বাদ্যযন্ত্র হারাম হওয়া প্রসঙ্গে

0

বাদ্যযন্ত্র হারাম হবার প্রসঙ্গে বহু হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বিশুদ্ধ হাদীস হচ্ছে বোখারী শরীফের হাদীস

হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-

ليكونن فى امتى اقوام يستحلون الحرة والحرير والخمر والمعارف حديث جليل متصل وقد اخرجه ايضا احمد وابوداود وابن ماجه والاسما عيلى وابونعيم باسانيد صحيحة لا مطعن فيها صححه جماعة اخرون من الائمة كما قاله بعض الحفاظ قاله الامام ابن حجر فى كف ارعا.

অর্থাৎ অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছুলোক পয়দা হবে, যারা হালাল স্থির করে নেবে-নারীদের গোপানাঙ্গকে, অর্থাৎ যিনাকে, রেশমী কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে। এ মহান হাদীস ‘মুত্তাসিল’ পর্যায়ের। (হুযূর পর্যন্ত সনদ পৌঁছে যায় এমন) আর এ হাদীস সহীহ্ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন- ইমাম আহমদ, আবূ দাঊদ, ইমাঈলী ও আবূ নু’আঈম, যাতে সমালোচনার কোন অবকাশ নেই। ইমামগণের অন্য জমা‘আতও সেটাকে সহীহ্ বলেছেন। [যেমন- হাফেয ইমাম ইবনে হাযর আপন কিতাব ‘কাফ্ফুর রু‘আ’য় বর্ণনা করেছেন।-নো’মানী]

কোন কোন মূর্খ, মন্দ ধরনের মাতাল, আধা-মোল্লা, প্রবৃত্তি-পূজারী কিংবা ভন্ড সূফী এ ব্যাপারে তৎপর যে, তারা সহীহ্, মরফূ’ ও মুহকাম হাদীস শরীফসমূহের মোকাবেলায় কোন কোন দুর্বল কিস্সা কিংবা সন্দেহপূর্ণ ঘটনা অথবা অস্পষ্ট অর্ধবোধক বিষয়াদি পেশ করে থাকে। তাদের এতটুকু বিবেক নেই কিংবা স্বেচ্ছায় বিবেকহীন সেজে বসে। বস্তুতঃ সহীহর সামনে দুর্বল, ‘মুতা‘আইয়্যান’-এর সামনে ‘মহতামাল’ ‘মুহকাম’-এর সামনে ‘মুতাশাবিহ’কে পরিহার করা ওয়াজিব।তারপর কোথায় কথা, কোথায় কাজ। অতঃপর কোখায় হারামকারী, কোথায় মুবাহকারী? যে কোনভাবে এটা আমল করা ওয়াজিব। প্রাধান্য এটারই। কিন্তু উচ্চাভিলাষ পূজার চিকিৎসা কার নিকট আছে? আহা! যদি গুনাহ্কে গুনাহ্ বলে জানতো! স্বীকার করতো! এ হঠকারিতা আরো জঘন্য যে, উচ্চাভিলাসকেও লালন করবে, অপবাদও প্রতিহত করবে! নিজের জন্য হারামকে হালাল বানাবে। শুধু তাই নয়, বরং আল্লাহর পানাহ্! এর অপবাদ আল্লাহর মাহবুব বান্দাগণ ও চিশতিয়া সিলসিলার শীর্ষস্থানীয় বুযুর্গগণ (ক্বুদ্দিসাত আসরারুহুম)-এর উপর আরোপ করে; না আল্লাহকে ভয় করে, না বান্দাদের সামনে লজ্জাবোধ করে।

অথচ খোদ্ হুযূর মাহবূবে ইলাহী সাইয়্যেদী ওয়া মাওলা‘ঈ নেযামুল হক্ব ওয়াদ্ দ্বীন সুলতানুল আউলিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ওয়া ‘আনহুম ‘ফাওয়াইদুল ফাইয়াইদ’ শরীফে বলেছেন, ‘‘মাযামীর হারাম আস্ত’’(অর্থাৎ বাদ্যযন্ত্র হারাম)।

মাওলানা ফখরুদ্দীন যারাভী খলীফা-ই হুযূর সাইয়্যেদুনা মাহবুবে ইলাহী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা হুযূর (মাহবূব-ই ইলাহী)’র যমানা মুবারকে খোদ হুযূরের নির্দেশে সামা’র মাসআলায় একটি পুস্তিকা ‘কাশফুল ক্বানা’ ‘আন উসূলিস্ সামা’ লিখেছেন। তাতে পরিস্কারভাবে লিখেছেন-

اما اسماع مشائخنا رضى الله تعالى عنهم قبرئ عن هذه التهمة وهومجرد صوت القوال مع الاشعار المشعرة من كمال صنعة الله تعالى

অর্থাৎ আমাদের মাশাইখ-ই কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম-এর সামা’ ওই বাদ্যযন্ত্রের অপবাদ থেকে পবিত্র। তাতো নিছক ক্বাওয়ালের আওয়াজ মাত্র ওইসব শ্লোক সহকারে, সেগুলো আল্লাহর শিল্পকর্ম সম্পর্কে খবর দেয়।

আল্লাহর ওয়াস্তে ইনসাফ করুন! খান্দানে চিশতিয়া আলিয়ার ওিই মহান ইমামের এ এরশাদ গ্রহণযোগ্য হবে, না আজকালকার ওইসব লোকের ভিত্তিহীন অপবাদ ও প্রকাশ্য ফ্যাসাদ? লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইলা বিল্লাহিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম। [সূত্র. ইরশাদাত-ই আ’লা হযরত পৃ. ৪৬-৪৮]