কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে মাজার জিয়ারত

0

কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে মাজার জিয়ারত –
মাওলানা আহমদুল্লাহ ফোরকান খান কাদেরী

মাজার বা কবরের প্রতি তাযীম
আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ ফরমান-
ذٰلِکَ ٭ وَ مَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ  اللّٰہِ فَاِنَّہَا مِنۡ  تَقۡوَی  الۡقُلُوۡبِ  ﴿۳۲﴾
‘‘কথা হচ্ছে এই যে, যে কেউ আল্লাহ্র নিদর্শনাবলীকে সম্মান করে, তবে এটা  হচ্ছে অন্তরগুলোর পরহেয্গারীর লক্ষণ।’’ [সূরা হাজ্ব: আয়াত নং ৩২] আল্লাহর নিদর্শন বলতে ঐ সব জিনিসকে বুঝায় যেগুলো দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। পরকালের ভয় জাগ্রত হয়। নিঃসন্দেহে আল্লাহর অলীর মাজার কিংবা যে কোন সাধারণ মুসলমানের কবর দেখলেই মৃত্যুর কথা স্মরণ হয় যা অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ। হাদীস শরীফে রসূল-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-   نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ فَزُوْرُوْهَا فَإِنَّ فِيْ زِيَارَتِهَا تَذْكِرَةٌ
অর্থ: ইতিপূর্বে তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা জিয়ারত করো। কারণ তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে উপদেশ (অর্থ: আল্লাহর ভয় ও মৃত্যুর কথা স্মরণ করার মাধ্যম)। [সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩২৩৭, জামি তিরমিযী, হাদীস নং ১০৭৪ ,সুনানে নাসায়ী ২০৪৪,সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩০৫,মুসনাদে ইমাম আহমদ ,হাদীস নং ১১৭৩] অন্য হাদীস শরীফে আল্লাহর রসূল এরশাদ করেন-
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ مَرَّ بِنَا جَنَازَةٌ فَقَامَ لَهَا النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقُمْنَا بِه فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّهَا جَنَازَةُ يَهُوْدِىٍّ  قَالَ إِذَا رَأَيْتُمُ الْجَنَازَةَ فَقُوْمُوْا
অর্থ: হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার আমাদের পাশ দিয়ে একটি লাশ নেয়া হচ্ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা মাত্র দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম। আমরা বললাম, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা তো ইহুদীর লাশ। ‘‘তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা জানাযা তথা লাশ দেখলেই দাঁড়িয়ে যাবে।’’ [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩১১, ১৩১২] অন্য হাদীস শরীফে এরশাদ করা হয়েছে-
أنا أماشي رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بقبور المشركين فقال: ((لقد سبق هؤلاء خيرا كثيرا)). ثلاثا ثم مر بقبور المسلمين فقال: ((لقد أدرك هؤلاء خيرا كثيرا)). وحانت من رسول الله صلى الله عليه وسلم نظرة فإذا رجل يمشي في القبور عليه نعلان فقال: ((يا صاحب السبتيتين ويحك ألق سبتيتيك)). فنظر الرجل فلما عرف رسول الله صلى الله عليه وسلم خلعهما فرمى بهما.
অর্থ: ‘‘একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম -এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি মুশরিকদের কতিপয় ক্ববরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ এরা বিরাট কল্যাণ লাভের পূর্বেই অতীত হয়ে গেছে। তিনি তিনবার এরূপ বললেন। অতঃপর তিনি কতিপয় মুসলিমের ক্ববরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ এরা প্রচুর কল্যাণ প্রাপ্ত হয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে জুতা পরিহিত অবস্থায় কবরস্থানের উপর দিয়ে চলতে দেখে বললেনঃ হে জুতা পরিধানকারী! তোমার জন্য দুঃখ হচ্ছে, তুমি জুতা খুলে ফেলো। লোকটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দিকে তাকালো এবং তাঁকে চিনতে পেরে সে তার পায়ের জুতা খুলে ফেলে দিলো।’’ এতে মুসলমানের কবরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কবর দেখে নসীহত গ্রহণের শিক্ষা রয়েছে। [সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩২৩২]

সাহিবে মাজার বা কবরবাসী জিয়ারতকারীর সালাম শুনেন বা জবাব দিতে পারেন
১) হাদীসে শরীফ-
عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((العبد إذا وضع في قبره، وتولي وذهب أصحابه حتى أنه ليسمع قرع نعالهم
অর্থ: ‘‘হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- যখন বান্দাকে কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গী সাথীরা চলে যায় তখন ঐ কবরবাসী তাদের স্যান্ডেলের আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পায়।’’
[সহীহ বুখারী,জানাযা অধ্যায়, হাদীস নং ১৩৩৮,১৩৭৪] ২) হাদীস শরীফ-
عن سيدنا ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وآله و سلم قال: ما من أحد يمر بقبر أخيه كان يعرفه في الدنيا فيسلم عليه إلا عرفه ورد عليه السلام .
অর্থ: ‘‘হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,কোন ব্যক্তি তার দুনিয়ায় পরিচিত ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গমন করার সময় যদি তাকে সালাম দেয়, তাহলে কবরবাসী তাকে চিনতে পারে এবং তার সালামের জবাব দেয়।’’
(হাফিয সুয়ূতী আল হাভী লিল ফাতাওয়া, খন্ড.২, পৃষ্ঠা. ১৭০) এই হাদীসটি আহলে হাদীসদের কাছে বরেণ্য ইবনে তাইমিয়্যাহর ফাতাওয়ায় বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যাহাবীও এ হাদীসটি ‘তাযকেরাতুল হুফ্ফাজ’-এ বর্ণনা করেছেন।)
৩) হাদীস শরীফ-
عن أبي طلحة أن نبي الله صلى الله عليه وسلم أمر يوم بدر بأربعة وعشرين رجلا من صناديد قريش فقذفوا في طوي من أطواء بدر خبيث مخبث، وكان إذا ظهر على قوم أقام بالعرصة ثلاث ليال، فلما كان ببدر اليوم الثالث، أمر براحلته فشد عليها رحلها، ثم مشى واتبعه أصحابه وقالوا ما نرى ينطلق إلا لبعض حاجته، حتى قام على شفة الركي، فجعل يناديهم بأسمائهم وأسماء آبائهم: ((يا فلان بن فلان، ويا فلان بن فلان، أيسركم أنكم أطعتم الله ورسوله فإنا قد وجدنا ما وعدنا ربنا حقا، فهل وجدتم ما وعد ربكم حقا)). قال فقال عمر يا رسول الله، ما تكلم من أجساد لا أرواح لها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((والذي نفس محمد بيده، ما أنتم بأسمع لما أقول منهم.
হযরত আবূ ত্বলহা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, বদরের দিন আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে চব্বিশজন কুরাইশ সর্দারের লাশ বদর প্রান্তরের একটি নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কূপে নিক্ষেপ করা হল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন দলের বিরুদ্ধে জয় লাভ করলে সে স্থানের পার্শ্বে তিন দিন অবস্থান করতেন। বদর প্রান্তরে অবস্থানের পর তৃতীয় দিনে তিনি তাঁর সাওয়ারী প্রস্তুত করার আদেশ দিলেন, সাওয়ারীর জিন্ শক্ত করে বাঁধা হল। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পদব্রজে অগ্রসর হলে সাহাবীগণও তাঁর পেছনে পেছনে চললেন। তাঁরা বলেন, আমরা ভাবছিলাম, কোন প্রয়োজনে তিনি কোথাও যাচ্ছেন। অতঃপর তিনি ঐ কূপের কিনারে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং কূপে নিক্ষিপ্ত ঐ নিহত ব্যক্তিদের নাম ও তাদের পিতার নাম ধরে ডাকতে শুরু করলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক, হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমরা কি এখন অনুভব করতে পারছ যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য তোমাদের জন্য পরম খুশীর বিষয় ছিল? আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমরা তো তা সত্য পেয়েছি, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তোমরাও তা সত্য পেয়েছ কি? বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি প্রাণহীন দেহগুলোর সঙ্গে কী কথা বলছেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঐ মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আমি যা বলেছি তা তাদের চেয়ে তোমরা অধিক শুনতে পাচ্ছ না। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯৭৬] এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো, কাফির- মুশরিকরাও কবর থেকে শুনতে পায়। ঈমানদার ও ওলীগণের অবস্থা তো সহজে অনুমেয়। মাজারে গিয়ে সালাম দেয়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ –
عن ابن عباس قال مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقبور المدينة فأقبل عليهم بوجهه فقال: ((السلام عليكم يا أهل القبور
অর্থ: ‘‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মদীনার কবরের পাশ দিয়ে গমন করেছেন। তখন তাদের দিকে চেহারা মোবারক ফিরিয়ে এভাবে সালাম দিলেন- ‘‘হে কবরবাসীগণ, তোমাদের উপর সালাম।’’
[জামে তিরমিযী, জানাযা অধ্যায়, হাদীস নং ১০৭৩] আল্লাহ তাআলা বলছেন, إذا حييتم بتحية فحيوا بأحسن منها أو ردوها
অর্থ: ‘‘তোমাদেরকে কেউ যখন সালাম দেয়, তখন তোমরা আরো উত্তমভাবে তার জবাব দাও অথবা যেভাবে সালাম দিয়েছে তা-ই জবাবে বলো!’’ [সূরা নিসা, আয়াত নং ৮৬] উক্ত আয়াতে করীমা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, কাউকে সালাম দিলে তার উপর সালামের জবাব দেয়া আল্লাহর নির্দেশ।
এখানে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে, জীবিত ও কবরবাসী সবাইকে السلام عليكم বলে সালাম দিতে হয়। যদি কবরবাসীর সালামের জবাব দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে তাহলে সালাম দেওয়ার কি প্রয়োজন? দোয়া করলেই যথেষ্ট ছিল। সুতরাং আল্লাহর প্রিয় বান্দাকে সালাম দেয়ার গুরুত্ব কত বেশী তাও সুস্পষ্ট।

মাজার শরীফ বা কবরস্থানে কুরআন তিলাওয়াত ও ঈসালে সওয়াব শরীয়ত সম্মত
নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নিজেই মৃত ব্যক্তির ঈসালে সাওয়াবের জন্য তার নিকটে কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
১) হাদীস শরীফ-
عن معقل بن يسار قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: اقرءوا: يس على موتاكم
অর্থ: ‘‘তোমরা মৃতব্যক্তিদের কাছে সূরা ইয়াসিন পড়ো।
[সুনানে আবূ দাঊদ, জানাযা অধ্যায়, হাদীস নং  ৩১২৩, সুনানে ইবনে মাজাহ,জানাযা অধ্যায়, হাদীস নং ১৫১৫] ২) হাদীস শরীফ-
سمعت ابن عمر، يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول:  إذا مات أحدكم فلا تحبسوه، وأسرعوا به إلى قبره، وليقرأ عند رأسه بفاتحة الكتاب، وعند رجليه بخاتمة البقرة في قبره
অর্থ: ‘‘(বর্ণনাকারী বলছেন), আমি হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন, যখন কেউ মৃত্যুবরণ করে তখন তোমরা তাকে আটকে রেখো না; (জানাযা ও প্রয়োজনীয় কাজ সেরে) দ্রুত কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাও। এরপর কবরের কাছে তার মাথার দিকে সূরা ফাতিহা ও পায়ের কাছে সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করো।’’
[মু’জামুল কবীর লিত তাবরানী,  হাদীস নং ১৩৪৩৮] ৩) হাদীস শরীফ-
عن ابن عباس قال ضرب بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم خباءه على قبر وهو لا يحسب أنه قبر فإذا فيه إنسان يقرأ سورة تبارك الذي بيده الملك حتى ختمها فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني ضربت خبائي على قبر وأنا لا أحسب أنه قبر فإذا فيه إنسان يقرأ سورة تبارك الملك حتى ختمها. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هي المانعة هي المنجية تنجيه من عذاب القبر)).
