মাজার জিয়ারত জিয়ারত করার ইসলামী ফয়সালা

0

প্রশ্ন করেছেন মুহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস-
গহিরা, রাউজান, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: আমরা জিয়ারত করাকে সুন্নাত বলে জেনে থাকি। কেউ কেউ জিয়ারতকে অবজ্ঞা করে এ ব্যাপারে হাদীসের আলোকে বিস্তারিত জানিয়ে ধন্য করবেন।

উত্তর: কবর জিয়ারত অতি বরকতময় আমল। যা নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল হতে প্রমাণিত। তাই নবী-অলী এবং বুজর্গানে দ্বীনের মাযার ও মুমিন নর-নারীর কবর জিয়ারত করা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবা-ই কেরামের সুন্নাত। যা ইসলামী শরীয়ত সম্মত। অসংখ্য হাদীসে পাকে জিয়ারতের বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থ ‘ফতোয়ায়ে শামী’তে উল্লেখ আছে-روى ابن ابى شيبة انّ النبى صلى الله عليه وسلم كان يأتى قبور الشهداء باحد على رأس كل حول(جلد اول) অর্থাৎ- ইবনে আবু শায়বা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছরের শুরুতে শোহাদায়ে- উহুদের কবর শরীফে তাশরীফ নিয়ে যেতেন। [ফতোয়ায়ে শামী: ১ম খন্ড, জিয়ারতে কুবুর অধ্যায়] বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘তাফসীরে কবীর’ ও ‘তাফসীরে দুররুল মনসূরে’ উল্লেখ আছে-
عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انّه كان يأيى قبور الشهداء على رأس كل حول فيقول سلام عليكم بما صبرتم فنعم عقبى الدار والخلفاء الاربعة هكذا كانوا يفعولون- অর্থাৎ- প্রিয়নবী রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি প্রতি বছর (উহুদের) শহীদগণের কবরসমূহে তাশরীফ নিয়ে যেতেন এবং তাঁদেরকে ‘সালামুন আলায়কুম বিমা সাবারতুম ফানি’মা উক্ববাদ দার’ বলে সালাম পেশ করতেন এবং চার খলীফা (খোলাফায়ে রাশেদীন) ও সেভাবে উহুদে শোহাদায়ে কেরামের মাযার সমূহ জিয়ারত করতেন।
অন্য হাদীসে প্রিয়নবী রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কবর জিয়ারত কর তা মৃত্যু ও আখেরাতকে স্মরণ করে দেয়। [আল হাদীস] এ ছাড়া আরো বহু হাদীস থেকে কবর জিয়ারত সুন্নাত বা উত্তম আমল প্রমাণিত। সুতরাং কবর জিয়ারত করাকে অবজ্ঞা করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা নাজায়েয ইত্যাদি বলা গোমরাহী ও অজ্ঞতার নামান্তার।
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম প্রায় রাত্রে জান্নাতুল বকিতে জেয়ারত করতেন এবং কবরবাসীদেরকে সালাম প্রদান করতেন।
[সহীহ মুসলিম শরীফ, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে দুররে মানসুর, রদ্দুল মোহতার, যুগজিজ্ঞাসা এবং মেশকাত শরীফ কবর জিয়ারত অধ্যায়, পৃষ্ঠা ১৫৪ ইত্যাদি]