যুগের জঘন্যতম ফিতনা: লা-মাযহাবী আহলে হাদীস মতবাদ

0

যুগের জঘন্যতম ফিতনা: লা-মাযহাবী আহলে হাদীস মতবাদ-
মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন আবিদী >

রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র স্বর্ণালী যুগের পরবর্তী যুগ থেকে তাক্বলীদ বা মাযহাবের অনুসরণ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চলে আসছে। কেননা কুরআন-হাদীস থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করার যে জ্ঞান-গরিমা আল্লাহ্ তা’আলা মুজতাহিদগণকে প্রদান করেছেন, অন্যদের তা প্রদান করা হয়নি। সুতরাং সাধারণ মানুষ তাঁদের উদ্ভাবিত মাসআলার উপর আমল করতে মাযহাবের অনুসরণ করতেই হবে।
অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো আহলে হাদীস নামধারী লা-মাযহাবীরা তা অস্বীকার করছে। তারা সরাসরি হাদীস এর আমল করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত। যা আদৌ সম্ভবপর নয় বরং ভন্ডামী ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। নি¤েœ তাকলীদের পরিচিতি এর প্রয়োজনীয়তা ও লা-মাযহাবীদের স্বরূপ উম্মোচন করার প্রয়াস পাব।
তাক্বলীদের অর্থ
আল্লামা আশ্শারীফ আ’লী বিন মুহাম্মদ আল্ জুরজানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘কিতাবুত্তারীফাত’ নামক গ্রন্থের ৬০ নম্বর পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করেন-
التقليد عبارة عن قبول قول الغير بلا حجة ولادليل- (كتاب التعريفات- ص ২০৬)
অর্থাৎ- তাক্বলীদ বলা হয় কোন প্রমাণ যুক্তি মতানৈক্য ব্যাতিরেকে অকুন্ঠচিত্তে অন্য কারো মতামত গ্রহণ করা। ‘কাওয়াইদুল ফিকহ’ নামক গ্রন্থ গ্রণেতা আল্লামা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বারাকাতী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি উক্ত গ্রন্থের ২৩৪ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-
التقليد عن اتباع الانسان غيره معتقد فيه من غير نظر فى الدليل- (قواعد الفقة: ২৩৪)
অর্থাৎ- সত্য হওয়ার ব্যাপারে নিঃসন্দেহে বিশ্বাস স্থাপন করে দলীল প্রমাণ অন্বেষণ না করে অন্য কোন মানুষের আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে অনুসরণ করার নাম তাক্বলীদ। ‘তাক্বলীদ’ আরবী শব্দ, বাবে তাফয়ীল-এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল এর শাব্দিক অর্থ হলো কারো গলায় হার পরিধান করানো।
পারিভাষিক অর্থ
الحبل المتين فى اتباع السلف الالحين-(ص- ৬) (উচ্চারণ: আল্হাবলুল মাতীন ফী ইত্তেবাইচছালফীচ্ছালিহীন)
নামক গ্রন্থে আল্লামা ছাঈদুর রহমান আত্তিরাহী উক্ত গ্রন্থের ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেন-
أما التقليد فهو عبارة عن اتباع الغير فى الافعال والاقوال من غير طلب الدليل وهذا أمر محمود أمربه الشارع قال تعالى اطيعوا الله الرسول وأولى الامر منكم-(سورة النساء: ৫৯)
অর্থাৎ- তাক্বলীদ হলো কাজে ও কথায় প্রমাণ অন্বেষণ ব্যতিরেকে অন্য কারো অনুসরণ করা। আর এটা প্রশংসিত কাজ। যা শরীয়ত প্রণেতা নির্দেশ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ্ পাকও এ বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করে ইরশাদ করেছেন- হে ঈমানদারগণ নির্দেশ মান্য করো আল্লাহর এবং নির্দেশ মান্য করো রাসূলের এবং তাদেরই, যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। [সূরা নিসা: ৫৯] এক কথায় ক্বোরআন হাদীসের দক্ষ তথা এগুলো থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করতে সক্ষম দক্ষ মুজতাহিদকে স্বীয় আস্থার হার পরিধান করানো। অর্থাৎ- উলামায়ে মুজতাহিদগণ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন ইমামের অনুসরণ করা ও আনুগত্য স্বীকার করার