আমার মায়ের বয়স প্রায় ৯০ বছর। তিনি উঠা-বসা, করতে পারেন না, কিছুই মনে থাকে না। অসুস্থতার কারণে দেড় বছর যাবত নামায আদায় করতে পারছেন না। সুতরাং অনাদায়কৃত নামাযের ব্যাপারে কি করা যায় জানালে উপকৃত হব।

0

প্রশ্ন করেছেন- মুহাম্মদ ইউনুছ সিকদার।
উত্তর ছনহরা, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: আমার মায়ের বয়স প্রায় ৯০ বছর। তিনি উঠা-বসা, করতে পারেন না, কিছুই মনে থাকে না। অসুস্থতার কারণে দেড় বছর যাবত নামায আদায় করতে পারছেন না। সুতরাং অনাদায়কৃত নামাযের ব্যাপারে কি করা যায় জানালে উপকৃত হব।

উত্তর: ইসলামের বিধান মতে বিনা কারণে বা শরয়ী ওজর ব্যতীত নামায ছেড়ে দেয়া এবং ইচ্ছাকৃত নামায কাযা করা মারাত্মক গুনাহ। নামায সময়মত আদায় না করলে কাযা আদায় করা ফরয। এবং আন্তরিকভাবে খালিস নিয়তে আল্লাহর দরবারে তাওবা করতে হবে। হাদীসে পাকে রয়েছে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمَّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللهِ وَرَسُوْلِهِ-
অর্থাৎ- যে ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ছেড়ে দেয়, আল্লাহ্ ও রাসূল তাঁর থেকে দায়মুক্ত। [আল-মুসনাদ কৃত: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, হাদীস নং ২৭৯০৮, ৬ খন্ড, পৃষ্ঠা ৪২১]

তাই একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের যতক্ষণ পর্যন্ত হুঁশ-জ্ঞান বহাল থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করতে হবে। দাঁড়াতে না পারলে বসে পড়বে বসতেও সক্ষম না হলে শুয়ে ইশারায় নামায পড়বে। কাযা হওয়া নামায আদায়ের কোন ওয়াক্ত নির্দিষ্ট নেই। জীবনে যখনই কাযা নামায আদায় করবে কাজা আদায় হবে। কিন্তু তিন সময়ে তথা সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও সূর্যস্থির অবস্থায় কোন নামায আদায় করা যাবে না। যে নামায যে রকম বাদ পড়েছে সেটা সেভাবে আদায় করবে। যেমন সফরে কাযা কৃত নামায পরবর্তীতে কাযা করার সময় চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয দু’রাকাত কাযা করবে। অবশ্যই কাযা পড়ার সময় কোন বিশেষ ওজর থাকলে তা গ্রাহ্য হবে। যেমন যে ওয়াক্তে নামায কাযা হলো সে সময় দাঁড়িয়ে নামায আদায়ের সামর্থ ছিল। কিন্তু এখন দাঁড়াতে পারছে না। তাই বসে বসে কাযা পড়বে বা এখন কেবল ইশারাই পড়তে পারে, তাহলে ইশারায় পড়বে এবং সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় তা আদায় করার প্রয়োজন নাই। [আলমগীরি, দুররুল মুখতার]

আর এমন বৃদ্ধ ও রোগী, যে/যারা জ্ঞান বুদ্ধি হারিয়ে অজ্ঞান ও বেহুশ হয়ে পড়লো সে ইশারায়ও নামায পড়তে পারছে না যদি এ অবস্থায় পূর্ণ ছয় (৬) ওয়াক্ত বা আরো বেশী অতিবাহিত হয় তাহলে অজ্ঞানাবস্থায় যে নামাযগুলো বাদ পড়েছে, তার জন্য সেগুলোর কাযা ওয়াজিব নয়। [আলমগীরি ইত্যাদি]