দরসে কোরআন

0

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
يُسَبِّحُ لِلّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأُمِّيِّينَ رَسُولا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُّبِينٍ وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ذَلِكَ فَضْلُ اللهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللهِ وَاللهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

 দরসে কোরআন : অধ্যক্ষ হাফেয কাজী আবদুল আলীম রিজভী

তরজমাঃ (মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন) আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছে যা কিছু নভোঃমন্ডলে রয়েছে এবং যা কিছু ভূ-মন্ডলে রয়েছে, যিনি বাদশাহ, পূর্ণ পবিত্রতাময়, মহা সম্মানিত, প্রজ্ঞাময়। তিনিই, যিনি উম্মী লোকদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেন, যেন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমতের জ্ঞান দান করেন। আর নিশ্চয় তারা ইতোঃপূর্বে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে ছিল। এবং তাদের মধ্য থেকে অন্যান্যদেরকে পবিত্র করেন। এবং জ্ঞান দান করে তাদেরকে, যারা ওই পূর্ববর্তীদের সাথে মিলিত হয়নি। এবং তিনিই মহা সম্মানিত ও প্রজ্ঞাময়। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে চান দান করেন, এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। তাদের দৃষ্টান্ত, যাদের উপর তাওরাত অর্পন করা হয়েছিল অতঃপর তারা সেটার নির্দেশ পালন করেনি গর্দভের ন্যায়, যা পিঠের উপর কিতাবের বোঝা বহণ করে। কতই মন্দ দৃষ্টান্ত ওই সমস্ত লোকের, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। এবং আল্লাহ জালিমদেরকে সথপথ প্রদান করেন না। [সূরা জুমুআহ, ১-৫ নং আয়াত]

আনুষঙ্গিক আলোচনা
আল-মুসাব্বাহাত
তাফসীর শাস্ত্র বিশারদ ওলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন কুরআনে কারীমের যে সকল সূরা سبّح কিংবা يسبّح শব্দ দ্বারা শুরু করা হয়েছে এ সূরাগুলোকে المسبّحات নামে অভিহিত করা হয়। سبّح আর يسبّح মানে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পবিত্রতা-পরিশুদ্ধি ও গুণকীর্তণ করেছে ও করছে। নভোঃমন্ডল-ভূমন্ডল, সূর্য-চন্দ্র মানব-দানব-ফেরেশতাসহ ক্ষুদ্র-বৃহথ, দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সকল সৃষ্টিই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পবিত্রতা মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের গুনগান করে চলেছে সর্বক্ষণ আপন আপন পদ্ধতিতে। যেমন, কোরআনে মাজীদে এরশাদ হয়েছে, وان من شئ الا يسبّح بحمده ولكن لاتفقهون تسبيحهم অর্থাথ সকল সৃষ্ট বস্তুই মহান আল্লাহর প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে। কিন্তু তোমরা (অর্থাথ মানব মন্ডলী) তাদের তাসবিহ উপলব্ধি করতে পার না। সৃষ্ট জগতের প্রতিটি অনু-পরমানুতার প্রজ্ঞাময় ¯্রষ্টার প্রজ্ঞা ও অপার শক্তি-সামর্থ্যরে সাক্ষ্যদাতা। এটাই তার তাসবিহ পাঠ ও গুণ-কীর্তন বর্ণনা। কেননা, মহান আল্লাহ প্রত্যেক জড় ও জীব পদার্থের মধ্যে তার সাধ্যানুযায়ী চেতনা-অনুভুতি সঞ্চার করেছেন। এই চেতনা ও অনুভূতির অপরিহার্য দাবী হচ্ছে আপন ¯্রষ্টার পবিত্রতা-পরিশুদ্ধি ঘোষণা। কিন্তু এসব বস্তুর তাসবিহ পাঠ মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রায্য ও বোধগম্য বিষয় নয়।
المسبّحات এর অধিকাংশ সূরার শুরুতে অতীতকাল জ্ঞাপক سبّح উল্লিখিত হয়েছে। শুধু সূরা জুমআহ্ ও সূরা আততাগাবুনে ভবিষ্যতকাল জ্ঞাপক শব্দ উক্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরবি অলংকার শাস্ত্রের ভাষ্য হলো, অতীত পদবাচ্য নিশ্চয়তা বোঝায়। এজন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাই ব্যবহৃত হয়েছে আর ভবিষ্যত পদবাচ্য সদা সর্বদা হওয়া বোঝায়। তাই এ অর্থ বুঝাবার জন্য দুই সূরার শুরুতে يسبّح এই পদ ব্যবহার করা হয়েছে।

هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا منهم الخ
উদ্ধৃত আল্লাহর পবিত্র বাণী “তিনিই যিনি উম্মী লোকদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন। এর ব্যাখ্যায় মুফাসসেরীনে কেরাম উল্লেখ করেছেন উদ্ধৃত আয়াতে মহান আল্লাহর সার্বভৌম কুদরত ও অপার শক্তিমত্তা এবং মানবজাতির উপর অপরিসীম নেয়ামত এর বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ নবিকুল সরদার মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরণ ও নবির তিনটি শ্রেষ্ঠতম গুণ-বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লিখিত হয়েছে। তিনটি গুণ বৈশিষ্ট্য হলো ঃ যথাক্রমে ক. উম্মতের সম্মুখে কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত খ. উম্মতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন সকল প্রকার অপবিত্র থেকে পবিত্র-পরিশুদ্ধ করণ। গ. আল্লাহ প্রদত্ত কোরআন মাজিদ ও হিকমত তথা হাদিসে নববী শরীফ উম্মতকে শিক্ষা দান।
উল্লেখ্য যে, এ তিনটি বিষয়ই উম্মতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য যেমন মহান আল্লাহর বিশেষ ও শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত, তেমনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উল্লেখযোগ্য মুজেযা, যার মাধ্যমে তিনি কুফর-শিরক এ নিমজ্জিত ও ঐশি জ্ঞান বিবর্জিত আরব জাতির মধ্যেই এমন সুপন্ডিত ও দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটল, যাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, কুশলতা এবং উথকৃষ্ট কর্মপ্রতিভা সারা বিশে^র স্বীকৃতি ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রসঙ্গ: উম্মী নবি
উম্মী শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো নিরক্ষর, যে লেখা-পড়া জানে না। এ অর্থে “উম্মী” শব্দটি নবির শানে ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কুফুরী। (নাউজুবিল্লাহ) কেননা, নবিকুল সরদার মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদি-অন্ত, দৃশ্যমান-অদৃশ্য, ক্ষুদ্র-বৃহথ, ইহ-পরকাল, জি¦ন-ইনসান-ফেরেশতা এককথায় ¯্রষ্টা ও সৃষ্টিকুল সম্পর্কিত সকল প্রকার জ্ঞানের ধারক-বাহক সত্ত্বা তিনি, এর সমর্থনে কুরআনে কারীমের আয়াত ও হাদিসে নববি শরীফের রেওয়ায়াত অসংখ্য-অজ¯্র। যথা ঃ কুরআনে কারীমে এরশাদ হয়েছে, الرحمان ، علّم القرأن অর্থাথ দয়াময় আল্লাহ কুরআনে কারীমের তালীম দিয়েছেন তাঁর প্রিয়তম হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, انّك لتلقى القرأن من لدن حكيم عليم অর্থাথ নিশ্চয় আপনাকে কুরআন মজিদ শিক্ষা দান করা হয় সর্বজ্ঞ ও মহান প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর সূরা নাহলের ৮৯ নং আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ونزّلنا عليك الكتاب تبيانا لكلّ شئ অর্থাথ ওহে রাসূল দ.! আমি আল্লাহ আপনার উপর সকল বস্তুর সুস্পষ্ট ও বিশদ বর্ণনা