গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি সম্পর্কে শেরে মিল্লাত আল্লামা নঈমী

0

গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি সম্পর্কে
শেরে মিল্লাত আল্লামা নঈমী-
মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার >
গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির সংস্কার কর্মসূচি সুন্নিয়তে যে মহাজাগরণ এনেছে তা আজ সত্যনিষ্ঠ সব গবেষক ও বিজ্ঞ ওলামা -মাশায়েখ অকপটে স্বীকার করেন। কারণ তা এখনো দিনের সূর্যের মতই পরিষ্কার। এদেশে জশনে জুলুস তাঁর এক যুগান্তকারী সংস্কার। সুন্নিয়ত ও নবীপ্রেমের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ‘আজানের আগে দরুদ-সালাম’ এ দেশে এল তাঁর হাত ধরে। তাঁর হাতে কাদেরিয়া ত্বরিকা পেয়েছে নতুন জীবন। আজ ঘরে ঘরে খতমে গাউসিয়া চলছে, চলছে গেয়ারভী শরিফ, যা তাঁরই বড় অবদান। মসলকে আ’লা হযরত আজ এ দেশে খুব জনপ্রিয়, আর এ ক্ষেত্রে হুযূর ক্বেবলার অবদানটাও সবচেয়ে বেশি। আজ ঘরে ঘরে, মাদ্রাসায় মাদ্রাসায়, মাহফিলে, খতমে জনপ্রিয় ‘সবসে আওলা’ ‘মোস্তফা জানে রহমত পে লাখোঁ সালাম’ চালুর অবদানটার জন্য তিনি স্মরণীয়। আ’লা হযরতের এ সালামি পদ্ধতি এ দেশের মীলাদ সংস্কৃতিতে এনেছে অপূর্ব বৈচিত্র্য। এখানে মজার বিষয় হচ্ছে- এটি তৈয়্যব শাহ্ হুজুরের দান, আর এ কারণেই আজানের আগে ‘সালাত-সালামে’র মত, এই সালামিটাও কারো কারো মানসিক হীনমন্যতা ও সংকীর্ণতার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে। ‘কা’ম করো -দ্বীনকো বাচাও, ইসলামকো বাচাও, সাচ্চা আলেম তৈয়ার করো’ এমন কথা একজন গাউসে জামান এবং মুজাদ্দিদের বাণী হিসেবেই আজ স্বীকৃত হচ্ছে। আজ তাঁর নির্দেশ অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শত শত মাদ্রাসা, বের হচ্ছে হাজার হাজার সাচ্চা আলেম। দ্বীন বাচাঁবার হোসাইনী এই মিশন এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। এই পথে আজ তাঁর অসামান্য অবদান হিসেব করে শেষ করা যাবে না। ‘গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’ তাঁরই হাতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাঁর স্বপ্নের মিশনকে বাস্তবায়ন করতে। ইনশাআল্লাহ্! সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন গাউসিয়াতের এই কাফেলা মিলিত হবে-ইমাম মাহাদী আলায়হিস্ সালামের বিশ্বফৌজদের সাথে। আর, এ বাণীটাও তাঁর ‘মেরে বাচ্চো মাহাদী আলায়হিস্ সালাম কী ফৌজ বনেগী, আউর দাজ্জাল কে সাথ জেহাদ করেগী’। আলহামদুলিল্লাহ্, বড় দাজ্জালের আগে ছোট ছোট দাজ্জাল আসবার কথা হাদিস শরিফে এসেছে। আজ জামেয়া ও গাউসিয়া কমিটির সৈনিকরা ছোট দাজ্জালদের কুপোকাত করার লড়াইয়ে স্পষ্ট এবং নির্ভীক দায়িত্ব পালন করছে। এভাবে আদর্শিক লড়াইয়ে লড়াইয়েই এই ফৌজ সেই ফৌজের বড় বহরে মিলিত হবে। আল্লাহ্ পাক কবুল করুন।
