযার ফরয দু’টি- ১. চারবার আল্লাহু আকবর বলা, ২. দাঁড়িয়ে জানাযার নামায পড়া। ওজর ব্যতীত বসে পড়া জায়েয নেই। জানাযার সুন্নাত তিনটি- ১. প্রথম তাকবীরের পর সানা পড়া, ২. দ্বিতীয় তাকবীরের পর দরূদ শরীফ পড়া, ৩. তৃতীয় তাকবীরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দো’আ করা।

জানাযায় অংশ গ্রহণের সওয়াব
عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من شهد الجنازة حتى يصلى عليه فله قيراط ومن شهد حتى يدفن كان له قيراطان قيل وما القيراطان قال مثل الجبلين العظيمين- (رواه البخارى)
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জানাযায় উপস্থিত হয়ে জানাযা পড়বে সে এক ক্বিরাত সওয়াব পাবে। যে ব্যক্তি নামায পড়ে দাফন পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দু’ক্বিরাত সওয়াব রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো, দু’ক্বিরাত কি? নবীজি বললেন, দু’টি বড় পর্বত সমতুল্য সওয়াব।[বুখারী শরীফ: ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৭৭, উমদাতুল ক্বারী: ৮খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৯] জানাযা তিন কাতার করা সুন্নাত। বেশী করতে নিষেধ নেই। কাতার বিজোড় হওয়া উচিত। মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে ক্বিবলামুখী হয়ে বক্ষ বরাবর ইমাম দাড়াবেন। জানাযার নিয়ত করে কান পর্যন্ত আল্লাহু আকবর বলে হাত উঠিয়ে যথারীতি হাত নামিয়ে নাভীর নীচে হাত বেঁধে নিবে। কেবল প্রথম তাকবীরে হাত উঠাতে হবে। বাকী তাকবীরের সময় হাত উঠাতে হবে না। চতুর্থ তাকবীর বলার সাথে সাথে হাত খুলে নিবে ও সালাম ফিরাবে।

জানাযার পর দো’আ
জানাযার পর মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত কামনায় দো’আ মুনাজাত করা অসংখ্য হাদীস ও ফোকাহায়ে কেরামের বর্ণনার আলোকে প্রমাণিত। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-
عن ابى هريرة رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله وسلم يقول اذا صلّيتم على الميت فاخلصوا له الدعاء- (رواه ابوداؤد)
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযা নামায পড়বে তখন সাথে সাথেই তার জন্য খাস দো‘আ কর। [ইবনে মাযাহ্ হা/১৪৯৭, আবু দাঊদ হা/৩১৯৯] তাহত্বাবী শরীফে উল্লেখ রয়েছে-وان ابا حنيفة لما مات فختم عليه سبعون الفا قبل الدفن- (طحطاوى شريف)
অর্থ: হযরত ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি যখন ইন্তেকাল করেন, তখন দাফনের আগে তার জন্য সত্তর হাজার বার ক্বোরআন শরীফ খতম করা হয়।
[তাহত্বাবী শরীফ]

দাফন ও কবর’র বর্ণনা
মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা ফরজে কিফায়াহ্। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-
عن هشام بن عامر رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احفرُوا واعمقوا واحسنوا- (رواه احمد)
অর্থ: হযরত হিশাম ইবন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা কবর খনন কর, গভীর কর, এবং সুন্দর কর। [আহমদ] মাসায়েল: মৃত ব্যক্তিকে মাটির উপরে রেখে চারদিকে দেয়াল স্থাপন করা জায়েয নেই। কবরকে গভীর, প্রশস্থ ও সুন্দর করা ওয়াজিব। [আলমগীরি, রদ্দুল মোখতার] দাফনের সময় মেয়ে লোকের কবরের উপর পর্দা রাখতে হবে। লাশ কবরে রাখার সময় ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ্’ বলা সুন্নাত। মৃত ব্যক্তিকে খাটে বা সিন্ধুকে রেখে দাফন করা মাকরূহ। তবে মাটি অধিক নরম হলে তখন ক্ষতি নেই। [বাহারে শরীয়ত ৪র্থ খন্ড] কবরে দুই তিনজন প্রয়োজনে অবতরণ করা যাবে। তবে অবতরণকারী লোক শক্তিশালী, পরহেজগার ও আমানতদার হওয়া বাঞ্চনীয়।
মহিলার লাশ অবতরণকারীগণ মুহরিম হতে হবে। মুহরিম না থাকলে পরহেজগার লোক অবতরণ করবে। [আলমগীরি] দাফন করার পর বের করে অন্যত্র দাফন করা জায়েয নেই। [বাহারে শরীয়ত] কবরের উপর চলাচল করা, বসা, পায়খানা-প্র¯্রাব করা, নতুবা রাস্তা নির্মাণ করা জায়েয নেই। [দুররুল মোখতার] কবরস্থানে জুতা পরিধান করা যাবে না। [বাহারে শরীয়ত] মৃতকে কবরে রেখে ডান দিকে ক্বিবলামুখী করে দেয়া সুন্নাত। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-الكعبة قبلتكم احياءً وامواتا- (رواه ابوداؤد)
জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় বায়তুল্লাহ্ তোমাদের ক্বিবলা। [আবু দাউদ] কবর পাড়ে ক্বোরআন পড়ার জন্য হাফেজ নিযুক্ত করা জায়েয। [বাহারে শরীয়ত] কবরে মাথার দিক থেকে মাটি দেয়া মুস্তাহাব। কবর সমতল করবে না উটের পিটের মত ঢালু রাখবে। মাটি দেয়ার পর পানি ছিটানো মুস্তাহাব। দাফনের পর কবরের পার্শ্বে সূরা বাক্বারার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া মুস্তাহাব, দাফনের পর মুর্দাকে তালকীন করা সুন্নাত। [বাহারে শরীয়ত] দাফনের পর কবরে আযান দেওয়া মুস্তাহাব। এ সংক্রান্ত আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘‘ঈযানুল আজর ফী হুকমী খাযানিল কবর’’ নামক প্রামাণ্য কিতাব রচনা করেন। কবর যিয়ারত করা সুন্নাত, অসংখ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক নসীব করুন।