অর্থ: ‘‘ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক সাহাবী একটি ক্ববরের উপর তার তাঁবু খাটান। তিনি জানতেন না যে, তা একটি কবর। তিনি হঠাৎ বুঝতে পারেন যে, ক্ববরে একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে। সে তা পাঠ করে সমাপ্ত করলো। তারপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এসে বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি একটি ক্ববরের উপর তাঁবু খাটাই। আমি জানতাম না যে, তা ক্ববর। হঠাৎ বুঝতে পারি যে, একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে এবং তা সমাপ্ত করেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ সূরাটি প্রতিরোধকারী নাজাত দানকারী। এটা কবরের আযাব হতে নাজাত দান করে। [জামে তিরমিযী, ফাযাইলুল কুরআন অধ্যায়, হাদীস নং ৩১৩৩] এখানে সূরা মুলকের তিলাওয়াতকারী লোকটি কে সেটা স্পষ্ট নয়। কবরবাসীও হতে পারে অথবা যে কোন জিয়ারতকারীও হতে পারে। যদি জিয়ারতকারীর তিলাওয়াত হয় তাহলে তা কবরস্থানে কুরআন তিলাওয়াতের দলীল। যদি আওয়াজটি কবরের ভিতর থেকে আসে তখন প্রমাণিত হয় যে এমন কিছু নেককার লোক আছেন তারা কবরের ভিতর জীবিত থাকেন এবং কুরআন তিলাওয়াত, নামায আদায় ও জীবিত মানুষদের জন্য দোয়া করেন। এর প্রমাণ স্বরূপ আমরা আরেকটি হাদীস শরীফ দেখতে পারি।
৪. হাদীস শরীফ-
عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أتيت- وفي رواية هداب مررت- على موسى ليلة أسري بي عند الكثيب الأحمر وهو قائم يصلي في قبره
অর্থ: ‘‘আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে রাত্রে আমার মি‘রাজ হয়েছিল সে রাত্রে আমি মূসা (‘আঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। লাল বালুকা স্তুপের নিকট তাঁর কবরে তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।
[সহীহ মুসলিম,ফাযাইল অধ্যায়,মূসা আলায়হিস্ সালাম এর মর্যাদা,হাদীস নং ৬৩০৬] হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম ইন্তিকালের হাজার বছর পর কবরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন। আবার তা দেখতে পাচ্ছেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম। সব মানুষকে যারা এক পাল্লায় মাপে তাদের জন্য এ হাদীসে কোন শিক্ষা কি নেই?