নাম হলো ‘তাক্বলীদ’ যা শরীয়তের আলোকে প্রমাণিত। যেমন আমরা ইমাম আযম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হির বাণী ও কর্মকে নিজেদের জন্য দলীল মনে করে থাকি এবং শরীয়তের দলীলাদির দিকে নজর দেয়ার প্রয়োজনই মনে করিনা। যার হাশিয়ায়ে হুচ্ছামী, শরহে মুখতাচারুল মানার, ইমাম গায্যালী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি কৃত কিতাবুল মুস্তাসফা ও মুসাল্লামুস ছুবুত নামক নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলীতেও উল্লেখ রয়েছে।
ক্বোরআন ও তাফসীরের আলোকে তাক্বলীদের দলিল
প্রথম দলীল: মহান আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান-
ياايها الذين امنوا اطيعوا الله واطيعوا الرسول وأولى الامر منكم- (سورة النساء: ৫৯)
অর্থ: ‘হে ঈমানদারগণ, নির্দেশ মান্য করো আল্লাহর এবং নির্দেশ মান্য করো রাসূলের এবং তাদেরই, যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।’
[সূরা নিসা, আয়াত-৫৯, অনুবাদ কান্যুল ঈমান: কৃত আ’লা হযরত রাহ., বঙ্গানুবাদ আল্লামা আবদুল মান্নান] আয়াতের তাফসীর
আল্লামা ছাইদুর রহমান আত্তিরাহী ‘আল্হাবলুল মাতীন’ গ্রন্থের ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় উক্ত আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে বলেন-
ففى التفسير الاحمدى فى تفسير هذه الأية والحق أن المراد كل اولى الحكم اماما كان او حاكما عالما كان أو مجتهدا قاضيا كان او مفتيا على حسب مراتب التابع والمتبوع لأن النص مطلق فلا يتقيد من غير دليل الخصوص انتهى-
অর্থাৎ- তাফসীরে আহমদীতে এই আয়াতের তাফসীরে রয়েছে বাস্তবিক পক্ষে এটা দ্বারা প্রত্যেক ‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বা উপরস্থ বিজ্ঞ’ বলতে ইমাম হোক বা শাসনকর্তা হোক, আলেম হোক বা মুজতাহিদ হোক, বিচারক হোক বা মুফতী হোক ধারাবাহিকভাবে অধীনস্থ ও উপরস্থ সকলই উদ্দেশ্য। কেননা ক্বোরআন মাজীদের অকাট্য আয়াত সাধারণভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং এটাকে বিশেষ দলীল ব্যতিরেকে শর্তযুক্ত করা যাবে না।
উপরোক্ত দলীল দ্বারা কতেক ব্যাখ্যাকারীর মতের খণ্ডনও হয়ে যায়, যারা বলে ‘উলীল আমর’ তথা ‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বা উপরস্থ বিজ্ঞ’ বলতে শুধুমাত্র শাসনকর্তা ও বিচারকদের আনুগত্য বোঝায়। তবে তাফসীরকারকগণের বড় একটি দল বলেন যে, এটা দ্বারা উলামায়ে মুজতাহেদীন উদ্দেশ্য, অর্থাৎ- আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের সাথে সাথে ক্বোরআন সুন্নাহর ইলমের অধিকারী বিজ্ঞ ফক্বীহ ও মুজতাহিদ ইমামগণের আনুগত্যও ওয়াজিব। এ তাফসীর পেশ করেছেন হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা, হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা, হযরত হাসান বছরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত আ’তা বিন আবু রাবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত আত্বা বিন ছাইব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু এবং হযরত আবুল আলীয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, যেমনিভাবে হযরত ইবনে জারীর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু তাফসীরে ইবনে জারীরে এবং ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু তাফসীরে কবীরে এই তাফসীরকে প্রাধান্য দিয়েছেন। উক্ত তাফসীরের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, এই আয়াত তাক্বলীদ বা মাযহাব অনুসরণের সুস্পষ্ট দলীল। কেননা, এই আয়াতে পাকে আল্লাহ্ স্বীয় রাসূলের সাথে উলামায়ে মুজতাহিদীনের আনুগত্যেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং আয়াতের উদ্দেশ্যে এটাই বোঝা যায় যে, মুজতাহিদীনে কেরাম রাহমাতুল্লাহি আলায়হিম’র আনুগত্যের মধ্যে প্রকৃত আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র আনুগত্যতা অন্তর্নিহিত।
দ্বিতীয় দলীল
মহান আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামীন ইরশাদ ফরমান-
واذا جاءهم امر من الأمن أو الخوف أذاعوابه ولو ردوه الى الرسول اولى الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم- (سورة النساء: ৭৬)
অর্থ: এবং যখন তাদের নিকট প্রশান্তি অথবা শংকা এর কোন বার্তা আসতো তখন (তারা) সেটা প্রচার করে বেড়াতো। আর যদি সে ক্ষেত্রে (তারা) সেটা রাসূল এবং নিজেদের ক্ষমতা সম্পন্ন লোকদের গোচরে আনতো তবে নিশ্চয় তাঁদের নিকট সেটার বাস্তবতা জানতে পারতো, যারা পরবর্তী (তথ্য অনুসন্ধানের জন্য) প্রচেষ্টা চালায়। [সূরা নিসা: ৮৩, অনুবাদ: কানযুল ঈমান, কৃত আ’লা হযরত রাহ.] আয়াতের তাসফীর
উক্ত আয়াতে পাকের তাফসীর করতে গিয়ে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ নাঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘খানযুল ইরফান’ নামক তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেন- ‘‘তাফসীর কারকগণ বলেছেন, এ আয়াতে কিয়াসের বৈধতার স্বপক্ষে দলীল রয়েছে।’’
[তাফসীরে খাযাইনুল ইরফান: বাংলা অনুদিত পৃষ্ঠা- ১৭৯] উপরোক্ত তাফসীর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, এই আয়াত দ্বারাও তাক্বলীদ সাব্যস্ত হয়। কারণ কিয়াস হচ্ছে মাযহাবী উসূল চতুষ্ঠয়ের চতুর্থ উৎস, যা মাযহাবের অন্যতম দলীল।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘‘তাফসীরে কবীরে’’ এবং ইমাম আবু বকর জাচ্ছাছ রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘আহকামুল ক্বোরআন’ নামক গ্রন্থে এই আয়াত দ্বারা তাক্বলীদ যে শরীয়ত সম্মত তার দলীল পেশ করেছেন। কতেক লা-মাযহাবী যদিওবা এই আয়াত অন্যদিকে নিয়ে দলীল পেশ করতে চায়, কিন্তু তাদের আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান ‘তাফসীরে ফাতহুল বয়ান’ নামক গ্রন্থে এই আয়াত থেকে কিয়াস প্রমাণিত করেছেন। তাফসীরে খাযাইনুল ইরফান ও অন্যান্য তাফসীর দ্বারাও একথা প্রমাণিত।
اولى الامر এর তাফসীর
উক্ত আয়াতের তাফসীর পেশ করতে গিয়ে আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘তাফসীরে কবীর’ গ্রন্থের ৩য় খন্ডে ২৪৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ان طاعة الله ورسوله واجبة قطعا عندنا وان طاعة اهل الاجماع واجبة قطعا-
অর্থাৎ- আল্লাহ্ তা’আলা ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র আনুগত্য নিঃসন্দেহে ফরয। তেমনিভাবে ইজমায়ে উম্মতের আদেশ পালনও অকাট্যভাবে ওয়াজিব।
তাফসীরে তাবারী নামক গ্রন্থের ৫ম খন্ডে اولى الأمر এর ব্যাখা লিখতে গিয়ে গ্রন্থকার বলেন-
اولى الأمر منكم هم اهل العلم والفقه-
অর্থাৎ- ‘আলেম ও ফিকাহ্ শাস্ত্রবিদগণই ‘উলিল আমর’। উক্ত আয়াত থেকে মুজতাহিদীনে কেরাম রাহমাতুল্লাহি আলায়হিম’র আনুগত্যের কথা প্রকাশ পায়। হাদীসটি দারেমী শরীফেও উল্লেখ রয়েছে।
ফতোয়ার কিতাব ‘দুররুল মোখতার’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে-
وما نحن فعلينا الاتباع ما رجعوا وما صححوا كما افتوا فى حياتهم-
অর্থাৎ- ‘মুজতাহিদগণ তাঁদের জীবদ্দশায় যা মীমাংসা করে গেছেন এবং যেদিকে বিশুদ্ধ মতাধিক্য জ্ঞাপন করে ফতোয়া প্রদান করেছেন সেগুলো আমাদের মান্য করতে হবে।
মাওলানা এমদাদুল্লাহ্ মুহাজিরে মক্কী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর স্বীয় ‘ইয়াম্বু’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
يجب أن يعتقد أن الأئمة الاربعة على خير وهدى من الله ليسوا على ضلالة ولا بدعة بل خير الأمة التى أضيفوا اليها بعد الصحابة-
