চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস উপলক্ষে আনজুমান ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলন

0

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জসনে জুলুস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন আওলাদে রসূল, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মা.জি. আ), বিগত বছরের চেয়ে বেশি লোক সমাগমের আশাবাদ

আগামি ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে,আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী জসনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী। ৩ নভেম্বর রবিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এ উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’ কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দিতে হুজুর কেবলা, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মাজিআ) ৪ নভেম্বর সোমবার সকালে চট্টগ্রাম তশরিফ আনবেন। আর হুজুর কেবলার শুভাগমন ও জসনে জুলুসে নেতৃত্ব দেবার খবরে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তাই, এবারের জুলুসে বিগতবছরের চেয়ে বহু বেশি লোকসমাগম আশা করছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আনজুমান ট্রাস্ট’র উপদেষ্টা এবং পি এইচ পি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ সূফি মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব ও মুনাজাত করেন ট্রাস্ট’র সি ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ মোহাম্মদ মহসীন। উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট’র সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডশনাল সেক্রেটারি আলহাজ মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সিরাজুল হক, এ জি এস আলহাজ মোহাম্মদ গিয়াসুদ্দিন সাকের, প্রেস এন্ড পাবলিকেসন সেক্রেটারি অধ্যাপক কাজী শামসুর রহমান, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিদারুল ইসলাম, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, সংবাদ সম্মেলন সন্ঞ্চালন করেন মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার।

অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন আলহাজ মাহবুব খাঁন, সাদেক হোসেন পাপ্পু, আলহাজ ছাবের আহমদ, সাইফুল আলম সিদ্দিকি রানা, জাহাংগির আলম চৌ, আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়্যব আলী প্রমুখ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের এক উত্তরে আলহাজ সূফি মিজানুর রহমান বলেন, এবারের জুলুসে ষাট লাখ মানুষের অংশ গ্রহন আশা করা যায়, যা বিশ্বসেরা জুলুস হিসেবে সচেতন সমাজে স্বীকৃত এবং একে গিনেস বুক রেকর্ডভুক্ত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।তিনি তাঁর হেলিকপ্টারে জসনে জুলুস দেখার, এবং একে বিভিন্ন মিডিয়ায় সম্প্রচারের জন্য আমন্ত্রন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জসনে জুলুসের মত এমন নির্মল শরিয়ত সম্মত সংস্কৃতির প্রবর্তনের জন্য এদেশবাসী গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হির কাছে চিরঋণী থাকবে।

১৯৭৪ সনে তাঁর নির্দেশে আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায়, আলহাজ নুর মুহাম্মদ আল কাদেরীর নেতৃত্বে যে জসনে জুলুস চট্টগ্রামের বলুয়ারদীঘি খানকাহ্ শরিফ থেকে প্রথম শুরু হয়েছিল আজ এর অনুসরণে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা, গ্রাম-গ্রামান্তরে হাজার হাজার জুলুস বের হচ্ছে, যা হুজুর কেবলারই কৃতিত্ব। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ্ হিজরি সনের হিসাব অনুসারে আগামি রবিবারে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য জসনে জুলুস হবে ৪৮ তম আয়োজন, আর হুজুর কেবলা তাহের শাহ্ নেতৃত্ব দেবেন ৩৪ তম জুলুসে। এখন জসনে জুলুসের আয়োজক আনজুমান ট্রাস্ট হলেও এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ, কারণ এ জুলুস এরিমধ্যে চট্টগ্রামের ইতিহাস -ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এটা চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় উসব, এবং বিশ্বের সেরা জসনে জুলুস হিসেবে স্বীকৃত। জসনে জুলুস শুরু হবে সকাল ৯ টায় চট্টগ্রাম ষোলশহর আলমগীর খানকাহ্ শরিফ হতে এবং বিবিরহাট হয়ে মুরাদপুর, মির্জাপুল, কাতালগন্জ, চকবাজার, প্যারেড কর্নার, সিরাজুদৌলা রোড, আন্দরকিল্লা, মোমিনরোড, জামালখাঁন, প্রেসক্লাব, কাজীর দেউড়ী, আলমাস, ওয়াসা, জিইসি, ষোলশহর ২ং, মুরাদপুর হয়ে চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ময়দানে ফিরে ওয়াজ নসীহত, মিলাদ -কেয়াম ও দোয়া -মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। এবার কাজীর দেউড়ী-সার্কিট হাউস মোরে একটি পৃথক মন্ঞ্চ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি কামনায় দোয়া করবেন হুজুর কেবলা তাহের শাহ্ (মাজিআ)। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয় যে, এবারের জুলুসে হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ ছাড়াও দরবারে সিরিকোটের শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ এবং শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্ (মাজিআ) তশরিফ আনবেন।