যিয়ারতের জন্য সফর করার বিরোধীদের খন্ডন
এভাবে অনেক হাদীস রয়েছে যাতে সুস্পষ্টভাবে কবরস্থানে কুরআন তিলাওয়াতের এমনকি কুরআন খতম করার নির্দেশও এসেছে।
যারা মাজার জিয়ারতের বিরোধিতা করে তারা নবীজির সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম একটি হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করে। হাদীসটি নিম্নরূপ-
لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد المسجد الحرام، ومسجد الرسول صلى الله عليه وسلم ومسجد الأقصى
অর্থ: (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) মসজিদুল হারাম, মসজিদুর রাসূল এবং মসজিদুল আক্সা (বায়তুল মাক্দিস) তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে (সালাতের) উদ্দেশে হাওদা বাঁধা যাবে না (অর্থাৎ সফর করা যাবে না)।’’ [সহীহ বুখারী, নামাযের ফযীলত অধ্যায়,হাদীস নং ১১৮৯] বস্তুত: এ হাদীসে মাজারের উদ্দেশ্যে সফর করার কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। মাজার সংলগ্ন মসজিদে নামাজ পড়তেও কোন আপত্তি নেই। এই হাদীসটি ‘মসজিদে হারাম’ ও ‘মসজিদে নববী’র ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসের অর্থ হচ্ছে তিনটি মসজিদ এবং মসজিদুল আক্বসা, মসজিদে হারাম, মদীনার মসজিদে নববী, ফিলিস্তিনের মসজিদে আকসা) ছাড়া অন্য কোন মসজিদে বেশী সওয়াবের আশায় যাওয়া হারাম। উদাহরণ স্বরূপ দেওয়ান বাজার মদীনা মসজিদের চেয়ে আন্দরকিল্লা মসজিদে অথবা জমিয়তুল ফালাহর চেয়ে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদে বেশী সওয়াব হবে এই আশায় সফর করা নিষেধ। কারণ এ তিন মসজিদ ছাড়া সব মসজিদে সাওয়াব সমান। সুতরাং সফরের কষ্ট ভোগের প্রয়োজন নেই। অবশ্য কোন ইমামকে যদি ভাল লাগে বা খতীবের ওয়াজ যদি অধিক পছন্দনীয় হয় তখনও ঐ মসজিদে যেতে কোন বাধা নেই। নামাযের সাওয়াব কিন্তু সমান। এখানে মাজার বা অন্য কোন সওয়াবের কাজে সফর করতে নিষেধ করা হয়নি। যদি সওয়াবের আশায় তিন মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফর করা হারাম হয় তাহলে ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা বা মায়ের সাথে সাক্ষাত করতে যাওয়া ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সফর করা হারাম হবে। সুতরাং যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফরে বাধা প্রদানকারীরা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে এবং মানুষের ক্ষতি করে। উভয়টিই গুনাহ্ ও গর্হিত।

নবী ও ওলীর মাজারে গেলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়
এ সম্পর্কে প্রথম কথা হচ্ছে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ বা পরিবর্তনের একমাত্র মালিক আল্লাহ তায়ালা। জান্নাত ও জাহান্নাম দেয়ার মালিকও আল্লাহ তাআলা। এবিষয়ে সবাই একমত। তাই বলে একজন অপরজনের জন্য দোয়া করতে নিষেধ নেই? এই দোয়ার কারণে কারো উপকার হয়। যদি উপকার না হয় তাহলে তো দোয়া করা অনর্থক হবে? আমরা আল্লাহর অলীগণের কাছে দোয়া নেয়ার বা তাদের ওসীলায় দোয়া করার জন্য যাই। কল্যাণ তো আল্লাহই করবেন। নিম্নে কয়েকটি দলীল উপস্থাপন করা হলো।
১. আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে –
وَ اخۡفِضۡ لَہُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحۡمَۃِ  وَ قُلۡ  رَّبِّ  ارۡحَمۡہُمَا کَمَا رَبَّیٰنِیۡ  صَغِیۡرًا
তরজমা: এবং তাদের (মাতাপিতা) জন্য নম্রতার বাহু বিছাও কোমল হৃদয়ে; আর আরয করো, ‘হে আমার রব! তুমি তাদের উভয়ের উপর দায় করো যেভাবে তারা উভয়ে আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করেছেন’। [ সূরা ইসরাঃ ২৪] ২. আবার পিতা কর্তৃক আপন সন্তানের কল্যাণের জন্য দোয়া করার শিক্ষাও কুরআনে পাওয়া যায়,
وَ اِذۡ  قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ رَبِّ اجۡعَلۡ ہٰذَا الۡبَلَدَ  اٰمِنًا وَّ اجۡنُبۡنِیۡ وَ بَنِیَّ  اَنۡ نَّعۡبُدَ  الۡاَصۡنَامَ
তরজমা: ‘‘এবং স্মরণ করুন! যখন ইব্রাহীম আরয করলো, ‘হে আমার প্রতিপালক! এ শহরকে নিরাপদ করে দাও এবং আমাকে ও আমার পুত্রদেরকে প্রতিমাগুলোর পূজা থেকে বিরত দূরে রাখো।’’ [সূরা ইবরাহীম ঃ ৩৫] ৩. কুরআন করীমের অন্য আয়াতেও ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম এর দোয়া এভাবে এসেছে –
رَبَّنَاۤ  اِنِّیۡۤ  اَسۡکَنۡتُ مِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ بِوَادٍ غَیۡرِ  ذِیۡ  زَرۡعٍ عِنۡدَ  بَیۡتِکَ  الۡمُحَرَّمِ ۙ رَبَّنَا لِیُـقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ فَاجۡعَلۡ اَفۡئِدَۃً مِّنَ النَّاسِ تَہۡوِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ وَارۡ زُقۡہُمۡ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَشۡکُرُوۡنَ.
তরজমা: ‘‘হে  আমার রব! আমি আমার কিছু বংশধরকে এমন এক উপত্যকায় বসবাস করালাম, যা’তে ক্ষেত হয় না- তোমার সম্মানিত ঘরের নিকট; হে আমাদের রব! এ জন্য যে, তারা নামায ক্বায়েম রাখবে। অতঃপর তুমি কিছু লোকের হৃদয়কে তাদের দিকে অনুরাগী করে দাও এবং তাদেরকে কিছু ফলমূল খেতে দাও, হয়তো তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।’’ [সূরা ইবরাহীমঃ৩৭] উপরের তিনটি সহ কুরআনের অনেক আয়াত ও অসংখ্য হাদীসে এক মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য দোয়া করার শিক্ষা পাওয়া যায়। দোয়ার কারণে মানুষের রিজিকসহ ভাগ্য পরিবর্তনের অসংখ্য উদাহরণ কুরআন হাদীসে বিদ্যমান। যদি তা না হয় তাহলে কুরআন হাদীসে বর্ণিত দোয়াগুলো অনর্থক হয়ে যায়। (নাঊযুবিল্লাহ)
আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম এবং আউলিয়ায়ে কিরামের মাজারে গিয়ে দোয়া চাওয়া ও তাদের উসীলা নিয়ে দোয়া করার দলীল কুরআন ও হাদীসে বিদ্যমান। এর দ্বারা বিপদ থেকে উদ্বার হওয়ার উদাহরণও পাওয়া যায়।
৪. আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَ ابۡتَغُوۡۤا اِلَیۡہِ الۡوَسِیۡلَۃَ وَ جَاهِدُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِہٖ  لَعَلَّکُمۡ  تُفۡلِحُوۡنَ.
তরজমা: ‘‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ্কে ভয় করো এবং তারই দিকে ‘ওয়াসীলা’ মাধ্যম তালাশ করো এবং তার পথে জিহাদ করো এ আশায় যে, সফলতা পেতে পারো।’’  [সূরা মায়দা ঃ ৩৫] দোয়া কবূল হওয়ার ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য আল্লাহ নিজেই ওয়াসীলা তথা মাধ্যম তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে কুরআনের আরেকটি আয়াত দেখুন।
৫. আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَ قَالَ لَہُمۡ نَبِیُّہُمۡ اِنَّ اٰیَۃَ مُلۡکِہٖۤ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمُ التَّابُوۡتُ فِیۡہِ سَکِیۡنَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَ بَقِیَّۃٌ   مِّمَّا تَرَکَ اٰلُ مُوۡسٰی وَ اٰلُ ہٰرُوۡنَ تَحۡمِلُہُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لَّکُمۡ  اِنۡ  کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ .
তরজমা: ‘‘এবং তাদেরকে তাদের নবী বললেন, ‘তার বাদশাহীর নির্দশন এই যে, তোমাদের নিকট. ‘‘তাবূত’’ আসবে, যার মধ্যে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে চিত্ত-প্রশান্তি রয়েছে এবং কিছু অবশিষ্ট বস্তু, সম্মানিত মূসা ও সম্মানিত হারুনের পরিত্যক্ত; সেটাকে ফিরিশ্তাগণ বহন করে আনবে।’ নিঃসন্দেহে, এর মধ্যে মহান নির্দশন রয়েছে তোমাদের জন্য যদি ঈমান রাখ।’’  [সূরা বাকারাঃ ২৪৮] যে ‘‘তাবূত’’ বা বাক্স এর ওয়াসীলায় দোয়া করার কারণে বনী ইসরাঈল যুদ্ধে শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করতো তা হচ্ছে -স্বর্ণের একটি প্লেট যাতে নবীগণের আলায়হিস্ সালাম সিনা মোবারক ধোয়া হতো, মুসা আলায়হিস্ সালাম ও হারূন আলায়হিস্ সালাম এর লাঠি, হারূন আলায়হিস্ সালামএর  কাপড় ও দুটি স্যান্ডেল।
[তাফসীরে ইবনে কাছীর (সঊদী আরবের কলেজ পর্যায়ে পাঠ্য), তাফসীরে ক্বুরতুবী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খন্ড ৮ পৃষ্ঠা] প্রশ্ন হলো পূর্ববর্তী নবীগণের আলায়হিস্ সালাম ব্যবহৃত জিনিস যদি উম্মতের জন্য নাজাতের ওয়াসীলা হয় তবে নবীজির সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠ উম্মত অলীগণের উসীলায় দোয়া কবুল হবে না?  যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলছেন –
৬. কুরআনে এসেছেঃ اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِیَآءَ اللّٰہِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا  هِمۡ  یَحۡزَنُون.
তরজমা: ‘‘শুনে নাও! নিশ্চয় আল্লাহ্র ওলীগণের না কোন ভয় আছে, না কোন দুঃখ।’’ [সুরা ইউনুসঃ ৬২] ৭. আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন,
وَ لَمَّا جَآءَهُمۡ کِتٰبٌ مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَہُمۡ  ۙ وَ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ یَسۡتَفۡتِحُوۡنَ عَلَی الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۚۖ فَلَمَّا جَآءَهُمۡ مَّا عَرَفُوۡا کَفَرُوۡا بِہٖ ۫ فَلَعۡنَۃُ اللّٰہِ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ .
তরজমা: ‘‘এবং যখন তাদের নিকট আল্লাহ্ তা’আলার ওই কিতাব (ক্বোরআন) এসেছে, যা তাদের সাথে রয়েছে এমন কিতাব (তাওরাত) এর সত্যায়ন করে এবং এর পূর্বে তারা ওই নবীর ‘ওসীলা’ ধরে কাফিরদের উপর বিজয় প্রার্থনা করতো; অতঃপর যখন তাদের নিকট সেই পরিচিত সত্তা তাশরীফ আনলেন তখন তাঁকে অস্বীকারকারী হয়ে বসলো। অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহ্র লা’নত।’’ [সূরা বাকারা ঃ ৮৯] নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করার পূর্বেই তাঁর ওয়াসীলা নিয়ে ইহূদী খৃস্টানরা দোয়া করেছে এবং বিজয় লাভ করেছে তার প্রমাণ উপরোক্ত আয়াতে বিদ্যমান। এখন যদি কোন উম্মত নবীজির সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ওয়াসীলা নিয়ে ঘরে বসে বা মদীনায় গিয়ে দোয়া করে তাতে কি শিরকের ফতোয়া দেয়া যাবে? যেটা হারাম বা শিরক সেটা নবী বা অলী সবার ক্ষেত্রেই হারাম। আর যদি নবীর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ওয়াসীলা নেয়া জায়েয হয় তবে অলীর ওসীলা নেওয়াও জায়েয।
দুঃখের বিষয় হচ্ছে- বাতিল আক্বীদার যেসব লোক অলীর দরবারে যাওয়া ও ওয়াসীলা নিয়ে দোয়া করা শিরক মনে করে তারা নবীর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ওসীলাকেও শিরক মনে করে। অথচ আল্লাহ বলছেন,
৮. কুরআন করীমে এসেছে-
وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا لِیُطَاعَ بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَ لَوۡ اَنَّہُمۡ اِذۡ ظَّلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ جَآءُوۡکَ فَاسۡتَغۡفَرُوا اللّٰہَ وَ اسۡتَغۡفَرَ لَہُمُ الرَّسُوۡلُ لَوَجَدُوا اللّٰہَ تَوَّابًا  رَّحِیۡما.
