এ চাঁদ এ মাস: মাহে রবি‘উল আউয়াল

0

এ চাঁদ এ মাস: মাহে রবি‘উল আউয়াল

ইয়া নবী সালামু আলায়কা, ইয়া রাসূল সালামু আলায়কা,
ইয়া হাবীব সালামু আলায়কা, সালাওয়াতুল্লাহ আলায়কা।

দরূদ ও সালামের মাস, ঈদ-এ মীলাদুন্নবীর মাস মাহে রবি‘উল আউয়াল বর্ষ ঘুরে আবার সমাগত। ঋতুরাজ বসন্তের এ মাস বিশ্বমুসলিমের হৃদয়কে গভীর অনুভূতিতে নাড়া দিতে আবার উপস্থিত। ঘরে-ঘরে, পাড়ায়-পাড়ায় মহল্লায়-মহল্লায়, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে সর্বত্র সাড়া পড়ে যায় ঈদ উদ্যাপনের। সকলে এ মাসে ঈদ-এ মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে খোদার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে ধন্য হতে ব্যস্ত। আয়োজিত হচ্ছে বড় বড় মাহফিল। এ সঙ্গে ব্যক্তিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় জীবনে শান্তিময় সে আদর্শের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টায় মানসিক ও ব্যবহারিক দিক থেকেও এ মাসে পাচ্ছে এক নতুন উথসাহ, উদ্দীপনা ও গতিময়তা।

এ মাস হচ্ছে গুনাহগার বান্দাদের আত্মাসংশোধনের মাস এবং পাপাচার, অন্যায় হতে তাওবা করার প্রকৃত সময়। রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর উসিলা দিয়ে এ মাসে যে সব মুসলমান দোয়া করবেন খোদার অনুগ্রহে তাদের দু‘য়া কবুল হবার সৌভাগ্য নসিব হবার পূর্ণ আশা। স্মরণযোগ্য যে, আবু লাহাব কাফির হওয়া সত্ত্বেও আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমনের সংবাদ শুনে একজন বাঁদীকে আজাদ করার কারণে যদি খোদা তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহ অর্জন করার অধিকারী হতে পারে তবে নবুীয়ে আক্বদাস সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের প্রকৃত অনুসারীগণ যে, আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করবেন তাতে সন্দেহের কি অবকাশ থাকতে পারে? অধিকন্তু এ মাসে আল্লাহ্ তা‘আলার বিশেষ রহমত ও বরকত সারা জাহানে বর্ষিত হয় বিধায় দ্বীন ও দুনিয়া উভয় জাহানের কামিয়াবী হাসিলের মাস হিসেবে এ মাসকে যথাযোগ্য সমাদর ও গুরুত্ব দেয়া অপরিহার্য।

এ মাসের নফল নামায ও দো‘আ
রবি‘উল আউয়াল মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর মাগরীব ও আওয়াবীনের নামায আদায়ের পরে দুই রাকাত নফল নামায পড়বেন। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর তিনবার সূরা ইখলাস পড়বেন। সালাম ফিরানোর পর ১০০ বার নিম্নের দরূদ শরীফটি পাঠ করবেন-
দরূদ- আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলে সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহার্মা রাহিমীন।

অতঃপর মুনাজাত করবেন ইন্শাআল্লাহ হাজত পূর্ণ হবে। এরূপ একই নিয়মে দুই রাকাত করে ষোল রাকাত নামায আদায় করা অত্যন্ত উপকারী। অতঃপর ১০০০ বার দরূদ শরীফ পড়বেন। তৃতীয় ও চতুর্থ সন্ধ্যায় চার রাকাত করে নামায আদায় করতে পারেন। প্রতি রাকাতে আয়াতুল কুরসী ৯ বার, তোয়াহা ১ বার; ইয়াসীন ১ বার এবং ৩ বার সূরা ইখলাস পাঠ করবেন। অতঃপর দরূদ পাঠান্তে মুনাজাত করবেন। বর্ণিত আছে যে মাসের প্রথম তারিখ হতে আরম্ভ করে শেষাবধি প্রত্যহ ইশার নামাযান্তে এক হাজার পাঁচশত পঁচিশবার নিম্নের দরূদ শরীফ পাঠ করলে স্বপ্নযোগে হুজূর আন্ওয়ার সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দীদার নসীব হবে। দরূদ শরীফ নিম্নরূপ-
দরূদ- আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লায়তা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।

মাসের বার তারিখে হুজূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রূহ মোবারকের প্রতি নিবেদন করে দুই রাকাত বিশিষ্ট ২০ রাকাত নফল নামায প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস ১১বার পাঠান্তে আদায় করবেন। এর ফলে আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দীদার নসীব হবে।

উক্ত দিন জশ্নে জুলূসে ঈদ-এ মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এ শরীক হওয়াও আল্লাহ্র প্রতি শোকর গুজারির নিদর্শন। এ দিন ৩৬০ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা বুজুর্গানে কেরামের প্রদর্শিত আমলের অন্তর্ভূক্ত। ২১ তারিখ ২রাকাত করে নফল নামায আদায় করবেন। সম্ভব হলে প্রতি রাকাতে সূরা মুজাম্মিল কিংবা অপর কোন সূরা দ্বারা। সালাম ফিরানোর পর সাজদায় পতিত হয়ে আল্লাহ্র কাছে স্বীয় প্রার্থনা নিবেদন করবেন। তাছাড়া একাগ্রচিত্তে নিম্নের দো’য়া পড়বেন-
দু‘আ– এয়া গাফূরু গার্ফাতা বিল গুফ্রি ওয়াল গুফ্রু ফি গুফরি গুফরিকা এয়া গাফূরু।
বিশেষত: এ মাসে মুসলিম বিশ্বের কল্যাণ, সংহতি ও ঐক্যের জন্য মুনাজাত করবেন এবং স্বীয় দেশ ও দশের কল্যাণে খোদার দরবারে প্রার্থনা জানাবেন। আর এ কথাও বলা বাহুল্য যে, এ মাসের আয়োজিত মীলাদ মাহফিল, আলোচনা, জশ্নে জুলূস ইত্যাদিতে শরীক হওয়া অতীব পূণ্যময় এবং উভয় জগতের উন্নতি, বরকত ও সাফল্যের মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত।

এ মাসে ওফাত প্রাপ্ত ক‘জন অলী
১. রবি‘উল আউয়াল: খাজা বাহাউদ্দীন নক্সবন্দী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি।
১৩. রবি‘উল আউয়াল: হযরত সাবির কল্য়রী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি।
১৪. রবি‘উল আউয়াল: খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কা‘কী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি।
২১. রবি‘উল আউয়াল: শায়খ আবদুল হক্ব মুহাদ্দিস দেহলভী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি।