মহাবিপদ সংকেত উপেক্ষা করে লাখো লাখো নবীপ্রেমিকের ঢল নেমেছিল চট্টগ্রামের জসনে জুলুসে

0

মহাবিপদ সংকেত উপেক্ষা করে লাখো লাখো
 নবীপ্রেমিকের ঢল নেমেছিল চট্টগ্রামের জসনে জুলুসে>

গত ১০ নভেম্বর, ১২ রবিউল আউয়াল ছিল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম। আজ থেকে প্রায় দেড়হাজার বছর পূর্বের এই দিনে এই ধরার বুকে শুভাগমন করেছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম । তিনি সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত হয়ে এসেছিলেন। তাই, তাঁর শুভাগমনের এই দিন সমগ্র সৃষ্টির জন্য খুশির দিন ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম। ঐতিহ্যবাহী জসনে জুলুস’র দিনটি উদযাপনে আয়োজক ছিল আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। এজন্য চট্টগ্রামে ছিল উথসবের মহা আমেজ। লাখো লাখো মানুষের ঢল নামে এই জুলুসে। চট্টগ্রামে মহাবিপদ সংকেত থাকা সতে¦ও তা উপেক্ষা করে ভোর হতে না হতেই জুলুসে অংশ নিতে উদগ্রীব জনতা চট্টগ্রাম ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১০টায় আওলাদে রাসুল,দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মা.জি.আ)’র নেতৃত্ব ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ্ শরিফ থেকে বের হয় এই জসনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম। তাঁর সাথে ছিলেন দুই সাহেবজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ এবং আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামিদ শাহ্ (মা.জি.আ)। জুলুসটি মুরাদপুর হয়ে চকবাজার, দিদার মার্কেট, আন্দরকিল্লা, প্রেসক্লাব, কাজীর দেউড়ী, ওয়াসা, জিইসি, মুরাদপুর হয়ে পুনরায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ময়দানে বিকেল আড়াইটায় ফিরে আসে। জুলুসটি কাজীর দেউড়ী এসে পৌঁছলে সেখানে তৈরিকৃত মঞ্চে বক্তব্য রাখেন সাহেবজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্(মা.জি.আ), আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামিদ শাহ্ (মা.জি.আ) এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ সূফি মিজানুর রহমান। এখানে দেশ ও বিশ্বমুসলিমদের শান্তি কামনায় মুনাজাত করেন হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মাজিআ)।

