প্রশ্ন: আমরা সাধারণ শিক্ষিত লোক। ‘দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া’-এর খেদমত করতে গিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করে যে, আমরা পীর মুর্শিদকে ‘হুযূর কিবলা’ বা ‘মুর্শিদ কিবলা’ কেন বলি? এর অর্থ কি? দয়া করে বিষয়টি জানালে উপকৃত হবো।

0

প্রশ্ন করেছেন-মুহাম্মদ আজিজুল হাকিম,
হাইদগাঁও, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: আমরা সাধারণ শিক্ষিত লোক। ‘দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া’-এর খেদমত করতে গিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করে যে, আমরা পীর মুর্শিদকে ‘হুযূর কিবলা’ বা ‘মুর্শিদ কিবলা’ কেন বলি? এর অর্থ কি? দয়া করে বিষয়টি জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর: হুযূর কিবলা বা মুর্শিদ কিবলা শব্দ দুটি পীর মুর্শিদ বা বুজর্গ ব্যক্তিদের সম্মানসূচক সম্বোধনের জন্য ব্যবহার করা হয়। হুযূর শব্দটির অর্থ হলো উপস্থিত হওয়া। শব্দটি আরবী। তবে ফার্সী, উর্দু ও বাংলা ভাষায়ও ব্যবহার হয় সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে। আর এ অর্থেই অনেক মানুষ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য হুযূর শব্দটি ব্যবহার করে। যেমন বলা হয় হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম। শব্দটি যেহেতু ব্যাপক তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তা ব্যবহার করা হলে সাধারণত: অধিক সম্মান বুঝানোর জন্য এর সাথে আকরাম শব্দ যোগ করে ‘হুযূরে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলা হয়। মোট কথা, হুযূর শব্দটি সম্মান সূচক বটে তবে এটি এমন কোন শব্দ নয় যা শুধুমাত্র রাসূলে পাকের (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) জন্য ব্যবহৃত হয়। বরং তা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি শব্দ। কিবলা সম্মানিত ব্যক্তি বিশেষের জন্য ব্যবহার করা হয়। [গিয়াসুল লুগাত: পৃষ্ঠা ১৭৪, ফীরুযুল লুগাত: পৃষ্ঠা ৫৭১ ও ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৩/৩৪২৭]

আর কিবলা শব্দের দ্বারা সাধারণত: বায়তুল্লাহ্ শরীফ তথা কা’বা শরীফকে বুঝানো হয়। কিবলা শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে جهة বা দিক অর্থাৎ যে দিকে মুখ ফিরানো হয়। পরিভাষায় কিবলা বলা হয় যার দিকে রুজু বা ধাবিত হয়। উল্লেখ্য যে, কিবলা কয়েক প্রকার। যথা: ১. নামাযের কিবলা হচ্ছে ‘বায়তুল্লাহ্ শরীফ’। এ জন্য বায়তুল্লাহ্ শরীফের দিকে মুখ করে নামায আদায় করা হয়। ২. দোয়া বা মুনাজাতের কিবলা হচ্ছে ‘আসমান’। এজন্য হাতের তালুদ্বয় আসমানের দিকে করে মুনাজাত করা হয়। ৩. কিবলার কিবলা থা বায়তুল্লাহ্ শরীফের কিবলা সরওয়ারে কায়েনাত আকাও মাওলা মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম। তাই প্রিয় নবীর শুভাগমন ও মিলাদ এর সময় বায়তুল্লাহ্ শরীফ খাজা আবদুল মোতালেবের ঘরের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল যেহেতু সেঘরে প্রিয় নবী মা আমেনার কোলে শুভাগমন করেছিলেন- যা ইমাম আহমদ কসতালানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর মাওয়াহেবে লাদুনিয়া সহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কিতাবে বর্ণিত আছে।

৪. কিবলায়ে কলব বা কলবের কিবলা হচ্ছে- হক্কানী, রাব্বানী পীর ও মুর্শিদ। যাদের সামনে গেলে বা যাদের দরবারে হাজির হলে আল্লাহ্-রাসূলের কথা স্মরণ হয়, ক্বলবে আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতি মুহাব্বত সৃষ্টি হয় এবং অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, ইবাদত-বন্দেগীতে ইখলাস বা আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। কলব/অন্তর তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এজন্য হক্কানী পীর মুর্শিদকে সম্মানার্থে হুযূর কিবলা বা মুর্শিদ কিবলা অথবা বাবাজান কিবলা বলা হয়। মুর্শিদ কিবলা বা হুযূর কিবলা বলা শিরিক বা বিদআত নয় বরং পীর-মুর্শিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। এটা উত্তম পন্থা। এটা আদব-ভক্তি ও মহব্বতের বহিঃপ্রকাশ।