আওলাদে রসূল, গাউসে জামান আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) সমাজ সংস্কারের মডেল

0

সর্বজনস্বীকৃত কামিল-মুকাম্মিল পীরে তরীক্বত ও সফল সমাজ সংস্কারের মডেল
হুযূর ক্বেবলা হযরতুল আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্
[রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি]

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান

কামিল-মুকাম্মিল পীরে ত্বরীক্বত হিসেবে সকলের স্বীকৃতিধন্য এবং একজন অনন্য সফল সমাজ সংস্কারের আদর্শ হবার উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ মহান ওলী হলেন আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন মুর্শিদে বরহক্ব হুযূর ক্বেবলা হযরতুল আল্লামা হাফেয ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি। এ নিবন্ধে আমি প্রথমে একজন কামিল-মুকাম্মিল ওলীর বৈশিষ্ট্যাদি, তারপর তাঁর সংস্কারাদি ও সেগুলোর সুফল সম্পর্কে আলোচনার প্রয়াস পাবো- ইনশা-আল্লাহ্।
আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু তাঁর ‘ইরশাদাত’-এ একজন পীরে কামিলের জন্য চারটি বৈশিষ্ট্য বা পূর্বশর্ত উল্লেখ করেছেন। অবশ্য শাহ্ ওয়ালিয়ুল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভীর ‘আল ক্বাউলুল জমীল’ ও তাসাওফের অন্যান্য কিতাবে আরো অধিক পূর্বশর্তের কথা উল্লেখ করা হলেও সবক’টি পূর্বশর্ত আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর বর্ণিত চারটি পূর্বশর্তের মধ্যে (সংক্ষেপে) এসে যায়। ওই চারটি পূর্বশর্ত নিম্নরূপঃ
১. বিশুদ্ধ আক্বীদা (সুন্নী আক্বীদা), ২. প্রয়োজনীয় ইলমে দ্বীন, ৩. আমল (ফাসিক্ব- ই মু’লান বা প্রকাশ্য পাপাচারী তথা কবীরাহ্ গুনাহ্ থেকে মুক্ত হওয়া) এবং ৪. সঠিক সিলসিলাহ্ (বাতিল আক্বীদা পোষণকারীমুক্ত মাশাইখ, যাঁদের পরম্পরা সরাসরি হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়)। বলাবাহুল্য, এ চার বৈশিষ্ট্যমন্ডিত মহান ব্যক্তি যেমন নিজে একজন পীর-ই কামিল, তেমনি তিনি অন্য কাউকেও কামিল বানাতে পারেন। তাই তিনি একজন মুকাম্মিল শায়খ-ই ত্বরীক্বতও।
আলহামদুলিল্লাহ্, অত্যন্ত সুখের বিষয় যে, আমাদের মুর্শিদ ক্বেবলা হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যমান। এ সত্য একটু পরে বর্ণিত তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনীতে প্রস্ফূটিত হবে ইনশা-আল্লাহ্।
কামিল-মুকাম্মিল ওলী হবার তিনটি পদ্ধতি বা নিয়ম সবিশেষ প্রসিদ্ধঃ ১. রতœগর্ভা মাতৃগর্ভ থেকে ওলী হয়ে জন্মগ্রহণ করা (মাদারজাদ ওলী হওয়া), ২. কোন কামিল-মুকাম্মিল স্বত্ত্বার কৃপাদৃষ্টি বা দো‘আ এবং ৩. রিয়াযত (কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনা)। এ তিনটি বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিম্নরূপঃ
প্রথমত, মাদারযাদ ওলীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন, পীরান-পীর দস্তগীর গাউসুল আ’যম হযরত শায়খ আবদুল ক্বাদের জীলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু। তাঁর বরকতময় জন্ম হয় ১ রমযানুল মুবারক। এর পূর্ববর্তী মাস শা’বান ছিলো ওই বছর ২৯ দিনের। এ ২৯তম দিনটিতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় ওই দিবাগত রাতে বাগদাদের লোকেরা আকাশে উদিত চাঁদ দেখতে না পারলেও শিশু শায়খ আবদুল ক্বাদির জীলানী থেকে তা গোপন থাকেনি। তিনি তাই পরদিন (১ রমযান) রোযা রাখতে আরম্ভ করেন। তাঁর মহীয়সী আম্মাজান শত চেষ্টা করেও তাঁর নবজাত শিশুকে স্তন মুবারকের দুধ ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত পান করাতে পারেননি। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং একেবারে শিশু অবস্থায় রোযা পালন এবং মেঘের আড়ালে থাকা রমযানের চাঁদ অবলোকন ইত্যাদি তাঁর কারামত ও বেলায়তের প্রমাণ বহন করে। এ কারণে তিনি এক অনন্য মাদারযাদ ওলী হিসেবেই সুপ্রসিদ্ধ। এভাবে তাঁর অন্যান্য বহু কারামতও এ ক্ষেত্রে জাজ্জ্বল্যমান প্রমাণ বহন করে।

পরবর্তীতে এ মহান গাউসে জীলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুরই বংশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্ও মাদারযাদ (মাতৃগর্ভ থেকে ওলী) হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ। কারণ, তাঁর পবিত্র জন্মের পূর্বে ও জন্মের অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে এমন কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো এ ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। যেমন, হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্র শুভ জন্মের কিছুদিন পূর্বে খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী আলায়হির রাহমাহ্ তাঁর প্রধান খলীফা হুযূর ক্বেবলা হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি আলায়হির রাহমাহর শাহাদত আঙ্গুল ধরে নিজের পিঠ মুবারকের মেরুদন্ডের মাঝামাঝি স্থানে ঘষতে শুরু করলেন। আর বললেন, ‘‘ইয়ে পাক চীয্ তোম লে-লো।’’ (এ পবিত্র জিনিসটি তুমি নিয়ে নাও।’) ‘পাক’ উর্দু শব্দ। এর আরবী প্রতিশব্দ হয় ‘তৈয়্যব’ (طيب)। এটা ছিলো মা‘আ-রিফে লাদুন্নিয়ার ধারক হযরত খাজা আবদুর রহমান চৌহরভী কর্তৃক হুযূর ক্বেবলা হযরত সৈয়দ আহমদ শাহ্ সিরিকোটির ঔরসে হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির শুভ জন্মের অগ্রিম শুভ সংবাদ। বাস্তবেও তাই ঘটেছে এবং জন্মের পর হুযূর ক্বেবলার নাম শরীফও তৈয়্যব রাখা হয়েছে। আলহামদু লিল্লাহ্!

এ মাদারযাদ ওলী হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহর শুভ জন্মের কয়েকমাস পর বরকতের জন্য শিরনী খাওয়াতে সিরিকোট শরীফে তাশরীফ নিয়ে এসেছিলেন হযরত খাজা চৌহরভী আলায়হির রাহমাহ্ নিজেই। ৬/৭ মাস বয়সের শিশু তৈয়্যব শাহকে সম্বোধন করে খাজা চৌহরভী আলায়হির রাহমাহ্ বললেন, ‘‘তৈয়্যব, তোম নেহীঁ খাতে তো হাম ভী নেহীঁ খায়েঙ্গে।’’ (তৈয়্যব, তুমি না খেলে আমরাও খাবো না!) এ কথা শুনতেই শিশু তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্ গরম শিরনীতে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে তা থেকে শিরনী নিয়ে শিশু সুলভ আনন্দদায়ক ভঙ্গিতে তা আহার করেছিলেন। ওই গরম শিরনী তাঁর হাতে লেগেছিলো বটে; কিন্তু তাঁর ওই কচি হাতের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি।
[সূত্র. হুযূর ক্বেবলার জীনীগ্রন্থ]