সম্বলিত মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি। (সুবহানাল্লাহ) মহাগ্রন্থ আল কুরআন যা ¯্রষ্টা ও সৃষ্টিকুল সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের জ্ঞানে সমৃদ্ধ ঐশি গ্রন্থ। আর সেই কুরআনের তালিম স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই নবিকে দান করেছেন। এখানে গভিরভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সকল প্রকার জ্ঞানের ভান্ডার হিসাবে কুরআনে কারীম সমৃদ্ধ, পরিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আর তালিম দানকারী সত্ত্বা হিসাবে মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, মহা প্রজ্ঞাময় ও স্বয়ং সম্পূর্ণ। ঘাটতি কিংবা কমতি তো কোথাও নেই। এরপরও মহান আল্লাহ আরো খোলাসা করে এরশাদ করেছেন, وعلّمك مالم تكن تعلم وكان فضل الله عليك عظيما অর্থাথ আর মহান আল্লাহ আপনি নবিকে তালিম দিয়েছেন যা কিছু আপনি জানতেন না। এবং আপনার উপর মহান আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।
আর হাদিসে নববী শরীফে এরশাদ হয়েছে, اعطيت علم الاوّلين والاخرين অর্থাথ আমি নবিকে আদি-অন্তের সকল বিষয়ের সর্বময় জ্ঞান দান করা হয়েছে। অন্য রেওয়ায়াতে এরশাদ হয়েছে, بعثت معلّما অর্থাথ আমি নবি পৃথিবী পৃষ্ঠে মুআল্লিম তথা শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছ্।ি
উপরোক্ত আয়াতে কুরআন ও হাদিসে নববী শরীফের আলোকে প্রমাণিত, রহমতে আলম নূরে মুজাস্সাম আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদি-অন্ত, আওয়াল-আখের, ¯্রষ্টা ও সৃষ্টিকুল সম্পর্কিত সকল প্রকার জ্ঞানে সমৃদ্ধ। সমগ্র মানব-ও জ¦ীন জাতিকে আল্লাহর কুরআন ও হাদিসে নববী শরীফের তালীম দানকারী সত্ত্বা সৃষ্টিকুলের নিকট মুআল্লিম তথা শিক্ষকরূপে প্রেরিত নবিকে নিরক্ষর বলে অভিহিত করা কিংবা মনে করা কতটুকু যৌক্তিক ও ন্যায় সঙ্গত এটা কি শানে রিসালাতে জঘন্যতম অবিচার ও বেয়াদবি নয়? শানে রিসালাতের তাজিম ফরজে আইন। সুতরাং এহেন অবমাননাকর শব্দ নবির শানে ব্যবহার করা সুস্পষ্ট কুফরী। (নাউযুবিল্লাহ)
উল্লেখ থাকে যে, রাসূলে খোদা আশরাফে আম্বিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখতে জানতেন। যেমন, সহিহ বুখারী শরীফে ‘‘হুদায়বিয়ার সন্ধি” শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লিখিত রয়েছে হুদায়বিয়ার সন্ধি চুড়ান্ত হলে আল্লাহর নবির পক্ষ হতে প্রতিনিধি স্বরূপ সন্ধিপত্রে মাওলা আলী শেরে খোদা স্বাক্ষর করেন এ বলে,من محمّد رسول الله অর্থাথ আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে স্বাক্ষর করলাম। এতে কাফেরগণ সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি করল আমরা তো মুহাম্মদকে আল্লাহর রাসূল বলে মানি না। আমরা তো তাঁকে আব্দুল্লাহর পুত্র বলে জানি। সুতরাং “আল্লাহর রাসূল” অংশটুকু মুছে ফেলতে হবে। আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে উক্ত অংশটুকু মুছে ফেলতে বললে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু এতে অপারগতা প্রকাশ করে বিরত রইলেন। তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলীর হাত থেকে কলম নিয়ে “আল্লাহর রাসূল” মুছে দিলেন এবং আব্দুল্লাহর পুত্র অংশটুকু তদস্থলে নিজের হাতে লিপিবদ্ধ করে দিলেন। অতঃপর কাফেরগণও স্বাক্ষর করে। সন্ধি চুড়ান্ত হয়। এ রেওয়ায়াতের আলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখতে জানতেন। তবে সচরাচর লিখতেন না। অহি অবতীর্ণ হলে কাতেবে অহি সাহাবীদের মারফত অহি লিপিবব্ধ করে সংরক্ষণ করতেন। যাতে কাফের-বেদ্বীনরা প্রপাগান্ডা ছড়াতে সক্ষম না হয় যে,এটা মুহাম্মদ এর নিজের হাতের লেখা। ঐশী বাণী নয়। এছাড়া আরো অনেক অকাট্ট দলিল-প্রমাণাদি বিদ্যমান যাদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল লিখতে জানতেন।
অতএব আল্লাহর রাসূলের শানে ব্যবহৃত উম্মী শব্দের অর্থ কী? এর ব্যাখ্যায় মুফাসসেরীনে কেরাম বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কোনো কোনো তাফসীর বিশারদ বলেছেন, আরবিতে উম্মুন মানে মাতা, মূল। মা সন্তানের অস্তিত্বের জন্য মূল উথস হিসেবে মাকে উম্মুন বলা হয়। অনুরূপভাবে আল্লাহর হাবিব সমগ্র সৃষ্টির অস্তিত্বের মূল। যেহেতু আল্লাহর রাসূল সর্বপ্রথম সৃষ্টি। আর নবির মাধ্যমে অন্যান্য সকল সৃষ্টি অস্তিত্বের জগতে আগমন করে। এ অর্থেই নবিকে উম্মুল খাল্ক তথা উম্মী বলে অবহিত করা হয়।
আবার কেউ কেউ বলেন, মক্কাশরীফের অপর নাম “উম্মুল কুরা” তথা জনপদ জননী। অতএব পবিত্র উম্মুল কুরা নগরীতে আবির্ভূত হওয়ার কারণে উম্মুল কুরার প্রতি সম্পর্কিত করে ‘উম্মী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
কারো কারো মতে মক্কাবাসিদেরকে কুরআনে কারীমে “উম্মীয়্যুন” বলে অভিহিত করা হয়েছে। আর তাদের প্রতি আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবির্ভূত হন। এজন্য রাসূলে খোদাকে “উম্মী” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অর্থাথ উম্মীদের আবির্ভূত নবি।
আ‘লা হযরত মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত ইমাম আহমদ রেযা খাঁ ফাজেলে ব্রেলভী রহ. বিশ^বিখ্যাত অনুবাদ গ্রন্থ “কানযুল ঈমান” এ “উম্মী” শব্দের অনুবাদ করেছেন, “বে পড়হে” অর্থাথ পড়াবিহীন। যেহেতু তিনি পৃথিবী পৃষ্ঠে কারো নিকট কোনরূপ পাঠ গ্রহণ করেন নি। এজন্য তাঁকে “উম্মী” বলে অভিহিত করা হয়েছে। ছদরুল আফাজেল সৈয়্যদ নঈমুদ্দিন মুরাদাবাদী রহ.বলেন,আ‘লা হযরত রহ. এর অনুবাদ হুবহু সাইয়্যেদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা মুতাবেকই হয়েছে।
এছাড়া আরো অনেক সুদৃঢ় দলিল (তাফসীরে খাযায়েনুল ইরফান) প্রমাণাদি বিদ্যমান যাদ্বারা প্রতিভাত হয় আল্লাহর নবির শানে “উম্মী” শব্দটি নিরক্ষর অর্থে ব্যবহার করা হারাম, কুফরী।

লেখক: অধ্যক্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদরাসা, মুহাম্মদপুর, ঢাকা।