প্রশ্নোত্তর: শরীয়তের আলোকে মহিলাদের জন্য পুরুষদের সাথে জামাতে অংশগ্রহণ বৈধ কিনা?

0

প্রশ্ন করেছেন- মুহাম্মদ কামরুল হাসান, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় পবিত্র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ১১ রবিউল আউয়াল দিবাগত রাত্রে পবিত্র ক্বোরআন খতম, মিলাদ-কিয়াম ইত্যাদি নফল ইবাদত হয় এমন কি শেষ রাত্রে জামাত সহকারে তাহাজ্জুদের আদায় করা হয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল উক্ত কাজে মহিলাদের সহ উপস্থিত হয়ে ইবাদত করা বর্তমান যুগে কতটুকু শরীয়ত সম্মত? শরীয়তের আলোকে মহিলাদের জন্য পুরুষদের সাথে জামাতে অংশগ্রহণ বৈধ কিনা? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর: পবিত্র মিলাদুন্নবীর নূরানী রাতে রবিউল আঊয়ালের ১১ তারিখের দিবাগত রজনীতে পবিত্র ক্বোরআন খতম, দো’আ-দরূদ, ওয়াজ-নসিহত, মিলাদ-কিয়াম, প্রিয়নবীর শুভাগমনের সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ রজনী হিসেবে জামাত সহকারে তাহাজ্জুদের নামায আদায় ও খানা-পিনা সহ নফল ইবাদত সমূহ নিঃসন্দেহে ভালো কাজ এবং সাওয়াব ও মঙ্গলময় এবং শরীয়ত স্মমত। এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। ইসলামের প্রথম যুগে মহিলারা মসজিদে গিয়ে যদিও জামাত সহকারে নামায আদায় করতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিশেষত: হযরত ওমর ফারুকে আজমের জামানা হতে মা-বোনদের ইজ্জত আবারুকে লম্পটদের কুদৃষ্টি হতে বাচানোর জন্য মসজিদে গিয়ে নামায পড়া নিষেধ করা হয়েছে।
[সূত্র: জামেউল আহাদীস কৃত ইমাম আ’লা হযরত শাহ্ আহমদ রেযা বেরলভী রাহ. খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৭১] এই ব্যাপারে হাদীস শরীফেও বর্ণনা এসেছে-
عن ام المؤمنين عائشة الصديقة رضى الله تعالى عنها قالت لو ادرك رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم ما احدث النساء طنعهن المسجد كما منعت نساء بنى اسرائل- (الحيث)
অর্থাৎ- উম্মুল মু’মিনি হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বর্তমানে মহিলারা যেভাবে চলা-ফেরা করছে তা যদি আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম (জাহেরী হায়াতে) দেখতেন অবশ্যই তিনি তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন। যেমনিভাবে বনী ইসরাঈলের মহিলাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল।
[সূত্র: সহীহ বুখারী: খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১২০, মুসলিম শরীফ: খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৩, সুনানে আবু দাঊদ: খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৪] عن عبد الله بن مسعود رضى الله تعال عنه قال المرأة عورة اقرب ما تكون الى الله تعالى فى قعربيتها فاذا خرجت استشرفها الشيطان وكان عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنهما يقوم يحصب النساء يوم الجمعة يخرجهن من المسجد وكان ابرهيم يمنع نساءه الجماعة-
অর্থাৎ- বিশিষ্ট ও প্রখ্যাত ফক্হি সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলা আপাদমস্তক সতর। যতক্ষণ তারা ঘরে অবস্থান করে ততক্ষন তারা আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকে। যখন ঐ ঘর থেকে বের হয়ে শয়তান তখন তার উপর কুদৃষ্টি দেয়।
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা জু’মার দিন কংকর নিক্ষেপ করে মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন।
হযরত ইমাম ইবরাহীম নাখঈ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু স্বীয় মহিলাদেরকে জু’মা এবং জামাতে অংশ গ্রহণ করতে নিষেধ করতেন।
[সূত্র: উমদাতুল ক্বারী কৃত- আল্লামা আইনী: খন্ড – ০৩, তিরমিযি শরীফ: খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪০, জামালুন নূর কৃত ইমাম আহমদ রেযা: পৃষ্ঠা ১৮, জামেউল আহাদীস কৃত- আ’লা হযরত ফাযেলে বেরলভী রাহ. খন্ড- ৩, পৃষ্ঠা ১৭৬]

হানাফী মাজহাবের প্রসিদ্ধ ফতোয়া গ্রন্থ ‘আদ্দুরুল মুহতার’-এ বর্ণিত আছে-
ويكره حضورهن الجماعة ولولجمة وعبيه ووعظ مطلقا ولو عجوزا ليلا-
অর্থাৎ- কোনো মহিলার (বৃৃদ্ধা হোক কিংবা যুবতীর) জন্য নামাযের জামাতে অংশগ্রহণ করা জায়েয নেই। এমন কি জু’মার নামায, ঈদের নামায ও ওয়াজের মজলিশে রাত্রে বেলায় উপস্থিত হওয়া জায়েয নেই। যদিও বুড়ি হয়।
[সূত্র: আদ্দুরুল মুখতার কৃত- ইমাম আলা উদ্দীন খাচফী হানাফী: খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৬১০, ও বাহারে শরীয়ত কৃত মুফতি আমজাদ আলী খান রাহ. খন্ড ১, হিস্সা ৩, পৃষ্ঠা -১৩১]

প্রসিদ্ধ ফতোয়া গ্রন্থ ফতোয়ায়ে আলমগীরিতে বর্ণিত আছে-
يكره امامة المراة النساء فى الصلوات كلها من الفرائض و النوافل-
অর্থাৎ- কোনো মহিলা মহিলাদেরকে নিয়ে জামাতের সহিত ফরয অথবা নফল নামায আদায় করা জায়েয নেই। তথা মাকরূহে তাহরীমি।
[সূত্র: ফতোয়ায়ে আলমগীরি: খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৮০, আনওয়ারুল হাদীস কৃত – মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আমজাদী: পৃষ্ঠা ১৮৫] عن عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى تعالى عليه وسلم صلاة المرأة فى بيتها افضل من صلاتها فى حجرتها وصلاتها فى مخد عها أفضل من صلاتها فى بيتها-
অর্থাৎ- হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- মহিলার জন্য ঘরের আক্সিগনায় নামাযের চেয়ে ঘরের মধ্যে নামায পড়া উত্তম। আবার ঘরের একটি ছোট নির্ধারিত স্থানে নামায পড়া ঘরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম।
[সূত্র: আবু দাঊদ শরীফ: খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৪, তফসীরে কৃরতুবী: খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ২৭৯, মাজমাউয জাওয়াঈদ কৃত আল্লামা হাইছামী: খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪] উল্লেখিত হাদীস সমূহ এবং বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থ সমূহের আলোকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বর্তমান ফিতনা-ফ্যাসাদের যুগে মহিলাদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাত সহকারে নামায আদায় করা জায়েয নেই। বরং গুনাহগার হবে অবশ্য তারা নিজে নিজে আপন গৃহে নামায-দরুদ আদায় করবে এটাই মহিলাদের জন্য নিরাপদ।

শেয়ার
  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    28
    Shares