যাঁর অবদান এমন মহান তাঁর শান কেমন? এ প্রসঙ্গে রয়েছে বহু নিদর্শন, কারামতের কথা। আজ শুধু মুফতিয়ে আযম, শেরে মিল্লাত, মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী (মাজিআ)’র স্বচক্ষে দেখা, এবং বলা কয়েকটি ঘটনা পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি।
।। এক।।
উমরার সফরে মক্কা শরিফে, ফ্রান্সের আগন্তুকের কথোপকথন প্রসঙ্গে এ ঘটনাটি শুনলাম গত ১ এপ্রিল ২০১৯ সালে ঢাকার উত্তরায়, আলহাজ জসিম উদ্দিনের (মধ্য মাদার্শা, হাটহাজারী) বাসায়। একই গ্রামের গাজী লোকমান, ঢাকা মাদারটেকের মোহাম্মদ হোসাইন এবং কায়েৎটুলি খানকাহ্ শরিফের মোহাম্মদ কাসেম সহ আমরা বেশ ক’জন শুনছিলাম, আর নঈমী সাহেব হুজুর বলতে শুরু করলেন। তিনি মক্কা শরিফের সেই সফরে হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির সাথে ছিলেন। হুজুর কেবলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হাজরে আসওয়াদ থেকে ঝমঝম পর্যন্ত পবিত্র স্থানটির বিশেষ মর্যাদা ও বরকতের কথা নঈমী সাহেবের সাথে শেয়ার করলেন। ঐ সময় হুজুর কেবলা ঐ বরকতময় স্থানেই বসা ছিলেন। এক পর্যায়ে ওখানে এক ভিনদেশি অপরিচিত লোক আসলেন এবং হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্ ‘র সাথে পরিচিত হলেন। কুশল বিনিময় করলেন। তারপর কী কী জানি আলাপ করলেন। কথাগুলোর কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। নঈমী সাহেব হুজুর বলেন, আরবী, ফারসী, উর্দু নয়, এমনকি পশতু, পাঞ্জাবি ভাষাও নয়। তাই, উনাদের কথা শুনলেও বুঝলাম না। এক পর্যায়ে, হুজুর কেবলা হাত তুলে দোয়া করলেন, তারপরই লোকটি চলে গেলেন। ভাষা, বিষয় ও ব্যক্তি সম্পর্কে কিছুই জানা গেল না। হুজুর কেবলাও এ বিষয়ে একদম চুপচাপ রইলেন। পরবর্তিতে, সুযোগ বুঝে নঈমী সাহেব, হুজুর কেবলার কাছে এই বিষরে জানতে চাইলে হুজুর কেবলা বারবার এড়িয়ে চলতে থাকেন বিষয়টা। কিন্তু জানবার প্রবল আগ্রহের কারণে, নঈমী সাহেব বারবার হুজুর কেবলাকে কাকুতি মিনতি করে আবেদন করতে থাকেন জানাবার জন্য। হুজুর কেবলা খুব বিরক্তবোধ করে বললেন মৌলানা সাব কেয়া জরুরত হ্যায়? কিন্তু নঈমী সাহেব হুজুরও নাছোড় বান্দা! এক পর্যায়ে হুজুর কেবলা সেই দিনকার সেই ঘটনার রহস্য উম্মোচন করে জানালেন, ‘‘ওই লোকটা এসেছিলেন ফ্রান্স থেকে। ঐ ভাষাতেই তাঁর সাথে কথা হয়। তাঁকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন সেই দেশের আবদাল। আমার দৈহিক নমুনা, আকৃতি-প্রকৃতি, কোথায় -কীভাবে পাওয়া যাবে সবকিছু তাঁকে বলেই আমার কাছে পাঠানো হয়। সেই হিসেবে তিনি এসেছেন এবং আমার সাথে পরিচিত হয়েছেন।’’ এরপর, তাঁকে কেন পাঠানো হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে হুজুর কেবলা বলেন, ‘‘ঐ দেশে বা দেশের কোথাও এক বড় বিপদ আসন্ন ছিল, যা উক্ত আবদাল কর্তৃক ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না, তাই এই অধমের (তৈয়্যব শাহ্ হুজুর সবসময় নিজেকে না’চিজ বা অধম হিসেবেই আখ্যায়িত করতেন) কাছে দোয়ার আবেদন দিয়ে ঐ লোকটাকে পাঠানো হয়। আর, আমি দোয়া করার পর তিনি চুপচাপ চলে গেলেন। সুবহা-নাল্লাহ! এই ঘটনা আল্লামা তৈয়্যব শাহ্ হুজুরের গাউসে জামান পদে অধিষ্ঠিত থাকার সাথে প্রাসঙ্গিক বহু ঘটনার মত একটি।
।। দুই।।
আজমির শরিফ সফরে, গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্’’র গোপন মিটিং দেখে ফেললেন নঈমী সাহেব হুজুর ওয়াদা নিলেন যেন তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশ না করা হয় এই ঘটনা।
পহেলা এপ্রিল ২০১৯, ঢাকার উত্তরাস্থ জসিম ভাইয়ের বাসায় আমরা ঢাকা-চট্টগ্রামের কয়েকজনের সামনে, গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র সাথে সফরের সময় তাঁর দেখা বেশ কিছু অলৌকিক স্মৃতি রোমন্থন করেন চট্টগ্রাম জামেয়ার শাইখুল হাদিস, মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী (মাজিআ)। এর মধ্যে মক্কা শরিফ, মদিনা শরিফ, আজমির শরিফের ঘটনাও ছিল। আজমির শরিফের বেশ ক’টি কারামতের মধ্যে যে ঘটনাটি অধিকতর তাৎপর্যপূর্ণ সেটি ছিল এই শিরোনামের বিষয়টি। হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এবার প্রথমে বাগদাদ শরিফ এবং পরে আজমির শরিফ সফর করেন। ১৯৭৯ সন। হুজুর কেবলা বাগদাদ থেকে চিঠি লিখে জানালেন তিনি কবে আজমির আসবেন। খবর পেয়ে আনজুমান -জামেয়ার সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি দল দিল্লী গিয়ে পৌঁছেন। অধ্যক্ষ মৌলানা এম এ জলিল, মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী সহ অনেকেই ছিলেন। হুজুর কেবলাও দিল্লী এসে পৌঁছেন। এর পরে গেলেন আজমির শরিফ। সবাই আজমির শরিফে ওঠেন খাদেম সৈয়্যদ আলাউদ্দিন চিশতি সাহেবের কামাল মন্জিলে। এ মন্জিলের বহু খাদেম ও তাঁদের আত্মীয়স্বজন হুজুর কেবলার হাতে বায়াত গ্রহন করে ধন্য হন সেদিন। রাতে এখানেই থাকেন সবাই। যদিও থাকার ব্যবস্থা তেমনটা উন্নত ছিলনা। তবুও হুজুর কেবলা এখানেই থাকলেন। বাথরুম ব্যবস্থা, রুমের অবস্থা ছিল কোনমতে চালানোর মত, তাও তখনকার সময়ের হিসেবে। বর্তমানে ওসব মেহমানখানা একদম ব্যাকডেটেড। হুজুর কেবলার রুমের ভিতরটাও দেখা যাচ্ছিল নঈমী সাহেবদের কামরা থেকে। টয়লেটও ছিল কমন। হুজুর কেবলা রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করেন। তাই তাঁর বাথরুমে যাওয়া সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতার জন্য নঈমী সাহেব হুজুর আগে ভাগে ওঠে অপেক্ষায় থাকলেন। হঠাৎ তাঁর কানে এল কথোপকথনের শব্দ। উঁকি দিলেন হুজুর কেবলার কামরায়। পরিষ্কার না হলেও মোটামোটি দেখা যাচ্ছে ভেতরেরটা। তিনি একেবারে অবাক হয়ে দেখলেন রুমের ভেতরে হুজুর কেবলার সাথে অপরিচিত একজন কথাবার্তা বলছেন। কে তিনি? কীভাবে এই গভীর রাতে তিনি হুজুরের কামরায় প্রবেশ করলেন? কোন কিছুর হিসাব মেলাতে পারছিলেন না তিনি। এক পর্যায়ে একই অবস্থা স্বচক্ষে দেখে নেন পটিয়ার ভাটিখাইন নিবাসি মরহুম হাজী মোহাম্মদ শরিফ সওদাগর। হাজী সাহেব বলে ওঠেন, মুফতি সাহেব দেখেন! ভেতরে কি চলছে! নঈমী সাহেব হুজুর হাজী সাহেবকে চুপ করে দিলেন এবং নিজেও চুপ রয়ে কান লাগিয়ে শুনবার চেষ্টা করেন কথাগুলো। কিন্তু আওয়াজগুলো স্পষ্ট হলেও ভাষা বোধগম্য ছিল না। তবুও কান লাগিয়ে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। অনেকক্ষণ পর হঠাৎ কথা থেমে গেল। কক্ষের ভিতরের ভিন্ন লোকটিকেও আর দেখা গেল না। তাই, নঈমী সাহেব হুজুর কেবলার কক্ষে হালকা টোকা দিলেন, যেন হুজুর কেবলা অজুর জন্য বাথরুমে আসতে পারেন। হুজুর কেবলা তাহাজ্জুদ এবং সবাইকে নিয়ে ফজর আদায় করলেন। এরপর, সকালের নাস্তা হয়ে গেলে। সবাইকে আরামের জন্য যেতে একে একে অনুমতি দেওয়া হল। সর্বশেষ ব্যক্তিটি ছিলেন নঈমী সাহেব হুজুর। সবাই বের হবার পর হুজুর কেবলা নঈমী সাহেব হুজুরকে কাছে ডাকলেন এবং ওয়াদা নিলেন যেন গভীর রাতে দেখা ঘটনাটি হুজুর কেবলার জীবদ্দশায় প্রকাশ না করা হয় এবং হুজুর কেবলা আরো জানালেন যে, গভীর রাতের সেই আগন্তুক ছিলেন খোদ খাজা গরীব নওয়াজ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি। সুবহানআল্লাহ। নঈমী সাহেব হুজুর বলেন, তিনি সেই রাতের ঘটনা হুজুর কেবলার ওফাতের পূর্ব পর্যন্ত গোপন রেখেছেন। দিল্লী থেকে আজমির পর্যন্ত যাবার সময়টাতেও তিনি হুজুর কেবলার একটি জ্বলন্ত কারামত প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা এ নিবন্ধের পরিসর ছোট রাখার জন্য পৃথকভাবে বলা হবে ইনশাল্লাহ্। তাছাড়া,তৈয়্যব শাহ্ হুজুরের শৈশবে আজমির জেয়ারাতে খাজা গরীবনওয়াজ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র সাক্ষাতের বিষয়টি অনেকেরই জানা।
।। তিন।।
এক গভীর রাতে জামেয়ার মাঠে দেখা হল মুর্শিদের সাথে
এপ্রিল ০১, ২০১৯, বাদ আসর, ঢাকার উত্তরায় জসিম সাহেবের বাসায় কথা হচ্ছিল আমাদের চট্টগ্রাম জামেয়া’র শাইখুল হাদিস, শেরে মিল্লাত, মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী সাহেব হুজুরের সাথে। লাগাতার বলে গেলেন গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির কয়েকটি কারামত, যা তাঁর নিজের দেখা। তিনি বলেন এক গভীর রাতে তিনি বাইরের কোন মাহফিল থেকে ফেরার পথে জামেয়ার মাঠে প্রবেশ করলেন। হঠাৎ দেখলেন হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্ ‘র মত কেউ মাঠে পায়চারী করছেন। তখন জামেয়ার পুরোনো ভবনটাই শুধু ছিল। মাঠের দক্ষিণ দিকের বড় ছয়তলা ভবনটা তখন ছিল না। ঐ দিকেই হাঁটছিলেন তিনি। যখন হাঁটতে হাঁটতে আরো কাছে এলেন, তখন আর সন্দেহ থাকলোনা যে, তিনি গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্’ই। অথচ, তখন তৈয়্যব শাহ্ হুজুর এই দুনিয়াতে ছিলেন না। নঈমী সাহেব হুজুর বলেন, ‘‘এক পর্যায়ে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন, আর দেখতে পারলাম না। এ ঘটনা আমি কাউকে বললাম না। বর্তমান হুজুর কেবলা, হযরত আল্লামা তাহের শাহ্ (মাজিআ) কেই শুধু জানালাম, তাও নিজের নাম গোপন করে। বললাম, এক পীরভাই জামেয়ার মাঠে এভাবে হুজুর রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিকে বিচরণ করতে দেখেছেন।’’ আর, হুজুর কেবলা (মাজিআ) প্রতি উত্তরে বলেন, ‘‘যে দেখেছে ঠিকই দেখেছে, তিনি হুজুর রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিই ছিলেন এবং আমি এও বলতে পারি সে দর্শক পীরভাইটি কে?’’ সুবহানআল্লাহ!
।। চার।।
মুয়াল্লিম সোলায়মান আকরামের ঘরে ছেলে সন্তান এল
এ ঘটনা বিভিন্ন সময়ে নঈমী সাহেব হুজুর ছাড়াও শুনেছি আনজুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহসিন সাহেবের কাছেও। মরহুম ডা হাসেম সাহেবও বলেছিলেন। এই ঘটনাও হজ্জের সময়ের, মক্কা শরিফে। মুয়াল্লিম সোলায়মান আকরাম সাহেব একজন সউদী নাগরিক। তাঁর স্ত্রীর বাড়ি চট্টগ্রামে, পাথরঘাটায়। হুজুর কেবলা হজ্জের সময় এই মুয়াল্লিমের বাড়িতে ছিলেন। এই দম্পতির বহুবছরের সংসার। কিন্তু কোন সন্তান-সন্ততি নেই। বিশেষ করে, সন্তানই এই চট্টগ্রামের মহিলার ঐ সংসার টিকে থাকবার, এমনকি সউদী নাগরিকত্বের সুযোগ-সুবিধার একমাত্র উপায়, যা মহিলাটির ছিলনা বলে অনিশ্চিত ছিল তার ভবিষ্যত। তাই, আল্লাহর অলী গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ কে মেহমানদারি করার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে, একদিন বুকের মধ্যে চেপে রাখা তার ভবিষ্যতের কথা প্রকাশ করে কেঁদে ফেললেন হুজুর কেবলার কাছে। হুজুর কেবলা তাঁর দু:খের কাহিনী শুনে ব্যথিত হলেন এবং তাঁকে অভয় দিয়ে বললেন, ‘‘বেটি! চিন্তা করোনা, ইনশাআল্লাহ্! আগামিবার যখন আবার আমি হজ্জে আসব, তখন দেখবে তোমার ছেলে দৌঁড়াদৌড়ি করে আমার কোলে বসবে।’’ হাত তুললেন, হুজুর কেবলা। সুবহানাল্লাহ! তাই হল। এরপরই, সোলায়মান আকরামের সেই বিবির ঘর আলোকিত করল ছেলে সন্তান। আর, কয়েকবছর পর হজ্জে গেলেন হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্। এতদিনে মুয়াল্লিমের ছেলে দৌঁড়াদৌড়ি করে ঘর মাতিয়ে রেখেছে। হুজুর কেবলার কোলেও ওঠেছে।
।। পাঁচ।।
দশ হাজার জ্বিনের ইসলাম গ্রহণ
ঘটনাটি ছিল বলুয়ারদীঘি খানকাহ্ শরিফে। তখন আমরাও ছিলাম খানকাহ্ শরিফে, যদিও এমন একটা জ্বিন কাহিনী জেনেছি আরো পরে। সেদিন, সৈয়্যদ সাহেব হুজুর কেবলার সাথে সাক্ষাৎ করে একান্তে কথা বলতে চান। তিনি খাতুনগন্জ হামিদুল্লাহ্ খাঁ জামে মসজিদের অনেকের কাছে পরম শ্রদ্ধেয় একজন বুজুর্গ ব্যক্তি। সুন্দর ফর্সা মধ্যমদেহী ওই বোম্বাইওয়ালা লোকটিকে সবসময় খাতুনগন্জ মসজিদের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতাম। বসাবস্থায় কখনো দেখিনি। থাকতেন জামেয়ায়, আর এ মসজিদে। তিনি আমার কাছেও এক রহস্যপুরুষ। যাহোক, তিনি এসে কানে কানে কি জানি আরজ করলেন হুজুর কেবলা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিকে। সাথে সাথে হুজুর কেবলা তাঁর হুজুরা শরিফ থেকে সবাইকে বের করে দিলেন। দরজা বন্ধ করা হল। সবার কৌতুহল কী হচ্ছে ভিতরে? মুফতি নঈমী সাহেব হুযূর বিষয়টা এমনিতেই ছেড়ে দেওয়ার লোক নন। তাই তিনি দরজা ঘেষে বসে গেলেন। আরো আছেন খাদেম আইউব আলী সওদাগর। একটু দরজা ফাঁক করে দেখতে চাইলেন নঈমী হুজুর, কিন্তু খাদেম হাজী আইউব আলী চৌধুরী রাজি নন। যাক, শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাজি করাতে সক্ষম হলেন তিনি। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতেই চোখ যেন কপালে ওঠে গেল। একি! ফাঁকা কক্ষের এক কোনে এক হিন্দু রমনী বসা। হুজুর কেবলা কলেমা পড়াচ্ছেন কাউকে। তারপর বায়াত করাচ্ছেন। বায়াতের কাপড় হুজুরের ডান হাতে ধরা, আর অপরপ্রান্তের কাউকে দেখা যাচ্ছেনা। কাপড়ের অপরপ্রান্ত শূণ্যে উড়ছে মাত্র। হুজুর কেবলা কলেমার পর বায়াতের তরতিব শেষ করে যথারীতি সবক দানের পর দোয়া মুনাজাত শেষ করার পরই দরজা খুললেন। এই ঘটনা সম্পর্কে পরবর্তিতে হুজুর কেবলা বলেছিলেন যে, সেদিন দশহাজার অমুসলিম জ্বিন প্রথমে মুসলমান হয়, এবং পরে বায়াত গ্রহণ করে কাদেরিয়া ত্বরিকায় দাখিল হয়েছিল। এদের মধ্যে নারী -পুরুষ উভয় শ্রেণির জ্বিন ছিল।
প্রসঙ্গত, শেরে মিল্লাত মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী দেশের একজন শীর্ষ মুহাদ্দিস এবং মুফতিয়ে আ’যম। তিনি হুজুর কেবলা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির বাংলাদেশ সফরের সবটুকুতেই সাথে সাথে ছিলেন একদম ছায়ার মত। তিনি ছিলেন হুজুর কেবলার অনুবাদক। হুজুর কেবলা প্রতিদিন ফজর নামাজের পর কোরানের যে তাফসির করতেন তা তিনিই তরজমা করতেন। মাহফিলের বক্তব্যও তরজমা করতেন তিনি। তিনি হুজুর কেবলার বহু কারামতের সাক্ষী। সংক্ষিপ্ত করার জন্য উপরের কয়েকটি মাত্র আলোচিত হল।