সর্বত্র হিজরি নববর্ষ পালিত হোক বর্ণাঢ্য আয়োজনে

0

সর্বত্র হিজরি নববর্ষ পালিত হোক বর্ণাঢ্য আয়োজনে-
মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার >
হিজরি সন ছাড়া আমাদের কোনমতেই চলেনা। তাই হিজরি নববর্ষ উদযাপনকেও করতে হবে অপরিহার্য। বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি ছুটি হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারেই দেওয়া হয়। এদেশের শতকরা ৮৮% নাগরিক মুসলিম। সে হিসেবে অপরাপর বর্ষপূর্তিতে যেরুপ বর্ণাঢ্য আয়োজন সাধারনত দেখা যায়, তেমনটা এক্ষেত্রে নাই বলা চলে। অথচ, নববর্ষ উদযাপনের কালচারের মধ্যে এর স্থান হওয়া উচিত অধিকতর ব্যাপক ও ঝাঁকঝমকপূর্ণ। আমরা বাঙালি জাতি, তাই বৈশাখি সংস্কৃতিতে আমাদের প্রচন্ড আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু মুসলিম হিসেবে হিজরি নববর্ষ উদযাপনে আমাদের আগ্রহ কম হবার কোন কারণ থাকতে পারেনা। নিবীড় পর্যবেক্ষণে, এর যে কারণ বেরিয়ে আসে তা দু:খজনক। বলা যায়, অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবেই ইসলামি তাহজীব-তামুদ্দুনের প্রতি অবহেলা, নিরুৎসাহিতকরণ, একে পশ্চাৎপদ সংস্কৃতি হিসেবে চিত্রায়ন দেশে চলছে দীর্ঘদিন যাবত। এ ঘৃন্য চক্রান্তে আদাজল খেয়ে নামা বুদ্ধিজীবীদেরই দেখা যায় পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতি চর্চায় সুকৌশলে উৎসাহ প্রদানকারীরুপে। এদের কেউ মিডিয়ায়, কেউ শিল্প-সাহিত্যের সেবকরুপে জাতিকে নিয়মিত রঙবেরঙের সবক শেখাচ্ছে। এরা ৩১ ডিসেম্বরে, রাত জেগে পাশ্চাত্য বেহায়াপনায় লিপ্ত করতে আমাদের প্রজন্মকে এ পর্যন্ত চেষ্টার ত্রুটি করেনি। কত নারীর সম্ভ্রমের সাড়ে বারটা বেজেছে থার্টিফাস্ট নাইটের উম্মাদনায়। বাধ্য হয়েই, বিভিন্ন সময়ে সরকারি প্রশাসন বাঙালির ইংরেজ হবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে, এবং কড়া হুঁশিয়ারি ছেড়ে এই রাতের বেহায়া নববর্ষবরণ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বেশ কিছু ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর হতে। তবুও থেমে নেই এই খ্রিষ্টীয় অপসংস্কৃতি চর্চা। আমাদের চিহ্নিত কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন ও পাশ্চাত্য এজেন্টের পরিকল্পিত প্রেরণায় আবর্জনাময় এই নববর্ষ উদযাপন প্রসারিত হচ্ছে। এরাই, নির্মল শালীন ইসলামি সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ পেয়ে নাকে রুমাল চেপে ধরে, এবং নানা ছলচাতুরিতে মুসলমানদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির অন্যতম বাহন হিজরি নববর্ষ পালনকে ধীরে ধীরে স্তিমিত করে রেখেছে। ইসলামি চেতনার সংস্কৃতি যোদ্ধাদের নির্লিপ্ততার সুযোগে তারা আজ অনেকটা সফলকাম। তবুও বলি, সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ইতোমধ্যে জেগে ওঠেছে তরুণরা, আধমরাদের ঘুম ভাঙ্গাতে তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে। সূফীমতের সুন্নি জনতা হিজরি নববর্ষ পালন শুরু করেছে। দিনদিন ইসলামের মূল্যবোধে আন্তরিকরা এতে শামিল হচ্ছে। এখন দরকার বড়দের পৃষ্ঠপোষকতা। পত্র-পত্রিকা, মিডিয়া, মোবাইল কোম্পানি, বড় বড় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সংস্কৃতি কর্মিদের এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনে শামিল হওয়া দরকার। আয়োজকদের মাথায় সেই বিষয়টা থাকতে হবে। এ উপলক্ষে বই মেলা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক সব সৃষ্টিশীল শরিয়ত সম্মত কার্যক্রম যোগ করতে হবে। আমাদের ওরস সংস্কৃতিতেও মেলার স্থান অনস্বীকার্য। বৈশাখি মেলা সর্বসাধারণকে বাঙলা নববর্ষে টেনে আনছে। মোটকথা, হিজরি নববর্ষকে গণমুখি ও উৎসবমুখর কীভাবে করা যাবে,তা নিয়ে ভাবতে হবে।
আমাদের জানা দরকার যে, এই উৎসব ইসলাম ও মুসলমানদের আভিজাত্য ঘোষনা করে। এটা একটা আন্তর্জাতিক উৎসব। পৃথিবীর বহু মুসলিম দেশে এটা জাতিয় প্রধান উৎসবগুলোর অন্যতম। এর সাথে রয়েছে আমাদের ঈমান -আক্বিদা-সংস্কৃতি চেতনার সম্পর্ক। এর আলোচনায় চলে আসে হিজরতের ইতিহাস ও তাৎপর্য, আসে সিদ্দিকে আকবর-মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমার ত্যাগ-বীরত্বের কাহিনী। হিজরি সন প্রবর্তন না হলে ইসলামের পরিপূর্ণতার দাবি হতো দুর্বল। আমরা এখনো চলতে পারিনা এ সন ছাড়া। এ সন বন্ধ করারও কোন সুযোগ নাই, সুতরাং এ উৎসব অধিকতর যৌক্তিক। স্কুল কলেজে এ হিজরি নববর্ষের ছুটি থাকতে পারলে পালন করা হবেনা কেন? এ দাবি জোরদার করতে হবে। বরং এ উপলক্ষে চলমান ঐচ্ছিক ছুটিকে সাধারন ছুটিতে উন্নীত করতে জোর দাবি জানাতে হবে। মিডিয়াগুলোতে গনসম্পৃক্ত নয় এমন কত জানা -অজানা দিবসের আলোচনা-অনুষ্ঠান আয়োজন হয়, কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের এ উৎসব কেন অবহেলিত! তাই, মিডিয়া সংশ্লিষ্টদেরও এ আয়োজনে সাথে রাখুন। সাথে রাখুন মন্ত্রী -আমলা-সংস্কৃতি কর্মি, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, ওলামা-মাশায়েখ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষকে। বর্তমান প্রজন্মকে জাগিয়ে দিন আনুষ্ঠানিক চমকে একে হৃদয়গ্রাহী করে তুলুন শরীয়তসম্মত ইনশাআল্লাহ, একদিন এ উৎসব গণ উৎসবে রুপ নেবে, আর রাজনীতিও সেদিকে ঝুঁকে যেতে পারে সঙ্গত কারণে। আর তখনই এটি জাতিয় উৎসবে রুপ নেবে। আমরা এগিয়ে যাব বুকে সে আশা-ভরসা, সাহস নিয়ে। হতাশা যেন কোন অবস্থাতেই পেয়ে না বসে। নিশ্চয়ই মূমিনরা নৈরাশ্যবাদী হয়না। তাই, মূমিনরাই হবে বিজয়ী। সবাইকে হিজরি ১৪৪১ হিজিরর শুভেচ্ছা জানাই।