অন্য পীরের মুরীদ কাদেরীয়া ত্বরীকায় নতুনভাবে মুরিদ হতে পারবেন কিনা?

0

হাফেজ মুহাম্মদ মিজান-
ছাত্র: জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: অন্য পীরের মুরীদ কাদেরীয়া ত্বরীকায় নতুনভাবে মুরিদ হতে পারবেন কিনা? অন্যান্যরা বলেন যে, এক পীরের বাইয়াত হলে অন্য পীরের নিকট বাইয়াত হওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে সঠিক ফায়সালা প্রত্যাশা করি।
উত্তর: একজন হক্কানী কামিল পীরে তরীক্বতের কাছে সর্বনি¤œ (৪) চারটি শর্ত থাকা আবশ্যক। যথা ১. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআতের অনুসারী হওয়া, ২. কিতাব থেকে প্রয়োজনীয় ও জরুরি মাসআলা সমূহ বের করার মত ইলম বা জ্ঞান রাখা, ৩. প্রকাশ্য ফাসেক না হওয়া, ৪. প্রিয়নবী রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তরীক্বতের শাজরা ও সিলসিলার ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা। এ চতুষ্টয় শর্তের ধারক-বাহক হক্কানী সুন্নী পীরের হাতে ঈমান ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য বাইয়াত গ্রহণ করা সুন্নাত। যোগ্য পীরের হাতে বাইয়াত হয়ে থাকলে- নতুনভাবে অন্য পীরের হাতে ‘বাইয়াত ইরাদত’ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ইমাম আবদুল ওয়াহাব শারানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘মিজানু শরীয়াতুল কুবরা’ শরীফে উল্লেখ করেন-
سمعت سيدى عليا الخواص يقول امر علماء الشريعة الطالب بالتزام مذهب معين وعلماء الحقيقة المريد بالتزام شيخ واحد-
অর্থাৎ- আমি আমার শিক্ষাগুরু আলী খাওয়াজ রাহমাতুল্লাহি আলায়হিকে বলতে শুনেছি যে, শরীয়তের আলেমগণ ছাত্র ও মুরিদ তথা অনুসারীগণকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, মাযহাব চতুষ্টয়ের যে কোন একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসরণকে যেন নিজের উপর অপরিহার্য করে নেয় আর বাতেনী আলেগমণ তাদের মুরিদগণকে বলেছেন যেন এজন কামিল পীরকেই অপরিহার্য করে নেয়। অবশ্যই পীরের মধ্যে সাধারণ শর্ত চতুষ্টয় পাওয়া না গেলে অথবা তাঁর ইন্তিকাল বা তাঁর সাথে জাহেরী সাক্ষাতের সম্ভাবনা না থাকলে তখন অন্য হক্কানী পীরের হাতে বায়আত হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই। এ প্রসঙ্গে হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর গ্রন্থে বলেন-
ان تكرار البيعة من رسول الله صلى الله عليه وسلم مائور وكذالك عن الصوفيه امامن الشخصين فان كان بظهور خلل فى مَنْ بايعه فلا بأس وكذالك بعد موته او غيبته المنقطعة واما بلاعذر فانه يشبهُ المتلاعب ويذهب بالبركة ويصرف قلوب الشيوخ عن تعهده والله اعلم-
অর্থাৎ- বায়আতের পুনরাবৃত্তি করা রসূলে পাক সাল্লাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। তেমনিভাবে সুফিয়ায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত। পীর হতে কোন ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার দরুণ বা তার ইন্তিকালের পর বা জীবনে তার সাথে সাক্ষাৎ লাভ করা অসম্ভব হলে ইত্যাদি কারণে অন্য কামিল পীরের হাতে বায়আত হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই। অবশ্যই কোন কারণ ব্যতীত অন্য পীরের হাতে পুনরায় বাইয়াত হওয়া খেল-তামাশার নামান্তর। এতে বরকত হাত শূন্য হয়ে যায় এবং এতে মুরিশদ বা পীরগণের আত্মা মুরিদকে শিক্ষা-দীক্ষা দিতে জিম্মাদারী গ্রহণ থেকে ফিরে যায়। পীরের রূহানী ফয়েজ থেকে বঞ্চিত হয়।
[আল্ ক্বউলুল জামীল কৃত: হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, পৃষ্ঠা-৩০-৩১] এ প্রসঙ্গে আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত শাহ্ ইমাম আহমদ রেযা খান মুহাদ্দিসে বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ইরশাদ করেন-
تبديل بيعت بلاوجه شرعى ممنوع هے اور تجديد جائر بلكه مستحب هے سلسلة عاليه قادريه ميں نه هو اور اپےد شيخ سے بغير انحراف كئے اس سلسلة عاليه ميں بيعت كر اس سلسلة اعلى كى طرف راجع هيں- (الملفوظ- ج১-ص ১২)
অর্থাৎ- শরঈ কারণ ব্যতীত বায়আত পরিবর্তন করা নিষেধ। আর ‘তাজদীদে বায়আত’ জায়েয বরং মুস্তাহাব। সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়া-ই বায়আত না হয়ে থাকলে আপন পীর হতে বিমুখ হওয়া ব্যতিরেকেই এ মহান সিলসিলায় কামিল শাইখদের হাতে বায়আত হওয়াটা বায়আত পরিবর্তন নয় বরং তাজদীদ-এ বায়আত। (অর্থাৎ বরকত লাভের আশায় কাদেরিয়া তরীক্বায় বায়আত হওয়া) কারণ সমস্ত বরহক সিলসিলা এই মহান সিলসিলার প্রতি ধাবিত।
[আল-মালফুজ, কৃত আল্লামা মুস্তফা রেযা খান মুফতিয়ে হিন্দ, পৃষ্ঠা ১২] সুতরাং পূর্বে সিলসিলায়ে কাদেরিয়ায় বায়আত না হয়ে থাকলে বরকত লাভের প্রত্যাশায় এ মহান সিলসিলার কোন হক্কানী কামিল পীরের হাতে বায়আত হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই।
[মিজানু শরীয়াতুল কুবরা কৃত: ইমাম আবদুল ওয়াহাব শারানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, আল্ ক্বউলুল জামীল কৃত: শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ও আল-মালফুজ সংকলনে মুফতিয়ে হিন্দ আল্লামা মুস্তফা রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ইবনে ইমাম আ’লা হযরত ফাযেলে বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি]]