শিশু বয়সে হুযূর ক্বেবলার এমন বুদ্ধিমত্তা ও অলৌকিক ঘটনা খোদ্ খাজা চৌহরভীকেও অভিভূত করেছিলো। দু’ বছর বয়সে মহীয়সী আম্মাজান হুযূর ক্বেবলা তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্কে নিয়ে হযরত খাজা চৌহরভী আলায়হির রাহমাহর পবিত্র দরবারে গিয়েছিলেন। হুযূর ক্বেবলা এক পর্যায়ে তাঁর শিশু সূলভ আচরণে মায়ের দুধ পান করতে চাইলে হযরত চৌহরভী দেখে বললেন, ‘‘তৈয়্যব, তোম বড়ে হোগায়ে, দুধ মাত পিও!’’ (তৈয়ব, তুমি বড় হয়ে গেছো! এখন থেকে মায়ের দুধ আর পান করোনা!) হুযূর ক্বেবলা শান্ত হয়ে গেলেন, এর পর থেকে তিনি আর মায়ের দুধ পান করেননি। এর কারণও নিজে বলে দিতেন, ‘‘বাজী নে মানা’ কিয়া, দুধ নেহীঁ পিয়োঙ্গা।’ (বাবাজী হুযূর নিষেধ করেছেন, দুধ আর পান করবো না!) উল্লেখ্য, দু’ বছর বয়সে শিশুর দুধ ছাড়ানো হয়। খাজা চৌহরভীর এ শরীয়তসম্মত নির্দেশ শিশু হুযূর ক্বেবলা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে তাঁর মহীয়সী আম্মাজান এরপর তাঁকে দুধ পান করাতে অনেক চেষ্টা করেও সক্ষম হননি।

হুযূর ক্বেবলার বয়স যখন ৫/৬ বছর, মতান্তরে ৪ বছর, তখন একদিন তিনি আপন আব্বাজান হুযূর ক্বেবলা শাহানশাহে সিরিকোট আলায়হির রাহমাহকে বললেন, ‘‘নামায মে কেয়া আপ আল্লাহ কো দেখতে হ্যাঁয়? মুঝে ভী দেখনা হ্যায়।’’ (নামাযে কি আপনি আল্লাহকে দেখেন, আমিও দেখতে চাই।) স্নেহের ছোট্ট শিশুর মুখে মা’রিফাতের এমন উচ্চাঙ্গের কথা শুনে হুযূর ক্বেবলা হযরত সিরিকোটি আলায়হির রাহমাহ্ অত্যন্ত খুশী হলেন এবং আল্লাহর দরবারে, এমন মর্যাদা লাভের জন্য দো‘আ করেছিলেন, যা নিঃসন্দেহে কবূল হয়েছিলো।

হুযূর ক্বেবলার বয়স যখন ৮ বছর (কিংবা ৭ বছর), তখন তিনি আপন পিতা হুযূর ক্বেবলা শাহানশাহে সিরিকোটের সাথে গরীব-নাওয়ায হযরত খাজা মুঈন উদ্দীন চিশতী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির মাযার শরীফ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে আজমীর শরীফ তাশরীফ নিয়ে যান। তিনি গরীব-নাওয়াযের মাযার শরীফ চত্বরে মনের খেয়ালে পায়চারী করছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক নূরানী চেহারা বিশিষ্ট ব্যক্তি হুযূর ক্বেবলা হযরত তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির নিকট এসে তাঁকে পাশে বসিয়ে খুব আদর-¯েœহ করলেন এবং দো‘আ করলেন। তখন হযরত শাহানশাহে সিরিকোট আলায়হির রাহমাহ্ মু‘আল্লিমের ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরে আব্বাজানের নিকট পুরো ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেন, ‘‘বেটা, ওয়হ্ তো হযরত খাজা থে।’’ (বৎস, তিনি তো হযরত খাজা গরীব-নাওয়াযই ছিলেন।)

মোটকথা, এভাবে পবিত্র শৈশব থেকে যেসব কারামত হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি থেকে প্রকাশ পেয়েছিলো তাতে একথা সুস্পষ্ট হয় যে, তিনি মাদারযাদ (মাতৃগর্ভ থেকে) ওলী ছিলেন। তাছাড়া, হুযূর ক্বেবলা শাহানশাহহে সিরিকোট আলায়হির রাহমাহ্ নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে, হযরত তৈয়্যব শাহ্ মাতৃগর্ভের ওলী। তিনি বলেছিলেন, ‘‘তৈয়্যব মাদারযাদ ওলী হ্যায়’’।

দ্বিতীয়ত, তিনি (হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্)-এর প্রতি খোদ্ হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম, হুযূর শাহানশাহে বাগদাদ গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, তরীক্বাহ্-ই আলিয়া ক্বাদেরিয়া সিরিকোটিয়া শরীফের সম্মানিত মাশা-ইখ হযরতের কৃপাদৃষ্টি নিবদ্ধ ছিলো। তিনি হযরত খাজা চৌহরভী ও হুযূর-ই ক্বেবলা শাহানশাহে সিরিকোট আলায়হির রাহমাহর অতি প্রিয়ভাজন ছিলেন। তিনি তো শাহানশাহে সিরিকোটের প্রত্যক্ষ ও প্রধান খলীফা ছিলেন। বিগত ১৯৫৮ ইংরেজি সালে চট্টগ্রামেই শাহানশাহে সিরিকোট হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি)কে খিলাফত দান করেন এবং বেলায়তের উচ্চাসনে আসীন করে তরীক্বত এবং দ্বীন ও মাযহাবের গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেন।

হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্র হজ্ব ও ওমরাহ্’র পবিত্র সফরগুলোর বিভিন্ন ঘটনা ও এরশাদগুলো পর্যালোচনা করলে একথা সুস্পষ্ট হয় যে, তিনি সরকারে দু’ আলমের সাথে শুধু নিজে প্রত্যক্ষভাবে সাক্ষাৎ করেননি, বরং আমাদের তরীক্বতের শীর্ষস্থানীয় একাধিক ব্যক্তিকেও হুযূর-ই আক্রামের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে ধন্য করেছিলেন। বিগত ১৯৭৯ইংরেজি সনের হজ্বব্রত পালনকালে মদীনা শরীফে তাশরীফ নিয়ে গেলে সেখানে এক রাতে হুযূর ক্বেবলা মসজিদে নবভী শরীফে তাহাজ্জুদ নামায সম্পন্ন করে সফরসঙ্গী মুরীদানকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, ‘‘তোমরাও তাহাজ্জুদের পর হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রওযা-ই পাকে গিয়ে সালাম আরয করো।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘দরবারে নবভী শরীফ এমন এক দরবার, যেখান থেকে শানমান, মর্যাদা, এক কথায় সবকিছু বন্টন করা হয়, হুযূর-ই আক্রাম ‘হায়াতুন্নবী’ (জীবিত), হাযির-নাযির এবং সমস্ত বিশ্বের জন্য রহমত।’’ এজন্য তিনি সব সময় ‘ইশ্ক্বে রসূল’-এ বিভোর থাকতেন। তাঁর পিতা ও মুর্শিদ ক্বেবলা যেভাবে বাঁশখালীর শেখেরখিলে ওহাবীদেরকে নবীর শানে দরূদ শরীফ না পড়ে, তা নিয়ে বিদ্রƒপ করতে দেখে রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন এবং তাদের খন্ডনও নবীপ্রেমের অহমিকা সৃষ্টির জন্য, জামেয়া ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করে গিয়েছেন, তেমনি হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহ্মাহ্ও এ ক্ষেত্রে যুগোপযোগী যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গেছেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ সুন্নী মতাদর্শের উৎকৃষ্ট, স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে অগণিত অবদান রেখে গেছেন।

শাহানশাহে বাগদাদ হযরত গাউসুল আ’যম জীলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর যিয়ারতের জন্য বাগদাদ শরীফ সফরকালেও যেসব অলৌকিক বিষয়াদি প্রকাশ পেয়েছিলো ওইগুলো একথা প্রমাণ করে যে, তিনি শাহানশাহে বাগদাদের দরবারের কত প্রিয়ভাজন! তিনি এ প্রসঙ্গে শুধু ইঙ্গিতে এরশাদ করেছিলেন, ‘শাহানশাহে বাগদাদকে হাঁ মুঝে আজনাবিয়্যাৎ মাহসূস নেহীঁ হুয়ী।’’ (শাহানশাহে বাগদাদের দরবারে নিজেকে ‘পর’ মনে হয়নি।) অর্থাৎ হুযূর গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হুযূর ক্বেবলাকে অতি আপনজন হিসেবে সমাদর করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্! সুতরাং হুযূর ক্বেবলা যে, মদীনা মুনাওয়ারাহ্, বাগদাদ-ই মুকাররাম, চৌহার ও সিরিকোট শরীফ থেকে বেলায়তের উচ্চাসন লাভ করে ধন্য হয়েছেন তাতে সন্দেহের অবকাশ কোথায়?