তরজমা: ‘‘এবং কোন রসূল প্রেরণ করিনি কিন্তু এ জন্য যে, আল্লাহ্র নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হবে; আর যদি কখনো তারা নিজেদের আত্মার প্রতি যুলুম করে তখন, হে মাহবুব! (তারা) আপনার দরবারে হাযির হয়, অতঃপর আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর রসূল তাদের পক্ষে সুপারিশ করেন, তবে অবশ্যই আল্লাহ্কে অত্যন্ত তাওবা কবূলকারী, দয়ালু পাবে।’’ [সূরা নিসাঃ৬৪] এ আয়াতের তাফসীরে ইবনে কাসীর একজন বেদুঈনের ঘটনা উল্লেখ করেছেন যিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের তিন দিন পর মদীনায় এসে রওজা পাক জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে রওজা থেকে গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা পেয়েছেন।
নিম্নের তিনটি হাদীসে আল্লাহর অলীর ওসীলায় বৃষ্টি হওয়া, প্রয়োজন পূরণ হওয়ার ব্যাপারে নবীজির সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। দেখুন – ৯. মুসনাদে ইমাম আহমদ, হাদীস নং ৮৯৬-
يسقى بهم الغيث وينتصر بهم على الأعداء ويصرف عن أهل الشام بهم العذاب.
অর্থ: ‘‘(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন) তাঁদের (আবদালগণের) ওসীলায় সকলের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয় শত্রুদের উপর বিজয় অর্জিত হয় এবং সিরিয়াবাসীদের উপর থেকে আযাব দূর করে দেওয়া হয়।’’
১০. মুজামুল কবীর লিত তাবরানী,হাদীস নং ১৩১৫৩-
্রعن ابن عمر رضي الله عنه،  قال:  إن لله عز وجل خلقا خلقهم لحوائج الناس يفزع الناس إليهم في حوائجهم أولئك الآمنون من عذاب الله.
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন) ‘‘আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছে, যাদেরকে আল্লাহ মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ তাদের কাছে নিজের অভাব অভিযোগ নিয়ে ছুটে যায়। তারা আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপত্তাপ্রাপ্ত।’’
১১. মুজামুল কবীর,হাদীস নং ১০৩৬৭-
” إذا انفلتت دابة أحدكم بأرض فلاة فليناد: يا عباد الله، احبسوا علي، يا عباد الله احبسوا علي؛ فإن لله في الأرض حاضرا سيحبسه عليكم ”
অর্থ:‘‘ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন) যদি কোন নির্জন প্রান্তরে কারো জন্তু তথা বাহন হারিয়ে যায় তখন সে যেন এভাবে ডাক দেয় -’’ হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমাকে উদ্ধার করুন। হে আল্লাহর বান্দাগণ! আমাকে উদ্ধার করুন। তখন আল্লাহর এমন কতগুলো বান্দা আছেন যারা তোমাদেরকে উদ্ধার করবেন।’’
(বি. দ্র. সিহাহ সিত্তাহর হাদীস নাম্বারগুলো আল রিদা এপস (Al reda apps) এবং অন্যান্য কিতাবের হাদীস নাম্বারগুলো ছাপানো কিতাব থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।)