হজ্জ সম্পর্কে ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের হুকুম ও ফায়সালা কি?

0

 মাওলানা আহমদ রেযা কাদেরী
মসজিদে রহমানিয়া গাউসিয়া, শীতলঝর্ণা, বায়েজিদ, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: একজন ধর্মপরায়ন ও সমাজসেবক ব্যক্তি পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব গমন করেছেন এ কথা শুনার পর অপর একজন মুসলমান ব্যক্তি দুইজন লোকের সামনে মন্তব্য করেন যে ঐ লোক ওমরাহ্ পালনের জন্য মক্কা ও মদিনা না গিয়ে থাইল্যান্ড বা ব্যাংকক গিয়ে জীবন উপভোগ করলে ভালো হত। এ কথা সামাজিকভাবে প্রচার হয়ে গেলে এলাকার মুসল্লিগণ পবিত্র ওমরাহ্ হজ্ব ও মক্কা-মদিনা সম্পর্কে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যকারীর সাথে একই মসজিদে নামায না পড়ার ও সামাজিকভাবে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তদ্রুপ নামায-রোযা ও যাকাত সম্পর্কে ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের কি হুকুম ও ফায়সালা জানালে কৃতজ্ঞ হব।  

উত্তর: ইসলামী শরিয়তের বিধান মোতাবেক এই মর্মে ফতোয়া/ফায়সালা প্রদান করা হচ্ছে যে, উক্ত ব্যক্তি যদি জেনে শুনে উল্লিখিত মন্তব্য বলে থাকে তাহলে সে কুফুরি করেছে। তাকে অবশ্যই নতুন করে ঈমান আনতে হবে। আর যদি না জেনে/অজ্ঞতাবশত বলে তাহলে অবশ্যই তাকে তাওবা করতে হবে। যেমন: ইসলামী শরিয়তের নির্ভরযোগ্য- ফতোয়ার কিতাবসমূহে বিশেষত: শরহে ফিকহে আকবর সহ অনেক গ্রন্থে উল্লেখ আছে-  الاستهزاء على الشريعة الغراء كفر-
অর্থাৎ- পবিত্র শরিয়তের কোন বিষয়ে বিদ্রুপ করা কুফুরি।  [শরহে ফিকহে আকবর কৃত- মোল্লা আলী কারী: পৃষ্ঠা ২৫৪] আল্লামা ইবনে নুজাইম মিসরী হানাফী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন-يكفر بترك العبادة تهاونا-     অর্থাৎ- কেউ অবজ্ঞা করে ইবাদত ছেড়ে দিলে সে কাফির হয়ে যাবে। [আশবাহ্ ওয়ান নামাযের, পৃষ্ঠা- ১৯৮] ইমাম ইবনে হাযম আজ-জাহিরি কুরতবী বলেন-
صح بالنص ان كل من استهزأ بالله تعالى أو بملك من الملائكة أو بنبى من الانبياء عليهم السلام أو باية من القران أوبفريضة من فرائض الدّين فهى كلها ايات الله تعالى بعد بلُوغ الحجة اليه فهو كافر- (الكتاب: الفصل فى الملل والأهواء والنحل- المؤلف : ابو محمد على بن احمد بن حزم الأندلسى القرطبى الظاهرى- (المتوفى: ৪৫৬ه- صفحة ১৪২)
অর্থাৎ- নস তথা ক্বোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত- যে ব্যক্তি আল্লাহ্ অথবা ফেরেশতা অথবা কোন নবী অথবা ক্বোরআনের কোন আয়াত/তথা ক্বোরআন-সুন্নাহ্ অথবা শরিয়তের কোন ফরয/ বিধানের ব্যাপারে তার কাছে দলীল পৌঁছার পরও (জানা থাকা সত্ত্বেও) বিদ্রুপ করবে সে কাফের হয়ে যাবে।
[আল ফসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নাহল: পৃষ্ঠা- ১৪২] এ ছাড়া মহান আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন-
ياايها الذين امنوا لاتتخذوا الذين اتخذُوا هُزُوَا وَلعِبًا مِنَ الذينَ اُوتُوا الكتابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أولياء وَاتقوا الله ان كنتم مؤمنين-
অর্থাৎ- হে মুমিনগণ তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহ্কে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও। [সূরা মায়িদাহ- ৫৭] শরহে আকায়েদে নসফীসহ নির্ভরযোগ্য ফিকহ ফতোয়া গ্রন্থে বিশেষত: রদ্দুল মোহতার, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ও বাহারে শরিয়তে বর্ণনা করা হয়েছে যে- استهزاء بالدين كفرٌ অর্থাৎ- ইসলামী শরিয়তের জরুরি যে কোন বিষয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলে এমনকি নবীজির কোন সুন্নাতকেও হালকা বিদ্রুপ করলে কাফির ও বেঈমান হয়ে যাবে।
সুতরাং উক্ত ব্যক্তি যদি জেনে শুনে উক্ত কথা বলে তাকে নতুনভাবে ঈমান আনতে হবে। আর যদি অজ্ঞতাবশত না জেনে বলে তাকে অবশ্যই খালিস নিয়তে পরম করুণাময় আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে তাওবা করতে হবে। নামায-রোযা ও যাকাত সম্পর্কেও কেউ ঠাট্টা বিদ্রুপ করলে একই হুকুম। উপরোক্ত বিষয়ে এটাই ইসলামী শরিয়তের ফতোয়া/ফায়সালা। ভয় লাগানোর জন্য  সামাজিকভাবে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে পারে। যাতে খালিস নিয়তে তাওবা করে এবং সবাই সতর্ক হয়ে যায়।