শানে রিসালত-মক্কার রবি বিশ্বনবীর মু’জিযাদির আধিক্য

0

শানে রিসালত-
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান

মক্কার রবি বিশ্বনবীর মু’জিযাদির আধিক্য
খোদ আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু এরশাদ করেছেন-
اِنَّا اَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
‘‘হে মাহবূব (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়কা ওয়াসাল্লাম) নিঃসন্দেহে আমি আপনাকে অগণিত গুণ বা বৈশিষ্ট্য দান করেছি।’’ এক উর্দু কবি অতি সুন্দরভাবে আয়াতটি মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন-
صفات ذات كا هے آئينه صفات رسول
حد شمار سے زائد هيں معجزات رسول
অর্থ: (আল্লাহ্ তা’আলার) যাত (স্বত্তা) মুবারকের গুণাবলীর দর্পণ হচ্ছে রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী। গণনার সীমা থেকে অনেক বেশী রসূলে আকরাম আলায়হিমুস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর মু’জিযারূপী গুণ বা বৈশিষ্ট্যাবলী।

সম্মানিত বিজ্ঞ ওলামা-ই দ্বীনের সুস্পষ্ট বর্ণনা হচ্ছে- সমস্ত ফযীলত, পূর্ণতা ও মু’জিযা (অলৌকিক ঘটনা), যেগুলো সমস্ত নবী (আলায়হিস্ সালাম)-কে পৃথক পৃথকভাবে দান করা হয়েছে, সেগুলো এক সাথে হুযূর সাইয়্যেদুল মুরসালীন আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালামকে দান করা হয়েছে; ওসবই হুযূর-ই আকরামের যাত বা স্বত্তা শরীফে মওজুদ রয়েছে; বরং তদপেক্ষাও বেশী তাতে মওজুদ রয়েছে। কবির ভাষায়-
حسن يوسف، دم عيسى، يدبيضا دارى
آنهর خوباں همه دارند تو تنها دارى
অর্থ: হযরত ইয়ূসুফ আলায়হিস্ সালাম-এর সৌন্দর্য, হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম-এ ফুঁক, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর শুভ্র হস্ত- এ ধরনের যত বৈশিষ্ট্য তাঁরা (সম্মানিত নবীগণ আলায়হিমুস সালাম) ধারণ করতেন, এর সবই এয়া রসূলাল্লাহ্! আপনি একাই ধারণ করেন। বরং যে পূর্ণতা, গুণ ও মু’জিযা প্রত্যেক নবী পেয়েছেন, তা হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমেই পেয়েছেন। এ কথা আল্লামা বূ-সরী আলায়হির রাহমাহ্ তাঁর ‘ক্বসীদাহ্-ই বুরদাহ্ শরীফ’-এও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন-
وَكُلُّ اىٍ اَتَى الرُّسُلُ الْكِرَامُ بِهَا
فَاِنَّمَا اِتَصَّلَتْ مِنْ نُورِه بِهِمِ
অর্থ: এবং যে সব নিদর্শন সম্মানিত রসূলগণ নিয়ে এসেছেন, নিঃসন্দেহে সেগুলো তাঁরা হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নূর শরীফ থেকে (মাধ্যমে) পেয়েছেন।
আকাশের তারাগুলো যেমন আলো পায় সূর্য থেকে, তেমনি নুবূয়তাকাশের তারাগুলো (নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম)-ও আমাদের নবী-ই আকরামরূপী সূর্য থেকেই পেয়েছেন। হযরত আল্লামা বূ-সীরী এ প্রসঙ্গে বলেছেন-
فَاِنَّه شَمْسُ فَضْلٍ هُمْ كَوَاكِبُهَا
يُظْهِرْنَ اَنْوَارَهاَ لِلنَّاسِ فِى الظُّلَمِ
অর্থ: তা এ জন্য যে, তিনি (হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) হলেন যাবতীয় গুণ ও মর্যাদার সূর্য, আর অবশিষ্ট নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম হলেন তারাকারাজি, যাঁরা সেটার আলো অন্ধকাররাশিতে মানুষের জন্য প্রকাশ করে থাকেন।
পরম করুণাময় আল্লাহ্ তা’আলা আপন করুণা ও বদান্যতায় আপন হবীবে পাক সাহেবে লাওলাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে এত বেশী মু’জিযা দান করেছেন, যেগুলোকে কেউ গণনা করে শেষ করতে পারে না। সেগুলো কোন হিসাববিদের গণনায় আসতে পারে না।
উল্লেখিত আয়াত শরীফ اِنَّا اَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ (নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি) শায়খ আহমদ সাভী মালেকী তাঁর তাফসীর-ই সাভী’র ৪র্থ খন্ডের ৩০৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, এ আয়াতের তাসফীর বা ব্যাখ্যায় সম্মানিত তাফসীরকারকগণের ষোলটি অভিমত রয়েছে। তন্মেধ্যে একটি অভিমত হচ্ছে- ‘কাওসার’ মানে ‘‘অসংখ্য মু’জিযা।’’ এতদ্ভিত্তিতে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়- ‘‘হে মাহবূব! আমি আপনাকে অসংখ্য মু’জিযা দান করেছি।’’
সুতরাং বিজ্ঞ ওলামা-ই দ্বীন এ মর্মে সুস্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, হুযূর-ই আকরামের মু’জিযাদি অসংখ্য, অগণিত, গণনাতীত এবং তাঁর মু’জিযা কখনো খতম হবে না। [সূত্র: আনওয়ার-ই মুহাম্মদিয়াহ্ মাওয়াহি-বই লাদুনিয়াহ্র বরাতে] এভাবে ক্বাযী আবুল ফদ্বল আয়ায আন্দালূসী বলেন-
وَهِىَ فِىْ كَثْرَتِهَا لَا يُحِيْطُ بِهَا ضَبْطٌ
অর্থ: মাদানী চাঁদ হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মু’জিযাদি এত বেশী যে, সেগুলো লিপিবদ্ধ করা সম্ভবপর নয়।
[শেফা শরীফ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ১৬২] সর্বজন মান্য মুহাক্বক্বিক্ব হযরত আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী ক্বুদ্দিসা সিররূহ বলেছেন-
اما فضائل و معجزات ديرর كه مخصوص بآنحضرت صلى الله عليه وبارك وسلم كه ا راخصائص وصلے الله تعالى عليه وسلم خوانند بسيا راست وخارج از حد وعد وحصر-
অর্থাৎ: বিশেষত: হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য ও মু’জিযাবলী এত বেশী যে, সেগুলো কোন সীমা, সংখ্যা ও গণনার বাইরে। [মাদারিজুন্নুবূয়ত: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ১৬২]

