প্রশ্ন: মি’রাজ রাতে নফল নামায জামাতসহ পড়া যাবে কিনা? বিস্তারিত জানানোর আহ্বান রইল।

0

প্রশ্ন করেছেন গাজী আলী নেওয়াজ-
কাটিরহাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: মি’রাজ রাতে নফল নামায জামাতসহ পড়া যাবে কিনা? বিস্তারিত জানানোর আহ্বান রইল।

 উত্তর: ফরজ ইবাদত সমূহের পাশাপাশি বান্দা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নফল ইবাদত বেশী বেশী আদায় করবে। নফল নামায (দিন-রাত) যে কোন সময় (নিষিদ্ধ সময় সমূহ ব্যতীত) আদায় করা যায়। নফল নামায সাধারণত: একাকী আদায় করবে। তবে বিশেষ পূণ্যময়, বরকতমন্ডিত ও মর্যাদাবান রাত সমূহে যেমন- রজবের প্রথম রজনী, শবে মি’রাজ, শবে বরাত, শবে কদর, এবং রমজান মাসের শেষ দশকের রাতসমূহে নফল নামায একাকী অথবা জামাআত সহকারে উভয়পন্থায় আদায় করা যায়। তবে হক্কানী-রব্বানী আউলিয়ায়ে কেরামের অনেকেই এসব বরকতমন্ডিত ফজিলতময় রাত সমূহে নফল নামায জামাআতসহকারে আদায় করেছেন। তাই অন্যান্য বরকতমন্ডিত রাতসমূহের ন্যায় ২৬শে রজব দিবাগত মি’রাজ রজনীতেও এশারের ফরয নামাযের জামাআত ও সুন্নাত আদায়ের পর জামাআত সহকারে নফল নামায আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। জ্ঞাতব্য যে, কেউ উক্ত রাত সমূহে নফল নামায জামাআত সহকারে পড়তে না চাইলে তাদেরকে কোনভাবেই জামাআতে আদায়ের জন্য বাধ্য করা যাবে না। তদ্রুপ কেউ বিশেষ বরকতমন্ডিত রাতসমূহে এশার নামায জামাআত সহকারে আদায় করে কিছু নফল নামায ১২/১৬ রাকাত বা আরো কিছু বেশী বা কম জামাআত সহকারে পড়তে চাইলে তাদেরকেও বাঁধা দেয়া যাবে না। যেমন তাফসিরে রুহুল বয়ান সূরা কদরের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইসমাঈল হক্কী হানাফী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এবং পীরানে পীর গাউসে পাক শায়খ সৈয়দ সুলতান আবদুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর ‘‘গুনিয়াতুত্ তালেবীন’’ গ্রন্থে আরো বহু কিতাবে আউলিয়ায়ে কেরামগণের বিশেষ ফজিলত মন্ডিত রাতসমূহে নফল নামায জামাআতে আদায় করার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে এসব নফল নামায এর জন্য ফরয নামাযের জন্য যেরূপ আযান-ইকামত প্রদান করা হয়- তা করা যাবে না। নামাযে এশার ফরয নামায আযান-ইকামতের মাধ্যমে আদায় করে এবং সুন্নাত পড়ে তারপর নফল নামায ইচ্ছা করলে জামাআত সহকারে আদায় করবে অথবা ইচ্ছা করলে একা একা আদায় করবে। বিশেষ বরকতমন্ডিত রাতসমূহ ব্যতীত অন্যান্য সময়ে দিবারাতে নফল নামায একাকী আদায় করবে। পবিত্র মি’রাজ রজনী সহ অন্যান্য বরকতমন্ডিত রাত সমূহে নফল নামাযের সাথে অন্যান্য বরকতমন্ডিত পূণ্যময় ইবাদত-বন্দেগী, দান-খায়রাত, ক্বোরআন তেলাওয়াত, দরূদ-সালাম ইত্যাদিও গুরুত্বসহকারে পালন করার চেষ্টা করবে। এটা উত্তম তরিকা ও সুন্নাতে হাসানা ।
[তাফসিরে রুহুল বয়ান কৃত আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রাহ.), গুনিয়াতুত্ তালেবীন কৃত- গাউসুল আযম সৈয়্যদুনা পীরানে পীর আবদুল কাদের জিলানী (রাহ.) আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক তরজুমান ও যুগজিজ্ঞাসা ইত্যাদি।]