প্রশ্ন: প্রায় শত বছর আগের মসজিদকে প্রতিষ্ঠাতার ওয়ারিশগণকে না জানিয়ে ও অনুমতি না নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে এবং মসজিদের তলাকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে অর্থাৎ- বাইরে রেখে পশ্চিম দিকের সরকারি খাস জায়গার উপর সরকারের অনুমতি না নিয়ে স্থানীয় দখলদার থেকে নিয়ে ইমাম সাহেব এবং তার ছেলেরা পাকা করে (অনুদানে টাকা দিয়ে) পুরান মসজিদের তলাটা বাঁশের ঘেরা দিয়ে ঘিরলেও তার মাঝখান দিয়ে মুসল্লিদের নতুন মসজিদে যাতায়ত করতে হয়। এখন শরীয়তের বিধানমতে কি হুকুম হতে পারে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

0

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান-জুইদন্ডী, বুরুমচড়া, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: প্রায় শত বছর আগের মসজিদকে প্রতিষ্ঠাতার ওয়ারিশগণকে না জানিয়ে ও অনুমতি না নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে এবং মসজিদের তলাকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে অর্থাৎ- বাইরে রেখে পশ্চিম দিকের সরকারি খাস জায়গার উপর সরকারের অনুমতি না নিয়ে স্থানীয় দখলদার থেকে নিয়ে ইমাম সাহেব এবং তার ছেলেরা পাকা করে (অনুদানে টাকা দিয়ে) পুরান মসজিদের তলাটা বাঁশের ঘেরা দিয়ে ঘিরলেও তার মাঝখান দিয়ে মুসল্লিদের নতুন মসজিদে যাতায়ত করতে হয়। এখন শরীয়তের বিধানমতে কি হুকুম হতে পারে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর: মহান আল্লাহ্ পবিত্র ক্বোরআনুল করীমে ইরশাদ করেন- وان المساجد لله অর্থাৎ- এবং মসজিদগুলো মহান আল্লাহরই জন্য।
[সূরা জিন: আয়াত নম্বর ১৮, পারা ২৯] ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিকোণে মসজিদ হলো মুসলমানদের ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট একটি বিশেষ পবিত্র স্থান। যেটি আল্লাহর জন্যই ওয়াকফকৃত। বিশ্ববিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থ রদ্দুল মোহতারের মধ্যে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী হানাফী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেন-
حاصله ان شرط كونه مسجدا ان يكون سفله وعلوه مسجدا لينقطع حق العباد-
অর্থাৎ- মসজিদ হওয়ার জন্য শর্ত মসজিদের উপরে এবং নিচে মসজিদই থাকবে। যেন বান্দার মালিকানা না থাকে। তাই মসজিদের চিহ্নিত জায়গাটি (মূল মসজিদ ও বারান্দাসহ) যে পরিমাণ জায়গা যেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এবং জুমা-জামাত ও নামায-কালাম হয়েছে তা কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদ হিসেবে সাব্যস্ত থাকবে। বস্তুত: মসজিদের চিহ্নিত জায়গা (বারান্দাসহ) বরাবর উপরে আসমান ও নি¤েœ তাহতুছ্ছারা পর্যন্ত মসজিদ হিসেবে নির্ধারিত। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া উক্ত নির্ধারিত মসজিদ বিনা প্রয়োজনে শহীদ করা এবং ভেঙ্গে ছোট করা অথবা অস্তিত্ব বিলুপ্ত করা হারাম। তবে যদি মসজিদ সংকীর্ণ হওয়ার দরুন মুসল্লি সংকোলান না হয় অথবা পুরাতন ও জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় নামায আদায়ে অসুবিধা সৃষ্টি হয় তখন বিশেষ প্রয়োজনে অনেক পুরাতন জরাজীর্ণ মসজিদ সম্প্রসারণ করে নূতনভাবে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করবে আর যদি সেখানে সম্প্রসারণ করার সুযোগ না হয় তখন এলাকাবাসী সকলের সম্মতিক্রমে উপযুক্ত স্থানে অনত্রে নতুন মসজিদ নির্মাণে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে অসুবিধা নেই। বড় আকারে নূতন মসজিদ নির্মাণের ফলে যদি পুরাতন আগের মসজিদে কেউ জুমা-জামাত না পড়ে তবে পুরাতন মসজিদকে (বারান্দাসহ) অবশ্যই চতুর্দিকে ঘেরাও দিয়ে হেফাজত করতে হবে। সেখানে রাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, যাতায়তের পথ, অফিস-আদালত ইত্যাদি করা যাবে না বরং এর পবিত্রতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় বেহুরমতি হলে মহল্লা/এলাকাবাসী সকলে গুনাহগার হবে।
উল্লেখ্য যে, শত বৎসর পূর্বের মসজিদকে ভেঙ্গে উক্ত মসজিদের পশ্চিম দিকে সরকারি খাস জায়গার উপর সরকারের অনুমতি ছাড়া নূতন করে মসজিদ নির্মাণ করা শরীয়ত সম্মত নয়। পুরাতন মসজিদ আয়তনে ছোট হলে ও মুসল্লি সংকোলান না হলে বড় আকারে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকলে পুরাতন মসজিদকে এলাকাবাসীর সম্মতিতে সম্প্রসারণ করবে। আর সম্প্রসারণের সুযোগ না থাকলে সরকার বা যথাযথ সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও অনুমোদনের ভিত্তিতে সরকারি খাস জায়গায় পুরাতন মসজিদ সহ যুক্ত করে শত বৎসরের আগের মসজিদকে সম্প্রসারণ করবে। এটাই ইসলামী শরীয়তের সমাধান।
[ফতোয়া-এ খানিয়া, রদ্দুল মোহতার, ফতোয়ায়ে ফয়জুর রাসূল, ফতহুল কাদির ও ফতোয়ায়ে রযভীয়্যাহ্ ইত্যাদি]

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •