ক্বোরআন মজীদের আলোকে ‘সুন্নাত’

0

= ক্বোরআন মজীদের আলোকে ‘সুন্নাত’ =

এরশাদ হচ্ছে-

یَآ اَیُّہَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا اَطِیْعُوا اللّٰہَ وَاَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِی الْاَمْرِ مِنْکُمْ فَاِنْ تَنَازَ عْتُمْ فِیْ شَئٍ فَرُدُّوْہُ اِلَی اللّٰہِ وَالرَّسُوْلِ اِنْ کُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰہِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ذٰلِکَ خَیْرٌ وَاَحْسَنُ تَأْوِیْلاً

 তরজমাঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ্‌র হুকুম মান্য করো, রাসূলের হুকুম মান্য করো। আর তোমাদের শাসন-বারণের যারা অধিকারী তাদের নির্দেশও পালন করো। যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে ঝগড়া ওঠে, তবে তা আল্লাহ  ও রাসূলের প্রতি রুজু’ করে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হও। এটাই উত্তম এবং পরিণতি হিসাবে চমৎকার।’’ [সূরা নিসা, আয়াত-৫৯]

এ থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ্‌র নির্দেশের পাশাপাশি নবীর নির্দেশ তথা সুন্নাতের আনুগত্যও জরুরী। এছাড়া যে নিজেদের বিবাদ-কলহের ফায়সালাকারী হিসাবে আল্লাহ ও রাসূলকে মানতে রাজী নয়, সে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী নয়।

مَنْ یُّطِعِ الرَّسُوْلَ فَقَدْ اَطَاعَ اللّٰہُ

তরজমাঃ ‘‘যে রাসূলের আনুগত্য করলো, সে তো আল্লাহ্‌রই আনুগত্য করলো। [সূরা নিসাঃ ৮০]

قُلْ اِنْ کُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوْنِیْ یُحْبِبْکُمُ اللّٰہُ وَیَغْفِرْلَکُمْ ذُنُوْبَکُمْ وَاللّٰہُ غَفُوْرَّ رَّحِیْمٌ

তরজমাঃ হে হাবীব, আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাকো, তবে আমারই আনুগত্য করো। তাহলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ভালবাসবেন। আর তোমাদের পাপরাশি মার্জনা করবেন। আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল, দয়ালু ।[সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৩১]

یٰٓاَیُّہَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ادْخُلُوْا فِی السِّلْمِ کَآفَّۃً وَلاَ تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّیْطَانِ اِنَّہٗ لَکُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ

তরজমাঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবেই ইসলামে দাখিল হয়ে যাও। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা বাক্বারা, আয়াত-২০৮]

এ আয়াত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পরও উটের গোশ্‌ত আহার করতেন না। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এ ছিলো যে, এটা যেহেতু আমাদের নবীর শরীয়তে ওয়াজিব নয়; সুতরাং এতে গুনাহ হবে না। উপরন্তু হযরত মূসা আলায়হিস্‌ সালাম–এর শরীয়ত অনুযায়ীও আমল হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর এ খেয়ালের খণ্ডন করে উপরোক্ত আয়াত নাযিল করতঃ জানিয়ে দিলেন আমার আখেরী নবীর পূর্ণ অনুসরণ ছাড়া ইসলামে পূর্ণ দীক্ষিত হওয়া যায় না। প্রিয় নবীর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের নামই ইসলাম। আয়াতে كافة (কাফ্‌ফাতান) শব্দের তাফসীরে বলা হয়েছে- فِیْ جَمِیْعِ شَرَآءِعِہٖ  অর্থাৎ- তাঁর সকল নিময় কানুনেই তাঁকে অনুসরণ করার মাধ্যমে ইসলামে দাখিল হও। [তাফসীরে জালালাইন শরীফ]

مَآ اٰتَاکُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْہُ وَمَا نَہَاکُمْ عَنْہُ فَانْتَہُوْا

তরজমাঃ রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো। আর যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো। [সূরা হাশর, আয়াত-৭]

রাসুল থেকে পাওয়া নির্দেশনাই সুন্নত, যা অনুসরণ করা আল্লাহরই নির্দেশ।

لَقَدْ مَنَّ اللّٰہَ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْبَعَثَ فِیْہِمْ رَسُوْلاً مِّنْ اَنْفُسِہِمْ یَتْلُوْا عَلَیْہِمْ اٰیَاتِہٖ وَیُزَکِّیْہِمْ وَیُعَلِّمُہُمُ الْکِتَابَ وَالْحِکْمَۃَ

তরজমাঃ নিশ্চয় আল্লাহ্‌র মহান অনুগ্রহ হয়েছে মুসলমানদের উপর যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের উপর আয়াতসমূহ পাঠ করেন এবং তাদেরকে পবিত্র করেন আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দান করেন।                          [সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৬৪]

প্রিয় নবীর পবিত্র মুখে বর্ণিত ক্বোরআনের মর্মার্থই সুন্নাত।

یَاْمُرُہُمْ بِالْمَعْرُوْفِ وَیَنْہٰہُمْ عَنِ الْمُنْکَرِ وَیَحِلُّ لَہُمُ الطَّیِّبَاتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیْہِمُ الْخَبَآءِثَ

অর্থাৎ- তিনি তাদের সৎকর্মের নির্দেশ দেন, অসৎকর্ম থেকে বারণ করেন। পবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হালাল করবেন এবং অপবিত্র বস্তুগুলো হারাম করবেন।[সূরা আ’রাফ, আয়াত-১৫৭]

শরীয়তের যাবতীয় হালাল-হারাম বিষয়াদি সুস্পষ্ট করতে হলে নবীর শরণাপন্ন হওয়ার বিকল্প নেই। স্মর্তব্য যে, নবীর ব্যাখ্যায় এবং তাঁর আমলের মাধ্যমে তথা সুন্নাতে রাসূলের আলোকে  শরীয়তের আহকাম সাব্যস্ত হয়েছে-لَقَدْ کَانَ لَکُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللّٰہِ اُسْوَۃٌ حَسَنَۃٌ

তরজমাঃ ‘‘নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ ।[সূরা আহ্‌যাব, আয়াত-২১]

সুন্নাতে রাসুল’র চাইতে অনুকরণীয় সুন্দর ও উত্তম জীবনাদর্শ আর নেই।

اِنَّآ اَنْزَلْنَا اِلَیْکَ الْکِتَابِ بِالْحَقِّ لِتَحْکُمَ بَیْنَ النَّاسِ بِمآا اَرَاکَ اللّٰہُ

তরজমাঃ ‘হে মাহবূব! (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যেভাবে আল্লাহ তা’আলা আপনাকে দেখান।         [সূরা নিসা, আয়াত-১০৫]

এখানে লক্ষণীয় যে, আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক রাসূলের ফয়সালা, মীমাংসা ও দিকনির্দেশনা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত-وَاِنْ تُطِیْعُوْہُ تَہْتَدُوْا وَمَا عَلَی الرَّسُوْلِ اِلاَّ الْبَلَاغُ الْمُبِیْنُ

তরজমাঃ ‘‘যদি তোমরা রাসূলের আনুগত্য করো, তবে হেদায়ত পাবে, রাসূলের দায়িত্ব তো শুধু সুস্পষ্টভাবে পৌঁছিয়ে দেয়াই।’’  [সূরা নূর, আয়াত-৫৪]