প্রশ্ন: হযরত আদম, হযরত ঈসা, হযরত মূসা ও ইউসুফ (আলায়হিমুস্ সালাম) সেজে তাঁদের জীবনী নিয়ে বর্তমান বিদেশি মিডিয়া চলচ্চিত্র বানিয়েছে। এবং ইতোমধ্যে তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তার সাথে এখন কারবালার কাহিনী নিয়েও ভিডিও নির্মাণ করেছে। নিষ্পাপ নবীগণের ছুরত নেয়া এবং তাদের জীনবী নিয়ে চলচ্চিত্র বা ভিডিও নির্মাণ করা এবং দেখা শরীয়ত সম্মত হবে কিনা?

0

প্রশ্ন করেছেন-মুহাম্মদ নাজমুল হোসাইন মুনির,
পটিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: হযরত আদম, হযরত ঈসা, হযরত মূসা ও ইউসুফ (আলায়হিমুস্ সালাম) সেজে তাঁদের জীবনী নিয়ে বর্তমান বিদেশি মিডিয়া চলচ্চিত্র বানিয়েছে। এবং ইতোমধ্যে তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তার সাথে এখন কারবালার কাহিনী নিয়েও ভিডিও নির্মাণ করেছে। নিষ্পাপ নবীগণের ছুরত নেয়া এবং তাদের জীনবী নিয়ে চলচ্চিত্র বা ভিডিও নির্মাণ করা এবং দেখা শরীয়ত সম্মত হবে কিনা?

 উত্তর: নবী-রসূল ও সাবায়ে কেরামগণের নাম, চরিত্র, জীবন ও কর্ম (নিয়ে) ফিল্ম ও ছায়াছবি নির্মাণ করা, তাদের নামে কাউকে অভিনেতা বানিয়ে- অভিনয় করা চরম বেআদবি ও নাজায়িয। ইসলাম অনর্থক ও বেহুদা কোন কিছুকে সমর্থন করে না। বিনা প্রয়োজনে সাধারণ মুসলমানদের ছবি বা অবয়ব নির্মাণ করার উপর ইসলামী শরীয়ত তথা কোরআন-হাদীস যেখানে কঠোরতা ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে সেখানে মাসুম নিস্পাপ নবী-রসূলগণের অবয়ব দিয়ে ছায়াছবি/ফিল্ম নির্মাণ করা নিঃসন্দেহে চরম বেআদবি, ধৃষ্টতা ও নাজায়িয। নবী-রসূলগণ নিস্পাপ ও মাসুম। তাঁদের সেই পূতঃপবিত্র ব্যক্তিসত্তার চরিত্র রূপদান করছে কতিপয় ফাসিক অভিনেতা ব্যক্তিরা, যাদের মধ্যে অনেকের ব্যক্তি জীবন পাপ ও গোনাহেপূর্ণ। তদুপুরি সে সব ব্যক্তি নবী-রাসূলের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে প্রয়োজনে নবী বাসূল অথবা সাহাবী সেজেছে- নিঃসন্দেহে তারা জঘন্যতম বেআদবী ও ভয়াবহ ধৃষ্ঠতা প্রদর্শন করেছে। একজন ফাসিক, পাপিষ্ঠ অথবা কাফির অভিনেতা নিস্পাপ নবীদের নাম ও চরিত্রে অভিনয় করা- নবীদের শানে গোস্তাখী ও জঘন্যতম অপরাধ। তাছাড়া সম্মানিত নবী-রসূলদের নামে চলচ্চিত্র তৈরীর মাধ্যমে মর্যাদাবান নবী-রসূলদের অবয়ব/আকৃতি অপর কাউকে প্রদান করত: নবীদের প্রতিচ্ছবি অংকিত করে দেয়া হচ্ছে। অথচ উক্ত ব্যক্তির মাঝে চরম সম্মানিত নবী-রসূলের অবয়বের কিছুই নেই- যা সুস্পষ্ট নবীদের শানে বেআদবী, মানহানিকর।
আরো উল্লেখ থাকে যে, সেসব ফিল্ম বা ছায়াছবিতে যে বা যারা পাপিষ্ঠ আবু জাহেল, আবু লাহাব বা কুখ্যাত ইয়াজিদের চরিত্রের/ভূমিকায় অভিনয় করছে তারা গল্পের খাতিরে মহান আল্লাহ্ তা’আলা, সম্মানিত নবী-রাসূল এবং সত্যের মাপকাঠি সাহাবায়ে কেরামের শানে গালা-গালি করছে, দোষ, ত্রুটি চর্চা করছে। এসব ফিল্ম নির্মাণে বানোয়াট ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়া হয় যা কোন প্রকৃত মু’মিন মুসলমানের জন্য শোভা পায় না। সুতরাং এ জাতীয় কর্মকান্ড আল্লাহর প্রিয় ও সম্মানিত নবী-রসূলদের শানে চরম বেআদবী- যা কুফরী ও বেঈমানীর দিকে ধাবিত করে। সুতরাং এ জাতীয় ফিল্ম বা ছায়াছবি নির্মাণ হতে দূরে থাকা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য একান্ত অপরিহার্য। এ জাতীয় ছায়াছবি ও অভিনয় যারা তৈরি করবে, যারা প্রদর্শন করবে এবং যারা দেখবে ও আনন্দ উপভোগ করবে সকলেই মারাত্মক গুনাহগার হবে। না জেনে অজ্ঞাত বশত করে ফেললে জানার সাথে সাথে কালবিলম্ব না করে খালিস নিয়তে পরম করুণাময় আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে তাওবা করবে। আর জেনে শুনে করলে ঈমান বিনষ্ট হয়ে যাবে- কারণ সম্মানিত নবী-রাসূলগণের শানে সামান্যতম মান হানি করা এবং ঠাট্টা-বিদ্রোপ করা বেঈমানীর নামান্তর।
[ফতোয়ায়ে গুনিয়া, দূররে মোখতার, রদ্দুল মোহতার ও ফতোয়ায়ে রজভীয়া ইত্যাদি]