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কৃপাদৃষ্টিতে মানুষ অনায়াসে আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হয়ে যায়। নবী করীমের কৃপাদৃষ্টি ও ক্ষণিকের সান্নিধ্য অগণিত সৌভাগ্যবানকে সাহাবীর অতি উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দিয়েছে। দুনিয়ায় সাহাবা-ই কেরামের সংখ্যাও লক্ষ লক্ষ। হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর সান্নিধ্য ও কৃপাদৃষ্টিতে ফিরআউনের অগণিত যাদুকর একই সময়ে মু’মিন, সাহাবী ও শহীদের মর্যাদা লাভ করেছিলো।
[সূত্র. মাদারিজ, পবিত্র ক্বোরআন মজীদ ও এর তাফসীর গ্রন্থাবলী এবং বাহজাতুল আসরার ইত্যাদি]

গাউসে পাকের দরবারে গিয়ে তাঁরই কৃপাদৃষ্টিতে অতি অল্প সময়ে আবদালে পরিণত হয়েছে সমাজের এক নিম্ন পর্যায়ের মানুষ। সুতরাং আমাদের হুযূর ক্বেবলার বেলায়তের উচ্চাসন আল্লাহর এ প্রিয়ভাজনদের কৃপাদৃষ্টিতেও অর্জিত হয়েছে নিঃসন্দেহে। ওলী হবার তৃতীয় পদ্ধতি হলো রিয়াযত (সাধনা)। হাদীসে ক্বুদসীতে আছে, বান্দা ফরয ইবাদত ঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর যখন নফল ইবাদতে মনোনিবেশ করে, তখন এক পর্যায়ে এসে আল্লাহর অতি উচ্চাঙ্গের প্রিয় তথা ওলী হয়ে যায়। আমাদের হুযূর ক্বেবলার রিয়াযত বা আধ্যাত্মিক সাধনার বিষয়টিও অনন্য অসাধারণ, যা তাঁকে বেলায়তের এমন উচ্চাসনে আসীন করেছে।

এখন কামিল পীরে তরীক্বত হবার জন্য যে চারটি পূর্বশর্তের কথা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর নিরীখে হুযূর ক্বেবলা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।
প্রথমতঃ বিশুদ্ধ আক্বীদা অর্থাৎ সুন্নী আক্বীদা পোষণ করা। হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্ ও তাঁর তরীক্বত উপমহাদেশে সুন্নিয়াতের ‘প্রবাদে’ পরিণত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ হুযূর ক্বেবলার হাতে বায়‘আত গ্রহণ করলে তার সম্পর্কে যে কোন ব্যক্তিই মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করেনা যে, ‘ইনি একজন খাঁটি সুন্নী মুসলমান।’’ এর পেছনে অগণিত কারণ এবং যুক্তিও বিদ্যমান। যেমন-সুন্নিয়াতের প্রতিষ্ঠা ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য, শাহানশাহে সিরিকোটের প্রতিষ্ঠিত ‘জামেয়া’ হুযূর ক্বেবলার সুযোগ্য পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে, আজ তাঁরই ভাষায় ‘জান্নাত নিশান’ (বেহেশতসদৃশ) ও ‘কাশ্তিয়ে নূহ’ (হযরত নূহ্ আলায়হিস্ সালাম-এর নৌযানসম)। তাছাড়া, বর্তমানে জামেয়া উপ মহাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও সুন্নী মতাদর্শের সর্ববৃহৎ দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপর তাঁরই হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাজধানী ঢাকার বুকে ক্বাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া। সাংগঠনিক জগতে শাহানশাহে সিরিকোট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘আনজুমান’ পরিণত হয়েছে মহীরূহে। এরই প্রত্যক্ষ পরিচালনা বা পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে আরো শতাধিক সুন্নী দ্বীনী প্রতিষ্ঠান। আরো সুখের বিষয় যে, জামেয়াসহ এসব মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম চলছে আ’লা হযরতের মসলকের আলোকে।

দরসে নেযামী
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রম পরিবর্তিত হয়ে মাদরাসাগুলোতে সুন্নি মতাদর্শের দক্ষ আলিম তৈরীর স্থলে অদক্ষ কিংবা ভিন্নমতাবলম্বী আরবী শিক্ষিত তৈরী হতে শুরু করেছে। এ মারাত্মক আশংকা ও অশুভ পরিণতি থেকে পরিত্রাণের বিকল্প পন্থা হচ্ছে ‘দরসে নেযামী’ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা। হুযূর ক্বেবলার বেলায়তী দৃষ্টিতে সেটাও ধরা পড়েছে আজ থেকে ত্রিশ বছরাধিক কাল পূর্বে। সুতরাং তিনি মোহরার কালুরঘাট এলাকায় বিশেষত ‘দরসে নেযামী’ চালু করার জন্য প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন- ‘কালুরঘাট তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা।’ আলহামদুলিল্লাহ্! এ বছর (২০১৮ইং) থেকে তাতে পুরোদমে ‘দরসে নেযামী’ শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে।

প্রকাশনা
সত্য প্রতিষ্ঠা ও বাতিলের খন্ডনের জন্য প্রকাশনার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। দ্বীন-ইসলাম ও মাযহাবে আহলে সুন্নাতের এক নির্ভুল জ্ঞানভান্ডার হচ্ছে হযরত খাজা চৌহরভীর লিখিত ‘মাজমু‘আ-ই সালাওয়াত-ই রসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’। এ মহা বরকতমন্ডিত দরূদ শরীফ গ্রন্থের পুনর্মুদ্রণ এমনকি সেটার উর্দু অনুবাদ প্রকাশের ব্যবস্থাও করে গিয়েছেন হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি। এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটির জন্য পাকিস্তানের এক প্রখ্যাত দক্ষ আলিম মুফতি মুহাম্মদ আশরাফ সিয়ালভীকে চয়ন করেন ও এর গুরুদায়িত্ব তাঁর হাতে অর্পণ করেন। এ বিশাল ও ব্যয় বহুল গ্রন্থের অনুবাদ ও প্রকাশনার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করেন হুযূর ক্বেবলারই একনিষ্ঠ মুরীদ ও ধনাঢ্য ব্যক্তি মরহুম আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবদুল জাব্বার (প্রকাশ ইউনুস কোং)। পরবর্তীতে হুযূর ক্বেবলা আলায়হির রাহমাহরই বরকতময় নির্দেশ ও দো‘আয় এ মহা বরকতময় কিতাবের বাংলা-উচ্চারণসহ বঙ্গানুবাদের কাজ আরম্ভ করি আমি অধম। অবশ্য এর অনুবাদ কর্মে অংশগ্রহণ করেছেন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছেন আরো কয়েকজন স্বনামধন্য সুন্নী আলিম। এ পর্যন্ত কিতাবটার ১৪ পারার বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং ‘আনজুমান রিসার্চ সেন্টার’-এর তত্বাবধানে বাকী পারাগুলোর বঙ্গানুবাদও চলছে। ইনশা-আল্লাহ্ অনতিবিলম্বে কিতাবটার পূর্ণাঙ্গ বঙ্গানুবাদ সম্মানিত পাঠক সমাজের হাতে পৌঁছে যাবে। এর প্রকাশনা করে যাচ্ছে ‘আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম।
‘বাতিল ফির্কার জন্য মৃত্যু’ বলে খ্যাত মাসিক পত্রিকা ‘তরজুমান-এ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত’-এর প্রতিষ্ঠা ও প্রকাশনার সূচনা হয় হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্র পবিত্র হাতে। পত্রিকাটির এখন নিয়মিত প্রকাশনার ৩৯ বছর চলছে। আলহামদুলিল্লাহ! ‘মাসিক তরজুমান’ এখন মুসলিম সমাজের একটি অতি সমাদৃত পত্রিকা। এর অধিকতর উন্নয়নও এখন প্রক্রিয়াধীন।

ওহাবী মাযহাবের স্বরূপ উন্মোচন করে সাড়ে পাঁচ শত নির্ভরযোগ্য বরাতে সমৃদ্ধ করে সাতশ’ পঁয়ত্রিশ পৃষ্ঠার একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন মাওলানা মুহাম্মদ যিয়াউদ্দিন কাদেরী সিয়ালকোটি আলায়হির রাহমাহ্। হুযূর ক্বেবলা আলায়হির রাহমাহ্ এ বিরাটাকার কিতাব (উর্দু)-এর বঙ্গানুবাদ ও প্রকাশনার জন্য নির্দেশ দান করেন। ওমান প্রবাসী হাজী মুহাম্মদ হোসাঈন সাহেব হুযূর ক্বেবলার উক্ত আদেশ পালনের জন্য এগিয়ে আসেন। তাঁর অনুরোধে আমি অধম কয়েকজন দক্ষ অনুবাদককে সাথে নিয়ে উক্ত কিতাবের অনুবাদ করি ও আমি নিজেই সেটার সম্পাদনা করি। অতি সুন্দর অবয়বে নির্ভুলভাবে কিতাবটাও এখন সম্মানিত পাঠকদের হাতে।

পবিত্র ক্বোরআন ও হাদীস শরীফ হচ্ছে, ইসলামের চতুর্দলীলের দু’টি প্রধান দলীল। যখন এ দেশে পবিত্র ক্বোরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা আরম্ভ হলো, তখন আ’লা হযরতের বিশুদ্ধতম তরজমা-ই ক্বোরআন ‘কান্যুল ঈমান’ এবং সদরুল আফাযিল সৈয়্যদ নঈম উদ্দিন মুরাদাবাদী ও হাকীমুল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আলায়হিমার রাহমাহ্র বিশুদ্ধ তাফসীর যথাক্রমে ‘খাযাইনুল ইরফান’ ও ‘নূরুল ইরফান’-এর বঙ্গানুাবাদের প্রয়োজনীয়তা প্রকটভাবে অনুভূত হলো। আর মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আলায়হির রাহমাহ্ লিখিত হাদীস শরীফের সঠিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মিরআত শরহে মিশকাত’-এর বঙ্গানুবাদ এবং সেটার প্রকাশনার প্রয়োজনীয়তাও একইভাবে দেখা দিলো। বলাবাহুল্য, এ অতীব প্রয়োজনীয় কিতাবগুলোর বঙ্গানুবাদ ও প্রকাশনার উদ্যোগ আমি গ্রহণ করলেও এ মহান কর্মের পূর্ণাঙ্গ সফলতার জন্য খাস দো‘আ করেছেন আমার মহান মুর্শিদে বরহক্ব হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এবং তাঁরই সুযোগ্য মহান খলীফা বর্তমান হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ মুদ্দাযিল্লুহুল আলী। আলহামদুলিল্লাহ্, কিতাবগুলো এখন অতি সুন্দর অবয়বে সম্মানিত পাঠকদের হাতে রয়েছে। অবশ্য মিরআত শরহে মিশকাতের বাকী তিনটি খন্ডও প্রকাশের জন্য দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছে।

এ প্রকাশনা জগতকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য হুযূর ক্বেবলার সুযোগ্য সাহেবযাদা ও সুযোগ্য উত্তরসূরীদ্বয় বর্তমান হুযূর ক্বেবলা হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ ও পীরে বাঙ্গাল হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মুদ্দাযিল্লুহুমাল আলীর নির্দেশ ও দো‘আয় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ‘আনজুমান রিসার্চ সেন্টার’। এ সেন্টারের নগণ্য খাদিম হিসেবে চেষ্টা করছি যুগের চাহিদানুসারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিতাবাদি ও বই পুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশের। আলহামদুলিল্লাহ্, এ পর্যন্ত এ রিসার্চ সেন্টারের তত্বাবধানে প্রণীত ও সম্পাদিত ‘গাউসিয়া তারবিয়াতী নেসাব’সহ অর্দ্ধ শতাধিক গ্রন্থ পুস্তক প্রণয়ণ ও প্রস্তুত করেছে। আর সেগুলো প্রকাশ করেছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম। অতি সুখের বিষয় এ শুভ প্রয়াস অব্যাহত গতিতে জারী রয়েছে। তাছাড়া, শাজরাহ শরীফসহ আনজুমানের অন্যান্য প্রকাশনাও অব্যাহত রয়েছে।

কাদেরিয়া ত্বরীক্বার প্রচার-প্রসার
১২০১ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজীর বাংলাদেশ জয় ছিলো একটি রাজনৈতিক বিজয়। কিন্তু ইসলামের সুমহান বাণী দ্বারা এদেশের মাটি ও মানুষের মন জয় করেছেন আল্লাহর মহান ওলীগণ। এসব সম্মানিত সূফী ও ওলীগণের প্রবর্তিত ত্বরীকাগুলো হচ্ছে, ক্বাদেরিয়া, চিশতিয়া, সোহরুওয়ারদিয়া ও নক্বশবন্দিয়া ইত্যাদি। এসব ত্বরীক্বার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে ক্বাদেরিয়া ত্বরীক্বা। বস্তুত: অন্যসব ত্বরীক্বা এ মহান ক্বাদেরিয়া ত্বরীক্বা হতেই ফয়যপ্রাপ্ত। ক্বাদেরিয়া ত্বরীক্বার প্রতিষ্ঠাতা হলেন পীরানে পীর দস্তগীর হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ আবদুল ক্বাদের জীলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু। তাঁরই কৃপাদৃষ্টিতে অন্যসব ত্বরীক্বা অস্তিত্ব পেয়েছে। আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেছেন-
مزرع چشت وبخارا عراق واجمير ـ كون سى كشت په برسانهيں جا䫰لاتيرا
অর্থ: চিশতিয়া, নক্বশবন্দিয়া, সোহরুওয়ার্দিয়া, মুজাদ্দেদিয়া এ সবের মধ্যে কোন্ তরীক্বারূপী ক্ষেতে, হে শায়খ আবদুল ক্বাদের জীলানী! আপনার ফয়যরূপী বৃষ্টি বর্ষিত হয়নি?
১৯২০ সালে উপমহাদেশে, বিশেষত বার্মা, রেঙ্গুন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ক্বাদেরিয়া ত্বরীকার শিক্ষা ও আদর্শের প্রচার ও প্রসারে যে দু’জন মহান ওলী-ই কামিল ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ও থাকবেন, তাঁরা হলেন ক্বুত্ববুল আউলিয়া হযরতুল আল্লামা হাফেয ক্বারী সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি ও তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরী গাউসে যমান হযরতুল আল্লামা হাফেজ কারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিমা। তাঁদের সহ¯্র-লক্ষ মুরীদান এ ত্বরীক্বতের বিভিন্ন কর্মসূচী, খানক্বাহ্ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা এবং সুন্নী ওলামা-ই কেরামের ওয়ায-মাহফিল, বিভিন্ন দিবস উদ্যাপন এবং ‘দাওরা-ই দাওয়াত খায়র’ ইত্যাদির মাধ্যমে ক্বাদেরিয়া ত্বরীক্বার ব্যাপকতর প্রচার ও প্রসার করেই এসেছেন ও করে যাচ্ছেন।

গাউসিয়া কমিটি গঠন
বিশাল জনগোষ্ঠী সংগঠিত হলে অনেক বড় বড় কর্ম সম্পাদন করতে পারে। হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর সহ¯্র কোটি মুরীদানকে সংগঠিত করে দ্বীন, মাযহাব ও ত্বরীক্বত এবং মানব সেবার বৃহত্তর খিদমতের পথ সুগম করে দেন। তিনি বিগত ১৯৮৬ইং সালে হুযূর শাহানশাহে বাগদাদের স্মৃতি বিজড়িত ‘গাউসিয়া কমিটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। আলহামদুলিল্লাহ্! এ গাউসিয়া কমিটি আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে। এটা এখন উপমহাদেশের বৃহত্তম আধ্যাত্মিক সংগঠন। বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে সেটা এখন বিশ্বের অনেক দেশে বিস্তার লাভ করেছে এবং বড় বড় খিদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে।

জশনে জুলূসের প্রবর্তন
এ উপমহাদেশে বিভিন্ন বাতিলপন্থী নানাভাবে আত্মপ্রকাশ করে জনসমক্ষে শুধু তাদের অস্তিত্ব নয়; বরং তাদের সংখ্যাধিক্য প্রমাণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বহুদিন যাবৎ। সত্য বলতে কি? কখনো কখনো তাদের পরিকল্পিত বিরাট বিরাট জামায়েত দেখে দেশের সত্যপন্থী ও শান্তিপ্রিয় মানুষ শঙ্কিত হয়ে যাচ্ছিলো। এ দেশে সুন্নী-আশেক্বে রসূল মুসলমানই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু তা প্রমাণ করার তেমন কোন ব্যবস্থা ছিলো না। হুযূর ক্বেবলা বিগত ১৯৭৪ ইংরেজিতে দরবারে সিরিকোট শরীফ থেকে ‘আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’কে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে ৯ ও ১২ রবিউল আউয়াল শরীফে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মতভাবে বর্ণাঢ্য ‘জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী’ (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আয়োজনের বরকতময় নির্দেশ প্রদান করেন। সুতরাং ‘আনজুমান’ও হুযূর ক্বেবলার ওই নির্দেশ অনুসারে ওই সাল থেকে অদ্যাবধি প্রতিবছর ‘জশনে জুলূস’-এর আয়োজন করে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ্, এ জুলূস এখন উপমহাদেশের বৃহত্তম জুলূস, বিশ্বের বৃহত্তম সুন্নী ঐক্যের প্রতীক এবং অগণিত মানুষের হৃদয়ে ধারণকৃত হুব্বে রসূল ও ইশকে নবীর বহিঃপ্রকাশের অনন্য ব্যবস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সুতরাং হুযূর ক্বেবলা আজ এদেশে জশনে জুলূসের প্রবর্তক এবং সুন্নিয়াতের শ্রেষ্ঠ কর্ণধার।

সাংগঠনিক দূরদর্শিতা
সংগঠন ইসলামের ঐতিহ্য, রাজনীতি ইসলামের অবিচ্ছেদ্য বিষয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম অন্ধকার যুগে ‘ঐতিহাসিক হলফুল ফুযূল’ প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে সংগঠিত হবার শিক্ষা ও দীক্ষা দিয়েছেন। তিনি ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন হিসেবে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মদীনা মুনাওয়ারাহ্ থেকে শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে মুসলমানদেরকে একটি অদম্য ও গৌরবান্বিত জাতিতে পরিণত করেছেন। তাঁর ঐতিহাসিক ‘মদীনা সনদ’ বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। এ শিক্ষায় শিক্ষিত ও তাঁর অভাবনীয় দুরদর্শী দীক্ষায় দীক্ষিত মুসলিম জাতি আজ বিশ্বে ষাটোর্ধ্ব সংখ্যক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। দ্বীন, সমাজ ও মানবসেবার বৃহত্তর হাতিয়ার হচ্ছে নিষ্কলুষ রাজনীতি। এ ক্ষেত্রে সফল রাজনীতিকরাই ইতিহাসে সর্বাধিক স্থান পেয়ে আছেন। হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্ তাই বর্তমান হুযূর ক্বেবলার বরকতময় হাতে ত্বরীক্বতের খিলাফত ও গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেন, অপরদিকে তাঁরই সুযোগ্য সাহেবযাদা পীরে বাঙ্গাল হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মুদ্দাযিল্লুহুল আলীকে রাজনীতির জন্য সদয় অনুমতি প্রদান করেন, পীরে বাঙ্গাল মুদ্দাযিল্লুহুল আলী তাঁর এক সাক্ষাৎকারে ফরমায়েছেন- ‘আমি পাকিস্তানে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করার পর আরো লেখাপড়া করার জন্য মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হুযূর ক্বেবলাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ আমাকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে জনগণের সেবার সুযোগ দানের জন্য অনুরোধ জানান। হুযূর ক্বেবলা তাতে সদয় সম্মতি দান করেন, এভাবে হুযূর কেবলা সাবির শাহ্ ও হুযূর ক্বেবলার নাতিগণও জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির অঙ্গনে অতি জনপ্রিয় এবং সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃত।

রসূলে আক্রামের অকৃত্রিম আশিক্ব ও নায়েব হুযূর ক্বেবলা এ দেশে সুন্নী মুসলমানদেরকে সবক্ষেত্রে সংগঠিত থাকার দীক্ষা দান করেন। তিনি আহলে সুন্নাতের আদর্শবাহী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা’কে খুব ভালবাসতেন। সংগঠনের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেটাকে ‘আউলিয়া কেরামের ফৌজ’ বলে আখ্যা দেন এবং বিভিন্নভাবে উৎসাহ্ প্রদান করেন। বাকী রইলো রাজনীতি। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দেশের সুন্নী ওলামা ও জনগণ সুন্নিয়াত ভিত্তিক রাজনীতি থেকে বহুদূরে অবস্থান করে আসছিলেন। ফলে এ অঙ্গনে সুন্নী মুসলমানগণ শুধু পিছিয়ে নন বরং নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখতে পারছিলেন না। সুতরাং হুযূর ক্বেবলা আলায়হির রাহমাহ্ জনাব মরহুম আল্লামা অধ্যক্ষ জাফর আহমদ সিদ্দীক্বীকে রাজনৈতিকভাবে সুন্নী মুসলমানদের সংগঠিত করার পরামর্শ দেন। আলহামদুলিল্লাহ্ হুযূর ক্বেবলার এ বরকতময় পরামর্শও বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

তবে এ প্রসঙ্গে একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বর্তমানের রাজনীতি বহুলাংশে কলূষিত। রাজনীতিতে প্রায়শঃ অসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, পক্ষপাতিত্ব বিরাজমান থাকে। ফলশ্রুতিতে, প্রাতিষ্ঠানিক নির্দিষ্ট ও সীমিত গন্ডিতে রাজনীতির অসহিষ্ণুতা ও অস্বস্থিকর অবস্থার কারণে অনেকাংশে প্রাতিষ্ঠানিক শৃংখলা রক্ষা সম্ভবপর হয় না। তাই, বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে দ্বীনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। সুতরাং আমাদের আনজুমান, জামেয়া, গাউসিয়া কমিটি এবং আনজুমানের অঙ্গসংগঠনগুলোকে অরাজনৈতিক ঘোষণা করা যুক্তিযুক্ত। এটা দ্বীন-ইসলামের কোন জরুরী বিষয়কে অস্বীকার করা নয়; বরং দ্বীন ও মাযহাবের খাতিরেই, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত সুব্যবস্থা।