অর্থাৎ- ইমাম চতুষ্টয় যে, আল্লাহ্ তা’আলার অনুগ্রহে হেদায়ত ও কল্যাণের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এটা বিশ্বাস করা ওয়াজিব। তাঁরা কোন রূপ বাতিল বা বিদআতী মতের উপর ছিলেন না বরং সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তীতে তাঁরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে বিবেচিত ছিলেন।
‘‘আশবাহ্ ওয়ান্নাযায়ের’’ নামক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-
فقد صرح فى التحرير أن الاجماع انعقد على عدم العمل بمذهب مخالف للاربع لانضباط مذاهبهم وانتشارها وكثرة واتبا عها-
অর্থাৎ- ইমাম চতুষ্টয়ের মাযহাবের বিপরীত আমল করা নিষিদ্ধ। এর উপর ইজমা স্থির হয়ে গেছে। কেননা তাদের মাযহাব প্রোথিত ও বিস্তৃত হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ লোকই মাযহাবের অনুসরণ করছেন।
তৃতীয় দলীল
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ ফরমান-
فلولا تقر من كل فرقة طانفة ليتفقهوا فى الدين ولينذروا قومهم اذا رجعوا اليهم لعلهم يحذرون- (التوبة: ১২২)
অর্থ: তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সতর্ক করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যার্বন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে। [সূরা তাওবা: ১২২] উপরোল্লেখিত আয়াতে পাকে পথ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সব মানুষ যেন একই কাজে লিপ্ত না হয়, বরং কিছু লোক যেন জিহাদ করেন এবং আর কতেক যেন জ্ঞান চর্চায় লিপ্ত থাকেন। অতপর জ্ঞান অর্জন কারীরা জিহাদে রতদের জ্ঞান শিখাবেন। স্বর্তব্য যে, জ্ঞানীদের কথা মান্য করাই হচ্ছে তাক্বলীদ।
চতুর্থ দলীল
আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ ফরমান-
فاسنلوا اهل الذكر ان كنتم لاتعلمون- (الانبياء: ৭)
অর্থ: কাজেই হে লোকেরা! ইলম সম্পন্নদেরকে জিজ্ঞাসা করো যদি তোমাদের ইলম না থাকে। (আম্বিা: ৭)
এ আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, যার নিকট শরীয়তের জ্ঞান নেই সে যেন জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে জেনে নেয়, অর্থাৎ- ক্বোরআন-হাদীস থেকে সরাসরি মাসআলা বের করার ক্ষমতা যেহেতু আমাদের নেই, ইজতাহিদী জ্ঞান সম্পন্ন মুজতাহিদীনে কেরাম থেকে জেনে তাদের অনুসরণ অবশ্যই আমাদের করতে হবে। আর এটাই হলো তাক্বলীদ।
আয়াতের তাফসীর
বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীরের কিতাব ‘‘তাফসীরে খাযেন’’ গ্রন্থে এই আয়াতের তাফসীরে রয়েছে- ‘‘তোমরা এমন আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা কর, যাঁরা ঈমানদার এবং ক্বোরআনের জ্ঞান সম্পন্ন।’’ উক্ত আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হলো জ্ঞানহীন মানুষ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ থেকে জেনে নিতে হবে, এটাই তো তাক্বলীদ।
তাক্বলীদ অস্বীকারকারীদের পরিণাম
এই আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি স্বীয় تفسير در المنثور (তাফসীরে দুররুল মানছুর)-এ উল্লেখ করেন-
عن انس قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان الرجل يصلى ويصوم ويحج ويغزو وانه منافق قالوا يارسول الله بما ذا دخل عليه التفاق قال لطعنه على امامه وامامه من قال الله فى كتابه فاسنلوا اهل الذكر ان كنتم لاتعلمون-
অর্থ: হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি ইরশাদ ফরমান, এমন লোক আছে যে নামায আদায় করে, রোযা রাখে, হজ্ব পালন করে এবং জিহাদ করে, অথচ সে মুনাফিক। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম কি কারণে তার মধ্যে মুনাফিকী প্রবেশ করলো? তিনি (দ.) ফরমান স্বীয় ইমামের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার কারণে। ইমাম কি? এর প্রতিত্তোরে ইরশাদ ফরমান মহান আল্লাহ্ ইরশাদ ফরমান- ‘তোমরা ইলম সম্পন্নদের জিজ্ঞাসা করো যদি তোমাদের ইলম না থাকে।’ তাহলে বোঝা গেলো যারা ইমাম মানে না বা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা মুনাফিক। মুনাফিকদের পক্ষে এ ধরণের স্বভাব শোভা পায়।
তাফসীর-২
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বিশ্ব বরেণ্য তাফসীরকারক,নন্দিত দার্শনিক আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ ‘তাফসীরে কবীর’ গ্রন্থে এবং আল্লামা মাহমুদ আলুছী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি রচিত ‘তাফসীরে রুহুল মাআনী’ গ্রন্থে লিখেন- উপরোল্লেখিত আয়াতের ভিত্তিতে অনেকেই মুজতাহিদ ইমামগণের বৈধ এবং ক্বোরআন সুন্নাহর সঠিক সমাধানে মুজতাহিদীনে কেরাম রাহমাতুল্লাহি আলায়হিম’র শরণাপন্ন তথা তাদের অনুসরণ ওয়াজিব বলে মত ব্যক্ত করেছেন।
পঞ্চম দলীল
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ ফরমান-
يوم ندعو كل اناس بامامهم- (بنى اسرائيل)
অর্থ: যে দিন আমি প্রত্যেক মানব দলকে তার ইমামের সাথে ডাকবো। [সূরা বনী ইসরাঈল] আয়াতের তাফসীর
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাস্সিরে ক্বোরআন আল্লামা ইসমাঈল হাক্ব্ক্বী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি স্বীয় রচিত ‘তাফসীরে রুহুল বয়ান’ নামক তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
اومقدم فى الدين فيقال يا حنفى يا شافعى-
অর্থাৎ- অথবা ইমাম হচ্ছেন দ্বীনি অগ্রগামী ব্যক্তি। সুতরাং ক্বিয়ামত দিবসে বলা হবে ‘‘হে হানাফীরা হে শাফেঈরা।’’ উক্ত তাফসীরে দুই জন ইমামের নাম উল্লেখ থাকলেও এর মধ্যে শরীয়ত ত্বরীক্বতের সব হক্বানী ইমাম অন্তর্ভুক্ত। তবে যারা ইমাম গ্রহণ না করে তাদের অস্বীকার ও সমালোচনা করেছেন তাদের কোন ইমামের নামে ডাকা হবে? এ সম্পর্কে সুফীগণ বলেন- ‘যার কোন ইমাম নেই তার ইমাম হচ্ছেন শয়তান। কারণ তারা দুনিয়াতে থাকতে যেহেতু শয়তানের দলে ছিল, তাই হাশরও হবে শয়তানের সাথে।’
আহলে হাদীস লা-মাযহাবীদের অভিযোগ
ক্বোরআনে পাকের আয়াত
فان تناز عتم شئ فردوه الى الله والرسول- (النساء :৬৯)
অর্থ: তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পর তাহলে তা আল্লাহ্ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ কর। [সূরা নিসা: ৫৯] এই আয়াতের উপর লা-মাযহাবীরা অভিযোগ করে যে, যে বিষেয়ে উলামাদের মাঝে মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, এমতবস্থায় কারো তাক্বলীদ করার স্থলে এ বিষয়টি আল্লাহ্ তা’আলা এবং তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র দিকে ফিরে গেলেই তো হয়। অর্থাৎ দেখা প্রয়োজন কোন বক্তব্যটি ক্বোরআন ও হাদীসের অধিক অনুকূলে। আর এ দেখাটাই তাক্বলীদের বিপরীত।
অভিযোগের জবাব
এই অভিযোগের জবাব হলো فان تناز عتم আয়াতাংশের মধ্যে মুজতাহিদগণকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নয়। অর্থাৎ- এটা মুজতাহিদগণের কাজ। তারাই এটা দেখবে যে, মত বিরোধপূর্ণ মাসআলাগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করবে কোন বিধানটি ক্বোরআন-সুন্নাহর অধিকতর অনুকূল। আহলে হাদীসের প্রসিদ্ধ আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান স্বীয় তাফসীর ‘ফাতহুল বয়ান’ নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন-
والظاهر انه خطاب مستأنف موجه للمجتهدين-
অর্থাৎ- প্রকাশ থাকে যে, উক্ত আয়াতে মুজতাহিদীনকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। আর এটার উদ্দেশ্য যখন মুজতাহিদীন তাহলে তাঁদের তাক্বলীদ করার মধ্যেও দ্বিমত থাকতে পারে না। সুতরাং তাদের তাক্বলীদ বা মাযহাব না মানার বিষয়টি পক্ষান্তরে স্ববিরোধিতার মধ্যে শামিল।