ওই অসংখ্য মু’জিযা থেকে নিম্নে কয়েকটা সুপ্রসিদ্ধ মু’জিযা উল্লেখ করার প্রয়াস পাচ্ছি-

মু’জিযা: বৃক্ষরাজির আনুগত্য
সাইয়্যেদুনা হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে মাহবূবে খোদা সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। এক পর্যায়ে আমরা এক উপত্যকায় অবস্থান করলাম। রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিশেষ প্রয়োজনে (ক্বাযা-ই হাজতের জন্য) তাশরীফ নিয়ে গেলেন। সেখানে এমন কোন জিনিষ ছিলো না, যা দ্বারা পর্দা করবেন। দেখলেন উপত্যকার এক প্রান্তে দু’টি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সেখানে তাশরীফ নিয়ে গেলেন। তিনি গাছের একটি শাখা ধরে বললেন-
اِنْقَادِىْ عَلَىَّ بِاِذْنِ اللهِ-
(আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশে তুমি আমার আনুগত্য করো, আমার কথা শুন!) তখনই গাছটি তাঁর সাথে এভাবে চলে যাচ্ছিলো, যেমন লাগামধৃত উট উট-চালকের আনুগত্য করে। অতঃপর তিনি অন্য গাছটিকে ওইভাবে বললেন। সেটাও অনুরূপ আনুগত্য করলো। গাছ দু’টি তাঁর সাথে চলতে লাগলো। শেষ পর্যন্ত তিনি বৃক্ষ দু’টির উদ্দেশ্যে বললেন-
اِلْتَئِمَا عَلَىَّ بِاِذْنِ الله-
অর্থ: (তোমরা উভয়ে, আল্লাহ্ তা‘আলার নির্দেশে, পরস্পর মিলে পাশাপাশি হয়ে দাঁড়িয়ে যাও। বৃক্ষ দু’টি তা পালন করলো। হুযূর-ই আকরামের জন্য পর্দা করে নিলো। যখন হুযূর-ই আকরাম শৌচকর্ম সম্পন্ন করে তাশরীফ নিয়ে আসছিলেন, তখন-
وَاِذَا الشَّجَرَتَان قَدْ اِفْتَرَقَتَا فَقَامَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا عَلى سَمَاقٍ-
অর্থ: উভয় বৃক্ষ পরস্পর পৃথক হয়ে গেলো এবং নিজ নিজ স্থানে গিয়ে পূর্বের মতো দাঁড়িয়ে গেলো।
[মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ: ৫৩৩] নি¤œলিখিত পংক্তিতে হুযূর-ই আকরামের একাধিক মু’জিযার উল্লেখ রয়েছে-
موم پتھر هوا، بول اٹےو جانور، الات سورج پرصا، هوگيا شق قمر
رفع حاجت كو پكجا كئے دو شجر، انليوةں سے وه ﮁﺷمه بهانے لا
অর্থ: মোম পাথর হয়েছে, পশু কথা বলেছে, ডুবে যাওয়া সূর্য ফিরে এসেছে, চন্দ্র দ্বি-খন্ডিত হয়েছে, ক্বাযা-ই হাজতের জন্য দু’টি গাছকে একর স্থানে নিয়ে গিয়ে মিলিত করেছেন আর তিনি (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আপন বরকতময় আঙ্গুলগুলো থেকে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত করেছেন।

মু’জিযা: খেজুর বৃক্ষের ঠুনি কান্না করেছে
মদীনা মুনাওয়ারায় প্রথমে হুযূর-ই আকরাম যে মসজিদ শরীফ নির্মাণ করিয়েছেন সেটার ছাদ ছিলো খেজুর পাতার। যখন বৃষ্টি হতো তখন তা থেকে পানি টপকে পড়তো। মেঝেও পাকা ছিলো না। নুড়ি পাথর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। মিম্বরও ছিলো না।

ইমাম বোখারী হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, মসজিদে খেজুর বৃক্ষের একটা স্তম্ভ (ঠুনি) ছিলো। সেটার সাথে হেলান দিয়ে হুযূর-ই আক্বদাস সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম খোৎবা দিতেন। যখন মিম্বর তৈরি হলো, তখন তিনি মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে খোৎবা দিতে আরম্ভ করলেন। তখনই ওই খেজুর বৃক্ষের ঠুনি, যার সাথে হেলান দিয়ে হুযূর-ই আকরাম খোৎবা দিতেন, কান্না জুড়ে দিলো। সেটা এতো জোরে কান্না করছিলো যে, সেটা ফেটে যাবার উপক্রম হয়েছিলো। অতঃপর হুযূর-ই আকরাম মিম্বর থেকে নেমে গিয়ে ঠুনিটার উপর হাত মুবারক বুলিয়ে দিলেন। তারপর সেটাকে বরকতময় বুকের সাথে লাগালেন। তখন সেটা ছোট্ট শিশুর ন্যায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছিলো। সেটাকে চুপ করানো হলো। সুতরাং কান্না বন্ধ করলো। সেটার এ কান্নার কারণ ছিলো- সেটা হুযূর-ই আকরামের বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারেনি। এ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে বুঝা গেলো যে, হুযূর-ই আকরামের স্পর্শ পেয়ে শুস্ক খেজুর গাছটি প্রথমে প্রাণ পেয়েছে, তারপর রসনা পেয়েছে। ফলে সেটা কেঁদেছে, হুযূর-ই আকরামের সাথে কথা বলেছে। হুযূর-ই আকরাম সেটাকে জিজ্ঞাসা করেছেন- সেটা কি চায়! হুযূর সেটার উদ্দেশে বলেছেন, তুমি চাইলে আবার দুনিয়ায় খেজুর বাগানে লাগিয়ে দেবো। জীবন লাভ করবে, খেজুর দেবে, যা আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ আহার করবেন। অথবা পরকালে বেহেশতের বাগানে লাগিয়ে দেবো। সেটা শেষোক্তটি অবলম্বন করেছে। হুযূর তার আরজু মঞ্জুর করেছেন এবং মিম্বর শরীফের পাশে দাফন করিয়ে দিয়েছেন।

মু’জিযা: হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর খেজুরে বরকত
ইমাম তিরমিযী হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন- তিনি (হযরত আবূ হোরায়রা) বলেন, আমি অল্প খেজুর নিয়ে হুযূর-ই আকরামের পবিত্র দরবারে হাযির হলাম আর আরয করলাম, ‘‘হে আল্লাহর রসূল! আমার এ খেজুরগুলোর জন্য বরকতের দো‘আ করুন! সুতরাং রাহমাতুল্লিল আলামীন তাতে বরকতের দো‘আ করলেন। আর এরশাদ করলেন-
خُذْ هُنَّ فَاجْعَلْهُنَّ فِىْ مِزْوَدِكَ-
(এগুলো নিয়ে তোমার থলের মধ্যে রেখে দাও। আর যে পরিমাণ চাইবে খেতে থাকবে। ইন্শা-আল্লাহ্ তাতে কমতি হবে না।)
সুতরাং হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ওই খেজুরগুলো খুব আহার করলেন। আর আল্লাহর রাহে দানও করেছেন। নিজের বন্ধু-বান্ধবদের খাইয়েছেন। কিন্তু সেগুলোতে কোন কমতি হয়নি। (এমনকি দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবৎ ওই থলে থেূেূক খেতে থাকেন।) শেষ পর্যন্ত হযরত ওসমান যুন্নূরাঈন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর শাহাদাত বরণের দিনে হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর ওই থলে হারিয়ে গিয়েছিলো। [সূত্র: মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ৫৪২]

হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর সেদিন দ্বিগুণ দুঃখ ছিলো, যা তিনি নি¤œলিখিত পংক্তিতে প্রকাশ করেছেন-
لِلنَّاسِ هَمٌّ وَلِىْ فِى الْيَوْمِ هَمَّانِ
فَقْدُ الْجِرَابِ وَقَتْلُ الشَّيْخِ عَثْمَانِ
অর্থ: আজ সমস্ত মানুষের মনে একটি দুঃখ বিরাজ করছে, কিন্তু আজ আমার দুঃখ দু’টি একটি হলো আমার খেজুরের থলেটা হারিয়ে যাওয়া, আর অপরটি হলো হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর শাহাদাত।

মু’জিযা : হরিণীর ফরিয়াদ
হযরত উম্মে সালমাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন মাদানী চাঁদ রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এক জঙ্গলে তাশরীফ নিয়ে গেলেন। সেখানে এক হরিণী শিকারীর জালে (ফাঁদে) আটকা পড়েছিলো। সেটা হুযূর-ই আকরামকে দেখে ফরিয়াদ করলো, ‘‘এয়া রসূলাল্লাহ্!’’ হুযূর জিজ্ঞাসা করলেন, مَا حَاجَتُكِ (তোমার কি চাই!) হরিণী আরয করলো, ‘‘হুযূর আমাকে তো গ্রাম্য লোকটি তার জালে আটকে ফেলেছে। ওই পাহাড়ে আমার দু’টি দুগ্ধপায়ী বাচ্চা রয়েছে। আপনি আমাকে ছেড়ে দিন, আমি গিয়ে বাচ্চা দু’টিকে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসবো। আমি ওয়াদা করছি। আমি অবশ্যই ফিরে আসবো।’’ হুযূর এরশাদ করলেন, ‘‘অবশ্যই ফিরে আসবে তো?’’ সে বললো, ‘‘অবশ্যই ফিরে আসবো!’’ সুতরাং রাহমাতুল্লিল ‘আলামীন সেটাকে ছেড়ে দিলেন। হরিণী দৌঁড়ে গেলো এবং বাচ্চা দু’টিকে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসলো। ইত্যবসরে, শিকারীও ঘুম থেকে জেগে উঠলো। সে এ মু’জিযা দেখে কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলো। আর সে আরয করলো, ‘‘হুযূর! আমার প্রতি কি আপনার কোন নির্দেশ আছে?’’ হুযূর এরশাদ করলেন, বেচারী হরিণীকে ছেড়ে দাও! শিকারীও সেটাকে ছেড়ে দিলো। সেটা চলে যেতে লাগলো আর মুখে বলতে লাগলো-
اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاَنَّكَ رَسُوْلُ اللهِ-
(আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই আর নিশ্চয় আপনি আল্লাহ্ তা‘আলার রসূল।)
[শেফা শরীফ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৭]