ঈমান ও ইসলামের রূহ হচ্ছে ‘হুব্বে রসূল’ (রসূলে পাকের ভালবাসা) আর এ হুব্বে রসূলের বহিঃপ্রকাশ ও প্রমাণ হচ্ছে সুন্নাতে রসূলের অনুসরণ, এ জন্য হুযূর ক্বেবলার শিক্ষা ও দীক্ষার অন্যতম শোভা ছিলো রসূলে পাকের সাথে ওয়াফাদারী তথা হুযূর-ই আক্রামের প্রতি পূর্ণ ভালবাসা ধারণ করে তাঁর সুন্নাতের অনুসরণের প্রতি তাকীদ দেওয়া। তিনি বায়‘আত গ্রহণের পর যে শিক্ষা দেন তাতে এটা বিশেষভাবে ফুটে ওঠে। আর নসীহত করার সময় প্রায়শ আল্লামা ইকবালের এ উক্তির অবতাণা করতেন-

كى محمد سے وفاتونے تو هم تيرےهيں ـ
يه جهاں چيزهںو كيا لوح وقلم تيرےهيں
অর্থাৎ যদি হযরত মুহাম্মদ মোস্তফার সাথে ওয়াফাদারী করো, তবে আমি (আল্লাহ্ও) তোমার। তখন এ বিশ্ব কি জিনিস, লওহ এবং কলমও তোমার হয়ে যাবে।
এভাবে হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ হলেন সব দিকদিয়ে সুন্নাতের মহান প্রবাদ পুরুষ; আর সুন্নিয়াতই হচ্ছে একজন সত্যিকার অর্থের ওলীর অনিবার্য বৈশিষ্ট্য ও তাঁর বেলায়তের পূর্বশর্ত।
দ্বিতীয়ত, একজন ওলী-ই কামিলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁর মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ দ্বীনী ইল্ম থাকা। ‘জালালাঈন’ শরীফের মতো তাফসীরের কিতাব এবং ফিক্বহ্ শাস্ত্রের কিতাবাদি নিজে নিজে পড়তে সক্ষম হওয়া, আক্বাইদে আহলে সুন্নাত সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াক্বিফ (অবগত) হওয়া, কুফর ও ইসলাম, পথভ্রষ্টতা ও হিদায়তের মধ্যে পার্থক্য জানা থাকা ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ্! আমাদের মুর্শিদে বরহক আলায়হির রাহমাহ ছিলেন দক্ষ হাফেযে ক্বোরআন, ক্বারী ও যুগের বরেণ্য আলিমে দ্বীন। তিনি পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস-মুফাস্সির ও আসাতিযাহ-ই কেরামের নিকট থেকে তাফসীর, হাদীস, ফিক্বহ্, বালাগাত, মানতিক্ব, আক্বাইদ, আরবী, ফার্সী ও উর্দু সাহিত্যে শিক্ষা লাভ করে দক্ষতার আধিকারী হন। হুযূর ক্বেবলার ‘নূরানী তাক্বরীর’গুলো, মাদরাসা-ই রহমানিয়া, হরিপুর পাকিস্তান, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া (চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ) ও কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়ার সার্বিক তত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল স্বাক্ষর বহন করে। এ কারণে বলা যায়- جن كى هر هر ادا سنت مصطفي ـ ايسے پير طريقت په لاكوনں سلام
অর্থ: যাঁর প্রতিটি কর্ম সুন্নাতে মোস্তফার অনুসরণ। এ পীরে তরীক্বতের প্রতি লাখোঁ সালাম। ইলম ব্যতীত সুন্নাতের অনুসারে পূর্ণাঙ্গ আমল করা অসম্ভব।
তৃতীয়ত, পীর ও মুর্শিদ কামিল হবার জন্য আরেক পূর্বশর্ত হচ্ছে- শায়খ-ই ইত্তিসাল’ হওয়া অর্থাৎ যার হাতে বায়‘আত গ্রহণ করা হয়, তাঁর মাধ্যমে বায়‘আত গ্রহণকারীর সিলসিলা (মাশাইখ-পরম্পরা) হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বিশুদ্ধভাবে পৌঁছে যাওয়া, মধ্যখানে কর্তিত না হওয়া। অর্থাৎ এ সিলসিলাহ বা পরম্পরায় মধ্যখানে কোন বাতিলপন্থী ও অযোগ্য ব্যক্তি থাকবে না। উল্লেখ্য, পীর-মুর্শিদের এমন একটি ‘শাজরা’ দ্বারা এ বিষয়টা স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। আল্লাহ্ তা‘আলার শোকর যে, আমাদের মুর্শিদের বরহক্বের ‘শাজরা শরীফ’ উচ্চাঙ্গের উর্দু কবিতায় মুদ্রিত অবয়বে বহুল পরিমাণে প্রকাশ করে আসছে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট; যা ত্বরীক্বতের প্রত্যেকে তরীক্বতের নিয়মিত সবকের মতো পাঠ করে থাকেন। এ’তে একদিকে সিলসিলাহ-ই আলিয়া ক্বাদেরিয়া সিরিকোটিয়ার ‘ইত্তিসাল’ (হুযূর-ই আকরাম পর্যন্ত যুগশ্রেষ্ঠ ও বরেণ্য কামিল মুর্শিদগণের মাধ্যমে পৌঁছা) মধ্যহ্ন সূর্যের ন্যায় প্রকাশ পায়; অন্যদিকে তা পাঠ করে ভক্ত মুরীদান ওই সমস্ত বুযর্গের রূহানী ফুয়ূয লাভ করে ধন্য হন। কারণ, যেখানে আল্লাহর নেক্কার বান্দাদের স্মরণ ও উল্লেখ করা হয়, সেখানে আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।’ প্রকাশ্যে ‘শাজরা’ (তরীক্বতের মাশাইখ-পরম্পরা) প্রকাশের ইতিহাসে শাহানশাহে সিরিকোটের ভূমিকা এদেশে সর্বপ্রথম বললেও অত্যুক্তি হবে না। কারণ, এদেশের অনেক পীরের সিলসিলায় সাইয়্যেদ আহমদ বেরলভীর মত বাতিল আক্বীদার লোকের উপস্থিতির কারণে কর্তিত হয়ে আছে। সুতরাং এ দেশে ‘সিলসিলাহ্-ই আলিয়া ক্বাদেরিয়া সিরিকোটিয়া’ ছাড়া এমনি স্বচ্ছ ও সঠিক সিলসিলারই অস্তিত্ব খুব কমই বিদ্যমান। এ জন্য আমাদের হুযূর ক্বেবলাগণ বায়আতের পরপর মুরীদানের উদ্দেশ্যে এরশাদ করেন, ‘তোমাদের এ বায়‘আত ক্বাদেরিয়া তরীক্বায় করানো হলো, যা শাহানশাহে বাগদাদ হয়ে হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।’