তাক্বলীদ অস্বীকারকারীদের পরিণাম
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের অমীয় বাণী-
واذكر ربك اذا نسيت- (الكهف: ২৪)
অর্থ: আর যখন ভুলে যান তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন। [সূরা কাহ্ফ: ২৪] এই আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে আল্লামা সাভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘তাফসীরে সাভীতে উল্লেখ করেছেন-
ولا يجوز تقليد ما عد المذاهب الاربعة ولو وافق قول الصحابة والحديث الصحيح والاية والخارج عن المذاهب الاربعة مضل وربما اداه ذالك الى الكفر لأن الاخذ بظواهر الكتاب والسنة من اصول الكفر-
অর্থাৎ- ‘মাযহাব চতুষ্টয় ব্যতিরেকে অন্য কারো তাক্বলীদ করা বৈধ নয়। যদিও তা সাহাবায়ে কেরামের অভিমত বিশুদ্ধ হাদীস ও আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি এ চার মাযহাব থেকে বেরিয়ে যায় সে নিজেও পথভ্রষ্ট। অন্যকেও পথভ্রষ্টকারী। কেননা ক্বোরআন ও হাদীসের নিছক বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ মৌলিক কুফরীর মধ্যে অন্যতম।
লা-মাযহাবী আহলে হাদীসরা প্রতিনিয়ত কোন মাযহাবের অনুসরণ না করে ক্বোরআন-হাদীসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করে ফতোয়া প্রদানের অপচেষ্টা করে ধোঁকা দিয়ে থাকে। অথচ ক্বোরআন-হাদীস থেকে মাসআলা উদ্ভাবন শুধু মাত্র মুজতাহিদীন কেরাম রাহমাতুল্লাহি আলায়হিম করতে পারেন। সাধারণ কেউ সরাসারি মাসআলা বের করার ক্ষমতা নেই বিধায় এটা অসম্ভব। এরপরও বাহ্যিক অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে এ অপকর্ম চাইলে তা কুফরীতে পরিণত। সুতরাং আহলে হাদীস যে কাফির এতে কোন সন্দেহ নেই।
বিশ্ব বিখ্যাত ফক্বীহ ও উসূলুল ফিক্বাহ বিশারদ আল্লামা শায়খ আহমদ মুল্লা জীবন রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর রচিত ‘আত্তাফসীরাতুল আহমদীয়া’ নামক গ্রন্থের ৩৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-
قد وقع الاجماع على أن الاتباع انما يجوز الاربع لايجوز الاتباع لمن حدث مجتهدا مخالفا لهم-
অর্থাৎ- ইমাম চতুষ্টয়ের তাকলীদ বৈধ বলে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। কাজেই ইমাম চতুষ্টয়ের বিরুদ্ধে গজে উঠা আর কোন নামধারী মুজতাহিদের তাক্বলীদ বা অনুসরণ বৈধ হবে না।
সহীহ মুসলিম শরীফের প্রসিদ্ধতম ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘আল মিনহাজ ফী শরহি সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ’ নামক গ্রন্থ প্রণেতা ইমাম নাওয়াভী রহমাতুল্লাহি আলায়হি স্বীয় রচিত ‘রাওদ্বাতুত ত্বালিবীন’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
اما الاجتهاد المطلق فقالوا اختتم بالأئمة الأربعة اوجبوا تقليد واحد من هولاء على امته وتقل امام الحرمين الاجماع عليه-
অর্থ: সাধারণ ইজতিহাদ ইমাম চতুষ্টয়ের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তাই ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে কোন একজনের তাক্বলীদ মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব। ইমামুল হারামাঈন (মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম- ইমাম জুয়াইনী) মাযহাব চতুষ্টয়ের যে কোন একটির তাক্বলীদ ইজমার ভিত্তিতে ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ইসলামী শরীয়তে ইজমার গুরুত্ব রয়েছে অপরিসীম। এর অস্বীকার করা কুফরী। যা ক্বোরআন-সুন্নাহ্ ও কিয়াসের আলোকেও প্রমাণযোগ্য। ইসলামী আইন ও ফিক্বাহ শাস্ত্রে ইজমা-এর গুরুত্ব, অপরিহার্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা সকল মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের আলোকে স্বীকৃত। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তবে-তাবেঈন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন রাহমাতুল্লাহি আলায়হিম শরীয়তের বিধি-বিধান সর্বদা ইজমার ভিত্তিতে প্রমাণ করে আসছেন। এ বিষয়ে ক্বোরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ماتولى ونصيله جهنم وسائت مصيرا- )النساء:১১)
অর্থ: এবং যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে এর পরে যে সঠিক পথ তার সম্মুখে সুস্পষ্ট হয়েছে এবং মুসলমানদের পথ থেকে আলাদা পথে চলে, আমি তাকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দেবো এবং তাকে দোযখে প্রবেশ করাবো এবং কতোই মন্দস্থান প্রত্যাবর্তন করাব।
[সূরা নিসা: ১১৫, অনুবাদ- কানযুল ঈমান] আল্লামা সৈয়্যদ নাঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘খাযাইনুল ইরফান’ গ্রন্থে এই আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে উল্লেখ করেন- ‘‘এ আয়াত এ কথার প্রমাণ যে, ইজমা বা উম্মতের ঐকমত্য শরীয়তের দলীল। সেটার বিরোধিতা করা বৈধ নয়; যেমনিভাবে কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করা বৈধ নয়। [তাফসীরে মাদারিক] আর এটা থেকে প্রমাণিত হলো যে, মুসলমানদের পথই ‘সিরাতুল মুন্তাক্বীম’ বা সোজা পথ। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, জমা‘আত-এর উপর আল্লাহর (কুদরতী) হাত রয়েছে। অন্য এক হাদীসে আছে ‘সাওয়াদ-ই আ‘যম’ অর্থাৎ- বড় জামা‘আতের অনুসরণ করো। যে মুসলমানদের জামা‘আত বা দল থেকে পৃথক হয়েছে সে দোযখবাসী। এ থেকে সুস্পষ্ট হলো, হক বা সত্য মাযহাব (মতাদর্শ) হচ্ছে- ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত।
[তাফসীরে খাযাইনুল ইরফান: পৃষ্ঠা ১৮৯, বাংলা অনুবাদ] উক্ত তাফসীর থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়ে গেল যে, আক্বিদার দিক থেকে সঠিক, সহজ পথ হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত। আর আমলের দিক থেকে সঠিক পন্থা হলো মাযহাবের অনুসরণ। আল্লাহ্ তা‘আলা পর্যন্ত পৌঁছার ক্ষেত্রে এ দুটি পথের বিকল্প নেই। যারা এ দুটি পথের বিপরীত পথে চলবে তারা কাফির। তাদের ঠিকানা নিশ্চিত জাহান্নাম।
বিখ্যাত ফক্বীহ ও উসূলবিদ আল্লামা মোল্লা জীবন রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন-
الحاصل أن هذه الاية تدل على أن الاجماع كالكتاب والسنة-
অর্থাৎ- মোদ্দা কথা হলো- এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, ইজমা ক্বোরআন সুন্নাহর ন্যায় অকাট্য দলীল। প্রখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা কাযী সানা উল্লাহ্ পানিথী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি স্বীয় ‘তাফসীরে মাযহারী’-তে উল্লেখ করেন-
وهذه الاية دليل على حرمة مخالفة الاجماع لأنه تعالى رتب الوعيد على المشاقة واتباع غير سبيل المؤمن-
অর্থাৎ- এই আয়াত দ্বারা ইজমার বিরুদ্ধাচরণ করা হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কেননা রাসূলের বিরোধিতা ও ঈমানদারদের বিপরীত পথে চলার প্রতি কঠোর শান্তির ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে। [তাফসীরে মাযহারী] এ ছাড়াও ইমাম শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ও অভিন্ন মত পোষণ করে বলেন- উপরোক্ত আয়াত ইজমা শরীয়তের দলীল হওয়ার প্রমাণ। অনুরূপভাবে ক্বোরআন শরীফের আরো অনেক আয়াত দ্বারা ইজমার অকাট্যতার প্রমাণ বিদ্যমান। [আগামী সংখ্যায় সমাপ্য]

লেখক: আরবী প্রভাষক, উত্তর সর্ত্তা গাউসিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।