জামেয়া ময়দানে জুলুসটি ফিরে আসার পর যোহর নামাজ শেষে হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মাজিআ) এবং সাহেবজাদাদ্বয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মা.জি.আ) এবং প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামিদ শাহ্ (মাজিআ)। এতে বক্তব্য রাখেন আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র ‘সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ সূফি মিজানুর রহমান, জেমস ফিনলের এম ডি আহমেদ কামরুল ইসলাম ওবিই, সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, আনজুমান ট্রাস্ট’র এডিশনাল সেক্রেটারি ও জুলুস সাব-কমিটির আহবায়ক আলহাজ মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি আলহাজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক, এ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল সেক্রেটারী আলহাজ¦ এস.এম. গিয়াস উদ্দিন শাকের, ফাইন্যান্স সেক্রেটারী আলহাজ্ব¡ মুহাম্মদ সিরাজুল হক, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী প্রফেসর আলহাজ¦ কাজী শামসুর রহমান,গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার এবং জামেয়ার চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলহাজ¦ দিদারুল ইসলাম। যোহরের পূর্বে জসনে জুলুস ও ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র তাথপর্য বিষয়ে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী, অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান, উপাধ্যক্ষ ড. মাওলানা লিয়াকত আলী, আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান, শাইখুল হাদিস হাফেজ মাওলানা সোলায়মান আনসারী,শাইখুল হাদিস মাওলানা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফি, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাসেম মুহাম্মদ ফজলুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলম রেজভী, অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তৈয়ব চৌধুরী, মাওলানা মনিরুজ্জমান আলকাদেরী ওলামায়ে কেরামবৃন্দ প্রমুখ।
এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার ও মাওলানা হাফেজ আনিসুজ্জামান আলকাদেরীর সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনজুমান সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ তৈয়বুর রহমান, আলহাজ¦ নূর মোহাম্মদ কন্ট্রাক্টর, আলহাজ¦ নূরুল আমিন, আলহাজ¦ শেখ নাছির উদ্দিন, আলহাজ¦ মোহাম্মদ আলী, আলহাজ¦ আবদুস সাত্তার, আলহাজ¦ এস শরফুদ্দিন মুহাম্মদ শওকত আলী খাঁন শাহীন, আলহাজ¦ আবদুল মোনাফ সিকদার, আলহাজ¦ মুহাম্মদ হাসানুর রশীদ রিপন, আলহাজ¦ মুহাম্মদ আব্দুল হাই মাসুম প্রমুখ। গাউসিয়া কমিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবদুল হামিদ, মহাসচিব সাহাজাদ ইবনে দিদার, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবুল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব এলাহী শিকদার, গাউসিয়া কমিটি চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সেকান্দর মিয়া ও সদস্য সচিব আলহাজ্ব সাদেক হোসেন পাপ্পু, সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ মুহাম্মদ আবুল মনছুর, সাবেক সম্পাদক আলহাজ¦ মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আজহারুল হক আজাদ, সাবেক অর্থ সম্পাদক আলহাজ¦ মুহাম্মদ মনোয়ার হোসেন মুনèা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ নুরউদ্দিন, মুহাম্মদ সরুজসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-সদস্যবৃন্দ,চট্টগ্রাম দক্ষিণের সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ কমরুদ্দিন সবুর, সম্পাদক আলহাজ্ব হাবিবুল্লাহ্ মাস্টারসহ সর্বসÍরের কর্মকর্তা-সদস্যবৃন্দ, চট্টগ্রাম উত্তরের সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ সর্বসÍরের কর্মকর্তা-সদস্যবৃন্দ,পীরভাই ও আশেকানবৃন্দ।
বক্তাগন বলেন, রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র চেয়ে আল্লাহর বড় কোন নেয়ামত এ সৃষ্টি জগতে নেই। তাঁকে সৃষ্টি না করা হলে কিছুই সৃষ্টি করতেন না মহান আল্লাহপাক। তাই, নবীজির শুভাগমনে ঈমানদারগন খুশীতে আজ আত্মহারা। আর, এমন খুশী উদযাপন কোরানে করিমের নির্দেশ। তারা বলেন, আজ সমগ্র বিশ্বব্যাপি চলছে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম। এটা নতুন কোন আয়োজন নয়। স্বয়ং প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবা (রা) গণ তাঁদের মত করে মীলাদের আয়োজন করার দলিল রয়েছে। আজ প্রায় চৌদ্দশত বছর ধরে সে রেওয়াজ চালু আছে। বর্তমান বিশ্বের বহুদেশে জসনে জুলুসসহ নানা আয়োজনে জসনে জুলুস পালন করা হচ্ছে। তবে, উপস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বের সর্ববৃহথ জুলুস হল চট্টগ্রামের এই জুলুসটি। আজকের এই জুলুসে ৯ নং বিপদসংকেত সত্ত্বেও অন্তত ৬০ লাখ মানুষের অংশগ্রহন হয়েছে। বক্তাগন, বাংলাদেশে জসনে জুলুস প্রবর্তনের জন্য গাউসে জামান, আল্লামা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি আলায়হির শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ১৯৭৪ সনে তাঁরই নির্দেশে সর্বপ্রথম এ দেশে জসবে জুলুস চালু হয়। হিজরি সন অনুসারে এ বছর উদযাপিত হল ৪৮তম জসনে জুলুস। আর আজকের জুলুসে নেতৃত্ব দানকারী হুজুর কেবলা আল্লামা তাহের শাহ্ (মাজিআ) এ বছর এদেশে তাঁর ৩৮তম জসনে জুলুসে নেতৃত্ব দিলেন। আনজুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহসিন এ বৃহথ জশনে জুলুসে সরকারী-বেসরকারী, বিশেষ করে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন, ওয়াসা, বিদ্যুথ বিভাগসহ যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন জশনে জুলুস করায় আগত সকলের প্রতি মোবারকবাদ জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে, মিলাদ -কেয়াম, যোহর, আছরের নামাজের জামাত’র পর, জুলুসের নেতৃত্বদান ও মাহফিলের ছদারতকারী হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মাজিআ) হাজার হাজার মুসলমানকে সিলসিলায়ে আলীয়া কাদেরিয়ায় বায়াত করান। আখেরী মুনাজাতে জুলুসে উপস্থিত আকেকানবৃন্দসহ বাংলাদেশের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশ্ববাসীর জন্য দো’য়া করেন।