আরো উল্লেখ্য যে, এ সিরসিলা বা পরম্পরায় মুরীদগণ মুর্শিদে বরহক্ব ও মাশাইখে কেরামের মাধ্যমে হুযূর-ই আকরাম থেকে ফয়য (কল্যাণ ধারা) লাভ করে ধন্য হন। এ কারণেই, হুযূর ক্বেবলার হাতে বায়‘আত গ্রহণের সাথে সাথে মুরীদের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে; রূহানিয়াত তথা ইশ্ক্বে রসূল ও ঈমানী শক্তিতে তার হৃদয়-মন ভর্তি হয়ে যায়, তার আর্থিক অবস্থায় আসে আশাতীত পরিবর্তন। উন্নতি হয় সব বিষয়ের। এসব কারণে দ্বীনী অঙ্গনে এ তরীক্বা অতি গ্রহণযোগ্য তরীক্বা, এ তরীক্বায় যথাশীঘ্র সম্ভব অন্তর্ভুক্ত হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়।

চতুর্থত; মুত্তাক্বী-পরহেযগার হওয়া, ফাসিক্ব-ই মু’লান না হওয়া পীর-ই তরীক্বত হওয়ার জন্য অন্যতম পূর্বশর্ত। কারণ পীরকে সম্মান করা অপরিহার্য আর ফাসিক্বকে অপমানিত করা ওয়াজিব। এ দু’টির এক জায়গায় সমাবেশ অসম্ভব। তদুপরি, পীর-ই কামিল, নাফসে আম্মারার ফ্যাসাদ বা বিপর্যয়গুলো, শয়তানের প্রতারণাগুলো এবং কুপ্রবৃত্তির মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন, যাতে মুরীদান এ সবের সম্মুখীন হলে তাকে সংশোধন করতে পারেন। [সূত্র. ফাতাওয়া-ই আফরীক্বিয়াহ]

আলহামদুলিল্লাহ্! আমাদের মুর্শিদে বরহক্ব মাতৃগর্ভের ওলী। সুতরাং তাক্বওয়া-পরহেযগারী তাঁর সহজাত ছিলো। তাঁর প্রতিটি কাজ ও বাণীতে চূড়ান্ত খোদাভীরুতার ঝলক বিচ্ছুরিত হয়। সারা আদর্শ জীবনটাতে তিনি মানুষকে হিদায়ত করেছেন। তাঁর মুরীদানের সংখ্যা গণণাতীত। তাঁর সান্নিধ্যে আসা মাত্রই মানুষের মনে খোদা ভীরুতা, আল্লাহ্-রসূলের ভালবাসা ও পরকালের মুক্তি ও সাফল্য লাভের অপূর্ব স্পৃহা সৃষ্টি হতো।

গাউসে যামান, মুর্শিদে বরহক্ব হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হ্ িরাহমাহ ১৩৩৬ হিজরী মোতাবেক ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের হাজারা জিলার সিরিকোট (শেতালু শরীফ)-এ যুগশ্রেষ্ঠ ওলী শাহানশাহে সিরিকোট হযরত সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটির পবিত্র ঔরসে খাঁটি সৈয়্যদ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৭৭ বছর আদর্শ ও অসংখ্য কারামতপূর্ণ জীবন অতিবাহিত করে ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ যিলহজ্ব ১৪১৩ হিজরী, সোমবার (পাকিস্তানের সময়) সকাল সাড়ে নয়টায় সিরিকোট শরীফস্থ নিজ বাসভবনে, লক্ষ কোটি মুরীদান ও ভক্ত অনুরক্তকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ইনতিকাল করেন। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর দরজাতকে আরো বুলন্দ করুন। আমীন! হুযূর ক্বেবলার এ বেদনাদায়ক ওফাত শরীফের খবর শুনে পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় নেতৃবর্গ, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিশেষ ব্যক্তিবর্গ, অগণিত ওলামা-মাশাইখ, ভক্ত-মুরীদান প্রমুখ সিরিকোট শরীফের দিকে ছুটে যান। তাঁর বিশাল জানাযায় ইমামত করেন হুযূর ক্বেবলার সুযোগ্য উত্তরসুরী ও খলীফা বর্তমান হুযূর ক্বেবলা হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ সাহেব মুদ্দাযিল্লুহুল আলী। আর হুযূর ক্বেবলা হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি আলায়হির রাহমাহ্র মাযারের পাশে একই গম্বুজের নিচে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর বরকতমন্ডিত মাযার শরীফ আজ আম-খাস সবার যিয়ারতস্থল।

কারামত
হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্ যে এক শীর্ষস্থানীয় ওলী ছিলেন তা আজ মধ্যাহ্ন সূর্যের চেয়েও স্পষ্ট। সুতরাং তাঁর দীর্ঘ ৭৭ বছর বেলায়তী শোভাসমৃদ্ধ জীবনে অগণিত কারামতও প্রকাশ পেয়েছিলো। তাঁর সর্বাপেক্ষা বড় কারামত হচ্ছে তিনি ছিলেন বিশ্বনবী সরকারে দু’আলম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নূরানী জীবনাদর্শের এক বাস্তব মডেল। তিনি ছিলেন সুন্নাতে রসূলের সমুজ্জ্বল পায়কর। শরীয়ত ও তরীক্বতের অপূর্ব সমন্বয়ের এক বাস্তব ও অত্যুজ্জ্বল রূপ। আল্লাহ্, রসূল, শাহানশাহে বাগদাদসহ সম্মানিত মাশাইখে কেরামের কৃপাদৃষ্টি তাঁর প্রতি সর্বক্ষণ নিবদ্ধ ছিলো ও রয়েছে। তাই তাঁর গোটা আদর্শ ও অসংখ্য অসাধারণ কর্ম ব্যস্ত জীবনে কখনো তিনি ব্যর্থ হননি, অপূর্ব সাফল্য সবসময় তাঁর পদচম্বুন করেছে। দ্বীন ও মাযহাব এবং সুন্নীয়তের প্রচার-প্রসারের পথে কোন অপশক্তি ও বাতিলের চক্রান্ত কখনো বাধা হয়ে টিকে থাকতে পারেনি। তাঁর অদম্য বিজয়ে শুধু তাঁর অসাধারণ বেলায়তী শক্তির প্রমাণ মিলেনি বরং দ্বীন ও মাযহাব এবং সুন্নিয়তের গৌরবও উজ্জ্বল হয়েছে।

হুযূর ক্বেবলা তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহর এদেশে শুভাগমন সুন্নিয়াতের অগ্রযাত্রার পরিচায়ক এবং হুযূর ক্বেবলার প্রবর্তিত ‘জশনে জুলূস’ বৃহত্তম সুন্নী ঐক্যের প্রতীক।
তাই এক বছর এ দেশে তাঁর শুভাগমন বন্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো এ দেশের সব বাতিল পীর ও তাদের অনুসারী সরকারী ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গও। এ দেশে শুভাগমনের পূর্ববর্তী দিনগুলোতে ওই চক্রান্ত প্রকাশ পেয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। দেশের তদানীন্তন রাষ্ট্র প্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপে যথাসময়ে হুযূর ক্বেবলা এ দেশে তাশরীফ এনেছিলেন। তখন হুযূর ক্বেবলা এরশাদ করেছিলেন, আপনারা আমার এদেশে আসার ব্যাপারে শঙ্কিত থাকলেও আমি কিন্তু একেবারে নিশ্চিন্ত ও নিশ্চিত ছিলাম যে, আমি যথাসময়ে আসবো। এর মাধ্যমেও হুযূর ক্বেবলার প্রতি আল্লাহর খাস রহমত ও হুযূর ক্বেবলার অসাধারণ বেলায়তী শক্তির প্রমাণ মিলে।

তাছাড়া, হুযূর ক্বেবলা ওফাতের (১৯৯৩ইং) পর হাজী হাবীবুর রহমান কাদেরী পেশোয়ারী সাহেবকে (১৯৯৪ইং) স্বপ্নযোগে জানিয়েছিলেন। ‘‘দুঃখ করোনা, আগামী বছর তুমিও হজ্বে যাবে।’’ সুতরাং ওই বছর (১৯৯৫ইং) তাঁর হজ্বের ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছিলো। আল্লাহ্ পাকের মেহেরবাণীতে হুযূর ক্বেবলা মানুষের মনের কথা জানতেন। ১৯৭৯ইংরেজিতে হুযূর ক্বেবলা হাজী হাবীবুর রহমান পেশোয়ারীর বিবাহের আক্বদ পরিয়ে দিলে ওই মহল্লার ইমাম মনে মনে ভাবলেন; আজ বিশ রুপিয়া থেকে বঞ্চিত হলাম। তার মনের ভাবনা হুযূর কেবলার নিকট গোপন থাকেনি। আক্বদ অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হুযূর ক্বেবলা উক্ত ইমামকে ডেকে দু’শ রুপিয়া হাদিয়া দিলেন। (একের বদলে দশ রুপিয়া।) হুযূর ক্বেবলা এবার বর হাজি সাহেবকে বললেন, তোমার বিবাহ্ উপলক্ষে কোন কর্জ হলো কিনা? হাজি সাহেব লজ্জাবোধ করে ‘না’ বললেও হুযূর জেনে গেছেন যে, তার ১৪০০ রুপী কর্জ হয়েছে। হুযূর তাঁকে ১৪০০/- টাকা দিয়ে বিদায় নিলেন। এভাবে হুযূর কেবলা হাজারো মুরীদ-ভক্তের হাজারো প্রয়োজন পূরণ করে দেন। এ হাজি হাবিবুর রহমান একদিন তার বাসভবনে পেশোয়ার থেকে সিরিকোটের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। রাত ৯/১০টার সময় তিনি যতদূর এগিয়ে গেলেন, সেখান থেকে সিরিকোট দরবার আরো ৮/৯ কিলোমিটার দূরে। রাতের এ সময়ে সিরিকোট শরীফের পথঘাট জনশূন্য যায়। ঘন-অন্ধকার ও ছাইয়ে যায়। সুতরাং এ মুহূর্তে তার ভয় অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তার আগমনের খবর আগেভাগে হুযূর ক্বেবলাকে না দিলেও তা হুযূর ক্বেবলার অজানা ছিলোনা। দেখা গেলো দু’টি কুকুর হাজি সাহেবের সাথী হয়ে গেলো। এবার হাজী সাহেব নির্ভয়ে এগিয়ে চললেন। সিরিকোট দরবার শরীফের নিকটে পৌঁছলে কুকুর দু’টি অদৃশ্য হয়ে গেলো। ওদিকে তিনি দেখলেন, হুযূর ক্বেবলা তাঁকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সদয় দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে দেখা মাত্র হুযূর ক্বেবলা বললেন, ‘‘আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।’’ হাজী সাহেব কুকুর দু’টির কথা বললে হুযূর ক্বেবলা বললেন, ‘‘হযরাতে কেরাম তোমার হিফাযতের জন্য কুকুর দু’টিকে প্রেরণ করেছেন।’’ কিন্তু হাজী সাহেবের বিশ্বাস যে, এ ব্যবস্থাপনা হুযূর ক্বেবলারই যিন্দা কারামত।

হুযূর ক্বেবলা স্বীয় কপালের চোখ মুবারকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন। খোদ্ শাহানশাহে সিরিকোট প্রায়শঃ বলতেন, ‘‘তৈয়্যব কা মক্বাম বহুত উঁচা হ্যায়। তৈয়্যব মাদারযাদ ওলী হ্যায়। মুস্তাকবিল মে সিলসিলা-ই আলিয়া ক্বাদেরিয়া কা কাম তৈয়্যব সাম্বালেগা। তোমারে লিয়ে এক নওজোয়ান মজবূত পাবন্দে রসূল পীর কী যুরূরত হ্যায়। আওর উয়হ্ তৈয়্যব শাহ্ হ্যায়।’’ (অর্থাৎ তৈয়্যব শাহর স্থান বহু ঊর্ধ্বে। তৈয়্যব হচ্ছে মাতৃগর্ভের ওলী। অদূর ভবিষ্যতে সিলসিলাহ্-ই আলিয়া ক্বাদেরিয়ার সার্বিক কার্যক্রম তৈয়্যব শাহ্ সামলাবেন। তোমাদের জন্য সুন্নাতের অনুসারী একজন দৃঢ়চিত্ত নওজোয়ান পীরের প্রয়োজন। আর ওই পীর হলো তৈয়্যব শাহ্।) জামেয়ার আজীবন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা হাজী আকরাম খাঁ হুযূর ক্বেবলার দো‘আয় ৫৫/৬০ বছর বয়সে এক পুত্র সন্তান লাভ করেন। মু‘আল্লিম সুলায়মান আকরাম উদ্দীনও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে বিবাহের দীর্ঘ ১২ বছর পর, হুযূর ক্বেবলার দো‘আয় পুত্র সন্তান লাভ করেছেন। হুযূর ক্বেবলার কারামত শুধু মুসলমান নয়; লন্ডনের খ্রিস্টান চিকিৎসকও স্বীকার করেছেন। তিনি হুযূর ক্বেবলা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ঐব রং ধ এৎবধঃ ংধরহঃ (তিনি একজন মহান দরবেশ) ক্যান্সার অপেক্ষাও হাজার গুণ মারাত্মক লিমফোমা’ রোগে অন্য রোগী যেখানে অতি স্বল্প দিনের ব্যবধানে মারা যায়, সেখানে আমাদের হুযূর ক্বেবলা আরো দীর্ঘ ১৩ বছর পবিত্র জীবদ্দশায় অনেকটা স্বাভাবিকভাবে ছিলেন। এত কঠিন রোগের কারণে তিনি কোন দিন ‘উহ্’ শব্দও উচ্চারণ করেননি। আল্লাহ্ তা‘আলার ইচ্ছাকে তিনি সাদরে ও সšুÍষ্টচিত্তে বরণ করে নিয়েছিলেন। কত উচ্চ পর্যায়ের ওলী হলেই এমনটি করতে পারেন, তা সহজেই অনুমেয়।

হুযূর ক্বেবলা তিন তলা ভবনের উপর থেকে পতিত এক ছেলেকে রক্ষা করেছেন, একদা দুঘর্টনা থেকে বিমানকে রক্ষা করেছেন। বার্মা সফরে গেলে বিমান বন্দরে কাষ্টম অফিসার হুযূর ক্বেবলার তল্লাশি করতে গিয়ে ভীত হয়ে দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন। এক বাতিলপন্থী ড্রাইভার ভুল স্বীকার করে হুযূর ক্বেবলার হাতে বায়‘আত গ্রহণ করেছিলো। এভাবে অসংখ্য অগণিত কারামত রয়েছে হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির।

আল্লাহর ওলীগণ ইন্তিক্বালের পর জীবিত থাকেন। তাঁরা ওফাতের পরও মানুষের উপকার করতে পারেন। আপন ভক্ত-মুরীদদের দেখতে পান, চাইলে তাদের প্রয়োজনও, আল্লাহর ক্বুদরতক্রমে, মেটাতে পারেন। আমরা সৌভাগ্যবান, আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ আলায়হির রাহমাহ্র মতো ওলী ও পীর মুর্শিদ দান করেছেন। আরো সৌভাগ্য যে, তিনি তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে হুযূর ক্বেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ মুদ্দাযিল্লুহুল আলীকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত মুর্শিদ হিসেবে রেখে গেছেন। হুযূর ক্বেবলা এরশাদ করেছেন, ‘‘ভাইয়োঁ কো জায়সা চাহিয়ে, তাহের শাহ্ কো ওয়েসা তৈয়ার করকে ভেজা।’’ আর পীর বাঙ্গাল সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ সাহেব ক্বেবলার মতো পথপ্রদর্শক ও আমাদেরকে দান করেছেন। আলহামদু লিল্লাহ্ সুম্মা আলহামদু লিল্লাহ্।

শেয়ার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •